📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির সাথেই আছেন। আরশের উপর তাঁর সমুন্নত হওয়া শারীয়াত পরিপন্থী বিষয় নয়।

📄 আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির সাথেই আছেন। আরশের উপর তাঁর সমুন্নত হওয়া শারীয়াত পরিপন্থী বিষয় নয়।


রাসূল বলেন:
أَفْضَلُ الإِيمَانِ أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ حَيْثُمَا كُنْتَ حَدِيثٌ حَسَنٌ. أخرجه الطبراني من حديث عبادة بن الصامت
"সর্বোত্তম ঈমান হলো তুমি জানবে যে, যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তোমার সাথেই"। হাদীসটি হাসান। ইমাম তাবারানী উবাদাহ বিন সামেত থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। রসূল আরো বলেন,
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَلَا يَبْصُقَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ، وَلَا عَنْ يَمِينِهِ؛ فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ،
"তোমাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়াবে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। এমনকি ডান দিকেও না। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁর সামনে রয়েছেন। একান্ত যদি থুথু ফেলতেই হয় তাহলে বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলবে। ৪০ বুখারী ও মুসলিম। রসূল আরো বলেন,
اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ، أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ
شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“হে আল্লাহ! হে সাত আসমান ও যমীনের প্রভু! হে আরশে আযীমের রব! হে আমাদের প্রতিপালক এবং সকল বস্তুর প্রতিপালক! হে দানা ও বীচি বিদীর্ণকারী! হে তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণকারী! আমি তোমার নিকট আমার নফসের অনিষ্ট হতে এবং ভূপৃষ্ঠে প্রত্যেক বিচরণকারীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার ললাট তুমি ধারণ করে আছ। হে আল্লাহ! তুমিই الأَوَّل )প্রথম)। তোমার পূর্বে কেউ ছিল না। তুমিই الآخر (সর্বশেষ), তোমার পর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তুমিই الظاهر (সবকিছুর উপরে), তোমার উপরে আর কিছুই নেই। তুমিই الباطن (মাখলুকের অতি নিকটে), তোমার চেয়ে অধিক নিকটে আর কিছু নেই”। তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করো এবং আমাকে দারিদ্রের কবল থেকে মুক্ত করো। ইমাম মুসলিম এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। ৪১
সাহাবীগণ যখন আল্লাহর যিকির করার সময় তাদের আওয়াজ উঁচু করলেন তখন তিনি বললেন,
أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ؛ فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا قَرِيبًا، إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
"হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের জন্য সহজ পন্থা অবলম্বন করো। কেননা তোমরা তো বধির বা দূরে অবস্থানকারী কাউকে আহবান করছো না। যাকে তোমরা আহবান করছো তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং অতি নিকটে। তোমাদের কেউ বাহনে আরোহন করা অবস্থায় তার বাহনের ঘাড়ের যত নিকটবর্তী থাকে, তোমরা যাকে আহবান করছো, তিনি তার চেয়েও আহবানকারীর অধিক নিকটে"। ৪২ মুত্তাফাকুন আলাইহি।
ব্যাখ্যা: أَفْضَلُ الإِيمَانِ সর্বোত্তম ঈমান। অর্থাৎ ঈমানের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তুমি যেখানেই থাক না কেন, এ কথা বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তোমার সাথেই। পূর্বোক্ত কথার মধ্যে দলীল পাওয়া যায় যে, ঈমানের তারতম্য হয়। অর্থাৎ সকল মুমিনের ঈমান এক সমান নয়।
أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ তুমি জানবে যে, আল্লাহ তোমার সাথেই আছেন। অর্থাৎ ইলমের মাধ্যমে এবং তোমার যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার মাধ্যমে তিনি তোমার সাথেই, তুমি যেখানেই থাকো না কেন। যে ব্যক্তি ইহা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে, তার ভিতর ও বাহির একই রকম হবে এবং সকল স্থানেই আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে চলবে। ইমাম তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তাবারানী হচ্ছেন, আবুল কাসেম সুলায়মান আল-লাখমী। হাদীসের যেসব হাফেয বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মু'জামুল কাবীরে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীসে দলীল পাওয়া গেল যে, আল্লাহ তা'আলা ইলমের মাধ্যমে মাখলুকের সাথেই এবং তিনি তাদের আমলসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। সুতরাং বান্দার উপর আবশ্যক হলো সবসময় এই কথা মনে রাখা। এতে তার আমল সুন্দর হবে।
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়: অর্থাৎ সলাত শুরু করে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। হাদীসে উল্লেখিত قِبَل শব্দের 'কাফ' বর্ণে যের দিয়ে এবং 'বা' বর্ণে যবর দিয়ে পড়তে হবে।
فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ কেননা আল্লাহ তা'আলা তার সামনের দিকে রয়েছেন। এটি হচ্ছে সলাত আদায়কারীকে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করতে নিষেধ করার কারণ। কেননা আল্লাহ তা'আলা সলাত আদায়কারীর চেহারার দিকে রয়েছেন। অর্থাৎ সামনের দিকে রয়েছেন। যেভাবে সামনে থাকা আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয়, তিনি সেভাবেই সলাত আদায় কারীর সামনে থাকেন। এতে করে এটি আবশ্যক হয় না যে, তিনি মাখলুকের সাথে একদম মিলিত অবস্থায় রয়েছেন। বরং আসমানসূহের উপর আরশে তিনি সমুন্নত। আরশে সমুন্নত হয়েও তিনি মাখলুকের অতি নিকটে এবং তাদের সকলকে পরিবেষ্টনকারী।
সলাত আদায়কারী যেন তার ডান দিকেও থুথু না ফেলে। কেননা ডান দিকের আলাদা মর্যাদা রয়েছে এবং সলাত আদায়কারীর ডান দিকে রয়েছে দু'জন ফেরেশতা। যেমন বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় এসেছে।
وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ একাত যদি সলাত আদায়কারী ব্যক্তিকে থুথু ফেলতেই হয় তাহলে বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলবে: অর্থাৎ সলাত আদায় কারী ব্যক্তি যদি থুথু ফেলতে বাধ্য হয়, তাহলে সে যেন তাঁর বাম দিকে কিংবা বাম পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করে।
এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো, আসমানসমূহের উপরে আরশে সমুন্নত হয়েও আল্লাহ তা'আলা সলাত আদায়কারী বান্দার নিকটবর্তী হন এবং সলাত আদায়কারীর দিকে বিশেষভাবে অগ্রসর হন (মনোনিবেশ করেন)।
হে আল্লাহ ! اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِ হে সাত আসমান ও যমীনের প্রভু: اللهم এর মূল হচ্ছে ا الله । আল্লাহ শব্দের পূর্ব হতে হরফে নেদা কে ফেলে দিয়ে তার বদলে শেষে میم বাড়ানো হয়েছে। হে সাত আসমানের প্রভু! অর্থাৎ উহার স্রষ্টা ও মালিক।
وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ আরশে আযীমের রব: অর্থাৎ এমন বিশাল আরশের মালিক, যার বিশালতা সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ অবগত নয়। আরশ হচ্ছে আল্লাহর সর্ববৃহৎ সৃষ্টি। আরশের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ হে আমাদের প্রতিপালক এবং সকল বস্তুর প্রতিপালক! অর্থাৎ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিক দাতা, সকল জিনিসের সৃষ্টিকর্তা এবং সবকিছুর মালিক। এতে সাব্যস্ত হলো, সবকিছুর প্রতিপালনকারী একমাত্র আল্লাহ তা'আলা।
فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى দানা ও বীচি বিদীর্ণকারী: খাদ্য দ্রব্যের দানা ও খেজুরের বীচিকে উদ্‌গত করণের জন্য বিদীর্ণকারী।
মুসা এর উপর তাওরাত ) التوراة(, ঈসা এর উপর ইঞ্জিল ) الإنجيل( অবতীর্ণকারী এবং মুহাম্মাদ এর উপর কুরআন )القرآن( অবতীর্ণকারী। এই হাদীসে তাওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআন, এই তিনটি কিতাবের ফাযীলাত প্রমাণিত হলো। আরো জানা গেল যে, এই কিতাবগুলো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে।
أعوذ بك আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি: অর্থাৎ হে আল্লাহ আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি এবং তোমার পথকেই আকঁড়ে ধরছি।
وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ তোমার নিকট ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রত্যেক প্রাণীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি: ভূপৃষ্ঠে যেসব প্রাণী বিচরণ করে, সেগুলোর প্রত্যেকটিকেই ২২। বলা হয়।
أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهَا যার ললাট তুমি ধারণ করে আছ: মাথার সামনের অংশকে ললাট বা কপাল বলা হয়। অর্থাৎ হে আল্লাহ! ঐসব অনিষ্টকারী প্রাণী যেহেতু তোমার ক্ষমতা ও আয়ত্তাধীন এবং তুমি যেভাবে ইচ্ছা সেগুলোকে সেভাবেই পরিচালনা করো, তাই তুমি আমার উপর থেকে ঐগুলোর অনিষ্ট দূর করে দাও। রসূল তাঁর দু'আয় বলতেন,
أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ؛
“হে আল্লাহ! তুমিই الأول )প্রথম)। তোমার পূর্বে কিছুই ছিল না। তুমিই الآخر )সর্বশেষ), তোমার পর কিছুই থাকবে না। তুমিই الظاهر )সবকিছুর উপরে), তোমার উপরে আর কিছুই নেই। তুমিই الباطن )অতি নিকটে), তোমার চেয়ে অধিক নিকটে আর কিছুই নেই”। ৪৩
আল্লাহ তা'আলার এই চারটি নামের মধ্যে দু'টি নাম তাঁর চিরস্থায়িত্ব ও অবিনশ্বরতার প্রমাণ করে। এই দু'টি নাম হচ্ছে الأول )প্রথম) এবং الآخر )সর্বশেষ)। আর বাকী দু'টি নাম আল্লাহ তা'আলা সকল সৃষ্টির উপরে সমুন্নত হওয়া এবং সৃষ্টির একদম নিকটে হওয়ার প্রমাণ করে। এই নাম দু'টি হচ্ছে الظاهر )প্রকাশ্যমান) এবং الباطن )অতি নিকটে)।
হাদীসের মধ্যে এই শেষ দু'টি নামই হচ্ছে মহল্লে শাহেদ। অর্থাৎ এখান থেকেই শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া রহি. দলীল গ্রহণ করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা সকল মাখলুকের উপরে এবং তিনি নিকটেও। কেননা আল্লাহ তা'আলার এই নাম দু'টিতে আল্লাহর জন্য علو )মাখলুকের উপরে সমুন্নত হওয়া) এবং قرب )সৃষ্টির নিকটে হওয়া) সাব্যস্ত করা হয়েছে। আল্লাহর এ দু'টি সিফাত পরস্পর বিরোধী ও সাংঘর্ষিক নয়। আল্লাহ তা'আলা উপরে সমুন্নত হয়েও মাখলুকের নিকটে এবং মাখলুকের নিকটবর্তী হয়েও সকল মাখলুকের উপরে সমুন্নত।
اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করো: অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার উপর থেকে তোমার হকসমূহ এবং মাখলুকের হকসমূহ আদায়ের ব্যবস্থা করো। বান্দা নিজের শক্তিতে অসৎকাজ করতে অক্ষম এবং নিজের শক্তিতে কোন সৎকাজই করতে পারে না, -এখানে তাই বলা হয়েছে।
وَأَغْتَنِي مِنَ الْفَقْرِ এবং আমাকে দারিদ্রের কবল থেকে মুক্ত করো: الفقر অর্থ হচ্ছে প্রয়োজন, অভাব। ফকীর বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যার কিছুই নেই অথবা যার কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য বস্তু রয়েছে। এই হাদীস থেকে আরো জানা গেল যে, প্রয়োজন পূরণ করার জন্য এবং দু'আ কবুলের জন্য আল্লাহ তা'আলার নাম ও সিফাতের উসীলা দেয়া বৈধ।
সাহাবীগণ যখন আল্লাহর যিকির করার সময় তাদের আওয়াজ উঁচু করলেন: এটি ছিল খায়বারের যুদ্ধের ঘটনা। যেমন এই হাদীসের কোন কোন সনদে সুস্পষ্ট করেই তা বলা হয়েছে। সাহাবীগণ যেই যিকিরের মধ্যে আওয়াজ উঁচু করেছিল, তা ছিল তাকবীর। অর্থাৎ তারা উঁচু আওয়াজে الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله বলছিল। أرفقوا أربعوا অর্থাৎ নিজেদের জন্য সহজ করো।
فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا কেননা তোমরা তো বধির বা দূরে অবস্থানকারী কাউকে আহবান করছো না: এটি হচ্ছে আওয়াজ অতিরিক্ত উঁচ না করার এবং নিজেদের উপর সহজ করার আদেশ দেয়ার কারণ। অর্থাৎ তোমরা তো এমন কাউকে ডাকছো না, যিনি তোমাদের ডাক শুনেন না এবং তোমাদেরকে দেখেন না। সুতরাং এখানে আল্লাহ তা'আলার পবিত্র সত্তা থেকে এমন আপদ ও ত্রুটি নাকোচ করা হয়েছে, যা শ্রবণ করার প্রতিবন্ধক এবং তাঁর পবিত্র সত্তা হতে এমন দোষ-ত্রুটি নাকোচ করা হয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলার জন্য শ্রবণ করার প্রতিবন্ধক। সেই সাথে হাদীসে উক্ত দোষ দু'টির বিপরীত গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। রসূল বললেন: إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا قَرِيبًا :যাকে তোমরা আহবান করছো তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং তোমাদের অতি নিকটে। সুতরাং আওয়াজ উঁচু করার কোন দরকার নেই।
إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ তোমাদের কেউ বাহনে আরোহন করা অবস্থায় তার বাহনের ঘাড়ের যত নিকটবর্তী থাকে, তোমরা যাকে আহবান করছো, তিনি তার চেয়েও আহবানকারীর অধিক নিকটে: সুতরাং যারা আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে এবং যারা তাঁর যিকির করে তিনি তাদের অতি নিকটে। তাই আওয়াজ উঁচু করে দু'আ করার প্রয়োজন নেই। তিনি এত নিকটে যে, আওয়াজ নীচু করে দু'আ করলে যেভাবে শুনেন, উঁচু আওয়াজে দু'আ করলেও ঠিক সেভাবেই শুনেন।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, যারা আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকটবর্তী হন। হাদীসে ইহা সাব্যস্ত করা হয়েছে। তিনি উঁচু আওয়াজগুলো যেমন শুনেন, নীচু ও অস্পষ্ট আওয়াজগুলো সেভাবেই শুনেন।
উপরের সবগুলো হাদীস প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ মাখলুকের সাথে, তাদের নিকটে, তিনি মাখলুকের সব আওয়াজ শুনেন এবং তিনি তাদের সমস্ত নড়াচড়া (আমলসমূহ) দেখেন। আর তিনি যে সৃষ্টির উপরে এবং আরশের উপর সমুন্নত এটি তার বিরোধী নয়। আল্লাহর মাঈয়াত তথা সৃষ্টির সাথে থাকার ব্যাখ্যা এবং উহার প্রকারভেদ কুরআনুল কারীমের দলীল-প্রমাণসহ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে。

টিকাঃ
৪০. সহীহ বুখারী ৪১৬, সহীহ মুসলিম ৫৪৮, আবু দাউদ ৪৮৫, নাসাঈ ৭২৪, দারিমী ১৩৯৮, ইবনে মাজাহ ৮৬১।
৪১. সহীহ মুসলিম ২৭১৩, তিরমিযী ৩৪৮১, ইবনে মাজাহ ৩৮৩১, আবু দাউদ ৫০৫১।
৪২. সহীহ বুখারী ৬৩৮৪, সহীহ মুসলিম ২৭০৪, আবু দাউদ ১৫২৬, বাইহাকী ৩০১২।
৪৩. সহীহ: সহীহ মুসলিম ২৭১৩, ইবনে মাজাহ ৩৮৩১, আবু দাউদ ৫০৫১, তিরমিযী ৩৪৮১।

রাসূল বলেন:
أَفْضَلُ الإِيمَانِ أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ حَيْثُمَا كُنْتَ حَدِيثٌ حَسَنٌ. أخرجه الطبراني من حديث عبادة بن الصامت
"সর্বোত্তম ঈমান হলো তুমি জানবে যে, যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তোমার সাথেই"। হাদীসটি হাসান। ইমাম তাবারানী উবাদাহ বিন সামেত থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। রসূল আরো বলেন,
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَلَا يَبْصُقَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ، وَلَا عَنْ يَمِينِهِ؛ فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ،
"তোমাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়াবে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। এমনকি ডান দিকেও না। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁর সামনে রয়েছেন। একান্ত যদি থুথু ফেলতেই হয় তাহলে বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলবে। ৪০ বুখারী ও মুসলিম। রসূল আরো বলেন,
اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ، أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ
شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“হে আল্লাহ! হে সাত আসমান ও যমীনের প্রভু! হে আরশে আযীমের রব! হে আমাদের প্রতিপালক এবং সকল বস্তুর প্রতিপালক! হে দানা ও বীচি বিদীর্ণকারী! হে তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণকারী! আমি তোমার নিকট আমার নফসের অনিষ্ট হতে এবং ভূপৃষ্ঠে প্রত্যেক বিচরণকারীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার ললাট তুমি ধারণ করে আছ। হে আল্লাহ! তুমিই الأَوَّل )প্রথম)। তোমার পূর্বে কেউ ছিল না। তুমিই الآخر (সর্বশেষ), তোমার পর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তুমিই الظاهر (সবকিছুর উপরে), তোমার উপরে আর কিছুই নেই। তুমিই الباطن (মাখলুকের অতি নিকটে), তোমার চেয়ে অধিক নিকটে আর কিছু নেই”। তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করো এবং আমাকে দারিদ্রের কবল থেকে মুক্ত করো। ইমাম মুসলিম এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। ৪১
সাহাবীগণ যখন আল্লাহর যিকির করার সময় তাদের আওয়াজ উঁচু করলেন তখন তিনি বললেন,
أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ؛ فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا قَرِيبًا، إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
"হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের জন্য সহজ পন্থা অবলম্বন করো। কেননা তোমরা তো বধির বা দূরে অবস্থানকারী কাউকে আহবান করছো না। যাকে তোমরা আহবান করছো তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং অতি নিকটে। তোমাদের কেউ বাহনে আরোহন করা অবস্থায় তার বাহনের ঘাড়ের যত নিকটবর্তী থাকে, তোমরা যাকে আহবান করছো, তিনি তার চেয়েও আহবানকারীর অধিক নিকটে"। ৪২ মুত্তাফাকুন আলাইহি।
ব্যাখ্যা: أَفْضَلُ الإِيمَانِ সর্বোত্তম ঈমান। অর্থাৎ ঈমানের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তুমি যেখানেই থাক না কেন, এ কথা বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তোমার সাথেই। পূর্বোক্ত কথার মধ্যে দলীল পাওয়া যায় যে, ঈমানের তারতম্য হয়। অর্থাৎ সকল মুমিনের ঈমান এক সমান নয়।
أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ তুমি জানবে যে, আল্লাহ তোমার সাথেই আছেন। অর্থাৎ ইলমের মাধ্যমে এবং তোমার যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার মাধ্যমে তিনি তোমার সাথেই, তুমি যেখানেই থাকো না কেন। যে ব্যক্তি ইহা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে, তার ভিতর ও বাহির একই রকম হবে এবং সকল স্থানেই আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে চলবে। ইমাম তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তাবারানী হচ্ছেন, আবুল কাসেম সুলায়মান আল-লাখমী। হাদীসের যেসব হাফেয বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মু'জামুল কাবীরে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীসে দলীল পাওয়া গেল যে, আল্লাহ তা'আলা ইলমের মাধ্যমে মাখলুকের সাথেই এবং তিনি তাদের আমলসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। সুতরাং বান্দার উপর আবশ্যক হলো সবসময় এই কথা মনে রাখা। এতে তার আমল সুন্দর হবে।
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়: অর্থাৎ সলাত শুরু করে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। হাদীসে উল্লেখিত قِبَل শব্দের 'কাফ' বর্ণে যের দিয়ে এবং 'বা' বর্ণে যবর দিয়ে পড়তে হবে।
فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ কেননা আল্লাহ তা'আলা তার সামনের দিকে রয়েছেন। এটি হচ্ছে সলাত আদায়কারীকে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করতে নিষেধ করার কারণ। কেননা আল্লাহ তা'আলা সলাত আদায়কারীর চেহারার দিকে রয়েছেন। অর্থাৎ সামনের দিকে রয়েছেন। যেভাবে সামনে থাকা আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয়, তিনি সেভাবেই সলাত আদায় কারীর সামনে থাকেন। এতে করে এটি আবশ্যক হয় না যে, তিনি মাখলুকের সাথে একদম মিলিত অবস্থায় রয়েছেন। বরং আসমানসূহের উপর আরশে তিনি সমুন্নত। আরশে সমুন্নত হয়েও তিনি মাখলুকের অতি নিকটে এবং তাদের সকলকে পরিবেষ্টনকারী।
সলাত আদায়কারী যেন তার ডান দিকেও থুথু না ফেলে। কেননা ডান দিকের আলাদা মর্যাদা রয়েছে এবং সলাত আদায়কারীর ডান দিকে রয়েছে দু'জন ফেরেশতা। যেমন বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় এসেছে।
وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ একাত যদি সলাত আদায়কারী ব্যক্তিকে থুথু ফেলতেই হয় তাহলে বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলবে: অর্থাৎ সলাত আদায় কারী ব্যক্তি যদি থুথু ফেলতে বাধ্য হয়, তাহলে সে যেন তাঁর বাম দিকে কিংবা বাম পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করে।
এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো, আসমানসমূহের উপরে আরশে সমুন্নত হয়েও আল্লাহ তা'আলা সলাত আদায়কারী বান্দার নিকটবর্তী হন এবং সলাত আদায়কারীর দিকে বিশেষভাবে অগ্রসর হন (মনোনিবেশ করেন)।
হে আল্লাহ ! اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِ হে সাত আসমান ও যমীনের প্রভু: اللهم এর মূল হচ্ছে ا الله । আল্লাহ শব্দের পূর্ব হতে হরফে নেদা কে ফেলে দিয়ে তার বদলে শেষে میم বাড়ানো হয়েছে। হে সাত আসমানের প্রভু! অর্থাৎ উহার স্রষ্টা ও মালিক।
وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ আরশে আযীমের রব: অর্থাৎ এমন বিশাল আরশের মালিক, যার বিশালতা সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ অবগত নয়। আরশ হচ্ছে আল্লাহর সর্ববৃহৎ সৃষ্টি। আরশের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ হে আমাদের প্রতিপালক এবং সকল বস্তুর প্রতিপালক! অর্থাৎ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিক দাতা, সকল জিনিসের সৃষ্টিকর্তা এবং সবকিছুর মালিক। এতে সাব্যস্ত হলো, সবকিছুর প্রতিপালনকারী একমাত্র আল্লাহ তা'আলা।
فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى দানা ও বীচি বিদীর্ণকারী: খাদ্য দ্রব্যের দানা ও খেজুরের বীচিকে উদ্‌গত করণের জন্য বিদীর্ণকারী।
মুসা এর উপর তাওরাত ) التوراة(, ঈসা এর উপর ইঞ্জিল ) الإنجيل( অবতীর্ণকারী এবং মুহাম্মাদ এর উপর কুরআন )القرآن( অবতীর্ণকারী। এই হাদীসে তাওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআন, এই তিনটি কিতাবের ফাযীলাত প্রমাণিত হলো। আরো জানা গেল যে, এই কিতাবগুলো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে।
أعوذ بك আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি: অর্থাৎ হে আল্লাহ আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি এবং তোমার পথকেই আকঁড়ে ধরছি।
وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ তোমার নিকট ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রত্যেক প্রাণীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি: ভূপৃষ্ঠে যেসব প্রাণী বিচরণ করে, সেগুলোর প্রত্যেকটিকেই ২২। বলা হয়।
أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهَا যার ললাট তুমি ধারণ করে আছ: মাথার সামনের অংশকে ললাট বা কপাল বলা হয়। অর্থাৎ হে আল্লাহ! ঐসব অনিষ্টকারী প্রাণী যেহেতু তোমার ক্ষমতা ও আয়ত্তাধীন এবং তুমি যেভাবে ইচ্ছা সেগুলোকে সেভাবেই পরিচালনা করো, তাই তুমি আমার উপর থেকে ঐগুলোর অনিষ্ট দূর করে দাও। রসূল তাঁর দু'আয় বলতেন,
أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ؛
“হে আল্লাহ! তুমিই الأول )প্রথম)। তোমার পূর্বে কিছুই ছিল না। তুমিই الآخر )সর্বশেষ), তোমার পর কিছুই থাকবে না। তুমিই الظاهر )সবকিছুর উপরে), তোমার উপরে আর কিছুই নেই। তুমিই الباطن )অতি নিকটে), তোমার চেয়ে অধিক নিকটে আর কিছুই নেই”। ৪৩
আল্লাহ তা'আলার এই চারটি নামের মধ্যে দু'টি নাম তাঁর চিরস্থায়িত্ব ও অবিনশ্বরতার প্রমাণ করে। এই দু'টি নাম হচ্ছে الأول )প্রথম) এবং الآخر )সর্বশেষ)। আর বাকী দু'টি নাম আল্লাহ তা'আলা সকল সৃষ্টির উপরে সমুন্নত হওয়া এবং সৃষ্টির একদম নিকটে হওয়ার প্রমাণ করে। এই নাম দু'টি হচ্ছে الظاهر )প্রকাশ্যমান) এবং الباطن )অতি নিকটে)।
হাদীসের মধ্যে এই শেষ দু'টি নামই হচ্ছে মহল্লে শাহেদ। অর্থাৎ এখান থেকেই শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া রহি. দলীল গ্রহণ করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা সকল মাখলুকের উপরে এবং তিনি নিকটেও। কেননা আল্লাহ তা'আলার এই নাম দু'টিতে আল্লাহর জন্য علو )মাখলুকের উপরে সমুন্নত হওয়া) এবং قرب )সৃষ্টির নিকটে হওয়া) সাব্যস্ত করা হয়েছে। আল্লাহর এ দু'টি সিফাত পরস্পর বিরোধী ও সাংঘর্ষিক নয়। আল্লাহ তা'আলা উপরে সমুন্নত হয়েও মাখলুকের নিকটে এবং মাখলুকের নিকটবর্তী হয়েও সকল মাখলুকের উপরে সমুন্নত।
اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করো: অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার উপর থেকে তোমার হকসমূহ এবং মাখলুকের হকসমূহ আদায়ের ব্যবস্থা করো। বান্দা নিজের শক্তিতে অসৎকাজ করতে অক্ষম এবং নিজের শক্তিতে কোন সৎকাজই করতে পারে না, -এখানে তাই বলা হয়েছে।
وَأَغْتَنِي مِنَ الْفَقْرِ এবং আমাকে দারিদ্রের কবল থেকে মুক্ত করো: الفقر অর্থ হচ্ছে প্রয়োজন, অভাব। ফকীর বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যার কিছুই নেই অথবা যার কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য বস্তু রয়েছে। এই হাদীস থেকে আরো জানা গেল যে, প্রয়োজন পূরণ করার জন্য এবং দু'আ কবুলের জন্য আল্লাহ তা'আলার নাম ও সিফাতের উসীলা দেয়া বৈধ।
সাহাবীগণ যখন আল্লাহর যিকির করার সময় তাদের আওয়াজ উঁচু করলেন: এটি ছিল খায়বারের যুদ্ধের ঘটনা। যেমন এই হাদীসের কোন কোন সনদে সুস্পষ্ট করেই তা বলা হয়েছে। সাহাবীগণ যেই যিকিরের মধ্যে আওয়াজ উঁচু করেছিল, তা ছিল তাকবীর। অর্থাৎ তারা উঁচু আওয়াজে الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله বলছিল। أرفقوا أربعوا অর্থাৎ নিজেদের জন্য সহজ করো।
فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا কেননা তোমরা তো বধির বা দূরে অবস্থানকারী কাউকে আহবান করছো না: এটি হচ্ছে আওয়াজ অতিরিক্ত উঁচ না করার এবং নিজেদের উপর সহজ করার আদেশ দেয়ার কারণ। অর্থাৎ তোমরা তো এমন কাউকে ডাকছো না, যিনি তোমাদের ডাক শুনেন না এবং তোমাদেরকে দেখেন না। সুতরাং এখানে আল্লাহ তা'আলার পবিত্র সত্তা থেকে এমন আপদ ও ত্রুটি নাকোচ করা হয়েছে, যা শ্রবণ করার প্রতিবন্ধক এবং তাঁর পবিত্র সত্তা হতে এমন দোষ-ত্রুটি নাকোচ করা হয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলার জন্য শ্রবণ করার প্রতিবন্ধক। সেই সাথে হাদীসে উক্ত দোষ দু'টির বিপরীত গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। রসূল বললেন: إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا قَرِيبًا :যাকে তোমরা আহবান করছো তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং তোমাদের অতি নিকটে। সুতরাং আওয়াজ উঁচু করার কোন দরকার নেই।
إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ তোমাদের কেউ বাহনে আরোহন করা অবস্থায় তার বাহনের ঘাড়ের যত নিকটবর্তী থাকে, তোমরা যাকে আহবান করছো, তিনি তার চেয়েও আহবানকারীর অধিক নিকটে: সুতরাং যারা আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে এবং যারা তাঁর যিকির করে তিনি তাদের অতি নিকটে। তাই আওয়াজ উঁচু করে দু'আ করার প্রয়োজন নেই। তিনি এত নিকটে যে, আওয়াজ নীচু করে দু'আ করলে যেভাবে শুনেন, উঁচু আওয়াজে দু'আ করলেও ঠিক সেভাবেই শুনেন।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, যারা আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকটবর্তী হন। হাদীসে ইহা সাব্যস্ত করা হয়েছে। তিনি উঁচু আওয়াজগুলো যেমন শুনেন, নীচু ও অস্পষ্ট আওয়াজগুলো সেভাবেই শুনেন।
উপরের সবগুলো হাদীস প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ মাখলুকের সাথে, তাদের নিকটে, তিনি মাখলুকের সব আওয়াজ শুনেন এবং তিনি তাদের সমস্ত নড়াচড়া (আমলসমূহ) দেখেন। আর তিনি যে সৃষ্টির উপরে এবং আরশের উপর সমুন্নত এটি তার বিরোধী নয়। আল্লাহর মাঈয়াত তথা সৃষ্টির সাথে থাকার ব্যাখ্যা এবং উহার প্রকারভেদ কুরআনুল কারীমের দলীল-প্রমাণসহ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে。

টিকাঃ
৪০. সহীহ বুখারী ৪১৬, সহীহ মুসলিম ৫৪৮, আবু দাউদ ৪৮৫, নাসাঈ ৭২৪, দারিমী ১৩৯৮, ইবনে মাজাহ ৮৬১।
৪১. সহীহ মুসলিম ২৭১৩, তিরমিযী ৩৪৮১, ইবনে মাজাহ ৩৮৩১, আবু দাউদ ৫০৫১।
৪২. সহীহ বুখারী ৬৩৮৪, সহীহ মুসলিম ২৭০৪, আবু দাউদ ১৫২৬, বাইহাকী ৩০১২।
৪৩. সহীহ: সহীহ মুসলিম ২৭১৩, ইবনে মাজাহ ৩৮৩১, আবু দাউদ ৫০৫১, তিরমিযী ৩৪৮১।

📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 মু‘মিনগণ ক্বিয়ামতের দিন তাদের রবকে দেখতে পাবে।

📄 মু‘মিনগণ ক্বিয়ামতের দিন তাদের রবকে দেখতে পাবে।


রাসূল বলেন: إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ ليلة البدر لا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا « (বুখারী: ৫৫৪)
“কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রকে দেখতে পাও, সেভাবেই তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের যদি এই পরিমাণ সামর্থ থাকে, সূর্য উদয় এবং অন্তের পূর্বের সালাত হতে কোন বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না, তাহলে উক্ত সালাতদ্বয়কে তোমরা যথাসময়ে আদায় করো। "
ব্যাখ্যা: এখানে إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা দেখতে পাও: দ্বারা মুমিনদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। سترون এর মধ্যে যে অক্ষরিট প্রবেশ করেছে, তা ভবিষ্যৎকালের জন্য হলেও এখানে তা দ্বারা তাগিদ তথা বাক্যের বিষয়কে শক্তিশালী করা উদ্দেশ্য।
ترون ربكم অর্থাৎ তোমরা তোমাদের চোখ দ্বারা আল্লাহ তা'আলাকে দেখবে। মুমিনগণ তাদের রবকে দেখার বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো রসূল হতে মুতাওয়াতির তথা ব্যাপক সংখ্যক বর্ণনাকারীর সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।৪৪
كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لِيلة البدر তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে এই চন্দ্রকে দেখতে পাও: অর্থাৎ চন্দ্র তার পরিপূর্ণ রূপ গ্রহণ করার রাতে। এটি হচ্ছে মাসের ১৪তম রাত। ঐ রাতে চন্দ্র আলোতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এখানে এই তাশবীহ তথা আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জোর দিয়ে আল্লাহর দিদারকে সত্য হিসাবে সাব্যস্ত করা এবং তার দ্বারা রূপকার্থ উদ্দেশ্য হওয়ার সন্দেহকে দূর করা। বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, এখানে আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতের মেঘহীন আকাশে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলাকে চাঁদের সাথে তুলনা করা হয়নি। কেননা আল্লাহ তা'আলার لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ সদৃশ আর কিছুই নেই।
لَا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ উহাকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হয় না। ৮ বর্ণে পেশ দিয়ে এবং میم বর্ণে যবর দিয়ে পড়া হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের উপর এমন কোনো যুলুম হয় না যে, ভীড়ের কারণে কেউ দেখতে পাবে আবার কেউ দেখতে পাবে না।
لا تضامون এর তা تا বর্ণে যবর দিয়ে এবং میم বর্ণে তাশদীদ দিয়ে পড়া হয়েছে। এভাবে পড়া হলে এর মাসদার হবে التضام। অর্থাৎ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের একজনকে অন্যজনের কাছে গিয়ে মিশতে হয় না। এই বর্ণনা অনুসারে অর্থ হবে, চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের সবাইকে এক স্থানে জড়ো হওয়ার প্রয়োজন হয় না। যাতে খুব ভীড় হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
উভয় বর্ণনার অর্থ একসাথে এই হবে যে, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে। এই দেখা সত্য। তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকেই দেখতে পাবে।
فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا সুতরাং তোমাদের যদি সামর্থ থাকে যে, কোনো বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না: অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বের সলাতটি পড়া হতে তোমরা পরাজিত হয়ে যাবে না। এটি হচ্ছে ফজরের সলাত। আর সূর্য ডুবার পূর্বেও একটি সলাত থেকে পরাভূত হবেনা। তা হচ্ছে আসরের সলাত। তোমরা যদি উক্ত সলাত দু'টি যথা সময়ে আদায়ের সামর্থ রাখো, তাহলে সলাতদ্বয় আদায় করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি ও গাফেলতী করো না। বরং জামা'আতের সাথে এবং সঠিক সময়ে এই সলাত দু'টি আদায়ে যত্নবান হও। এই দু'টি সলাতকে খাস করে উল্লেখ করার কারণ হলো, এতে ফেরেশতাগণ একসাথে মিলিত হয়। সুতরাং আসর ও ফজরের সলাত পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের মধ্যে সর্বোত্তম। তাই যে ব্যক্তি এই সলাত দু'টি যত্নসহকারে আদায় করবে, সে সর্বোত্তম পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত হবে। আর সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকা।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, কিয়ামাতের দিন খোলাখুলিভাবে এবং কপালের চোখ দিয়ে প্রকাশ্যভাবেই মুমিনগণ তাদের রবকে দেখতে পাবে। যে আয়াতগুলোতে আল্লাহর দিদার সাব্যস্ত হয়েছে সেগুলোর ব্যাখ্যা করার সময় ঐসব লোকের আলোচনা ও প্রতিবাদ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যারা এই মাসআলায় বিরোধীতা করেছে। অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন আল্লাহর দিদারকে অস্বীকার করেছে。

টিকাঃ
৪৪. সহীহ বুখারী ৫৫৪, সহীহ মুসলিম ৬৩৩, তিরমিযী ২৫৫১, আবু দাউদ ৪৭২৯, ইবনে মাজাহ ১৭৭।

রাসূল বলেন: إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ ليلة البدر لا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا « (বুখারী: ৫৫৪)
“কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রকে দেখতে পাও, সেভাবেই তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের যদি এই পরিমাণ সামর্থ থাকে, সূর্য উদয় এবং অন্তের পূর্বের সালাত হতে কোন বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না, তাহলে উক্ত সালাতদ্বয়কে তোমরা যথাসময়ে আদায় করো। "
ব্যাখ্যা: এখানে إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা দেখতে পাও: দ্বারা মুমিনদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। سترون এর মধ্যে যে অক্ষরিট প্রবেশ করেছে, তা ভবিষ্যৎকালের জন্য হলেও এখানে তা দ্বারা তাগিদ তথা বাক্যের বিষয়কে শক্তিশালী করা উদ্দেশ্য।
ترون ربكم অর্থাৎ তোমরা তোমাদের চোখ দ্বারা আল্লাহ তা'আলাকে দেখবে। মুমিনগণ তাদের রবকে দেখার বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো রসূল হতে মুতাওয়াতির তথা ব্যাপক সংখ্যক বর্ণনাকারীর সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।৪৪
كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لِيلة البدر তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে এই চন্দ্রকে দেখতে পাও: অর্থাৎ চন্দ্র তার পরিপূর্ণ রূপ গ্রহণ করার রাতে। এটি হচ্ছে মাসের ১৪তম রাত। ঐ রাতে চন্দ্র আলোতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এখানে এই তাশবীহ তথা আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জোর দিয়ে আল্লাহর দিদারকে সত্য হিসাবে সাব্যস্ত করা এবং তার দ্বারা রূপকার্থ উদ্দেশ্য হওয়ার সন্দেহকে দূর করা। বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, এখানে আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতের মেঘহীন আকাশে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলাকে চাঁদের সাথে তুলনা করা হয়নি। কেননা আল্লাহ তা'আলার لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ সদৃশ আর কিছুই নেই।
لَا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ উহাকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হয় না। ৮ বর্ণে পেশ দিয়ে এবং میم বর্ণে যবর দিয়ে পড়া হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের উপর এমন কোনো যুলুম হয় না যে, ভীড়ের কারণে কেউ দেখতে পাবে আবার কেউ দেখতে পাবে না।
لا تضامون এর তা تا বর্ণে যবর দিয়ে এবং میم বর্ণে তাশদীদ দিয়ে পড়া হয়েছে। এভাবে পড়া হলে এর মাসদার হবে التضام। অর্থাৎ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের একজনকে অন্যজনের কাছে গিয়ে মিশতে হয় না। এই বর্ণনা অনুসারে অর্থ হবে, চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের সবাইকে এক স্থানে জড়ো হওয়ার প্রয়োজন হয় না। যাতে খুব ভীড় হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
উভয় বর্ণনার অর্থ একসাথে এই হবে যে, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে। এই দেখা সত্য। তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকেই দেখতে পাবে।
فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا সুতরাং তোমাদের যদি সামর্থ থাকে যে, কোনো বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না: অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বের সলাতটি পড়া হতে তোমরা পরাজিত হয়ে যাবে না। এটি হচ্ছে ফজরের সলাত। আর সূর্য ডুবার পূর্বেও একটি সলাত থেকে পরাভূত হবেনা। তা হচ্ছে আসরের সলাত। তোমরা যদি উক্ত সলাত দু'টি যথা সময়ে আদায়ের সামর্থ রাখো, তাহলে সলাতদ্বয় আদায় করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি ও গাফেলতী করো না। বরং জামা'আতের সাথে এবং সঠিক সময়ে এই সলাত দু'টি আদায়ে যত্নবান হও। এই দু'টি সলাতকে খাস করে উল্লেখ করার কারণ হলো, এতে ফেরেশতাগণ একসাথে মিলিত হয়। সুতরাং আসর ও ফজরের সলাত পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের মধ্যে সর্বোত্তম। তাই যে ব্যক্তি এই সলাত দু'টি যত্নসহকারে আদায় করবে, সে সর্বোত্তম পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত হবে। আর সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকা।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, কিয়ামাতের দিন খোলাখুলিভাবে এবং কপালের চোখ দিয়ে প্রকাশ্যভাবেই মুমিনগণ তাদের রবকে দেখতে পাবে। যে আয়াতগুলোতে আল্লাহর দিদার সাব্যস্ত হয়েছে সেগুলোর ব্যাখ্যা করার সময় ঐসব লোকের আলোচনা ও প্রতিবাদ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যারা এই মাসআলায় বিরোধীতা করেছে। অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন আল্লাহর দিদারকে অস্বীকার করেছে。

টিকাঃ
৪৪. সহীহ বুখারী ৫৫৪, সহীহ মুসলিম ৬৩৩, তিরমিযী ২৫৫১, আবু দাউদ ৪৭২৯, ইবনে মাজাহ ১৭৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00