📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার আহবান, আওয়াজ এবং কালাম রয়েছে।
وقوله : ( يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : يَا آدَمُ فَيَقُولُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ ، فَيُنَادِي بِصَوْتٍ : إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُخْرِجَ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ بَعْثًا إِلَى النَّارِ ( مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ . وقوله : ( مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ وَلَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تُرْجُمَانٌ)
রসূল বলেন: “আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামাতের দিন আদমকে বলবেন, হে আদম! আদম বলবে, আমি তোমার আহবানে সাড়া দিচ্ছি ও তোমার আনুগত্যের উপর সর্বদা সুদৃঢ় আছি এবং তোমার আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আল্লাহ্ তা'আলা তখন আওয়াজ উঁচু করে এই বলে ডাক দিবেন, আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন তোমার বংশধর থেকে একদল লোককে বের করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বুখারী ও মুসলিম। ৩৩
রসূল আরো বলেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে অচিরেই তার প্রভু কথা বলবেন না। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা অচিরেই তোমাদের সকলের সাথেই কথা বলবেন। কথা বলার সময় বান্দার মাঝে এবং তার রবের মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না। ৩৪
ব্যাখ্যা: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ আমি তোমার আহবানে সাড়া দিচ্ছি ও তোমার আনুগত্যের উপর সর্বদা সুদৃঢ় আছি এবং তোমার আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি: لبيك শব্দটি ألب بالمكان সে অমুক স্থানে অবস্থান করেছে, এ বাক্য থেকে নেওয়া হয়েছে। যখন কেউ কোন স্থানে অবস্থান করে, তখন বলা হয় ألب بالمكان। মাফউলে মুতলাক হিসাবে এ শব্দটি মানুসব হয়েছে। তাগিদ স্বরূপ এটিকে দ্বি-বচন ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ আমি তোমার আনুগত্য করার জন্য বারবার প্রস্তুত ও সুদৃঢ় রয়েছি।
سعديك শব্দটি المساعدة থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে আমি তোমার অনুগত আছি এবং আনুগত্য করার জন্য বারবার তোমার কাছে সাহায্য চাচ্ছি।
فينادي অতঃপর ডাক দিবেন। এখানে দাল বর্ণে যের দিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা ডাক দিবেন।
بصوت আওয়াজ সহকারে এই শব্দটি يادي এর তাগিদ স্বরূপ এসেছে। কেননা ডাক দেয়া বা আহবান করা সাধারণত: আওয়াজের সাথেই হয়ে থাকে। এটি আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর মতই। আল্লাহ তা'আলা বলেন : وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا "আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন ঠিক যেমনভাবে কথা বলা হয়" (সূরা নিসা ৪:১৪৬)।
بعثا إلى النار জাহান্নামের বাহিনী: এখানে بعث শব্দটি مبعوث অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ আগুনের দিকে প্রেরিত বাহিনীকে বের করো। উহার অর্থ হলো জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করো।
উপরের হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, আল্লাহর পক্ষ হতে এমন আওয়াজসহ কথা এবং আহবান হয়, যা শোনা যায়। কিয়ামাতের দিন আল্লাহর পক্ষ হতে আহবান আসবে। হাদীসে রয়েছে, আল্লাহ তা'আলা যখন ইচ্ছা এবং যেভাবে ইচ্ছা কথা বলেন এবং ডাক দেন।
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سيكلمه ربه তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে অচিরেই তার প্রভু কথা বলবেন না: এখানে সাহাবীদেরকে সম্বোধন করা হলেও সর্বকালের সকল মুমিন উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা'আলা বিনা মধ্যস্থতায় কথা বলবেন। ليس بينه وبينه ترجمان আল্লাহর মাঝে এবং বান্দার মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না: যে ব্যক্তি এক ভাষার কথা অন্য ভাষার মাধ্যমে বর্ণনা করে, তাকে দোভাষী বলা হয়। অর্থাৎ এক ভাষার কথা অন্য ভাষায় অনুবাদকারীর নাম তারজুমান।
এ হাদীস থেকেও দলীল পাওয়া যায় যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের সাথে কথা বলবেন। তিনি যখন ইচ্ছা কথা বলেন। আল্লাহর কালাম তাঁর সিফাতে ফেলিয়ার অন্তর্ভুক্ত। এ কথাও প্রমাণিত হলো যে, তিনি কিয়ামাতের দিন প্রত্যেক মুমিনের সাথেই কথা বলবেন。
টিকাঃ
৩৩. সহীহ বুখারী ৭৪৮৩, ৪৭৪১, সহীহ মুসলিম ২২২।
৩৪. সহীহ বুখারী ৭৪৪৩, ৭৫১২, সহীহ মুসলিম ১০১৬, ইবনে মাজাহ ১৮৫।
وقوله : ( يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : يَا آدَمُ فَيَقُولُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ ، فَيُنَادِي بِصَوْتٍ : إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُخْرِجَ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ بَعْثًا إِلَى النَّارِ ( مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ . وقوله : ( مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ وَلَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تُرْجُمَانٌ)
রসূল বলেন: “আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামাতের দিন আদমকে বলবেন, হে আদম! আদম বলবে, আমি তোমার আহবানে সাড়া দিচ্ছি ও তোমার আনুগত্যের উপর সর্বদা সুদৃঢ় আছি এবং তোমার আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আল্লাহ্ তা'আলা তখন আওয়াজ উঁচু করে এই বলে ডাক দিবেন, আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন তোমার বংশধর থেকে একদল লোককে বের করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বুখারী ও মুসলিম। ৩৩
রসূল আরো বলেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে অচিরেই তার প্রভু কথা বলবেন না। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা অচিরেই তোমাদের সকলের সাথেই কথা বলবেন। কথা বলার সময় বান্দার মাঝে এবং তার রবের মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না। ৩৪
ব্যাখ্যা: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ আমি তোমার আহবানে সাড়া দিচ্ছি ও তোমার আনুগত্যের উপর সর্বদা সুদৃঢ় আছি এবং তোমার আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি: لبيك শব্দটি ألب بالمكان সে অমুক স্থানে অবস্থান করেছে, এ বাক্য থেকে নেওয়া হয়েছে। যখন কেউ কোন স্থানে অবস্থান করে, তখন বলা হয় ألب بالمكان। মাফউলে মুতলাক হিসাবে এ শব্দটি মানুসব হয়েছে। তাগিদ স্বরূপ এটিকে দ্বি-বচন ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ আমি তোমার আনুগত্য করার জন্য বারবার প্রস্তুত ও সুদৃঢ় রয়েছি।
سعديك শব্দটি المساعدة থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে আমি তোমার অনুগত আছি এবং আনুগত্য করার জন্য বারবার তোমার কাছে সাহায্য চাচ্ছি।
فينادي অতঃপর ডাক দিবেন। এখানে দাল বর্ণে যের দিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা ডাক দিবেন।
بصوت আওয়াজ সহকারে এই শব্দটি يادي এর তাগিদ স্বরূপ এসেছে। কেননা ডাক দেয়া বা আহবান করা সাধারণত: আওয়াজের সাথেই হয়ে থাকে। এটি আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর মতই। আল্লাহ তা'আলা বলেন : وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا "আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন ঠিক যেমনভাবে কথা বলা হয়" (সূরা নিসা ৪:১৪৬)।
بعثا إلى النار জাহান্নামের বাহিনী: এখানে بعث শব্দটি مبعوث অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ আগুনের দিকে প্রেরিত বাহিনীকে বের করো। উহার অর্থ হলো জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করো।
উপরের হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, আল্লাহর পক্ষ হতে এমন আওয়াজসহ কথা এবং আহবান হয়, যা শোনা যায়। কিয়ামাতের দিন আল্লাহর পক্ষ হতে আহবান আসবে। হাদীসে রয়েছে, আল্লাহ তা'আলা যখন ইচ্ছা এবং যেভাবে ইচ্ছা কথা বলেন এবং ডাক দেন।
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سيكلمه ربه তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে অচিরেই তার প্রভু কথা বলবেন না: এখানে সাহাবীদেরকে সম্বোধন করা হলেও সর্বকালের সকল মুমিন উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা'আলা বিনা মধ্যস্থতায় কথা বলবেন। ليس بينه وبينه ترجمان আল্লাহর মাঝে এবং বান্দার মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না: যে ব্যক্তি এক ভাষার কথা অন্য ভাষার মাধ্যমে বর্ণনা করে, তাকে দোভাষী বলা হয়। অর্থাৎ এক ভাষার কথা অন্য ভাষায় অনুবাদকারীর নাম তারজুমান।
এ হাদীস থেকেও দলীল পাওয়া যায় যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের সাথে কথা বলবেন। তিনি যখন ইচ্ছা কথা বলেন। আল্লাহর কালাম তাঁর সিফাতে ফেলিয়ার অন্তর্ভুক্ত। এ কথাও প্রমাণিত হলো যে, তিনি কিয়ামাতের দিন প্রত্যেক মুমিনের সাথেই কথা বলবেন。
টিকাঃ
৩৩. সহীহ বুখারী ৭৪৮৩, ৪৭৪১, সহীহ মুসলিম ২২২।
৩৪. সহীহ বুখারী ৭৪৪৩, ৭৫১২, সহীহ মুসলিম ১০১৬, ইবনে মাজাহ ১৮৫।
📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সৃষ্টির উপরে রয়েছেন এবং তিনি তাঁর আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন।
ওয়াক্বাউলিহী ফি রুক্বইয়্যাতিল মারীদ: (রাব্বুনাল্লাহুল্লাযী ফিস্ সামায়ি তাক্বাদ্দাস্ ইস্মুকা, আমরুকা ফিস্ সামায়ি ওয়াল আরদ্বি কামা রহমাতুকা ফিস্ সামায়ি, ইজ্আল রহমাতাকা ফিল আরদ্বি, ইগ্ফির লানা হুউবানা ওয়া খাত্বায়ানা আন্তা রাব্বুত্ ত্বাইয়্যিবীনা আনযিল রাহমাতাম্ মীর রাহমাতিকা ওয়া শিফায়াম্ মিন্ শিফায়িকা আলা হাযাল ওয়াজায়ি ফাইয়াবরু)। হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু। ওয়াক্বাউলিহী: (আলা তামুনুনী ওয়া আনা আমীনুম্ মান ফিস্ সামায়ি) হাদীছ সহীহ। ওয়াক্বাউলিহী: (ওয়ালআরশু ফাওক্বা যালিকা ওয়াল্লাহু ফাওকাল আরশি ওয়াহুয়া ইয়া'লামু মা আন্তুম আলাইহি) হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু। ওয়াক্বাউলি লিল জারিয়াতিঃ (আইনাল্লাহু? ক্বা-লাত: ফিস সামায়ি, ক্বা-লা: মান আনা? ক্বা-লাত: আন্তা রাসুলুল্লাহি ক্বা-লা: আ'তিক্বহা ফাইন্নাহা মু'মিনা) রওয়াহু মুসলিম।
রাসূল ﷺ রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার সময় বলেছেনঃ
(রাব্বুনাল্লাহুল্লাযী ফিস্ সামায়ি তাক্বাদ্দাস্ ইস্মুকা, আমরুকা ফিস্ সামায়ি ওয়াল আরদ্বি কামা রহমাতুকা ফিস্ সামায়ি, ইজ্আল রহমাতাকা ফিল আরদ্বি, ইগ্ফির লানা হুউবানা ওয়া খাত্বায়ানা আন্তা রাব্বুত্ ত্বাইয়্যিবীনা আনযিল রাহমাতাম্ মীর রাহমাতিকা ওয়া শিফায়াম্ মিন্ শিফায়িকা আলা হাযাল ওয়াজায়ি ফাইয়াবরু)। হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু।
“তিনিই আমাদের প্রভু, যিনি আকাশে রয়েছেন। হে আমাদের প্রভু! তোমার নাম পবিত্র। তোমার হুকুম আসমানে ও যমীনে। আসমানে যেমন তোমার রহমত রয়েছে তেমনি যমীনেও তোমার রহমত নাযিল করো। আমাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করো। তুমি পবিত্রদের প্রতিপালক। তোমার নিকট হতে রহমত নাযিল করো এবং তোমার 'শিফা' হতে 'শিফা' নাযিল কর। আল্লাহর ইচ্ছায় সে সুস্থ হবে। এ হাদীসটি হাসান। ইমাম আবু দাউদ এবং অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। রসূল আরো বলেন: أَلا تَأْمَنُونِي وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ
"আমার উপর কি তোমাদের আস্থা নেই? অথচ আমি ঐ আল্লাহর একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি, যিনি আকাশে আছেন। নাবী বলেন: والعرش فوق ذلك واللَّهُ فَوْقَ الْعَرْشِ، وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حديث حسن رواه أبو داود وغيره
"তার উপর আল্লাহর আরশ। আর আল্লাহ্ আরশের উপর। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন”। হাদীসটি হাসান। আবু দাউদ এবং অন্যান্য ইমামগণ এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটি দাসীকে রসূল জিজ্ঞেস করেছিলেন: ) أَيْنَ اللَّهُ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ قَالَ: مَنْ أَنَا ؟ قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ: أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ) رواه مسلم.
"আল্লাহ কোথায়? সে জবাবে বলেছিল আসমানের উপর। রসূল আলাইহি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রসূল। তিনি তখন দাসীর মনিবকে বললেন, তুমি একে আযাদ করে দাও। কারণ সে মুমিন। ৩৭
ব্যাখ্যা: في رقبة المريض রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার সময়, নাবী উপরোক্ত দু'আ পাঠ করতেন। অর্থাৎ রোগীর জন্য সুস্থতা প্রার্থনা করে এই দু'আ পাঠ করতেন। কুরআন ও হাদীসের দু'আর মাধ্যমে রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করা বৈধ। আর শিরকী কথা ও কর্ম দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা নিষিদ্ধ।
في السماء : رَبُّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ বলতে على السماء অর্থাৎ আকাশের উপরে উদ্দেশ্য। সুতরাং এখানে في হরফে জারটি على অর্থে ব্যবহৃত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ "কাজেই তোমরা দেশের মধ্যে আরো চার মাস চলাফেরা করো”। (সূরা তাওবা ৯:২)। এখানেও في হরফে জারটি على অর্থে ব্যবহৃত। في অক্ষরটি আসল অর্থে তথা যারফিয়া হিসাবেও ব্যবহৃত হওয়া বিশুদ্ধ। তখন السماء দ্বারা সাধারণভাবে উপর বুঝাবে।
تَقَدَّسَ اسْمُكَ তোমার নাম পবিত্র: অর্থাৎ তোমার অতি সুন্দর নামগুলো প্রত্যেক দোষ-ত্রুটি হতে পবিত্র। اِسْم শব্দটি এখানে একবচন হলেও মুযাফ হওয়ার কারণে এর দ্বারা আল্লাহর সকল পবিত্র নামই উদ্দেশ্য হবে।
أَمْرُ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ তোমার হুকুম আসমানে ও যমীনে: অর্থাৎ আসমান ও যমীনে তোমার ঐসব সৃষ্টি ও নির্ধারণগত আদেশ কার্যকর হয়, যার মাধ্যমে সবকিছুই সৃষ্টি ও সংঘটিত হয়। এই অর্থেই আল্লাহ তা'আলার নিম্নের বাণীটি ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ "আল্লাহ তা'আলা যখন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তিনি শুধু তাকে বলেন যে, হয়ে যাও। সাথে সাথেই তা হয়ে যায়”। (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৮২)
এমনি আল্লাহর আরেক প্রকার আদেশ রয়েছে, যা শরীয়তের ঐসব আদেশকে অন্তর্ভূক্ত করেছে, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ
তোমার রহমত রয়েছে, তেমনি যমীনেও তোমার রহমত নাযিল করো: এখানে আল্লাহ তা'আলার যেই রহমত আসমানের সকল বাসিন্দাকে নিজের মধ্যে শামিল করে নিয়েছে ঐ রহমতের উসীলায় আল্লাহর কাছে চাওয়া হয়েছে যে, তিনি যেন যমীনবাসীর জন্যও তার রহমতের একটি অংশ নির্ধারণ করেন।
اغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا আমাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করো: এখানে আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
المغفرة অর্থ হচ্ছে ঢেকে রাখা এবং পাপাচার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। মাথাকে ঢেকে রাখার জন্য এবং শত্রুর আঘাত থেকে মাথাকে হেফাযত করার জন্য মাথায় যেই হিলমেট এ। পরিধান করা হয়, তা এই المغفرة শব্দ থেকেই নেয়া হয়েছে। এখানে الحوب হচ্ছে الإثم (অপরাধ)। আর الخطايا এবং الذنوب একই অর্থে ব্যবহৃত। উহা হচ্ছে গুনাহ ও পাপসমূহ।
أنت رب الطيبين তুমি পবিত্রদের প্রতিপালক: এই বাক্যের মাধ্যমেও উসীলা দেয়া হয়েছে। طيب শব্দের বহুবচন الطيبون। তারা হচ্ছেন নাবী এবং তাদের অনুসারীগণ। আল্লাহর রুবুবীয়াকে উক্ত শ্রেণীর লোকদের প্রতি সম্বন্ধিত করার দ্বারা তাদের সম্মান, মর্যাদা ও তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা বুঝানো হয়েছে। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা সবকিছুরই প্রভু ও মালিক।
أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ তোমার নিকট হতে রহমত নাযিল করো: অর্থাৎ যেই রহমতটি তুমি সৃষ্টি করেছো, তা তুমি আমাদের উপর নাযিল করো। আল্লাহর রহমত দুই প্রকার।
(১) আল্লাহর যেই রহমত তাঁর অন্যতম সিফাত অর্থে ব্যবহৃত, সে সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন:: وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلِّ شَيْءٍ “আর আমার রহমত প্রতিটি জিনিসকেই পরিব্যপ্ত করে রয়েছে"। (সূরা আরাফ: ১৫৬)
(২) আবার রহমতকে কখনো আল্লাহ তা'আলার দিকে তাঁর ক্রিয়া হিসাবে সম্বন্ধিত করা হয়। তখন উহা ঐ সব মাখলুকের অন্তর্ভুক্ত হয়, যা সৃষ্টিকর্তার দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। যেমন এই হাদীসে রহমত শব্দটি তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। যেমন নাবী ﷺ নিম্নের এই হাদীসে বলেছেন:
«خَلَقَ اللَّهُ مِائَةَ رَحْمَةٍ فَوَضَعَ وَاحِدَةً بَيْنَ خَلْقِهِ وَحَبَأَ عِنْدَهُ مِائَةً إِلَّا وَاحِدَةً»
"আল্লাহ তা'আলা একশটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। তার সৃষ্টির মধ্যে তা থেকে মাত্র একটি রহমত ছেড়েছেন। আর ৯৯টি রহমত তাঁর নিকট রেখে দিয়েছেন।৩৮
রোগী যেহেতু আল্লাহর রহমতের প্রতি মুখাপেক্ষী, তাই নাবী ﷺ তাঁর রবের কাছে রোগীর উপর রহমত নাযিল করার আবেদন করেছেন, যাতে তিনি এর মাধ্যমে রোগীকে শিফা দান করেন।
এই হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য 'উলু' তথা উপরে হওয়া সাব্যস্ত। আরো সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর। পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, উলু তথা উপরে হওয়া আল্লাহ তা'আলার সত্তাগত সিফাত। সেই সাথে আরো জানা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার রুবুবীয়াত, তাঁর ইলাহীয়াত, তাঁর পবিত্রতা, সকল সৃষ্টির উপরে হওয়া, তাঁর সকল আদেশ, তাঁর রহমত ইত্যাদি সিফাত তুলে ধরার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করা মুস্তাহাব।
أَلا تَأْمَنُوني তোমাদের কি আমার উপর আস্থা নেই? নাবী পক্ষ হতে ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করে এ কথা বলা হয়েছে, যে তাঁর কতক মাল বণ্টনে আপত্তি উত্থাপন করেছিল। ৩৯ এখানে যেই ১' অব্যয়টি এসেছে, তা বাক্যের শুরুতে ব্যবহৃত হয় এবং তা দ্বারা সতর্ক করা উদ্দেশ্য হয়। আর تأمنون শব্দটি الأمانة থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে পক্ষপাতিত্ব ও খেয়ানত না করা। অর্থাৎ তোমরা কি মাল বণ্টনের ক্ষেত্রে আমার উপর আস্থাশীল নও?
وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ আমি ঐ সত্তার একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি, যিনি আসমানের উপর রয়েছেন: আসমানে যিনি রয়েছেন, তিনি হলেন আল্লাহ তা'আলা। তিনি আমাকে তাঁর অহী, রেসালাত এবং শারীয়াতের তাবলীগ করার উপর আমানতদার বানিয়েছেন। সুতরাং রসূল আমানতদারী এবং সত্যবাদীতার সাক্ষ্যদাতা হিসাবে আল্লাহ তা'আলাই যথেষ্ট। উপরোক্ত হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, আল্লাহর জন্য উলু (উপরে হওয়া বিশেষণ) সাব্যস্ত। কেননা রসূল বলেন, من في السماء যিনি রয়েছেন আসমানের উপর। একটু পূর্বে এই বাক্যের ব্যাখ্যা অতিক্রান্ত হয়েছে।
والعرش فوق ذلك উহার উপর আল্লাহর আরশ: এ বাক্যের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ঐসব সৃষ্টির উপর, যা রসূল তাঁর সাহাবীর জন্য হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তাতে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে এক আসমান থেকে অন্য আসমান পর্যন্ত দূরত্ব, প্রত্যেক আসমানের পূরত্ব, সপ্তম আসমানের উপরস্থ সাগর, সেই সাগরের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত দূরত্ব এবং ঐ সাগরের উপর সাতটি বিশাল আকারের ওয়াল (বিশেষ আকৃতির আট ফেরেশতা) থাকার কথা বর্ণনা করা রয়েছে। অতঃপর বলা হয়েছে যে, উহার উপর আল্লাহ তা'আলার আরশ।
والله فوق العرش আর আল্লাহ্ আরশের উপরে। অর্থাৎ তাঁর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেভাবে আরশের উপর সমুন্নত হওয়া শোভনীয়, তিনি সেভাবেই আরশের উপর সমুন্নত রয়েছেন।
وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنتُمْ عَلَيْهِ তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন: অর্থাৎ তিনি তাঁর ইলমের মাধ্যমে তোমাদের সকল অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন, যা থেকে কোন বস্তুই গোপনীয় নয়।
উপরের হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য আরশের উপর সমুন্নত হওয়া সুসাব্যস্ত। আর আল্লাহ তা'আলার আরש সমস্ত মাখলুকের উপরে এবং তিনি স্বীয় ইলমের মাধ্যমে বান্দাদের সমস্ত আমলকে পরিবেষ্টন করে আছেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপনীয় নয়।
وقوله للجارية দাসীর কথা: সে ছিল মুআবীয়া ইবনুল হাকামের দাসী। মনিব মুআবীয়া দাসীর উপর ক্রোধান্বিত হয়ে দাসীকে চপেটাঘাত করলেন। অতঃপর তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং রসূল ﷺ কে বিষয়টি জানালেন। তিনি নাবী আরো জানালেন যে, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো না? তিনি বললেন, আমার কাছে ওকে নিয়ে এসো। তিনি দাসীকে নাবী আলাইহি ওয়া কাছে নিয়ে আসলেন। রসূল দাসীকে জিজ্ঞেস করলেন, أين الله আল্লাহ কোথায়? এতে দলীল পাওয়া যায় যে, আল্লাহ কোথায়? এই প্রশ্ন করা জায়েয আছে।
দাসী তখন বলল في السماء আসমানের উপর। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর। এই বাক্যের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। নাবী দাসীকে আরো প্রশ্ন করলেন যে, আমি কে? নাবী সম্পর্কে দাসীর বিশ্বাস কী ছিল, তা জানার জন্য তাকে এই প্রশ্ন করা হয়েছে।
দাসী তখন বলল, أنت رسول الله "আপনি আল্লাহর রসূল"। এই বাক্যের মাধ্যমে দাসী রসূল ﷺ জন্য রিসালাতের সাক্ষ্য দিল। তিনি তখন দাসীর মনিব মুআবীয়াকে বললেন,
أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ তুমি একে আযাদ করে দাও, কারণ সে মুমিন। এতে প্রমাণ পাওয়া গেল, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ তা'আলা উপরে এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল, সে মুমিন হিসাবে গণ্য হবে। আরো জানা গেল যে, দাসমুক্তির জন্য ঈমান পূর্বশর্ত। এ হাদীসে সমস্ত সৃষ্টির উপরে অবস্থিত সাত আসমানের উপর আল্লাহ তা'আলার সমুন্নত হওয়ার দলীল পাওয়া গেল। এতে আরো প্রমাণ পাওয়া গেল যে, আল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করার সময় আঙ্গুল বা শরীরের অন্য কোন অঙ্গ দিয়ে উপরের দিকে ইঙ্গিত করা বৈধ。
টিকাঃ
৩৫. আবু দাউদ ৩৮৯২, ইমাম আলবানী হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন।
৩৬. সহীহ মুসলিম ১০৬৪, সহীহ বুখারী ৪৩৫১।
৩৭. সহীহ মুসলিম ৫৩৭, আবু দাউদ ৯৩০, নাসাঈ ১২১৮।
৩৮. সহীহ বুখারী ৬৪৬৯, সহীহ মুসলিম ২৭৫২, তিরমিযী ৩৫৪১, ইবনে মাজাহ ৪২৯৩।
৩৯. সহীহ বুখারীতে (৪৩৫১) এ হাদীসটি বিস্তারিত উল্লেখিত হয়েছে।
ওয়াক্বাউলিহী ফি রুক্বইয়্যাতিল মারীদ: (রাব্বুনাল্লাহুল্লাযী ফিস্ সামায়ি তাক্বাদ্দাস্ ইস্মুকা, আমরুকা ফিস্ সামায়ি ওয়াল আরদ্বি কামা রহমাতুকা ফিস্ সামায়ি, ইজ্আল রহমাতাকা ফিল আরদ্বি, ইগ্ফির লানা হুউবানা ওয়া খাত্বায়ানা আন্তা রাব্বুত্ ত্বাইয়্যিবীনা আনযিল রাহমাতাম্ মীর রাহমাতিকা ওয়া শিফায়াম্ মিন্ শিফায়িকা আলা হাযাল ওয়াজায়ি ফাইয়াবরু)। হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু। ওয়াক্বাউলিহী: (আলা তামুনুনী ওয়া আনা আমীনুম্ মান ফিস্ সামায়ি) হাদীছ সহীহ। ওয়াক্বাউলিহী: (ওয়ালআরশু ফাওক্বা যালিকা ওয়াল্লাহু ফাওকাল আরশি ওয়াহুয়া ইয়া'লামু মা আন্তুম আলাইহি) হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু। ওয়াক্বাউলি লিল জারিয়াতিঃ (আইনাল্লাহু? ক্বা-লাত: ফিস সামায়ি, ক্বা-লা: মান আনা? ক্বা-লাত: আন্তা রাসুলুল্লাহি ক্বা-লা: আ'তিক্বহা ফাইন্নাহা মু'মিনা) রওয়াহু মুসলিম।
রাসূল ﷺ রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার সময় বলেছেনঃ
(রাব্বুনাল্লাহুল্লাযী ফিস্ সামায়ি তাক্বাদ্দাস্ ইস্মুকা, আমরুকা ফিস্ সামায়ি ওয়াল আরদ্বি কামা রহমাতুকা ফিস্ সামায়ি, ইজ্আল রহমাতাকা ফিল আরদ্বি, ইগ্ফির লানা হুউবানা ওয়া খাত্বায়ানা আন্তা রাব্বুত্ ত্বাইয়্যিবীনা আনযিল রাহমাতাম্ মীর রাহমাতিকা ওয়া শিফায়াম্ মিন্ শিফায়িকা আলা হাযাল ওয়াজায়ি ফাইয়াবরু)। হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু।
“তিনিই আমাদের প্রভু, যিনি আকাশে রয়েছেন। হে আমাদের প্রভু! তোমার নাম পবিত্র। তোমার হুকুম আসমানে ও যমীনে। আসমানে যেমন তোমার রহমত রয়েছে তেমনি যমীনেও তোমার রহমত নাযিল করো। আমাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করো। তুমি পবিত্রদের প্রতিপালক। তোমার নিকট হতে রহমত নাযিল করো এবং তোমার 'শিফা' হতে 'শিফা' নাযিল কর। আল্লাহর ইচ্ছায় সে সুস্থ হবে। এ হাদীসটি হাসান। ইমাম আবু দাউদ এবং অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। রসূল আরো বলেন: أَلا تَأْمَنُونِي وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ
"আমার উপর কি তোমাদের আস্থা নেই? অথচ আমি ঐ আল্লাহর একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি, যিনি আকাশে আছেন। নাবী বলেন: والعرش فوق ذلك واللَّهُ فَوْقَ الْعَرْشِ، وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حديث حسن رواه أبو داود وغيره
"তার উপর আল্লাহর আরশ। আর আল্লাহ্ আরশের উপর। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন”। হাদীসটি হাসান। আবু দাউদ এবং অন্যান্য ইমামগণ এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটি দাসীকে রসূল জিজ্ঞেস করেছিলেন: ) أَيْنَ اللَّهُ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ قَالَ: مَنْ أَنَا ؟ قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ: أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ) رواه مسلم.
"আল্লাহ কোথায়? সে জবাবে বলেছিল আসমানের উপর। রসূল আলাইহি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রসূল। তিনি তখন দাসীর মনিবকে বললেন, তুমি একে আযাদ করে দাও। কারণ সে মুমিন। ৩৭
ব্যাখ্যা: في رقبة المريض রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার সময়, নাবী উপরোক্ত দু'আ পাঠ করতেন। অর্থাৎ রোগীর জন্য সুস্থতা প্রার্থনা করে এই দু'আ পাঠ করতেন। কুরআন ও হাদীসের দু'আর মাধ্যমে রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করা বৈধ। আর শিরকী কথা ও কর্ম দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা নিষিদ্ধ।
في السماء : رَبُّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ বলতে على السماء অর্থাৎ আকাশের উপরে উদ্দেশ্য। সুতরাং এখানে في হরফে জারটি على অর্থে ব্যবহৃত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ "কাজেই তোমরা দেশের মধ্যে আরো চার মাস চলাফেরা করো”। (সূরা তাওবা ৯:২)। এখানেও في হরফে জারটি على অর্থে ব্যবহৃত। في অক্ষরটি আসল অর্থে তথা যারফিয়া হিসাবেও ব্যবহৃত হওয়া বিশুদ্ধ। তখন السماء দ্বারা সাধারণভাবে উপর বুঝাবে।
تَقَدَّسَ اسْمُكَ তোমার নাম পবিত্র: অর্থাৎ তোমার অতি সুন্দর নামগুলো প্রত্যেক দোষ-ত্রুটি হতে পবিত্র। اِسْم শব্দটি এখানে একবচন হলেও মুযাফ হওয়ার কারণে এর দ্বারা আল্লাহর সকল পবিত্র নামই উদ্দেশ্য হবে।
أَمْرُ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ তোমার হুকুম আসমানে ও যমীনে: অর্থাৎ আসমান ও যমীনে তোমার ঐসব সৃষ্টি ও নির্ধারণগত আদেশ কার্যকর হয়, যার মাধ্যমে সবকিছুই সৃষ্টি ও সংঘটিত হয়। এই অর্থেই আল্লাহ তা'আলার নিম্নের বাণীটি ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ "আল্লাহ তা'আলা যখন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তিনি শুধু তাকে বলেন যে, হয়ে যাও। সাথে সাথেই তা হয়ে যায়”। (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৮২)
এমনি আল্লাহর আরেক প্রকার আদেশ রয়েছে, যা শরীয়তের ঐসব আদেশকে অন্তর্ভূক্ত করেছে, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ
তোমার রহমত রয়েছে, তেমনি যমীনেও তোমার রহমত নাযিল করো: এখানে আল্লাহ তা'আলার যেই রহমত আসমানের সকল বাসিন্দাকে নিজের মধ্যে শামিল করে নিয়েছে ঐ রহমতের উসীলায় আল্লাহর কাছে চাওয়া হয়েছে যে, তিনি যেন যমীনবাসীর জন্যও তার রহমতের একটি অংশ নির্ধারণ করেন।
اغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا আমাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করো: এখানে আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
المغفرة অর্থ হচ্ছে ঢেকে রাখা এবং পাপাচার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। মাথাকে ঢেকে রাখার জন্য এবং শত্রুর আঘাত থেকে মাথাকে হেফাযত করার জন্য মাথায় যেই হিলমেট এ। পরিধান করা হয়, তা এই المغفرة শব্দ থেকেই নেয়া হয়েছে। এখানে الحوب হচ্ছে الإثم (অপরাধ)। আর الخطايا এবং الذنوب একই অর্থে ব্যবহৃত। উহা হচ্ছে গুনাহ ও পাপসমূহ।
أنت رب الطيبين তুমি পবিত্রদের প্রতিপালক: এই বাক্যের মাধ্যমেও উসীলা দেয়া হয়েছে। طيب শব্দের বহুবচন الطيبون। তারা হচ্ছেন নাবী এবং তাদের অনুসারীগণ। আল্লাহর রুবুবীয়াকে উক্ত শ্রেণীর লোকদের প্রতি সম্বন্ধিত করার দ্বারা তাদের সম্মান, মর্যাদা ও তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা বুঝানো হয়েছে। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা সবকিছুরই প্রভু ও মালিক।
أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ তোমার নিকট হতে রহমত নাযিল করো: অর্থাৎ যেই রহমতটি তুমি সৃষ্টি করেছো, তা তুমি আমাদের উপর নাযিল করো। আল্লাহর রহমত দুই প্রকার।
(১) আল্লাহর যেই রহমত তাঁর অন্যতম সিফাত অর্থে ব্যবহৃত, সে সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন:: وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلِّ شَيْءٍ “আর আমার রহমত প্রতিটি জিনিসকেই পরিব্যপ্ত করে রয়েছে"। (সূরা আরাফ: ১৫৬)
(২) আবার রহমতকে কখনো আল্লাহ তা'আলার দিকে তাঁর ক্রিয়া হিসাবে সম্বন্ধিত করা হয়। তখন উহা ঐ সব মাখলুকের অন্তর্ভুক্ত হয়, যা সৃষ্টিকর্তার দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। যেমন এই হাদীসে রহমত শব্দটি তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। যেমন নাবী ﷺ নিম্নের এই হাদীসে বলেছেন:
«خَلَقَ اللَّهُ مِائَةَ رَحْمَةٍ فَوَضَعَ وَاحِدَةً بَيْنَ خَلْقِهِ وَحَبَأَ عِنْدَهُ مِائَةً إِلَّا وَاحِدَةً»
"আল্লাহ তা'আলা একশটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। তার সৃষ্টির মধ্যে তা থেকে মাত্র একটি রহমত ছেড়েছেন। আর ৯৯টি রহমত তাঁর নিকট রেখে দিয়েছেন।৩৮
রোগী যেহেতু আল্লাহর রহমতের প্রতি মুখাপেক্ষী, তাই নাবী ﷺ তাঁর রবের কাছে রোগীর উপর রহমত নাযিল করার আবেদন করেছেন, যাতে তিনি এর মাধ্যমে রোগীকে শিফা দান করেন।
এই হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য 'উলু' তথা উপরে হওয়া সাব্যস্ত। আরো সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর। পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, উলু তথা উপরে হওয়া আল্লাহ তা'আলার সত্তাগত সিফাত। সেই সাথে আরো জানা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার রুবুবীয়াত, তাঁর ইলাহীয়াত, তাঁর পবিত্রতা, সকল সৃষ্টির উপরে হওয়া, তাঁর সকল আদেশ, তাঁর রহমত ইত্যাদি সিফাত তুলে ধরার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করা মুস্তাহাব।
أَلا تَأْمَنُوني তোমাদের কি আমার উপর আস্থা নেই? নাবী পক্ষ হতে ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করে এ কথা বলা হয়েছে, যে তাঁর কতক মাল বণ্টনে আপত্তি উত্থাপন করেছিল। ৩৯ এখানে যেই ১' অব্যয়টি এসেছে, তা বাক্যের শুরুতে ব্যবহৃত হয় এবং তা দ্বারা সতর্ক করা উদ্দেশ্য হয়। আর تأمنون শব্দটি الأمانة থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে পক্ষপাতিত্ব ও খেয়ানত না করা। অর্থাৎ তোমরা কি মাল বণ্টনের ক্ষেত্রে আমার উপর আস্থাশীল নও?
وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ আমি ঐ সত্তার একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি, যিনি আসমানের উপর রয়েছেন: আসমানে যিনি রয়েছেন, তিনি হলেন আল্লাহ তা'আলা। তিনি আমাকে তাঁর অহী, রেসালাত এবং শারীয়াতের তাবলীগ করার উপর আমানতদার বানিয়েছেন। সুতরাং রসূল আমানতদারী এবং সত্যবাদীতার সাক্ষ্যদাতা হিসাবে আল্লাহ তা'আলাই যথেষ্ট। উপরোক্ত হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, আল্লাহর জন্য উলু (উপরে হওয়া বিশেষণ) সাব্যস্ত। কেননা রসূল বলেন, من في السماء যিনি রয়েছেন আসমানের উপর। একটু পূর্বে এই বাক্যের ব্যাখ্যা অতিক্রান্ত হয়েছে।
والعرش فوق ذلك উহার উপর আল্লাহর আরশ: এ বাক্যের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ঐসব সৃষ্টির উপর, যা রসূল তাঁর সাহাবীর জন্য হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তাতে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে এক আসমান থেকে অন্য আসমান পর্যন্ত দূরত্ব, প্রত্যেক আসমানের পূরত্ব, সপ্তম আসমানের উপরস্থ সাগর, সেই সাগরের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত দূরত্ব এবং ঐ সাগরের উপর সাতটি বিশাল আকারের ওয়াল (বিশেষ আকৃতির আট ফেরেশতা) থাকার কথা বর্ণনা করা রয়েছে। অতঃপর বলা হয়েছে যে, উহার উপর আল্লাহ তা'আলার আরশ।
والله فوق العرش আর আল্লাহ্ আরশের উপরে। অর্থাৎ তাঁর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেভাবে আরশের উপর সমুন্নত হওয়া শোভনীয়, তিনি সেভাবেই আরশের উপর সমুন্নত রয়েছেন।
وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنتُمْ عَلَيْهِ তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন: অর্থাৎ তিনি তাঁর ইলমের মাধ্যমে তোমাদের সকল অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন, যা থেকে কোন বস্তুই গোপনীয় নয়।
উপরের হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য আরশের উপর সমুন্নত হওয়া সুসাব্যস্ত। আর আল্লাহ তা'আলার আরש সমস্ত মাখলুকের উপরে এবং তিনি স্বীয় ইলমের মাধ্যমে বান্দাদের সমস্ত আমলকে পরিবেষ্টন করে আছেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপনীয় নয়।
وقوله للجارية দাসীর কথা: সে ছিল মুআবীয়া ইবনুল হাকামের দাসী। মনিব মুআবীয়া দাসীর উপর ক্রোধান্বিত হয়ে দাসীকে চপেটাঘাত করলেন। অতঃপর তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং রসূল ﷺ কে বিষয়টি জানালেন। তিনি নাবী আরো জানালেন যে, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো না? তিনি বললেন, আমার কাছে ওকে নিয়ে এসো। তিনি দাসীকে নাবী আলাইহি ওয়া কাছে নিয়ে আসলেন। রসূল দাসীকে জিজ্ঞেস করলেন, أين الله আল্লাহ কোথায়? এতে দলীল পাওয়া যায় যে, আল্লাহ কোথায়? এই প্রশ্ন করা জায়েয আছে।
দাসী তখন বলল في السماء আসমানের উপর। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর। এই বাক্যের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। নাবী দাসীকে আরো প্রশ্ন করলেন যে, আমি কে? নাবী সম্পর্কে দাসীর বিশ্বাস কী ছিল, তা জানার জন্য তাকে এই প্রশ্ন করা হয়েছে।
দাসী তখন বলল, أنت رسول الله "আপনি আল্লাহর রসূল"। এই বাক্যের মাধ্যমে দাসী রসূল ﷺ জন্য রিসালাতের সাক্ষ্য দিল। তিনি তখন দাসীর মনিব মুআবীয়াকে বললেন,
أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ তুমি একে আযাদ করে দাও, কারণ সে মুমিন। এতে প্রমাণ পাওয়া গেল, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ তা'আলা উপরে এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল, সে মুমিন হিসাবে গণ্য হবে। আরো জানা গেল যে, দাসমুক্তির জন্য ঈমান পূর্বশর্ত। এ হাদীসে সমস্ত সৃষ্টির উপরে অবস্থিত সাত আসমানের উপর আল্লাহ তা'আলার সমুন্নত হওয়ার দলীল পাওয়া গেল। এতে আরো প্রমাণ পাওয়া গেল যে, আল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করার সময় আঙ্গুল বা শরীরের অন্য কোন অঙ্গ দিয়ে উপরের দিকে ইঙ্গিত করা বৈধ。
টিকাঃ
৩৫. আবু দাউদ ৩৮৯২, ইমাম আলবানী হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন।
৩৬. সহীহ মুসলিম ১০৬৪, সহীহ বুখারী ৪৩৫১।
৩৭. সহীহ মুসলিম ৫৩৭, আবু দাউদ ৯৩০, নাসাঈ ১২১৮।
৩৮. সহীহ বুখারী ৬৪৬৯, সহীহ মুসলিম ২৭৫২, তিরমিযী ৩৫৪১, ইবনে মাজাহ ৪২৯৩।
৩৯. সহীহ বুখারীতে (৪৩৫১) এ হাদীসটি বিস্তারিত উল্লেখিত হয়েছে।
📄 আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির সাথেই আছেন। আরশের উপর তাঁর সমুন্নত হওয়া শারীয়াত পরিপন্থী বিষয় নয়।
রাসূল বলেন:
أَفْضَلُ الإِيمَانِ أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ حَيْثُمَا كُنْتَ حَدِيثٌ حَسَنٌ. أخرجه الطبراني من حديث عبادة بن الصامت
"সর্বোত্তম ঈমান হলো তুমি জানবে যে, যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তোমার সাথেই"। হাদীসটি হাসান। ইমাম তাবারানী উবাদাহ বিন সামেত থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। রসূল আরো বলেন,
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَلَا يَبْصُقَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ، وَلَا عَنْ يَمِينِهِ؛ فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ،
"তোমাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়াবে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। এমনকি ডান দিকেও না। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁর সামনে রয়েছেন। একান্ত যদি থুথু ফেলতেই হয় তাহলে বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলবে। ৪০ বুখারী ও মুসলিম। রসূল আরো বলেন,
اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ، أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ
شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“হে আল্লাহ! হে সাত আসমান ও যমীনের প্রভু! হে আরশে আযীমের রব! হে আমাদের প্রতিপালক এবং সকল বস্তুর প্রতিপালক! হে দানা ও বীচি বিদীর্ণকারী! হে তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণকারী! আমি তোমার নিকট আমার নফসের অনিষ্ট হতে এবং ভূপৃষ্ঠে প্রত্যেক বিচরণকারীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার ললাট তুমি ধারণ করে আছ। হে আল্লাহ! তুমিই الأَوَّل )প্রথম)। তোমার পূর্বে কেউ ছিল না। তুমিই الآخر (সর্বশেষ), তোমার পর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তুমিই الظاهر (সবকিছুর উপরে), তোমার উপরে আর কিছুই নেই। তুমিই الباطن (মাখলুকের অতি নিকটে), তোমার চেয়ে অধিক নিকটে আর কিছু নেই”। তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করো এবং আমাকে দারিদ্রের কবল থেকে মুক্ত করো। ইমাম মুসলিম এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। ৪১
সাহাবীগণ যখন আল্লাহর যিকির করার সময় তাদের আওয়াজ উঁচু করলেন তখন তিনি বললেন,
أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ؛ فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا قَرِيبًا، إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
"হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের জন্য সহজ পন্থা অবলম্বন করো। কেননা তোমরা তো বধির বা দূরে অবস্থানকারী কাউকে আহবান করছো না। যাকে তোমরা আহবান করছো তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং অতি নিকটে। তোমাদের কেউ বাহনে আরোহন করা অবস্থায় তার বাহনের ঘাড়ের যত নিকটবর্তী থাকে, তোমরা যাকে আহবান করছো, তিনি তার চেয়েও আহবানকারীর অধিক নিকটে"। ৪২ মুত্তাফাকুন আলাইহি।
ব্যাখ্যা: أَفْضَلُ الإِيمَانِ সর্বোত্তম ঈমান। অর্থাৎ ঈমানের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তুমি যেখানেই থাক না কেন, এ কথা বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তোমার সাথেই। পূর্বোক্ত কথার মধ্যে দলীল পাওয়া যায় যে, ঈমানের তারতম্য হয়। অর্থাৎ সকল মুমিনের ঈমান এক সমান নয়।
أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ তুমি জানবে যে, আল্লাহ তোমার সাথেই আছেন। অর্থাৎ ইলমের মাধ্যমে এবং তোমার যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার মাধ্যমে তিনি তোমার সাথেই, তুমি যেখানেই থাকো না কেন। যে ব্যক্তি ইহা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে, তার ভিতর ও বাহির একই রকম হবে এবং সকল স্থানেই আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে চলবে। ইমাম তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তাবারানী হচ্ছেন, আবুল কাসেম সুলায়মান আল-লাখমী। হাদীসের যেসব হাফেয বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মু'জামুল কাবীরে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীসে দলীল পাওয়া গেল যে, আল্লাহ তা'আলা ইলমের মাধ্যমে মাখলুকের সাথেই এবং তিনি তাদের আমলসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। সুতরাং বান্দার উপর আবশ্যক হলো সবসময় এই কথা মনে রাখা। এতে তার আমল সুন্দর হবে।
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়: অর্থাৎ সলাত শুরু করে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। হাদীসে উল্লেখিত قِبَل শব্দের 'কাফ' বর্ণে যের দিয়ে এবং 'বা' বর্ণে যবর দিয়ে পড়তে হবে।
فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ কেননা আল্লাহ তা'আলা তার সামনের দিকে রয়েছেন। এটি হচ্ছে সলাত আদায়কারীকে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করতে নিষেধ করার কারণ। কেননা আল্লাহ তা'আলা সলাত আদায়কারীর চেহারার দিকে রয়েছেন। অর্থাৎ সামনের দিকে রয়েছেন। যেভাবে সামনে থাকা আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয়, তিনি সেভাবেই সলাত আদায় কারীর সামনে থাকেন। এতে করে এটি আবশ্যক হয় না যে, তিনি মাখলুকের সাথে একদম মিলিত অবস্থায় রয়েছেন। বরং আসমানসূহের উপর আরশে তিনি সমুন্নত। আরশে সমুন্নত হয়েও তিনি মাখলুকের অতি নিকটে এবং তাদের সকলকে পরিবেষ্টনকারী।
সলাত আদায়কারী যেন তার ডান দিকেও থুথু না ফেলে। কেননা ডান দিকের আলাদা মর্যাদা রয়েছে এবং সলাত আদায়কারীর ডান দিকে রয়েছে দু'জন ফেরেশতা। যেমন বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় এসেছে।
وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ একাত যদি সলাত আদায়কারী ব্যক্তিকে থুথু ফেলতেই হয় তাহলে বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলবে: অর্থাৎ সলাত আদায় কারী ব্যক্তি যদি থুথু ফেলতে বাধ্য হয়, তাহলে সে যেন তাঁর বাম দিকে কিংবা বাম পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করে।
এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো, আসমানসমূহের উপরে আরশে সমুন্নত হয়েও আল্লাহ তা'আলা সলাত আদায়কারী বান্দার নিকটবর্তী হন এবং সলাত আদায়কারীর দিকে বিশেষভাবে অগ্রসর হন (মনোনিবেশ করেন)।
হে আল্লাহ ! اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِ হে সাত আসমান ও যমীনের প্রভু: اللهم এর মূল হচ্ছে ا الله । আল্লাহ শব্দের পূর্ব হতে হরফে নেদা কে ফেলে দিয়ে তার বদলে শেষে میم বাড়ানো হয়েছে। হে সাত আসমানের প্রভু! অর্থাৎ উহার স্রষ্টা ও মালিক।
وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ আরশে আযীমের রব: অর্থাৎ এমন বিশাল আরশের মালিক, যার বিশালতা সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ অবগত নয়। আরশ হচ্ছে আল্লাহর সর্ববৃহৎ সৃষ্টি। আরশের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ হে আমাদের প্রতিপালক এবং সকল বস্তুর প্রতিপালক! অর্থাৎ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিক দাতা, সকল জিনিসের সৃষ্টিকর্তা এবং সবকিছুর মালিক। এতে সাব্যস্ত হলো, সবকিছুর প্রতিপালনকারী একমাত্র আল্লাহ তা'আলা।
فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى দানা ও বীচি বিদীর্ণকারী: খাদ্য দ্রব্যের দানা ও খেজুরের বীচিকে উদ্গত করণের জন্য বিদীর্ণকারী।
মুসা এর উপর তাওরাত ) التوراة(, ঈসা এর উপর ইঞ্জিল ) الإنجيل( অবতীর্ণকারী এবং মুহাম্মাদ এর উপর কুরআন )القرآن( অবতীর্ণকারী। এই হাদীসে তাওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআন, এই তিনটি কিতাবের ফাযীলাত প্রমাণিত হলো। আরো জানা গেল যে, এই কিতাবগুলো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে।
أعوذ بك আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি: অর্থাৎ হে আল্লাহ আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি এবং তোমার পথকেই আকঁড়ে ধরছি।
وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ তোমার নিকট ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রত্যেক প্রাণীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি: ভূপৃষ্ঠে যেসব প্রাণী বিচরণ করে, সেগুলোর প্রত্যেকটিকেই ২২। বলা হয়।
أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهَا যার ললাট তুমি ধারণ করে আছ: মাথার সামনের অংশকে ললাট বা কপাল বলা হয়। অর্থাৎ হে আল্লাহ! ঐসব অনিষ্টকারী প্রাণী যেহেতু তোমার ক্ষমতা ও আয়ত্তাধীন এবং তুমি যেভাবে ইচ্ছা সেগুলোকে সেভাবেই পরিচালনা করো, তাই তুমি আমার উপর থেকে ঐগুলোর অনিষ্ট দূর করে দাও। রসূল তাঁর দু'আয় বলতেন,
أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ؛
“হে আল্লাহ! তুমিই الأول )প্রথম)। তোমার পূর্বে কিছুই ছিল না। তুমিই الآخر )সর্বশেষ), তোমার পর কিছুই থাকবে না। তুমিই الظاهر )সবকিছুর উপরে), তোমার উপরে আর কিছুই নেই। তুমিই الباطن )অতি নিকটে), তোমার চেয়ে অধিক নিকটে আর কিছুই নেই”। ৪৩
আল্লাহ তা'আলার এই চারটি নামের মধ্যে দু'টি নাম তাঁর চিরস্থায়িত্ব ও অবিনশ্বরতার প্রমাণ করে। এই দু'টি নাম হচ্ছে الأول )প্রথম) এবং الآخر )সর্বশেষ)। আর বাকী দু'টি নাম আল্লাহ তা'আলা সকল সৃষ্টির উপরে সমুন্নত হওয়া এবং সৃষ্টির একদম নিকটে হওয়ার প্রমাণ করে। এই নাম দু'টি হচ্ছে الظاهر )প্রকাশ্যমান) এবং الباطن )অতি নিকটে)।
হাদীসের মধ্যে এই শেষ দু'টি নামই হচ্ছে মহল্লে শাহেদ। অর্থাৎ এখান থেকেই শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া রহি. দলীল গ্রহণ করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা সকল মাখলুকের উপরে এবং তিনি নিকটেও। কেননা আল্লাহ তা'আলার এই নাম দু'টিতে আল্লাহর জন্য علو )মাখলুকের উপরে সমুন্নত হওয়া) এবং قرب )সৃষ্টির নিকটে হওয়া) সাব্যস্ত করা হয়েছে। আল্লাহর এ দু'টি সিফাত পরস্পর বিরোধী ও সাংঘর্ষিক নয়। আল্লাহ তা'আলা উপরে সমুন্নত হয়েও মাখলুকের নিকটে এবং মাখলুকের নিকটবর্তী হয়েও সকল মাখলুকের উপরে সমুন্নত।
اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করো: অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার উপর থেকে তোমার হকসমূহ এবং মাখলুকের হকসমূহ আদায়ের ব্যবস্থা করো। বান্দা নিজের শক্তিতে অসৎকাজ করতে অক্ষম এবং নিজের শক্তিতে কোন সৎকাজই করতে পারে না, -এখানে তাই বলা হয়েছে।
وَأَغْتَنِي مِنَ الْفَقْرِ এবং আমাকে দারিদ্রের কবল থেকে মুক্ত করো: الفقر অর্থ হচ্ছে প্রয়োজন, অভাব। ফকীর বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যার কিছুই নেই অথবা যার কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য বস্তু রয়েছে। এই হাদীস থেকে আরো জানা গেল যে, প্রয়োজন পূরণ করার জন্য এবং দু'আ কবুলের জন্য আল্লাহ তা'আলার নাম ও সিফাতের উসীলা দেয়া বৈধ।
সাহাবীগণ যখন আল্লাহর যিকির করার সময় তাদের আওয়াজ উঁচু করলেন: এটি ছিল খায়বারের যুদ্ধের ঘটনা। যেমন এই হাদীসের কোন কোন সনদে সুস্পষ্ট করেই তা বলা হয়েছে। সাহাবীগণ যেই যিকিরের মধ্যে আওয়াজ উঁচু করেছিল, তা ছিল তাকবীর। অর্থাৎ তারা উঁচু আওয়াজে الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله বলছিল। أرفقوا أربعوا অর্থাৎ নিজেদের জন্য সহজ করো।
فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا কেননা তোমরা তো বধির বা দূরে অবস্থানকারী কাউকে আহবান করছো না: এটি হচ্ছে আওয়াজ অতিরিক্ত উঁচ না করার এবং নিজেদের উপর সহজ করার আদেশ দেয়ার কারণ। অর্থাৎ তোমরা তো এমন কাউকে ডাকছো না, যিনি তোমাদের ডাক শুনেন না এবং তোমাদেরকে দেখেন না। সুতরাং এখানে আল্লাহ তা'আলার পবিত্র সত্তা থেকে এমন আপদ ও ত্রুটি নাকোচ করা হয়েছে, যা শ্রবণ করার প্রতিবন্ধক এবং তাঁর পবিত্র সত্তা হতে এমন দোষ-ত্রুটি নাকোচ করা হয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলার জন্য শ্রবণ করার প্রতিবন্ধক। সেই সাথে হাদীসে উক্ত দোষ দু'টির বিপরীত গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। রসূল বললেন: إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا قَرِيبًا :যাকে তোমরা আহবান করছো তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং তোমাদের অতি নিকটে। সুতরাং আওয়াজ উঁচু করার কোন দরকার নেই।
إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ তোমাদের কেউ বাহনে আরোহন করা অবস্থায় তার বাহনের ঘাড়ের যত নিকটবর্তী থাকে, তোমরা যাকে আহবান করছো, তিনি তার চেয়েও আহবানকারীর অধিক নিকটে: সুতরাং যারা আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে এবং যারা তাঁর যিকির করে তিনি তাদের অতি নিকটে। তাই আওয়াজ উঁচু করে দু'আ করার প্রয়োজন নেই। তিনি এত নিকটে যে, আওয়াজ নীচু করে দু'আ করলে যেভাবে শুনেন, উঁচু আওয়াজে দু'আ করলেও ঠিক সেভাবেই শুনেন।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, যারা আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকটবর্তী হন। হাদীসে ইহা সাব্যস্ত করা হয়েছে। তিনি উঁচু আওয়াজগুলো যেমন শুনেন, নীচু ও অস্পষ্ট আওয়াজগুলো সেভাবেই শুনেন।
উপরের সবগুলো হাদীস প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ মাখলুকের সাথে, তাদের নিকটে, তিনি মাখলুকের সব আওয়াজ শুনেন এবং তিনি তাদের সমস্ত নড়াচড়া (আমলসমূহ) দেখেন। আর তিনি যে সৃষ্টির উপরে এবং আরশের উপর সমুন্নত এটি তার বিরোধী নয়। আল্লাহর মাঈয়াত তথা সৃষ্টির সাথে থাকার ব্যাখ্যা এবং উহার প্রকারভেদ কুরআনুল কারীমের দলীল-প্রমাণসহ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে。
টিকাঃ
৪০. সহীহ বুখারী ৪১৬, সহীহ মুসলিম ৫৪৮, আবু দাউদ ৪৮৫, নাসাঈ ৭২৪, দারিমী ১৩৯৮, ইবনে মাজাহ ৮৬১।
৪১. সহীহ মুসলিম ২৭১৩, তিরমিযী ৩৪৮১, ইবনে মাজাহ ৩৮৩১, আবু দাউদ ৫০৫১।
৪২. সহীহ বুখারী ৬৩৮৪, সহীহ মুসলিম ২৭০৪, আবু দাউদ ১৫২৬, বাইহাকী ৩০১২।
৪৩. সহীহ: সহীহ মুসলিম ২৭১৩, ইবনে মাজাহ ৩৮৩১, আবু দাউদ ৫০৫১, তিরমিযী ৩৪৮১।
রাসূল বলেন:
أَفْضَلُ الإِيمَانِ أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ حَيْثُمَا كُنْتَ حَدِيثٌ حَسَنٌ. أخرجه الطبراني من حديث عبادة بن الصامت
"সর্বোত্তম ঈমান হলো তুমি জানবে যে, যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তোমার সাথেই"। হাদীসটি হাসান। ইমাম তাবারানী উবাদাহ বিন সামেত থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। রসূল আরো বলেন,
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَلَا يَبْصُقَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ، وَلَا عَنْ يَمِينِهِ؛ فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ،
"তোমাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়াবে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। এমনকি ডান দিকেও না। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁর সামনে রয়েছেন। একান্ত যদি থুথু ফেলতেই হয় তাহলে বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলবে। ৪০ বুখারী ও মুসলিম। রসূল আরো বলেন,
اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ، أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ
شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“হে আল্লাহ! হে সাত আসমান ও যমীনের প্রভু! হে আরশে আযীমের রব! হে আমাদের প্রতিপালক এবং সকল বস্তুর প্রতিপালক! হে দানা ও বীচি বিদীর্ণকারী! হে তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণকারী! আমি তোমার নিকট আমার নফসের অনিষ্ট হতে এবং ভূপৃষ্ঠে প্রত্যেক বিচরণকারীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার ললাট তুমি ধারণ করে আছ। হে আল্লাহ! তুমিই الأَوَّل )প্রথম)। তোমার পূর্বে কেউ ছিল না। তুমিই الآخر (সর্বশেষ), তোমার পর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তুমিই الظاهر (সবকিছুর উপরে), তোমার উপরে আর কিছুই নেই। তুমিই الباطن (মাখলুকের অতি নিকটে), তোমার চেয়ে অধিক নিকটে আর কিছু নেই”। তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করো এবং আমাকে দারিদ্রের কবল থেকে মুক্ত করো। ইমাম মুসলিম এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। ৪১
সাহাবীগণ যখন আল্লাহর যিকির করার সময় তাদের আওয়াজ উঁচু করলেন তখন তিনি বললেন,
أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ؛ فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا قَرِيبًا، إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
"হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের জন্য সহজ পন্থা অবলম্বন করো। কেননা তোমরা তো বধির বা দূরে অবস্থানকারী কাউকে আহবান করছো না। যাকে তোমরা আহবান করছো তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং অতি নিকটে। তোমাদের কেউ বাহনে আরোহন করা অবস্থায় তার বাহনের ঘাড়ের যত নিকটবর্তী থাকে, তোমরা যাকে আহবান করছো, তিনি তার চেয়েও আহবানকারীর অধিক নিকটে"। ৪২ মুত্তাফাকুন আলাইহি।
ব্যাখ্যা: أَفْضَلُ الإِيمَانِ সর্বোত্তম ঈমান। অর্থাৎ ঈমানের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তুমি যেখানেই থাক না কেন, এ কথা বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তোমার সাথেই। পূর্বোক্ত কথার মধ্যে দলীল পাওয়া যায় যে, ঈমানের তারতম্য হয়। অর্থাৎ সকল মুমিনের ঈমান এক সমান নয়।
أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ তুমি জানবে যে, আল্লাহ তোমার সাথেই আছেন। অর্থাৎ ইলমের মাধ্যমে এবং তোমার যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার মাধ্যমে তিনি তোমার সাথেই, তুমি যেখানেই থাকো না কেন। যে ব্যক্তি ইহা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে, তার ভিতর ও বাহির একই রকম হবে এবং সকল স্থানেই আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে চলবে। ইমাম তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তাবারানী হচ্ছেন, আবুল কাসেম সুলায়মান আল-লাখমী। হাদীসের যেসব হাফেয বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মু'জামুল কাবীরে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীসে দলীল পাওয়া গেল যে, আল্লাহ তা'আলা ইলমের মাধ্যমে মাখলুকের সাথেই এবং তিনি তাদের আমলসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। সুতরাং বান্দার উপর আবশ্যক হলো সবসময় এই কথা মনে রাখা। এতে তার আমল সুন্দর হবে।
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়: অর্থাৎ সলাত শুরু করে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। হাদীসে উল্লেখিত قِبَل শব্দের 'কাফ' বর্ণে যের দিয়ে এবং 'বা' বর্ণে যবর দিয়ে পড়তে হবে।
فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ কেননা আল্লাহ তা'আলা তার সামনের দিকে রয়েছেন। এটি হচ্ছে সলাত আদায়কারীকে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করতে নিষেধ করার কারণ। কেননা আল্লাহ তা'আলা সলাত আদায়কারীর চেহারার দিকে রয়েছেন। অর্থাৎ সামনের দিকে রয়েছেন। যেভাবে সামনে থাকা আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয়, তিনি সেভাবেই সলাত আদায় কারীর সামনে থাকেন। এতে করে এটি আবশ্যক হয় না যে, তিনি মাখলুকের সাথে একদম মিলিত অবস্থায় রয়েছেন। বরং আসমানসূহের উপর আরশে তিনি সমুন্নত। আরশে সমুন্নত হয়েও তিনি মাখলুকের অতি নিকটে এবং তাদের সকলকে পরিবেষ্টনকারী।
সলাত আদায়কারী যেন তার ডান দিকেও থুথু না ফেলে। কেননা ডান দিকের আলাদা মর্যাদা রয়েছে এবং সলাত আদায়কারীর ডান দিকে রয়েছে দু'জন ফেরেশতা। যেমন বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় এসেছে।
وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ একাত যদি সলাত আদায়কারী ব্যক্তিকে থুথু ফেলতেই হয় তাহলে বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলবে: অর্থাৎ সলাত আদায় কারী ব্যক্তি যদি থুথু ফেলতে বাধ্য হয়, তাহলে সে যেন তাঁর বাম দিকে কিংবা বাম পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করে।
এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো, আসমানসমূহের উপরে আরশে সমুন্নত হয়েও আল্লাহ তা'আলা সলাত আদায়কারী বান্দার নিকটবর্তী হন এবং সলাত আদায়কারীর দিকে বিশেষভাবে অগ্রসর হন (মনোনিবেশ করেন)।
হে আল্লাহ ! اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِ হে সাত আসমান ও যমীনের প্রভু: اللهم এর মূল হচ্ছে ا الله । আল্লাহ শব্দের পূর্ব হতে হরফে নেদা কে ফেলে দিয়ে তার বদলে শেষে میم বাড়ানো হয়েছে। হে সাত আসমানের প্রভু! অর্থাৎ উহার স্রষ্টা ও মালিক।
وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ আরশে আযীমের রব: অর্থাৎ এমন বিশাল আরশের মালিক, যার বিশালতা সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ অবগত নয়। আরশ হচ্ছে আল্লাহর সর্ববৃহৎ সৃষ্টি। আরশের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ হে আমাদের প্রতিপালক এবং সকল বস্তুর প্রতিপালক! অর্থাৎ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিক দাতা, সকল জিনিসের সৃষ্টিকর্তা এবং সবকিছুর মালিক। এতে সাব্যস্ত হলো, সবকিছুর প্রতিপালনকারী একমাত্র আল্লাহ তা'আলা।
فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى দানা ও বীচি বিদীর্ণকারী: খাদ্য দ্রব্যের দানা ও খেজুরের বীচিকে উদ্গত করণের জন্য বিদীর্ণকারী।
মুসা এর উপর তাওরাত ) التوراة(, ঈসা এর উপর ইঞ্জিল ) الإنجيل( অবতীর্ণকারী এবং মুহাম্মাদ এর উপর কুরআন )القرآن( অবতীর্ণকারী। এই হাদীসে তাওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআন, এই তিনটি কিতাবের ফাযীলাত প্রমাণিত হলো। আরো জানা গেল যে, এই কিতাবগুলো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে।
أعوذ بك আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি: অর্থাৎ হে আল্লাহ আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি এবং তোমার পথকেই আকঁড়ে ধরছি।
وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ তোমার নিকট ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রত্যেক প্রাণীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি: ভূপৃষ্ঠে যেসব প্রাণী বিচরণ করে, সেগুলোর প্রত্যেকটিকেই ২২। বলা হয়।
أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهَا যার ললাট তুমি ধারণ করে আছ: মাথার সামনের অংশকে ললাট বা কপাল বলা হয়। অর্থাৎ হে আল্লাহ! ঐসব অনিষ্টকারী প্রাণী যেহেতু তোমার ক্ষমতা ও আয়ত্তাধীন এবং তুমি যেভাবে ইচ্ছা সেগুলোকে সেভাবেই পরিচালনা করো, তাই তুমি আমার উপর থেকে ঐগুলোর অনিষ্ট দূর করে দাও। রসূল তাঁর দু'আয় বলতেন,
أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ؛
“হে আল্লাহ! তুমিই الأول )প্রথম)। তোমার পূর্বে কিছুই ছিল না। তুমিই الآخر )সর্বশেষ), তোমার পর কিছুই থাকবে না। তুমিই الظاهر )সবকিছুর উপরে), তোমার উপরে আর কিছুই নেই। তুমিই الباطن )অতি নিকটে), তোমার চেয়ে অধিক নিকটে আর কিছুই নেই”। ৪৩
আল্লাহ তা'আলার এই চারটি নামের মধ্যে দু'টি নাম তাঁর চিরস্থায়িত্ব ও অবিনশ্বরতার প্রমাণ করে। এই দু'টি নাম হচ্ছে الأول )প্রথম) এবং الآخر )সর্বশেষ)। আর বাকী দু'টি নাম আল্লাহ তা'আলা সকল সৃষ্টির উপরে সমুন্নত হওয়া এবং সৃষ্টির একদম নিকটে হওয়ার প্রমাণ করে। এই নাম দু'টি হচ্ছে الظاهر )প্রকাশ্যমান) এবং الباطن )অতি নিকটে)।
হাদীসের মধ্যে এই শেষ দু'টি নামই হচ্ছে মহল্লে শাহেদ। অর্থাৎ এখান থেকেই শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া রহি. দলীল গ্রহণ করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা সকল মাখলুকের উপরে এবং তিনি নিকটেও। কেননা আল্লাহ তা'আলার এই নাম দু'টিতে আল্লাহর জন্য علو )মাখলুকের উপরে সমুন্নত হওয়া) এবং قرب )সৃষ্টির নিকটে হওয়া) সাব্যস্ত করা হয়েছে। আল্লাহর এ দু'টি সিফাত পরস্পর বিরোধী ও সাংঘর্ষিক নয়। আল্লাহ তা'আলা উপরে সমুন্নত হয়েও মাখলুকের নিকটে এবং মাখলুকের নিকটবর্তী হয়েও সকল মাখলুকের উপরে সমুন্নত।
اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করো: অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার উপর থেকে তোমার হকসমূহ এবং মাখলুকের হকসমূহ আদায়ের ব্যবস্থা করো। বান্দা নিজের শক্তিতে অসৎকাজ করতে অক্ষম এবং নিজের শক্তিতে কোন সৎকাজই করতে পারে না, -এখানে তাই বলা হয়েছে।
وَأَغْتَنِي مِنَ الْفَقْرِ এবং আমাকে দারিদ্রের কবল থেকে মুক্ত করো: الفقر অর্থ হচ্ছে প্রয়োজন, অভাব। ফকীর বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যার কিছুই নেই অথবা যার কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য বস্তু রয়েছে। এই হাদীস থেকে আরো জানা গেল যে, প্রয়োজন পূরণ করার জন্য এবং দু'আ কবুলের জন্য আল্লাহ তা'আলার নাম ও সিফাতের উসীলা দেয়া বৈধ।
সাহাবীগণ যখন আল্লাহর যিকির করার সময় তাদের আওয়াজ উঁচু করলেন: এটি ছিল খায়বারের যুদ্ধের ঘটনা। যেমন এই হাদীসের কোন কোন সনদে সুস্পষ্ট করেই তা বলা হয়েছে। সাহাবীগণ যেই যিকিরের মধ্যে আওয়াজ উঁচু করেছিল, তা ছিল তাকবীর। অর্থাৎ তারা উঁচু আওয়াজে الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله বলছিল। أرفقوا أربعوا অর্থাৎ নিজেদের জন্য সহজ করো।
فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا কেননা তোমরা তো বধির বা দূরে অবস্থানকারী কাউকে আহবান করছো না: এটি হচ্ছে আওয়াজ অতিরিক্ত উঁচ না করার এবং নিজেদের উপর সহজ করার আদেশ দেয়ার কারণ। অর্থাৎ তোমরা তো এমন কাউকে ডাকছো না, যিনি তোমাদের ডাক শুনেন না এবং তোমাদেরকে দেখেন না। সুতরাং এখানে আল্লাহ তা'আলার পবিত্র সত্তা থেকে এমন আপদ ও ত্রুটি নাকোচ করা হয়েছে, যা শ্রবণ করার প্রতিবন্ধক এবং তাঁর পবিত্র সত্তা হতে এমন দোষ-ত্রুটি নাকোচ করা হয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলার জন্য শ্রবণ করার প্রতিবন্ধক। সেই সাথে হাদীসে উক্ত দোষ দু'টির বিপরীত গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। রসূল বললেন: إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا قَرِيبًا :যাকে তোমরা আহবান করছো তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং তোমাদের অতি নিকটে। সুতরাং আওয়াজ উঁচু করার কোন দরকার নেই।
إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ তোমাদের কেউ বাহনে আরোহন করা অবস্থায় তার বাহনের ঘাড়ের যত নিকটবর্তী থাকে, তোমরা যাকে আহবান করছো, তিনি তার চেয়েও আহবানকারীর অধিক নিকটে: সুতরাং যারা আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে এবং যারা তাঁর যিকির করে তিনি তাদের অতি নিকটে। তাই আওয়াজ উঁচু করে দু'আ করার প্রয়োজন নেই। তিনি এত নিকটে যে, আওয়াজ নীচু করে দু'আ করলে যেভাবে শুনেন, উঁচু আওয়াজে দু'আ করলেও ঠিক সেভাবেই শুনেন।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, যারা আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকটবর্তী হন। হাদীসে ইহা সাব্যস্ত করা হয়েছে। তিনি উঁচু আওয়াজগুলো যেমন শুনেন, নীচু ও অস্পষ্ট আওয়াজগুলো সেভাবেই শুনেন।
উপরের সবগুলো হাদীস প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ মাখলুকের সাথে, তাদের নিকটে, তিনি মাখলুকের সব আওয়াজ শুনেন এবং তিনি তাদের সমস্ত নড়াচড়া (আমলসমূহ) দেখেন। আর তিনি যে সৃষ্টির উপরে এবং আরশের উপর সমুন্নত এটি তার বিরোধী নয়। আল্লাহর মাঈয়াত তথা সৃষ্টির সাথে থাকার ব্যাখ্যা এবং উহার প্রকারভেদ কুরআনুল কারীমের দলীল-প্রমাণসহ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে。
টিকাঃ
৪০. সহীহ বুখারী ৪১৬, সহীহ মুসলিম ৫৪৮, আবু দাউদ ৪৮৫, নাসাঈ ৭২৪, দারিমী ১৩৯৮, ইবনে মাজাহ ৮৬১।
৪১. সহীহ মুসলিম ২৭১৩, তিরমিযী ৩৪৮১, ইবনে মাজাহ ৩৮৩১, আবু দাউদ ৫০৫১।
৪২. সহীহ বুখারী ৬৩৮৪, সহীহ মুসলিম ২৭০৪, আবু দাউদ ১৫২৬, বাইহাকী ৩০১২।
৪৩. সহীহ: সহীহ মুসলিম ২৭১৩, ইবনে মাজাহ ৩৮৩১, আবু দাউদ ৫০৫১, তিরমিযী ৩৪৮১।
📄 মু‘মিনগণ ক্বিয়ামতের দিন তাদের রবকে দেখতে পাবে।
রাসূল বলেন: إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ ليلة البدر لا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا « (বুখারী: ৫৫৪)
“কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রকে দেখতে পাও, সেভাবেই তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের যদি এই পরিমাণ সামর্থ থাকে, সূর্য উদয় এবং অন্তের পূর্বের সালাত হতে কোন বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না, তাহলে উক্ত সালাতদ্বয়কে তোমরা যথাসময়ে আদায় করো। "
ব্যাখ্যা: এখানে إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা দেখতে পাও: দ্বারা মুমিনদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। سترون এর মধ্যে যে অক্ষরিট প্রবেশ করেছে, তা ভবিষ্যৎকালের জন্য হলেও এখানে তা দ্বারা তাগিদ তথা বাক্যের বিষয়কে শক্তিশালী করা উদ্দেশ্য।
ترون ربكم অর্থাৎ তোমরা তোমাদের চোখ দ্বারা আল্লাহ তা'আলাকে দেখবে। মুমিনগণ তাদের রবকে দেখার বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো রসূল হতে মুতাওয়াতির তথা ব্যাপক সংখ্যক বর্ণনাকারীর সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।৪৪
كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لِيلة البدر তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে এই চন্দ্রকে দেখতে পাও: অর্থাৎ চন্দ্র তার পরিপূর্ণ রূপ গ্রহণ করার রাতে। এটি হচ্ছে মাসের ১৪তম রাত। ঐ রাতে চন্দ্র আলোতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এখানে এই তাশবীহ তথা আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জোর দিয়ে আল্লাহর দিদারকে সত্য হিসাবে সাব্যস্ত করা এবং তার দ্বারা রূপকার্থ উদ্দেশ্য হওয়ার সন্দেহকে দূর করা। বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, এখানে আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতের মেঘহীন আকাশে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলাকে চাঁদের সাথে তুলনা করা হয়নি। কেননা আল্লাহ তা'আলার لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ সদৃশ আর কিছুই নেই।
لَا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ উহাকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হয় না। ৮ বর্ণে পেশ দিয়ে এবং میم বর্ণে যবর দিয়ে পড়া হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের উপর এমন কোনো যুলুম হয় না যে, ভীড়ের কারণে কেউ দেখতে পাবে আবার কেউ দেখতে পাবে না।
لا تضامون এর তা تا বর্ণে যবর দিয়ে এবং میم বর্ণে তাশদীদ দিয়ে পড়া হয়েছে। এভাবে পড়া হলে এর মাসদার হবে التضام। অর্থাৎ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের একজনকে অন্যজনের কাছে গিয়ে মিশতে হয় না। এই বর্ণনা অনুসারে অর্থ হবে, চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের সবাইকে এক স্থানে জড়ো হওয়ার প্রয়োজন হয় না। যাতে খুব ভীড় হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
উভয় বর্ণনার অর্থ একসাথে এই হবে যে, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে। এই দেখা সত্য। তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকেই দেখতে পাবে।
فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا সুতরাং তোমাদের যদি সামর্থ থাকে যে, কোনো বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না: অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বের সলাতটি পড়া হতে তোমরা পরাজিত হয়ে যাবে না। এটি হচ্ছে ফজরের সলাত। আর সূর্য ডুবার পূর্বেও একটি সলাত থেকে পরাভূত হবেনা। তা হচ্ছে আসরের সলাত। তোমরা যদি উক্ত সলাত দু'টি যথা সময়ে আদায়ের সামর্থ রাখো, তাহলে সলাতদ্বয় আদায় করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি ও গাফেলতী করো না। বরং জামা'আতের সাথে এবং সঠিক সময়ে এই সলাত দু'টি আদায়ে যত্নবান হও। এই দু'টি সলাতকে খাস করে উল্লেখ করার কারণ হলো, এতে ফেরেশতাগণ একসাথে মিলিত হয়। সুতরাং আসর ও ফজরের সলাত পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের মধ্যে সর্বোত্তম। তাই যে ব্যক্তি এই সলাত দু'টি যত্নসহকারে আদায় করবে, সে সর্বোত্তম পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত হবে। আর সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকা।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, কিয়ামাতের দিন খোলাখুলিভাবে এবং কপালের চোখ দিয়ে প্রকাশ্যভাবেই মুমিনগণ তাদের রবকে দেখতে পাবে। যে আয়াতগুলোতে আল্লাহর দিদার সাব্যস্ত হয়েছে সেগুলোর ব্যাখ্যা করার সময় ঐসব লোকের আলোচনা ও প্রতিবাদ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যারা এই মাসআলায় বিরোধীতা করেছে। অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন আল্লাহর দিদারকে অস্বীকার করেছে。
টিকাঃ
৪৪. সহীহ বুখারী ৫৫৪, সহীহ মুসলিম ৬৩৩, তিরমিযী ২৫৫১, আবু দাউদ ৪৭২৯, ইবনে মাজাহ ১৭৭।
রাসূল বলেন: إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ ليلة البدر لا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا « (বুখারী: ৫৫৪)
“কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রকে দেখতে পাও, সেভাবেই তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের যদি এই পরিমাণ সামর্থ থাকে, সূর্য উদয় এবং অন্তের পূর্বের সালাত হতে কোন বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না, তাহলে উক্ত সালাতদ্বয়কে তোমরা যথাসময়ে আদায় করো। "
ব্যাখ্যা: এখানে إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা দেখতে পাও: দ্বারা মুমিনদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। سترون এর মধ্যে যে অক্ষরিট প্রবেশ করেছে, তা ভবিষ্যৎকালের জন্য হলেও এখানে তা দ্বারা তাগিদ তথা বাক্যের বিষয়কে শক্তিশালী করা উদ্দেশ্য।
ترون ربكم অর্থাৎ তোমরা তোমাদের চোখ দ্বারা আল্লাহ তা'আলাকে দেখবে। মুমিনগণ তাদের রবকে দেখার বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো রসূল হতে মুতাওয়াতির তথা ব্যাপক সংখ্যক বর্ণনাকারীর সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।৪৪
كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لِيلة البدر তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে এই চন্দ্রকে দেখতে পাও: অর্থাৎ চন্দ্র তার পরিপূর্ণ রূপ গ্রহণ করার রাতে। এটি হচ্ছে মাসের ১৪তম রাত। ঐ রাতে চন্দ্র আলোতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এখানে এই তাশবীহ তথা আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জোর দিয়ে আল্লাহর দিদারকে সত্য হিসাবে সাব্যস্ত করা এবং তার দ্বারা রূপকার্থ উদ্দেশ্য হওয়ার সন্দেহকে দূর করা। বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, এখানে আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতের মেঘহীন আকাশে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলাকে চাঁদের সাথে তুলনা করা হয়নি। কেননা আল্লাহ তা'আলার لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ সদৃশ আর কিছুই নেই।
لَا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ উহাকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হয় না। ৮ বর্ণে পেশ দিয়ে এবং میم বর্ণে যবর দিয়ে পড়া হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের উপর এমন কোনো যুলুম হয় না যে, ভীড়ের কারণে কেউ দেখতে পাবে আবার কেউ দেখতে পাবে না।
لا تضامون এর তা تا বর্ণে যবর দিয়ে এবং میم বর্ণে তাশদীদ দিয়ে পড়া হয়েছে। এভাবে পড়া হলে এর মাসদার হবে التضام। অর্থাৎ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের একজনকে অন্যজনের কাছে গিয়ে মিশতে হয় না। এই বর্ণনা অনুসারে অর্থ হবে, চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের সবাইকে এক স্থানে জড়ো হওয়ার প্রয়োজন হয় না। যাতে খুব ভীড় হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
উভয় বর্ণনার অর্থ একসাথে এই হবে যে, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে। এই দেখা সত্য। তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকেই দেখতে পাবে।
فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا সুতরাং তোমাদের যদি সামর্থ থাকে যে, কোনো বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না: অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বের সলাতটি পড়া হতে তোমরা পরাজিত হয়ে যাবে না। এটি হচ্ছে ফজরের সলাত। আর সূর্য ডুবার পূর্বেও একটি সলাত থেকে পরাভূত হবেনা। তা হচ্ছে আসরের সলাত। তোমরা যদি উক্ত সলাত দু'টি যথা সময়ে আদায়ের সামর্থ রাখো, তাহলে সলাতদ্বয় আদায় করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি ও গাফেলতী করো না। বরং জামা'আতের সাথে এবং সঠিক সময়ে এই সলাত দু'টি আদায়ে যত্নবান হও। এই দু'টি সলাতকে খাস করে উল্লেখ করার কারণ হলো, এতে ফেরেশতাগণ একসাথে মিলিত হয়। সুতরাং আসর ও ফজরের সলাত পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের মধ্যে সর্বোত্তম। তাই যে ব্যক্তি এই সলাত দু'টি যত্নসহকারে আদায় করবে, সে সর্বোত্তম পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত হবে। আর সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকা।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, কিয়ামাতের দিন খোলাখুলিভাবে এবং কপালের চোখ দিয়ে প্রকাশ্যভাবেই মুমিনগণ তাদের রবকে দেখতে পাবে। যে আয়াতগুলোতে আল্লাহর দিদার সাব্যস্ত হয়েছে সেগুলোর ব্যাখ্যা করার সময় ঐসব লোকের আলোচনা ও প্রতিবাদ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যারা এই মাসআলায় বিরোধীতা করেছে। অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন আল্লাহর দিদারকে অস্বীকার করেছে。
টিকাঃ
৪৪. সহীহ বুখারী ৫৫৪, সহীহ মুসলিম ৬৩৩, তিরমিযী ২৫৫১, আবু দাউদ ৪৭২৯, ইবনে মাজাহ ১৭৭।