📄 আল্লাহ তা‘আলা আশ্চর্য হন এবং হাসেন।
وقوله: «عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ قُنُوطِ عِبَادِهِ وَقُرْبٍ غِيَرِهِ يَنْظُرُ إِلَيْكُمْ آزِلِينَ قَنطِينَ فَيَظَلُّ يَضْحَكُ يَعْلَمُ أَنَّ فَرَجَكُمْ قَرِيبٌ» حديث حسن
রসূল বলেন: "আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশ হওয়াতে এবং তিনি যে তাদের অবস্থা অচিরেই পরিবর্তন করে দিবেন তাতে আশ্চর্যবোধ করেন। তোমরা অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে দেখেন। এ অবস্থায় তিনি হাসতে থাকেন। তিনি জানেন যে, তোমাদের বিপদ মুক্তি, আরাম- আয়েশ ও সুখ-শান্তির সময় অতি নিকটে। এই হাদীসটি হাসান।৩০
ব্যাখ্যা: عَجِبَ رَبُّنَا আমাদের রব আশ্চর্যবোধ করেন: অভিধানগ্রন্থ 'আলমিসবাহ' নামক কিতাবে রয়েছে, তাজ্জব দুই প্রকার বিষয় ও বস্তু থেকে হতে পারে।
(১) এমন বিষয় ও বস্তু থেকে আশ্চর্যবোধ হয়, যাতে আশ্চর্যবোধকারী ঐ বস্তু বা বিষয়ের প্রশংসা করে। এই প্রকার আশ্চর্যবোধের মধ্যে আশ্চর্যবোধকারী বিষয়টিকে সুন্দর ও ভাল মনে করে এবং তার প্রতি নিজের সন্তুষ্টির কথা জানায়।
(২) এমন বিষয় হতে আশ্চর্যবোধ করা হয়, যাকে আশ্চর্যবোধকারী অপছন্দ করে। এই প্রকার আশ্চর্যবোধের মধ্যে আশ্চর্যবোধকারী কোন বিষয়ের প্রতিবাদ করে এবং উহার নিন্দা করে।
مِنْ قُنُوطِ عِبَادِهِ তাঁর বান্দাদের নিরাশ হওয়া থেকে: কোন জিনিস হতে একেবারে নিরাশ হয়ে যাওয়াকে قنوط বলা হয়। তবে এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃষ্টি বর্ষণ হওয়া এবং অনাবৃষ্টির অপকারিতা বিদূরিত হওয়া থেকে নিরাশ হওয়া।
وَقُرْب غيره অচিরেই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া: غيره শব্দের গাইন বর্ণে যের দিয়ে এবং ইয়া বর্ণে যবর দিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ কঠিন অবস্থাকে ভাল অবস্থার মাধ্যমে পরিবর্তন করা।
يَنْظُرُ إِلَيْكُمْ آزِلِينَ তোমরা অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে দেখেন। الأزل থেকে آزلین শব্দটি গঠন করা হয়েছে। لأزل। এর যা বর্ণে সাকীন দিয়ে পড়তে হবে। এর অর্থ হচ্ছে সংকীর্ণতা ও নিরাশায় নিপতিত হওয়া। বলা হয়ে থাকে أزل يأزل أزلا অর্থাৎ অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ এবং অভাব-অনটনে নিপতিত হয়েছে।
فَيَظَلُّ يَضْحَكُ তিনি হাসতে থাকেন: এটি আল্লাহ তা'আলার ঐ সমস্ত সিফাতে ফেলিয়াসমূহের (কর্মগত বিশেষণসমূহের) মধ্যে গণ্য, যা মাখলুকের কোন সিফাতের মত নয়। সুতরাং এই হাদীসে আল্লাহ তা'আলার কর্ম সম্পর্কিত সিফাতসমূহ থেকে দু'টি সিফাত সাব্যস্ত করা হয়েছে। সিফাত দু'টি হচ্ছে আশ্চর্যান্বিত হওয়া এবং হাসা। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয় পদ্ধতিতেই এই দু'টি সিফাত তাঁর জন্য সাব্যস্ত করতে হবে। আল্লাহর আশ্চর্যান্বিত হওয়া এবং হাসা মাখলুকের আশ্চর্যবোধ করা ও হাসার মত নয়। হাদীসে আল্লাহ তা'আলার জন্য নযর তথা দৃষ্টিও সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটিও আল্লাহর কর্মগত সিফাতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি দেন। আসমান ও যমীনের কোন কিছুই আল্লাহ তা'আলার নিকট গোপন নয়。
টিকাঃ
৩০. الإمام احمد في مسنده (11/4)، (12) وابن ماجه (المقدمة ، 64/1) ، وابن عاصم في (السنة) (544) 00 والآجري في (الشريعة) . قال شيخ الإسلام ابن تميمة: حديث حسن) (الواسطية، ص (13)
وقوله: «عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ قُنُوطِ عِبَادِهِ وَقُرْبٍ غِيَرِهِ يَنْظُرُ إِلَيْكُمْ آزِلِينَ قَنطِينَ فَيَظَلُّ يَضْحَكُ يَعْلَمُ أَنَّ فَرَجَكُمْ قَرِيبٌ» حديث حسن
রসূল বলেন: "আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশ হওয়াতে এবং তিনি যে তাদের অবস্থা অচিরেই পরিবর্তন করে দিবেন তাতে আশ্চর্যবোধ করেন। তোমরা অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে দেখেন। এ অবস্থায় তিনি হাসতে থাকেন। তিনি জানেন যে, তোমাদের বিপদ মুক্তি, আরাম- আয়েশ ও সুখ-শান্তির সময় অতি নিকটে। এই হাদীসটি হাসান।৩০
ব্যাখ্যা: عَجِبَ رَبُّنَا আমাদের রব আশ্চর্যবোধ করেন: অভিধানগ্রন্থ 'আলমিসবাহ' নামক কিতাবে রয়েছে, তাজ্জব দুই প্রকার বিষয় ও বস্তু থেকে হতে পারে।
(১) এমন বিষয় ও বস্তু থেকে আশ্চর্যবোধ হয়, যাতে আশ্চর্যবোধকারী ঐ বস্তু বা বিষয়ের প্রশংসা করে। এই প্রকার আশ্চর্যবোধের মধ্যে আশ্চর্যবোধকারী বিষয়টিকে সুন্দর ও ভাল মনে করে এবং তার প্রতি নিজের সন্তুষ্টির কথা জানায়।
(২) এমন বিষয় হতে আশ্চর্যবোধ করা হয়, যাকে আশ্চর্যবোধকারী অপছন্দ করে। এই প্রকার আশ্চর্যবোধের মধ্যে আশ্চর্যবোধকারী কোন বিষয়ের প্রতিবাদ করে এবং উহার নিন্দা করে।
مِنْ قُنُوطِ عِبَادِهِ তাঁর বান্দাদের নিরাশ হওয়া থেকে: কোন জিনিস হতে একেবারে নিরাশ হয়ে যাওয়াকে قنوط বলা হয়। তবে এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃষ্টি বর্ষণ হওয়া এবং অনাবৃষ্টির অপকারিতা বিদূরিত হওয়া থেকে নিরাশ হওয়া।
وَقُرْب غيره অচিরেই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া: غيره শব্দের গাইন বর্ণে যের দিয়ে এবং ইয়া বর্ণে যবর দিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ কঠিন অবস্থাকে ভাল অবস্থার মাধ্যমে পরিবর্তন করা।
يَنْظُرُ إِلَيْكُمْ آزِلِينَ তোমরা অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে দেখেন। الأزل থেকে آزلین শব্দটি গঠন করা হয়েছে। لأزل। এর যা বর্ণে সাকীন দিয়ে পড়তে হবে। এর অর্থ হচ্ছে সংকীর্ণতা ও নিরাশায় নিপতিত হওয়া। বলা হয়ে থাকে أزل يأزل أزلا অর্থাৎ অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ এবং অভাব-অনটনে নিপতিত হয়েছে।
فَيَظَلُّ يَضْحَكُ তিনি হাসতে থাকেন: এটি আল্লাহ তা'আলার ঐ সমস্ত সিফাতে ফেলিয়াসমূহের (কর্মগত বিশেষণসমূহের) মধ্যে গণ্য, যা মাখলুকের কোন সিফাতের মত নয়। সুতরাং এই হাদীসে আল্লাহ তা'আলার কর্ম সম্পর্কিত সিফাতসমূহ থেকে দু'টি সিফাত সাব্যস্ত করা হয়েছে। সিফাত দু'টি হচ্ছে আশ্চর্যান্বিত হওয়া এবং হাসা। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয় পদ্ধতিতেই এই দু'টি সিফাত তাঁর জন্য সাব্যস্ত করতে হবে। আল্লাহর আশ্চর্যান্বিত হওয়া এবং হাসা মাখলুকের আশ্চর্যবোধ করা ও হাসার মত নয়। হাদীসে আল্লাহ তা'আলার জন্য নযর তথা দৃষ্টিও সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটিও আল্লাহর কর্মগত সিফাতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি দেন। আসমান ও যমীনের কোন কিছুই আল্লাহ তা'আলার নিকট গোপন নয়。
টিকাঃ
৩০. الإمام احمد في مسنده (11/4)، (12) وابن ماجه (المقدمة ، 64/1) ، وابن عاصم في (السنة) (544) 00 والآجري في (الشريعة) . قال شيخ الإسلام ابن تميمة: حديث حسن) (الواسطية، ص (13)
📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য ‘পা’ সাব্যস্ত করা।
وقوله ـ صلى الله عليه وسلم : لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ يلقى فيها وهي تَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ، حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا رجله - وفي رواية : عليها قَدَمَه - فيتروي بعضها إلى بعض فَتَقُولُ : قَدْ قَط) متفق عليه
নাবী বলেন: “জাহান্নামে অপরাধীদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে। জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? তখন মহান রাব্বুল আলামীন জাহান্নামে নিজের 'পা' রাখবেন।" অন্য বর্ণনায় رجله -এর স্থলে قدمه এসেছে। এতে জাহান্নাম সংকোচিত হয়ে যাবে এবং বলবে, 'যথেষ্ট হয়েছে' 'যথেষ্ট হয়েছে'। ৩২
ব্যাখ্যা: পরকালে আল্লাহ তা'আলা কাফের ও গুনাহগারদেরকে যেই আগুনের শাস্তি দিবেন, সেই শাস্তির অন্যতম নাম হচ্ছে জাহান্নাম। কেউ কেউ বলেছেন জাহান্নামের গভীরতার কারণেই এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন জাহান্নাম যেহেতু খুব অন্ধকারাচ্ছন্ন, তাই একে জাহান্নাম হিসাবে নামকরণ করা হয়েছে। কারণ জাহান্নাম শব্দটি الجهومة থেকে গৃহীত হয়েছে। জুহুমাহ শব্দের অর্থ অন্ধকার।
يلقى فيها জাহান্নামে অপরাধীদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে: অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে। ঐদিকে জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? অর্থাৎ জাহান্নাম আরো বেশী চাইতে থাকবে। কেননা জাহান্নাম অনেক প্রশস্ত। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে ভর্তি করার ওয়াদা করেছেন।
حتّى يَضعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا رجله তখন মহান রাব্বুল আলামীন তাতে নিজের 'পা' রাখবেন: জাহান্নাম যেহেতু অত্যন্ত বড় এবং উহা যেহেতু খুব প্রশস্ত আর আল্লাহ তা'আলা জাহান্নامকে পূর্ণ করার ওয়াদা করেছেন, ঐ দিকে আল্লাহ তা'আলার রহমতের দাবী হচ্ছে, তিনি কাউকে বিনা অপরাধে শাস্তি দিবেন না, তাই তিনি ওয়াদা পূর্ণ করতে গিয়ে জাহান্নামে স্বীয় 'পা' রাখবেন।
فيتروي بعضها إلى بعض এতে জাহান্নাম সংকোচিত হয়ে যাবে: অর্থাৎ জাহান্নামের এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিলে যাবে এবং এর উভয় পার্শ্ব পরস্পর মিশে যাবে। ফলে এর মধ্যে তখন যত বাসিন্দা থাকবে, তাদের ছাড়া আর কোন লোক প্রবেশ করার জায়গা খালী থাকবে না।
فَتَقُولُ قَطْ قَطْ জাহান্নাম বলবে, 'যথেষ্ট হয়েছে' 'যথেষ্ট হয়েছে'। অর্থাৎ জাহান্নাম বলবে আমার জন্য এই পরিমাণই যথেষ্ট।
অত্র হাদীসের মাধ্যমে আল্লাহর 'পা' সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেমন 'পা' শোভনীয়, তাঁর 'পা' ঠিক সেরকমই। আল্লাহ তা'আলার হাত এবং চেহারার মতই পা তাঁর সিফাতে যাতীয়া তথা সত্তাগত বিশেষণ।
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় মুআত্তিলা (আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারী) সম্প্রদায় মারাত্মক ভুল করেছে। তারা বলেছে, قدمه )আল্লাহর 'পা'( বলতে বিশেষ এক প্রকার সৃষ্টি উদ্দেশ্য। তারা আরো বলেছে, হাদীসের অপর বর্ণনায় যেখানে قدمه এর স্থলে رجله এসেছে। তাই 'পা' বলতে একদল মানুষ (কাফের) উদ্দেশ্য। যেমন বলা হয়ে থাকে رجل جراد (পঙ্গপালের একটি দল)।
এই ব্যাখ্যার প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, নাবী বলেছেন, حتى يضع ২। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামে 'পা' রাখবেন। তিনি এই কথা বলেননি যে, حتى يلقي فيها তিনি উহাতে নিক্ষেপ করবেন। যেমন হাদীসের প্রথম অংশে বলেছেন, জাহান্নামে উহার বাসিন্দাদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে।
সেই সাথে আরো বলা হয়েছে যে, رجل শব্দকে জামা'আত বা দল দ্বারা ব্যাখ্যা করা গেলেও قدم শব্দকে প্রকৃত কিংবা রূপকার্থে জামা'আত বা দল দ্বারা ব্যাখ্যা করার কোন সুযোগ নেই。
টিকাঃ
৩১. সহীহ বুখারী ৪৮৫০, সহীহ মুসলিম ২৮৪৬।
৩২. সহীহ বুখারী ৬৬৬১, সহীহ মুসলিম ২৮৪৮, তিরমিযী ৩২৭২, মুসনাদে আহমাদ ১৩৪৫৭।
وقوله ـ صلى الله عليه وسلم : لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ يلقى فيها وهي تَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ، حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا رجله - وفي رواية : عليها قَدَمَه - فيتروي بعضها إلى بعض فَتَقُولُ : قَدْ قَط) متفق عليه
নাবী বলেন: “জাহান্নামে অপরাধীদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে। জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? তখন মহান রাব্বুল আলামীন জাহান্নামে নিজের 'পা' রাখবেন।" অন্য বর্ণনায় رجله -এর স্থলে قدمه এসেছে। এতে জাহান্নাম সংকোচিত হয়ে যাবে এবং বলবে, 'যথেষ্ট হয়েছে' 'যথেষ্ট হয়েছে'। ৩২
ব্যাখ্যা: পরকালে আল্লাহ তা'আলা কাফের ও গুনাহগারদেরকে যেই আগুনের শাস্তি দিবেন, সেই শাস্তির অন্যতম নাম হচ্ছে জাহান্নাম। কেউ কেউ বলেছেন জাহান্নামের গভীরতার কারণেই এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন জাহান্নাম যেহেতু খুব অন্ধকারাচ্ছন্ন, তাই একে জাহান্নাম হিসাবে নামকরণ করা হয়েছে। কারণ জাহান্নাম শব্দটি الجهومة থেকে গৃহীত হয়েছে। জুহুমাহ শব্দের অর্থ অন্ধকার।
يلقى فيها জাহান্নামে অপরাধীদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে: অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে। ঐদিকে জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? অর্থাৎ জাহান্নাম আরো বেশী চাইতে থাকবে। কেননা জাহান্নাম অনেক প্রশস্ত। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে ভর্তি করার ওয়াদা করেছেন।
حتّى يَضعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا رجله তখন মহান রাব্বুল আলামীন তাতে নিজের 'পা' রাখবেন: জাহান্নাম যেহেতু অত্যন্ত বড় এবং উহা যেহেতু খুব প্রশস্ত আর আল্লাহ তা'আলা জাহান্নامকে পূর্ণ করার ওয়াদা করেছেন, ঐ দিকে আল্লাহ তা'আলার রহমতের দাবী হচ্ছে, তিনি কাউকে বিনা অপরাধে শাস্তি দিবেন না, তাই তিনি ওয়াদা পূর্ণ করতে গিয়ে জাহান্নামে স্বীয় 'পা' রাখবেন।
فيتروي بعضها إلى بعض এতে জাহান্নাম সংকোচিত হয়ে যাবে: অর্থাৎ জাহান্নামের এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিলে যাবে এবং এর উভয় পার্শ্ব পরস্পর মিশে যাবে। ফলে এর মধ্যে তখন যত বাসিন্দা থাকবে, তাদের ছাড়া আর কোন লোক প্রবেশ করার জায়গা খালী থাকবে না।
فَتَقُولُ قَطْ قَطْ জাহান্নাম বলবে, 'যথেষ্ট হয়েছে' 'যথেষ্ট হয়েছে'। অর্থাৎ জাহান্নাম বলবে আমার জন্য এই পরিমাণই যথেষ্ট।
অত্র হাদীসের মাধ্যমে আল্লাহর 'পা' সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেমন 'পা' শোভনীয়, তাঁর 'পা' ঠিক সেরকমই। আল্লাহ তা'আলার হাত এবং চেহারার মতই পা তাঁর সিফাতে যাতীয়া তথা সত্তাগত বিশেষণ।
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় মুআত্তিলা (আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারী) সম্প্রদায় মারাত্মক ভুল করেছে। তারা বলেছে, قدمه )আল্লাহর 'পা'( বলতে বিশেষ এক প্রকার সৃষ্টি উদ্দেশ্য। তারা আরো বলেছে, হাদীসের অপর বর্ণনায় যেখানে قدمه এর স্থলে رجله এসেছে। তাই 'পা' বলতে একদল মানুষ (কাফের) উদ্দেশ্য। যেমন বলা হয়ে থাকে رجل جراد (পঙ্গপালের একটি দল)।
এই ব্যাখ্যার প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, নাবী বলেছেন, حتى يضع ২। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামে 'পা' রাখবেন। তিনি এই কথা বলেননি যে, حتى يلقي فيها তিনি উহাতে নিক্ষেপ করবেন। যেমন হাদীসের প্রথম অংশে বলেছেন, জাহান্নামে উহার বাসিন্দাদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে।
সেই সাথে আরো বলা হয়েছে যে, رجل শব্দকে জামা'আত বা দল দ্বারা ব্যাখ্যা করা গেলেও قدم শব্দকে প্রকৃত কিংবা রূপকার্থে জামা'আত বা দল দ্বারা ব্যাখ্যা করার কোন সুযোগ নেই。
টিকাঃ
৩১. সহীহ বুখারী ৪৮৫০, সহীহ মুসলিম ২৮৪৬।
৩২. সহীহ বুখারী ৬৬৬১, সহীহ মুসলিম ২৮৪৮, তিরমিযী ৩২৭২, মুসনাদে আহমাদ ১৩৪৫৭।
📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার আহবান, আওয়াজ এবং কালাম রয়েছে।
وقوله : ( يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : يَا آدَمُ فَيَقُولُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ ، فَيُنَادِي بِصَوْتٍ : إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُخْرِجَ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ بَعْثًا إِلَى النَّارِ ( مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ . وقوله : ( مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ وَلَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تُرْجُمَانٌ)
রসূল বলেন: “আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামাতের দিন আদমকে বলবেন, হে আদম! আদম বলবে, আমি তোমার আহবানে সাড়া দিচ্ছি ও তোমার আনুগত্যের উপর সর্বদা সুদৃঢ় আছি এবং তোমার আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আল্লাহ্ তা'আলা তখন আওয়াজ উঁচু করে এই বলে ডাক দিবেন, আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন তোমার বংশধর থেকে একদল লোককে বের করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বুখারী ও মুসলিম। ৩৩
রসূল আরো বলেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে অচিরেই তার প্রভু কথা বলবেন না। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা অচিরেই তোমাদের সকলের সাথেই কথা বলবেন। কথা বলার সময় বান্দার মাঝে এবং তার রবের মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না। ৩৪
ব্যাখ্যা: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ আমি তোমার আহবানে সাড়া দিচ্ছি ও তোমার আনুগত্যের উপর সর্বদা সুদৃঢ় আছি এবং তোমার আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি: لبيك শব্দটি ألب بالمكان সে অমুক স্থানে অবস্থান করেছে, এ বাক্য থেকে নেওয়া হয়েছে। যখন কেউ কোন স্থানে অবস্থান করে, তখন বলা হয় ألب بالمكان। মাফউলে মুতলাক হিসাবে এ শব্দটি মানুসব হয়েছে। তাগিদ স্বরূপ এটিকে দ্বি-বচন ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ আমি তোমার আনুগত্য করার জন্য বারবার প্রস্তুত ও সুদৃঢ় রয়েছি।
سعديك শব্দটি المساعدة থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে আমি তোমার অনুগত আছি এবং আনুগত্য করার জন্য বারবার তোমার কাছে সাহায্য চাচ্ছি।
فينادي অতঃপর ডাক দিবেন। এখানে দাল বর্ণে যের দিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা ডাক দিবেন।
بصوت আওয়াজ সহকারে এই শব্দটি يادي এর তাগিদ স্বরূপ এসেছে। কেননা ডাক দেয়া বা আহবান করা সাধারণত: আওয়াজের সাথেই হয়ে থাকে। এটি আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর মতই। আল্লাহ তা'আলা বলেন : وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا "আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন ঠিক যেমনভাবে কথা বলা হয়" (সূরা নিসা ৪:১৪৬)।
بعثا إلى النار জাহান্নামের বাহিনী: এখানে بعث শব্দটি مبعوث অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ আগুনের দিকে প্রেরিত বাহিনীকে বের করো। উহার অর্থ হলো জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করো।
উপরের হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, আল্লাহর পক্ষ হতে এমন আওয়াজসহ কথা এবং আহবান হয়, যা শোনা যায়। কিয়ামাতের দিন আল্লাহর পক্ষ হতে আহবান আসবে। হাদীসে রয়েছে, আল্লাহ তা'আলা যখন ইচ্ছা এবং যেভাবে ইচ্ছা কথা বলেন এবং ডাক দেন।
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سيكلمه ربه তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে অচিরেই তার প্রভু কথা বলবেন না: এখানে সাহাবীদেরকে সম্বোধন করা হলেও সর্বকালের সকল মুমিন উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা'আলা বিনা মধ্যস্থতায় কথা বলবেন। ليس بينه وبينه ترجمان আল্লাহর মাঝে এবং বান্দার মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না: যে ব্যক্তি এক ভাষার কথা অন্য ভাষার মাধ্যমে বর্ণনা করে, তাকে দোভাষী বলা হয়। অর্থাৎ এক ভাষার কথা অন্য ভাষায় অনুবাদকারীর নাম তারজুমান।
এ হাদীস থেকেও দলীল পাওয়া যায় যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের সাথে কথা বলবেন। তিনি যখন ইচ্ছা কথা বলেন। আল্লাহর কালাম তাঁর সিফাতে ফেলিয়ার অন্তর্ভুক্ত। এ কথাও প্রমাণিত হলো যে, তিনি কিয়ামাতের দিন প্রত্যেক মুমিনের সাথেই কথা বলবেন。
টিকাঃ
৩৩. সহীহ বুখারী ৭৪৮৩, ৪৭৪১, সহীহ মুসলিম ২২২।
৩৪. সহীহ বুখারী ৭৪৪৩, ৭৫১২, সহীহ মুসলিম ১০১৬, ইবনে মাজাহ ১৮৫।
وقوله : ( يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : يَا آدَمُ فَيَقُولُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ ، فَيُنَادِي بِصَوْتٍ : إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُخْرِجَ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ بَعْثًا إِلَى النَّارِ ( مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ . وقوله : ( مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ وَلَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تُرْجُمَانٌ)
রসূল বলেন: “আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামাতের দিন আদমকে বলবেন, হে আদম! আদম বলবে, আমি তোমার আহবানে সাড়া দিচ্ছি ও তোমার আনুগত্যের উপর সর্বদা সুদৃঢ় আছি এবং তোমার আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আল্লাহ্ তা'আলা তখন আওয়াজ উঁচু করে এই বলে ডাক দিবেন, আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন তোমার বংশধর থেকে একদল লোককে বের করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বুখারী ও মুসলিম। ৩৩
রসূল আরো বলেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে অচিরেই তার প্রভু কথা বলবেন না। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা অচিরেই তোমাদের সকলের সাথেই কথা বলবেন। কথা বলার সময় বান্দার মাঝে এবং তার রবের মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না। ৩৪
ব্যাখ্যা: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ আমি তোমার আহবানে সাড়া দিচ্ছি ও তোমার আনুগত্যের উপর সর্বদা সুদৃঢ় আছি এবং তোমার আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি: لبيك শব্দটি ألب بالمكان সে অমুক স্থানে অবস্থান করেছে, এ বাক্য থেকে নেওয়া হয়েছে। যখন কেউ কোন স্থানে অবস্থান করে, তখন বলা হয় ألب بالمكان। মাফউলে মুতলাক হিসাবে এ শব্দটি মানুসব হয়েছে। তাগিদ স্বরূপ এটিকে দ্বি-বচন ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ আমি তোমার আনুগত্য করার জন্য বারবার প্রস্তুত ও সুদৃঢ় রয়েছি।
سعديك শব্দটি المساعدة থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে আমি তোমার অনুগত আছি এবং আনুগত্য করার জন্য বারবার তোমার কাছে সাহায্য চাচ্ছি।
فينادي অতঃপর ডাক দিবেন। এখানে দাল বর্ণে যের দিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা ডাক দিবেন।
بصوت আওয়াজ সহকারে এই শব্দটি يادي এর তাগিদ স্বরূপ এসেছে। কেননা ডাক দেয়া বা আহবান করা সাধারণত: আওয়াজের সাথেই হয়ে থাকে। এটি আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর মতই। আল্লাহ তা'আলা বলেন : وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا "আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন ঠিক যেমনভাবে কথা বলা হয়" (সূরা নিসা ৪:১৪৬)।
بعثا إلى النار জাহান্নামের বাহিনী: এখানে بعث শব্দটি مبعوث অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ আগুনের দিকে প্রেরিত বাহিনীকে বের করো। উহার অর্থ হলো জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করো।
উপরের হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, আল্লাহর পক্ষ হতে এমন আওয়াজসহ কথা এবং আহবান হয়, যা শোনা যায়। কিয়ামাতের দিন আল্লাহর পক্ষ হতে আহবান আসবে। হাদীসে রয়েছে, আল্লাহ তা'আলা যখন ইচ্ছা এবং যেভাবে ইচ্ছা কথা বলেন এবং ডাক দেন।
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سيكلمه ربه তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে অচিরেই তার প্রভু কথা বলবেন না: এখানে সাহাবীদেরকে সম্বোধন করা হলেও সর্বকালের সকল মুমিন উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা'আলা বিনা মধ্যস্থতায় কথা বলবেন। ليس بينه وبينه ترجمان আল্লাহর মাঝে এবং বান্দার মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না: যে ব্যক্তি এক ভাষার কথা অন্য ভাষার মাধ্যমে বর্ণনা করে, তাকে দোভাষী বলা হয়। অর্থাৎ এক ভাষার কথা অন্য ভাষায় অনুবাদকারীর নাম তারজুমান।
এ হাদীস থেকেও দলীল পাওয়া যায় যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের সাথে কথা বলবেন। তিনি যখন ইচ্ছা কথা বলেন। আল্লাহর কালাম তাঁর সিফাতে ফেলিয়ার অন্তর্ভুক্ত। এ কথাও প্রমাণিত হলো যে, তিনি কিয়ামাতের দিন প্রত্যেক মুমিনের সাথেই কথা বলবেন。
টিকাঃ
৩৩. সহীহ বুখারী ৭৪৮৩, ৪৭৪১, সহীহ মুসলিম ২২২।
৩৪. সহীহ বুখারী ৭৪৪৩, ৭৫১২, সহীহ মুসলিম ১০১৬, ইবনে মাজাহ ১৮৫।
📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সৃষ্টির উপরে রয়েছেন এবং তিনি তাঁর আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন।
ওয়াক্বাউলিহী ফি রুক্বইয়্যাতিল মারীদ: (রাব্বুনাল্লাহুল্লাযী ফিস্ সামায়ি তাক্বাদ্দাস্ ইস্মুকা, আমরুকা ফিস্ সামায়ি ওয়াল আরদ্বি কামা রহমাতুকা ফিস্ সামায়ি, ইজ্আল রহমাতাকা ফিল আরদ্বি, ইগ্ফির লানা হুউবানা ওয়া খাত্বায়ানা আন্তা রাব্বুত্ ত্বাইয়্যিবীনা আনযিল রাহমাতাম্ মীর রাহমাতিকা ওয়া শিফায়াম্ মিন্ শিফায়িকা আলা হাযাল ওয়াজায়ি ফাইয়াবরু)। হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু। ওয়াক্বাউলিহী: (আলা তামুনুনী ওয়া আনা আমীনুম্ মান ফিস্ সামায়ি) হাদীছ সহীহ। ওয়াক্বাউলিহী: (ওয়ালআরশু ফাওক্বা যালিকা ওয়াল্লাহু ফাওকাল আরশি ওয়াহুয়া ইয়া'লামু মা আন্তুম আলাইহি) হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু। ওয়াক্বাউলি লিল জারিয়াতিঃ (আইনাল্লাহু? ক্বা-লাত: ফিস সামায়ি, ক্বা-লা: মান আনা? ক্বা-লাত: আন্তা রাসুলুল্লাহি ক্বা-লা: আ'তিক্বহা ফাইন্নাহা মু'মিনা) রওয়াহু মুসলিম।
রাসূল ﷺ রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার সময় বলেছেনঃ
(রাব্বুনাল্লাহুল্লাযী ফিস্ সামায়ি তাক্বাদ্দাস্ ইস্মুকা, আমরুকা ফিস্ সামায়ি ওয়াল আরদ্বি কামা রহমাতুকা ফিস্ সামায়ি, ইজ্আল রহমাতাকা ফিল আরদ্বি, ইগ্ফির লানা হুউবানা ওয়া খাত্বায়ানা আন্তা রাব্বুত্ ত্বাইয়্যিবীনা আনযিল রাহমাতাম্ মীর রাহমাতিকা ওয়া শিফায়াম্ মিন্ শিফায়িকা আলা হাযাল ওয়াজায়ি ফাইয়াবরু)। হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু।
“তিনিই আমাদের প্রভু, যিনি আকাশে রয়েছেন। হে আমাদের প্রভু! তোমার নাম পবিত্র। তোমার হুকুম আসমানে ও যমীনে। আসমানে যেমন তোমার রহমত রয়েছে তেমনি যমীনেও তোমার রহমত নাযিল করো। আমাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করো। তুমি পবিত্রদের প্রতিপালক। তোমার নিকট হতে রহমত নাযিল করো এবং তোমার 'শিফা' হতে 'শিফা' নাযিল কর। আল্লাহর ইচ্ছায় সে সুস্থ হবে। এ হাদীসটি হাসান। ইমাম আবু দাউদ এবং অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। রসূল আরো বলেন: أَلا تَأْمَنُونِي وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ
"আমার উপর কি তোমাদের আস্থা নেই? অথচ আমি ঐ আল্লাহর একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি, যিনি আকাশে আছেন। নাবী বলেন: والعرش فوق ذلك واللَّهُ فَوْقَ الْعَرْشِ، وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حديث حسن رواه أبو داود وغيره
"তার উপর আল্লাহর আরশ। আর আল্লাহ্ আরশের উপর। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন”। হাদীসটি হাসান। আবু দাউদ এবং অন্যান্য ইমামগণ এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটি দাসীকে রসূল জিজ্ঞেস করেছিলেন: ) أَيْنَ اللَّهُ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ قَالَ: مَنْ أَنَا ؟ قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ: أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ) رواه مسلم.
"আল্লাহ কোথায়? সে জবাবে বলেছিল আসমানের উপর। রসূল আলাইহি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রসূল। তিনি তখন দাসীর মনিবকে বললেন, তুমি একে আযাদ করে দাও। কারণ সে মুমিন। ৩৭
ব্যাখ্যা: في رقبة المريض রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার সময়, নাবী উপরোক্ত দু'আ পাঠ করতেন। অর্থাৎ রোগীর জন্য সুস্থতা প্রার্থনা করে এই দু'আ পাঠ করতেন। কুরআন ও হাদীসের দু'আর মাধ্যমে রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করা বৈধ। আর শিরকী কথা ও কর্ম দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা নিষিদ্ধ।
في السماء : رَبُّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ বলতে على السماء অর্থাৎ আকাশের উপরে উদ্দেশ্য। সুতরাং এখানে في হরফে জারটি على অর্থে ব্যবহৃত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ "কাজেই তোমরা দেশের মধ্যে আরো চার মাস চলাফেরা করো”। (সূরা তাওবা ৯:২)। এখানেও في হরফে জারটি على অর্থে ব্যবহৃত। في অক্ষরটি আসল অর্থে তথা যারফিয়া হিসাবেও ব্যবহৃত হওয়া বিশুদ্ধ। তখন السماء দ্বারা সাধারণভাবে উপর বুঝাবে।
تَقَدَّسَ اسْمُكَ তোমার নাম পবিত্র: অর্থাৎ তোমার অতি সুন্দর নামগুলো প্রত্যেক দোষ-ত্রুটি হতে পবিত্র। اِسْم শব্দটি এখানে একবচন হলেও মুযাফ হওয়ার কারণে এর দ্বারা আল্লাহর সকল পবিত্র নামই উদ্দেশ্য হবে।
أَمْرُ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ তোমার হুকুম আসমানে ও যমীনে: অর্থাৎ আসমান ও যমীনে তোমার ঐসব সৃষ্টি ও নির্ধারণগত আদেশ কার্যকর হয়, যার মাধ্যমে সবকিছুই সৃষ্টি ও সংঘটিত হয়। এই অর্থেই আল্লাহ তা'আলার নিম্নের বাণীটি ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ "আল্লাহ তা'আলা যখন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তিনি শুধু তাকে বলেন যে, হয়ে যাও। সাথে সাথেই তা হয়ে যায়”। (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৮২)
এমনি আল্লাহর আরেক প্রকার আদেশ রয়েছে, যা শরীয়তের ঐসব আদেশকে অন্তর্ভূক্ত করেছে, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ
তোমার রহমত রয়েছে, তেমনি যমীনেও তোমার রহমত নাযিল করো: এখানে আল্লাহ তা'আলার যেই রহমত আসমানের সকল বাসিন্দাকে নিজের মধ্যে শামিল করে নিয়েছে ঐ রহমতের উসীলায় আল্লাহর কাছে চাওয়া হয়েছে যে, তিনি যেন যমীনবাসীর জন্যও তার রহমতের একটি অংশ নির্ধারণ করেন।
اغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا আমাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করো: এখানে আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
المغفرة অর্থ হচ্ছে ঢেকে রাখা এবং পাপাচার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। মাথাকে ঢেকে রাখার জন্য এবং শত্রুর আঘাত থেকে মাথাকে হেফাযত করার জন্য মাথায় যেই হিলমেট এ। পরিধান করা হয়, তা এই المغفرة শব্দ থেকেই নেয়া হয়েছে। এখানে الحوب হচ্ছে الإثم (অপরাধ)। আর الخطايا এবং الذنوب একই অর্থে ব্যবহৃত। উহা হচ্ছে গুনাহ ও পাপসমূহ।
أنت رب الطيبين তুমি পবিত্রদের প্রতিপালক: এই বাক্যের মাধ্যমেও উসীলা দেয়া হয়েছে। طيب শব্দের বহুবচন الطيبون। তারা হচ্ছেন নাবী এবং তাদের অনুসারীগণ। আল্লাহর রুবুবীয়াকে উক্ত শ্রেণীর লোকদের প্রতি সম্বন্ধিত করার দ্বারা তাদের সম্মান, মর্যাদা ও তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা বুঝানো হয়েছে। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা সবকিছুরই প্রভু ও মালিক।
أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ তোমার নিকট হতে রহমত নাযিল করো: অর্থাৎ যেই রহমতটি তুমি সৃষ্টি করেছো, তা তুমি আমাদের উপর নাযিল করো। আল্লাহর রহমত দুই প্রকার।
(১) আল্লাহর যেই রহমত তাঁর অন্যতম সিফাত অর্থে ব্যবহৃত, সে সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন:: وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلِّ شَيْءٍ “আর আমার রহমত প্রতিটি জিনিসকেই পরিব্যপ্ত করে রয়েছে"। (সূরা আরাফ: ১৫৬)
(২) আবার রহমতকে কখনো আল্লাহ তা'আলার দিকে তাঁর ক্রিয়া হিসাবে সম্বন্ধিত করা হয়। তখন উহা ঐ সব মাখলুকের অন্তর্ভুক্ত হয়, যা সৃষ্টিকর্তার দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। যেমন এই হাদীসে রহমত শব্দটি তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। যেমন নাবী ﷺ নিম্নের এই হাদীসে বলেছেন:
«خَلَقَ اللَّهُ مِائَةَ رَحْمَةٍ فَوَضَعَ وَاحِدَةً بَيْنَ خَلْقِهِ وَحَبَأَ عِنْدَهُ مِائَةً إِلَّا وَاحِدَةً»
"আল্লাহ তা'আলা একশটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। তার সৃষ্টির মধ্যে তা থেকে মাত্র একটি রহমত ছেড়েছেন। আর ৯৯টি রহমত তাঁর নিকট রেখে দিয়েছেন।৩৮
রোগী যেহেতু আল্লাহর রহমতের প্রতি মুখাপেক্ষী, তাই নাবী ﷺ তাঁর রবের কাছে রোগীর উপর রহমত নাযিল করার আবেদন করেছেন, যাতে তিনি এর মাধ্যমে রোগীকে শিফা দান করেন।
এই হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য 'উলু' তথা উপরে হওয়া সাব্যস্ত। আরো সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর। পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, উলু তথা উপরে হওয়া আল্লাহ তা'আলার সত্তাগত সিফাত। সেই সাথে আরো জানা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার রুবুবীয়াত, তাঁর ইলাহীয়াত, তাঁর পবিত্রতা, সকল সৃষ্টির উপরে হওয়া, তাঁর সকল আদেশ, তাঁর রহমত ইত্যাদি সিফাত তুলে ধরার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করা মুস্তাহাব।
أَلا تَأْمَنُوني তোমাদের কি আমার উপর আস্থা নেই? নাবী পক্ষ হতে ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করে এ কথা বলা হয়েছে, যে তাঁর কতক মাল বণ্টনে আপত্তি উত্থাপন করেছিল। ৩৯ এখানে যেই ১' অব্যয়টি এসেছে, তা বাক্যের শুরুতে ব্যবহৃত হয় এবং তা দ্বারা সতর্ক করা উদ্দেশ্য হয়। আর تأمنون শব্দটি الأمانة থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে পক্ষপাতিত্ব ও খেয়ানত না করা। অর্থাৎ তোমরা কি মাল বণ্টনের ক্ষেত্রে আমার উপর আস্থাশীল নও?
وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ আমি ঐ সত্তার একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি, যিনি আসমানের উপর রয়েছেন: আসমানে যিনি রয়েছেন, তিনি হলেন আল্লাহ তা'আলা। তিনি আমাকে তাঁর অহী, রেসালাত এবং শারীয়াতের তাবলীগ করার উপর আমানতদার বানিয়েছেন। সুতরাং রসূল আমানতদারী এবং সত্যবাদীতার সাক্ষ্যদাতা হিসাবে আল্লাহ তা'আলাই যথেষ্ট। উপরোক্ত হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, আল্লাহর জন্য উলু (উপরে হওয়া বিশেষণ) সাব্যস্ত। কেননা রসূল বলেন, من في السماء যিনি রয়েছেন আসমানের উপর। একটু পূর্বে এই বাক্যের ব্যাখ্যা অতিক্রান্ত হয়েছে।
والعرش فوق ذلك উহার উপর আল্লাহর আরশ: এ বাক্যের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ঐসব সৃষ্টির উপর, যা রসূল তাঁর সাহাবীর জন্য হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তাতে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে এক আসমান থেকে অন্য আসমান পর্যন্ত দূরত্ব, প্রত্যেক আসমানের পূরত্ব, সপ্তম আসমানের উপরস্থ সাগর, সেই সাগরের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত দূরত্ব এবং ঐ সাগরের উপর সাতটি বিশাল আকারের ওয়াল (বিশেষ আকৃতির আট ফেরেশতা) থাকার কথা বর্ণনা করা রয়েছে। অতঃপর বলা হয়েছে যে, উহার উপর আল্লাহ তা'আলার আরশ।
والله فوق العرش আর আল্লাহ্ আরশের উপরে। অর্থাৎ তাঁর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেভাবে আরশের উপর সমুন্নত হওয়া শোভনীয়, তিনি সেভাবেই আরশের উপর সমুন্নত রয়েছেন।
وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنتُمْ عَلَيْهِ তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন: অর্থাৎ তিনি তাঁর ইলমের মাধ্যমে তোমাদের সকল অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন, যা থেকে কোন বস্তুই গোপনীয় নয়।
উপরের হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য আরশের উপর সমুন্নত হওয়া সুসাব্যস্ত। আর আল্লাহ তা'আলার আরש সমস্ত মাখলুকের উপরে এবং তিনি স্বীয় ইলমের মাধ্যমে বান্দাদের সমস্ত আমলকে পরিবেষ্টন করে আছেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপনীয় নয়।
وقوله للجارية দাসীর কথা: সে ছিল মুআবীয়া ইবনুল হাকামের দাসী। মনিব মুআবীয়া দাসীর উপর ক্রোধান্বিত হয়ে দাসীকে চপেটাঘাত করলেন। অতঃপর তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং রসূল ﷺ কে বিষয়টি জানালেন। তিনি নাবী আরো জানালেন যে, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো না? তিনি বললেন, আমার কাছে ওকে নিয়ে এসো। তিনি দাসীকে নাবী আলাইহি ওয়া কাছে নিয়ে আসলেন। রসূল দাসীকে জিজ্ঞেস করলেন, أين الله আল্লাহ কোথায়? এতে দলীল পাওয়া যায় যে, আল্লাহ কোথায়? এই প্রশ্ন করা জায়েয আছে।
দাসী তখন বলল في السماء আসমানের উপর। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর। এই বাক্যের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। নাবী দাসীকে আরো প্রশ্ন করলেন যে, আমি কে? নাবী সম্পর্কে দাসীর বিশ্বাস কী ছিল, তা জানার জন্য তাকে এই প্রশ্ন করা হয়েছে।
দাসী তখন বলল, أنت رسول الله "আপনি আল্লাহর রসূল"। এই বাক্যের মাধ্যমে দাসী রসূল ﷺ জন্য রিসালাতের সাক্ষ্য দিল। তিনি তখন দাসীর মনিব মুআবীয়াকে বললেন,
أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ তুমি একে আযাদ করে দাও, কারণ সে মুমিন। এতে প্রমাণ পাওয়া গেল, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ তা'আলা উপরে এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল, সে মুমিন হিসাবে গণ্য হবে। আরো জানা গেল যে, দাসমুক্তির জন্য ঈমান পূর্বশর্ত। এ হাদীসে সমস্ত সৃষ্টির উপরে অবস্থিত সাত আসমানের উপর আল্লাহ তা'আলার সমুন্নত হওয়ার দলীল পাওয়া গেল। এতে আরো প্রমাণ পাওয়া গেল যে, আল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করার সময় আঙ্গুল বা শরীরের অন্য কোন অঙ্গ দিয়ে উপরের দিকে ইঙ্গিত করা বৈধ。
টিকাঃ
৩৫. আবু দাউদ ৩৮৯২, ইমাম আলবানী হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন।
৩৬. সহীহ মুসলিম ১০৬৪, সহীহ বুখারী ৪৩৫১।
৩৭. সহীহ মুসলিম ৫৩৭, আবু দাউদ ৯৩০, নাসাঈ ১২১৮।
৩৮. সহীহ বুখারী ৬৪৬৯, সহীহ মুসলিম ২৭৫২, তিরমিযী ৩৫৪১, ইবনে মাজাহ ৪২৯৩।
৩৯. সহীহ বুখারীতে (৪৩৫১) এ হাদীসটি বিস্তারিত উল্লেখিত হয়েছে।
ওয়াক্বাউলিহী ফি রুক্বইয়্যাতিল মারীদ: (রাব্বুনাল্লাহুল্লাযী ফিস্ সামায়ি তাক্বাদ্দাস্ ইস্মুকা, আমরুকা ফিস্ সামায়ি ওয়াল আরদ্বি কামা রহমাতুকা ফিস্ সামায়ি, ইজ্আল রহমাতাকা ফিল আরদ্বি, ইগ্ফির লানা হুউবানা ওয়া খাত্বায়ানা আন্তা রাব্বুত্ ত্বাইয়্যিবীনা আনযিল রাহমাতাম্ মীর রাহমাতিকা ওয়া শিফায়াম্ মিন্ শিফায়িকা আলা হাযাল ওয়াজায়ি ফাইয়াবরু)। হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু। ওয়াক্বাউলিহী: (আলা তামুনুনী ওয়া আনা আমীনুম্ মান ফিস্ সামায়ি) হাদীছ সহীহ। ওয়াক্বাউলিহী: (ওয়ালআরশু ফাওক্বা যালিকা ওয়াল্লাহু ফাওকাল আরশি ওয়াহুয়া ইয়া'লামু মা আন্তুম আলাইহি) হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু। ওয়াক্বাউলি লিল জারিয়াতিঃ (আইনাল্লাহু? ক্বা-লাত: ফিস সামায়ি, ক্বা-লা: মান আনা? ক্বা-লাত: আন্তা রাসুলুল্লাহি ক্বা-লা: আ'তিক্বহা ফাইন্নাহা মু'মিনা) রওয়াহু মুসলিম।
রাসূল ﷺ রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার সময় বলেছেনঃ
(রাব্বুনাল্লাহুল্লাযী ফিস্ সামায়ি তাক্বাদ্দাস্ ইস্মুকা, আমরুকা ফিস্ সামায়ি ওয়াল আরদ্বি কামা রহমাতুকা ফিস্ সামায়ি, ইজ্আল রহমাতাকা ফিল আরদ্বি, ইগ্ফির লানা হুউবানা ওয়া খাত্বায়ানা আন্তা রাব্বুত্ ত্বাইয়্যিবীনা আনযিল রাহমাতাম্ মীর রাহমাতিকা ওয়া শিফায়াম্ মিন্ শিফায়িকা আলা হাযাল ওয়াজায়ি ফাইয়াবরু)। হাদীছ হাসানুন রওয়াহু আবূ দাউদ ওয়া গাইরুহু।
“তিনিই আমাদের প্রভু, যিনি আকাশে রয়েছেন। হে আমাদের প্রভু! তোমার নাম পবিত্র। তোমার হুকুম আসমানে ও যমীনে। আসমানে যেমন তোমার রহমত রয়েছে তেমনি যমীনেও তোমার রহমত নাযিল করো। আমাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করো। তুমি পবিত্রদের প্রতিপালক। তোমার নিকট হতে রহমত নাযিল করো এবং তোমার 'শিফা' হতে 'শিফা' নাযিল কর। আল্লাহর ইচ্ছায় সে সুস্থ হবে। এ হাদীসটি হাসান। ইমাম আবু দাউদ এবং অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। রসূল আরো বলেন: أَلا تَأْمَنُونِي وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ
"আমার উপর কি তোমাদের আস্থা নেই? অথচ আমি ঐ আল্লাহর একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি, যিনি আকাশে আছেন। নাবী বলেন: والعرش فوق ذلك واللَّهُ فَوْقَ الْعَرْشِ، وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حديث حسن رواه أبو داود وغيره
"তার উপর আল্লাহর আরশ। আর আল্লাহ্ আরশের উপর। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন”। হাদীসটি হাসান। আবু দাউদ এবং অন্যান্য ইমামগণ এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটি দাসীকে রসূল জিজ্ঞেস করেছিলেন: ) أَيْنَ اللَّهُ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ قَالَ: مَنْ أَنَا ؟ قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ: أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ) رواه مسلم.
"আল্লাহ কোথায়? সে জবাবে বলেছিল আসমানের উপর। রসূল আলাইহি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রসূল। তিনি তখন দাসীর মনিবকে বললেন, তুমি একে আযাদ করে দাও। কারণ সে মুমিন। ৩৭
ব্যাখ্যা: في رقبة المريض রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার সময়, নাবী উপরোক্ত দু'আ পাঠ করতেন। অর্থাৎ রোগীর জন্য সুস্থতা প্রার্থনা করে এই দু'আ পাঠ করতেন। কুরআন ও হাদীসের দু'আর মাধ্যমে রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করা বৈধ। আর শিরকী কথা ও কর্ম দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা নিষিদ্ধ।
في السماء : رَبُّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ বলতে على السماء অর্থাৎ আকাশের উপরে উদ্দেশ্য। সুতরাং এখানে في হরফে জারটি على অর্থে ব্যবহৃত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ "কাজেই তোমরা দেশের মধ্যে আরো চার মাস চলাফেরা করো”। (সূরা তাওবা ৯:২)। এখানেও في হরফে জারটি على অর্থে ব্যবহৃত। في অক্ষরটি আসল অর্থে তথা যারফিয়া হিসাবেও ব্যবহৃত হওয়া বিশুদ্ধ। তখন السماء দ্বারা সাধারণভাবে উপর বুঝাবে।
تَقَدَّسَ اسْمُكَ তোমার নাম পবিত্র: অর্থাৎ তোমার অতি সুন্দর নামগুলো প্রত্যেক দোষ-ত্রুটি হতে পবিত্র। اِسْم শব্দটি এখানে একবচন হলেও মুযাফ হওয়ার কারণে এর দ্বারা আল্লাহর সকল পবিত্র নামই উদ্দেশ্য হবে।
أَمْرُ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ তোমার হুকুম আসমানে ও যমীনে: অর্থাৎ আসমান ও যমীনে তোমার ঐসব সৃষ্টি ও নির্ধারণগত আদেশ কার্যকর হয়, যার মাধ্যমে সবকিছুই সৃষ্টি ও সংঘটিত হয়। এই অর্থেই আল্লাহ তা'আলার নিম্নের বাণীটি ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ "আল্লাহ তা'আলা যখন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তিনি শুধু তাকে বলেন যে, হয়ে যাও। সাথে সাথেই তা হয়ে যায়”। (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৮২)
এমনি আল্লাহর আরেক প্রকার আদেশ রয়েছে, যা শরীয়তের ঐসব আদেশকে অন্তর্ভূক্ত করেছে, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ
তোমার রহমত রয়েছে, তেমনি যমীনেও তোমার রহমত নাযিল করো: এখানে আল্লাহ তা'আলার যেই রহমত আসমানের সকল বাসিন্দাকে নিজের মধ্যে শামিল করে নিয়েছে ঐ রহমতের উসীলায় আল্লাহর কাছে চাওয়া হয়েছে যে, তিনি যেন যমীনবাসীর জন্যও তার রহমতের একটি অংশ নির্ধারণ করেন।
اغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا আমাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করো: এখানে আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
المغفرة অর্থ হচ্ছে ঢেকে রাখা এবং পাপাচার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। মাথাকে ঢেকে রাখার জন্য এবং শত্রুর আঘাত থেকে মাথাকে হেফাযত করার জন্য মাথায় যেই হিলমেট এ। পরিধান করা হয়, তা এই المغفرة শব্দ থেকেই নেয়া হয়েছে। এখানে الحوب হচ্ছে الإثم (অপরাধ)। আর الخطايا এবং الذنوب একই অর্থে ব্যবহৃত। উহা হচ্ছে গুনাহ ও পাপসমূহ।
أنت رب الطيبين তুমি পবিত্রদের প্রতিপালক: এই বাক্যের মাধ্যমেও উসীলা দেয়া হয়েছে। طيب শব্দের বহুবচন الطيبون। তারা হচ্ছেন নাবী এবং তাদের অনুসারীগণ। আল্লাহর রুবুবীয়াকে উক্ত শ্রেণীর লোকদের প্রতি সম্বন্ধিত করার দ্বারা তাদের সম্মান, মর্যাদা ও তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা বুঝানো হয়েছে। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা সবকিছুরই প্রভু ও মালিক।
أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ তোমার নিকট হতে রহমত নাযিল করো: অর্থাৎ যেই রহমতটি তুমি সৃষ্টি করেছো, তা তুমি আমাদের উপর নাযিল করো। আল্লাহর রহমত দুই প্রকার।
(১) আল্লাহর যেই রহমত তাঁর অন্যতম সিফাত অর্থে ব্যবহৃত, সে সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন:: وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلِّ شَيْءٍ “আর আমার রহমত প্রতিটি জিনিসকেই পরিব্যপ্ত করে রয়েছে"। (সূরা আরাফ: ১৫৬)
(২) আবার রহমতকে কখনো আল্লাহ তা'আলার দিকে তাঁর ক্রিয়া হিসাবে সম্বন্ধিত করা হয়। তখন উহা ঐ সব মাখলুকের অন্তর্ভুক্ত হয়, যা সৃষ্টিকর্তার দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। যেমন এই হাদীসে রহমত শব্দটি তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। যেমন নাবী ﷺ নিম্নের এই হাদীসে বলেছেন:
«خَلَقَ اللَّهُ مِائَةَ رَحْمَةٍ فَوَضَعَ وَاحِدَةً بَيْنَ خَلْقِهِ وَحَبَأَ عِنْدَهُ مِائَةً إِلَّا وَاحِدَةً»
"আল্লাহ তা'আলা একশটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। তার সৃষ্টির মধ্যে তা থেকে মাত্র একটি রহমত ছেড়েছেন। আর ৯৯টি রহমত তাঁর নিকট রেখে দিয়েছেন।৩৮
রোগী যেহেতু আল্লাহর রহমতের প্রতি মুখাপেক্ষী, তাই নাবী ﷺ তাঁর রবের কাছে রোগীর উপর রহমত নাযিল করার আবেদন করেছেন, যাতে তিনি এর মাধ্যমে রোগীকে শিফা দান করেন।
এই হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য 'উলু' তথা উপরে হওয়া সাব্যস্ত। আরো সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর। পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, উলু তথা উপরে হওয়া আল্লাহ তা'আলার সত্তাগত সিফাত। সেই সাথে আরো জানা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার রুবুবীয়াত, তাঁর ইলাহীয়াত, তাঁর পবিত্রতা, সকল সৃষ্টির উপরে হওয়া, তাঁর সকল আদেশ, তাঁর রহমত ইত্যাদি সিফাত তুলে ধরার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করা মুস্তাহাব।
أَلا تَأْمَنُوني তোমাদের কি আমার উপর আস্থা নেই? নাবী পক্ষ হতে ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করে এ কথা বলা হয়েছে, যে তাঁর কতক মাল বণ্টনে আপত্তি উত্থাপন করেছিল। ৩৯ এখানে যেই ১' অব্যয়টি এসেছে, তা বাক্যের শুরুতে ব্যবহৃত হয় এবং তা দ্বারা সতর্ক করা উদ্দেশ্য হয়। আর تأمنون শব্দটি الأمانة থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে পক্ষপাতিত্ব ও খেয়ানত না করা। অর্থাৎ তোমরা কি মাল বণ্টনের ক্ষেত্রে আমার উপর আস্থাশীল নও?
وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থাৎ আমি ঐ সত্তার একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি, যিনি আসমানের উপর রয়েছেন: আসমানে যিনি রয়েছেন, তিনি হলেন আল্লাহ তা'আলা। তিনি আমাকে তাঁর অহী, রেসালাত এবং শারীয়াতের তাবলীগ করার উপর আমানতদার বানিয়েছেন। সুতরাং রসূল আমানতদারী এবং সত্যবাদীতার সাক্ষ্যদাতা হিসাবে আল্লাহ তা'আলাই যথেষ্ট। উপরোক্ত হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, আল্লাহর জন্য উলু (উপরে হওয়া বিশেষণ) সাব্যস্ত। কেননা রসূল বলেন, من في السماء যিনি রয়েছেন আসমানের উপর। একটু পূর্বে এই বাক্যের ব্যাখ্যা অতিক্রান্ত হয়েছে।
والعرش فوق ذلك উহার উপর আল্লাহর আরশ: এ বাক্যের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ঐসব সৃষ্টির উপর, যা রসূল তাঁর সাহাবীর জন্য হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তাতে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে এক আসমান থেকে অন্য আসমান পর্যন্ত দূরত্ব, প্রত্যেক আসমানের পূরত্ব, সপ্তম আসমানের উপরস্থ সাগর, সেই সাগরের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত দূরত্ব এবং ঐ সাগরের উপর সাতটি বিশাল আকারের ওয়াল (বিশেষ আকৃতির আট ফেরেশতা) থাকার কথা বর্ণনা করা রয়েছে। অতঃপর বলা হয়েছে যে, উহার উপর আল্লাহ তা'আলার আরশ।
والله فوق العرش আর আল্লাহ্ আরশের উপরে। অর্থাৎ তাঁর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেভাবে আরশের উপর সমুন্নত হওয়া শোভনীয়, তিনি সেভাবেই আরশের উপর সমুন্নত রয়েছেন।
وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنتُمْ عَلَيْهِ তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন: অর্থাৎ তিনি তাঁর ইলমের মাধ্যমে তোমাদের সকল অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন, যা থেকে কোন বস্তুই গোপনীয় নয়।
উপরের হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য আরশের উপর সমুন্নত হওয়া সুসাব্যস্ত। আর আল্লাহ তা'আলার আরש সমস্ত মাখলুকের উপরে এবং তিনি স্বীয় ইলমের মাধ্যমে বান্দাদের সমস্ত আমলকে পরিবেষ্টন করে আছেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপনীয় নয়।
وقوله للجارية দাসীর কথা: সে ছিল মুআবীয়া ইবনুল হাকামের দাসী। মনিব মুআবীয়া দাসীর উপর ক্রোধান্বিত হয়ে দাসীকে চপেটাঘাত করলেন। অতঃপর তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং রসূল ﷺ কে বিষয়টি জানালেন। তিনি নাবী আরো জানালেন যে, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো না? তিনি বললেন, আমার কাছে ওকে নিয়ে এসো। তিনি দাসীকে নাবী আলাইহি ওয়া কাছে নিয়ে আসলেন। রসূল দাসীকে জিজ্ঞেস করলেন, أين الله আল্লাহ কোথায়? এতে দলীল পাওয়া যায় যে, আল্লাহ কোথায়? এই প্রশ্ন করা জায়েয আছে।
দাসী তখন বলল في السماء আসমানের উপর। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর। এই বাক্যের ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। নাবী দাসীকে আরো প্রশ্ন করলেন যে, আমি কে? নাবী সম্পর্কে দাসীর বিশ্বাস কী ছিল, তা জানার জন্য তাকে এই প্রশ্ন করা হয়েছে।
দাসী তখন বলল, أنت رسول الله "আপনি আল্লাহর রসূল"। এই বাক্যের মাধ্যমে দাসী রসূল ﷺ জন্য রিসালাতের সাক্ষ্য দিল। তিনি তখন দাসীর মনিব মুআবীয়াকে বললেন,
أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ তুমি একে আযাদ করে দাও, কারণ সে মুমিন। এতে প্রমাণ পাওয়া গেল, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ তা'আলা উপরে এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল, সে মুমিন হিসাবে গণ্য হবে। আরো জানা গেল যে, দাসমুক্তির জন্য ঈমান পূর্বশর্ত। এ হাদীসে সমস্ত সৃষ্টির উপরে অবস্থিত সাত আসমানের উপর আল্লাহ তা'আলার সমুন্নত হওয়ার দলীল পাওয়া গেল। এতে আরো প্রমাণ পাওয়া গেল যে, আল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করার সময় আঙ্গুল বা শরীরের অন্য কোন অঙ্গ দিয়ে উপরের দিকে ইঙ্গিত করা বৈধ。
টিকাঃ
৩৫. আবু দাউদ ৩৮৯২, ইমাম আলবানী হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন।
৩৬. সহীহ মুসলিম ১০৬৪, সহীহ বুখারী ৪৩৫১।
৩৭. সহীহ মুসলিম ৫৩৭, আবু দাউদ ৯৩০, নাসাঈ ১২১৮।
৩৮. সহীহ বুখারী ৬৪৬৯, সহীহ মুসলিম ২৭৫২, তিরমিযী ৩৫৪১, ইবনে মাজাহ ৪২৯৩।
৩৯. সহীহ বুখারীতে (৪৩৫১) এ হাদীসটি বিস্তারিত উল্লেখিত হয়েছে।