📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 আল্লাহ তা‘আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয় পদ্ধতিতে দুনিয়ার আসমানে তাঁর নেমে আসা সাব্যস্ত করণ।

📄 আল্লাহ তা‘আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয় পদ্ধতিতে দুনিয়ার আসমানে তাঁর নেমে আসা সাব্যস্ত করণ।


শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: مِنْ ذَلِكَ مِثْلُ قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ متفق عليه
"হাদীসে আল্লাহ তা'আলার যেসব গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রসূল এর বাণী: আমাদের মহান প্রভু আল্লাহ তা'আলা রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, কোন দু'আকারী আছে কি? আমি তার দু'আ কবুল করবো। কোন সাহায্য প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে দান করবো। কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করবো"। ২৪
ব্যাখ্যা: يزل ربنا আমাদের রব নেমে আসেন: যেভাবে নেমে আসা আল্লাহর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভা পায়, তিনি সেভাবেই নেমে আসেন। আমরা তাতে বিশ্বাস করি। আল্লাহর নেমে আসাকে সৃষ্টির নেমে আসার সাথে তুলনা করি না। সূরা শুরার ১১ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ "তাঁর সদৃশ কোন কিছুই নেই."।
إلى سماء الدنيا দুনিয়ার আসমানে: এখানে মাউসুফকে সিফাতের দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল বাক্যটি এ রকম ছিল, السماء الدنيا অর্থাৎ দুনিয়ার নিকটতম আসমান।
حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন: ثلث শব্দের বিশেষণ হিসাবে الآخر শব্দের শেষ বর্ণে পেশ দিয়ে পড়তে হবে। এতে বুঝা যাচ্ছে যে, নুযুলে ইলাহী তথা দুনিয়ার আসমানে আল্লাহ তা'আলার নেমে আসার সময় নির্ধারিত রয়েছে।
فَأَسْتَجِيبَ لَهُ আমি তার দু'আ কবুল করবো: প্রশ্নবোধক বাক্যের জবাব হিসাবে فَأَسْتَجِيبَ ফেলে মুযারেটি মানসুব হয়েছে। এমনি فَأُعْطِيَهُ এবং فَأَغْفِرُ لَهُ ফেল দু'টিও একই কারণে মানসুব হয়েছে। فَأَسْتَجِيبَ لَهُ অর্থ হচ্ছে, আমি তার দু'আ কবুল করবো বা তার ডাকে সাড়া দেবো।
হাদীস থেকে আল্লাহ তা'আলার নেমে আসার দলীল পাওয়া যায়। নামা বা অবতরণ করা আল্লাহ তা'আলার কর্মসমূহের অন্যতম। একই সাথে হাদীস দ্বারা আল্লাহ তা'আলা উপরে থাকা সাব্যস্ত হলো। কেননা নেমে আসা উপর থেকেই হয়। হাদীসে ঐসব লোকদের প্রতিবাদ করা হয়েছে, যারা আল্লাহর নেমে আসাকে তাঁর রহমত বা আদেশ আগমন করার দ্বারা ব্যাখ্যা করে। এই ব্যাখ্যা সঠিক নয়। কারণ আসল হচ্ছে শব্দের প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা এবং প্রকৃত অর্থ বাদ না দেয়া।
কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন: من يدعوني فأستجيب له কে আমার কাছে দু'আ করবে, আমি তার দু'আ কবুল করি। এখান থেকে কি এই কথা বুঝা যায়, আল্লাহর রহমত বা তাঁর আদেশ এইভাবে শেষ রাতে ডাকাডাকি করে এবং কথা বলে? এই হাদীস থেকে আল্লাহর কালামও সাব্যস্ত হয়। কেননা এতে রয়েছে فيقول الخ অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা বলেন। এখানে দান করা, দু'আ কবুল করা এবং ক্ষমা করা সিফাতও আল্লাহ তা'আলার জন্য সাব্যস্ত করা হয়েছে। এগুলো আল্লাহ তা'আলার সিফাতে ফেলীয়ার অন্তর্ভূক্ত। যেই হাদীস ইমাম বুখারী ও মুসলিম উভয়েই বর্ণনা করেছেন, উহাকে মুত্তাফাকুন আলাইহি বলে。

টিকাঃ
২৪. সহীহ: সহীহ বুখারী ১১৪৫ ও সহীহ মুসলিম ৭৫৮, ইবনে মাজাহ ১৩৬৬, আবু দাউদ ১৩১৫, তিরমিযী ৩৪৯৮।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: مِنْ ذَلِكَ مِثْلُ قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ متفق عليه
"হাদীসে আল্লাহ তা'আলার যেসব গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রসূল এর বাণী: আমাদের মহান প্রভু আল্লাহ তা'আলা রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, কোন দু'আকারী আছে কি? আমি তার দু'আ কবুল করবো। কোন সাহায্য প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে দান করবো। কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করবো"। ২৪
ব্যাখ্যা: يزل ربنا আমাদের রব নেমে আসেন: যেভাবে নেমে আসা আল্লাহর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভা পায়, তিনি সেভাবেই নেমে আসেন। আমরা তাতে বিশ্বাস করি। আল্লাহর নেমে আসাকে সৃষ্টির নেমে আসার সাথে তুলনা করি না। সূরা শুরার ১১ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ "তাঁর সদৃশ কোন কিছুই নেই."।
إلى سماء الدنيا দুনিয়ার আসমানে: এখানে মাউসুফকে সিফাতের দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল বাক্যটি এ রকম ছিল, السماء الدنيا অর্থাৎ দুনিয়ার নিকটতম আসমান।
حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন: ثلث শব্দের বিশেষণ হিসাবে الآخر শব্দের শেষ বর্ণে পেশ দিয়ে পড়তে হবে। এতে বুঝা যাচ্ছে যে, নুযুলে ইলাহী তথা দুনিয়ার আসমানে আল্লাহ তা'আলার নেমে আসার সময় নির্ধারিত রয়েছে।
فَأَسْتَجِيبَ لَهُ আমি তার দু'আ কবুল করবো: প্রশ্নবোধক বাক্যের জবাব হিসাবে فَأَسْتَجِيبَ ফেলে মুযারেটি মানসুব হয়েছে। এমনি فَأُعْطِيَهُ এবং فَأَغْفِرُ لَهُ ফেল দু'টিও একই কারণে মানসুব হয়েছে। فَأَسْتَجِيبَ لَهُ অর্থ হচ্ছে, আমি তার দু'আ কবুল করবো বা তার ডাকে সাড়া দেবো।
হাদীস থেকে আল্লাহ তা'আলার নেমে আসার দলীল পাওয়া যায়। নামা বা অবতরণ করা আল্লাহ তা'আলার কর্মসমূহের অন্যতম। একই সাথে হাদীস দ্বারা আল্লাহ তা'আলা উপরে থাকা সাব্যস্ত হলো। কেননা নেমে আসা উপর থেকেই হয়। হাদীসে ঐসব লোকদের প্রতিবাদ করা হয়েছে, যারা আল্লাহর নেমে আসাকে তাঁর রহমত বা আদেশ আগমন করার দ্বারা ব্যাখ্যা করে। এই ব্যাখ্যা সঠিক নয়। কারণ আসল হচ্ছে শব্দের প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা এবং প্রকৃত অর্থ বাদ না দেয়া।
কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন: من يدعوني فأستجيب له কে আমার কাছে দু'আ করবে, আমি তার দু'আ কবুল করি। এখান থেকে কি এই কথা বুঝা যায়, আল্লাহর রহমত বা তাঁর আদেশ এইভাবে শেষ রাতে ডাকাডাকি করে এবং কথা বলে? এই হাদীস থেকে আল্লাহর কালামও সাব্যস্ত হয়। কেননা এতে রয়েছে فيقول الخ অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা বলেন। এখানে দান করা, দু'আ কবুল করা এবং ক্ষমা করা সিফাতও আল্লাহ তা'আলার জন্য সাব্যস্ত করা হয়েছে। এগুলো আল্লাহ তা'আলার সিফাতে ফেলীয়ার অন্তর্ভূক্ত। যেই হাদীস ইমাম বুখারী ও মুসলিম উভয়েই বর্ণনা করেছেন, উহাকে মুত্তাফাকুন আলাইহি বলে。

টিকাঃ
২৪. সহীহ: সহীহ বুখারী ১১৪৫ ও সহীহ মুসলিম ৭৫৮, ইবনে মাজাহ ১৩৬৬, আবু দাউদ ১৩১৫, তিরমিযী ৩৪৯৮।

📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 আল্লাহ তা‘আলা খুশী হন ও হাসেন।

📄 আল্লাহ তা‘আলা খুশী হন ও হাসেন।


وقوله ـ صلى الله عليه وسلم : (الله أشد فرح بتوبة عبده من أحدكم براحلته) الحديث. متفق عليه. وقوله - صلى الله عليه وسلم -: (يضحك الله إلى رجلين يقتل أحدهما الآخر كلاهما يدخل الجنة) متفق عليه.
রসূলুল্লাহ বলেন:
للَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ بِيَاحِلَتِهِ
"বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তাওবা করে, তখন তিনি তোমাদের ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক খুশী হন, যে তার বাহনে আরোহন করে সফরে বের হল। ২৫ নাবী আরো বলেন:
يَضْحَكُ اللَّهُ إِلَى رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ يَدْخُلَانِ الْجَنَّةَ
"আল্লাহ তা'আলা এমন দু'জন লোকের প্রতি হাসেন, যাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করে। অতঃপর তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করে। ২৬
ব্যাখ্যা: الله শব্দের মধ্যে প্রথমে যেই লাম অক্ষরটি প্রবেশ করেছে, তাকে লামে ইবতেদা বলা হয়। আর أشد فرحا এর মধ্যে فرح শব্দটি তামীয হিসাবে মানসুব হয়েছে।
الفرح শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে আনন্দিত ও খুশী হওয়া এবং অন্তরের মধ্যে ফুর্তি অনুভব হওয়া। পাপাচার ছেড়ে দিয়ে আনুগত্যের দিকে ফিরে আসাকে তাওবা বলা হয়।
بتوبة عبده বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তাওবা করে।
তাওবা: পাপ বর্জন করে আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা। التوبة
সَاحِلَتِهِ তার বাহনে: الراحلة বলা হয় ঐ উটনীকে, যা বোঝা বহন করার বয়সে উপনীত হয়েছে।
الحديث হাদীস : ফেলে মুকাদ্দারের কারণে الحديث শব্দটি মানসুব হয়েছে।
উহ্য বাক্যটি হচ্ছে হাদীসটি পূর্ণরূপে পড়ুন। পূর্ণ হাদিস: أكمل الحديث
لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ، مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِأَرْضِ فَلَاةٍ، فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَأَيْسَ مِنْهَا ، فَأَتَى شَجَرَةً، فَاضْطَجَعَ فِي ظِلْهَا، قَدْ أَيسَ مِنْ رَاحِلَتِهِ، فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذَا هُوَ بِهَا، قَائِمَةً عِنْدَهُ، فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا، ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ: اللهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ، أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ
"বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তাওবা করে, তখন তিনি তোমাদের ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক খুশী হন, যে তার বাহনে আরোহন করে সফরে বের হল। বাহনের উপরেই ছিল তার খাদ্য-পানীয় ও সফর সামগ্রী। মরুভূমির উপর দিয়ে সফর করার সময় বিশ্রামার্থে সে একটি বৃক্ষের নীচে থামলো। অতঃপর মাটিতে মাথা রেখে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখল তার বাহন কোথায় যেন চলে গেছে। সে নিরাশ হয়ে একটি গাছের নীচে এসে আবার শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পেলো, তার হারানো বাহনটি সমুদয় খাদ্য-পানীয়সহ মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। বাহনটির লাগাম ধরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠলো, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা, আমি তোমার প্রভু। অতি আনন্দের কারণেই সে এত বড় ভুল করে ফেলেছে।২৭
এ হাদীস থেকে আল্লাহর আনন্দিত হওয়া ও খুশী হওয়া প্রমাণিত হলো। তাঁর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেভাবে খুশী হওয়া শোভনীয়, তিনি সেভাবেই খুশী হন। এটিও আল্লাহর সিফাতে কামালিয়ার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর খুশী হওয়া কোন মাখলুকের খুশী হওয়ার মত নয়। এটি তাঁর অন্যান্য সিফাতের মতই। আল্লাহর খুশী হওয়া তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার খুশী।
আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবার কারণে এমন খুশী হন না যে, তাওবার প্রতি তাঁর প্রয়োজন ছিল এবং বান্দার তাওবার মাধ্যমে তিনি উপকৃত হবেন। কেননা আনুগত্যকারীর আনুগত্য আল্লাহর কোন উপকার করে না এবং পাপাচারীর পাপাচারও আল্লাহর কোন ক্ষতি করে না।
রসূল বলেন: يضحك الله إلى رجلين... إلخ "আল্লাহ তা'আলা এমন দু'জন লোকের প্রতি হাসেন। হাদীসের শেষাংশে নাবী এর কারণ উল্লেখ করেছেন।
يُقَاتِلُ هَذَا فِي سَبِيلِ الله عز وجل في يُستشهد ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَى الْقَاتِل فيسلم فيقاتل في سبيل الله عز وجل فَيُسْتَشْهَدُ
"মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করতে গিয়ে অন্য কাফেরের হাতে শহীদ হয়। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা হত্যাকারীর প্রতি অনুগ্রহ করেন। ফলে সে তাওবা করে এবং ইসলাম কবুল করে নেয়। পরবর্তীতে সেও আল্লাহর পথে জেহাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়। ২৮
এতে আল্লাহ তা'আলার পূর্ণ অনুগ্রহ এবং সীমাহীন রহমতের প্রমাণ মিলে। কেননা মুসলিমগণ আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে। কখনো এমন হয় যে, কাফেরদের কেউ তাদের কাউকে হত্যা করে ফেলে। এতে আল্লাহ তা'আলা নিহত মুসলিমকে শাহাদাতের মাধ্যমে সম্মানিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা সেই হত্যাকারী কাফেরের উপরও অনগ্রহ করেন এবং তাকে ইসলামের পথ দেখান। ফলে সেও জেহাদে গিয়ে শহীদ হয়। পরিণামে সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করে।
এটি আসলেই আশ্চর্যের বিষয়। হাসি সাধারণত ঐসব বিস্ময়কর বিষয় থেকেই হয়ে থাকে, যা সাধারণত খুব কমই সংঘটিত হয়।
উপরের হাদীসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য হাসা বিশেষণ সাব্যস্ত। হাসি তাঁর সিফাতে ফেলিয়ার মধ্যে শামিল। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেভাবে হাসা শোভনীয়, আমরা তাঁর জন্য সেভাবেই হাসি সাব্যস্ত করি। তাঁর হাসি মানুষের হাসার মত নয়। ২৯

টিকাঃ
২৫. সহীহ মুসলিম ২৭৪৭, অধ্যায়: কিতাবুত্ তাওবা।
২৬. সহীহ বুখারী ২৮২৬, সহীহ মুসলিম ১৮৯০, ইবনে মাজাহ ১৯১, নাসাঈ ৩১৬৬।।
২৭. সহীহ মুসলিম ২৭৪৭, অধ্যায়: কিতাবুত্ তাওবা।
২৮. সহীহ বুখারী ২৮২৬, সহীহ মুসলিম ১৮৯০, ইবনে মাজাহ ১৯১, নাসাঈ ৩১৬৬।
২৯. আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীর প্রতি খুশী হন এবং আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করতে গিয়ে নিহত ব্যক্তি এবং হত্যাকারীর ক্রিয়া-কর্ম দেখে হাসেন। তবে আমাদেরকে এ কথা স্বরণ রাখতে হবে যে, খুশী হওয়া এবং হাসা আল্লাহর গুণাবলীর অন্যতম একটি গুণ। আমরা এতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন ব্যতীতই বিশ্বাস করি। আল্লাহর শানে যেমন হাসা শোভনীয়, তিনি সেভাবেই হাসেন। তাঁর হাসা কোন মাখলুকের হাসার মত নয়।

وقوله ـ صلى الله عليه وسلم : (الله أشد فرح بتوبة عبده من أحدكم براحلته) الحديث. متفق عليه. وقوله - صلى الله عليه وسلم -: (يضحك الله إلى رجلين يقتل أحدهما الآخر كلاهما يدخل الجنة) متفق عليه.
রসূলুল্লাহ বলেন:
للَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ بِيَاحِلَتِهِ
"বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তাওবা করে, তখন তিনি তোমাদের ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক খুশী হন, যে তার বাহনে আরোহন করে সফরে বের হল। ২৫ নাবী আরো বলেন:
يَضْحَكُ اللَّهُ إِلَى رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ يَدْخُلَانِ الْجَنَّةَ
"আল্লাহ তা'আলা এমন দু'জন লোকের প্রতি হাসেন, যাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করে। অতঃপর তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করে। ২৬
ব্যাখ্যা: الله শব্দের মধ্যে প্রথমে যেই লাম অক্ষরটি প্রবেশ করেছে, তাকে লামে ইবতেদা বলা হয়। আর أشد فرحا এর মধ্যে فرح শব্দটি তামীয হিসাবে মানসুব হয়েছে।
الفرح শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে আনন্দিত ও খুশী হওয়া এবং অন্তরের মধ্যে ফুর্তি অনুভব হওয়া। পাপাচার ছেড়ে দিয়ে আনুগত্যের দিকে ফিরে আসাকে তাওবা বলা হয়।
بتوبة عبده বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তাওবা করে।
তাওবা: পাপ বর্জন করে আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা। التوبة
সَاحِلَتِهِ তার বাহনে: الراحلة বলা হয় ঐ উটনীকে, যা বোঝা বহন করার বয়সে উপনীত হয়েছে।
الحديث হাদীস : ফেলে মুকাদ্দারের কারণে الحديث শব্দটি মানসুব হয়েছে।
উহ্য বাক্যটি হচ্ছে হাদীসটি পূর্ণরূপে পড়ুন। পূর্ণ হাদিস: أكمل الحديث
لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ، مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِأَرْضِ فَلَاةٍ، فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَأَيْسَ مِنْهَا ، فَأَتَى شَجَرَةً، فَاضْطَجَعَ فِي ظِلْهَا، قَدْ أَيسَ مِنْ رَاحِلَتِهِ، فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذَا هُوَ بِهَا، قَائِمَةً عِنْدَهُ، فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا، ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ: اللهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ، أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ
"বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তাওবা করে, তখন তিনি তোমাদের ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক খুশী হন, যে তার বাহনে আরোহন করে সফরে বের হল। বাহনের উপরেই ছিল তার খাদ্য-পানীয় ও সফর সামগ্রী। মরুভূমির উপর দিয়ে সফর করার সময় বিশ্রামার্থে সে একটি বৃক্ষের নীচে থামলো। অতঃপর মাটিতে মাথা রেখে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখল তার বাহন কোথায় যেন চলে গেছে। সে নিরাশ হয়ে একটি গাছের নীচে এসে আবার শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পেলো, তার হারানো বাহনটি সমুদয় খাদ্য-পানীয়সহ মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। বাহনটির লাগাম ধরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠলো, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা, আমি তোমার প্রভু। অতি আনন্দের কারণেই সে এত বড় ভুল করে ফেলেছে।২৭
এ হাদীস থেকে আল্লাহর আনন্দিত হওয়া ও খুশী হওয়া প্রমাণিত হলো। তাঁর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেভাবে খুশী হওয়া শোভনীয়, তিনি সেভাবেই খুশী হন। এটিও আল্লাহর সিফাতে কামালিয়ার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর খুশী হওয়া কোন মাখলুকের খুশী হওয়ার মত নয়। এটি তাঁর অন্যান্য সিফাতের মতই। আল্লাহর খুশী হওয়া তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার খুশী।
আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবার কারণে এমন খুশী হন না যে, তাওবার প্রতি তাঁর প্রয়োজন ছিল এবং বান্দার তাওবার মাধ্যমে তিনি উপকৃত হবেন। কেননা আনুগত্যকারীর আনুগত্য আল্লাহর কোন উপকার করে না এবং পাপাচারীর পাপাচারও আল্লাহর কোন ক্ষতি করে না।
রসূল বলেন: يضحك الله إلى رجلين... إلخ "আল্লাহ তা'আলা এমন দু'জন লোকের প্রতি হাসেন। হাদীসের শেষাংশে নাবী এর কারণ উল্লেখ করেছেন।
يُقَاتِلُ هَذَا فِي سَبِيلِ الله عز وجل في يُستشهد ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَى الْقَاتِل فيسلم فيقاتل في سبيل الله عز وجل فَيُسْتَشْهَدُ
"মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করতে গিয়ে অন্য কাফেরের হাতে শহীদ হয়। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা হত্যাকারীর প্রতি অনুগ্রহ করেন। ফলে সে তাওবা করে এবং ইসলাম কবুল করে নেয়। পরবর্তীতে সেও আল্লাহর পথে জেহাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়। ২৮
এতে আল্লাহ তা'আলার পূর্ণ অনুগ্রহ এবং সীমাহীন রহমতের প্রমাণ মিলে। কেননা মুসলিমগণ আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে। কখনো এমন হয় যে, কাফেরদের কেউ তাদের কাউকে হত্যা করে ফেলে। এতে আল্লাহ তা'আলা নিহত মুসলিমকে শাহাদাতের মাধ্যমে সম্মানিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা সেই হত্যাকারী কাফেরের উপরও অনগ্রহ করেন এবং তাকে ইসলামের পথ দেখান। ফলে সেও জেহাদে গিয়ে শহীদ হয়। পরিণামে সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করে।
এটি আসলেই আশ্চর্যের বিষয়। হাসি সাধারণত ঐসব বিস্ময়কর বিষয় থেকেই হয়ে থাকে, যা সাধারণত খুব কমই সংঘটিত হয়।
উপরের হাদীসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য হাসা বিশেষণ সাব্যস্ত। হাসি তাঁর সিফাতে ফেলিয়ার মধ্যে শামিল। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেভাবে হাসা শোভনীয়, আমরা তাঁর জন্য সেভাবেই হাসি সাব্যস্ত করি। তাঁর হাসি মানুষের হাসার মত নয়। ২৯

টিকাঃ
২৫. সহীহ মুসলিম ২৭৪৭, অধ্যায়: কিতাবুত্ তাওবা।
২৬. সহীহ বুখারী ২৮২৬, সহীহ মুসলিম ১৮৯০, ইবনে মাজাহ ১৯১, নাসাঈ ৩১৬৬।।
২৭. সহীহ মুসলিম ২৭৪৭, অধ্যায়: কিতাবুত্ তাওবা।
২৮. সহীহ বুখারী ২৮২৬, সহীহ মুসলিম ১৮৯০, ইবনে মাজাহ ১৯১, নাসাঈ ৩১৬৬।
২৯. আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীর প্রতি খুশী হন এবং আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করতে গিয়ে নিহত ব্যক্তি এবং হত্যাকারীর ক্রিয়া-কর্ম দেখে হাসেন। তবে আমাদেরকে এ কথা স্বরণ রাখতে হবে যে, খুশী হওয়া এবং হাসা আল্লাহর গুণাবলীর অন্যতম একটি গুণ। আমরা এতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন ব্যতীতই বিশ্বাস করি। আল্লাহর শানে যেমন হাসা শোভনীয়, তিনি সেভাবেই হাসেন। তাঁর হাসা কোন মাখলুকের হাসার মত নয়।

📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 আল্লাহ তা‘আলা আশ্চর্য হন এবং হাসেন।

📄 আল্লাহ তা‘আলা আশ্চর্য হন এবং হাসেন।


وقوله: «عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ قُنُوطِ عِبَادِهِ وَقُرْبٍ غِيَرِهِ يَنْظُرُ إِلَيْكُمْ آزِلِينَ قَنطِينَ فَيَظَلُّ يَضْحَكُ يَعْلَمُ أَنَّ فَرَجَكُمْ قَرِيبٌ» حديث حسن
রসূল বলেন: "আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশ হওয়াতে এবং তিনি যে তাদের অবস্থা অচিরেই পরিবর্তন করে দিবেন তাতে আশ্চর্যবোধ করেন। তোমরা অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে দেখেন। এ অবস্থায় তিনি হাসতে থাকেন। তিনি জানেন যে, তোমাদের বিপদ মুক্তি, আরাম- আয়েশ ও সুখ-শান্তির সময় অতি নিকটে। এই হাদীসটি হাসান।৩০
ব্যাখ্যা: عَجِبَ رَبُّنَا আমাদের রব আশ্চর্যবোধ করেন: অভিধানগ্রন্থ 'আলমিসবাহ' নামক কিতাবে রয়েছে, তাজ্জব দুই প্রকার বিষয় ও বস্তু থেকে হতে পারে।
(১) এমন বিষয় ও বস্তু থেকে আশ্চর্যবোধ হয়, যাতে আশ্চর্যবোধকারী ঐ বস্তু বা বিষয়ের প্রশংসা করে। এই প্রকার আশ্চর্যবোধের মধ্যে আশ্চর্যবোধকারী বিষয়টিকে সুন্দর ও ভাল মনে করে এবং তার প্রতি নিজের সন্তুষ্টির কথা জানায়।
(২) এমন বিষয় হতে আশ্চর্যবোধ করা হয়, যাকে আশ্চর্যবোধকারী অপছন্দ করে। এই প্রকার আশ্চর্যবোধের মধ্যে আশ্চর্যবোধকারী কোন বিষয়ের প্রতিবাদ করে এবং উহার নিন্দা করে।
مِنْ قُنُوطِ عِبَادِهِ তাঁর বান্দাদের নিরাশ হওয়া থেকে: কোন জিনিস হতে একেবারে নিরাশ হয়ে যাওয়াকে قنوط বলা হয়। তবে এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃষ্টি বর্ষণ হওয়া এবং অনাবৃষ্টির অপকারিতা বিদূরিত হওয়া থেকে নিরাশ হওয়া।
وَقُرْب غيره অচিরেই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া: غيره শব্দের গাইন বর্ণে যের দিয়ে এবং ইয়া বর্ণে যবর দিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ কঠিন অবস্থাকে ভাল অবস্থার মাধ্যমে পরিবর্তন করা।
يَنْظُرُ إِلَيْكُمْ آزِلِينَ তোমরা অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে দেখেন। الأزل থেকে آزلین শব্দটি গঠন করা হয়েছে। لأزل। এর যা বর্ণে সাকীন দিয়ে পড়তে হবে। এর অর্থ হচ্ছে সংকীর্ণতা ও নিরাশায় নিপতিত হওয়া। বলা হয়ে থাকে أزل يأزل أزلا অর্থাৎ অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ এবং অভাব-অনটনে নিপতিত হয়েছে।
فَيَظَلُّ يَضْحَكُ তিনি হাসতে থাকেন: এটি আল্লাহ তা'আলার ঐ সমস্ত সিফাতে ফেলিয়াসমূহের (কর্মগত বিশেষণসমূহের) মধ্যে গণ্য, যা মাখলুকের কোন সিফাতের মত নয়। সুতরাং এই হাদীসে আল্লাহ তা'আলার কর্ম সম্পর্কিত সিফাতসমূহ থেকে দু'টি সিফাত সাব্যস্ত করা হয়েছে। সিফাত দু'টি হচ্ছে আশ্চর্যান্বিত হওয়া এবং হাসা। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয় পদ্ধতিতেই এই দু'টি সিফাত তাঁর জন্য সাব্যস্ত করতে হবে। আল্লাহর আশ্চর্যান্বিত হওয়া এবং হাসা মাখলুকের আশ্চর্যবোধ করা ও হাসার মত নয়। হাদীসে আল্লাহ তা'আলার জন্য নযর তথা দৃষ্টিও সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটিও আল্লাহর কর্মগত সিফাতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি দেন। আসমান ও যমীনের কোন কিছুই আল্লাহ তা'আলার নিকট গোপন নয়。

টিকাঃ
৩০. الإمام احمد في مسنده (11/4)، (12) وابن ماجه (المقدمة ، 64/1) ، وابن عاصم في (السنة) (544) 00 والآجري في (الشريعة) . قال شيخ الإسلام ابن تميمة: حديث حسن) (الواسطية، ص (13)

وقوله: «عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ قُنُوطِ عِبَادِهِ وَقُرْبٍ غِيَرِهِ يَنْظُرُ إِلَيْكُمْ آزِلِينَ قَنطِينَ فَيَظَلُّ يَضْحَكُ يَعْلَمُ أَنَّ فَرَجَكُمْ قَرِيبٌ» حديث حسن
রসূল বলেন: "আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশ হওয়াতে এবং তিনি যে তাদের অবস্থা অচিরেই পরিবর্তন করে দিবেন তাতে আশ্চর্যবোধ করেন। তোমরা অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে দেখেন। এ অবস্থায় তিনি হাসতে থাকেন। তিনি জানেন যে, তোমাদের বিপদ মুক্তি, আরাম- আয়েশ ও সুখ-শান্তির সময় অতি নিকটে। এই হাদীসটি হাসান।৩০
ব্যাখ্যা: عَجِبَ رَبُّنَا আমাদের রব আশ্চর্যবোধ করেন: অভিধানগ্রন্থ 'আলমিসবাহ' নামক কিতাবে রয়েছে, তাজ্জব দুই প্রকার বিষয় ও বস্তু থেকে হতে পারে।
(১) এমন বিষয় ও বস্তু থেকে আশ্চর্যবোধ হয়, যাতে আশ্চর্যবোধকারী ঐ বস্তু বা বিষয়ের প্রশংসা করে। এই প্রকার আশ্চর্যবোধের মধ্যে আশ্চর্যবোধকারী বিষয়টিকে সুন্দর ও ভাল মনে করে এবং তার প্রতি নিজের সন্তুষ্টির কথা জানায়।
(২) এমন বিষয় হতে আশ্চর্যবোধ করা হয়, যাকে আশ্চর্যবোধকারী অপছন্দ করে। এই প্রকার আশ্চর্যবোধের মধ্যে আশ্চর্যবোধকারী কোন বিষয়ের প্রতিবাদ করে এবং উহার নিন্দা করে।
مِنْ قُنُوطِ عِبَادِهِ তাঁর বান্দাদের নিরাশ হওয়া থেকে: কোন জিনিস হতে একেবারে নিরাশ হয়ে যাওয়াকে قنوط বলা হয়। তবে এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃষ্টি বর্ষণ হওয়া এবং অনাবৃষ্টির অপকারিতা বিদূরিত হওয়া থেকে নিরাশ হওয়া।
وَقُرْب غيره অচিরেই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া: غيره শব্দের গাইন বর্ণে যের দিয়ে এবং ইয়া বর্ণে যবর দিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ কঠিন অবস্থাকে ভাল অবস্থার মাধ্যমে পরিবর্তন করা।
يَنْظُرُ إِلَيْكُمْ آزِلِينَ তোমরা অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকা অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে দেখেন। الأزل থেকে آزلین শব্দটি গঠন করা হয়েছে। لأزل। এর যা বর্ণে সাকীন দিয়ে পড়তে হবে। এর অর্থ হচ্ছে সংকীর্ণতা ও নিরাশায় নিপতিত হওয়া। বলা হয়ে থাকে أزل يأزل أزلا অর্থাৎ অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ এবং অভাব-অনটনে নিপতিত হয়েছে।
فَيَظَلُّ يَضْحَكُ তিনি হাসতে থাকেন: এটি আল্লাহ তা'আলার ঐ সমস্ত সিফাতে ফেলিয়াসমূহের (কর্মগত বিশেষণসমূহের) মধ্যে গণ্য, যা মাখলুকের কোন সিফাতের মত নয়। সুতরাং এই হাদীসে আল্লাহ তা'আলার কর্ম সম্পর্কিত সিফাতসমূহ থেকে দু'টি সিফাত সাব্যস্ত করা হয়েছে। সিফাত দু'টি হচ্ছে আশ্চর্যান্বিত হওয়া এবং হাসা। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য শোভনীয় পদ্ধতিতেই এই দু'টি সিফাত তাঁর জন্য সাব্যস্ত করতে হবে। আল্লাহর আশ্চর্যান্বিত হওয়া এবং হাসা মাখলুকের আশ্চর্যবোধ করা ও হাসার মত নয়। হাদীসে আল্লাহ তা'আলার জন্য নযর তথা দৃষ্টিও সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটিও আল্লাহর কর্মগত সিফাতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি দেন। আসমান ও যমীনের কোন কিছুই আল্লাহ তা'আলার নিকট গোপন নয়。

টিকাঃ
৩০. الإمام احمد في مسنده (11/4)، (12) وابن ماجه (المقدمة ، 64/1) ، وابن عاصم في (السنة) (544) 00 والآجري في (الشريعة) . قال شيخ الإسلام ابن تميمة: حديث حسن) (الواسطية، ص (13)

📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য ‘পা’ সাব্যস্ত করা।

📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য ‘পা’ সাব্যস্ত করা।


وقوله ـ صلى الله عليه وسلم : لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ يلقى فيها وهي تَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ، حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا رجله - وفي رواية : عليها قَدَمَه - فيتروي بعضها إلى بعض فَتَقُولُ : قَدْ قَط) متفق عليه
নাবী বলেন: “জাহান্নামে অপরাধীদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে। জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? তখন মহান রাব্বুল আলামীন জাহান্নামে নিজের 'পা' রাখবেন।" অন্য বর্ণনায় رجله -এর স্থলে قدمه এসেছে। এতে জাহান্নাম সংকোচিত হয়ে যাবে এবং বলবে, 'যথেষ্ট হয়েছে' 'যথেষ্ট হয়েছে'। ৩২
ব্যাখ্যা: পরকালে আল্লাহ তা'আলা কাফের ও গুনাহগারদেরকে যেই আগুনের শাস্তি দিবেন, সেই শাস্তির অন্যতম নাম হচ্ছে জাহান্নাম। কেউ কেউ বলেছেন জাহান্নামের গভীরতার কারণেই এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন জাহান্নাম যেহেতু খুব অন্ধকারাচ্ছন্ন, তাই একে জাহান্নাম হিসাবে নামকরণ করা হয়েছে। কারণ জাহান্নাম শব্দটি الجهومة থেকে গৃহীত হয়েছে। জুহুমাহ শব্দের অর্থ অন্ধকার।
يلقى فيها জাহান্নামে অপরাধীদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে: অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে। ঐদিকে জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? অর্থাৎ জাহান্নাম আরো বেশী চাইতে থাকবে। কেননা জাহান্নাম অনেক প্রশস্ত। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে ভর্তি করার ওয়াদা করেছেন।
حتّى يَضعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا رجله তখন মহান রাব্বুল আলামীন তাতে নিজের 'পা' রাখবেন: জাহান্নাম যেহেতু অত্যন্ত বড় এবং উহা যেহেতু খুব প্রশস্ত আর আল্লাহ তা'আলা জাহান্নامকে পূর্ণ করার ওয়াদা করেছেন, ঐ দিকে আল্লাহ তা'আলার রহমতের দাবী হচ্ছে, তিনি কাউকে বিনা অপরাধে শাস্তি দিবেন না, তাই তিনি ওয়াদা পূর্ণ করতে গিয়ে জাহান্নামে স্বীয় 'পা' রাখবেন।
فيتروي بعضها إلى بعض এতে জাহান্নাম সংকোচিত হয়ে যাবে: অর্থাৎ জাহান্নামের এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিলে যাবে এবং এর উভয় পার্শ্ব পরস্পর মিশে যাবে। ফলে এর মধ্যে তখন যত বাসিন্দা থাকবে, তাদের ছাড়া আর কোন লোক প্রবেশ করার জায়গা খালী থাকবে না।
فَتَقُولُ قَطْ قَطْ জাহান্নাম বলবে, 'যথেষ্ট হয়েছে' 'যথেষ্ট হয়েছে'। অর্থাৎ জাহান্নাম বলবে আমার জন্য এই পরিমাণই যথেষ্ট।
অত্র হাদীসের মাধ্যমে আল্লাহর 'পা' সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেমন 'পা' শোভনীয়, তাঁর 'পা' ঠিক সেরকমই। আল্লাহ তা'আলার হাত এবং চেহারার মতই পা তাঁর সিফাতে যাতীয়া তথা সত্তাগত বিশেষণ।
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় মুআত্তিলা (আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারী) সম্প্রদায় মারাত্মক ভুল করেছে। তারা বলেছে, قدمه )আল্লাহর 'পা'( বলতে বিশেষ এক প্রকার সৃষ্টি উদ্দেশ্য। তারা আরো বলেছে, হাদীসের অপর বর্ণনায় যেখানে قدمه এর স্থলে رجله এসেছে। তাই 'পা' বলতে একদল মানুষ (কাফের) উদ্দেশ্য। যেমন বলা হয়ে থাকে رجل جراد (পঙ্গপালের একটি দল)।
এই ব্যাখ্যার প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, নাবী বলেছেন, حتى يضع ২। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামে 'পা' রাখবেন। তিনি এই কথা বলেননি যে, حتى يلقي فيها তিনি উহাতে নিক্ষেপ করবেন। যেমন হাদীসের প্রথম অংশে বলেছেন, জাহান্নামে উহার বাসিন্দাদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে।
সেই সাথে আরো বলা হয়েছে যে, رجل শব্দকে জামা'আত বা দল দ্বারা ব্যাখ্যা করা গেলেও قدم শব্দকে প্রকৃত কিংবা রূপকার্থে জামা'আত বা দল দ্বারা ব্যাখ্যা করার কোন সুযোগ নেই。

টিকাঃ
৩১. সহীহ বুখারী ৪৮৫০, সহীহ মুসলিম ২৮৪৬।
৩২. সহীহ বুখারী ৬৬৬১, সহীহ মুসলিম ২৮৪৮, তিরমিযী ৩২৭২, মুসনাদে আহমাদ ১৩৪৫৭।

وقوله ـ صلى الله عليه وسلم : لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ يلقى فيها وهي تَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ، حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا رجله - وفي رواية : عليها قَدَمَه - فيتروي بعضها إلى بعض فَتَقُولُ : قَدْ قَط) متفق عليه
নাবী বলেন: “জাহান্নামে অপরাধীদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে। জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? তখন মহান রাব্বুল আলামীন জাহান্নামে নিজের 'পা' রাখবেন।" অন্য বর্ণনায় رجله -এর স্থলে قدمه এসেছে। এতে জাহান্নাম সংকোচিত হয়ে যাবে এবং বলবে, 'যথেষ্ট হয়েছে' 'যথেষ্ট হয়েছে'। ৩২
ব্যাখ্যা: পরকালে আল্লাহ তা'আলা কাফের ও গুনাহগারদেরকে যেই আগুনের শাস্তি দিবেন, সেই শাস্তির অন্যতম নাম হচ্ছে জাহান্নাম। কেউ কেউ বলেছেন জাহান্নামের গভীরতার কারণেই এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন জাহান্নাম যেহেতু খুব অন্ধকারাচ্ছন্ন, তাই একে জাহান্নাম হিসাবে নামকরণ করা হয়েছে। কারণ জাহান্নাম শব্দটি الجهومة থেকে গৃহীত হয়েছে। জুহুমাহ শব্দের অর্থ অন্ধকার।
يلقى فيها জাহান্নামে অপরাধীদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে: অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে। ঐদিকে জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? অর্থাৎ জাহান্নাম আরো বেশী চাইতে থাকবে। কেননা জাহান্নাম অনেক প্রশস্ত। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে ভর্তি করার ওয়াদা করেছেন।
حتّى يَضعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا رجله তখন মহান রাব্বুল আলামীন তাতে নিজের 'পা' রাখবেন: জাহান্নাম যেহেতু অত্যন্ত বড় এবং উহা যেহেতু খুব প্রশস্ত আর আল্লাহ তা'আলা জাহান্নامকে পূর্ণ করার ওয়াদা করেছেন, ঐ দিকে আল্লাহ তা'আলার রহমতের দাবী হচ্ছে, তিনি কাউকে বিনা অপরাধে শাস্তি দিবেন না, তাই তিনি ওয়াদা পূর্ণ করতে গিয়ে জাহান্নামে স্বীয় 'পা' রাখবেন।
فيتروي بعضها إلى بعض এতে জাহান্নাম সংকোচিত হয়ে যাবে: অর্থাৎ জাহান্নামের এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিলে যাবে এবং এর উভয় পার্শ্ব পরস্পর মিশে যাবে। ফলে এর মধ্যে তখন যত বাসিন্দা থাকবে, তাদের ছাড়া আর কোন লোক প্রবেশ করার জায়গা খালী থাকবে না।
فَتَقُولُ قَطْ قَطْ জাহান্নাম বলবে, 'যথেষ্ট হয়েছে' 'যথেষ্ট হয়েছে'। অর্থাৎ জাহান্নাম বলবে আমার জন্য এই পরিমাণই যথেষ্ট।
অত্র হাদীসের মাধ্যমে আল্লাহর 'পা' সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেমন 'পা' শোভনীয়, তাঁর 'পা' ঠিক সেরকমই। আল্লাহ তা'আলার হাত এবং চেহারার মতই পা তাঁর সিফাতে যাতীয়া তথা সত্তাগত বিশেষণ।
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় মুআত্তিলা (আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারী) সম্প্রদায় মারাত্মক ভুল করেছে। তারা বলেছে, قدمه )আল্লাহর 'পা'( বলতে বিশেষ এক প্রকার সৃষ্টি উদ্দেশ্য। তারা আরো বলেছে, হাদীসের অপর বর্ণনায় যেখানে قدمه এর স্থলে رجله এসেছে। তাই 'পা' বলতে একদল মানুষ (কাফের) উদ্দেশ্য। যেমন বলা হয়ে থাকে رجل جراد (পঙ্গপালের একটি দল)।
এই ব্যাখ্যার প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, নাবী বলেছেন, حتى يضع ২। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামে 'পা' রাখবেন। তিনি এই কথা বলেননি যে, حتى يلقي فيها তিনি উহাতে নিক্ষেপ করবেন। যেমন হাদীসের প্রথম অংশে বলেছেন, জাহান্নামে উহার বাসিন্দাদেরকে নিক্ষেপ করা হতেই থাকবে।
সেই সাথে আরো বলা হয়েছে যে, رجل শব্দকে জামা'আত বা দল দ্বারা ব্যাখ্যা করা গেলেও قدم শব্দকে প্রকৃত কিংবা রূপকার্থে জামা'আত বা দল দ্বারা ব্যাখ্যা করার কোন সুযোগ নেই。

টিকাঃ
৩১. সহীহ বুখারী ৪৮৫০, সহীহ মুসলিম ২৮৪৬।
৩২. সহীহ বুখারী ৬৬৬১, সহীহ মুসলিম ২৮৪৮, তিরমিযী ৩২৭২, মুসনাদে আহমাদ ১৩৪৫৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00