📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 একই সাথে নেতিবাচক ও ইতিবাচক বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার সিফাত সাব্যস্ত করা অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার পবিত্র সত্তা হতে সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি নাকোচ করা এবং তাঁর পবিত্র সত্তার জন্য পূর্ণ গুণাবলী সাব্যস্ত করা।

📄 একই সাথে নেতিবাচক ও ইতিবাচক বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার সিফাত সাব্যস্ত করা অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার পবিত্র সত্তা হতে সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি নাকোচ করা এবং তাঁর পবিত্র সত্তার জন্য পূর্ণ গুণাবলী সাব্যস্ত করা।


[আল্লাহ তা'আলা নিজেকে সূরা ইখলাসের মাধ্যমে গুণান্বিত করেছেন] শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন:
قَدْ دَخَلَ فِي هَذِهِ الْجُمْلَةِ مَا وَصَفَ اللَّهُ بِهِ نَفْسَهُ فِي سُورَةِ الْإِخْلَاصِ الَّتِي تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ حَيْثُ يَقُولُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ না বোধক ও হ্যাঁ বাচক বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা নিজেকে যে সমস্ত সুউচ্চ গুণে গুণান্বিত করেছেন, তার মধ্যে কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান সূরা ইখলাসে বর্ণিত গুণাবলী অন্যতম। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ "বলো: তিনি আল্লাহ্ একক। আল্লাহ্ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি, কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই” (সূরা ইখলাস ১১২: ১-৪)।
ব্যাখ্যা: এখানে শাইখুল ইসলাম পূর্বোক্ত বাক্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। وَهُوَ سُبْحَانَهُ قَدْ جَمَعَ فِيمَا وَصَفَ وَسَمَّى بِهِ نَفْسَهُ بَيْنَ النَّفْيِ وَالْإِثْبَاتِ অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং তিনি নিজেকে যেসব নামে নামকরণ করেছেন, তাতে তিনি নাফী এবং ইছবাতকে একত্রিত করেছেন। আর এখানে তিনি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তার উপর দলীল পেশ করা শুরু করেছেন। সূরা ইখলাসের অনেক ফাযীলত থাকার কারণে তিনি সর্বপ্রথম এই সূরাকেই উল্লেখ করেছেন। এই সূরাকে সূরা ইখলাস হিসাবে নামকরণ করার কারণ হলো এটিকে আল্লাহর সিফাতের জন্য খালেস (বাছাই ও নির্দিষ্ট) করা হয়েছে এবং যে ব্যক্তি সূরা ইখলাস পাঠ করে, সূরা ইখলাস তাকে শির্ক থেকে মুক্ত করে। তাই ইখলাস অর্থ মুক্ত করা।
সমান: সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের الَّتِي تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ
সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। কারণ কুরআনে যেসব ইলমের সমাহার ঘটেছে, তা মূলতঃ তিন প্রকার। (১) তাওহীদের জ্ঞান (২) অতীতের জাতিসমূহের ঘটনাবলী ও ভবিষ্যতের খবরাদি এবং (৩) হালাল-হারামসহ বিভিন্ন হুকুম-আহকাম।
সূরা ইখলাসের মধ্যে শুধু আল্লাহ তা'আলার সিফাতের বর্ণনা রয়েছে। তাই এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশ। তার দলীল হলো যেমন সহীহ বুখারীতে আবু সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত হয়েছে,
أَنَّ رَجُلاً سَمِعَ رَجُلاً يَقْرَأُ : قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ يُرَدِّدُهَا . فَلَمَّا أَصْبَحَ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، وَكَأَنَّ الرَّجُلَ يَتَقَالُهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ : «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ»
"এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে )قل هو الله أحد( তথা সূরা ইখলাস বার বার পাঠ করতে শুনল। সকাল হলে সে রসূল ﷺ এর কাছে এসে বিষয়টি জানালো। লোকটি শুধু সূরা ইখলাস পাঠকে খুব অল্প মনে করছিল। রসূল তখন বললেন: ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই ইহা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান"।৯
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান হওয়ার হাদীসগুলো প্রায় মুতাওয়াতের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। সূরা ইখলাসে মহান আল্লাহ বলেন: ১৬ অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ! তুমি বলো। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কুরআন আল্লাহর কালাম। কেননা এটি যদি মুহাম্মাদের বা অন্যের কালাম হতো তাহলে আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ কে সম্বোধন করে এ শব্দটি প্রয়োগ করতেন না।
هُوَ اللهُ أَحَدٌ আল্লাহ একক: অর্থাৎ আল্লাহ এক, তাঁর কোন সমকক্ষ, সহযোগী, সদৃশ এবং শরীক নেই।
الله الصَّمَدُ আল্লাহ অমুখাপেক্ষী: অর্থাৎ আল্লাহ এমন মর্যাদাবান নেতা যিনি স্বীয় নেতৃত্বে, মর্যাদায় এবং মহত্বে পরিপূর্ণ হয়েছেন। আল্লাহ তা'আলার এই 'সমাদ' নামের মধ্যে সমস্ত সিফাতে কামালীয়া তথা পূর্ণতার গুণাবলী বিদ্যমান। কেউ কেউ বলেছেন, সমাদ বলা হয় এমন সত্তাকে যার প্রতি সমস্ত মাখলুখের প্রয়োজন হয় এবং তারা সকলেই নিজ নিজ প্রয়োজনে তাঁর দিকেই ধাবিত হয় ও তাঁকেই উদ্দেশ্য করে।
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি: অর্থাৎ তাঁর কোন সন্তান নেই, পিতাও নেই। এতে ইহুদী, নাসারা এবং আরবের ঐসব মুশরিকদের প্রতিবাদ করা হয়েছে, যারা আল্লাহর জন্য সন্তান নির্ধারণ করত। (ইহুদীরা উযাইরকে এবং খৃষ্টানরা ঈসাকে আল্লাহর পুত্র বলে থাকে। আর আরবের মুশরিকরা বলত: ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা সন্তান। আল্লাহ তা'আলা তাদের কথার অনেক উর্ধ্বে।)
وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই: অর্থাৎ তাঁর সমান, সদৃশ ও সমকক্ষ নেই।
মোটকথা, সূরা ইখলাস থেকে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, উহা আল্লাহ তা'আলার সিফাতের ক্ষেত্রে নাফী ও ইছবাতকে একত্রিত করেছে। আল্লাহ তা'আলার বাণী: اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ "আল্লাহ্ একক। তিনি অমুখাপেক্ষী"- এতে রয়েছে ইছবাত। আর আল্লাহ তা'আলার বাণী: তিনি কাউকে জম্ম দেন নি, কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই" এতে রয়েছে নাফী।
আল্লাহ তা'আলা নিজেকে আয়াতুল কুরসির মাধ্যমে গুণান্বিত করেছেন
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: وَمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ فِي أَعْظَمْ آيَةٍ فِي كِتَابِهِ حَيْثُ يَقُولُ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ ولهذا كان من قرأ هذه الآية في ليلة لم يزل عليه من الله حافظ حتى يصبح
আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবের সর্বাধিক মর্যাদাবান আয়াতে নিজেকে যেই সুউচ্চ গুণে গুণান্বিত করেছেন, তা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: "তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরজীবন্ত ও সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, সব তাঁরই। এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখের ও পশ্চাতের সবই তিনি অবগত আছেন। তাঁর জ্ঞান থেকে কোন কিছুই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। কিন্তু তিনি যে জিনিসের জ্ঞান মানুষকে দিতে চান, সেটুকুর কথা ভিন্ন। তার কুরসী আসমান ও যমীন পরিব্যপ্ত হয়ে আছে। আর আসমান ও যমীনকে ধারণ করা তাঁর জন্য মোটেই কঠিন নয়। আর তিনি সমুন্নত, মহান”। (সূরা বাকারা ২: ২৫৫)
যে ব্যক্তি রাতে ইহা পাঠ করবে, সারা রাত আল্লাহর পক্ষ হতে তার জন্য সকাল পর্যন্ত একজন প্রহরী নিযুক্ত থাকবে।
ব্যাখ্যা: وَمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ فِي أَعْظَمِ آيَةٍ فِي كِتَابِهِ আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবের সর্বাধিক ফাযীলাতপূর্ণ আয়াতে নিজেকে সুমহান গুণে গুণান্বিত করেছেন:
অর্থাৎ পূর্বোক্ত বাক্যে নাফী ও ইছবাতের মাধ্যমে আল্লাহর জন্য সুউচ্চ গুণাবলী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি অতিক্রান্ত হয়েছে। কুরআনের সর্বাধিক ফাযীলতপূর্ণ আয়াত তথা আয়াতুল কুরসীতে আল্লাহ তা'আলা তাঁর সম্মানিত সত্তাকে যেসব সুউচ্চ গুণে গুণান্বিত করেছেন, তাও নাফী ও ইছবাতের মাধ্যমেই করেছেন। অর্থাৎ তাতে যেমন আল্লাহ তা'আলা নিজের জন্য সুউচ্চ ও সমুন্নত গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন, ঠিক তেমনি তাঁর পবিত্র সত্তা হতে সকল প্রকার মানবীয় দোষ-ত্রুটি দূরিভূত করেছেন।
الآية -এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে চিহ্ন, নিদর্শন ইত্যাদি। কুরআনের একাধিক শব্দ দ্বারা গঠিত এমন বাক্যকে আয়াত বলা হয়, যাকে একটি فاصلة (বিরামচিহ্ন) এর মাধ্যমে পূর্বাপর বাক্য থেকে আলাদা করা হয়। তবে এখানে যে আয়াতটির কথা চলছে, তাকে আয়াতুল কুরসী বলা হয়। কারণ এতে কুরসীর উল্লেখ রয়েছে।
আয়াতুল কুরসী কুরআনের সর্বাধিক মর্যাদাবান আয়াত হওয়ার বিষয়টি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সহীh মুসলিমে ইমাম মুসলিম উবাই ইবনে কা'ব হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
عَنْ أُبي بن كعب - رضي الله عنه - : أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَهُ: "أَيُّ آيَةٍ فِي كِتَابِ اللَّهُ أَعْظَمُ؟ " قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، فَرَدَّدَهَا مِرَارًا، ثُمَّ قَالَ أُبَيٌّ : آيَةُ الْكُرْسِي، فقال النبي - صلى الله عليه وسلم: لِيَهْنِكَ الْعِلْمُ أَبَا الْمُنْذِرِ
একদা নাবী উবাই ইবনে কা'ব কে জিজ্ঞেস করলেন: কুরআনে সবচেয়ে বড় আয়াত কোনটি? জবাবে উবাই ইবনে কা'ব বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই এ বিষয়ে সর্বাধিক অবগত। উবাই কয়েকবার কথাটি পুনরাবৃত্তি করার পর বললেন: উহা হলো আয়াতুল কুরসী। রসূল তখন তাঁর জন্য দু'আ করে বললেন: হে আবুল মুনযির! তোমার জন্য এ ইলম সুখকর ও তৃপ্তিদায়ক হোক!১০
মর্যাদার দিক দিয়ে আয়াতুল কুরসী কুরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত হওয়ার কারণ হলো উহাতে এমন বিষয় বর্ণিত হয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলার সুন্দরতম নাম ও সুমহান গুণাবলীকে সাব্যস্ত করেছে এবং আল্লাহর সত্তাকে এমনসব মন্দ বৈশিষ্ট থেকে পবিত্র করেছে, যা তাঁর বড়ত্ব ও মর্যাদার শানে শোভনীয় নয়।
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোন সত্য মাবুদ নেই:
অর্থাৎ তিনি ব্যতীত অন্য কোন সত্য ইলাহ নেই। সুতরাং তিনি ব্যতীত যেসব মাবুদের ইবাদাত করা হয়, তা একদম বাতিল। আল্লাহ তা'আলার অন্যতম অতি সুন্দর নাম الْحَيُّ (চিরজীবন্ত)। এর অর্থ আল্লাহ তা'আলা এমন চিরবিদ্যমান সত্তা, যার জন্য রয়েছে পূর্ণতম জীবন। আল্লাহ তা'আলার হায়াত যেহেতু পূর্ণাঙ্গ, তাই তাঁর হায়াত কখনো শেষ হবে না।
আল্লাহর আরেকটি নাম الْقَيُّومُ (সবকিছুর ধারক)। যিনি নিজে নিজেই প্রতিষ্ঠিত, স্বয়ং সম্পূর্ণ এবং অন্যকে প্রতিষ্ঠাকারী তিনিই হচ্ছেন আল কাইয়্যুম। সুতরাং কোন মাখলুকের প্রতিই আল্লাহ তা'আলার কোনো প্রয়োজন নেই। অথচ সমস্ত মাখলুকই তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী।
বর্ণিত হয়েছে যে, الْحَيُّ الْقَيُّومُ তিনি চিরজীবন্ত ও সবকিছুর ধারক: হচ্ছে ইসমে আযম, যা দিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করলে আল্লাহ তা'আলা সেই দু'আ কবুল করেন এবং এর উসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তা দান করেন। الْحَيُّ الْقَيُّومُ ইসমে আযম হওয়ার কারণ হলো 'আলহাই' নামটি আল্লাহর সিফাতে যাতীয়া (সত্তা) এর উপর প্রমাণ বহন করে। তথা এটি আল্লাহর ঐ সব সিফাতের অন্তর্ভূক্ত যা, কখনোই আল্লাহর পবিত্র সত্তা হতে আলাদা হয় না। আর 'আলকাইয়্যুম' নামটি আল্লাহর সিফাতে ফেলিয়া অর্থাৎ তাঁর কর্ম সম্পর্কীয় সিফাত থাকার প্রমাণ করে। সুতরাং আল্লাহর সকল সিফাতের মূলভীত্তি হচ্ছে এই দুইটি সম্মানিত ও মহান নাম।
لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ া ও নিদ্রা তাকে স্পর্শ করতে পারে না: তিনিই যেহেতু সকল সৃষ্টির সার্বক্ষণিক ধারক ও বাহক, তাই তন্দ্রা ও নিদ্রা তার ধারে কাছেও পৌঁছতে পারে না। হালকা ঘুমকে 'সিনাহ' বলা হয়। এটি শুধু চোখের মধ্যেই হয়। আর ঘুম তন্দ্রা থেকে অধিক গভীর ও শক্তিশালী হয়। ঘুম মৃত্যুর ছোট ভাই। এই প্রকার ঘুম অন্তরে হয়।
لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, সব তাঁরই: অর্থাৎ আসমান ও যমীনে যত মাখলুক রয়েছে, তাদের সকলের স্রষ্টা একমাত্র তিনি, এগুলোর মালিকানাও একমাত্র তাঁর এবং সকলেই তার অনুগত। সুতরাং তিনি উর্ধ্ব জগৎ এবং নিম্ন জগতের সবকিছুরই মালিক।
مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? অর্থাৎ বিনা অনুমতিতে তাঁর নিকট সুপারিশ করার মত কেউ নেই।
الشفاعة শব্দটি الشفع )যুক্ত করা) থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি الوتر (বেজোড়) এর বিপরীত। শাফাআ'তকারী যেহেতু স্বীয় প্রার্থনার সাথে অন্যের জন্য প্রার্থনা করাকেও যুক্ত করে নেয়, তাই সুপারিশকারীকে الشافع (সুপারিশকারী) বলা হয়। তাই যার জন্য সুপারিশ করা হয়, সেই লোক প্রথমে বেজোড় (একা) থাকার পর সুপারিশকারী তাকে নিজের সাথে মিলিয়ে নিয়ে জোড়ে পরিণত করে।
আর পারিভাষিক অর্থে শাফাআ'ত অর্থ হচ্ছে سؤال الخير للغير অন্যের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করা। অর্থাৎ মুমিন ব্যক্তি তাঁর রবের কাছে অন্যান্য মুমিনের জন্য এই দু'আ করবে যে, তিনি যেন তাদের গুনাহ ও অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেন। তবে শাফাআ'তের বিষয়টি সম্পূর্ণ আল্লাহর মালিকানাধীন।
إلا ياذنه আল্লাহর অনুমতি ও আদেশ ব্যতীত শাফাআ'ত হবে না। আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার কারণেই অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর নিকট কিয়ামাতের দিন অন্য কারো জন্য সুপারিশ নিয়ে অগ্রসর হতে পারবে না।
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ তাদের সম্মুখের ও পশ্চাতের সবই তিনি অবগত আছেন: অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার ইলম অতীত ও ভবিষ্যতের সকল বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে। অতীত ও ভবিষ্যতের কোন জিনিসই আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়।
وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। কিন্তু তিনি নিজে যে জিনিসের জ্ঞান মানুষকে দিতে চান, সেটুকুর কথা ভিন্ন:
অর্থাৎ আল্লাহর বান্দাগণ তাঁর ইলম থেকে কিছুই জানতে পারে না। তবে তারা শুধু সেটুকুই জানতে পারে, যা তিনি রসূলদের মাধ্যমে তাদেরকে জানিয়েছেন।
وسع كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ তার কুরসী সমস্ত আসমান ও যমীন পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে:
আল্লাহর কুরসী সত্য, আর তাতে আল্লাহর মর্যাদা ও মহানত্বের পরিপূর্ণতা সাব্যস্ত হয়। আর এ কারণে সকল সৃষ্টিই তুচ্ছ।
وَلَا يَتُودُهُ حِفْظُهُمَا আর আসমান ও যমীনকে ধারণ করা তাঁর জন্য মোটেই কঠিন নয়:
আসমান-যমীনসহ উর্ধ্বজগৎ ও নিম্ন জগতের সবকিছু সংরক্ষণ করা আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন ও ভারী অনুভব হয় না। কেননা তাঁর শক্তি ও ক্ষমতা সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত।
وَهُوَ الْعَلِيُّ আর তিনি সর্বোচ্চ:
অর্থাৎ সকল দিক থেকেই আল্লাহ তা'আলার জন্য সৃষ্টির উপরে হওয়া সুপ্রমাণিত ও সুসাব্যস্ত। আল্লাহর যাত সুউচ্চ। অর্থাৎ তিনি সকল সৃষ্টির উপরে।
عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى আরশে সমুন্নত (সূরা ত্বহা ২০:৫)। তিনি আরশেরও উপরে। আল্লাহর মর্যাদা ও বড়ত্ব সর্বোচ্চ। সুতরাং তাঁর জন্য রয়েছে পরিপূর্ণ সিফাতসমূহ এবং সুমহান গুণাবলী। আল্লাহ তা'আলার শক্তি এবং ক্ষমতাও সর্বোচ্চ। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান, সকল সৃষ্টির পরিচালক এবং কোন কিছুই তাঁর জন্য অসম্ভব নয়।
الْعَظِيمُ (সুমহান) হচ্ছেন এমন সত্তা, যার মধ্যে বড়ত্বের সকল সিফাতই বিদ্যমান। সুতরাং নাবী, ফেরেশতা এবং মুমিন বান্দাদের অন্তরে রয়েছে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ সম্মান।
সুতরাং আয়াতুল কুরসীর মধ্যে যেহেতু আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও মর্যাদার এতগুলো গুণ বিদ্যমান, তাই এটি কুরআনের সর্বাধিক মর্যাদাবান আয়াত হওয়ার দাবী রাখে এবং এটি তার পাঠকারীকে সকল প্রকার অকল্যাণ ও শয়তান থেকে হেফাজতকারী হিসাবে পরিগণিত হওয়ারও হকদার।
আয়াতুল কুরসী থেকে এই দলীল পাওয়া গেল, আল্লাহ তা'আলা নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং নিজেকে যেসব নামে নামকরণ করেছেন, সে ক্ষেত্রে তিনি আয়াতুল কুরসীতে শির্কের নেতিবাচক বক্তব্য এবং তাওহীদের ইতিবাচক বক্তব্য একত্রিত করেছেন। আয়াতুল কুরসী আল্লাহর জন্য একদিকে যেমন সুমহান, সর্বোচ্চ ও পরিপূর্ণ গুণাবলী সাব্যস্ত করেছে, অন্যদিকে তাঁর পবিত্র সত্তা হতে সকল দোষ-ত্রুটি এবং অশোভনীয় বৈশিষ্টগুলোকে দূর করে দিয়েছে।
আল্লাহ তা'আলার বাণী: اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ "তিনি আল্লাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই" এতে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য ইবাদাত অস্বীকার করা হয়েছে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদাতকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলার বাণী: الْحَيُّ الْقَيُّومِ "তিনি চিরজীবন্ত ও সবকিছুর ধারক" এতে সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, আল্লাহর জন্য রয়েছে হায়াত (পূর্ণ জীবন), অবিনশ্বরতা এবং সবকিছুর রক্ষণাবেক্ষণ ও ধারণ করার গুণাবলী।
আল্লাহ তা'আলার বাণী: لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ “তন্দ্রা ও নিদ্রা তাকে স্পর্শ করতে পারে না"। এতে আল্লাহ তা'আলা থেকে তন্দ্রা ও নিদ্রাকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলার বাণী: لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ "আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, সব তাঁরই"। এতে উর্ধ্ব জগতের এবং নিম্ন জগতের পূর্ণ মালিকানা কেবল আল্লাহর জন্যই সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলার বাণী: مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ "এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে?"। আল্লাহর জন্য যেহেতু রয়েছে পূর্ণ বড়ত্ব, মর্যাদা এবং তিনি যেহেতু তাঁর সৃষ্টি হতে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী, তাই বিনা অনুমতিতে তাঁর নিকট শাফাআ'ত অস্বীকার করা হয়েছে।
আল্লাহর বাণী: يَعْلَم مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ "তাদের সম্মুখের ও পশ্চাতের সবই তিনি অবগত আছেন"। এতে আল্লাহর জন্য প্রত্যেক বস্তু, ঘটনা এবং বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত ইলম সাব্যস্ত করা হয়েছে। চাই তা অতীতের বিষয় হোক কিংবা ভবিষ্যতের।
আল্লাহর বাণী: وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاء “তাঁর জ্ঞান থেকে কোন কিছুই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। কিন্তু তিনি নিজে যে জিনিসের জ্ঞান মানুষকে দিতে চান, সেটুকুর কথা ভিন্ন" সমস্ত মাখলুক যে আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী এবং কোন সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর যে কোন প্রয়োজন নেই এখানে তা সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আল্লাহর বাণী: وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ “তাঁর কুরসী আসমান ও যমীন পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে"। এখানে আল্লাহর জন্য কুরসী এবং পূর্ণ বড়ত্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে। সেই সাথে আরো সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলার তুলনায় সৃষ্টি খুবই ছোট ও নগণ্য।
আল্লাহর বাণী: وَلَا يَتُودُهُ حِفْظُهُمَا "আর আসমান ও যমীনকে ধারণ করা তাঁর জন্য মোটেই কঠিন নয়"। এতে আল্লাহ তা'আলা থেকে অক্ষমতা, অপারগতা এবং ক্লান্তি অস্বীকার করা হয়েছে।
আল্লাহর বাণী: وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ "আর তিনি সুউচ্চ, সমুন্নত ও মহান"। এতে আল্লাহ তা'আলার জন্য সকল মাখলুকের উপরে থাকা, সমুন্নত হওয়া এবং বড়ত্বের গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে।
অতঃপর শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: ولهذا كان من قرأ هذه الآية في ليلة لم يزل عليه من الله حافظ ولا يقربه شيطان حتى يصبح
আয়াতুল কুরসীতে আল্লাহর বড় বড় সিফাতের আলোচনা হয়েছে বলেই যে ব্যক্তি রাতে ইহা পাঠ করবে, সারা রাত আল্লাহর পক্ষ হতে তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত তাঁর নিকট শয়তান আসতেই পারবে না।
এই বক্তব্যের দ্বারা শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া ঐ হাদীসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন। তাতে এই কথা রয়েছে,
إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ، فَاقْرَأْ آيَةَ الكُرْسِيِّ: { اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} [البقرة: 255]، حَتَّى تَخْتِمَ الآيَةَ، فَإِنَّكَ لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ، وَلَا يَقْرَبَنَّكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ
যখন তুমি বিছানায় আশ্রয় নিবে তথা শয্যা গ্রহণ করবে, তখন তুমি আয়াতুল কুরসী তথা اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ পাঠ করো। কেননা তুমি যদি উহা পাঠ করো, তাহলে সারা রাত আল্লাহর পক্ষ হতে তোমার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত তোমার নিকট শয়তান আসতেই পারবে না।১১
জিন ও ইনসানের মধ্য হতে প্রত্যেক বিদ্রোহী ও সীমালংঘনকারীকে শয়তান বলা হয়। شطن থেকে شیطان এর উৎপত্তি হয়েছে। شطن অর্থ بعد (দূর হয়েছে)। শয়তান আল্লাহর রহমত থেকে অনেক দূরে চলে গেছে বলেই তাকে শয়তান বলা হয়। অথবা شیطان এর উৎপত্তি হয়েছে شاط يشيط হতে। যখন কোন জিনিস খুব কঠিন ও শক্ত হয়, তখনই কেবল তাকে উদ্দেশ্য করে এ রকম কথা বলা হয়।

টিকাঃ
৯. সহীহ বুখারী ৫০১৩, আবু দাউদ ১৪৬১।।
১০. সহীহ: মুসনাদে আহমাদ ২১২৭৮, সহীহ মুসলিম ৮১০, আবু দাউদ ১৪৬০।
১১. সহীহ বুখারী ২৩১১, সহীহ ইবনে খুযাইমা ২৪২৪, তিরমিযী ২৮৮০, মুসনাদে আহমাদ।

📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 সকল সৃষ্টির উপরে আল্লাহ তা‘আলার অবস্থান ও তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়া এবং সকল সৃষ্টির শুরু ও শেষে বিদ্যমান থাকা।

📄 সকল সৃষ্টির উপরে আল্লাহ তা‘আলার অবস্থান ও তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়া এবং সকল সৃষ্টির শুরু ও শেষে বিদ্যমান থাকা।


আল্লাহ তা'আলা নিজেকে তার কথার (তিনিই الأَوَّلُ। প্রথম, তিনিই الآخر সর্বশেষ, তিনিই الظَّاهِرُ। সবকিছুর উপরে, তিনিই الْبَاطِنُ। মাখলুকের অতি নিকটে) মাধ্যমে গুণান্বিত করেছেন。
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: وَقَوْلُهُ سُبْحَانَهُ هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আল্লাহ তা'আলা বলেন: "তিনিই الأَوَّلُ। (প্রথম), তিনিই الآخِرُ। (সর্বশেষ), তিনিই الظَّاهِرُ (সবকিছুর উপরে), তিনিই الْبَاطِنُ (মাখলুকের অতি নিকটে), আর তিনি সর্ব বিষয়ে علیم (মহাজ্ঞাণী)" (সূরা হাদীদ ৫৭: ৩)।
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলার বাণী: هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ "তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ"- সহীহ মুসলিমে নাবী হতে বর্ণিত দু'আর মাধ্যমে এই আয়াতে কারীমার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি তাঁর দু'আয় বলেছেন:
«اللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ»
"হে আল্লাহ! তুমিই أَوَّل (সর্বপ্রথম)। তোমার পূর্বে কেউ ছিলনা। তুমিই آخر (সর্বশেষ), তোমার পর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তুমিই ظاهر (সকল সৃষ্টির উপরে), তোমার উপরে আর কিছুই নেই। তুমিই বাতেন (মাখলুকের অতি নিকটে এবং জ্ঞানের মাধ্যমে সবকিছুকে পরিবেষ্টনকারী), তোমার চেয়ে অধিক নিকটে আর কিছুই নেই”। ১২
নাবী উপরোক্ত আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর এ চারটি নামের সংক্ষিপ্ত ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করেছেন। এ বরকত সম্পন্ন নামগুলোর মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা সকল সৃষ্টিকে সকল দিক থেকেই পরিবেষ্টন করে আছেন।
আল্লাহ তা'আলার নাম: هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ “তিনিই প্রথম এবং তিনিই শেষ" দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সমস্ত যামানাকে পরিবেষ্টন করে আছেন। অর্থাৎ তিনি যামানা ও কালসীমার উর্ধ্বে। সবকিছুর আগে তিনি একাই ছিলেন এবং সবকিছু শেষ হওয়ার পরও তিনি থাকবেন।
আর আল্লাহ তা'আলার নাম: وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ "তিনি সকল সৃষ্টির উপরে এবং তিনিই সবকিছুকে পরিবেষ্টনকারী” দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা যেমন সকল যামানাকে বেষ্টন করে আছেন তেমনি সকল স্থানকে পরিবেষ্টন করে আছেন।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: আল্লাহ তা'আলার এই চারটি নাম পরস্পর বিপরীত অর্থবোধক। চারটি নামের মধ্যে الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ এই দু'টি নাম আল্লাহ তা'আলার অবিনশ্বরতা ও চিরস্থায়িত্বের জন্য। আর الظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ এই দু'টি নাম দ্বারা আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের উপরে হওয়া ও তাদের নিকটে হওয়া বুঝায়।
সুতরাং আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত প্রথম থেকেই যেসব বস্তু রয়েছে, তার প্রত্যেকটি বস্তু সৃষ্টি হওয়ার আগে থেকেই আল্লাহ তা'আলা রয়েছেন। অর্থাৎ যেসব বস্তু সর্বপ্রথম সৃষ্টি করা হয়েছে, তা সৃষ্টি হওয়ার পূর্ব থেকেই আল্লাহ আছেন। আর আল্লাহ ব্যতীত যত বস্তু আছে, তার প্রত্যেকটি শেষ হওয়ার পরেও আল্লাহ তা'আলা থাকবেন। সুতরাং আল্লাহই প্রথম এই কথার অর্থ হচ্ছে সবকিছুর পূর্বে আল্লাহ বিদ্যমান থাকা আর আল্লাহই শেষ এই কথা অর্থ হচ্ছে সবকিছুর পর আল্লাহর অবশিষ্ট থাকা।
আর আল্লাহ তা'আলা الظاهر (প্রকাশমান) হওয়ার অর্থ হচ্ছে তিনি প্রত্যেক সৃষ্ট বস্তুর উপরে। الظهور থেকে আল্লাহ তা'আলার জন্য الظاهر নামটি গ্রহণ করা হয়েছে। যুহুর শব্দটির ভাষাগত দাবী হচ্ছে উপরে হওয়া। বস্তুর উপরের অংশকেই যাহের বলা হয়।
আল্লাহ তা'আলা বাতেন হওয়ার অর্থ হচ্ছে তিনি নিম্নজগতের (পৃথিবী ও তার মধ্যকার) প্রত্যেক সৃষ্টিকে এমনভাবে বেষ্টন করে আছেন যে, তিনি মাখলুকের আপন নফসের চেয়েও অধিক নিকটে। এটি হচ্ছে সকল সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণী: وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ আর তিনি সর্ব বিষয়ে অবগত: অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার ইলম অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সকল বিষয়কে পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করে আছে। উর্ধ্ব জগতের এবং নিম্নজগতের কোন কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য সবকিছুই তিনি অবহিত। আসমান ও যমীনে একটি সরিষার দানা পরিমাণ জিনিসও তাঁর ইলম থেকে অনুপস্থিত নয়।
উপরের আয়াত থেকে আল্লাহর জন্য এমন চারটি সম্মানিত নাম সাব্যস্ত হলো, যার দাবী হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক সৃষ্টিকে ঘিরে আছেন। তিনি অতীত, বর্তমান, এবং ভবিষ্যৎ তথা সকল যামানা ও তার মধ্যে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার সবকিছুকেই জ্ঞানের মাধ্যমে বেষ্টন করে আছেন। সেই সাথে সকল স্থান ও তাতে ছোট-বড় যত প্রকার মাখলুক রয়েছে, সে সম্পর্কেও তিনি অবহিত।
আল্লাহ তা'আলা নিজেকে তার কথার (তুমি সেই চিরজীবন্ত সত্তার উপর ভরসা করো, যিনি কখনোই মৃত্যু বরণ করবেন না) মাধ্যমে গুণান্বিত করেছেন
অতঃপর শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: وقوله سبحانه وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وقوله وَهُوَ الْحَكِيمُ الخبير
আল্লাহ বলেন: “তুমি সেই চিরজীবন্ত সত্তার উপর ভরসা করো, যিনি কখনোই মৃত্যু বরণ করবেন না” (সূরা ফুরকান ২৫:৫৮)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: তিনি প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ” (আন'আম ৬: ১৮, সূরা সাবা ৩৪:১)।
ব্যাখ্যা: وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ “তুমি সেই চিরজীবন্ত সত্তার উপর ভরসা করো, যিনি কখনোই মৃত্যু বরণ করবেন না” (সূরা ফুরকান ২৫:৫৮)। অর্থাৎ তোমার সকল বিষয় সেই চিরজীবন্ত সত্তার নিকট সোপর্দ করে দাও, যার কখনোই মৃত্যু হবে না।
( التوكل) (তাওয়াক্কুল) এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে التفويض তথা অন্যের নিকট কোন বস্তু সোপর্দ করা। আরবরা বলে থাকে, وكلت أمري إلى فلان أي فوضته অর্থাৎ আমার বিষয়টি অমুকের নিকট সোপর্দ করলাম।
আর পরিভাষায় উপকারী বস্তু অর্জন করার জন্য এবং ক্ষতিকর জিনিস দূর করার জন্য অন্তর দিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করাকে توکل বলা হয়।
অন্তর দিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা ইবাদতের অন্যতম একটি প্রকার।
সুতরাং বান্দার সকল কাজে আল্লাহর উপর ভরসা করা অপরিহার্য।
কল্যাণ অর্জনের জন্য কিংবা অকল্যাণ দূর করার জন্য উপায়-উপকরণ অবলম্বন করা আল্লাহর উপর ভরসা করার পরিপন্থী নয়; বরং পরিশ্রম ও চেষ্টা করার সাথে আল্লাহর উপর ভরসা করার পূর্ণ মিল রয়েছে। তাওয়াক্কুলের ব্যাপারে আল্লাহর হায়াতকে খাস করার মধ্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, যিনি চিরজীবন্ত, কল্যাণ লাভের জন্য কেবল তাঁর উপরই ভরসা করা উচিৎ। আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কেউ চিরজীবন্ত নয় কিংবা অন্য কারো হায়াত চিরস্থায়ী নয়। মাখলুকের হায়াত যেহেতু মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয়ে যায়, তাই যে ব্যক্তি মাখলুকের উপর ভরসা করে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মোট কথা, এই আয়াতে আল্লাহু তা'আলার জন্য হায়াতে কামেলা (পূর্ণাঙ্গ জীবন) সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং একই সাথে তাঁর পবিত্র সত্তার মৃত্যু হওয়াকে অস্বীকার করা হয়েছে। সুতরাং এই আয়াতের মধ্যেও আল্লাহর সিফাত সাব্যস্ত করার বেলায় নাফী ও ইছবাতকে একত্র করা হয়েছে।
وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ আল্লাহ তা'আলা প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ: আল্লাহ তা'আলার অন্যতম নাম الحكيم। এর দু'টি অর্থ রয়েছে।
হাকীমের এক অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর মাখলুকের মধ্যে সৃষ্টিগত ও শারীয়াতগত উভয় প্রকার আদেশের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে ফায়সালাকারী।
আর হাকীমের দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে محکم অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা পূর্ণ প্রজ্ঞাবান এবং সকল বস্তুকে যথাযথ স্থানে মজবুতভাবে স্থাপনকারী। সে হিসাবে এটি الحكمة থেকে গৃহীত। প্রত্যেক বিষয়কে তার নিজ নিজ স্থানে স্থাপন করাকে হিকমত বলা হয়। সুতরাং আল্লাহু তা'আলাই তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফায়সালাকারী। তিনি যা সৃষ্টি করেন এবং তাঁর সৃষ্টিকে তিনি যেই আদেশ করেন, তাতে রয়েছে আল্লাহ তা'আলার বিশেষ একটি হিকমাত (রহস্য ও উদ্দেশ্য)। আল্লাহ তা'আলা কোন সৃষ্টিকেই অযথা সৃষ্টি করেননি। মানুষের জন্য যা কিছু কল্যাণকর, তিনি কেবল তাই ইসলামী শারীয়াতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
الله تعالى الخبير নামটি الخبرة থেকে গৃহীত। الخبرة অর্থ হলো বস্তুসমূহের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল অবস্থা জ্ঞানের মাধ্যমে পরিবেষ্টন করে থাকা। বলা হয় ام خبرت الشيئ إذا عرفته على حقيقته সম্পর্কে অবগত আছি। ইহা আপনি ঠিক ঐ সময় বলে থাকেন, যখন আপনি উহাকে তার আসল অবস্থাসহ জানতে পারেন। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা হচ্ছেন الخبير অর্থাৎ তিনি এমন সত্তা, যিনি স্বীয় ইলম ও ক্ষমতার মাধ্যমে সকল বস্তুর অপ্রকাশ্য ও গোপন অবস্থা ঠিক সেভাবেই অবগত আছেন, যেভাবে তিনি সেগুলোর প্রকাশ্য অবস্থা সম্পর্কে অবহিত।
উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলার সম্মানিত নামসমূহ থেকে দু'টি নাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। একটি হচ্ছে الحكيم (প্রজ্ঞাবান) অপরটি হচ্ছে الخبير (সর্বজ্ঞ)। একই সাথে এ নাম দু'টি আল্লাহর সিফাতসমূহ থেকে দু'টি সিফাতও সাব্যস্ত করছে। তা হচ্ছে হিকমাত ও খিবরাত তথা আল্লাহ তা'আলার প্রজ্ঞা ও চাক্ষুস জ্ঞান。

টিকাঃ
১২. সহীহ মুসলিম ২৭১৩।

📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 আল্লাহ তা‘আলার ইলম (জ্ঞান) সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে।

📄 আল্লাহ তা‘আলার ইলম (জ্ঞান) সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে।


আল্লাহ তা'আলা নিজেকে তার কথার (তিনি জানেন যা যমীনে প্রবেশ করে, যা তা হতে বের হয়) মাধ্যমে গুণান্বিত করেছেন
﴿يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا ﴾ ﴿وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ ﴾
আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴿يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا ﴾
"তিনি জানেন যা যমীনে প্রবেশ করে, যা তা হতে বের হয় এবং আকাশ হতে যা অবতীর্ণ হয় ও যা কিছু আকাশে উঠে (সূরা সাবা ৩৪:২)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: ﴿وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ ﴾
"গায়েব বা অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই নিকট রয়েছে। তিনি ছাড়া আর কেউ তা অবগত নয়, জলে ও স্থলের সবকিছুই তিনি অবগত রয়েছেন। তাঁর অবগতি ব্যতীত বৃক্ষ হতে একটি পাতাও ঝরে না এবং ভূ-পৃষ্ঠের অন্ধকারে এমন একটি শস্য দানাও নেই, যে সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এমনিভাবে শুষ্ক ও আদ্র সবকিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে (সূরা আন'আম ৬:৫৯)।
ব্যাখ্যা: ﴾يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ﴿ 'যমীনে যা প্রবেশ করে': তার অন্যতম হচ্ছে বৃষ্টির পানি, শস্যের দানাসমূহ, গুপ্ত ধনসমূহ, মৃত ব্যক্তিদের লাশ ইত্যাদি।
আর وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا 'মীন হতে যা বের হয়': তার মধ্যে রয়েছে, উদ্ভিদ, বিভিন্ন খনিজ সম্পদ ইত্যাদি।
وَمَا يَزِلُ مِنَ السَّمَاءِ ‘আসমান থেকে যা নাযিল হয়': তার মধ্যে রয়েছে বৃষ্টি, ফেরেশতা, আল্লাহর হুকুম আহকাম এবং অন্যান্য বিষয়।
আর وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا 'যা কিছু আকাশে উঠে': বনী আদমের আমল ও আল্লাহর ফেরেশতাগণ আকাশে উঠে।
উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তা'আলার ইলম সাব্যস্ত করা হয়েছে। সব কিছুকেই তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে পরিবেষ্টন করে আছেন।
وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ "গায়েব বা অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই নিকট রয়েছে: অর্থাৎ অদৃশ্যের ভান্ডারসমূহ অথবা গায়েব সম্পর্কে ইলম অর্জনের চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহর নিকটেই। لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ তিনি ব্যতীত অন্য কেউ উহা জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলমে গায়েব থেকে কিছু জানার দাবী করল, সে কুফরী করল।
সহীহ বুখারী মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার থেকে বর্ণিত হাদীসে গায়েবের চাবিসমূহের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রসূল বলেন:
مفَاتِحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ لا يَعْلَمُهَا إِلا اللَّهُ ثم قرأى هذه الآية ﴿إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمٌ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ)
"গায়েবের চাবি হচ্ছে পাঁচটি। আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। কিয়ামাতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর নিকটেই রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। গর্ভাশয়ে যা থাকে, তা তিনিই জানেন। কেউ জানে না, সে আগামীকাল কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না, সে কোন যমীনে মৃত্যু বরণ করবে” (সূরা লুকমান ৩১:৩৪)। ১০
وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ স্থলভাগে যা আছে তিনি তা জানেন। অর্থাৎ পৃথিবীর বসতী এলাকায় এবং খালী জায়গায় যে সমস্ত বাসিন্দা, উদ্ভিদ, প্রাণী এবং অন্যান্য যেসব রয়েছে, তা তিনি অবগত আছেন। এমনি وَالْبَحْرِ জলভাগে যেসব প্রাণী, মূল্যবান মনি-মুক্তা এবং অনুরূপ মাখলুক রয়েছে, তাও তিনি জানেন।
وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ তাঁর অবগতি ব্যতীত একটি পাতাও ঝরে না: স্থলভাগ, জলভাগ এবং অন্যান্য স্থানের বৃক্ষসমূহের কোন পাতাই إِلَّا يَعْلَمُهَا আল্লাহর অবগতি ছাড়া ঝরে পড়ে না। এমনি বৃক্ষের পাতাসমূহ কখন ও কোথায় পড়ে, তাও তিনি জানেন।
وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ ভূ-পৃষ্ঠের অন্ধকারে এমন একটি দানাও নেই, যে সম্পর্কে তিনি অবগত নন: অর্থাৎ যমীনের অন্ধকারচ্ছন্ন স্থানসমূহে কিংবা মাটির নীচের শস্যদানা বা ক্ষুদ্রতম দানা পরিমাণ বস্তু সম্পর্কে তিনি অবগত।
وَلَا رَطْبِ وَلَا يَا بِسِ শুষ্ক ও আদ্র সবকিছুই: অর্থাৎ সকল সৃষ্টি সম্পর্কেই তিনি অবগত। এটি خاص এর পর عام স্বরূপ। অর্থাৎ প্রথমে কিছু খাস বস্তু উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে যে, শুষ্ক ও আদ্র সকল বস্তু সম্পর্কেই তিনি জানেন।
إِلَّا فِي كِتَاب مبين একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে: এগুলো থেকে যাই হোক না কেন, তার সবই লাওহে মাহফুযে লিখিত রয়েছে।
উপরোক্ত আয়াতে সাব্যস্ত করা হয়েছে গায়েবের ইলম আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে নেই। আল্লাহ তা'আলার ইলম প্রত্যেক বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। এতে তাকদীর এবং লাওহে মাহফুযে তা লিখার কথাও প্রমাণিত হয়।
আল্লাহ তা'আলা নিজেকে তার কথার (আল্লাহর অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং প্রসবও করে না) মাধ্যমে গুণান্বিত করেছেন
{وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَى وَلا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ} {لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا} وقوله : {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ}
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَى وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ﴾
"আল্লাহর অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং প্রসবও করে না (সূরা ফাতির ৩৫: ১১)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا
যাতে তোমরা জানতে পারো, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতা রাখেন এবং আল্লাহর জ্ঞান সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে” (সূরা তালাক ৬৫:১২)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
"আল্লাহ নিজেই রিযিকদাতা, শক্তিধর ও প্রবল ক্ষমতার অধিকারী" (সূরা যারিয়াত ৫১: ৫৭-৫৮)।
ব্যাখ্যা : وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَى وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ “আল্লাহর অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসবও করে না: অর্থাৎ আল্লাহর অবগতি ব্যতীত কোন নারী বা অন্য কোন প্রাণীর গর্ভধারণ এবং প্রসব হয় না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, কোন জিনিসই আল্লাহর ইলম ও তদবীরের বাইরে নয়। কোন দিন কোন নারী বা অন্য কোন প্রাণীর গর্ভে সন্তান ও বাচ্চা আসবে, কোন দিন সে তা প্রসব করবে এবং ছেলে সন্তান প্রসব করবে? না মেয়ে সন্তান? আল্লাহু তাও জানেন।
لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান: এখানে لام এর সম্পর্ক হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার পূর্বোক্ত বাণী: خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتِ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ এর সাথে। অর্থাৎ তিনি সাত আসমান ও সাত যমীন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা আল্লাহ তা'আলার পূর্ণ ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারো।
وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا এবং যাতে আরো জানতে পারো যে, আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে: অর্থাৎ যাতে তোমরা এই কথা জানতে পারো যে, আল্লাহর ইলম সবকিছুকে ঘিরে আছে। সৃষ্টির কোন কিছুই তাঁর ইলমের বাইরে নয়। সেটি যাই হোক না কেন।
علمًا শব্দটি تمیز হিসাবে অথবা مفعول مطلق হিসাবে মানসুব হয়েছে। কেননা أحاط অর্থ علم যার অর্থ তিনি অবগত হয়েছেন।
উপরের দু'টি আয়াত থেকে আল্লাহর এমন ইলম প্রমাণিত হচ্ছে, সকল বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। সেই সাথে সকল বস্তুর উপর আল্লাহর ক্ষমতাও প্রমাণিত হলো।
إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ 'আল্লাহ নিজেই রিযিকদাতা': আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন রিযিক দাতা নেই। তিনি সকল সৃষ্টিকেই রিযিক দেন এবং তাদের কল্যাণে সবকিছুই সরবরাহ করেন। তিনি বিনা হিসাবে সকল প্রাণীর রিযিকের ব্যবস্থা করেন। সুতরাং তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদাত করো না।
ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ প্রবল শক্তিধর ও পরাক্রমশালী: অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা পূর্ণ শক্তির অধিকারী। তাঁর শক্তিতে কোন প্রকার দুর্বলতা অনুপ্রবেশ করতে পারে না। আর المتين অর্থ হচ্ছে তিনি সর্বোচ্চ শক্তি ও প্রবল ক্ষমতার অধিকারী। সুতরাং তাঁর কাজে কোন কষ্ট, ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব হয় না। আল্লাহ তা'আলার আল-মাতিন নামটি আল-মুতানা ক্রিয়ামূল থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে কঠিন ও শক্তিমান হওয়া।
উপরোক্ত আয়াতে কারীমা থেকে আল্লাহর রায্যাক নামটি প্রমাণিত হলো। সেই সাথে আল্লাহ তা'আলার জন্য এমন সিফাত তথা পূর্ণ শক্তি ও ক্ষমতা প্রমাণিত হলো যাতে কোন প্রকার দুর্বলতা ও ক্লান্তি আসতে পারে না। একই সাথে এই আয়াতগুলো দ্বারা দলীল গ্রহণ করা হয়েছে যে, একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা আবশ্যক। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই。

টিকাঃ
১৩. সহীহ বুখারী ৪৬২৭, সহীহ মুসলিম ৯-১০, ইবনে মাজাহ ৬৪।

📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার শ্রবণ ও দর্শন।

📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার শ্রবণ ও দর্শন।


وقوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} وقوله: {إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا আল্লাহ তা'আলা বলেন: يَعِظُكُم بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا}
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيْرِ “কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বদ্রষ্টা” (সূরা শুরা ৪২: ১১)। আল্লাহ আরো বলেন:
إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সর্বোত্তম উপদেশ দান করেন। আর আল্লাহ সবকিছুই শোনেন ও দেখেন”। (সূরা নিসা ৪: ৫৮)
ব্যাখ্যা: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ "কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়”। এ আয়াতের প্রথম অংশ হচ্ছে:
فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا "আল্লাহ তা'আলা আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, তিনি তোমাদের নিজ থেকে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন, অনুরূপ অন্যান্য জীব-জন্তুর জোড়া বানিয়েছেন "(সূরা শুরা ৪২: ১১)।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাছীর বলেন: যিনি সকল মানুষকে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন এবং অনুরূপ অন্যান্য জীবজন্তুর জোড়া বানিয়েছেন, তার মত আর কিছুই নেই। কেননা তিনি সেই একক অমুখাপেক্ষী সত্তা, যার কোন নযীর (সদৃশ) নেই। তিনি السميع (সর্বশ্রোতা), যিনি সকল ভাষার সকল আওয়াজই শুনেন। তিনি البصير (সর্বদ্রষ্টা), তিনি সবকিছুই দেখেন। আসমান ও যমীনের কোন কিছুই তাঁর কাছে অস্পষ্ট নয়।
ইমাম শাওকানী তাঁর তাফসীরে বলেন, যে ব্যক্তি ভালভাবে এই আয়াতটি বুঝতে সক্ষম হবে এবং যথাযথভাবে তা নিয়ে গবেষণা করবে, আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে মতভেদকারীদের মতভেদ করা সত্ত্বেও সে উজ্জল ও সুস্পষ্ট পথে চলতে পারবে।
সে যদি আল্লাহর বাণী: وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِير "তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা”: নিয়ে চিন্তা করে, তাহলে তার জ্ঞান আরো বৃদ্ধি পাবে। কেননা আল্লাহর অনুরূপ কোন জিনিস হওয়াকে পরিহার করার পর আল্লাহর জন্য উপরোক্ত দু'টি নাম ও সিফাত সাব্যস্ত করার দ্বারা আল্লাহর আসমা ও সিফাতের প্রতি বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি আনয়ন করে, অন্তর থেকে সকল ব্যধি সরিয়ে দেয় এবং হৃদয়কে শীতল করে তুলে।
সুতরাং হে সত্যের সন্ধানী! তুমি এই উজ্জল প্রমাণ এবং মজবুত দলীলের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করো। এর মাধ্যমেই তুমি অনেক বিদ'আতকে ভেঙ্গে চুরমার করতে পারবে, গোমরাহীর ইমামদের ভিত্তিকে ধ্বংস করতে পারবে এবং যুক্তিবাদীদের নাকে মাটি লাগাতে পারবে। বিশেষ করে যখন তুমি আল্লাহ তা'আলার এই বাণীকে তার সাথে যুক্ত করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا
তিনি লোকদের সামনের ও পেছনের সব অবস্থা জানেন। তারা তাদের জ্ঞান দ্বারা আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না (সূরা ত্বহা ২০:১১০)।
إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দান করেন: এটি সূরা নিসার ৫৮ নং আয়াতের শেষাংশ। আয়াতের পূর্বের অংশ হচ্ছে,
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ "হে মুসলিমগণ! আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় আমানত তার হকদারদের হাতে ফেরত দেবার নির্দেশ দিচ্ছেন। আর লোকদের মধ্যে ফায়সালা করার সময় আদল বা ন্যায়নীতি সহকারে ফায়সালা করো”।
نعم শব্দটি প্রশংসার জন্য ব্যবহৃত শব্দসমূহের অন্যতম। এর শেষে যুক্ত 3 সম্পর্কে একাধিক কথা রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন এটি হচ্ছে 4 نكرة موصوفة । সম্ভবত বাক্যটি এক রকম ছিল, 4 نعم شيئا يعظكم به উত্তম বিষয় দ্বারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন।
কেউ কেউ বলেছেন এখানে 4 মাওসুল হিসাবে এসেছে। আসল বাক্যটি এক রকম ছিল, 4 نعم الشيئ الذي يعظكم به অর্থাৎ যে বিষয়টি দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে, তা কতই না উত্তম! يعظكم (উপদেশ দিচ্ছেন) অর্থ হলো তিনি তোমাদেরকে আমানত আদায় করার এবং মানুষের মাঝে ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করার আদেশ দিচ্ছেন।
إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا অর্থাৎ তোমরা যা কিছু বল আল্লাহ তা'আলা তা শুনেন এবং যা কিছু করো, তা তিনি দেখেন। উপরের আয়াত দু'টি থেকে আল্লাহর শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রমাণিত হলো। আয়াত দু'টির প্রথমটিতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা কোন মাখলুকের অনুরূপ নন এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। উহাতে আল্লাহ তা'আলার সিফাতের ক্ষেত্রে নাফী ও ইছবাতকে একত্র করা হয়েছে। অর্থাৎ একই সাথে আল্লাহ তা'আলার পবিত্র সত্তা হতে ত্রুটি ও দোষযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো পরিহার করা হয়েছে এবং তাঁর যাতে পাকের জন্য অতি উত্তম ও সুউচ্চ গুণাবলী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00