📄 আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলার সুউচ্চ গুণাবলী ও বড়ত্বের বৈশিষ্ট্য এবং নিজেকে যে সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র ও মুক্ত করেছেন তার বর্ণনা
অতঃপর শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন:
وَهُوَ سُبْحَانَهُ قَدْ جَمَعَ فِيمَا وَصَفَ وَسَمَّى بِهِ نَفْسَهُ بَيْنَ النَّفْيِ وَالْإِثْبَاتِ فَلَا عُدُولَ لِأَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ عَمَّا جَاءَ بِهِ الْمُرْسَلُونَ فَإِنَّهُ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ
আল্লাহ তা'আলা নিজেকে যেসব সুউচ্চ গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং তিনি নিজেকে যে সুন্দর নামে নামকরণ করেছেন, তাতে তিনি নাফী এবং ইছবাতকে একত্রিত করেছেন। অর্থাৎ তিনি নিজের সত্তার জন্য সিফাতে কামালিয়া সাব্যস্ত করেছেন এবং নিজেকে সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র ও মুক্ত করেছেন। সুতরাং রসূলগণ আল্লাহর আসমা ওয়াস্ সিফাত ও অন্যান্য বিষয়ে যে সংবাদ নিয়ে এসেছেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের লোকেরা তা থেকে সরে যায় না। কেননা সেটিই হচ্ছে সীরাতুল মুস্তাকীম।
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় সত্তার জন্য আসমা ও সিফাত সাব্যস্ত করতে গিয়ে কুরআনের মধ্যে যেই মূলনীতি বর্ণনা করেছেন, শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া এখানে উহাই বর্ণনা করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথা আসমা এবং সিফাতের বিষয়ে মুমিনদেরও উক্ত মূলনীতির উপর চলা আবশ্যক। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁর সকল নাম ও গুণের ক্ষেত্রে নাফী ও ইছবাতকে একত্রিত করেছেন। অর্থাৎ একদিকে যেমন তিনি নিজের জন্য আসমা এবং সিফাত সাব্যস্ত করেছেন, অন্যদিকে নিজের পবিত্র সত্তা হতে সকল দোষ-ত্রুটিকে নাফী করেছেন।
এ ক্ষেত্রে নাফী অর্থ হচ্ছে, যেসব দোষ-ত্রুটি আল্লাহ তা'আলার কামালিয়াতের পরিপন্থী, তাঁর সত্তা হতে সেগুলো সরিয়ে ফেলা ও দূর করে দেয়া। যেমন তাঁর পবিত্র সত্তার জন্য সমকক্ষ, শরীক, তন্দ্রা-নিদ্রা, মৃত্যু এবং ক্লান্তি ইত্যাদির ধারণা হওয়াকে নাফী করেছেন।
আর ইছবাত হচ্ছে, সিফাতে কামালিয়া তথা সুউচ্চ গুণাবলী এবং বড়ত্বের বৈশিষ্টগুলো আল্লাহ তা'আলার জন্য সাব্যস্ত করা। যেমন সূরা হাশরের ২৩-২৪ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ * هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
"তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই। তিনি ملك (মালিক), قدوس (অতি পবিত্র), سلام (পরিপূর্ণ শান্তিদাতা), مؤمن (নিরাপত্তা দানকারী), مُهيمن (রক্ষক), عزیز (মহাপরাক্রমশালী), جبار (প্রতাপশালী) এবং متکبر (অতী মহিমান্বিত)। তারা যাকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করে আল্লাহ তা'আলা তা থেকে পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, خالق (সৃষ্টিকারী), باري (উদ্ভাবক) এবং مُصوّر (রূপদাতা), তাঁর জন্য রয়েছে অনেক সুন্দরতম নাম। আর তিনিই عزیز (মহাপরাক্রমশালী) ও حکیم (প্রজ্ঞাবান)" (সূরা হাশর ৫৯:২৩-২৪)।
আল্লাহর অতি সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলীর বিষয়ে এমনি আরো অনেক আয়াত রয়েছে, যার বেশ কিছু নমুনা সম্মানিত শাইখ সামনে উল্লেখ করবেন।
"فَلَا عُدُولَ لِأَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ عَمَّا جَاءَ بِهِ الْمُرْسَلُونَ" আল্লাহর আসমা ওয়াস্ সিফাত ও অন্যান্য বিষয়ে যেই সংবাদ নিয়ে এসেছে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের লোকেরা তা থেকে সরে যায় না":
তারা তা থেকে সরে অন্যদিকে ঝুকে পড়ে না এবং তারা তা থেকে বিচ্যুতও হয় না; বরং রসূলদের অনুসরণ করে এবং তাদের নীতির উপরই চলে। আল্লাহ তা'আলার জন্য অতি উত্তম ও সুউচ্চ গুণাবলী সাব্যস্ত করা এবং সমস্ত মন্দ ও অশোভনীয় বৈশিষ্ট্য থেকে তাঁকে মুক্ত ও পবিত্র ঘোষণা করাও রসূলদের আনীত দ্বীনের মধ্যে গণ্য। রসূলগণ উপরোক্ত মহান মূলনীতিটি অর্থাৎ সিফাতে কামালীয়াগুলো আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা এবং অশোভনীয় স্বভাব থেকে আল্লাহকে পবিত্র করার মূলনীতিটি সাব্যস্ত করেছেন। কিন্তু রসূলদের শত্রুরা সেই মূলনীতি থেকে সরে পড়েছে।
فَإِنَّهُ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ কেননা সেটিই হচ্ছে সীরাতে মুস্তাকীম:
আসমা এবং সিফাতের বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের লোকেরা নাবী-রসূলদের পথ থেকে সরে না যাওয়ার কারণ হলো এ ক্ষেত্রে নাবী-রসূলদের পথই হচ্ছে সীরাতুল মুস্তাকীম।
সীরাতুল মুস্তাকীম বলা হয় ঐ সোজা পথকে, যাতে কোন ভিন্নতা ও দলাদলি নেই। সূরা ফাতিহায় এই সীরাতুল মুস্তাকীমের কথাই আল্লাহ তা'আলা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ “হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে সোজা পথ দেখাও” (সূরা ফাতিহা ১:৬)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ "এটিই আমার সঠিক পথ। সুতরাং তোমরা এই সঠিক পথের অনুসরণ করো। অন্যান্য পথে গমন করো না। কারণ সেসব পথ তোমাদেরকে আল্লাহর পথ হতে সরিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেখে (সূরা আন'আম ৬:১৫৩)।
আমরা সলাতের প্রত্যেক রাক'আতে আল্লাহর কাছে এ দু'আ করি, তিনি যেন আমাদেরকে এই সরল ও সোজা পথে পরিচালিত করেন।