📄 সকল রসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন করা
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন:
ثُمَّ رُسُلُهُ صَادِقُونَ مُصَدَّقُونَ بِخِلَافِ الَّذِينَ يَقُولُونَ عَلَيْهِ مَا لَا يَعْلَمُونَ
আল্লাহ তা'আলার রসূলগণ সত্যবাদী এবং সত্যবাদী হিসাবে সমর্থিত। তারা ঐসব লোকদের সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা আল্লাহ সম্পর্কে না জেনেই কথা বলে।
ব্যাখ্যা: শাইখুল ইসলামের এই কথাটি তার পূর্বোক্ত উক্তি: তিনি তাঁর নিজের সম্পর্কে এবং অন্যদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত, এর সাথে সংযুক্ত। صدق (সিদ্ক) সত্য খবর সেই খবরকে বলা হয়, যা বাস্তবের হুবহু অনুরূপ হয়। অর্থাৎ রসূলগণ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে আল্লাহর অতি সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলী এবং অন্যান্য বিষয়ে যেসব খবর দিয়েছেন, তাতে তারা সত্যবাদী।
ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে যে খবর এসেছে, তাতে তারা সত্যায়িত। কেননা তা আল্লাহর নিকট হতে এসেছে। তারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো কথা বলেন না।
আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে তাঁর রসূলদের কাছে যে সংবাদ পৌঁছেছে, শাইখুল ইসলাম উপরোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে উহার সনদকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করেছেন।
আল্লাহ তা'আলা রসূলদের জন্য যা বলেছেন, তা সত্য। আর রসূলগণ সেই সত্যকে সৃষ্টির নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং রসূলগণ আল্লাহর যেসব সিফাত বর্ণনা করেছেন, তা কবুল করে নেয়া আবশ্যক।
রসূলদের কথা ঐসব লোকদের কথার সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা আল্লাহ সম্পর্কে না জেনেই কথা বলে। যারা আল্লাহর শারীয়াত, দ্বীন, তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে বিনা ইলমে কথা বলে, তাদের কথা রসূলদের কথার সম্পূর্ণ বিপরীত। শুধু তাই নয়; বরং তারা কেবল ধারণা ও কল্পনার বশবর্তী হয়েই আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলে অথবা কেবল উহাই বলে, যা তারা শয়তান থেকে সংগ্রহ করে। যেমন বলে থাকে মিথ্যা নবুওয়াতের দাবীদার, বিদ'আতী এবং যিন্দীক (অন্তরে কুফরী লুকায়িত রেখে মুখে ইসলাম প্রকাশকারী), যাদুকর, গণক, জ্যোতিষী, স্বার্থান্বেষী ও নিকৃষ্ট আলেমরা। আল্লাহ তা'আলা সূরা শু'আরায় তাদের পরিচয় উল্লেখ করে বলেন:
﴿هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَى مَن تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينِ * تَنَزَّلُ عَلَى كُلِّ أَفَاكِ أَثِيمٍ * يُلْقُونَ السَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ
"হে লোকেরা! আমি কি তোমাদের জানাবো শয়তানরা কার উপর অবতীর্ণ হয়? তারা প্রত্যেক মিথ্যুক বদকারের উপর অবতীর্ণ হয়। তারা আকাশ থেকে চুরি করে শোনা কথা কানে ঢুকিয়ে দেয় এবং তাদের বেশির ভাগ লোকই মিথ্যুক" (সূরা শু'আরা ২৬:২২১-২২৩)।
আল্লাহ তা'আলা সূরা বাকারায় আরো বলেন:
﴿فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِندِ اللَّهِ
"কাজেই তাদের জন্য ধ্বংস অবধারিত, যারা স্বহস্তে কিতাব লিখে তারপর লোকদের বলে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে (সূরা বাকারা ২:৭৯)।
সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা যেহেতু তাঁর নিজের সম্পর্কে এবং সৃষ্টি সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত, তাঁর কালাম যেহেতু সর্বাধিক সত্য, তাঁর কথা যেহেতু সৃষ্টির কথার চেয়ে অধিক উত্তম, রসূলগণ তাঁর সম্পর্কে যেসব সংবাদ দিয়েছেন, সেসব সংবাদের প্রত্যেকটিতেই যেহেতু তারা সত্যবাদী এবং রসূলদের ও আল্লাহর মাঝে যেই (واسطة) মাধ্যম রয়েছে এবং যে মাধ্যমে রসূলদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে অহী আসে, তা যেহেতু একটি সত্য ও নির্ভুল মাধ্যম, সেটি যেহেতু সম্মানিত ফেরেশতাদের মাধ্যম, তাই আল্লাহ যা বলেছেন এবং তাঁর রসূলগণ আল্লাহর পক্ষ হতে যেসব সংবাদ দিয়েছেন, তার উপর নির্ভর করা ও তা বিশ্বাস করা আবশ্যক। বিশেষ করে আল্লাহর আসমা এবং সিফাতের বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করতে হবে এবং যা নিজের সত্তা হতে সরিয়ে রেখেছেন ও দূর করে দিয়েছেন, তা সরিয়ে ফেলতে হবে। সেই সাথে বিদ'আতী লোকেরা রূপক অর্থের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে আল্লাহর যেসব আসমা ওয়াস সিফাতকে অস্বীকার করেছে, তাদের মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। রসূলগণ আল্লাহর আসমা এবং সিফাতের বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ হতে যেই সংবাদ নিয়ে এসেছেন, বিদ'আতীরা তা থেকে বিমুখ হয়েছে এবং সেগুলোকে অস্বীকার করেছে। এ ক্ষেত্রে তারা নিজেদের প্রবৃত্তির উপর নির্ভর করেছে কিংবা এমন লোকদের অন্ধ অনুসরণ করেছে, যারা গোমরাহীতে লিপ্ত হওয়ার কারণে আদর্শ ও অনুসরণীয় হওয়ার অযোগ্য।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: وَ لِهَذَا قَالَ الله تعالى سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴾ فَسَبَّحَ نَفْسَهُ عَمَّا وَصَفَهُ بِهِ الْمُخَالِفُونَ لِلرُّسُلِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمُرْسَلِينَ ؛ لِسَلَامَةِ مَا قَالُوهُ مِنَ النَّقْصِ وَالْعَيْبِ
এই কারণেই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "কাফের-মুশরিকরা তোমার রব সম্পর্কে যেসব কথা তৈরি করেছে তা থেকে তোমার রব পবিত্র, তিনি ক্ষমতা ও মর্যাদার অধিকারী। আর সালাম আল্লাহর রসূলদের প্রতি এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্যই” (সূরা সাফফাত: ১৮০-১৮২)।
সুতরাং নাবী-রসূলদের বিরুদ্ধাচরণকারীরা আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে যেসব অশোভনীয় কথা বলেছে, তা থেকে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন। সেই সাথে রসূলদের উপরও তিনি সালাম পেশ করেছেন। কারণ তারা আল্লাহর যেসব গুণাবলী বর্ণনা করেছেন, সেগুলো সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত ও পবিত্র ছিল।
ব্যাখ্যা: শাইখুল ইসলামের কথা: فهذا )এই কারণেই....) -এতে তিনি তাঁর পূর্বের কথার কারণ বর্ণনা করেছেন। কারণ তিনি সেখানে বলেছেন আল্লাহর কালাম এবং রসূলদের কথা সর্বাধিক সত্য ও সর্বোত্তম।
سُبْحَان : সুবহান শব্দটি غُفْرَان শব্দের ন্যায় একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)। বাবে তাফ-ঈলের মাসদার التسبيح থেকে এটিকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে সকল দোষ-ত্রুটি হতে আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
رَبُّكَ তোমার রব: যিনি রহমত ও নেয়ামাত দ্বারা তাঁর সৃষ্টিকে প্রতিপালন করেন এবং যিনি সৃষ্টির একমাত্র মালিক ও প্রভু, তিনিই হলেন রব।
رَبُّ الْعِزَّةِ রাব্বুল ইয্যাত: রাব্বুল ইয্যাত অর্থ হচ্ছে ক্ষমতাবান, মর্যাদাবান এবং প্রতাপশালী। এখানে মাওসুফকে (রবকে) সিফাতের দিকে ইযাফত (সম্বোধিত) করা হয়েছে। মূল বাক্যটি এ রকম ছিল: الرب العزيز প্রবল ক্ষমতাধর প্রভু।
يَصِفُونَ তারা আল্লাহর সাথে যেসব ওয়াসফ্ট (দোষ) যুক্ত করে: অর্থাৎ নাবী-রসূলদের বিরোধীরা আল্লাহর সাথে এমনসব দোষ-ত্রুটি যুক্ত করে, যা তাঁর বড়ত্বের জন্য অশোভনীয়।
وَسَلامٌ সালাম: কেউ কেউ বলেছেন سلام )সালাম) শব্দটি السلام থেকে নেওয়া হয়েছে, যা ইসলামের সম্ভাষণ অর্থে ব্যবহৃত। আবার কেউ বলেছেন سلام শব্দটি সালামাত তথা السلامة من النقص والعيب থেকে নেওয়া হয়েছে, যা অপছন্দনীয় বস্তু ও দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
عَلَى الْمُرْسَلِينَ রসূলগণের উপর: তারাই রসূল, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করেছেন। তারা তাদের রবের রিসালাত সৃষ্টির নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছে। المرسلون শব্দটি مرسل এর বহুবচন। নাবী ও রসূলের সংজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করার সময় উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
الْعَالَمِينَ সৃষ্টিজগৎ: عالم এর বহুবচন হচ্ছে الْعَالَمِينَ। আল্লাহ ছাড়া বাকী সবই সৃষ্টিজগতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
উপরের আয়াত তিনটির সংক্ষিপ্ত অর্থ: শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া তাঁর উক্তি: فسبح بنفسه..الخ দ্বারা আয়াতের সংক্ষিপ্ত অর্থ বর্ণনা করেছেন।
উপরোক্ত আয়াতসমূহে যেসব শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে:
(১) গোমরাহ ও অজ্ঞ লোকেরা আল্লাহ তা'আলার মর্যাদা ও বড়ত্বের জন্য অশোভনীয় যেসব দোষ-ত্রুটি যুক্ত করে, তা থেকে আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা বর্ণনা করা।
(২) উপরোক্ত আয়াতসমূহ দ্বারা রসূলদের সত্যতা প্রমাণিত হয়। আল্লাহর পক্ষ হতে তারা যা নিয়ে এসেছে এবং আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে তারা যে সংবাদ দিয়েছে, তা কবুল করে নেওয়া আবশ্যক।
(৩) রসূলদের উপর সালাম ও সলাত (দরুদ) পেশ করা এবং তাদেরকে সম্মান করা ইসলামী শারীয়াতের অন্তর্ভূক্ত।
(৪) রসূলগণ আল্লাহর নিকট থেকে যা নিয়ে এসেছেন, তার বিরোধী প্রত্যেক বিষয় প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব। বিশেষ করে আল্লাহর আসমা ওয়াস সিফাতের ব্যাপারে রসূলগণ যে সংবাদ দিয়েছেন, তার বিরোধী হয় এমন প্রত্যেক কথার প্রতিবাদ করা জরুরী।
(৫) আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনা করা এবং তাঁর নেয়ামাতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক। তাওহীদ হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামাত সমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ নেয়ামাত।
📄 আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলার সুউচ্চ গুণাবলী ও বড়ত্বের বৈশিষ্ট্য এবং নিজেকে যে সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র ও মুক্ত করেছেন তার বর্ণনা
অতঃপর শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন:
وَهُوَ سُبْحَانَهُ قَدْ جَمَعَ فِيمَا وَصَفَ وَسَمَّى بِهِ نَفْسَهُ بَيْنَ النَّفْيِ وَالْإِثْبَاتِ فَلَا عُدُولَ لِأَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ عَمَّا جَاءَ بِهِ الْمُرْسَلُونَ فَإِنَّهُ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ
আল্লাহ তা'আলা নিজেকে যেসব সুউচ্চ গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং তিনি নিজেকে যে সুন্দর নামে নামকরণ করেছেন, তাতে তিনি নাফী এবং ইছবাতকে একত্রিত করেছেন। অর্থাৎ তিনি নিজের সত্তার জন্য সিফাতে কামালিয়া সাব্যস্ত করেছেন এবং নিজেকে সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র ও মুক্ত করেছেন। সুতরাং রসূলগণ আল্লাহর আসমা ওয়াস্ সিফাত ও অন্যান্য বিষয়ে যে সংবাদ নিয়ে এসেছেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের লোকেরা তা থেকে সরে যায় না। কেননা সেটিই হচ্ছে সীরাতুল মুস্তাকীম।
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় সত্তার জন্য আসমা ও সিফাত সাব্যস্ত করতে গিয়ে কুরআনের মধ্যে যেই মূলনীতি বর্ণনা করেছেন, শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া এখানে উহাই বর্ণনা করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথা আসমা এবং সিফাতের বিষয়ে মুমিনদেরও উক্ত মূলনীতির উপর চলা আবশ্যক। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁর সকল নাম ও গুণের ক্ষেত্রে নাফী ও ইছবাতকে একত্রিত করেছেন। অর্থাৎ একদিকে যেমন তিনি নিজের জন্য আসমা এবং সিফাত সাব্যস্ত করেছেন, অন্যদিকে নিজের পবিত্র সত্তা হতে সকল দোষ-ত্রুটিকে নাফী করেছেন।
এ ক্ষেত্রে নাফী অর্থ হচ্ছে, যেসব দোষ-ত্রুটি আল্লাহ তা'আলার কামালিয়াতের পরিপন্থী, তাঁর সত্তা হতে সেগুলো সরিয়ে ফেলা ও দূর করে দেয়া। যেমন তাঁর পবিত্র সত্তার জন্য সমকক্ষ, শরীক, তন্দ্রা-নিদ্রা, মৃত্যু এবং ক্লান্তি ইত্যাদির ধারণা হওয়াকে নাফী করেছেন।
আর ইছবাত হচ্ছে, সিফাতে কামালিয়া তথা সুউচ্চ গুণাবলী এবং বড়ত্বের বৈশিষ্টগুলো আল্লাহ তা'আলার জন্য সাব্যস্ত করা। যেমন সূরা হাশরের ২৩-২৪ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ * هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
"তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই। তিনি ملك (মালিক), قدوس (অতি পবিত্র), سلام (পরিপূর্ণ শান্তিদাতা), مؤمن (নিরাপত্তা দানকারী), مُهيمن (রক্ষক), عزیز (মহাপরাক্রমশালী), جبار (প্রতাপশালী) এবং متکبر (অতী মহিমান্বিত)। তারা যাকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করে আল্লাহ তা'আলা তা থেকে পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, خالق (সৃষ্টিকারী), باري (উদ্ভাবক) এবং مُصوّر (রূপদাতা), তাঁর জন্য রয়েছে অনেক সুন্দরতম নাম। আর তিনিই عزیز (মহাপরাক্রমশালী) ও حکیم (প্রজ্ঞাবান)" (সূরা হাশর ৫৯:২৩-২৪)।
আল্লাহর অতি সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলীর বিষয়ে এমনি আরো অনেক আয়াত রয়েছে, যার বেশ কিছু নমুনা সম্মানিত শাইখ সামনে উল্লেখ করবেন।
"فَلَا عُدُولَ لِأَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ عَمَّا جَاءَ بِهِ الْمُرْسَلُونَ" আল্লাহর আসমা ওয়াস্ সিফাত ও অন্যান্য বিষয়ে যেই সংবাদ নিয়ে এসেছে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের লোকেরা তা থেকে সরে যায় না":
তারা তা থেকে সরে অন্যদিকে ঝুকে পড়ে না এবং তারা তা থেকে বিচ্যুতও হয় না; বরং রসূলদের অনুসরণ করে এবং তাদের নীতির উপরই চলে। আল্লাহ তা'আলার জন্য অতি উত্তম ও সুউচ্চ গুণাবলী সাব্যস্ত করা এবং সমস্ত মন্দ ও অশোভনীয় বৈশিষ্ট্য থেকে তাঁকে মুক্ত ও পবিত্র ঘোষণা করাও রসূলদের আনীত দ্বীনের মধ্যে গণ্য। রসূলগণ উপরোক্ত মহান মূলনীতিটি অর্থাৎ সিফাতে কামালীয়াগুলো আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা এবং অশোভনীয় স্বভাব থেকে আল্লাহকে পবিত্র করার মূলনীতিটি সাব্যস্ত করেছেন। কিন্তু রসূলদের শত্রুরা সেই মূলনীতি থেকে সরে পড়েছে।
فَإِنَّهُ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ কেননা সেটিই হচ্ছে সীরাতে মুস্তাকীম:
আসমা এবং সিফাতের বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের লোকেরা নাবী-রসূলদের পথ থেকে সরে না যাওয়ার কারণ হলো এ ক্ষেত্রে নাবী-রসূলদের পথই হচ্ছে সীরাতুল মুস্তাকীম।
সীরাতুল মুস্তাকীম বলা হয় ঐ সোজা পথকে, যাতে কোন ভিন্নতা ও দলাদলি নেই। সূরা ফাতিহায় এই সীরাতুল মুস্তাকীমের কথাই আল্লাহ তা'আলা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ “হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে সোজা পথ দেখাও” (সূরা ফাতিহা ১:৬)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ "এটিই আমার সঠিক পথ। সুতরাং তোমরা এই সঠিক পথের অনুসরণ করো। অন্যান্য পথে গমন করো না। কারণ সেসব পথ তোমাদেরকে আল্লাহর পথ হতে সরিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেখে (সূরা আন'আম ৬:১৫৩)।
আমরা সলাতের প্রত্যেক রাক'আতে আল্লাহর কাছে এ দু'আ করি, তিনি যেন আমাদেরকে এই সরল ও সোজা পথে পরিচালিত করেন।