📄 শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়ার প্রাথমিক খুতবা
ভূমিকা শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন:
الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله وكفى بالله شهيدا وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إقرارا به وتوحيدا وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما مزيدا
“সেই আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা, যিনি তাঁর রসূলকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। যেন তাকে সমস্ত দ্বীনের উপর বিজয়ী করেন। আর এ সম্পর্কে আল্লাহর সাক্ষ্যই যথেষ্ট। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য মাবুদ নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। আমি তাওহীদের এই স্বীকৃতি প্রদান করছি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি।
আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহ তা'আলার বান্দা এবং তাঁর রসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সাহাবীদের উপর অপরিমিত সালাত ও শান্তির ধারা বর্ষণ করুন।
ব্যাখ্যা: শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া º এই মূল্যবান কিতাবটি আল্লাহর প্রশংসা, তাওহীদ, রেসালাতের সাক্ষ্য এবং রসূল ﷺ উপর সালাত ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে শুরু করেছেন।
এর মাধ্যমে তিনি রসূল ﷺ সুন্নাতের অনুসরণ করেছেন। কেননা রসূল ﷺ তাঁর সকল আলোচনা ও ভাষণ আল্লাহর প্রশংসা, তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য এবং তাঁর নিজের প্রতি সলাত ও সালাম পেশ করার মাধ্যমেই শুরু করতেন। সেই সাথে শাইখুল ইসলাম নাবী ﷺ ঐ হাদীসের উপরও আমল করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:
كُلُّ أَمْرِ ذِي بَالِ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِحَمْدِ اللَّهِ، فَهُوَ أَقْطَعُ »
"প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ যেই কাজ আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা দিয়ে শুরু করা হয় না, তা বরকতশূণ্য।
ইমাম আবু দাউদ এবং অন্যান্য ইমামগণ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।১
অন্য বর্ণনায় আল্লাহর প্রশংসার স্থলে বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম এসেছে।২
أقطع শব্দের অর্থ হচ্ছে বরকতশূণ্য হওয়া ও বরকত থেকে খালী হওয়া। হাদীসের এই উভয় বর্ণনাকে এইভাবে একত্রিত করা যেতে পারে যে, বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হচ্ছে হাকীকী। আর আল-হামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হচ্ছে নিসবী ইযাফী।৩
الحمد لله: এখানে আলিফ লাম ইস্তেগরাক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ সকল প্রশংসার একমাত্র মালিক এবং হকদার হচ্ছেন আল্লাহ তা'আলা।
الحمد প্রশংসা: শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, উত্তম গুণাবলী ও ভাল কর্মের প্রশংসা করা। আর ইসলামের পরিভাষায় হামদ এমন কাজের নাম, যার মাধ্যমে নিয়ামত প্রদানকারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ঘোষণা করে। এটি ০১ (নিন্দার) বিপরীত অর্থবোধক শব্দ।
لله আল্লাহ: একটু পূর্বে আল্লাহর সম্মানিত এই নামের ব্যাখ্যা সংক্ষিপ্তভাবে অতিক্রান্ত হয়েছে।
الذي أرسل رسوله যিনি তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন: অগণিত নেয়ামতের কারণে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করা আবশ্যক। আমাদেরকে আল্লাহ তা'আলা যত নেয়ামত দিয়েছেন, তার মধ্যে সর্বাধিক বড় নেয়ামত হচ্ছে তিনি তাঁর রসূল মুহাম্মাদ আমাদের জন্য প্রেরণ করেছেন।
الرسول রসূল: আভিধানিক অর্থে রসূল এমন পুরুষ ব্যক্তিকে বলা হয়, যাকে রিসালাত তথা বার্তাসহ পাঠানো হয়। আর ইসলামী শারীয়াতের পরিভাষায় এমন পুরুষকে রসূল বলা হয়, যার প্রতি কোন একটি আসমানী শারীয়াতের অহী পাঠানো হয়েছে এবং তাকে সেই শারীয়াতের তাবলীগ করার আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
الهدى হেদায়াত: হেদায়াত হচ্ছে উপকারী ইলম। আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হতে নাবী যেসব সত্য খবর, কল্যাণকর আদেশ-নিষেধ এবং অন্যান্য উপকারী বিধানমালা নিয়ে এসেছেন, তার সবগুলোই হেদায়াতের মধ্যে শামিল।
হেদায়াতের প্রকারভেদ: হেদায়াত শব্দটি দেখিয়ে দেয়া ও বর্ণনা করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই অর্থেই আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴿وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَى عَلَى الْهُدَى ﴾ "আর আমি সামূদ জাতির সামনে হেদায়াত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা পথ দেখার চেয়ে অন্ধ হয়ে থাকা পছন্দ করলো" (সূরা হামীম সাজদাহ ৪১:১৭)। সুতরাং এই কাজ অর্থাৎ সঠিক রাস্তা দেখানো রসূলদের কাজ। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴿وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ निश्चयই তুমি সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করো”। (সূরা শুরা ৪২:৫২)
হেদায়াতের দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে সঠিক পথ কবুল করার তাওফীক দেয়া এবং ইলহাম করা। এটি কোন রসূল করতে পারেন না। বরং আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কেউ এটি করতে সক্ষমও নয়। নিম্নের আয়াতে এই প্রকার হেদায়াতের বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴿إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ ﴾ "হে নাবী! তুমি যাকে চাও তাকে হেদায়াত দান করতে পারবে না; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়াত করেন (সূরা কাসাস: ৫৬)।
دین الحق সত্য দ্বীন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে সৎ আমল। দ্বীন শব্দটি কখনো সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়; কিন্তু এর দ্বারা প্রতিদান ও বিনিময় উদ্দেশ্য হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ "প্রতিদান দিবসের মালিক" (সূরা ফাতিহা ১:৪)।
আবার কখনো সাধারণভাবে ব্যবহৃত হলেও এর দ্বারা ইবাদাত করা (বশ্যতা স্বীকার ও নত হওয়া) উদ্দেশ্য হয়। দ্বীনকে হকের দিকে সম্বোধিত করা মাওসুফকে সিফাতের দিকে এযাফতের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ মূলতঃ الدين الحق ছিল। الحق শব্দটি حق يحق -এর মাসদার। এর অর্থ সুসাব্যস্ত হয়েছে, সত্যে পরিণত হয়েছে, আবশ্যক হয়েছে। হকের বিপরীত হচ্ছে বাতিল।
لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ যাতে তিনি সকল দ্বীনের উপর সত্য দ্বীনকে বিজয়ী করেন: অর্থাৎ যাতে আল্লাহ তা'আলা দলীল-প্রমাণ, সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং জিহাদের মাধ্যমে এই দ্বীনকে সকল দ্বীনের উপর সমুন্নত করেন এবং পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্য হতে যারা এই দ্বীনের বিরোধীতা করবে, তাদের উপর তিনি এই দ্বীনকে বিজয়ী করবেন। চাই তারা আরব হোক কিংবা অনারব হোক অথবা অন্য কোন দ্বীনের অনুসারী হোক। আল্লাহর এই ওয়াদা বাস্তবায়ন হয়েছে। মুসলিমগণ আল্লাহর রাস্তায় উত্তমভাবে জিহাদ করেছেন। এতে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বিজয় দান করেছেন। এর মাধ্যমে ইসলামী সাম্রাজ্যের সীমানা সুপ্রশস্ত হয়েছে। পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিমসহ সকল দিকেই এই দ্বীন ছড়িয়ে পড়েছে।
وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا সাক্ষ্য হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট: অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তাঁর রসূলকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। আল্লাহই এর সাক্ষী। তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। তিনি তাঁর রসূলের সকল অবস্থা ও কর্ম সম্পর্কে অবগত এবং শত্রুদের মোকাবেলায় তিনি তার সাহায্যকারী। আল্লাহ তাঁর রসূলকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর দাওয়াতকে শক্তিশালী করে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এতে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মুহাম্মাদ ছিলেন আল্লাহর সত্য রসূল। তিনি যদি মিথ্যুক হতেন, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে পৃথিবীতেই তাড়াতাড়ি কঠিন শাস্তি দিতেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيل * لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ * ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ
"যদি এ নাবী নিজে কোন কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিতো তাহলে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম”। (সূরা আল হাক্কাহ ৬৯:৪৪-৪৬)
وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য মাবুদ নেই: অর্থাৎ আমি অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করার পর জবান দিয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য মাবুদ নেই।
وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই: 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য প্রদানের মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক যে অর্থ রয়েছে, এই শব্দ দু'টির মধ্যে তারই তাগীদ (গুরুত্ব) রয়েছে। অর্থাৎ وَحْدَهُ لَا شَريكَ لَهُ -এর মাধ্যমে তাওহীদের সাক্ষ্য প্রদানের মর্মার্থকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য সকল মাবুদ হতে উলুহীয়াতকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে সাব্যস্ত করা হয়েছে। সুতরাং وحده )তিনি এক) এটি হচ্ছে ইছবাত তথা ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর জন্যই, এই কথার তাগীদ। لا شريك له তাঁর কোন শরীক নেই, এটি হচ্ছে নাফীর জন্য তাগীদ স্বরূপ।
إِقْرَارًا بِهِ وَتَوْحِيدًا এ শব্দ দু'টি হলো মাসদার। এ দু'টি শব্দ পূর্বোক্ত তাওহীদের সাক্ষ্য وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ -এর মর্মার্থকে শক্তিশালী করেছে।
অর্থাৎ আমি জবানের মাধ্যমে বলিষ্ঠ ভাষায় তাওহীদের স্বীকারোক্তি প্রদান করছি এবং আমার প্রতিটি ইবাদাতকে আল্লাহর জন্য খালেস (আন্তরিকতার সাথে) করছি। চাই সে ইবাদাত মুখের কথার মাধ্যমে হোক কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের মাধ্যমে হোক অথবা অন্তরের বিশ্বাসের মাধ্যমে হোক।
وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল:
অর্থাৎ আমি অন্তর দ্বারা বিশ্বাস করছি এবং জবানের মাধ্যমে স্বীকার করছি যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দা মুহাম্মাদ ﷺ সমস্ত মানুষের নিকট রসূল হিসাবে প্রেরণ করেছেন। রসূলের রেসালাতের এই সাক্ষ্যকে আল্লাহ তা'আলার তাওহীদের সাক্ষ্য প্রদানের সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করেছেন। এ দু'টি সাক্ষ্য প্রদানের একটি অন্যটির পক্ষ হতে যথেষ্ট নয়। মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল, এই কথার দ্বারা আহলে ইফরাত তথা রসূলকে নিয়ে বাড়াবাড়িতে লিপ্তদের প্রতিবাদ করা হয়েছে। সেই সাথে আহলে তাফরীত অর্থাৎ রসূল ﷺ দ্বীনকে প্রত্যাখ্যান কারীদের এবং তা থেকে যারা এমনভাবে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে, যাতে মনে হয় তিনি আল্লাহর রসূলই নন, এর মাধ্যমে তাদেরও প্রতিবাদ করা হয়েছে। সুতরাং তিনি আল্লাহর বান্দা, এই সাক্ষ্য তাঁকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করাকে এবং তাঁর নিজস্ব মর্যাদার উপরে উঠানোকে অস্বীকার করেছে।
মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর রসূল, এই সাক্ষ্য দেয়ার দাবী হচ্ছে, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করা, তিনি যে আদেশ করেছেন, তাতে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যেই সংবাদ দিয়েছেন তা সত্যায়ন করা, তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর পক্ষ হতে তিনি যেই শারীয়ত নিয়ে এসেছেন, তাতে কেবল তাঁরই অনুসরণ করা।
صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليما مزيدًا পরিবার এবং সাহাবীদের উপর অপরিমিত শান্তির ধারা বর্ষণ করুন: সলাত শব্দের আভিধানিক অর্থ দু'আ। আল্লাহর পক্ষ হতে রসূল ﷺ এর উপর সলাত পেশ করার অর্থ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো, যা ইমাম বুখারী আবুল আলীয়া হতে স্বীয় সহীতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ তা'আলা তাঁর রসূল ﷺ এর উপর দুরূদ পেশ করেন, এর অর্থ হলো আল্লাহ তা'আলা নৈকট্যশীল ফেরেশতাদের কাছে রসূলের প্রশংসা করেন।
وعلى آله তাঁর পরিবারের উপর: কোন ব্যক্তির 'আল' বলতে ঐ সমস্ত লোককে বুঝানো হয়, যারা তার সাথে আত্মীয়তার মজবুত বন্ধনে বা অন্য কোন গভীর সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। রসূল ﷺ এর'আল' দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? এ বিষয়ে একাধিক মত রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম মত হচ্ছে, এখানে 'আল' দ্বারা ঐ সমস্ত লোক উদ্দেশ্য, যারা দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করে।
وأصحابه এবং তাঁর সাহাবীগণের উপর: أصحاب শব্দটি صاحب শব্দের বহুবচন। অর্থাৎ সাহাবীগণ। এখানে আমের (ব্যাপকার্থবোধক শব্দের) উপর খাসকে (নির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দকে) আতফ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথমে 'আল' উল্লেখ করা হয়েছে। 'আলে'র মধ্যে রসূল ﷺ এর সাহাবী এবং পরবর্তীতে যারা আগমন করবে ও তাঁর দ্বীন পালন করবে তারাও শামিল।
যেই মুসলিম ঈমানদার অবস্থায় নাবী ﷺ কে দেখেছেন এবং ঈমানদার অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন, তিনিই হলেন সাহাবী।
وسلم تسليمًا مزيدًا আল্লাহ তা'আলা তাঁর নাবীর উপর অগণিত সালাম বর্ষণ করুন: سلام (সালাম) শব্দটি ইসলামের অভিবাদন, সম্মান, শ্রদ্ধা এবং শুভেচ্ছা প্রদান অর্থে ব্যবহৃত হয়। অথবা সালাম অর্থ মুক্ত ও নিরাপদ হওয়া। অর্থাৎ সকল ত্রুটি ও মন্দ স্বভাব থেকে মুক্ত হওয়া। مزيدا শব্দটি زيادة ক্রিয়ামূল হতে ইসমে মাফউল। 'যিয়াদাহ' অর্থ হচ্ছে বৃদ্ধি হওয়া। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا )
"আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নাবীর প্রতি সলাত পেশ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সলাত ও সালাম পাঠাও (সূরা আহযাব ৩৩:৫৬)।" ৪ আল্লাহ তা'আলার এ বাণীর অনুসরণ করতে গিয়ে শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া এখানে সলাত ও সালামকে একসাথে উল্লেখ করেছেন।
টিকাঃ
১. তবে হাদীসের সনদ দুর্বল। দেখুন: সুনানে আবু দাউদ ৪৮৪০।
২. তবে হাদীসের সনদ খুবই দুর্বল। দেখুন: ইরওয়াউল গালীল ১।
৩. কিতাব লিখার শুরুতে সর্বপ্রথম যা দিয়ে শুরু করা হয় এবং যার পূর্বে অন্য কিছু থাকে না তাকে ইবতেদায়ে হাকীকী প্রকৃত প্রথম বা শুরু বলা হয়। আর যার পূর্বে অন্য কিছু থাকে, তাকে ইবতেদায়ে নিসবী ইযাফী বা তুলনামূলক প্রথম বা শুরু বলা হয়।
৪. আভিধানিক দিক থেকে সলাত শব্দটি দু'আ অর্থে ব্যবহৃত হলেও ব্যবহারের স্থান অনুযায়ী সলাতের বিভিন্ন অর্থ রয়েছে। আল্লাহর পক্ষ হতে নাবী-রসূল কিংবা সৎ বান্দাদের প্রতি সলাত অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের নিকট তাঁর নাবীর ও সৎবান্দাদের প্রশংসা করেন, তাদের নাম বুলন্দ করেন, তাদের কাজে বরকত দেন এবং তাদের প্রতি নিজের রহমত বর্ষণ করেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন: هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ لِيُخْرِجَكُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا
"তিনিই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারা তোমাদের জন্য দু'আ করেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর মধ্যে নিয়ে আসেন, তিনি মুমিনদের প্রতি বড়ই মেহেরবান" (সূরা আহযাব ৩৩:৪৩)।
সলাত শব্দটি ফেরেশতাদের পক্ষ হতে আল্লাহর নাবীর জন্য ব্যবহৃত হলে অর্থ হবে তারা আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য দু'আ করেন। আল্লাহ যেন তাকে সর্বাধিক উচ্চ মর্যাদা দান করেন, তার শারীয়াতকে প্রসার ও বিস্তৃতি দান করেন এবং একমাত্র তাকে মাকামে মাহমুদ তথা সর্বোচ্চ প্রশংসিত স্থানে পৌঁছিয়ে দেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন: إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
"আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ নাবীর প্রতি দুরূদ পাঠান। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দুরূদ ও সালাম পাঠাও” (সূরা আহযাব: ৫৬)।
আর ফেরেশতাদের পক্ষ হতে সাধারণ মুমিনদের জন্য যখন সলাত শব্দটি ব্যবহৃত হবে, তখনও এর দ্বারা মুমিনদের জন্য ফেরেশতাদের দু'আ ও মাগফিরাত কামনা উদ্দেশ্য।
আর সলাত শব্দটি যদি এক মুমিনের পক্ষ হতে অন্য মুমিনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তখনও এর দ্বারা দু'আ উদ্দেশ্য হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنَّ لَّهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
"হে নাবী! তাদের ধন-সম্পদ থেকে যাকাত নিয়ে তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করো এবং তাদের জন্য রহমতের দু'আ করো। তোমার দু'আ তাদের সান্তনার কারণ হবে। আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও জানেন" (সূরা তাওবা: ১০৩)।
আর সলাত শব্দটি যখন বান্দার পক্ষ হতে আল্লাহর জন্য ব্যবহৃত হবে তখন এর দ্বারা মুসলিমদের নিকট পরিচিত সেই ইবাদাত উদ্দেশ্য হবে, যা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট নিয়মে কতিপয় কাজ ও কথার মাধ্যমে সম্পদিত হয়। এর শুরু তাকবীরে তাহরীমাহ দ্বারা এবং শেষ হয়। সালামের দ্বারা। আল্লাহ তা'আলা বলেন فَصَلِّ يُربِّكَ والحر "কাজেই তুমি নিজের রবের জন্যই সলাت সম্পাদন করো এবং তাঁর জন্যই কুরবানী করো” (সূরা কাওছার: ২)।
📄 ফিরক্বাতুন নাজিয়াহ বা মুক্তিপ্রাপ্ত দল
অতঃপর শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: أَمَّا بَعْدُ فَهَذَا اعْتِقَادُ الْفِرْقَةِ النَّاحِيَةِ الْمَنْصُورَةِ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ
অতঃপর এই হচ্ছে কিয়ামাত পর্যন্ত আগমনকারী মানুষদের মধ্য হতে নাজাত ও সাহায্য প্রাপ্ত দল
ব্যাখ্যা: বাক্যের এক রীতি থেকে অন্য রীতিতে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় আরবী ভাষায় أما بعد ব্যবহার করা হয়। ভাষণ দেয়ার সময় এবং চিঠি লিখার সময় রসূল এর সুন্নাতের অনুসরণ করে أما بعد ব্যবহার করা সুন্নাত। নাবী খুতবা দেয়া এবং চিঠি লিখার সময় 'আম্মা বা'দ' ব্যবহার করতেন।
এই কিতাবটি সংক্ষিপ্তভাবে ইসলামী আক্বীদা ও ঈমানের যেসব বিষয়কে শামিল করেছে, শাইখুল ইসলাম ইসমে ইশারার মাধ্যমে সে দিকেই ইংগিত করেছেন। শাইখুল ইসলাম هو الإيمان بالله..... الخ দ্বারা আক্বীদার বিষয়গুলোর বর্ণনা শুরু করেছেন।
اعتقاد শব্দটি বাবে ইফতিআলের মাসদার (ক্রিয়ামূল)। বলা হয় اعتقد کذا সে এ রকম আক্বীদা গ্রহণ করেছে। ইহা ঠিক ঐ সময়ই বলা হয়, যখন কেউ কোন বিষয়কে তার নিজের আক্বীদা হিসাবে গ্রহণ করে। আর যে বিষয়ের সাথে মানুষ তার অন্তরের বন্ধন তৈরী করে উহাকে আক্বীদা বলা হয়। যেমন আপনি বলে থাকেন اعتقدت عليه القلب والضمير "আমি এই বিশ্বাসের উপর অন্তর-মনকে বেধে দিয়েছি। আক্বীদা শব্দটি আরবদের কথা عقد الحبل إذا ربطه থেকে নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখল। এই কথা ঠিক ঐ সময় বলা হয়, যখন সে কোন জিনিসকে রশি দিয়ে বেধে রাখে। অতঃপর এই শব্দটি অন্তরের বিশ্বাস ও সুদৃঢ় সংকল্পের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
ফিকাহ অর্থ হচ্ছে দল ও জামা'আত। নাজী ফির্কা ঐ জামা'আতকে বলা হয়, যারা দুনিয়া ও আখেরাতে ধ্বংস ও অকল্যাণ থেকে রেহাই পাবে। তাদের বৈশিষ্ট্য রসূল ﷺ এর এই হাদীস থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন:
وَلَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ عَزَّ وَجَل
"আমার উম্মাতের একটি দল সব সময় হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যে সমস্ত লোক তাদেরকে পরিত্যাগ করবে তারা কিয়ামাত পর্যন্ত সেই দলটির কোন ক্ষতি করতে পারবে না”।৫
المنصورة সাহায্যপ্রাপ্ত: অর্থাৎ তারা কিয়ামাত পর্যন্ত তাদের বিরোধীদের উপর আল্লাহর সাহায্য ও মদদ পেয়ে শক্তিশালী থাকবে। এখানে 'কিয়ামাত পর্যন্ত' কথাটির মর্ম হচ্ছে কিয়ামাতের আগে যেই বাতাস এসে প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির রূহ কবয করবে, সেই বাতাস থেকে উদ্দেশ্য হল এ বাতাসই হবে সেই সময়ের মুমিনদের জন্য কিয়ামাত স্বরূপ।
আর যেই কিয়ামাতের দিন দুনিয়ার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে, তা কেবল নিকৃষ্টতম লোকদের উপরই কায়েম হবে। যেমন সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, নাবী বলেন:
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ اللَّهُ اللَّهُ যতদিন পৃথিবীতে আল্লাহ আল্লাহ বলা হবে, ততদিন কিয়ামত হবে না।৬
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ হাকিম আব্দুল্লাহ ইবনে আমর হতে বর্ণনা করেন যে, রসূল বলেছেন:
يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا كَرِيحِ الْمِسْكِ مَسُّهَا مَسَّ الْحَرِيرِ ، فَلَا تَتْرُكُ نَفْسًا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنَ الْإِيمَانِ إِلَّا قَبَضَتْهُ ، ثُمَّ يَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ عَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ "কিয়ামাতের পূর্বে আল্লাহ তা'আলা সুন্দর একটি বাতাস প্রেরণ করবেন। এই বাতাসের সুঘ্রাণ হবে কস্তুরীর সুঘ্রাণের মত এবং রেশমের মত নরম। সেদিন যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে সেও এই বাতাসের কারণে মৃত্যু বরণ করবে। এরপর কেবল খারাপ লোকেরাই বেঁচে থাকবে। এই নিকৃষ্ট লোকদের উপরই কিয়ামাত প্রতিষ্ঠিত হবে।'৭
টিকাঃ
৫. সহীহ বুখারী ৩৬৪১, সহীহ মুসলিম ১৯২০, তিরমিযী ২২২৯, আবুদাউদ ৪২৫২, ইবনে মাজাহ ৩৯৫২, মুসনাদে আহমাদ।
৬. সহীহ মুসলিম ১৪৮, অধ্যায়: কিতাবুল ফিতান, তিরমিযী ২২০৭, মুসনাদে আহমাদ।
৭. সহীহ মুসলিম ১৯২৪।
📄 আহ্লুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মূলনীতি হচ্ছে রসূলগণ আক্বীদা ও অন্যান্য বিষয়ে যা নিয়ে এসেছেন তাই সঠিক পথ।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: صِرَاطُ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصَّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
"ঐ সব লোকের পথ, যাদের উপর আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ করেছেন। তারা হলেন নাবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ”।
ব্যাখ্যা: আক্বীদা এবং অন্যান্য বিষয়ে নাবী-রসূলগণ আল্লাহর পক্ষ হতে যা নিয়ে এসেছে এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের লোকেরা যে পথে চলেছে, তাই হচ্ছে সীরাতুল মুস্তাকীম। এটিই হচ্ছে সেই সব লোকের পথ, যাদের উপর আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ করেছেন। তিনি তাদেরকে সর্বপ্রকার নেয়ামত পূর্ণরূপে দান করেছেন, যা তাদেরকে চিরকাল সুখ ও সৌভাগ্যের মধ্যে রাখবে। এই নিয়ামাতপ্রাপ্ত লোকেরাই ঐ সব লোক, যাদের পথ দেখানোর জন্য আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তাঁর কাছে দু'আ করার আদেশ দিয়েছেন। সুতরাং এই চার প্রকার লোকেরাই আল্লাহর সর্বপ্রকার ও পূর্ণ নেয়ামাত পেয়ে ধন্য হবে। তারা হলো:
এক. النَّبِيُّون نাবীগণ : النبي এর বহুবচন হচ্ছে النَّبِيُّون। তারা হলো ঐসব মহাপুরুষ, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা নবুওয়াত ও রেসালাতের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। নাবী ও রসূলের সংজ্ঞা এবং উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
দুই. الصِّدِّيقُون সত্যবাদীগণ: الصِّدِّيق এর বহুবচন الصِّدِّيقُون। যে ব্যক্তি সত্য বলায় এবং সত্যকে সত্যায়ন করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী, তাকে সিদ্দীক বলা হয়। অর্থাৎ আল্লাহর জন্য পূর্ণ মুখলিস (নিবেদিত ও নিষ্ঠাবান) হওয়ার সাথে সাথে যে ব্যক্তি রসূল ﷺ এর পূর্ণ অনুসরণ করে, সেই সিদ্দীক।
তিন. وَالشُّهَدَاء শহীদগণ: شهيد এর বহুবচন الشُّهَدَاء। আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার জন্য কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যে ব্যক্তি নিহত হয়, তাকে শহীদ বলা হয়। শহীদ শব্দটি شهادة থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে সাক্ষ্য দেয়া, উপস্থিত হওয়া। শহীদকে শহীদ বলার কারণ হলো, তাঁর জন্য জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার সাক্ষ্য দেয়া হয়েছে এবং রহমতের ফেরেশতাগণ তার সাথে উপস্থিত থাকেন।
চার. الصَّالِحِين সৎকর্মশীলগণ: صالح এর বহুবচন الصالحون। সালেহ (সৎকর্মশীল) ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়, যে আল্লাহর হকসমূহ এবং আল্লাহর সৃষ্টির হকসমূহ আদায় করে।
صراط শব্দটিকে কখনো আল্লাহর দিকে ইযাফত (সম্বন্ধিত) করা হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَأَنْ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ “এটিই আমার সঠিক পথ। সুতরাং তোমরা এই সঠিক পথের অনুসরণ কর (সূরা আনআম ৬:১৫৩)। সীরাতকে আল্লাহর দিকে ইযাফত করার কারণ হলো, আল্লাহই এই পথকে মানুষের জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং উহাকে তাদের জন্য ঠিক করেছেন। আর মানুষ যেহেতু সীরাতুল মুস্তাকীমের উপর চলে, তাই সীরাতকে মানুষের দিকেও ইযাফত করা হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ "আমাদেরকে ঐসব লোকের পথ দেখাও, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছো" (সূরা ফাতিহা ১:৭)। যারা এ পথে চলে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতে তাদের ফাযীলত ও সম্মানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আরো জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তারা হলো ঐ সব লোক, যাদের উপর আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ করেছেন। তারা হলেন নাবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সৎকর্মপরায়ণ লোকগণ (সূরা নিসা ৪:৬৯)। এই পথের পথিক যখন জানতে পারবে যে, তাতে রয়েছে নাবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সৎকর্মপরায়ণ, তখন তার অন্তর থেকে সমসাময়িক লোকদের থেকে একাকীত্বের অনুভূতি দূর হয়ে যাবে।
অতঃপর শাইখুল ইসলাম কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এমন কিছু নমুনা ও দলীল উল্লেখ করেছেন, যা আল্লাহ তা'আলার জন্য আসমা ও সিফাত সাব্যস্ত করে। বিভিন্ন অধ্যায় ও শিরোনামে তিনি সেই দলীলগুলো বর্ণনা করেছেন।
📄 এই বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপরে সমুন্নত, আরো বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, তিনি সমস্ত মাখলূকের উপরে এবং সকল মাখলূকের সাথে। মাখলূকের উপরে হওয়া এবং তাদের সাথে থাকা পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন: فصل: وَقَدْ دَخَلَ فِيمَا ذَكَرْنَاهُ مِنَ الإِيمَانِ بالله الإِيمَانُ بِمَا أَخْبَرَ اللَّهُ بِهِ فِي كِتَابِهِ، وَتَوَاتَرَ عَن رَّسُولِهِ، وَأَجْمَعَ عَلَيْهِ سَلَفُ الأُمَّةِ مِنْ أَنَّهُ سُبْحَانَهُ فَوْقَ سَمَاوَاتِهِ، عَلَى عَرْشِهِ، عَلِيٌّ عَلَى خَلْقِهِ، وَهُوَ سُبْحَانَهُ مَعَهُمْ أَيْنَمَا كَانُوا، يَعْلَمُ مَا هُمْ عَامِلُونَ؛ كَمَا جَمَعَ بَيْنَ ذَلِكَ فِي قَوْلِهِ هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنْ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ وَلَيْسَ مَعْنَى قَوْلِهِ: (وَهُوَ مَعَكُمْ أَنَّهُ مُخْتَلِطٌ بِالْخَلْقِ؛ فَإِنَّ هَذَا لَا تُوجِبُهُ، اللَّغَةُ، بَلِ الْقَمَرُ آيَةٌ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ مِنْ أَصْغَرِ مَخْلُوقَاتِهِ، وَهُوَ مَوْضُوعٌ فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ مَعَ الْمُسَافِرِ وَغَيْرُ الْمُسَافِرِ أَيْنَمَا كَانَ. وَهُوَ سُبْحَانَهُ فَوْقَ عَرْشِهِ ، رَقِيبٌ عَلَى خَلْقِهِ، مُهَيْمِنٌ عَلَيْهِمْ، مُطَّلِعُ عَلَيْهِم... إلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِن مَّعَانِي رُبُوبَيَّتِهِ.
অনুচ্ছেদ: ইতিপূর্বে আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নের বিষয়টি উল্লেখ করেছি। আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে যেসব বিষয়ের সংবাদ দিয়েছেন, রসূল থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে (প্রচুর সংখ্যক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে) যা বর্ণিত হয়েছে এবং এই উম্মতের সালাফগণ যেসব বিষয়ের উপর একমত হয়েছে, তাতে বিশ্বাস করাও আল্লাহর প্রতি ঈমানের মধ্যে শামিল। তার মধ্যে এও রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা আসমানসমূহের উপরে অবস্থিত আরশের উপর এবং সকল মাখলুকের উপর। সেই সাথে তিনি মাখলুকের সাথেও। তারা যেখানেই থাকে না কেন, আল্লাহ তা'আলা তাদের সাথেই। তারা যা আমল করে, আল্লাহ তা'আলা তা জানেন। আল্লাহ তা'আলা নিম্নের আয়াতে মাখলুকের উপরে থাকা এবং তাদের সাথে থাকাকে একসাথে একত্র করেছেন। আল্লাহ তা'আলা সূরা হাদীদের ৪ নং আয়াতে বলেন:
هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
"আল্লাহই আসমান-যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন। যা কিছু মাটির মধ্যে প্রবেশ করে, যা কিছু তা থেকে বেরিয়ে আসে এবং যা কিছু আসমান থেকে অবতীর্ণ হয় আর যা কিছু আসমানে উঠে, তা তিনি জানেন। তোমরা যেখানেই থাকনা কেন তিনি তোমাদের সাথেই"।
وَهُوَ مَعَكُمْ 'তিনি তোমাদের সাথেই' এ কথার অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের সাথে মিশে রয়েছেন। আরবী ভাষা এই অর্থকে আবশ্যক করেনা। আল্লাহ মাখলুকের সাথে মিশে আছেন, এই ধারণা এই উম্মাতের সালাফদের ইজমার পরিপন্থী এবং আল্লাহ তা'আলা মানুষকে যেই ফিতরাত (স্বভাব) দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তারও খেলাফ। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, অথচ আল্লাহর জন্যই সর্বোত্তম উদাহরণ, চন্দ্র আল্লাহর অন্যতম একটি নিদর্শন, আল্লাহর সৃষ্টিরাজির মধ্য হতে ক্ষুদ্র সৃষ্টিসমূহের অন্যতম। ইহাকে রাখা হয়েছে আসমানে। তারপরও চাঁদ ভ্রমণকারীর সাথেও থাকে এবং গৃহে অবস্থানকারীর সাথেও থাকে। ভ্রমণকারী যেখানে অবতরণ করে এবং যেখানেই চলে চাঁদ তার সাথেই থাকে।
আল্লাহ তা'আলা আরশের উপরে থেকেও মাখলুকের নিকটে। তাদের রক্ষক, তাদের সম্পর্কে অবগত এবং আল্লাহ তা'আলা তাঁর রুবুবীয়াতের অন্যান্য সিফাতের মাধ্যমে তিনি মাখলুকের উপরে এবং তাদের অতি নিকটে।
ব্যাখ্যা: শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া বিশেষভাবে দু'টি মাস'আলা বর্ণনা করেছেন।
(১) আরশের উপর আল্লাহ তা'আলার সমুন্নত হওয়া এবং
(২) তাঁর মাখলুকের সাথে থাকা।
শাইখুল ইসলাম একটি সন্দেহ দূর করার জন্য বিশেষভাবে এ দু'টি মাস'আলার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের উপরে থাকা এবং সৃষ্টির সাথে থাকার বিষয়টিকে কেউ কেউ পরস্পর সাংঘর্ষিক মনে করতে পারে। আবার কেউ এই ধারণাও করতে পারে যে, আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের সাথেই, এর মানে হচ্ছে আল্লাহর সিফাতগুলো মাখলুকদের সিফাতের মতই এবং তিনি আমাদের সাথে একদম মিশে আছেন। যেমন এক মাখলুক অন্য মাখলুকের সাথে মিশে থাকে। সুতরাং প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সমস্ত সৃষ্টির উপরে আরশের উপর সমুন্নত হয়ে আবার সৃষ্টির সাথে না মিশে তাদের অতি নিকটবর্তী হন কিভাবে?
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া এই সন্দেহের একাধিক জবাব দিয়েছেন:
প্রথম জবাব: আরবদের যেই ভাষায় কুরআন নাযিল হয়েছে তা এই অর্থকে আবশ্যক করে না। কেননা শব্দটি ভাষাগত দিক থেকে সাধারণ সান্নিধ্য ও নিকটত্ব অর্থ প্রদান করে; সহাবস্থান, সংমিশ্রণ, লাগালাগি এবং সংস্পর্শ ইত্যাদি অর্থ প্রদান করে না। কেননা আপনি বলে থাকেন, زوجتي معي আমার স্ত্রী আমার সাথেই। অথচ এই কথা বলার সময় আপনি থাকেন একস্থানে, আপনার স্ত্রী থাকে অন্য স্থানে। আপনারা আরো বলে থাকেন, مازلنا نسير والقمر معنا আমরা পথ চলছিলাম, চাঁদ আমাদের সাথেই ছিল।
অথচ চাঁদ থাকে আসমানে, থাকে মুসাফিরের সাথে এবং থাকে স্বদেশে অবস্থানকারীর সাথেও। সাধারণ একটি সৃষ্টি চাঁদের ব্যাপারে যদি এটি বলা সঠিক হয়, তাহলে যেই মহান স্রষ্টা সবচেয়ে বড় তাঁর শানে এটি বলা কেন জায়েয হবে না যে, তিনি আসমানের উপরে আরশের উপর থেকেও আমাদের সাথে?
দ্বিতীয় জবাব: আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের সাথে একদম মিশে আছেন, এই কথা উম্মতের সালাফে সালেহীন তথা সাহাবী, তাবেঈ এবং তাদের অনুসারীদের ইজমার পরিপন্থী। অথচ তারা সর্বশ্রেষ্ঠ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ এবং উত্তম আদর্শ। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা আরশের উপর সমুন্নত, সকল সৃষ্টির উপরে এবং তাদের থেকে আলাদা। তারা আরো একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা ইলমের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির সাথে রয়েছেন। তারা আল্লাহ তা'আলার বাণী: وَهُوَ مَّعَكُمۡ এর ব্যাখ্যা এভাবেই করেছেন। অর্থাৎ জ্ঞান ও ক্ষমতার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের সাথেই।
তৃতীয় জবাব: আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের উপরে নন বরং তাদের সাথে মিশে আছেন, এই কথা মানুষের ঐ স্বভাব-প্রকৃতির দাবীর পরিপন্থী, যা দিয়ে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তাদের মধ্যে যেই স্বভাব স্থাপন করেছেন, এই বিশ্বাস তার বিপরীত। কেননা আল্লাহ তা'আলা যে মাখলুকের উপরে, সৃষ্টিগত স্বভাব অনুযায়ী মাখলুক এই কথার স্বীকৃতি প্রদান করে। মানুষ বিপদাপদ ও সঙ্কটময় মুহূর্তে আল্লাহর স্মরণাপন্ন হওয়ার সময় উপরের দিকে অন্তরকে ধাবিত করে। ডান দিকে কিংবা বাম দিকে দৃষ্টিপাত করেনা। এ বিষয়ে কারো দিকনির্দেশনার প্রয়োজন হয় না। এটি কেবল ঐ সৃষ্টিগত স্বভাবের দাবীতেই করে থাকে, যা দিয়ে আল্লাহ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।
চতুর্থত জবাব: আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে যে সংবাদ দিয়েছেন এবং রসূল ﷺ মুতাওয়াতির সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে, এই ধারণা তার বিপরীত। কুরআন ও হাদীসে রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা সমস্ত সৃষ্টির উপরে এবং আরশেরও উপরে। সেই সাথে তিনি সৃষ্টির সাথেও তারা যেখানেই থাকুক না কেন। মুতাওয়াতির হাদীস,
هو ما رواه جماعة تحيل العادة تواطؤهم على الكذب عن مثلهم من الابتداء إلى الانتهاء
যার সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন একদল রাবী তাদের অনুরূপ আরেক দল রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, মিথ্যার উপর যাদের একমত হওয়া সাধারণত অসম্ভব হয়।
আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের উপরে এবং তাদের সাথে, এ বিষয়ে অনেক আয়াত এবং বহু হাদীস রয়েছে। সূরা হাদীদের ৪ নং আয়াত তার মধ্যে অন্যতম, যা শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া উপরে উল্লেখ করেছেন।
وَهُوَ سُبْحَانَهُ فَوْقَ عَرْشِهِ رَقِيبٌ عَلَى خَلْقِهِ، مُهَيْمِنٌ عَلَيْهِمْ مُطَّلِعٌ عَلَيْهِم আল্লাহ তা'আলা আরশের উপরে থেকেও মাখলুকের নিকটে। তাদের পর্যবেক্ষক এবং তাদের সম্পর্কে অবগত: এখানে তিনি পূর্বের কথাকেই পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন। এর পূর্বে তিনি বলেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আরশের উপরে এবং মাখলুকের সাথে। এখানেও তিনি আল্লাহ তা'আলার অতি সুন্দর নাম সমূহের মধ্য হতে الرقيب (পর্যবেক্ষক) এবং المهيمن (সংরক্ষক)-এই নাম দু'টি উল্লেখ করে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা মাখলুকের নিকটেই। আল্লাহ তা'আলা সূরা নিসার ১ নং আয়াতে বলেন:
إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর কড়া নজর রাখেন"।
এখানে رقيب অর্থ হচ্ছে তিনি তাঁর বান্দাদের সকল অবস্থার পর্যবেক্ষণ করেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, তিনি তাঁর বান্দাদের নিকটে।
আল্লাহ তা'আলা সূরা হাশরের ২৩ নং আয়াতে আরো বলেন:
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ
"আল্লাহই সেই মহান সত্তা, যিনি ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই। তিনি বাদশাহ, অতীব পবিত্র, সকল দোষ-ত্রুটি হতে মুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, হেফাযতকারী, পরাক্রমশালী, প্রবলশক্তিধর (শক্তির মাধ্যমে সবকিছুকে সংশোধনকারী) এবং অতীব মহিমান্বিত"।
إلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِن مَّعَانِي رُبُوبَيَّتِهِ আল্লাহ তা'আলা তাঁর রুবুবীয়াতের অন্যান্য সিফাতের মাধ্যমে তিনি মাখলুকের উপরে এবং তাদের অতি নিকটে:
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার রুবুবীয়াতের দাবী হচ্ছে তিনি স্বীয় সত্তাসহ সব সৃষ্টির উপরে, তিনি বান্দাদের সকল কাজ-কর্ম সম্পর্কে অবগত। সেই সাথে তিনি তাঁর ইলমের মাধ্যমে তাদের অতি নিকটে এবং তিনি তাদেরকে সকল দিক থেকে পরিবেষ্টন করে আছেন। তিনি তাদের সকল বিষয় পরিচালনা করেন, তাদের আমলসমূহ সংরক্ষণ করেন এবং তার বিনিময় প্রদান করেন。