📄 বক্তব্য একটি অপরটির বিরোধী
হক্ককে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে স্পষ্ট দ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়া। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
بَلْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ فَهُمْ فِي أَمْرٍ مَرِيجٍ} [ق: ٥]
বরং তারা সত্যকে অস্বীকার করেছে, যখনই তাদের কাছে সত্য এসেছে। অতএব তারা সংশয়যুক্ত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে (সূরা ক্বাফ ৫০:৫)।
ব্যাখ্যা: এখানে দ্বন্দ্ব বলতে হক্ববিহীন কথা-বার্তা নিয়ে বিবাদ ও মতানৈক্য করা। যে হক্ব পরিত্যাগ করে, সে মিথ্যা কথা নিয়ে দ্বন্দ্ব ও বিবাদে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে পরীক্ষায় পড়ে। কেননা, বিভিন্নভাবে ভ্রষ্টতার শাখা-প্রশাখা বিস্তারলাভ করে, আর শাখার কোন পরিসীমা নেই। পক্ষান্তরে, হক্ব হচ্ছে একটিই যার ভিন্নতা নেই এবং মতানৈক্যও নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلَّا الضَّلَالُ} [يونس: ٣২]
অতএব, তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রকৃত রব। অতঃপর সত্যের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া কী থাকে? অতএব কোথায় তোমাদেরকে ফেরানো হচ্ছে? (সূরা ইউনূছ ১০:৩২)।
যে হক্ব বর্জন করে সে ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হয়। আর ভ্রষ্টতা হলো গোলকধাঁধা; এ থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ভ্রষ্টরা নিজেদের মাঝে বিভিন্ন মতানৈক্যে লিপ্ত থাকে। তাদের প্রত্যেকেই ভিন্ন মতের উপর বহাল থাকে। তাদের নিকট হেদায়াত নেই; যার উপর তারা পরিচালিত হবে। কেবল তারা বিপথেই পরিচালিত হয়। কখনো বলে এটা ঠিক আবার কখনো বলে ঐটাই ঠিক। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
بَلْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ فَهُمْ فِي أَمْرِمَرِيجٍ} [ق: ٥]
বরং তারা সত্যকে অস্বীকার করেছে, যখনই তাদের কাছে সত্য এসেছে। অতএব তারা সংশয়যুক্ত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে (সূরা ক্বাফ ৫০:৫)।
অর্থাৎ ভ্রষ্টতায় ডুবে থাকে। তাই বাতিলপন্থীরা নিজেদের মাঝে মতানৈক্যে লিপ্ত হয়। তারা পরস্পর শত্রুতা করে, একে অপরকে ভ্রান্ত পথ দেখায় এবং পরস্পরকে কাফির বলে আখ্যা দেয়。
পক্ষান্তরে, হক্বপন্থীরা হক্ব আঁকড়ে ধরে, নিজেদের মাঝে মতানৈক্য সৃষ্টি করে না। ইজতেহাদের ব্যাপারে যদিও মতানৈক্য হয়; তবুও পরস্পরে শত্রুতা করে না এবং বিচ্ছিন্ন হয় না। হক্ব স্পষ্ট হলে তারা সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং নিজেদের কথা বর্জন করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ} [الشورى: ١٠]
যে বিষয়েই তোমরা মতবিরোধ কর না কেন, তার ফায়সালা আল্লাহর কাছে; তিনিই আল্লাহ, আমার রব; তাঁরই ওপর আমি তাওয়াক্কুল করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই (সূরা আশ-শূরা ৪২:১০)। {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: ٥٩]
কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রসূলের দিকে প্রত্যার্পণ কর (সূরা আন নিসা ৪:৫৯)।
চার ইমাম ও ফকীহগণের মাঝে মতানৈক্য হলেও তাদের কেউ কাউকে ভ্রষ্ট ও কাফির বলে আখ্যা দেয়নি। তাদের প্রত্যেকের দলীল অনুযায়ী তারা আমল করে। আর দলীল বিরোধী কোন বিষয় প্রকাশ পেলে তারা হক্বের দিকে প্রত্যাবর্তন করে。
অপরদিকে ভ্রষ্টরা প্রত্যাবর্তনের সুযোগ কাজে লাগায় না। তাদের প্রত্যেকে কু-প্রবৃত্তির দিকেই ফিরে যায়। আর কু-প্রবৃত্তি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।
📄 আল্লাহর নাযিলকৃত আংশিক বিধানের প্রতি ঈমান আনা
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া কতিপয় বিধান ছাড়াই আংশিক বিধানের প্রতি ঈমান আনা ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদের রীতি। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لا تَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْناً وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ مُعْرِضُونَ وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لَا تَسْفِكُونَ دِمَاءَكُمْ وَلا تُخْرِجُونَ أَنْفُسَكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنْتُمْ تَشْهَدُونَ ثُمَّ أَنْتُمْ هَؤُلَاءِ تَقْتُلُونَ أَنْفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقاً مِنْكُمْ مِنْ دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِمْ بِالْأَثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِنْ يَأْتُوكُمْ أُسَارَى تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ} [البقرة: ٨٣، ٨٤، ٨٥]
আর যখন আমি বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত করবে না এবং সদাচার করবে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও মিসকীনদের সাথে। আর মানুষকে উত্তম কথা বল, জ্বলাত কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর। অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে স্বল্প সংখ্যক ব্যতীত তোমরা ফিরে গেলে। আর তোমরা (স্বীকার করে অতঃপর তা থেকে) বিমুখ হও। আর যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম যে, তোমরা নিজদের রক্ত প্রবাহিত করবে না এবং নিজদেরকে তোমাদের গৃহসমূহ থেকে বের করবে না। অতঃপর তোমরা স্বীকার করে নিলে। আর তোমরা তার সাক্ষী। অতঃপর এই তোমরাই তো নিজদেরকে হত্যা করছ আর তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের গৃহ থেকে বের করে দিচ্ছ। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে তাদের বিরূদ্ধে সহায়তা করছ। তারা যদি বন্দী হয়ে তোমাদের নিকট আসে, তোমরা মুক্তিপণ দিয়ে তাদেরকে মুক্ত কর। অথচ তাদেরকে বের করা তোমাদের জন্য হারাম ছিল। তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখ আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৮৩-৮৫)।
কিতাবের কতিপয় বিধানের প্রতি ঈমান আনা বলতে সহজ বিধানকে গ্রহণ করা এবং আংশিক বিধান অস্বীকার করা। অর্থাৎ মানুষ হত্যা করা এবং তাদেরকে বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দেয়াকে বৈধ মনে করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ} [البقرة: ٨٥، ٨٦]
সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ব্যতীত তাদের কী প্রতিদান হতে পারে? আর কিয়ামত দিবসে তাদেরকে কঠিনতম আযাবে নিক্ষেপ করা হবে। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফিল নন। তারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে খরিদ করেছে। সুতরাং তাদের থেকে আযাবকে হালকা করা হবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৮৫-৮৬)।
যারা আংশিক বিধানের প্রতি ঈমান আনে এবং আংশিক অস্বীকার করে; এটা হলো তাদের প্রতিফল। কেননা, কিতাবের পূর্ণবিধানের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজীব। কু-প্রবৃত্তির অনুসরণে যা অনুকূল হয় তা গ্রহণ এবং কু-প্রবৃত্তি ও ইচ্ছা বিরোধী হলে তা বর্জন করা ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান এবং যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কু-প্রবৃত্তি অনুযায়ী কিতাবের আংশিক গ্রহণ ও আংশিক বর্জন করে, এটা তাদেরই বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেন,
{أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَقْوَى أَنْفُسَكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقاً كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقاً تَقْتُلُونَ} [البقرة: [৮৭]
তবে কি তোমাদের নিকট যখনই কোন রসূল এমন কিছু নিয়ে এল, যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখন তোমরা অহঙ্কার করেছ, অতঃপর (নাবীদের) একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছে আর একদলকে হত্যা করেছে (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৮৭)।
অর্থাৎ রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট যে বিধান নিয়ে এসেছেন তা তাদের কু-প্রবৃত্তি অনুসারে হলে তারা সেটা গ্রহণ করে এবং কু-প্রবৃত্তি বিরোধী হলে বর্জন করে。
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তাদের নিকট তা সহজ মনে না হলে রসূলের বিরূদ্ধে তারা অবস্থান নিত। হয়তো তাকে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতো, আর না হয় তাকে হত্যা করতে উদ্যত হতো। আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এখানে মুসলিমদের জন্য উপদেশ রয়েছে, যাতে তারা ঐসব জাহিলদের মত কর্ম-কান্ডে লিপ্ত না হয়। এমনটা করলে মুসলিমরা তাদের মতই বিপদগ্রস্ত হবে।
📄 কতিপয় রসূলের প্রতি ঈমান আনা এবং কতিপয়ের প্রতি ঈমান না আনা
রসূলগণের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করা।
ব্যাখ্যা: কতেক রসূলকে অস্বীকার করা এবং কতিপয়ের প্রতি ঈমান আনা আহলে কিতাবদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য。
মূর্তিপূজক ও মুশরিকরা রসূলগণের প্রতি আদৌ ঈমান আনে না। বরং সকল রসূলকে অস্বীকার করে。
অন্যদিকে ইয়াহুদীরা ঈসা আলাইহিস সালাম ও মুহাম্মাদকে জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অস্বীকার করে। আর খ্রিষ্টানরা মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অস্বীকার করে। আর যে একজন নাবীকে অস্বীকার করে সে মূলতঃ সকল নাবী-রসূলকেই অস্বীকার করে। কেননা, নাবী-রসূলগণের পন্থা একই এবং দীন একটিই। তারা পরস্পর ভাই ভাই। তাই একজনকে অস্বীকার করার কারণে সকলকেই অস্বীকার করা হয়। যারা রসূলকে অস্বীকার করে আর কতিপয়ের প্রতি ঈমান আনে তাদের ক্ষেত্রে দলীল-প্রমাণ একই তথা সকলকেই তারা অস্বীকার করে। সুতরাং তাদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} [البقرة: ١٣٦] ، {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلُّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ} [البقرة: ٢٨٥]
তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা নাযিল করা হয়েছে আমাদের উপর ও যা নাযিল করা হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের সন্তানদের উপর এবং যা প্রদান করা হয়েছে মূসা ও ঈসাকে এবং যা প্রদান করা হয়েছে তাদের রবের পক্ষ হতে নাবীগণকে। আমরা তাদের কারো মধ্যে তারতম্য করি না। আর আমরা তাঁরই অনুগত। রসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৩৬,২৮৫)।
অর্থাৎ আমরা কোন রসূলের মাঝে পার্থক্য করি না। ঈমানের ছয়টি রুকনের একটি হলো সকল রসূলের প্রতি ঈমান আনা, যা হাদীছে জিবরাঈলে বর্ণিত হয়েছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে যখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে সংবাদ দিন। তখন তিনি জবাবে বলেন,
أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ
আল্লাহ, তাঁর ফেরেস্তামন্ডলী, আসমানী কিতাবসমূহ, তাঁর সকল রসূল, আখেরাত এবং ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস রাখাই হলো ঈমান। ৭১
এসব বিষয়ের আংশিকের প্রতি ঈমান আনা যথেষ্ট নয়। বরং সবগুলোর প্রতিই ঈমান আনতে হবে। এসবের কোন একটি অস্বীকার করলে সবগুলোই অস্বীকার করা হবে। এজন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন, { كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ الْمُرْسَلِينَ} [الشعراء: ١٠٥] নূহ-এর সম্প্রদায় রসূলগণকে অস্বীকার করেছিল (সূরা আশ-শু'আরা ২৬:১০৫)।
، {كَذَّبَتْ عَادٌ الْمُرْسَلِينَ} [الشعراء: ۱۲۳] 'আদ জাতি রসূলগণকে অস্বীকার করেছিল (সূরা আশ-শু'আরা ২৬:১২৩)।
{ كَذَّبَتْ ثَمُودُ الْمُرْسَلِينَ} [الشعراء: ١٤١] সামূদ জাতি রসূলগণকে অস্বীকার করেছিল (সূরা আশ-শু'আরা ২৬:১৪১)।
নূহ আলাইহিস সালাম এর জাতি ও আদ সম্প্রদায় তাদের নাবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতো। তাদের নিজ নিজ নাবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে মূলতঃ তারা সকল নাবী-রসূলকেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করতো。
টিকাঃ
৭১. ছহীহ বুখারী ৫০, ছহীহ মুসলিম ১০।
📄 অজানা বিষয় নিয়ে বিতর্ক করা
যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তা নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি করা।
ব্যাখ্যা: জাহিলরা যে বিষয়ে জ্ঞান রাখে না তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও মতভেদ সৃষ্টি করে। জ্ঞান ছাড়া তর্ক না করাই আবশ্যক। কোন বিষয় জানা না থাকলে নিরব থাকবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ} [يونس: ٣٩]
বরং, তারা যে ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করেনি, তা তারা মিথ্যা অস্বীকার করেছে এবং এখনও এর পরিণতি তাদের কাছে আসেনি (সূরা ইউনূস ১০:৩৯)। অর্থাৎ কোন বিষয়ের বাস্তব ব্যাখ্যা মূলকঃ জ্ঞান না থাকা। এ বিষয়টি দু'টি দিককে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম: মানুষ যে বিষয় জানে না সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। আর অজ্ঞাত বিষয় অস্বীকারও করবে না। বরং বলবে, আল্লাহই অধিক অবগত। একারণে আল্লাহ তা'আলা তার নাবী মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলেন, {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} [طه: ١١٤]
সুতরাং আল্লাহ মহান যিনি সত্যিকার অধিপতি; তোমার প্রতি ওহী সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তুমি কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করো না এবং তুমি বল, 'হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন' (সূরা ত্বা-হা ২০:১১৪)।
কোন মানুষ নিজেকে পূর্ণজ্ঞানী দাবি করতে পারে না। মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। মানুষ যদিও অনেক জ্ঞানের অধিকারী তবুও সে কেবল সামর্থ অনুযায়ী জানতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ জ্ঞানই তার অজানা। আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ} [يوسف: ٧٦]
প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর রয়েছে একজন মহাজ্ঞানী (সূরা ইউসূফ ১২:৭৬)।
আল্লাহ তা'আলাই চুড়ান্ত জ্ঞানের অধিকারী。
দ্বিতীয়: কারো জানা বিষয় মানুষ অস্বীকার করবে না। কারো নিকট থেকে নিজের অজ্ঞাত কোন বিষয় জানতে পারলে তা গ্রহণ করা মানুষের জন্য আবশ্যক। কোন মানুষকেই পূর্ণজ্ঞান দান করা হয়নি। একারণে আলেমগণ সদা সর্বদা একটি কথা পূনরাবৃত্তি করে বলেন,
من حفظ حجة على من لم يحفظ
যারা দলীল সংরক্ষণ করেনি, তাদের উপর প্রাধান্য পাবে তাদের কথা, যারা সংরক্ষণ করে。
নাস্তিক, মুশরিক, আল্লাহর গুণাবলীকে বাতিল সাব্যস্তকারী এবং ভ্রষ্ট সম্প্রদায় তাদের অজানা বিষয়কে অস্বীকার করে। কেননা, অজানা বিষয়ে তারা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করেনি; এ জন্য তারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে না। তাই বাতিল ক্বিয়াস তথা পরিত্যাজ্য অনুমান ভিত্তিক রীতির উপর তারা তাদের চলার পথ নির্ধারণ করেছে। ফলে তারা সঠিক পথ হারিয়েছে।