📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 হক্ পন্থী দাঈ (আল্লাহর পথে আহ্বানকারী) এর সাথে শত্রুতা করা

📄 হক্ পন্থী দাঈ (আল্লাহর পথে আহ্বানকারী) এর সাথে শত্রুতা করা


যারা ন্যায়ের আদেশ দেয়, তাদেরকে হত্যা করা।

ব্যাখ্যা: ইয়াহুদীদের গর্হিত কর্ম-কান্ড হচ্ছে নাবী ও দা'ঈদেরকে হত্যা করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٌّ وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} [آل عمران: ٢١]
নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করে এবং অন্যায়ভাবে নাবীদেরকে হত্যা করে, আর মানুষের মধ্যে থেকে যারা ন্যায়-পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে হত্যা করে, তুমি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও (সূরা আলে-ইমরান ৩:২১)।

অনুরূপভাবে যারা হক্বের বিরোধিতা করে ও আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয় এবং হক্বপন্থী দা'ঈ, সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজ থেকে বাধা দান কারীদেরকে হত্যা করে; তাদের ব্যাপারেই উল্লেখিত আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। আর এসব গর্হিত কাজ যারা করে, তারাই জাহিল।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 বাতিল-মিথ্যা বিশ্বাস করা

📄 বাতিল-মিথ্যা বিশ্বাস করা


জিবত ও ত্বাগুতের প্রতি বিশ্বাস রাখা।

ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলা বলেন, {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيباً مِنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ} [النساء: ٥١] তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত ও তাগুতের প্রতি ঈমান আনে (সূরা আন নিসা ৪:৫১)।

জিবত হলো যাদু, কারো মতে, শয়তান। যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে তারাই ত্বাগূত。

আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট হলো নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর ইয়াহুদীদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন যে, তারা মুসলিমদের সাথে লড়াই করবে না। মদিনায় যারা থেকে যেতে ইচ্ছুক তাদেরকে বিতাড়িত করবে না। এ বিষয়ের উপর তারা অঙ্গীকার করলো। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার ছাহাবীদের বিপক্ষে ইয়াহুদীদের ক্ষমতা সঙ্কুচিত হলে তারা দেখলো যে, ইসলাম সাহায্য প্রাপ্ত হচ্ছে ও বিস্তার লাভ করছে, তখন ইয়াহুদীদের নেতা মক্কার কুরাইশদের কাছে রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরোধিতায় এগিয়ে আসার আহবান জানায়। আর সে তাদের কাছে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরূদ্ধে যুদ্ধে বের হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। আল্লাহ তা'আলা তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে কুরাইশদেরকে উদ্বুদ্ধ করলেন। কুরাইশরা তাদেরকে বললো, তোমরা আহলে কিতাব; তাহলে কারা হকের উপর আছে, আমরা নাকি মুহাম্মাদ?

কুরাইশরা এটাও বললো, তোমরা তার বিরোধিতা করছো কেন? তারা জবাবে বলে, আমরা মেহমানকে সম্মান করি, আত্মীয়ের সাথে সদাচারণ করি, হাজীদেরকে পানি পান করাই এবং আরো অনেক ভাল কাজ করি। আর মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রভুকে গালি দেয়, আমাদের দীনের দোষারোপ করে, আমাদের বাপ-দাদার বিরোধিতা করে এবং সে আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে; এরূপ আরো অনেক কাজ করে। অতঃপর তারা তাদেরকে বললো, তোমরা হজ্বের উপর আছো আর মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছে বাতিলের উপর। অথচ তারা জানতো, মুহাম্মাদই হজ্বের উপর রয়েছে। তিনি আল্লাহর রসূল আর তারা হচ্ছে প্রতিমা-মূর্তি পূজারী। আল্লাহ তা'আলা তাদের ব্যাপারে বলেন,
{أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيباً مِنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا هَؤُلَاءِ أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا سَبِيلاً} [النساء: ٥১]
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত ও তাগুতের প্রতি ঈমান আনে এবং কাফিরদেরকে বলে, এরা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথপ্রাপ্ত (সূরা আন নিসা ৪:৫১)। তারা শুধু মন্তব্য করেছিল, তাহলে আল্লাহ তা'আলা কিভাবে বলেন,
{يُؤْمِنُونَ بِالْجَبْتِ وَالطَّاغُوتِ}
আসলে বাহ্যিকতার উপর ভিত্তি করেই তারা ঈমান নামকরণ করেছিল। সুতরাং বুঝা গেল কাফিররা যে রীতির উপর বহাল আছে তার অনুকূলে কথা বলাও কুফরী; যদিও আন্তরিকভাবে তা বিশ্বাস করা না হয়。

বর্তমানে কেউ বলে, (মুরজিয়া সম্প্রদায়), অন্তরে বিশ্বাস না করা পর্যন্ত কুফরী কথা বললে, জবরদস্তি ছাড়াই কুফরী কথা উচ্চারণ করলে, কুফরী কাজ করলে, আল্লাহ ও তার রসূলকে গালি দিলে এবং যে কোন প্রকার কুফরী করলেই মুরজিয়াদের নিকট তাকে কাফির বলা যাবে না যতক্ষণ না জানা যায় তার অন্তরে কি আছে। এটাই মুরজিয়া সম্প্রদায়ের বাড়াবাড়ি মূলক কথা। আমরা এ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা কামনা করছি। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ} [النساء: ৫1]
তারা জিবত ও তাগুতের প্রতি ঈমান আনে (সূরা আন নিসা ৪:৫১)। এ আয়াতাংশ দ্বারা ঐসব লোকদের দোষ বর্ণনা করেছেন, যারা বাহ্যিক দৃষ্টিতে জিবত ও ত্বাগুতের প্রতি ঈমান আনেনি, বরং আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতো তারা ভুল পথে আছে এবং মুহাম্মাদ সঠিক পথে আছেন। কিন্তু প্রধান প্রধান ব্যক্তিবর্গ বাহ্যিকভাবে রসূলের সাথে হিংসা ও শত্রুতা বজায় রাখার জন্য তাদেরকে প্ররোচিত করতো। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কাফির বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাউকে কাফির আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাদের কথা প্রত্যাখ্যাত, যারা বলে, কুফরী কথা বললে, কুফরী কর্ম করলে, আল্লাহ ও তার রসূলকে গালি দিলেই তৎক্ষণাৎ মানুষকে কাফির বলা যাবে না, যতক্ষণ না আন্তরিকভাবে তারা তা স্বীকার করে। এ ভ্রষ্টতা থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 ঈমানের উপর কুফরীকে প্রাধান্য দেওয়া

📄 ঈমানের উপর কুফরীকে প্রাধান্য দেওয়া


মুসলিমদের বিরূদ্ধে মুশরিকদের দীনকে গুরুত্ব দেয়া।

ব্যাখ্যা: ইয়াহুদীদের মাধ্যমে যা ঘটেছিল পূর্ববর্তী বিষয়ে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ মাসআলার অন্তর্ভুক্ত বিষয় হচ্ছে, যারা কাফিরদের দীনকে মুসলিমদের দীনের উপর গুরুত্বারোপ করে অথবা উভয় দীনের মাঝে সমতা বিধান করতে চায়। আর ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান ও দীন ইসলামের মাঝে সমন্বয় করার জন্য কাছাকাছি ব্যাখ্যা প্রদানের অপচেষ্টা করে বলে, এসবই আসমানী দীন। তাই এসব দীনের অনুসারীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা বজায় রাখা আবশ্যক।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 বাতিল গ্রহণের উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাথে সত্যের মিশ্রণ ঘটানো

📄 বাতিল গ্রহণের উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাথে সত্যের মিশ্রণ ঘটানো


বাতিলের সাথে হক্বের মিশ্রণ।

ব্যাখ্যা: বাতিলের সাথে হক্বের মিশ্রণ ঘটানোই কাফির, জাহিল ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান ও অন্যান্যদের অভ্যাস। এখানে (الن) এর অর্থ হলো মিশানো। বাতিল প্রচারের উদ্দেশ্যে জাহিলরা এর সাথে হক্বের মিশ্রণ ঘটাতো। কেননা, শুধু বাতিল প্রচার করলে কেউ তা গ্রহণ করবে না। কিন্তু বাতিলের সাথে হক্ব মিশালে তা মু'মিনদেরকে ধোঁকা দেয়া যায়, যাতে এক নযরেই তারা বাতিল গ্রহণ করে বলতে পারে, এখানে হকু আছে। অতঃপর তারা হকু-বাতিল সম্পূর্ণটাই গ্রহণ করবে। মানুষ যদি হকুকেই গ্রহণ করতো আর বাতিল প্রত্যাখ্যান করতো তাহলেই উত্তম হতো। কিন্তু হক্ক-বাতিল সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করাটাই তাদের ভুল। কোন জিনিসের বাহ্যিক অবস্থার উপর ভিত্তি না করে তা যাচাই-বাছাই ও পরখ করে গ্রহণ করা চিন্তাশীল ও সুস্থবিবেক-বুদ্ধিসম্পন্নদের উপর আবশ্যক। তাতে হক্ব পাওয়া গেলে তা গ্রহণ করবে এবং বাতিল পেলে তা বর্জন করবে。

কাফেরেরা কখনো হক্বের আলোচনা করে, তা হক্বের প্রতি আগ্রহ ও ভালবাসার কারণে নয়। বরং বাতিল প্রচারের উদ্দেশ্যেই তারা তা করে থাকে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা ওয়াজীব। আরো আবশ্যক যে, বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করা এবং প্রকাশ্যে হক্বের চাকচিক্য দেখেই তা কবুল করার জন্য ত্বরান্বিত না হওয়া যতক্ষণ না হকু যাচাই-বাছাই ও পরখ করা হয়। তাতে হকু পাওয়া গেলে তা গ্রহণ করে বাতিলকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। বিদ্বান ও দূরদর্শীরা এটাই শিক্ষা দিয়ে থাকেন。

অপরদিকে সাধারণ, জাহিল ও কম বুদ্ধিসম্পন্নরা এসব বিষয়ে প্রতারিত হয় ও ধোঁকায় পড়ে। তাই বিদ্বানদের নিকট থেকে হকু জেনে নেয়া এবং তা গ্রহণের পূর্বে দূরদর্শীদের কাছে পরামর্শ চাওয়া তাদের উপর আবশ্যক; যাতে মিথ্যা-ভেজাল থেকে মুক্ত থাকা যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00