📄 রসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন, তার কিছু অংশকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা
রসূলগণ কিয়ামত সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছেন তার কিছু অংশকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ} [الكهف: ١٠٥]
তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তার সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে (সূরা আল কাহাফ ১৮:১০৫)।
{مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: ٤]
বিচার (পুনরুত্থান বা প্রতিদান) দিবসের (একমাত্র) মালিক (এবং বিচারক) (সূরা আল ফাতিহা ১:৪)।
{لا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ} [البقرة: ٢٥٤]
যে দিন থাকবে না কোন-বেচাকেনা, না কোন বন্ধুত্ব এবং না কোন সুপারিশ (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২৫৪)।
{إِلَّا مَنْ شهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [الزخرف: ٨٦]
তবে তারা ব্যতীত যারা জেনেশুনে সত্য সাক্ষ্য দেয় (সূরা আয যুখরুফ ৪৩:৮৬)। এ সকল আয়াতকে তারা মিথ্যাপ্রতিপন্ন করে।
ব্যাখ্যা: জাহিলদের কেউ সম্পূর্ণভাবে আখেরাতকে অবিশ্বাস করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ وَقَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا} [الأنعام: ٢٩]
আর তারা বলেছিল, 'আমাদের এ দুনিয়ার জীবন ব্যতীত কিছু নেই (সূরা আল-আন'আম ৬:২৯)।
তাদের কেউ আখেরাত বিশ্বাস করে কিন্তু তাতে সংঘটিতব্য কতিপয় বিষয়কে তারা অস্বীকার করে। যেমন আখেরাতে হিসাব-নিকাশ, দাড়ি পাল্লায় আমলের ওজন ও জান্নাত-জাহান্নাম অস্বীকার করা। জাহিলদের কতিপয় এসব সম্পূর্ণ অবিশ্বাস করে。
আবার কতিপয় আংশিক অস্বীকার করে। যারা আংশিক অবিশ্বাস করে তারা মূলতঃ সম্পূর্ণ অস্বীকারকারীর মতই। এখানে বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। তারা কুরআনের কিছু অংশ বিশ্বাস করে আর কিছু অংশ বিশ্বাস করে না。
আল্লাহ তা'আলা বলেন, {قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالاً الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعاً أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْناً} [الكهف: ١٠٣-١٠٥]
বল, আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত? দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে! তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তার সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়েছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না। সূরা আল কাহাফ ১৮:১০৩-১০৫
তাদের মাঝে কেউ আখেরাতের হিসাব-নিকাশ মিথ্যা মনে করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: ٤]
বিচার (পুনরুত্থান বা প্রতিদান) দিবসের (একমাত্র) মালিক (এবং বিচারক) (সূরা ফাতিহা ১:৪)।
এখানে দীন বলতে হিসাব-নিকাশ ও কর্মের প্রতিফল দিবসকে বুঝানো হয়েছে। আর জাহিলরা এটাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِي يَوْمٌ ... } [البقرة: ٢٥٤]
হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে রিক দিয়েছি তা হতে ব্যয় কর, সে দিন আসার পূর্বে, যে দিন থাকবে না কোন-বেচাকেনা, না কোন বন্ধুত্ব এবং না কোন সুপারিশ। আর কাফিররাই যালিম (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২৫৪)।
আর এ দিনটিই হচ্ছে বিচার দিবস।
আল্লাহ তা'আলা বলেন {مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لا بَيْعٌ فِيهِ وَلا خُلَّةٌ وَلا شَفَاعَةٌ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [البقرة: [٢٥٤
সে দিন আসার পূর্বে, যে দিন থাকবে না কোন-বেচাকেনা, না কোন বন্ধুত্ব এবং না কোন সুপারিশ। আর কাফিররাই যালিম (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২৫৪)।
কিয়ামতের দিন কারো সৎ আমল না থাকলে তার মুক্তি লাভের কোন উপায় থাকবে না। দুনিয়াতে মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিস বেচা-কেনা করে কিন্তু এ দিনে কোন আমল বেচা-কেনা হবে না। যেমন আল্লাহর বাণী: )وَلا حُلَّةٌ(
দুনিয়াতে কোন প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে না পেলে মানুষ তার বন্ধুর শরণাপন্ন হয়, অতঃপর বন্ধুর নিকট থেকে তা গ্রহণ করে। কিন্তু কিয়ামতের দিন কোন উপকারী বন্ধু পাওয়া যাবে না। এমনকি নিজের বন্ধুও কোন কাজে আসবে না। আর কেউ কারো জন্য সুপারিশও করবে না। অবশ্য দুনিয়াতে সুপারিশ করার মাধ্যম পাওয়া যায়। কিন্তু কিয়ামতের দিন তা পাওয়া সম্ভব নয় (আল্লাহর অনুমতি ছাড়া)। যেমন আল্লাহর বাণী )وَلا شَفَاعَةُ( সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। কিয়ামতের দিন সুপারিশের সকল মাধ্যম ছিন্ন হয়ে গেলে আর কোন উপায় থাকবে না। কেবল সৎ আমলের মাধ্যমেই মানুষ সেদিন অগ্রগামী হবে। আর সর্বোত্তম সৎ আমল হচ্ছে, আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করা ও শিরক থেকে বিরত থাকা। এ জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [الزخرف: [٨٦
তিনি ছাড়া যাদেরকে তারা আহবান করে তারা সুপারিশের মালিক হবে না; তবে তারা ব্যতীত যারা জেনে-বুঝে সত্য সাক্ষ্য দেয় (আয-যুখরুফ ৪৩:৮৬)।
আল্লাহর বাণী: }شَهِدَ بِالحق{ অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে )لا إله إلا الله( এ কালিমা পাঠ করতঃ তার উপরই মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামতের দিন তার জন্য তা যথেষ্ট হবে না। বরং এর অর্থ জানাও তার জন্য আবশ্যক। এজন্য আল্লাহ তা'আলা আয়াতাংশে বলেন, )وَهُمْ يَعْلَمُونَ( অর্থাৎ তারা এর অর্থ জানবে। তাই অর্থ বুঝা ব্যতিরেকে শুধুমাত্র কালেমা পাঠ করা যথেষ্ট নয়। আর কালেমার চাহিদা অনুসারে আমল ব্যতীত তা পাঠ করা ও অর্থ বুঝা কোনটিই যথেষ্ট নয়। আর ইলম-জ্ঞান হচ্ছে আমল করার মাধ্যম। ফলতঃ জ্ঞান না থাকলে শুধু কালেমা (لا إله إلا الله) পাঠ করা কারো জন্য কাজে আসবে না।
📄 হক্ পন্থী দাঈ (আল্লাহর পথে আহ্বানকারী) এর সাথে শত্রুতা করা
যারা ন্যায়ের আদেশ দেয়, তাদেরকে হত্যা করা।
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদীদের গর্হিত কর্ম-কান্ড হচ্ছে নাবী ও দা'ঈদেরকে হত্যা করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٌّ وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} [آل عمران: ٢١]
নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করে এবং অন্যায়ভাবে নাবীদেরকে হত্যা করে, আর মানুষের মধ্যে থেকে যারা ন্যায়-পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে হত্যা করে, তুমি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও (সূরা আলে-ইমরান ৩:২১)।
অনুরূপভাবে যারা হক্বের বিরোধিতা করে ও আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয় এবং হক্বপন্থী দা'ঈ, সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজ থেকে বাধা দান কারীদেরকে হত্যা করে; তাদের ব্যাপারেই উল্লেখিত আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। আর এসব গর্হিত কাজ যারা করে, তারাই জাহিল।
📄 বাতিল-মিথ্যা বিশ্বাস করা
জিবত ও ত্বাগুতের প্রতি বিশ্বাস রাখা।
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলা বলেন, {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيباً مِنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ} [النساء: ٥١] তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত ও তাগুতের প্রতি ঈমান আনে (সূরা আন নিসা ৪:৫১)।
জিবত হলো যাদু, কারো মতে, শয়তান। যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে তারাই ত্বাগূত。
আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট হলো নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর ইয়াহুদীদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন যে, তারা মুসলিমদের সাথে লড়াই করবে না। মদিনায় যারা থেকে যেতে ইচ্ছুক তাদেরকে বিতাড়িত করবে না। এ বিষয়ের উপর তারা অঙ্গীকার করলো। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার ছাহাবীদের বিপক্ষে ইয়াহুদীদের ক্ষমতা সঙ্কুচিত হলে তারা দেখলো যে, ইসলাম সাহায্য প্রাপ্ত হচ্ছে ও বিস্তার লাভ করছে, তখন ইয়াহুদীদের নেতা মক্কার কুরাইশদের কাছে রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরোধিতায় এগিয়ে আসার আহবান জানায়। আর সে তাদের কাছে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরূদ্ধে যুদ্ধে বের হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। আল্লাহ তা'আলা তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে কুরাইশদেরকে উদ্বুদ্ধ করলেন। কুরাইশরা তাদেরকে বললো, তোমরা আহলে কিতাব; তাহলে কারা হকের উপর আছে, আমরা নাকি মুহাম্মাদ?
কুরাইশরা এটাও বললো, তোমরা তার বিরোধিতা করছো কেন? তারা জবাবে বলে, আমরা মেহমানকে সম্মান করি, আত্মীয়ের সাথে সদাচারণ করি, হাজীদেরকে পানি পান করাই এবং আরো অনেক ভাল কাজ করি। আর মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রভুকে গালি দেয়, আমাদের দীনের দোষারোপ করে, আমাদের বাপ-দাদার বিরোধিতা করে এবং সে আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে; এরূপ আরো অনেক কাজ করে। অতঃপর তারা তাদেরকে বললো, তোমরা হজ্বের উপর আছো আর মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছে বাতিলের উপর। অথচ তারা জানতো, মুহাম্মাদই হজ্বের উপর রয়েছে। তিনি আল্লাহর রসূল আর তারা হচ্ছে প্রতিমা-মূর্তি পূজারী। আল্লাহ তা'আলা তাদের ব্যাপারে বলেন,
{أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيباً مِنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا هَؤُلَاءِ أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا سَبِيلاً} [النساء: ٥১]
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত ও তাগুতের প্রতি ঈমান আনে এবং কাফিরদেরকে বলে, এরা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথপ্রাপ্ত (সূরা আন নিসা ৪:৫১)। তারা শুধু মন্তব্য করেছিল, তাহলে আল্লাহ তা'আলা কিভাবে বলেন,
{يُؤْمِنُونَ بِالْجَبْتِ وَالطَّاغُوتِ}
আসলে বাহ্যিকতার উপর ভিত্তি করেই তারা ঈমান নামকরণ করেছিল। সুতরাং বুঝা গেল কাফিররা যে রীতির উপর বহাল আছে তার অনুকূলে কথা বলাও কুফরী; যদিও আন্তরিকভাবে তা বিশ্বাস করা না হয়。
বর্তমানে কেউ বলে, (মুরজিয়া সম্প্রদায়), অন্তরে বিশ্বাস না করা পর্যন্ত কুফরী কথা বললে, জবরদস্তি ছাড়াই কুফরী কথা উচ্চারণ করলে, কুফরী কাজ করলে, আল্লাহ ও তার রসূলকে গালি দিলে এবং যে কোন প্রকার কুফরী করলেই মুরজিয়াদের নিকট তাকে কাফির বলা যাবে না যতক্ষণ না জানা যায় তার অন্তরে কি আছে। এটাই মুরজিয়া সম্প্রদায়ের বাড়াবাড়ি মূলক কথা। আমরা এ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা কামনা করছি। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ} [النساء: ৫1]
তারা জিবত ও তাগুতের প্রতি ঈমান আনে (সূরা আন নিসা ৪:৫১)। এ আয়াতাংশ দ্বারা ঐসব লোকদের দোষ বর্ণনা করেছেন, যারা বাহ্যিক দৃষ্টিতে জিবত ও ত্বাগুতের প্রতি ঈমান আনেনি, বরং আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতো তারা ভুল পথে আছে এবং মুহাম্মাদ সঠিক পথে আছেন। কিন্তু প্রধান প্রধান ব্যক্তিবর্গ বাহ্যিকভাবে রসূলের সাথে হিংসা ও শত্রুতা বজায় রাখার জন্য তাদেরকে প্ররোচিত করতো। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কাফির বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাউকে কাফির আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাদের কথা প্রত্যাখ্যাত, যারা বলে, কুফরী কথা বললে, কুফরী কর্ম করলে, আল্লাহ ও তার রসূলকে গালি দিলেই তৎক্ষণাৎ মানুষকে কাফির বলা যাবে না, যতক্ষণ না আন্তরিকভাবে তারা তা স্বীকার করে। এ ভ্রষ্টতা থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
📄 ঈমানের উপর কুফরীকে প্রাধান্য দেওয়া
মুসলিমদের বিরূদ্ধে মুশরিকদের দীনকে গুরুত্ব দেয়া।
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদীদের মাধ্যমে যা ঘটেছিল পূর্ববর্তী বিষয়ে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ মাসআলার অন্তর্ভুক্ত বিষয় হচ্ছে, যারা কাফিরদের দীনকে মুসলিমদের দীনের উপর গুরুত্বারোপ করে অথবা উভয় দীনের মাঝে সমতা বিধান করতে চায়। আর ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান ও দীন ইসলামের মাঝে সমন্বয় করার জন্য কাছাকাছি ব্যাখ্যা প্রদানের অপচেষ্টা করে বলে, এসবই আসমানী দীন। তাই এসব দীনের অনুসারীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা বজায় রাখা আবশ্যক।