📄 অভাবগ্রস্তদেরকে অবজ্ঞা করা
অভাবীদেরকে ঘৃণা করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ} [الأنعام: ৫২]
তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না তাদেরকে, যারা নিজ রবকে সকাল সন্ধ্যায় ডাকে (সূরা আন'আম ৬:৫২)।
ব্যাখ্যা: এ বিষয়ের দৃষ্টান্ত পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। জাহিলরা রসূলগণের অনুসরণ পরিত্যাগ করে। তাদের ধারণা, অভাবীরাই রসূলগণের অনুসরণ করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ} [الشعراء: ১১১]
তারা বলল, 'আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে? (সূরা আশ-শু'আরা ২৬:১১১)।
অভাবী ও সমাজে যাদের কোন মর্যাদা নেই তারাই কেবল রসূলের অনুসরণ করে। এরূপ ধারণা পোষণ করাই জাহিলী দীনের রীতি। জাহিলরা অহংকার বশতঃ নাবী জ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আবেদন জানায় যে, ঐসব অভাবীরা যেন তার মজলিশে না বসে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আয়াত নাযিল করে বলেন, { وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِنْ شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ} [الأنعام: ৫২]
আর তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না তাদেরকে, যারা নিজ রবকে সকাল সন্ধ্যায় ডাকে, তারা তার সন্তুষ্টি চায়। তাদের কোন হিসাব তোমার উপর নেই এবং তোমার কোন হিসাব তাদের উপর নেই, ফলে তুমি তাদেরকে তাড়িয়ে দিবে এবং তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে (সূরা আন'আম ৬:৫২)।
নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি তাদেরকে তাড়িয়ে দিতেন, তাহলে তিনি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হতেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لِيَقُولُو أَهَؤُلاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِنَا أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِنَا فَقُلْ سَلامٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءاً بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [الأنعام: ٥٣،٥٤]
আর এভাবেই আমি এককে অপর দ্বারা পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা বলে, 'এরাই কি, আমাদের মধ্য থেকে যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞাত নয়? আর যারা আমার আয়াতসমূহের উপর ঈমান আনে, যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তুমি বল, 'তোমাদের উপর সালাম। তোমাদের রব তাঁর নিজের উপর লিখে নিয়েছেন দয়া, নিশ্চয় যে তোমাদের মধ্য থেকে না জেনে খারাপ কাজ করে তারপর তাওবা করে এরপরে শুধরে নেয়, তবে তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু (সূরা আন'আম ৬: ৫৩,৫৪)।
যে হকের অনুসরণ করে, অভাবী হলেও সে আল্লাহ তা'আলার নিকট তিনি সম্মানিত। যে ভালকাজের উপযুক্ত তার জন্য মজলিশে জায়গা করে দিতে হবে। আর যে হক্ব থেকে বিমুখ ও অহংকারী সে এ সম্মানের উপযুক্ত নয়। কেননা, সে নিজেই নিজেকে অপমানিত করেছে। তাই সে দুরিভূত, বরখাস্ত ও পরিত্যাজ্য।
📄 নিয়্যত ও উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে ঈমানদারকে অপবাদ দেয়া
রসূলের অনুসারীরা একনিষ্ঠ নয়, দুনিয়া প্রেমিক এ কথা বলে জাহিলরা ঈমানদারদের অপবাদ দেয়। আল্লাহ তা'আলা জাহিলদের জবাবে বলেন, {مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: ٥২] তাদের কোন হিসাব তোমার উপর নেই (সূরা আল-আন'আম ৬:৫২)। এরূপ আরো আয়াত আছে।
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা: অভাবীরা দুনিয়া উপভোগের জন্যই ঈমান এনেছে এ বলে জাহিলরা তাদেরকে অপবাদ দেয়। যেমন ফেরআউনের সম্প্রদায় মূসা আলাইহিস সালাম ও তার ভাই হারুন আলাইহিস সালামকে অপবাদ দিয়েছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُرِيدُ أَنْ يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ} [المؤمنون: ٢٤] এতো তোমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া কিছুই না। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায় (সূরা আল-মু'মিনূন ২৩:২৪)।
সম্মান ও নেতৃত্বের মোহে জাহিলরা নাবীগণকে অপবাদ দিতো। আর অভাবী মু'মিনদেরকে তারা দোষারোপ করতো এ কারণে যে, তারা নাকি রসূলের অনুসরণের মাধ্যমে ধনাঢ্যতা ও প্রাচুর্যতা অর্জন করতে চায়。
আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ} [الأنعام: ٥২]
আর তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না তাদেরকে, যারা নিজ রবকে সকাল সন্ধ্যায় ডাকে, তারা তার সন্তুষ্টি চায় (সূরা আল-আন'আম ৬:৫২)।
মু'মিনরা দুনিয়া চায় জাহিলদের এ অপবাদের কথা আল্লাহ তা'আলা উক্ত আয়াতে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন )يُرِيدُونَ وَجْهَهُ( অর্থাৎ তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়। অতঃপর তিনি মু'মিনদের একনিষ্ঠতাকে প্রমাণ করেছেন。
📄 ঈমানের মূলনীতিসমূহ অস্বীকার করা
ফেরেস্তামন্ডলী, নাবী-রসূল ও আসমানী কিতাব সমূহকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া, আখেরাত অবিশ্বাস করা এবং আল্লাহর সাক্ষাতকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা
ব্যাখ্যা: এ সব মেনে না নেয়াই জাহিলী সমস্যা। আসমানী কিতাব, নাবী-রসূল, ফেরেস্তামন্ডলী, আখেরাত ও আল্লাহর সাক্ষাতকে জাহিলরা বিশ্বাস করে না। এসব অদৃশ্য বিষয় যা তারা বিশ্বাস করে না। যারা অদৃশ্যে বিষয়ে বিশ্বাসী তারাই কেবল এসবের প্রতি ঈমান আনে। অদৃশ্যে বিশ্বাস না করার কারণেই জাহিলরা ফেরেস্তামন্ডলী, কিতাব, নাবী-রসূল ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আনে না। এ জন্য যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস রাখে কুরআনের শুরুতেই আল্লাহ তা'আলা তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ ... هُدًى لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ ... } [البقرة: ٢، ٣]
আল্লাহ, ফেরেস্তা, আসমানী কিতাব, অহী এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান সবই অদৃশ্যে বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। আর জাহিলরা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে না। এ কারণে তারা কুফুরী করে। কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাক্ষাতকেও তারা অস্বীকার করে।
📄 রসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন, তার কিছু অংশকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা
রসূলগণ কিয়ামত সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছেন তার কিছু অংশকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ} [الكهف: ١٠٥]
তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তার সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে (সূরা আল কাহাফ ১৮:১০৫)।
{مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: ٤]
বিচার (পুনরুত্থান বা প্রতিদান) দিবসের (একমাত্র) মালিক (এবং বিচারক) (সূরা আল ফাতিহা ১:৪)।
{لا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ} [البقرة: ٢٥٤]
যে দিন থাকবে না কোন-বেচাকেনা, না কোন বন্ধুত্ব এবং না কোন সুপারিশ (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২৫৪)।
{إِلَّا مَنْ شهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [الزخرف: ٨٦]
তবে তারা ব্যতীত যারা জেনেশুনে সত্য সাক্ষ্য দেয় (সূরা আয যুখরুফ ৪৩:৮৬)। এ সকল আয়াতকে তারা মিথ্যাপ্রতিপন্ন করে।
ব্যাখ্যা: জাহিলদের কেউ সম্পূর্ণভাবে আখেরাতকে অবিশ্বাস করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ وَقَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا} [الأنعام: ٢٩]
আর তারা বলেছিল, 'আমাদের এ দুনিয়ার জীবন ব্যতীত কিছু নেই (সূরা আল-আন'আম ৬:২৯)।
তাদের কেউ আখেরাত বিশ্বাস করে কিন্তু তাতে সংঘটিতব্য কতিপয় বিষয়কে তারা অস্বীকার করে। যেমন আখেরাতে হিসাব-নিকাশ, দাড়ি পাল্লায় আমলের ওজন ও জান্নাত-জাহান্নাম অস্বীকার করা। জাহিলদের কতিপয় এসব সম্পূর্ণ অবিশ্বাস করে。
আবার কতিপয় আংশিক অস্বীকার করে। যারা আংশিক অবিশ্বাস করে তারা মূলতঃ সম্পূর্ণ অস্বীকারকারীর মতই। এখানে বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। তারা কুরআনের কিছু অংশ বিশ্বাস করে আর কিছু অংশ বিশ্বাস করে না。
আল্লাহ তা'আলা বলেন, {قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالاً الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعاً أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْناً} [الكهف: ١٠٣-١٠٥]
বল, আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত? দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে! তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তার সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়েছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না। সূরা আল কাহাফ ১৮:১০৩-১০৫
তাদের মাঝে কেউ আখেরাতের হিসাব-নিকাশ মিথ্যা মনে করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: ٤]
বিচার (পুনরুত্থান বা প্রতিদান) দিবসের (একমাত্র) মালিক (এবং বিচারক) (সূরা ফাতিহা ১:৪)।
এখানে দীন বলতে হিসাব-নিকাশ ও কর্মের প্রতিফল দিবসকে বুঝানো হয়েছে। আর জাহিলরা এটাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِي يَوْمٌ ... } [البقرة: ٢٥٤]
হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে রিক দিয়েছি তা হতে ব্যয় কর, সে দিন আসার পূর্বে, যে দিন থাকবে না কোন-বেচাকেনা, না কোন বন্ধুত্ব এবং না কোন সুপারিশ। আর কাফিররাই যালিম (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২৫৪)।
আর এ দিনটিই হচ্ছে বিচার দিবস।
আল্লাহ তা'আলা বলেন {مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لا بَيْعٌ فِيهِ وَلا خُلَّةٌ وَلا شَفَاعَةٌ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [البقرة: [٢٥٤
সে দিন আসার পূর্বে, যে দিন থাকবে না কোন-বেচাকেনা, না কোন বন্ধুত্ব এবং না কোন সুপারিশ। আর কাফিররাই যালিম (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২৫৪)।
কিয়ামতের দিন কারো সৎ আমল না থাকলে তার মুক্তি লাভের কোন উপায় থাকবে না। দুনিয়াতে মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিস বেচা-কেনা করে কিন্তু এ দিনে কোন আমল বেচা-কেনা হবে না। যেমন আল্লাহর বাণী: )وَلا حُلَّةٌ(
দুনিয়াতে কোন প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে না পেলে মানুষ তার বন্ধুর শরণাপন্ন হয়, অতঃপর বন্ধুর নিকট থেকে তা গ্রহণ করে। কিন্তু কিয়ামতের দিন কোন উপকারী বন্ধু পাওয়া যাবে না। এমনকি নিজের বন্ধুও কোন কাজে আসবে না। আর কেউ কারো জন্য সুপারিশও করবে না। অবশ্য দুনিয়াতে সুপারিশ করার মাধ্যম পাওয়া যায়। কিন্তু কিয়ামতের দিন তা পাওয়া সম্ভব নয় (আল্লাহর অনুমতি ছাড়া)। যেমন আল্লাহর বাণী )وَلا شَفَاعَةُ( সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। কিয়ামতের দিন সুপারিশের সকল মাধ্যম ছিন্ন হয়ে গেলে আর কোন উপায় থাকবে না। কেবল সৎ আমলের মাধ্যমেই মানুষ সেদিন অগ্রগামী হবে। আর সর্বোত্তম সৎ আমল হচ্ছে, আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করা ও শিরক থেকে বিরত থাকা। এ জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [الزخرف: [٨٦
তিনি ছাড়া যাদেরকে তারা আহবান করে তারা সুপারিশের মালিক হবে না; তবে তারা ব্যতীত যারা জেনে-বুঝে সত্য সাক্ষ্য দেয় (আয-যুখরুফ ৪৩:৮৬)।
আল্লাহর বাণী: }شَهِدَ بِالحق{ অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে )لا إله إلا الله( এ কালিমা পাঠ করতঃ তার উপরই মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামতের দিন তার জন্য তা যথেষ্ট হবে না। বরং এর অর্থ জানাও তার জন্য আবশ্যক। এজন্য আল্লাহ তা'আলা আয়াতাংশে বলেন, )وَهُمْ يَعْلَمُونَ( অর্থাৎ তারা এর অর্থ জানবে। তাই অর্থ বুঝা ব্যতিরেকে শুধুমাত্র কালেমা পাঠ করা যথেষ্ট নয়। আর কালেমার চাহিদা অনুসারে আমল ব্যতীত তা পাঠ করা ও অর্থ বুঝা কোনটিই যথেষ্ট নয়। আর ইলম-জ্ঞান হচ্ছে আমল করার মাধ্যম। ফলতঃ জ্ঞান না থাকলে শুধু কালেমা (لا إله إلا الله) পাঠ করা কারো জন্য কাজে আসবে না।