📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 নেকলোকদের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও তাদের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে অহংকার করা

📄 নেকলোকদের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও তাদের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে অহংকার করা


এ কারণে জাহিলরা নিন্দনীয়; তারা কিতাব অনুসরণের পরিবর্তে কাবা ঘরের খেদমত করে পূণ্য অর্জন করতে চাইতো। তারা ধারণা করতো যে, এটাই তাদের জন্য যথেষ্ট, মূলতঃ তা জাহিলী কর্ম। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَوُونَ عِنْدَ اللَّهِ} [التوبة: ١٩]
তোমরা কি হাজীদের পানি পান করান ও মাসজিদুল হারাম আবাদ করাকে ঐ ব্যক্তির মত বিবেচনা কর, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারা আল্লাহর নিকট বরাবর নয় (সূরা আত-তাওবা ৯:১৯)।

তবে হ্যাঁ, হাজীদের পানি পান করানো, মসজিদে হারাম আবাদ করা হচ্ছে সৎ আমল। কিন্তু এ কাজের মাধ্যমে অহংকার করা যাবে না। আর ধারণা করা যাবে না যে, এটাই যথেষ্ট। বরং অন্যান্য সৎ আমল করাও আবশ্যক, যা হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদে হারাম আবাদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা (الجهاد في سبيل الله), আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা (والإيمان بالله), হিজরত করা (والهجرة) ও সৎকাজ করা (وأعمال جليلة)।

মানুষ কোন সৎ আমলকে যথেষ্ট মনে করে বসে থাকতে পারে না। বিশেষত কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের চেয়ে অন্য আমল যথেষ্ট নয়। বর্তমানে যারা ধারণা করে যে, মক্কা মদিনায় বসবাস করা আমলের চেয়ে যথেষ্ট, তাদের কেউ বলে, হারাম এলাকায় ঘুমন্ত ব্যক্তি অন্য এলাকায় দন্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে ভাল। এটাই শয়তানের ধোঁকা।

নাবীগণের বংশধর হওয়ার কারণে অহংকার করা। এব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ} [البقرة: ١٣٤]
সেটা এমন এক উম্মত যা বিগত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্যই, (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৩৪)।

ব্যাখ্যা: বনী ইসরাঈলের কর্মকান্ড হলো নাবীগণের বংশধর হওয়ার কারণে তারা অহংকার করতো, কিন্তু তাদের অনুসরণ করতো না। বিশেষত শেষ নাবী মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেও তারা অনুসরণ করতো না। অথচ তাদের উপর ওয়াজীব ছিল যে, তার অনুসরণ করা। তারা বলতো, আমরা নাবীগণের বংশধর এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তারা তাদের অনুসরণ করতো না। আল্লাহ তা'আলা তাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন,
{ تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ} [البقرة: ١٣٤]
সেটা এমন এক উম্মত যা বিগত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্যই, (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৩৪)।

মানুষকে তার নিজের আমল দিয়েই মূল্যায়ন করা হবে; অন্যের আমল দিয়ে নয়। নাবীগণ হলেন সৃষ্টির সেরা মানুষ। কিন্তু তাদের অনুসরণ না করলে তারা তাদের বংশধরদের কোন কাজেই আসবে না। নাবীগণের আমল নাবীদের উপরই বর্তাবে আর বংশধরদের আমল তাদের নিজেদের উপরই বর্তাবে। অনুরূপভাবে যারা তাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের কৃতিত্ব নিয়ে অহংকার করে তারা ধারণা করে যে, বাপ-দাদারা সৎ ও আলেম হওয়ার কারণে আমলের চেয়ে তারাই যথেষ্ট। অনুরূপভাবে বাইতুল্লাহর অধিবাসীরাও নিজেদেরকে বাইতুল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করে ধারণা করে যে, সৎ আমলের চেয়ে বাইতুল্লাহর অধিবাসী হওয়াই যথেষ্ট। এটাই হলো তাদের দৃষ্টিভঙ্গি

অনুরূপভাবে যারা নাবীর আমল অথবা মর্যাদা অথবা ওলী-আওলীয়া ও নেকলোকদের আমলকে মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে, তাদের সাথে অন্যের আমলের সম্পর্ক কি? তাদের আমল তাদের জন্যই নির্ধারিত, আমাদের আমল আমাদের জন্যই নির্ধারিত। ঐ নেকলোকদের আমল আমাদের জন্য কাজে আসবে না। কিয়ামতের দিন কেউ কারো উপকারে আসবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [البقرة: ١٣٤] ،
তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্যই, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্যই। আর তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে না (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৩৪)।

নিজেদের জন্য আমল করা ব্যতীরেকেই যারা আওলীয়া, নেকলোক ও তাদের আমলকে ওসীলা হিসাবে গ্রহণ করে অথবা নেকলোক ও নাবীদের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করা অথবা তাদের নৈকট্য লাভ করা করা যথেষ্ট মনে করে এ আয়াতের মাধ্যমে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, يا معشر قريش اشتروا أنفسكم لا أغني عنكم من الله شيئاً، يا عباس عم رسول الله، يا صفية عمة رسول الله، لا أغني عنكم كمن الله شيئاً، يا فاطمة بنت محمد، سليني من مالي ما شئت، لا أغني عنك من الله شيئاً" ،
হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা আত্ম রক্ষা কর। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবো না। হে রসূলের চাচা আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবো না। হে সাফিয়া! আল্লাহর রসূলের ফুফু, আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবো না। হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবো না।৬৯

অতঃপর রসূল বলেন, আমি মানুষের চেয়ে আল্লাহর অধিক নৈকট্য অর্জনকারী। আমি আল্লাহর আযাব থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারবো না। তাই রসূল অথবা রসূলের নৈকট্য অথবা আওলীয়া ও নেকলোকদের নৈকট্যর দিকে সম্পৃক্ত করা অথবা তাদের মর্যাদাকে ওসীলা হিসাবে গ্রহণ করা কিয়ামতের দিন কারো কোন উপকারে আসবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন
{ يَوْمَ لا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِنَفْسٍ شَيْئاً وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ} [আল-ইনফিতার : ১৯]
সেদিন কেউ কারো কোন কিছুর ক্ষমতা রাখবে না। আর সেদিন সকল বিষয় হবে আল্লাহর কর্তৃত্বে (সূরা ইনফিতার ৮২:১৯)। তিনি আরো বলেন,
{ يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْكُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ} [আবাসা: ৩৪-৩৭]
সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে; সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই একটি গুরুতর অবস্থা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে (সূরা আবাসা ৮০:৩৪-৩৭)। কিয়ামতের দিন প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। এমনকি ঈসা আলাইহিস সালাম বলবেন, হে রব! আমার প্রসবকারিণী মাতা মারইয়ামের ব্যাপারে তোমার নিকট কোন সাহায্য চাচ্ছি না। আমি নিজের মুক্তির জন্যই সাহায্যে চাই。

টিকাঃ
৬৯. জ্বহীহ বুখারী, হা/২৭৫৩, ৩৫২৭, ৪৭৭১, জ্বহীহ মুসলিম হা/২০৬।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 নিজেদের পেশা নিয়ে অন্যদের উপর গর্ব-অহংকার করা

📄 নিজেদের পেশা নিয়ে অন্যদের উপর গর্ব-অহংকার করা


কৃতিত্বের মাধ্যমে অহংকার করা। যেমন (শীত ও গ্রীষ্ম কালীন) এ দু'মৌসুমে ব্যবসা নিয়ে চাষীদের সাথে সফররত ব্যবসায়ীর অহংকার করা।

ব্যাখ্যা: ব্যবসায়ী তার ব্যবসা নিয়ে পেশাজীবি, কাঠ মিস্ত্রি ও কামারের সাথে দাম্ভিকতা দেখায়। আর চাকুরীজীবি তার চাকুরী নিয়ে চাকুরীহীনদের সাথে অহংকার করে। মুসলিম কখনো অন্যকে অবহেলা করে না। কোন মানুষই সাধারণভাবে কাউকে অবজ্ঞা করতে পারে না। মুসলিম কিভাবে তার পেশা নিয়ে অপরকে অবহেলা করতে পারে, তার পেশা ছাড়া কি আর পেশা নেই? এটাই জাহিলী কর্ম。

যেমন আল্লাহ তা'আলা দু'মৌসুমে ভ্রমণরত কুরাইশ ব্যবসায়ীদের কথা (সূরা কুরাইশে) উল্লেখ করেন। আল্লাহ তা'আলা সফররত দু'দল কুরাইশ ব্যবসায়ীর উপর অনুগ্রহ করেছিলেন। একটি হলো শীত কালীন সময়ে ইয়ামানের দিকে ভ্রমণরত ব্যবসায়ী দল, অপরটি গ্রীষ্ম কালীন সময়ে সিরিয়ার ব্যবসায়ী দল। সফরকারী ব্যবসায়ী হওয়ায় এ দু'দলই মানুষের প্রতি দাম্ভিকতা প্রদর্শন করতো। ফসল উৎপাদনকারী চাষীদের সাথে তারা অহংকার করতো। আর যারাই তাদের কৃতিত্ব ও চাকুরী নিয়ে অন্যদের সাথে অহংকার করবে তারাই জাহিল হিসাবে গণ্য হবে। মানুষ দাম্ভিক হতে পারে না। যাদের পেশা-কর্ম সম্মানজনক নয় এ দাম্ভিকতার কারণে তাদেরকে ছোট করা হয়। যেমন কামার ও কাঠমিস্ত্রি। এ অহমিকার বদস্বভাব কিছু মানুষের মাঝে থেকেই গেছে। এভাবে যারা মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে অবহেলা করে তারাও জাহিলদের অন্তর্ভুক্ত। ইমামতির দায়িত্ব উত্তম চাকুরী, যা ছিল রসূল এর কাজ। অনুরূপভাবে মুয়াজ্জিনের দায়িত্বও উত্তম চাকুরী। সুতরাং ইমামতি ও মুয়াজ্জিনী সম্মানজনক পেশা। এ পেশা দু'টি মন্ত্রির দায়িত্ব ও সকল পেশার চেয়েও সম্মানজনক।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 দুনিয়া নিয়েই আনন্দে থাকা

📄 দুনিয়া নিয়েই আনন্দে থাকা


জাহিলদের অন্তরে দুনিয়াই বড় বিষয়। যেমন তারা বলে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَقَالُوا لَوْلا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمِ} [الزخرف: ٣١]
তারা বলল, 'এ কুরআন কেন দু'জনপদের মধ্যকার কোন মহান ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ করা হল না? (সূরা যুখরুফ ৪৩:৩১)।

ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হলো জাহিলদের অন্তর পার্থিব মোহে আচ্ছন্ন। যার নিকট পার্থিব চাকচিক্যই প্রধান সে জাহিলদের কাছে সম্মানিত। আর যার নিকট দুনিয়া প্রিয় নয় সে তাদের কাছে অপমানিত ও অবহেলিত। রিসালাতের ব্যাপারেও তারা কুমন্তব্য করে বলে, তা কেবল ধনীদের মাঝে থাকাই আবশ্যক, গরীবদের মাঝে নয়। অথচ তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়। আর তারা বলে, আল্লাহ তা'আলা আবূ তালেবের ইয়াতিম ভাতিজা অর্থাৎ মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া রিসালাত দেয়ার মত আর কাউকে পেল না? আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَقَالُوا لَوْلا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمِ} [الزخرف: ٣١]
তারা বলল, 'এই কুরআন কেন দু'জনপদের মধ্যকার কোন মহান ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ করা হল না? (সূরা যুখরুফ ৪৩:৩১)।

মক্কা ও তায়েফ এ দু'শহর রিসালাতের জন্য উপযোগী। মক্কার ওয়ালীদ ইবনু মুগীরাহ অথবা তায়েফের হাবীব ইবনু আমর আছ-ছাক্বাফী এ দু'জনের কোন একজন রিসালাত পাওয়ার উপযুক্ত ছিল। জাহিলদের কারো মতে, তায়েফের উরওয়া ইবনে মাসউদ রিসালাতের উপযুক্ত ছিল। জাহিলরা বলতো, এ দু'জনের কোন একজন রিসালাত পাওয়ার উপযুক্ত ছিল। ইয়াতিম মুহাম্মাদ কে রিসালাত দেয়া হলো অথচ জাহিলদের নিকট সে রিসালাতের উপযুক্ত নয়।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 আল্লাহর বিধান সংশোধন করা ও কর্তৃত্ব লাভ করতে চাওয়া

📄 আল্লাহর বিধান সংশোধন করা ও কর্তৃত্ব লাভ করতে চাওয়া


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ} [الزخرف: ٣٢]
তারা কি তোমার রবের রহমত ভাগ-বন্টন করে? (সূরা যুখরুফ ৪৩:৩২)। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার ক্রিয়া-কর্মে তারা সম্পৃক্ত হতে চায়। আর আল্লাহ তা'আলার রহমতকে তারা বন্টন করতে চায়। তাই আল্লাহ তা'আলার বন্টন নীতিকে তারা বিশ্বাস করে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [الأنعام: ١٢٤] আল্লাহ ভালো জানেন, তিনি কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন (সূরা আন'আম ৬:১২৪)।

আল্লাহ তা'আলার উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাওয়া। যেমন পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা: আল্লাহর উপর প্রভাব বিস্তার করতে চাওয়া। অর্থাৎ পরামর্শ দিতে চাওয়া। আল্লাহ তা'আলা এ প্রসঙ্গে বলেন,
{لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً} [الفرقان: ٣২] তার উপর পুরো কুরআন একসাথে নাযিল হলো না কেন? (সূরা যুখরুফ ২৫:৩২)।

তারা আল্লাহ তা'আলাকে পরামর্শ দিতে চায় আর বলে, আল্লাহ তা'আলা কেন পৃথকভাবে কুরআন নাযিল করেন, তিনি একত্রে কুরআন নাযিল করেননি কেন? জাহিলরা যা বুঝে না এবং যে বিষয়ে তাদের জ্ঞান নেই সে ব্যাপারে তারা হস্তক্ষেপ করতে চায়। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা পৃথকভাবে কুরআন নাযিলের তাৎপর্য বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
{كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلاً وَلاَ يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلاَّ جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً} [الفرقان: ৩৩]
আর তারা তোমার কাছে যে কোন বিষয়ই নিয়ে আসুক না কেন, আমি এর সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা তোমাকে কাছে নিয়ে এসেছি (সূরা যুখরুফ ২৫:৩২)। তিনি আরো বলেন,
{وَقُرْآناً فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلاً} [الإسراء : ১০৬]
আর কুরআন নাযিল করেছি কিছু কিছু করে, যেন তুমি তা মানুষের কাছে পাঠ করতে পার ধীরে ধীরে এবং আমি তা নাযিল করেছি পর্যায়ক্রমে (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:১০৬)।

সময়োপযোগী আমলের সহজতার জন্যও তিনি কুরআন ধীরে ধীরে নাযিল করেন। যদি তিনি কুরআন একত্রে নাযিল করতেন তাহলে মানুষ আমল করতে অপারগ হতো। অনুরূপভাবে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি একটু একটু করে কুরআন নাযিল করেছেন। প্রত্যেক আকস্মিক ঘটনা অথবা কোন প্রেক্ষাপটে হুকুম বর্ণনার জন্য কুরআন পর্যায়ক্রমে নাযিল হয়েছে। এটাই পৃথকভাবে কুরআন নাযিলের তাৎপর্য। যুগে যুগে এরূপ অবান্তর পরামর্শের লোক বিদ্যমান রয়েছে। তারা বিধানের মূল রচনায় হস্তক্ষেপ করতে চায়। আল্লাহ ও তার রসূলের উপর অবান্তর প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলে, যদি বিধানের মূল রচনা এরূপ হতো, যদি হাদীছ এরূপ এরূপ হতো। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [الحجرات: ১]
হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সামনে অগ্রবতী হয়ো না (সূরা হুজরাত ৪৯:১)।

তোমরা আল্লাহ ও তার রসূলের উপর প্রস্তাবনা দিবে না। বরং তোমাদের উপর আবশ্যক হলো আল্লাহর উপর ঈমান আনা এবং তিনি যা নাযিল করেছেন পরামর্শ ও প্রস্তাবনা ছাড়াই তদনুযায়ী আমল করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00