📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 অন্যের অপরাধে নিরপরাধকে শাস্তি দেয়া

📄 অন্যের অপরাধে নিরপরাধকে শাস্তি দেয়া


জাহিলদের দীনের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলো একজনের অপরাধে আরেকজনকে শাস্তি দেয়া। আল্লাহ তা'আলা এ প্রসঙ্গে বলেন,
وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [ফাত্বির: ১৮]
কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না (সূরা ফাতির ৩৫:১৮)।

ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হলো তারা নিরপরাধকে পাঁকড়াও করতো অর্থাৎ অপরের অন্যায়ের কারণে তাকে শাস্তি দিতো। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এ ব্যাপারে বলেন,
وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [ফাত্বির: ১৮]
কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না (সূরা ফাতির ৩৫:১৮)।

সুতরাং যে অন্যায় করেনি তাকে অন্যের অপরাধের কারণে শান্তি দেয়া যাবে না। যদিও সে অপরাধী ভাতিজা অথবা পিতা অথবা সন্তান হয়। অপরাধীকেই শান্তি দেয়া হবে। নিরীহকে সীমালঙ্ঘনকারীর অপরাধের কারণে শাস্তি দেয়া যাবে না। সীমালঙ্ঘনকারীর অন্যায়ের কারণে নিরপরাধকে শান্তি দেয়া হলে তা হবে যুলুম ও অত্যাচার যা ইসলাম স্বীকৃতি দেয় না。

বর্তমানে কতিপয় গ্রাম্যলোকের অবস্থা: অন্য গোত্রের কোন সাধারণ লোকের সাথে নিজ গোত্রের কারো দ্বন্দ্ব হলে গ্রাম্যলোকেরা ঐ সাধারণ লোকের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে না। বরং তাদের গোত্রের অধিক মর্যাদা সম্পন্ন ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ হতে প্রতিশোধ গ্রহণ করে অথবা হত্যা করে। তারা সীমা লঙ্ঘনকারীকে শান্তি দেয় না। বরং তারা কেবল গোত্রের সম্মানিত অথবা গ্রহণযোগ্য অথবা পদ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে শাস্তি দেয় যা জাহিলী কর্ম। অন্যায়ের অপরাধীকেই শান্তির জন্য নির্দিষ্ট করা ওয়াজীব। তার নিকট থেকেই অপরাধের প্রতিশোধ নিতে হবে। এটাই ন্যায় বিচার। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ} [البقرة: ١٩٤]
সুতরাং যে তোমাদের উপর আক্রমণ করেছে, তোমরা তার উপর আক্রমণ কর, যেরূপ সে তোমাদের উপর আক্রমণ করেছে (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৯৪)।

মোদ্দা কথা: সবচেয়ে বড় মূলনীতি হলো অপরাধীর সাথেই অপরাধকে নির্দিষ্ট করতে হবে, অন্যের সাথে নয়। যদি বলা হয় যে, আল্লাহ তা'আলা ভুলের ধার্য্যকৃত ক্ষতিপূরণ নিহতের রক্তমূল্য পরিশোধকারীর উপর নির্ধারণ করেছেন। হত্যাকারীর উপর নির্ধারণ করেননি। তাহলে এ ক্ষেত্রে অন্যের পাপ আরেকজন কি বহন করে না?

জবাবে বলা হবে, এটাই ন্যায় বিচার ও সত্যের সহযোগিতা। কেননা, এটা হত্যাকারীর অনিচ্ছাকৃত ভুল। এখানে ব্যক্তিকে সাহায্যে করাই যথাযথ। মানুষ মারা গেলে আত্মীয়-স্বজনরা যেমন মৃতের সম্পদের ওয়ারীস হয়, এটিও তেমনই। অনিচ্ছাকৃত যে ভুল হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ তার পক্ষ থেকে বহন করবে। অপর দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায়কারীর উপরই তার অন্যায়ের শাস্তি বা ক্ষতিপূরণ বর্তাবে। একারণে ক্ষতিপূরণ করতে ইচ্ছুকের উপর তা বর্তাবে না।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 কাউকে অন্যের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরে গালমন্দ করা

📄 কাউকে অন্যের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরে গালমন্দ করা


অন্যকে গালি দেয়া। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একব্যক্তিকে বললেন, "أَعَيَّرَتَهُ بأمه؟ إنك امرؤ فيك جاهلية" তুমি তার মাকে গালি দিলে? তুমিতো এমনলোক যার মাঝে এখনও জাহিলীয়াত আছে।৬৭

ব্যাখ্যা: এটা আবূ যার রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কাহিনী; ইসলাম গ্রহণকারী পূর্ববর্তী মর্যাদাবান ছাহাবীদের কোন একজনের ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন, হে কালোর বেটা! ঐ ছাহাবীর মা ছিল কালো। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা শুনে আবু যার রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, أَعَيَّرَتَهُ بأمه؟ إنك امرؤ فيك جاهلية তুমি তার মাকে গালি দিলে?! তুমিতো এমন লোক যার মাঝে এখনও জাহিলীয়াত আছে।৬৮

সুতরাং কোন ব্যক্তিকে এমন বিষয়ে গালমন্দ করা যা তার মাঝে নেই, বরং অন্যের মাঝে আছে অথবা তার বংশের বদনাম করা সবই জাহিলী কর্ম। কারো মাঝে জাহিলী স্বভাবের কিছু বিদ্যমান থাকলেই কাফির হবে না。

টিকাঃ
৬৭. ছহীহ বুখারী হা/৩০, ৬০৫০, জ্বহীহ মুসলিম হা/১৬৬১。
৬৮. দ্বহীহ বুখারী হা/৩০, ৬০৫০, জ্বহীহ মুসলিম হা/১৬৬১।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 ভালকাজ করে অহংকার করা

📄 ভালকাজ করে অহংকার করা


বাইতুল্লাহর কর্তৃত্ব গ্রহণ করে অহংকার করা। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ভর্ৎসনা করে বলেন,
{مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ سَامِراً تَهْجُرُونَ} [المؤمنون : ٦٧]
এর উপর অহঙ্কারবশে, রাত জেগে অর্থহীন গল্প-গুজব করতে করতে (সূরা মু'মিনূন ২৩:৬৭)।

ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হলো হারাম এলাকার অধিবাসী হয়ে পবিত্র কাবা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণ, তত্ত্বাবধান, কাবা ঘরের দিকে আগমনকারীদের সেবা-যত্ন ও হাজীদের পানি পান করানোর কারণে জাহিলরা অহংকার করতো।
{مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ} [المؤمنون: ٦٧]
এর উপর অহঙ্কারবশে (সূরা মুমিনূন ২৩:৬৭)।

অর্থাৎ বাইতুল্লাহর কর্তৃত্ব গ্রহণ করা, পবিত্র কাবা শরীফ ও তার দিকে আগমনকারীদের খেদমত করার মাধ্যমে জাহিলরা অন্যান্য আরববাসীর উপর অহংকার করতো। এসবই জাহিলী কর্ম। কেননা, পবিত্র কাবার খেদমত করা ইবাদত। ইবাদতের মাধ্যমে অহংকার করা মানুষের জন্য বৈধ নয়। কারণ ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ হয়, মানুষের প্রশংসা লাভ করা উদ্দেশ্যে নয়। বরং এসব ভাল কাজের সুযোগ লাভের জন্য আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করতে হয়। অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করতে হয় না। নাবী-রসূল ও আসমানী কিতাব অনুসরণের পরিবর্তে জাহিলরা কাবার খেদমতের মাধ্যমে দাম্ভিকতা প্রদর্শন করতো। তারা ধারণা করতো যে, কিতাব ও নাবী-রসূলের অনুসরণের চেয়ে কাবা কেন্দ্রীক এসব আমলই তাদের জন্য যথেষ্ট।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 নেকলোকদের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও তাদের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে অহংকার করা

📄 নেকলোকদের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও তাদের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে অহংকার করা


এ কারণে জাহিলরা নিন্দনীয়; তারা কিতাব অনুসরণের পরিবর্তে কাবা ঘরের খেদমত করে পূণ্য অর্জন করতে চাইতো। তারা ধারণা করতো যে, এটাই তাদের জন্য যথেষ্ট, মূলতঃ তা জাহিলী কর্ম। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَوُونَ عِنْدَ اللَّهِ} [التوبة: ١٩]
তোমরা কি হাজীদের পানি পান করান ও মাসজিদুল হারাম আবাদ করাকে ঐ ব্যক্তির মত বিবেচনা কর, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারা আল্লাহর নিকট বরাবর নয় (সূরা আত-তাওবা ৯:১৯)।

তবে হ্যাঁ, হাজীদের পানি পান করানো, মসজিদে হারাম আবাদ করা হচ্ছে সৎ আমল। কিন্তু এ কাজের মাধ্যমে অহংকার করা যাবে না। আর ধারণা করা যাবে না যে, এটাই যথেষ্ট। বরং অন্যান্য সৎ আমল করাও আবশ্যক, যা হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদে হারাম আবাদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা (الجهاد في سبيل الله), আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা (والإيمان بالله), হিজরত করা (والهجرة) ও সৎকাজ করা (وأعمال جليلة)।

মানুষ কোন সৎ আমলকে যথেষ্ট মনে করে বসে থাকতে পারে না। বিশেষত কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের চেয়ে অন্য আমল যথেষ্ট নয়। বর্তমানে যারা ধারণা করে যে, মক্কা মদিনায় বসবাস করা আমলের চেয়ে যথেষ্ট, তাদের কেউ বলে, হারাম এলাকায় ঘুমন্ত ব্যক্তি অন্য এলাকায় দন্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে ভাল। এটাই শয়তানের ধোঁকা।

নাবীগণের বংশধর হওয়ার কারণে অহংকার করা। এব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ} [البقرة: ١٣٤]
সেটা এমন এক উম্মত যা বিগত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্যই, (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৩৪)।

ব্যাখ্যা: বনী ইসরাঈলের কর্মকান্ড হলো নাবীগণের বংশধর হওয়ার কারণে তারা অহংকার করতো, কিন্তু তাদের অনুসরণ করতো না। বিশেষত শেষ নাবী মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেও তারা অনুসরণ করতো না। অথচ তাদের উপর ওয়াজীব ছিল যে, তার অনুসরণ করা। তারা বলতো, আমরা নাবীগণের বংশধর এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তারা তাদের অনুসরণ করতো না। আল্লাহ তা'আলা তাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন,
{ تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ} [البقرة: ١٣٤]
সেটা এমন এক উম্মত যা বিগত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্যই, (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৩৪)।

মানুষকে তার নিজের আমল দিয়েই মূল্যায়ন করা হবে; অন্যের আমল দিয়ে নয়। নাবীগণ হলেন সৃষ্টির সেরা মানুষ। কিন্তু তাদের অনুসরণ না করলে তারা তাদের বংশধরদের কোন কাজেই আসবে না। নাবীগণের আমল নাবীদের উপরই বর্তাবে আর বংশধরদের আমল তাদের নিজেদের উপরই বর্তাবে। অনুরূপভাবে যারা তাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের কৃতিত্ব নিয়ে অহংকার করে তারা ধারণা করে যে, বাপ-দাদারা সৎ ও আলেম হওয়ার কারণে আমলের চেয়ে তারাই যথেষ্ট। অনুরূপভাবে বাইতুল্লাহর অধিবাসীরাও নিজেদেরকে বাইতুল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করে ধারণা করে যে, সৎ আমলের চেয়ে বাইতুল্লাহর অধিবাসী হওয়াই যথেষ্ট। এটাই হলো তাদের দৃষ্টিভঙ্গি

অনুরূপভাবে যারা নাবীর আমল অথবা মর্যাদা অথবা ওলী-আওলীয়া ও নেকলোকদের আমলকে মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে, তাদের সাথে অন্যের আমলের সম্পর্ক কি? তাদের আমল তাদের জন্যই নির্ধারিত, আমাদের আমল আমাদের জন্যই নির্ধারিত। ঐ নেকলোকদের আমল আমাদের জন্য কাজে আসবে না। কিয়ামতের দিন কেউ কারো উপকারে আসবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [البقرة: ١٣٤] ،
তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্যই, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্যই। আর তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে না (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৩৪)।

নিজেদের জন্য আমল করা ব্যতীরেকেই যারা আওলীয়া, নেকলোক ও তাদের আমলকে ওসীলা হিসাবে গ্রহণ করে অথবা নেকলোক ও নাবীদের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করা অথবা তাদের নৈকট্য লাভ করা করা যথেষ্ট মনে করে এ আয়াতের মাধ্যমে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, يا معشر قريش اشتروا أنفسكم لا أغني عنكم من الله شيئاً، يا عباس عم رسول الله، يا صفية عمة رسول الله، لا أغني عنكم كمن الله شيئاً، يا فاطمة بنت محمد، سليني من مالي ما شئت، لا أغني عنك من الله شيئاً" ،
হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা আত্ম রক্ষা কর। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবো না। হে রসূলের চাচা আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবো না। হে সাফিয়া! আল্লাহর রসূলের ফুফু, আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবো না। হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবো না।৬৯

অতঃপর রসূল বলেন, আমি মানুষের চেয়ে আল্লাহর অধিক নৈকট্য অর্জনকারী। আমি আল্লাহর আযাব থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারবো না। তাই রসূল অথবা রসূলের নৈকট্য অথবা আওলীয়া ও নেকলোকদের নৈকট্যর দিকে সম্পৃক্ত করা অথবা তাদের মর্যাদাকে ওসীলা হিসাবে গ্রহণ করা কিয়ামতের দিন কারো কোন উপকারে আসবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন
{ يَوْمَ لا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِنَفْسٍ شَيْئاً وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ} [আল-ইনফিতার : ১৯]
সেদিন কেউ কারো কোন কিছুর ক্ষমতা রাখবে না। আর সেদিন সকল বিষয় হবে আল্লাহর কর্তৃত্বে (সূরা ইনফিতার ৮২:১৯)। তিনি আরো বলেন,
{ يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْكُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ} [আবাসা: ৩৪-৩৭]
সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে; সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই একটি গুরুতর অবস্থা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে (সূরা আবাসা ৮০:৩৪-৩৭)। কিয়ামতের দিন প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। এমনকি ঈসা আলাইহিস সালাম বলবেন, হে রব! আমার প্রসবকারিণী মাতা মারইয়ামের ব্যাপারে তোমার নিকট কোন সাহায্য চাচ্ছি না। আমি নিজের মুক্তির জন্যই সাহায্যে চাই。

টিকাঃ
৬৯. জ্বহীহ বুখারী, হা/২৭৫৩, ৩৫২৭, ৪৭৭১, জ্বহীহ মুসলিম হা/২০৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00