📄 সম্মানিত ব্যক্তিদের নিদর্শন সংরক্ষণ করা
সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের নিদর্শন সমূহের মাধ্যমে বরকত লাভ করা। যেমন দারুন নাদওয়া, যার অধিনে এর কর্তৃত্ব ছিল তাকে নিয়ে গৌরব করা। যেমনভাবে হাকিম ইবনে হিযামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; তুমি কি কুরাইশ বংশের সম্মান বিক্রি করে দিয়েছ?! তিনি জবাবে বলেছিলেন, কেবল তাক্বওয়া না থাকলেই সম্মান চলে যায়।
ব্যাখ্যা: মর্যাদাবান আলেম অথবা শাসক অথবা নেতাদের নিদর্শনকে সংস্কার ও সংরক্ষনের মাধ্যমে তা উজ্জিবীত করে সেগুলোকে সম্মান করা।
এ ধরণের কর্মকান্ডই শিরকের মাধ্যম যা জাহিলী দীনের অন্তর্ভুক্ত। কেননা, পরবর্তী জাতি অথবা শয়তান এসে বলে, তোমাদের পূর্বপুরুষ বরকত ও কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে এসব নিদর্শন সংরক্ষন করতো। তাই আল্লাহ ব্যতীত তারা এসবের ইবাদত করেছিল। কেননা, প্রথম আর্বিভূত জাতি পরবর্তীদের জন্য এসবের ইবাদত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। যেমন নূহ আলাইহিস সালাম এর জাতিকে শয়তান নেকলোকদের প্রতিমূর্তি তৈরির নির্দেশ দেয়। যাতে তাদের ইবাদতে তারা উদ্যমী হয়। অতঃপর তারা এ নিদর্শনকে ভাল সৌধ হিসাবে স্থাপন করে। কিন্তু পরবর্তীতে মূর্খ জাতি এসে এ সৌধের ইবাদত করে, এটাই জাহিলদের কর্ম, তারা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের নিদর্শনকে সম্মান, সংরক্ষন ও সংস্কার করে। অতঃপর কালক্রমে আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে তাদের ইবাদত কর হয়। তাই কেউ বলতে পারবে না যে, বর্তমানে মানুষ সঠিক দীন ও তাওহীদের উপর আছে।
আমাদের বক্তব্য হলো শুধু বর্তমানের চিন্তা না করা। বরং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করা আবশ্যক। যদিও বর্তমান সময়ের মানুষ ফিতনায় বিশ্বাসী না, তবুও ভবিষ্যত বড় কঠিন হতে পারে। তাই এসব নিদর্শনের পরিচর্যা করা বৈধ নয়। নিদর্শন পরিচর্যার মত কর্মকান্ডের কারণেই জাতি ধ্বংস হয়েছে। জাতি তাদের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের নিদর্শনকে সম্মান করে, ভবিষ্যতে তারা তাদের প্রতি মূর্তি তৈরি করবে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক করা মুসলিমদের উপর ওয়াজীব।
একারণে শাইখ প্রমাণ স্বরূপ মক্কায় দারুন নাদওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে মক্কার কুরাইশ বংশের প্রধান ব্যক্তিবর্গ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য একত্রিত হতেন। অতঃপর ইসলামের আর্বিভাবের পরপরই জাহিলিয়্যাত দূরিভূত হয়। মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামল পর্যন্ত দারুন নাদওয়ার অধিকার ও উপকার লাভ এবং সংগঠন পরিবর্তনের জন্য ভিত্তি পূর্বের অবস্থায় বহাল রাখা হয়। অতঃপর হাকীম ইবনে হিযামের নিকট থেকে দারুন নাদওয়া ক্রয় করা হয়। মানুষ একত্রিত হয়ে এ বিষয়ে হাকীমকে প্রশ্ন করলো, পূর্ববর্তীদের এ নিদর্শনকে আপনি কেন বিক্রয় করলেন? কেন কুরাইশদের সম্মান বিক্রি করলেন? তিনি জবাবে বলেন, তাক্বওয়া ছাড়াই সম্মান চলে গেল!। এর প্রমাণে আল্লাহর বাণী: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: ১৩]
তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন (সূরা আল হুজরাত ৪৯:১৩)।
আল্লাহ তা'আলার বাণী মোতাবেক এটাই হলো সঠিক জবাব এবং দূরদর্শিতা ও ঈমানের আলো। সুতরাং প্রমাণিত যে, প্রাচীন নিদর্শনকে সংরক্ষন করা যাবে না। কেননা, এটা পরবর্তীদেরকে শিরকের দিকে ধাবিত করবে। প্রাচীন শিরকী রীতিকে রূদ্ধ করার জন্যই দীন এসেছে।
📄 এ উম্মতের মধ্যে বিদ্যমান কতিপয় জাহিলী স্বভাব
(৮৭) বংশের গৌরব (الفخر بالأحساب) (৮৮) অন্যকে বংশের ব্যাপারে খোঁটা দেয়া ও নিন্দা করা (الطعن في الأنساب) (৮৯) নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা (الاستسقاء بالأنواء )ও (৯০) মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা ( النياحة ا على الميت )
ব্যাখ্যা: এ চারটি জাহিলী সমস্যা। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "أربع في أمتي من أمر الجاهلية لا يتركونهن الفخر بالأحساب، والطعن في الأنساب والاستسقاء بالنجوم والنياحة على الميت "
আমার উম্মতের মাঝে চারটি জাহিলী সমস্যা বিদ্যমান থাকবে যা তারা বর্জন করবে না। বংশের গৌরব, অন্যকে বংশের খোঁটা দেয়া, নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা ও মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা।৫৯
৮৭. বংশের গৌরব: পূর্ব পুরুষ ও বাপদাদার মর্যাদা নিয়ে মানুষের অহংকার করা। এটাই জাহিলী দীন। কেননা, জাহিলরা মিনায় একত্রিত হয়ে আল্লাহ তা'আলার নাম স্বরণ করার পরিবর্তে পূর্বপুরুষদের মর্যাদা নিয়ে অহংকারী আলোচনা করতো। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{فَإِذَا قَضَيْتُمْ مَنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْراً} [البقرة: ٢٠٠]
তারপর যখন তোমরা তোমাদের হজের কাজসমূহ শেষ করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যেভাবে তোমরা স্মরণ করতে তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে, এমনকি তার চেয়ে অধিক স্মরণ। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। বস্তুত আখিরাতে তার জন্য কোন অংশ নেই (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২০০)।
তাই পূর্ব পুরুষ ও বাপদাদার যিকির (স্বরণ) নয়, আল্লাহ তা'আলার যিকির করাই আবশ্যক。
৮৮. অন্যকে বংশের খোঁটা দেয়া: এভাবে বলা যে, অমুকের কোন মূলই নেই, মূলহীন গোত্রের অমুক। এটাই হচ্ছে অন্যদেরকে নিন্দা করার অর্থ। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوباً وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: ١٣]
হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত (সূরা আল হুজরাত ৪৯:১৩)।
তাই বংশের গৌরব নয়, কেবল তাক্বওয়ার গৌরব ধর্তব্য। তাক্বওয়া বিনষ্ট হলে বংশের গৌরব কোন কাজে আসবে না। রসূল বলেন,
" من بطأ به عمله لم يسرع به نسبه"
যে লোককে তার আমলে পিছনে সরিয়ে দিবে তার বংশ মর্যাদা তাকে অগ্রসর করে দিবে না।৬০
কুরাইশ ও বনী হাশিম বংশে জন্ম গ্রহণ করা এবং রসূল এর পরিবারের সদস্য হওয়া সৎ আমল ব্যতীত কারো জন্য কাজে আসবে না। সৎআমল ও আল্লাহভীতিই কিয়ামতের দিন কাজে আসবে。
৮৯. নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা: নক্ষত্রের উদয় ও অন্ত যাওয়ার প্রভাবে বৃষ্টি বর্ষণ হয় বলে বিশ্বাস করা। এটাই জাহিলী দীন। কেবল আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় বৃষ্টি হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَهُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِنْ بَعْدِ مَا قَنَطُوا وَيَنْشُرُ رَحْمَتَهُ} [الشورى: ۲۸]
আর তারা নিরাশ হয়ে পড়লে তিনিই তখন বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন (সূরা আশ শূরা ৪২:২৮)।
তিনিই আল্লাহ যার ইচ্ছা, অভিপ্রায় ও হিকমতের কারণে বৃষ্টি বর্ষণ হয়। যেভাবে ইচ্ছা তিনি যমীনে বৃষ্টি বর্ষণ করেন অথবা যমীনের কোন জায়গায় বৃষ্টি বর্ষণ করেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَلَقَدْ صَرَّفْنَاهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوا فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُوراً} [الفرقان: ٥٠]
আর আমি তা তাদের মধ্যে বণ্টন করি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে; তারপর অধিকাংশ লোক শুধু অকৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করে (সূরা আল ফুরক্বান ২৫:৫০)।
তাই যে বিশ্বাস করে নক্ষত্রের উদয় অথবা অন্তে যাওয়ার প্রভাবে বৃষ্টি বর্ষণ হয়, তার এ বিশ্বাস শিরক। এজন্য তাকে তাওবা করতে হবে। আর আল্লাহ তা'আলার দিকেই বৃষ্টি বর্ষণের সম্বোধন করা ওয়াজীব。
৯০. মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা: এর দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো মৃত্যুর সময় উৎকণ্ঠিত হয়ে কর্কশভাবে উচ্চ আওয়াজ করা অথবা মৃতের ভাল কর্ম উল্লেখ করে বিলাপ করা। তাই বিলাপ করে কান্নাকাটি করা কাবীরাহ গুনাহ। রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " النائحة إذا لم تتب قبل موتها ، تقام يوم القيامة وعليها سربال من قطران، ودرع من جرب"
বিলাপকারী যদি মৃত্যুর পূর্বে তাওবাহ না করে তাহলে ক্বিয়ামতের দিন তাকে এভাবে উঠানো হবে যে, তার গায়ে আলকাতরার (চাদর) খসখসে চামড়ার ওড়না থাকবে।৬১
তাই বিলাপ করা কাবীরাহ গুনাহ যা জাহিলী কর্ম। এ জন্য ধৈর্য ধারণ ও ছওয়াবের প্রত্যাশা করা আবশ্যক। তাই কেউ মৃতের জন্য কান্নাকাটিতে অংশ গ্রহণ করবে না। কেননা, মানুষ কান্না দমিয়ে রাখতে সক্ষম নয়। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পুত্র ইবরাহীমের ওফাতের পর তিনি কেঁদে বলেন, "إن العين تدمع والقلب يحزن ولا نقول إلا ما يرضي الرب، وإنا بفراقك يا إbrahim لمحزونون"
অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তাই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন। আর হে ইবরাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোক সন্তপ্ত।৬২
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, إن الله لا يعذب بدمع العين ولا بحزن القلب، ولكن يعذب بهذا - يعني اللسان - أو يرحم"
আল্লাহ তা'আলা চোখের পানি ও অন্তরের শোক ব্যথার কারণে আযাব দিবেন না। তিনি আযাব দিবেন এর কারণে, (এ বলে) তিনি জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করলেন অথবা এর কারণেই তিনি দয়া করেন।৬৩
তাই বিপদগ্রস্থ হলে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কথা বলবে, সে বলবে, ) إنا لله وإنا إليه راجعون( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অর্থাৎ আমরা সবাই আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী。
আর আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করবে। আর দু'আ করবে, আল্লাহ যেন ক্ষমা করে দেন এবং বিপদে সাহায্য করেন。
উল্লেখিত চারটি বিষয় জাহিলী কর্ম। মানুষের মাঝে এসব জাহিলী কর্ম বিদ্যমান আছে। তাই এ থেকে তাওবাহ করা আবশ্যক। হাদীছ দ্বারা বুঝা যায় যার মাঝে এসব কর্ম বিদ্যমান থাকবে সে কাফির বলে গণ্য হবে। এসব জাহিলী কর্মকান্ডের কিছু কুফরী আর কিছু অবাধ্যতা হিসাবে গণ্য。
টিকাঃ
৫৯. জ্বহীহ মুসলিম ৯৩৪।
৬০. ছহীহ মুসলিম ২৬৯৯।
৬১. জ্বহীহ মুসলিম হা/৯৩৪।
৬২. জ্বহীহ বুখারী হা/১৩০৩, জ্বহীহ মুসলিম হা/২৩১৫।
৬৩. জ্বহীহ বুখারী হা/১৩০৪, ছহীহ মুসলিম হা/৯২৪।
📄 সীমালঙ্ঘন করা
বাড়াবাড়ি করাই জাহিলদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা যথাযথভাবে তার বাণীতে উল্লেখ করেছেন।
ব্যাখ্যা: )البغي( বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন বলতে মানুষের জীবন-সম্পদ হরণ ও সম্মানহানী করা। জাহিলরা এ ধরণের সীমালঙ্ঘন করে নিজেদের দাম্ভিকতা প্রদর্শন করতো। এর মাধ্যমে তারা তাদের নিদর্শন ও অন্যায় কথা-কর্মের প্রশংসা করতো। ইসলাম আর্বিভাবের পর তা হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের প্রতি ন্যায়ের আদেশ দেয়া হয়েছে। নিপীড়িতদের জীবনের নিরাপত্তা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যাতে সীমালঙ্ঘনকারীরা পরাভূত হয় এবং নির্যাতিতরা সাহায্য প্রাপ্ত হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْأَثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ) [الأعراف: ٣٣]
বল, আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের শরীক করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর উপরে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না (সূরা আল আরাফ ৭:৩৩)।
সর্বপরি অশ্লীলতা, শিরক ও জ্ঞানহীন কথা বলা সবই বাড়াবাড়ির অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} [النحل: ٩٠] .
নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফ, সদাচার এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন হতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর (সূরা আন নাহাল ১৬:৯০)।
বিদায় হজ্জের ভাষণে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
"إن دماءكم وأعراضكم وأموالكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في بلدكم هذا, في شهركم هذا، ألا هل بلغت؟ "
তোমাদের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জত-সম্মান তোমাদের জন্য তেমনি সম্মানিত, যেমন সম্মানিত তোমাদের এ দিনটি, তোমাদের এ শহর এবং তোমাদের এ মাস। পরে তিনি মাথা উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি আপনার পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি?৬৪ আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِداً فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَاباً عَظِيماً} [النساء : ٩٣]
আর যে ইচ্ছাকৃত কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হবেন, তাকে লা'নত করবেন এবং তার জন্য বিশাল আযাব প্রস্তুত করে রাখবেন (সূরা আন নিসা ৪:৯৩)।
রবের বিধান প্রতিষ্ঠার কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, মুসলিমদের মাঝে ভালবাসা বিস্তার লাভ করেছে। জাহিলী কর্মকান্ড দূরিভূত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগত প্রতিপালকের জন্যই。
টিকাঃ
৬৪. ছহীহ বুখারী, হা/৬৭, ১০৫, ১৭৩৯, ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৭৯।
📄 গন্ডা বা মিথ্যা নিয়ে অহংকার করা
অহংকার করা জাহিলদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যদিও তা হক্ব হয়। তাই এটা নিষেধ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হলো অহংকার করা যদিও তা হক্বের ব্যাপারে হয়। তারা নিজেদের ও বাপদাদার কর্ম-কান্ডের মাধ্যমে দাম্ভিকতা প্রকাশ করতো যা নিষিদ্ধ। কেননা, কর্মরীতির অহংকার আশ্চার্যবোধ এবং অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রেরণা দেয় যা নিষিদ্ধ এবং তা জাহিলী কর্মের অন্তর্ভুক্ত। কোন মুসলিমের জন্য অহংকার করা বৈধ নয়। যখনই অহংকারপূর্ণ বিষয়ে প্রচেষ্টা ও আমল করবে তখনই তা অবহেলা বলে গণ্য হবে। আর তখন আল্লাহ তা'আলা যা ওয়াজীব করেছেন তা পালন করবে না। সুতরাং আল্লাহ, পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের হক্ব সর্বোত্তম। তাই মানুষ যখন ইহসান অথবা সৎ অথবা কল্যাণকর কাজ করে তখন কিভাবে অহংকার করতে পারে যদিও তার কাছে এসব কাজ সহজ হয়ে থাকে?
এটা সৃষ্টির মাঝে মানুষের অহংকার বুঝায়। অপরদিকে মানুষ যখন তার কর্ম নিয়ে আল্লাহর সাথে অহংকার করে তখন তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। কেননা, সে তার কর্মের মাধ্যমে বিস্ময় প্রকাশ করে, কর্মের আধিক্য তুলে ধরে। এসব কর্মই মানুষের আমলকে বিনষ্ট করে দেয়। তাই স্পষ্ট কথা হলো বান্দার নিজের ও আল্লাহর ব্যাপারে সর্বদাই নিজেকে ছোট মনে করা আবশ্যক। আর বান্দা ও সৃষ্টির মাঝেও নিজেকে নিচু রাখা আবশ্যক। কেননা, মানুষ নিজেকে ছোট মনে করলে বিনম্রতা লাভে প্রেরণা পায়, যা অধিক কল্যাণ অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে। পক্ষান্তরে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলে এটা তাকে কল্যাণকর কাজ থেকে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে এবং মনে করে সে চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এভাবে সে কল্যাণ থেকে বিরত থাকে。
মোদ্দা কথা হলো অহংকার করা কোন মুসলিমের জন্যই উচিত নয়। এটা কেবল জাহিলী কর্মই বটে。
নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন উল্লেখ করলেন যে, তিনি বনী আদমের নেতা তখন বললেন, কোন অহংকার করা চলবে না (لما ذكر أنه سيد ولد آدم ) قال: "ولا فخر" )৬৫ তার পদ-মর্যাদায় কেউ সমান হতে পারবে না এসত্ত্বেও তিনি বললেন, কোন অহংকার করা যাবে না। তিনি নিজের অহংকারকে নাকোচ করে দিলেন। কেবল তিনি আল্লাহ তা'আলার নিআ'মত ও শুকরিয়া আদায়ের সংবাদ দিলেন, অহংকার করতে বলেননি。
টিকাঃ
৬৫. আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "أنا سيد ولد آدم يوم القيامة ولا فخر، وبيدي لواء الحمد ولا فخر، وما من نبي يومئذ آدم فمن سواه إلا تحت لوائي، وأنا أول من تنشق عنه الأرض ولا فخر ... " أخرجه الترمذي ٥/٣٠٨ رقم ٣١٦٠ ٥٨٧/٥ رقم ٣٦٢٤ ، وقال في الموضعين: هذا حديث حسن صحيح. وصححه الألباني في صحيح الجامع رقم ١٤٦٨ কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানদের ইমাম (নেতা) হব, এতে অহংকার নেই। হামদের (আল্লাহ তা'আলার প্রশংসার) পতাকা আমার হাতেই থাকবে, এতেই গর্ব নেই। সে দিন আল্লাহ তা'আলা নাবী আদম আ. এবং নাবীগণের সকলেই আমার পতাকার নিচে থাকবেন। সর্ব প্রথম আমার জন্যই মাটিকে বিদীর্ণ করা হবে, এতে কোন অহংকার নেই। তিরমিযী ৫/৩০৮ হা/৩১৬০, ৫/৩৬২ হা/৩৬২৪। ছহীহ জামে হা/১৪৬৮।