📄 শিরকের নানা মাধ্যম অবলম্বন করা
কবরের উপর বাতি প্রজ্বলন করা。
ব্যাখ্যা: কবরের উপর বাতি প্রজ্বলন: কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে কবরের উপর প্রদীপ অথবা হারিকেন অথবা তৈলস্ফটিক যা মোমবাতির মত এসবের কোনটিই রাখা বৈধ নয়। কেননা এ সবই শিরকের উপকরণ। মৃতকে দাফনের সময় আলোর প্রয়োজন হলে প্রদীপ অথবা লণ্ঠন ব্যবহার করতে পারে। তবে কবরস্থানে বাতি অথবা আলো প্রজ্বলন করে রাখা নিষেধ। রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لعن الله زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج
কবর যিয়ারতকারী, কবরের উপর মাসজিদ নির্মাতা ও সেখানে আলো স্থাপনকারীর উপর আল্লাহ তা'আলা অভিসম্পাত করেছেন।
আর সুনান গ্রন্থের হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর যিয়ারতকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন। এ হাদীছটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা নিষেধ। এটা কেবল পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট।
অভিশাপ কথাটি থেকে বুঝা যায় যে, মহিলাদের কবর যিয়ারত করা কাবীরাহ গুনাহ। কবরকে মাসজিদ হিসাবে গ্রহণকারীদের উপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিশাপ করেছেন। অর্থাৎ কবরের পাশে যারা জ্বলাত আদায়ের ইচ্ছা করে করে অথবা মাসজিদ নির্মাণ করে অথবা যারা কবরকে আলোকিত করে যা শিরকের মাধ্যম, এ সবই গর্হিত কাজ। এসবের মাধ্যমে কবরপূজা ও আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকা হয়। তাই কবরে এরূপ কর্ম পরিত্যাগ করতে হবে, যেমন নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে ছাহাবীদের কবরে এরূপ করা পরিত্যাগ করা হয়। আর কবরে বাতি প্রজ্বলন ও তার উপর ভিত্তি নির্মাণ করা যাবে না। (লাশ দাফনের) পর কবর পূর্ব অবস্থায় বহাল থাকবে। আর ভূ-পৃষ্ঠ থেকে শুধুমাত্র এক বিঘত পরিমাণ কবর উঁচু করতে হয় এবং এর উপর চিহ্ন দিতে হয়, যাতে বুঝা যায় এটি কবর। এছাড়া কবরের উপর অতিরিক্ত কিছু করা যাবে না। নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী ইবনে আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলেন,
لا تدع قبراً مشرفاً" يعني مرتفعاً: "إلا سويته"
তুমি যেখানেই কুজো অর্থাৎ উঁচু কবর দেখবে তা ছাড়বে না, মাটিতে সমান করে দিবে। কেননা, জাহিলরা তাদের উদ্দেশ্যে নিয়ে উঁচু কবরের প্রতি আসক্ত হয়।
কেননা জাহিলদের মাঝে খুব তাড়াতাড়ি শিরক বিস্তার লাভ করে। আর জিন ও মানুষের মধ্যে থেকে শয়তান কবর কেন্দ্রীক কর্মকান্ডকে মানুষের সামনে সৌন্দর্যময় করে তুলে এবং এর মাধ্যমে ফিতনা ছড়ায়। কবরের মাঝে যদি দৃষ্টি নন্দন কিছু না থাকে এবং নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও অন্যদের কবরের মাঝে পার্থক্য বুঝা না যায় তখনই এ কবর ফিতনা হতে অধিক দূরে বলে গণ্য হবে। আর যখন কবরকে উদ্দেশ্যে করে সম্মান করা হবে এবং তার উপর ভিত্তি স্থাপন, সাজ-সজ্জা ও বাতি প্রজ্বলন করা হবে, তখনই এটা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। জাহিলরা বলে, কবরের সম্মানের জন্য এসব বিষয় কাজে আসে। অতঃপর তারা এসবের মাধ্যমে কবর পূজা করে।
কবরের ব্যাপারে নাবী এর পথ নির্দেশনা অনুসরণ করা ওয়াজীব। যাতে কোন বাড়াবাড়ি, ভিত্তি নির্মাণ, বাতি প্রজ্বলন, কবরে লিখন, চুনকাম করাসহ আরো অন্যান্য কর্ম কান্ড কবরের উপর না হয়। যেমন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কবরগুলো এসব থেকে মুক্ত ছিল。
টিকাঃ
৫৪. আবূ দাউদ ৩/৩৬২ হা/৩২৩৬, তিরমীযি হা/৩২০। আবূ ঈসা বলেন, ইবনে আব্বাসের হাদীছটি হাসান। আলবানী রহিমাহুল্লাহ ছহীহ জামে গ্রন্থে হাদীছটি ছহীহ সূত্রে উল্লেখ করেছেন। হা/৫১০৯。
৫৫. ছহীহ মুসলিম হা/৯৬৯।
📄 কবরকে আঁকড়ে থাকা
কবরকে উৎসবের স্থান হিসাবে গ্রহণ করা。
ব্যাখ্যা: )الأعياد( আল-আ'ইয়াদ শব্দটি )عید( ঈদ (উৎসব) এর বহুবচন। যা পুনঃপুনঃ করা হয় ও ফিরে আসে সেটাই হলো ঈদ। তা দু'প্রকার:
)ক) মৌসুমি উৎসব )عید زمانی(: যেমন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহা।
)খ) স্থানগত উৎসব )عيد مکانی( : যেখানে মানুষ বছরব্যাপী অথবা সপ্তাহ অথবা সারা মাস ধরে ইবাদতের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয় সেটাই হলো স্থানগত উৎসব। নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
"لا تجعلوا قبري عيداً يعني: مكاناً للاجتماع حوله، والعكوف حوله، والتردد عليه، "وصلوا علي حيث كنتم، فإن صلاتكم تبلغني"
আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করিও না। অর্থাৎ চতুর পার্শ্বে একত্রিত হওয়া, আঁকড়ে থাকা ও শোরগোল করার জন্য কবরস্থানকে নির্ধারণ করিও না। তোমরা যেখানেই থাক আমার উপর দরূদ পাঠ কর। তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে।
তাই কবরের পাশে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরূদ পাঠ করার কোন রীতি নেই। বরং পূর্ব অথবা পশ্চিম দিগন্তে যেখানেই থাক রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরূদ পাঠ করবে। অর্থাৎ যে কোন জায়গা থেকে তোমরা দরূদ পাঠ কর, তার কাছে তা পৗঁছে যায়। অনর্থক বেশি বেশি কবর যিয়ারত করা ও কবরের পাশে বসা উৎসবের অন্তর্ভুক্ত। এটা শিরকের দিকে ধাবিত করে। তাই জাহিলরা নেকলোকদের কবরকে উৎসব হিসাবে গ্রহণ করে। তারা কবরের চারপাশে একত্রিত হয়ে অবস্থান করে। বর্তমানে সব জায়গা থেকে বেদুঈন ও অন্যান্যদের কবরের নিকট যিয়ারত কারীরা আসে এবং কবরের পার্শ্বে তাবু টানিয়ে বসে থাকে। সেখানে তারা পশু যবেহ করে আর অনেক দিন যাবত কবরের পার্শ্বে থেকে যায়। এটাই হলো জাহিলী দীন।
যেহেতু রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে একত্রিত হয়ে বসা এবং সেখানে শোরগোল করা নিষেধ; তাই অন্যের কবরের পার্শ্বে এমনটি করা কিভাবে বৈধ হতে পারে? কেননা, এটি শিরকের মাধ্যম। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো যে, সে বুওয়ানা নামক স্থানে উট কুরবানী করার মানত করেছে এ ব্যাপারে তার মতামত কি। তখন নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন,
هل كان فيها وثن من أوثان الجاهلية يعبد. " قالوا : لا ، قال : "هل كان فيها عيد من أعيادهم أي اجتماع - يجتمعون فيه؟ " قالوا : لا، قال: "أوف بنذرك، فإنه لا وفاء لنذر في معصية الله، ولا فيما لا يملك ابن آدم
সেখানে কি জাহিলদের কোন মূর্তি আছে যার পূজা করা হয়? তারা বলল, নেই। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, সেখানে কি তাদের কোন উৎসব পালন করা হয়? অর্থাৎ জাহিলরা কি সেখানে একত্রিত হয়? তারা বলল, হয় না। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তা নাহলে তোমার মানত পূর্ণ কর। কেননা, আল্লাহর অবাধ্যতায় কোন মানত পূর্ণ করার বিধান নেই। আর আদম সন্তান যে বিষয়ের মালিক নয় তা পূর্ণ করারও নিয়ম নেই।
প্রমাণ: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা হলো কবরে কি জাহিলদের কোন উৎসব হয়? অর্থাৎ স্থানগত উৎসব হয় কিনা? এ কথাই প্রমাণ করে যে, ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট কোন স্থান নির্ধারণ করা বৈধ নয়। তবে আল্লাহ ও তার রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নির্ধারণ করেছেন তা ব্যতীত। যেমন: মাসজিদ ও হাজ্জের নিদর্শনসমূহ, এছাড়া পৃথিবীর সব জায়গা সমান। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
جعلت لي الأرض مسجداً وطهوراً
যমীনকে আমার জন্য পবিত্র ও জ্বলাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে।
টিকাঃ
৫৬. জ্বহীহ আবু দাউদ হা/২০৪২, জামে ছহীহ হা/৭৬৬২。
৫৭. জ্বহীহ আবু দাউদ হা/৩৩১৩。
৫৮. জ্বহীহ বুখারী, হা/৩৩৫, ৪৩৮, জ্বহীহ মুসলিম, হা/৫২১, ৫২২,৫২৩。
📄 কবরের কাছে যবেহের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া
কবরের নিকট যবেহ করা।
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} [الكوثر : ٢]
তোমার রবের উদ্দেশ্যই জ্বলাত পড় এবং রক্ত প্রবাহিত কর (সূরা কাওছার ১০৮:২)। তিনি আরো বলেন,
مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفاً وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الأنعام: ١٦১-১৬২]
ইবরাহীমের আদর্শ ছিল একনিষ্ঠ এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বল, নিশ্চয় আমার জ্বলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের রব (সূরা আল আন'আম ৬:১৬১,১৬২)।
সুতরা বুঝা গেল যবেহ করা আল্লাহর ইবাদত। কবরের নিকটে যbeh করা: কবরের সম্মানের উদ্দেশ্যে যbeh করা বড় শিরক। আল্লাহর সম্মানার্থে শরী'আত সম্মত মনে করে কবরের নিকটে যbeh করা বিদ'আত এবং এটা শিরকের মাধ্যম। তাই কবরের নিকটে যbeh করা বৈধ নয়। যদিও কবরের নিকট যbeh বিশ্বাস পোষণ করা হয় না, কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যেই যbeh করা হয়, তবুও কবরের পাশে যbeh করা যাবে না। কেননা, কবরের পাশে পশু যbeh মানুষ অভ্যস্ত হলে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত তারা কবরের ইবাদতের দিকে ঝুকে পড়বে। অনুরূপভাবে জিনের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য তার উদ্দেশ্যে যbeh করা অথবা তার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করা শিরক।
অপরদিকে খাওয়ার উদ্দেশ্যে অথবা মেহমানকে সম্মান করা এবং আল্লাহর নাম নিয়ে পশু যbeh করাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা, এটা মানুষের অভ্যাস, যা (সাধরণত) ইবাদত নয়। পক্ষান্তরে, কুরবানী ও আক্বীকার পশু এবং ইবাদতের উদ্দেশ্যে যে পশু যbeh করা হয়, তা আল্লাহ তা'আলার ইবাদত হিসাবে গণ্য। কোন সৃষ্টির সম্মান অথবা তার ইবাদতের সম্মানের উদ্দেশ্যে যbeh করা যাবে না এবং কোন মানুষের কবরের নিকটেও যbeh করা যাবে না। কেননা, এটা ঐ কবরের ইবাদতের দিকে ধাবিত করে।
📄 সম্মানিত ব্যক্তিদের নিদর্শন সংরক্ষণ করা
সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের নিদর্শন সমূহের মাধ্যমে বরকত লাভ করা। যেমন দারুন নাদওয়া, যার অধিনে এর কর্তৃত্ব ছিল তাকে নিয়ে গৌরব করা। যেমনভাবে হাকিম ইবনে হিযামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; তুমি কি কুরাইশ বংশের সম্মান বিক্রি করে দিয়েছ?! তিনি জবাবে বলেছিলেন, কেবল তাক্বওয়া না থাকলেই সম্মান চলে যায়।
ব্যাখ্যা: মর্যাদাবান আলেম অথবা শাসক অথবা নেতাদের নিদর্শনকে সংস্কার ও সংরক্ষনের মাধ্যমে তা উজ্জিবীত করে সেগুলোকে সম্মান করা।
এ ধরণের কর্মকান্ডই শিরকের মাধ্যম যা জাহিলী দীনের অন্তর্ভুক্ত। কেননা, পরবর্তী জাতি অথবা শয়তান এসে বলে, তোমাদের পূর্বপুরুষ বরকত ও কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে এসব নিদর্শন সংরক্ষন করতো। তাই আল্লাহ ব্যতীত তারা এসবের ইবাদত করেছিল। কেননা, প্রথম আর্বিভূত জাতি পরবর্তীদের জন্য এসবের ইবাদত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। যেমন নূহ আলাইহিস সালাম এর জাতিকে শয়তান নেকলোকদের প্রতিমূর্তি তৈরির নির্দেশ দেয়। যাতে তাদের ইবাদতে তারা উদ্যমী হয়। অতঃপর তারা এ নিদর্শনকে ভাল সৌধ হিসাবে স্থাপন করে। কিন্তু পরবর্তীতে মূর্খ জাতি এসে এ সৌধের ইবাদত করে, এটাই জাহিলদের কর্ম, তারা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের নিদর্শনকে সম্মান, সংরক্ষন ও সংস্কার করে। অতঃপর কালক্রমে আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে তাদের ইবাদত কর হয়। তাই কেউ বলতে পারবে না যে, বর্তমানে মানুষ সঠিক দীন ও তাওহীদের উপর আছে।
আমাদের বক্তব্য হলো শুধু বর্তমানের চিন্তা না করা। বরং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করা আবশ্যক। যদিও বর্তমান সময়ের মানুষ ফিতনায় বিশ্বাসী না, তবুও ভবিষ্যত বড় কঠিন হতে পারে। তাই এসব নিদর্শনের পরিচর্যা করা বৈধ নয়। নিদর্শন পরিচর্যার মত কর্মকান্ডের কারণেই জাতি ধ্বংস হয়েছে। জাতি তাদের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের নিদর্শনকে সম্মান করে, ভবিষ্যতে তারা তাদের প্রতি মূর্তি তৈরি করবে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক করা মুসলিমদের উপর ওয়াজীব।
একারণে শাইখ প্রমাণ স্বরূপ মক্কায় দারুন নাদওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে মক্কার কুরাইশ বংশের প্রধান ব্যক্তিবর্গ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য একত্রিত হতেন। অতঃপর ইসলামের আর্বিভাবের পরপরই জাহিলিয়্যাত দূরিভূত হয়। মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামল পর্যন্ত দারুন নাদওয়ার অধিকার ও উপকার লাভ এবং সংগঠন পরিবর্তনের জন্য ভিত্তি পূর্বের অবস্থায় বহাল রাখা হয়। অতঃপর হাকীম ইবনে হিযামের নিকট থেকে দারুন নাদওয়া ক্রয় করা হয়। মানুষ একত্রিত হয়ে এ বিষয়ে হাকীমকে প্রশ্ন করলো, পূর্ববর্তীদের এ নিদর্শনকে আপনি কেন বিক্রয় করলেন? কেন কুরাইশদের সম্মান বিক্রি করলেন? তিনি জবাবে বলেন, তাক্বওয়া ছাড়াই সম্মান চলে গেল!। এর প্রমাণে আল্লাহর বাণী: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: ১৩]
তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন (সূরা আল হুজরাত ৪৯:১৩)।
আল্লাহ তা'আলার বাণী মোতাবেক এটাই হলো সঠিক জবাব এবং দূরদর্শিতা ও ঈমানের আলো। সুতরাং প্রমাণিত যে, প্রাচীন নিদর্শনকে সংরক্ষন করা যাবে না। কেননা, এটা পরবর্তীদেরকে শিরকের দিকে ধাবিত করবে। প্রাচীন শিরকী রীতিকে রূদ্ধ করার জন্যই দীন এসেছে।