📄 মিথ্যা আকাঙ্ক্ষার উপর নির্ভর করা
জাহিল কর্তৃক মিথ্যা আস্থার উপর আকাঙ্খা পোষণ করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُوداً أَوْ نَصَارَى} [ البقرة: ১১১] .
আর তারা বলে, ইয়াহূদী কিংবা নাসারা ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১১১)।
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা মিথ্যা আস্থার উপর নির্ভর করে। তারা আল্লাহর নিকট মিথ্যা আকাঙ্খা করে। যেমন আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে উল্লেখ করেন যে, তারা বলে, আল্লাহর বাণী: { لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّاماً مَعْدُودَةً} [ البقرة: ৮০]
গোনা-কয়দিন ব্যতীত আগুন আমাদেরকে কখনোই স্পর্শ করবে না (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৮০)।
জাহিলদের ধারণা মতে, গো-বৎস পূজার কারণে কয়েক দিন (জাহান্নামে থাকতে হবে)। আল্লাহ তা'আলা তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, {قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْداً فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [ البقرة: ৮০,
আর তারা বলে, গোনা-কয়দিন ব্যতীত আগুন আমাদেরকে কখনোই স্পর্শ করবে না। বল, তোমরা কি আল্লাহর নিকট ওয়াদা নিয়েছ, ফলে আল্লাহ তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করবেন না? নাকি আল্লাহর উপর এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না? হাঁ, যে মন্দ উপার্জন করবে এবং তার পাপ তাকে বেষ্টন কওে নেবে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৮০,৮১)। তাদের কথা: {لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّاماً مَعْدُودَةً} [البقرة: ٨٠]
একথাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যেমন সূরা আলে ইমরানে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيباً مِنَ الْكِتَابِ يُدْعَوْنَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ وَهُمْ مُعْرِضُونَ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّاماً مَعْدُودَاتٍ وَغَرَّهُمْ فِي دِينِهِمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ فَكَيْفَ إِذَا جَمَعْنَاهُمْ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ} [آل عمران : ٢٣ - ٢٥]
তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি? যাদেরকে কিতাবের অংশবিশেষ দেয়া হয়েছে, তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে। অতঃপর তাদের একদল ফিরে যাচ্ছে বিমুখ হয়ে। এর কারণ হল, তারা বলে, গুটি কয়েকদিন ব্যতীত আগুন আমাদেরকে কখনই স্পর্শ করবে না। আর তারা যা মিথ্যা রচনা করত, তা তাদেরকে তাদের দীনের ব্যাপারে প্রতারিত করেছে। সুতরাং কি অবস্থা হবে? যখন আমি তাদেরকে এমন দিনে সমবেত করব, যাতে কোন সন্দেহ নেই। আর প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেয়া হবে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না (সূরা আলে-ইমরান ৩: ২৩-২৫)।
তিনি আরো বলেন, {لَيْسَ بِأَمَانِيكُمْ وَلَا أَمَانِي أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءاً يُجْزَ بِهِ وَلَا يَجِدْ لَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيّاً وَلَا نَصِيراً وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيراً} [النساء: ١٢٣، ١٢٤]
না তোমাদের আশায় এবং না কিতাবীদের আশায় (কাজ হবে)। যে মন্দকাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না। আর পুরুষ কিংবা নারীর মধ্য থেকে যে নেককাজ করবে এমতাবস্থায় যে, সে মুমিন, তাহলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি খেজুরবীচির আবরণ পরিমাণ যুলম করা হবে না (সূরা আন নিসা ৪:১২৩-১২৪)।
📄 ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক বাড়াবাড়ি
নাবী ও নেকলোকদের কবরকে সেজদার জায়গা হিসাবে নির্ধারণ করা。
ব্যাখ্যা: আহলে কিতাব ও অন্যান্য জাতির রীতি হলো নাবী ও নেকলোকদের কবরকে মাসজিদ নির্ধারণ করা। ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান, আরবের মুশরিক এবং ইসলামের সাথে সম্পৃক্তকারী কবর পূজারীরা সর্বদাই কবরকে মাসজিদ হিসাবে নির্ধারণ করে। তবে আহলে কিতাবরাই প্রথমে কবরকে মাসজিদ নির্ধারণ করেছিল। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
"إن من كان قبلكم كانوا يتخذون القبور مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد"
তোমাদের পূর্ববর্তী জাতি কবরকে মাসজিদ বানাতো। সাবধান! তোমরা আমার কবরকে মাসজিদ বানাবে না।
অর্থাৎ তারা কবরের পাশে জ্বলাত আদায় করতো। কেননা, কবরের পাশে জ্বলাত আদায় করা কবর পূজার মাধ্যম বলে গণ্য। যদিও জ্বলাত আদায়কারী আল্লাহর উদ্দেশ্যে জ্বালাত আদায় করে। জ্বালাত আদায়কারী কবরের পাশে জ্বলাত আদায়ের সময় মূলতঃ কবরের নিকটেই সাহায্য কামনা করে, ফরিয়াদ করে। যেমন বর্তমান কবরের নিকট কি বলা হয়? এটাই হলো জাহিল, ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য জাতির দীন。
হাদীছে বর্ণিত আছে, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, উম্মে সালমা ও উম্মে হাবীবা (রাঃ) হাবশা এলাকায় গির্জার ভিতর মূর্তি দেখে নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সংবাদ দিলেন। কেননা, তারা দু'জন তাদের স্বামীর সাথে হাবশায় প্রথম হিজরত করেন। তারা দু'জন ঐ সৌন্দর্য মন্ডিত গির্জা ও তার ভিতরের চিত্র কর্মের বিবরণ দিলেন। তখন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "أولئك قوم إذا مات فيهم الرجل الصالح، أو العبد الصالح، بنوا على قبره مسجداً، وصوروا فيه تلك الصور، أولئك شرار الخلق عند الله"
ঐ সব এলাকার লোকদের মধ্যে কোন নেকলোক মারা গেলে তার কবরের উপর তারা মাসজিদ নির্মাণ করত এবং তাদের প্রতিমূর্তি তৈরি করতো। তারাই হলো আল্লাহর নিকৃষ্ট সৃষ্টি।
আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত ওলী ও নেকলোকদেরকে রব হিসাবে গ্রহণ করাই জাহিলী দীন। জাহিলরা ধারণা করে যে, তারা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে। আর আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশ কামনা করবে। যেমন আল্লাহ বলেন, {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ} [يونس : [١٨
আর তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত করছে, যা তাদের ক্ষতি করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী (সূরা ইউনূস ১০:১৮)। তিনি আরো বলেন, { وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر: 3]
জেনে রেখ! আল্লাহর জন্যই, বিশুদ্ধ ইবাদাত-আনুগত্য। আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে তারা বলে, 'আমরা কেবল এজন্যই তাদের 'ইবাদত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে (সূরা যুমার ৩৯:৩)।
কবরবাসীরা সৃষ্টি করে, রিজিক দেয় এবং জীবন-মৃত্যু দান করে এসব বিষয়ে অবশ্য জাহিলরা তাদেরকে বিশ্বাস করে না। তবে তারা জানে না যে, এসব কিছু আল্লাহ তা'আলার সাথেই নির্দিষ্ট। আল্লাহ এবং সুপারিশকারীদের মাঝে নেকলোকদেরকে তারা মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে। তাই নেকলোকেরা জাহিলদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে এ উদ্দেশ্যে জাহিলরা তাদের বিভিন্ন ইবাদত করে। এটাই জাহিলী দীন। আর বর্তমান কবর পূজারীরা এ রীতির উপরই রয়েছে। আমরা এ থেকে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। কবরের উপর কোন কিছু নির্মাণ করা, বাতি প্রজ্জলন করা, পর্দা টাঙানো, কবরে লেখালেখি করা এবং কবর চুনকাম করা ইত্যাদি সবই গর্হিত কর্ম যা কবরবাসীর জন্য প্রকাশ্য বাড়াবাড়ি বলে গণ্য। এ কারণে রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব নিষেধ করেছেন。
টিকাঃ
৫২. জ্বহীহ মুসলিম হা/৫৩২。
৫৩. ছহীহ বুখারী হা/৪২৭,৪৩৪,১৩৪১ জ্বহীহ মুসলিম হা/৫২৮।
📄 নারীগণের নিদর্শন নিয়ে বাড়াবাড়ি করা
নাবীগণের নিদর্শনকে মাসজিদ হিসাবে গ্রহণ করা। যেমন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে。
ব্যাখ্যা: নাবীগণের নিদর্শনকে মাসজিদ হিসাবে গ্রহণ করা জাহিলী কর্ম। অর্থাৎ নাবীগণের জ্বলাত আদায়ের জায়গায় জাহিলরা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে জ্বলাত আদায় করতো।
পূর্বাপর জাহিলী কর্মের পার্থক্য: পূর্ববর্তী জাহিলরা ব্যক্তিসত্তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতো আর পরবর্তীরা ব্যক্তিদের কর্মের নিদর্শন নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। এখানে (الأثار) আল-আছার শব্দটি )ر) আছার এর বহুবচন। আর নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে বসেছেন অথবা জ্বলাত আদায় করেছেন তা আছার (ছাপ-নিদর্শন) হিসাবে পরিচিত। দেশবাসী ঐ জায়গার অনুসরণ করে সেখানে আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করে।
তারা ধারণা করে যে, সেখানে জ্বলাত আদায় করা ফযীলতপূর্ণ আমল। যেমন বর্তমানে যারা হেরাগুহায় যায়, তারা সেখানে জ্বলাত আদায় করে এবং দু'আ-দরূদ পাঠ করে। কেননা, নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত লাভের পূর্বে হেরাগুহায় ইবাদত করতেন। অথচ নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়াত লাভের পর সেখানে ইবাদত করেননি এবং তার কোন ছাহাবীও হেরাগুহায় ইবাদত করতে যাননি। তারা জানতেন, এটা শরী'আত সম্মত নয়। অনুরূপভাবে জাহিলরা ছাওর গুহায় গমন করে, যেখানে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পূর্বে লুকিয়ে ছিলেন। তারা সেখানে জ্বলাত আদায় করে, ভালকাজ করে এবং কখনো টাকা-পয়সাও দান করে। এসবই জাহিলী দীন।
জাহিলরা নাবীগণের নিদর্শনকে সম্মান করে। এজন্য বাই'আতের গাছ (যে গাছ তলায় বাই'আত হয়েছিল) তার দিকে কতিপয় লোককে যেতে দেখে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, তোমাদের পূর্ববর্তীরা নাবীগণের নিদর্শন অনুসরণের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি গাছটি কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরী'আতের জন্য এসব জায়গা নির্ধারণ করেননি। তিনি শরী'আতের জন্য কতিপয় জায়গা নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো মাকামে ইবরাহীমে জ্বলাত আদায় করা। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلَّى} [البقرة: ١٢٥] ،
তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে জ্বলাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১২৫)।
নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণের জন্য মাকামে ইবরাহীমে জ্বলাত আদায় করা শরী'আত সম্মত। পক্ষান্তরে, হেরাগুহা, ছাওরগুহা অথবা মক্কা ও মদিনার রাস্তায় বিশ্রামের জন্য বসা শরী'আত সম্মত, তা কোন আমল বলে গণ্য নয়। কেবল প্রয়োজন অনুসারে এসব জায়গায় বসা যেতে পারে। তাই এসব (আমল ও অভ্যাসের) ব্যাপারে পার্থক্য বুঝা আবশ্যক।
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সব জায়গাকে শরী'আতের জন্য নির্ধারণ করেননি, কেবল ঐ সব জায়গা অতিক্রম করেছেন অথবা অভ্যাসগতভাবে সেখানে বসেছেন অথবা বিশ্রাম নিয়েছেন অথবা হঠাৎ জ্বলাতের সময়ে ঐ জায়গায় এসেছেন এবং কোন উদ্দেশ্যে ছাড়াই জ্বলাত আদায় করেছেন, ঐ সব জায়গাকে তিনি জ্বলাত আদায়ের জন্য নির্ধারণ করেননি। কোন উদ্দেশ্যে ছাড়াই তিনি এসব কাজ করেছেন। কেননা, জ্বলাতের সময় হওয়ার কারণেই তিনি ঐ জায়গায় জ্বলাত আদায় করেছেন। জ্বলাত আদায়ের এ স্থানসহ পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের কোন বিশেষত্ব নেই। কেননা, এসব স্থান অনুসরণ করার মাধ্যমে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে মানুষ মূর্তি পূজার প্রচলন ঘটাতে পারে। দূর হতে ঐ সব জায়গার কল্পনা করে সেখানে ভ্রমণ করবে। পূর্ববর্তী জাতি এসব জায়গা কেন্দ্রীক যে শিরক করেছে তারাও হয়তো তাই করবে। আবার কখনো হয়তো সেখানে ভিত্তি নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে যারা এসব করতে চায়, তারা বলে, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে স্থান অতিক্রম করেছেন অথবা তিনি যেখানে বসেছেন সেই নিদর্শনের উপর তোমরা ভিত্তি এবং স্মৃতি সৌধ নির্মাণ কর। এসবই বাতিল কথা। নেককার সালাফীরা যা করেননি আমরা তা করবো না। যদি এসব শরী'আত সম্মত হত তাহলে আমাদের আগে ছাহাবী, তাবেঈ এবং পরবর্তীগণ তা পালন করতেন।
এসব ভ্রান্ত কর্মের কারণেই জাতি ধ্বংস হয়। তাই সম্মানিত ব্যক্তি বর্গের নিদর্শন উজ্জীবিত করার মাধ্যমে মানুষ মূর্তি পূজার দিকে অগ্রসর হয়। যেমন নূহ আলাইহিস সালাম ও পূর্ববর্তী জাতির মাঝে এরূপ ঘটেছিল। আর মানুষ তাদের দীন সম্পর্কে সচেতন; এজন্য তাদের (জাহিলিয়্যাতে লিপ্ত হওয়ার) আশঙ্কা নেই এ কথা বলা যাবে না। কেননা জাহিল জাতির আর্বিভাবের পর শয়তান তাদের সামনে মূর্তিপূজাকে সৌন্দর্যময় করে তুলেছে। এ কারণে কোন ফিতনাকে বিশ্বাস করা যাবে না। যেমন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দু'আ করেছেন,
{وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ} [ইব্রাহিম: ৩৫]
আর (স্মরণ কর) যখন ইবরাহীম বলল, হে আমার রব, আপনি এ শহরকে নিরাপদ করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তি পূজা হতে দূরে রাখুন (সূরা ইবরাহীম ১৪:৩৫)।
📄 শিরকের নানা মাধ্যম অবলম্বন করা
কবরের উপর বাতি প্রজ্বলন করা。
ব্যাখ্যা: কবরের উপর বাতি প্রজ্বলন: কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে কবরের উপর প্রদীপ অথবা হারিকেন অথবা তৈলস্ফটিক যা মোমবাতির মত এসবের কোনটিই রাখা বৈধ নয়। কেননা এ সবই শিরকের উপকরণ। মৃতকে দাফনের সময় আলোর প্রয়োজন হলে প্রদীপ অথবা লণ্ঠন ব্যবহার করতে পারে। তবে কবরস্থানে বাতি অথবা আলো প্রজ্বলন করে রাখা নিষেধ। রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لعن الله زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج
কবর যিয়ারতকারী, কবরের উপর মাসজিদ নির্মাতা ও সেখানে আলো স্থাপনকারীর উপর আল্লাহ তা'আলা অভিসম্পাত করেছেন।
আর সুনান গ্রন্থের হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর যিয়ারতকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন। এ হাদীছটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা নিষেধ। এটা কেবল পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট।
অভিশাপ কথাটি থেকে বুঝা যায় যে, মহিলাদের কবর যিয়ারত করা কাবীরাহ গুনাহ। কবরকে মাসজিদ হিসাবে গ্রহণকারীদের উপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিশাপ করেছেন। অর্থাৎ কবরের পাশে যারা জ্বলাত আদায়ের ইচ্ছা করে করে অথবা মাসজিদ নির্মাণ করে অথবা যারা কবরকে আলোকিত করে যা শিরকের মাধ্যম, এ সবই গর্হিত কাজ। এসবের মাধ্যমে কবরপূজা ও আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকা হয়। তাই কবরে এরূপ কর্ম পরিত্যাগ করতে হবে, যেমন নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে ছাহাবীদের কবরে এরূপ করা পরিত্যাগ করা হয়। আর কবরে বাতি প্রজ্বলন ও তার উপর ভিত্তি নির্মাণ করা যাবে না। (লাশ দাফনের) পর কবর পূর্ব অবস্থায় বহাল থাকবে। আর ভূ-পৃষ্ঠ থেকে শুধুমাত্র এক বিঘত পরিমাণ কবর উঁচু করতে হয় এবং এর উপর চিহ্ন দিতে হয়, যাতে বুঝা যায় এটি কবর। এছাড়া কবরের উপর অতিরিক্ত কিছু করা যাবে না। নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী ইবনে আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলেন,
لا تدع قبراً مشرفاً" يعني مرتفعاً: "إلا سويته"
তুমি যেখানেই কুজো অর্থাৎ উঁচু কবর দেখবে তা ছাড়বে না, মাটিতে সমান করে দিবে। কেননা, জাহিলরা তাদের উদ্দেশ্যে নিয়ে উঁচু কবরের প্রতি আসক্ত হয়।
কেননা জাহিলদের মাঝে খুব তাড়াতাড়ি শিরক বিস্তার লাভ করে। আর জিন ও মানুষের মধ্যে থেকে শয়তান কবর কেন্দ্রীক কর্মকান্ডকে মানুষের সামনে সৌন্দর্যময় করে তুলে এবং এর মাধ্যমে ফিতনা ছড়ায়। কবরের মাঝে যদি দৃষ্টি নন্দন কিছু না থাকে এবং নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও অন্যদের কবরের মাঝে পার্থক্য বুঝা না যায় তখনই এ কবর ফিতনা হতে অধিক দূরে বলে গণ্য হবে। আর যখন কবরকে উদ্দেশ্যে করে সম্মান করা হবে এবং তার উপর ভিত্তি স্থাপন, সাজ-সজ্জা ও বাতি প্রজ্বলন করা হবে, তখনই এটা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। জাহিলরা বলে, কবরের সম্মানের জন্য এসব বিষয় কাজে আসে। অতঃপর তারা এসবের মাধ্যমে কবর পূজা করে।
কবরের ব্যাপারে নাবী এর পথ নির্দেশনা অনুসরণ করা ওয়াজীব। যাতে কোন বাড়াবাড়ি, ভিত্তি নির্মাণ, বাতি প্রজ্বলন, কবরে লিখন, চুনকাম করাসহ আরো অন্যান্য কর্ম কান্ড কবরের উপর না হয়। যেমন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কবরগুলো এসব থেকে মুক্ত ছিল。
টিকাঃ
৫৪. আবূ দাউদ ৩/৩৬২ হা/৩২৩৬, তিরমীযি হা/৩২০। আবূ ঈসা বলেন, ইবনে আব্বাসের হাদীছটি হাসান। আলবানী রহিমাহুল্লাহ ছহীহ জামে গ্রন্থে হাদীছটি ছহীহ সূত্রে উল্লেখ করেছেন। হা/৫১০৯。
৫৫. ছহীহ মুসলিম হা/৯৬৯।