📄 আল্লাহর ভালোবাসায় বৈপরীত্য সৃষ্টি করা
শরী'আত বর্জন করা সত্ত্বেও আল্লাহকে ভালবাসার দাবি করা। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ভালবাসার আহবান জানান। তিনি বলেন, { قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ } [আল ইমরান: ৩১]
বল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস (সূরা আলে-ইমরান ৩:৩১)।
ব্যাখ্যা: আল্লাহর আদেশ অমান্য করা সত্ত্বেও ভ্রষ্ট ইয়াহুদী ও তাদের অনুসারী কর্তৃক ভালবাসার দাবি করা。
আল্লাহর ভালবাসার নিদর্শন হচ্ছে: আল্লাহর আদেশ পালন করা। যেমন কবি বলেন, إِنَّ الْمُحِبَّ لِمَنْ يُحِبُّ مُطِيْعُ প্রেমিক অনুগত থাকে * সে ভালবাসে যাকে。
আল্লাহ তা'আলা বলেন, {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ} [আল ইমরান: ৩১]
বল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন (সূরা আলে-ইমরান ৩:৩১)। ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা বলে, {نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ} [আল-মায়েদা: ১৮] ,
আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়জন (সূরা আল-মায়েদা ৫:১৮)।
আল্লাহ তা'আলার শরী'আতের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও তারা তাকে ভালবাসার দাবি করে। তাই এ বিরোধিতা তাদের দাবি মিথ্যা তা প্রমাণ করে। আল্লাহ তা'আলার ভালবাসার দাবির উপর তাদেরকে তিনি দলীল-প্রমাণ পেশ করার আহবান জানান। আর এ দলীল-প্রমাণই হবে মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করা। তাদের মিথ্যা দাবির পক্ষে তারা প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। অনুরূপভাবে সূফীরাও আল্লাহ তা'আলাকে ভালবেসে তাদের দীন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর বলে, ইবাদতই ভালবাসা। তাই আমরা জাহান্নামের ভয়ে ও জান্নাতের নি'আমত লাভের আশায় আল্লাহর ইবাদত করবো না। সূফীরা আল্লাহর শরী'আতের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও বলে, আমরা তাকে ভালবেসেই তার ইবাদত করবো। মূলতঃ তারা আল্লাহর রসূলের আনুগত্য করে না।
পীর এবং যে সব তরিকাপন্থীরা শ্রবণ ও আনুগত্যের উপর বাই'আত গ্রহণ করে জাহিলরা কেবল তাদেরই অনুসরণ করে। জাহিলদেরকে কোন বিষয়ে তারা নির্দেশ দিলে তারা সে বিষয়ের বিরোধিতা করে না। বরং জাহিলরা বলে, গোসল দানকারীর হাতে যেমন মৃত লাশ থাকে, তেমনই মুরিদ তার পীরের সাথেই থাকে। পীর সাহেব যা পছন্দ করেন তা ব্যতীত মুরিদের কোন স্বাধীনতা নেই। কোথায় তাদের রসূলের আনুগত্য? তাদের দাবিতে তারা মিথ্যুক। একারণে ঐ সব ভালবাসার দাবিদার লোকদের বিরূদ্ধে আল্লাহ তা'আলা নিম্নের আয়াতের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ} [آل عمران: ৩১]
বল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন (সূরা আলে-ইমরান ৩:৩১)।
সুতরাং আল্লাহর রসূলের আনুগত্য করাই আল্লাহকে ভালবাসার নিদর্শন বলে গণ্য। যার মাঝে এ গুণ পাওয়া যাবে, আল্লাহর ভালবাসার দাবিতে সে হবে সত্যবাদী। পক্ষান্তরে যার মাঝে রসূলের আনুগত্যের গুণ পাওয়া যাবে না, সে হবে মিথ্যাবাদী। আল্লাহ তা'আলা ভালবাসার দলীল-প্রমাণ ও ফলাফল উল্লেখ করেছেন। রসূলের আনুগত্য করাই ভালবাসার দলীল-প্রমাণ। আর বান্দার জন্য আল্লাহর ভালবাসা এবং তার পাপরাশি ক্ষমা করাই হলো ফলাফল। অনুরূপভাবে যারা রসূলের ভালবাসার দাবি করে অথচ তার আনুগত্য করে না এমন প্রত্যেকেই এ ফলাফল অর্জন থেকে বঞ্চিত। রসূলের ভালবাসার দাবিদারা তাদের পুস্তিকাদিতে বিভিন্ন বিষয়ে বিকৃতভাবে লেখালেখি করে। যেমন: (তারা বলে), তোমাদের সন্তানাদিকে তোমরা রসূলের ভালবাসা শিক্ষা দাও। অথচ দেখা যায়, তারা সন্তানাদিকে বিদ'আত ও মিলাদের হাদীছ শিক্ষা দেয়। অথচ নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদ'আতী কর্ম নিষিদ্ধ করেছেন। সুতরাং এভাবে তারা রসূলের ভালবাসার দাবি করে অথচ বিদ'আত ও কুসংস্কার সৃষ্টির মাধ্যমে তার ভালবাসার বিরোধিতা করে।
📄 মিথ্যা আকাঙ্ক্ষার উপর নির্ভর করা
জাহিল কর্তৃক মিথ্যা আস্থার উপর আকাঙ্খা পোষণ করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُوداً أَوْ نَصَارَى} [ البقرة: ১১১] .
আর তারা বলে, ইয়াহূদী কিংবা নাসারা ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১১১)।
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা মিথ্যা আস্থার উপর নির্ভর করে। তারা আল্লাহর নিকট মিথ্যা আকাঙ্খা করে। যেমন আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে উল্লেখ করেন যে, তারা বলে, আল্লাহর বাণী: { لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّاماً مَعْدُودَةً} [ البقرة: ৮০]
গোনা-কয়দিন ব্যতীত আগুন আমাদেরকে কখনোই স্পর্শ করবে না (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৮০)।
জাহিলদের ধারণা মতে, গো-বৎস পূজার কারণে কয়েক দিন (জাহান্নামে থাকতে হবে)। আল্লাহ তা'আলা তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, {قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْداً فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [ البقرة: ৮০,
আর তারা বলে, গোনা-কয়দিন ব্যতীত আগুন আমাদেরকে কখনোই স্পর্শ করবে না। বল, তোমরা কি আল্লাহর নিকট ওয়াদা নিয়েছ, ফলে আল্লাহ তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করবেন না? নাকি আল্লাহর উপর এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না? হাঁ, যে মন্দ উপার্জন করবে এবং তার পাপ তাকে বেষ্টন কওে নেবে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৮০,৮১)। তাদের কথা: {لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّاماً مَعْدُودَةً} [البقرة: ٨٠]
একথাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যেমন সূরা আলে ইমরানে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيباً مِنَ الْكِتَابِ يُدْعَوْنَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ وَهُمْ مُعْرِضُونَ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّاماً مَعْدُودَاتٍ وَغَرَّهُمْ فِي دِينِهِمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ فَكَيْفَ إِذَا جَمَعْنَاهُمْ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ} [آل عمران : ٢٣ - ٢٥]
তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি? যাদেরকে কিতাবের অংশবিশেষ দেয়া হয়েছে, তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে। অতঃপর তাদের একদল ফিরে যাচ্ছে বিমুখ হয়ে। এর কারণ হল, তারা বলে, গুটি কয়েকদিন ব্যতীত আগুন আমাদেরকে কখনই স্পর্শ করবে না। আর তারা যা মিথ্যা রচনা করত, তা তাদেরকে তাদের দীনের ব্যাপারে প্রতারিত করেছে। সুতরাং কি অবস্থা হবে? যখন আমি তাদেরকে এমন দিনে সমবেত করব, যাতে কোন সন্দেহ নেই। আর প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেয়া হবে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না (সূরা আলে-ইমরান ৩: ২৩-২৫)।
তিনি আরো বলেন, {لَيْسَ بِأَمَانِيكُمْ وَلَا أَمَانِي أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءاً يُجْزَ بِهِ وَلَا يَجِدْ لَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيّاً وَلَا نَصِيراً وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيراً} [النساء: ١٢٣، ١٢٤]
না তোমাদের আশায় এবং না কিতাবীদের আশায় (কাজ হবে)। যে মন্দকাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না। আর পুরুষ কিংবা নারীর মধ্য থেকে যে নেককাজ করবে এমতাবস্থায় যে, সে মুমিন, তাহলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি খেজুরবীচির আবরণ পরিমাণ যুলম করা হবে না (সূরা আন নিসা ৪:১২৩-১২৪)।
📄 ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক বাড়াবাড়ি
নাবী ও নেকলোকদের কবরকে সেজদার জায়গা হিসাবে নির্ধারণ করা。
ব্যাখ্যা: আহলে কিতাব ও অন্যান্য জাতির রীতি হলো নাবী ও নেকলোকদের কবরকে মাসজিদ নির্ধারণ করা। ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান, আরবের মুশরিক এবং ইসলামের সাথে সম্পৃক্তকারী কবর পূজারীরা সর্বদাই কবরকে মাসজিদ হিসাবে নির্ধারণ করে। তবে আহলে কিতাবরাই প্রথমে কবরকে মাসজিদ নির্ধারণ করেছিল। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
"إن من كان قبلكم كانوا يتخذون القبور مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد"
তোমাদের পূর্ববর্তী জাতি কবরকে মাসজিদ বানাতো। সাবধান! তোমরা আমার কবরকে মাসজিদ বানাবে না।
অর্থাৎ তারা কবরের পাশে জ্বলাত আদায় করতো। কেননা, কবরের পাশে জ্বলাত আদায় করা কবর পূজার মাধ্যম বলে গণ্য। যদিও জ্বলাত আদায়কারী আল্লাহর উদ্দেশ্যে জ্বালাত আদায় করে। জ্বালাত আদায়কারী কবরের পাশে জ্বলাত আদায়ের সময় মূলতঃ কবরের নিকটেই সাহায্য কামনা করে, ফরিয়াদ করে। যেমন বর্তমান কবরের নিকট কি বলা হয়? এটাই হলো জাহিল, ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য জাতির দীন。
হাদীছে বর্ণিত আছে, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, উম্মে সালমা ও উম্মে হাবীবা (রাঃ) হাবশা এলাকায় গির্জার ভিতর মূর্তি দেখে নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সংবাদ দিলেন। কেননা, তারা দু'জন তাদের স্বামীর সাথে হাবশায় প্রথম হিজরত করেন। তারা দু'জন ঐ সৌন্দর্য মন্ডিত গির্জা ও তার ভিতরের চিত্র কর্মের বিবরণ দিলেন। তখন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "أولئك قوم إذا مات فيهم الرجل الصالح، أو العبد الصالح، بنوا على قبره مسجداً، وصوروا فيه تلك الصور، أولئك شرار الخلق عند الله"
ঐ সব এলাকার লোকদের মধ্যে কোন নেকলোক মারা গেলে তার কবরের উপর তারা মাসজিদ নির্মাণ করত এবং তাদের প্রতিমূর্তি তৈরি করতো। তারাই হলো আল্লাহর নিকৃষ্ট সৃষ্টি।
আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত ওলী ও নেকলোকদেরকে রব হিসাবে গ্রহণ করাই জাহিলী দীন। জাহিলরা ধারণা করে যে, তারা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে। আর আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশ কামনা করবে। যেমন আল্লাহ বলেন, {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ} [يونس : [١٨
আর তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত করছে, যা তাদের ক্ষতি করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী (সূরা ইউনূস ১০:১৮)। তিনি আরো বলেন, { وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر: 3]
জেনে রেখ! আল্লাহর জন্যই, বিশুদ্ধ ইবাদাত-আনুগত্য। আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে তারা বলে, 'আমরা কেবল এজন্যই তাদের 'ইবাদত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে (সূরা যুমার ৩৯:৩)।
কবরবাসীরা সৃষ্টি করে, রিজিক দেয় এবং জীবন-মৃত্যু দান করে এসব বিষয়ে অবশ্য জাহিলরা তাদেরকে বিশ্বাস করে না। তবে তারা জানে না যে, এসব কিছু আল্লাহ তা'আলার সাথেই নির্দিষ্ট। আল্লাহ এবং সুপারিশকারীদের মাঝে নেকলোকদেরকে তারা মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে। তাই নেকলোকেরা জাহিলদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে এ উদ্দেশ্যে জাহিলরা তাদের বিভিন্ন ইবাদত করে। এটাই জাহিলী দীন। আর বর্তমান কবর পূজারীরা এ রীতির উপরই রয়েছে। আমরা এ থেকে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। কবরের উপর কোন কিছু নির্মাণ করা, বাতি প্রজ্জলন করা, পর্দা টাঙানো, কবরে লেখালেখি করা এবং কবর চুনকাম করা ইত্যাদি সবই গর্হিত কর্ম যা কবরবাসীর জন্য প্রকাশ্য বাড়াবাড়ি বলে গণ্য। এ কারণে রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব নিষেধ করেছেন。
টিকাঃ
৫২. জ্বহীহ মুসলিম হা/৫৩২。
৫৩. ছহীহ বুখারী হা/৪২৭,৪৩৪,১৩৪১ জ্বহীহ মুসলিম হা/৫২৮।
📄 নারীগণের নিদর্শন নিয়ে বাড়াবাড়ি করা
নাবীগণের নিদর্শনকে মাসজিদ হিসাবে গ্রহণ করা। যেমন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে。
ব্যাখ্যা: নাবীগণের নিদর্শনকে মাসজিদ হিসাবে গ্রহণ করা জাহিলী কর্ম। অর্থাৎ নাবীগণের জ্বলাত আদায়ের জায়গায় জাহিলরা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে জ্বলাত আদায় করতো।
পূর্বাপর জাহিলী কর্মের পার্থক্য: পূর্ববর্তী জাহিলরা ব্যক্তিসত্তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতো আর পরবর্তীরা ব্যক্তিদের কর্মের নিদর্শন নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। এখানে (الأثار) আল-আছার শব্দটি )ر) আছার এর বহুবচন। আর নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে বসেছেন অথবা জ্বলাত আদায় করেছেন তা আছার (ছাপ-নিদর্শন) হিসাবে পরিচিত। দেশবাসী ঐ জায়গার অনুসরণ করে সেখানে আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করে।
তারা ধারণা করে যে, সেখানে জ্বলাত আদায় করা ফযীলতপূর্ণ আমল। যেমন বর্তমানে যারা হেরাগুহায় যায়, তারা সেখানে জ্বলাত আদায় করে এবং দু'আ-দরূদ পাঠ করে। কেননা, নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত লাভের পূর্বে হেরাগুহায় ইবাদত করতেন। অথচ নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়াত লাভের পর সেখানে ইবাদত করেননি এবং তার কোন ছাহাবীও হেরাগুহায় ইবাদত করতে যাননি। তারা জানতেন, এটা শরী'আত সম্মত নয়। অনুরূপভাবে জাহিলরা ছাওর গুহায় গমন করে, যেখানে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পূর্বে লুকিয়ে ছিলেন। তারা সেখানে জ্বলাত আদায় করে, ভালকাজ করে এবং কখনো টাকা-পয়সাও দান করে। এসবই জাহিলী দীন।
জাহিলরা নাবীগণের নিদর্শনকে সম্মান করে। এজন্য বাই'আতের গাছ (যে গাছ তলায় বাই'আত হয়েছিল) তার দিকে কতিপয় লোককে যেতে দেখে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, তোমাদের পূর্ববর্তীরা নাবীগণের নিদর্শন অনুসরণের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি গাছটি কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরী'আতের জন্য এসব জায়গা নির্ধারণ করেননি। তিনি শরী'আতের জন্য কতিপয় জায়গা নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো মাকামে ইবরাহীমে জ্বলাত আদায় করা। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلَّى} [البقرة: ١٢٥] ،
তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে জ্বলাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১২৫)।
নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণের জন্য মাকামে ইবরাহীমে জ্বলাত আদায় করা শরী'আত সম্মত। পক্ষান্তরে, হেরাগুহা, ছাওরগুহা অথবা মক্কা ও মদিনার রাস্তায় বিশ্রামের জন্য বসা শরী'আত সম্মত, তা কোন আমল বলে গণ্য নয়। কেবল প্রয়োজন অনুসারে এসব জায়গায় বসা যেতে পারে। তাই এসব (আমল ও অভ্যাসের) ব্যাপারে পার্থক্য বুঝা আবশ্যক।
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সব জায়গাকে শরী'আতের জন্য নির্ধারণ করেননি, কেবল ঐ সব জায়গা অতিক্রম করেছেন অথবা অভ্যাসগতভাবে সেখানে বসেছেন অথবা বিশ্রাম নিয়েছেন অথবা হঠাৎ জ্বলাতের সময়ে ঐ জায়গায় এসেছেন এবং কোন উদ্দেশ্যে ছাড়াই জ্বলাত আদায় করেছেন, ঐ সব জায়গাকে তিনি জ্বলাত আদায়ের জন্য নির্ধারণ করেননি। কোন উদ্দেশ্যে ছাড়াই তিনি এসব কাজ করেছেন। কেননা, জ্বলাতের সময় হওয়ার কারণেই তিনি ঐ জায়গায় জ্বলাত আদায় করেছেন। জ্বলাত আদায়ের এ স্থানসহ পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের কোন বিশেষত্ব নেই। কেননা, এসব স্থান অনুসরণ করার মাধ্যমে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে মানুষ মূর্তি পূজার প্রচলন ঘটাতে পারে। দূর হতে ঐ সব জায়গার কল্পনা করে সেখানে ভ্রমণ করবে। পূর্ববর্তী জাতি এসব জায়গা কেন্দ্রীক যে শিরক করেছে তারাও হয়তো তাই করবে। আবার কখনো হয়তো সেখানে ভিত্তি নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে যারা এসব করতে চায়, তারা বলে, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে স্থান অতিক্রম করেছেন অথবা তিনি যেখানে বসেছেন সেই নিদর্শনের উপর তোমরা ভিত্তি এবং স্মৃতি সৌধ নির্মাণ কর। এসবই বাতিল কথা। নেককার সালাফীরা যা করেননি আমরা তা করবো না। যদি এসব শরী'আত সম্মত হত তাহলে আমাদের আগে ছাহাবী, তাবেঈ এবং পরবর্তীগণ তা পালন করতেন।
এসব ভ্রান্ত কর্মের কারণেই জাতি ধ্বংস হয়। তাই সম্মানিত ব্যক্তি বর্গের নিদর্শন উজ্জীবিত করার মাধ্যমে মানুষ মূর্তি পূজার দিকে অগ্রসর হয়। যেমন নূহ আলাইহিস সালাম ও পূর্ববর্তী জাতির মাঝে এরূপ ঘটেছিল। আর মানুষ তাদের দীন সম্পর্কে সচেতন; এজন্য তাদের (জাহিলিয়্যাতে লিপ্ত হওয়ার) আশঙ্কা নেই এ কথা বলা যাবে না। কেননা জাহিল জাতির আর্বিভাবের পর শয়তান তাদের সামনে মূর্তিপূজাকে সৌন্দর্যময় করে তুলেছে। এ কারণে কোন ফিতনাকে বিশ্বাস করা যাবে না। যেমন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দু'আ করেছেন,
{وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ} [ইব্রাহিম: ৩৫]
আর (স্মরণ কর) যখন ইবরাহীম বলল, হে আমার রব, আপনি এ শহরকে নিরাপদ করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তি পূজা হতে দূরে রাখুন (সূরা ইবরাহীম ১৪:৩৫)।