📄 পবিত্র রিযিক্ ও সাজ-সজ্জা বর্জন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া
পবিত্র রিজিক ও পোশাকের সাজ-সজ্জা পরিহার করে ইবাদত করতে চাওয়া。
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ পবিত্র রিজিক ও পোশাকের সৌন্দর্যতা পরিত্যাগ করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চাওয়া। খ্রিষ্টান ও তাদের সাদৃশ্য অবলম্বী ইসলামের দিকে সম্বন্ধকারী সূফীরাই এটা করে থাকে। আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের উদ্দেশ্যে তারা পবিত্র জিনিসকে বর্জন করে। তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় না এবং পবিত্র রিজিকও গ্রহণ করে না। আর পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তারা সন্ন্যাসী জীবন যাপন করে। তারা ধারণা করে, এভাবেই আল্লাহর ইবাদত করতে হয়। এ জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ} [الأعراف: ٣٢]
বল, কে হারাম করেছে আল্লাহর সৌন্দর্যোপকরণ, যা তিনি তার বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র রিযিক? (সূরা আরাফ ৭:৩২)। তিনি আরো বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ} [المائدة: ۸۷] .
হে মুমিনগণ, আল্লাহ যে সব পবিত্র বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করেছেন, তোমরা তা হারাম করো না এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না (সূরা আল মায়েদা ৫:৮-৭)।
অনুরূপভাবে কতিপয় হালাল চতুষ্পদ জন্তুকেও তারা হারাম মনে করে। অথচ আল্লাহ তা'আলা হালাল চতুষ্পদ জন্তু খাওয়া বৈধ করেছেন। তিনি বলেন, {أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ} [المائدة: ١]
তোমাদের জন্য গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে (সূরা আল-মায়েদা ৫:১)।
জাহিলরা তাদের মূর্তির জন্য কতিপয় চতুষ্পদজন্তুকে হারাম করতো। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [المائدة: ٨٧]
হে মুমিনগণ, আল্লাহ যে সব পবিত্র বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করেছেন, তোমরা তা হারাম করো না এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না (সূরা আল-মায়েদা ৫:৮-৭)।
সুতরাং পবিত্র জিনিসকে হারাম করা বৈরাগ্যবাদী খ্রিষ্টান ও জাহিলদের দীন। আর যে হালালকে হারাম করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করবে, সে হবে মুরতাদ। তাই যখন কেউ (হালালকে হারাম করণের বিষয়টি) দীনের প্রতি সম্বন্ধ করে আল্লাহ তা'আলার ইবাদত বলে গণ্য করবে, তখন এটিই হবে আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ। কেননা, আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের জন্য পবিত্র জিনিস বর্জন করা শরী'আত সম্মত করেননি। বরং তা উপভোগ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحاً} [المؤمنون: ٥١] .
হে রসূলগণ, তোমরা পবিত্র ও ভাল বস্তু হতে খাও ও সৎকর্ম সম্পাদন কর। (সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৫১)।
নাবী জ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে একটি দল এরূপ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছিল; ফলে তিনি তাদের উপর রাগান্বিত হন।
অপরদিকে আল্লাহ প্রদত্ত সৌন্দর্যকে পরিত্যাগ করে জাহিলদের ইবাদত করা বলতে, সৌন্দর্য বর্জন করে তথা বেশ-ভূষা ছাড়াই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া। যেমন নগ্ন হয়ে তারা কাবা তাওয়াফ করতো। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ} [الأعراف: ৩২]
বল, কে হারাম করেছে আল্লাহর সৌন্দর্যোপকরণ (সূরা আল-আরাফ ৭:৩২)।
অর্থাৎ পোশাক, সৌন্দর্যতা ও পবিত্র রিজিক বর্জনের ব্যাপারে তোমরা যা কিছু কর এ ব্যাপারে কি তোমাদের কোন দলীল আছে? কেননা, কোন জিনিস হারাম করণের জন্য দলীলের প্রয়োজন হয়। আর পোশাক-পরিচ্ছেদ ও পানাহারের মৌলিকত্ব হচ্ছে (শরী'আত অনুসারে) তা হালাল। কেননা, এসব জিনিস আল্লাহ তা'আলা বান্দার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। যেমন জ্বহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যতা পছন্দ করেন। তাই সতর্কতা স্বরূপ পোশাক বর্জন করা দীন ইসলাম নয়।
(ইসলাম চায়) পোশাকের সৌন্দর্যতা গ্রহণ ও পবিত্র রিজিক উপভোগ করতঃ মানুষ যেন আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করে। হাদীছে বর্ণিত আছে, إن الله يحب إذا أنعم عبد نعمة أن يرى أثر نعمته عليه
বান্দাকে কোন নি'আমত দান করা হলে আল্লাহ তা'আলা ঐ নে'আমতের নিদর্শন প্রকাশ পাওয়া পছন্দ করেন।
তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো অপব্যয় ও নিজের খেয়াল-খুশি ছাড়াই তা হতে হবে। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিনিধি দলের মোকাবেলায় বেশি করে সৌন্দর্য্যতা গ্রহণ করতেন。
টিকাঃ
৫০. হাসান: তিরমিযী, হা/২৮২৪, জ্বহীহ জামে, হা/১৮৮৭。
📄 মানুষকে ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করা
কোন জ্ঞান ছাড়া মানুষকে দাও'আত দেয়াই হচ্ছে ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান。
ব্যাখ্যা: ইলম-জ্ঞান ছাড়া মানুষকে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া জাহিলী কর্ম। কেননা, আল্লাহ তা'আলা প্রমাণ, প্রজ্ঞা, সুন্দর উপদেশ ও উত্তম পন্থায় তর্কের মাধ্যমে তার পথে দা'ওয়াত দিতে আদেশ দেন। ভ্রষ্টতার দিকে মানুষকে আহবান করা অর্থাৎ হক্বের বিরূদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা জাহিলী কর্ম। আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا اتَّبِعُوا سَبِيلَنَا وَلْنَحْمِلْ خَطَايَاكُمْ} [العنكبوت: ١٢]
আর কাফিররা মু'মিনদেরকে বলে, তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ কর, তাহলে আমরা তোমাদের পাপ বহন করতে পারব (সূরা আনকাবূত ২৯:১২)।
কাফিররা মানুষকে শিরকের দিকে আহ্বান করে, দলীল-প্রমাণ ব্যতিরেকেই তারা হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল করণের দিকে আহবান করে, আর তারা এমন বিষয়াদির দিকে দা'ওয়াত দেয়, যে ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, সুতরাং তারাই ভ্রষ্ট দা'ঈ।
আর হক্বপন্থী দা'ঈ তারাই যারা আল্লাহ তা'আলার নাযিলকৃত বিধান ও শরী'আতের দিকে মানুষকে দা'ওয়াত দেয়। বর্তমানে ভ্রষ্ট দা'ঈ তারাই যারা মানুষকে শিরক, মাযার ও কবর পূজার দিকে আহবান করে; দীনের মধ্যে বিদ'আতী কাজ ও নব আবিষ্কৃত বিষয়ের দিকে দা'ওয়াত দেয়, যে বিষয়ে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তাদের লিখনী, রচনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে বিদ'আত ও নব আবিষ্কৃত বিষয়ই জাগ্রত হয়। তারা মন্দের বৈধতা, ফাসেকী ও অবাধ্যতার দিকে আহবান করে, এরূপ সকল দা'ঈ ভ্রষ্ট。
আল্লাহ তা'আলা ঐ সব দা'ঈ ও তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ} [آل عمران: ١٤٩]
হে মুমিনগণ, যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর, তারা তোমাদেরকে তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ফিরে যাবে (সূরা আলে-ইমরান ৩:১৪৯)। তিনি আরো বলেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا فَرِيقاً مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ يَرُدُّوكُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ} [آل عمران : ১০০]
হে মুমিনগণ, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তোমরা যদি তাদের একটি দলের আনুগত্য কর, তারা তোমাদের ঈমানের পর তোমাদেরকে কাফির অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে (সূরা আলে-ইমরান ৩:১০০)। তিনি আরো বলেন,
{أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ} [البقرة: ٢٢١]
তারা তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহ্বান করে আর আল্লাহ তোমাদেরকে জান্নাতের দিকে আহ্বান করেন (সূরা আল বাক্বারাহ ২:২২১)। তিনি আরো বলেন,
{وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ sَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ} [الأنعام: ١١৬]
আর যদি তুমি যারা যমীনে আছে তাদের অধিকাংশের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা শুধু ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা শুধু অনুমানই করে (সূরা আল আন'আম ৬:১১৬)।
আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করেন যে, প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগে ভ্রান্ত মতাদর্শের উপর কাফিররা মতভেদে লিপ্ত আছে। সর্বযুগে ও স্থানে তারা মানুষকে ভ্রষ্টতার দিকেই আহবানে তৎপর। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً} [النساء: ٨৯]
তারা কামনা করে, যদি তোমরা কুফরী করতে যেভাবে তারা কুফরী করেছে। অতঃপর তোমরা সমান হয়ে যেতে (সূরা আন নিসা ৪:৮৯)।
📄 জেনে-বুঝে কুফরীর দিকে মানুষকে দা'ওয়াত দেয়া
জানা সত্ত্বেও কুফরীর দিকেই দা'ওয়াত দেয়া。
ব্যাখ্যা: এটি ভ্রষ্ট দা'ঈর আরেকটি শ্রেণীবিভাগ। যারা বাড়াবাড়ি ও বিরোধিতার উদ্দেশ্যে জেনে-বুঝে মানুষকে হক্ব থেকে বিমুখ করার দা'ওয়াত দেয়। আর প্রথম প্রকার দা'ঈ হলো যারা হক্ক না জেনে মানুষকে মিথ্যার দিকে আহবান করে। এ উভয় প্রকার দা'ঈ মানুষের জন্য বিপজ্জনক। অথচ তারা মানুষকে বলে না যে, তোমরা কুফরী কর। কেবল তাদের সাজানো পদ্ধতি তারা মানুষের কাছে প্রচার করে, যা বাহ্যিকভাবে সুন্দর মনে হলেও তা মূলতঃ কুফরী। আর ভ্রষ্ট দা'ঈরা এরূপই হয়। ইবলিশ নূহ আলাইহিস সালাম এর সম্প্রদায়ের নিকট এসে দেখলো যে, নেকলোকদের মৃত্যুতে তারা শোকাহত। সে তখন তাদের নিকট তার দীনি পদ্ধতি উপস্থাপন করে বললো, তোমরা এ সব নেকলোদের প্রতিচ্ছবি তৈরি করো, কারণ তা দেখলে যেন তাদের ইবাদতে তোমরা উদ্যমী হও, তাদের অবস্থা, সততা এবং দীন স্বরণ করতে পার। ফলে তারাও তোমাদের ইবাদতে খুশি হবে। এভাবে সে তাদেরকে উপদেশ দেয় এবং তার দীনি পদ্ধতি তুলে ধরে। আর ছবিগুলো অবশেষে মূর্তিতে পরিণত হবে; ইবলিশের এটাই ছিল ইচ্ছা।
পরে ছবিগুলোকে মূর্তি বানানো হয়। বিদ্বান এবং এ (মূর্তি নির্মাতা) সম্প্রদায় মারা গেলে মূর্খ সম্পদায়ের আগমন ঘটে। তাদের কাছে শয়তান এসে বলে, তোমাদের পূর্বপুরুষরা ইবাদতের জন্যই এসব মূর্তি নির্মাণ করতো। এ সব মূর্তির নামেই তারা বৃষ্টি প্রার্থনা করতো। অতঃপর তারা আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে মূর্তিগুলোর ইবাদত করে। ঠিক এরূপই ভ্রষ্ট দা'ঈরা মানুষকে প্রকাশ্যে খারাপ কর্মের দা'ওয়াত দেয় না। বরং তারা মানুষকে সাজানো পদ্ধতির মাধ্যমে দা'ওয়াত দেয়, যা তাদের নিকট উত্তম মনে হয়। ফলে অবশেষে দা'ঈর উদ্দেশ্যে অর্জিত হয়। পথ ভ্রষ্ট দা'ঈরা মানুষকে কবর পূজার মাধ্যমে শিরকের দিকে আহবান করে, তারা মানুষকে বলে না যে, তোমরা কবর পূজা কর। বরং তারা বলে, ঐসব ব্যক্তিরাই ওলী ও সৎ। আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা রয়েছে। তোমরা তাদের নৈকট্য অর্জন করবে, যাতে তারা তোমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জনে তোমাদের জন্য তারা মাধ্যম ও ওসীলা স্বরূপ। নেকলোকদের ভালবাসা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে তাদেরকে মাধ্যম ও ওসীলা হিসাবে গ্রহণ করার পদ্ধতি নিয়ে ভ্রষ্ট দা'ঈরা মানুষের কাছে আসে। অতঃপর লোকেরা এ শয়তানী ধোঁকায় পড়ে কবর ও ওলী-আউলিয়ার ইবাদত করে, ফলে আল্লাহ তা'আলার সাথে শিরকে লিপ্ত হয়।
কুফরীর দিকে আহবানকারীরা মানুষকে বিভিন্ন পন্থায় দা'ওয়াত দেয়। তাদের মাঝে কোন আনুগত্য প্রকাশ পায় না। আর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া তাদেরক কেউ চিনতে পারে না। এ দু'টি বিষয় থেকে স্পষ্ট হলো ভ্রষ্ট দা'ঈ দু'প্রকার:
প্রথম: কোন ইলম-জ্ঞান ছাড়াই মানুষকে দাওয়াত দেয়।
দ্বিতীয়: জেনে-বুঝে হকের বিরূদ্ধে মানুষকে দা'ওয়াত দেয়।
প্রথম প্রকার দা'ঈ হচ্ছে ভ্রষ্ট (ضال), আর দ্বিতীয় প্রকার দাঈ হচ্ছে ফাসিক | (فاسق)
📄 শিরক প্রতিষ্ঠিত করতে ও হক্ দমনে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা
মারাত্মক ষড়যন্ত্র; যেমন নূহ আলাইহিস সালাম এর সম্প্রদায়ের কর্ম。
ব্যাখ্যা: গোপনীয়ভাবে কারো অপছন্দনীয় বিষয় সম্পাদন করাই ষড়যন্ত্র। এটা দু'প্রকার: (ক) ভাল ষড়যন্ত্র (খ) মন্দ ষড়যন্ত্র।
কারও বিরুদ্ধে এমন গোপন প্রতারণা করা যা তার প্রাপ্য নয় তা সম্পাদন করাই হচ্ছে খারাপ ষড়যন্ত্র। আল্লাহ তা'আলা নূহ আলাইহিস সালামএর জাতির ব্যাপারে বলেন,
{وَمَكَرُوا مَكْراً كُبَّاراً وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهِتَكُمْ وَلا تَذَرُنَّ وَدّاً وَلا سُوَاعاً وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْراً وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيراً} [نوح: ۲۲-۲٤]
'আর তারা ভয়ানক ষড়যন্ত্র করেছে।' আর তারা বলে, 'তোমরা তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না; বর্জন করো না ওয়াদ, সুওয়া', ইয়াগূছ, ইয়া'উক ও নাসরকে।' বস্তুত তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে, আর (হে আল্লাহ) আপনি যালিমদেরকে ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই বাড়াবেন না (সূরা নূহ ৭১: ২২-২৪)।
ষড়যন্ত্রকারীরা ছল-চাতুরির মাধ্যমে মানুষের ব্যাপারে যে মারাত্মক প্রতারণায় লিপ্ত হয়, তা বৃহৎ ছলনা। এ নিকৃষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করে ভ্রষ্ট দা'ঈরা মানুষকে শিরকের দিকে আহবান করে। তাদেরকে একত্বের দা'ওয়াত দেয়া হলে, তারা এ দা'ওয়াত সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করে বলে, তাওহীদ পন্থীরা তোমাদের নেতা হতে চায় এবং তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের ইচ্ছা করে। এভাবে তারা নিকৃষ্ট কথাকে উত্তম ও উত্তম কথাকে মন্দ বলে মানুষের নিকট প্রচার করে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক ষড়যন্ত্র যা প্রাচীন ও আধুনিক ভ্রষ্ট দা'ঈদের মাঝে বিদ্যমান, যা মানুষকে হকু থেকে বিমুখ করে বাতিল-মিথ্যা এবং আলো থেকে অন্ধকারের দিকে ধাবিত করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة: ٢٥٧]
যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের বন্ধু, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফুরী করে, তাদের অভিভাবক হল তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে (সূরা আল বাক্বারাহ ২:২৫৭)। তিনি আরো বলেন,
{ وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِي عَدُوّاً شَيَاطِينَ الْأَنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوراً وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ} [الأنعام: ۱۱۲]
আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নাবীর শত্রু করেছি মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদেরকে, তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চাকচিক্যপূর্ণ কথার কুমন্ত্রণা দেয় এবং তোমার রব যদি চাইতেন, তবে তারা তা করত না। সুতরাং তুমি তাদেরকে ও তারা যে মিথ্যা রটায়, তা ত্যাগ কর (সূরা আল-আন'আম ৬:১১২)।
অর্থাৎ তুমি তাদেরকে ও তাদের মিথ্যাকে পরিত্যাগ কর। আর তাদেরকে তুমি ভ্রূক্ষেপ করবে না। এখানে ভ্রষ্ট দা'ঈদের কথা শ্রবণ করা হতে নিষেধ করা হয়েছে, তবে বাতিল-মিথ্যা দমন করার উদ্দেশ্যে তাদের কথা বুঝে নেয়া যেতে পারে।