📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 আল্লাহভীরিতার দোহাই দিয়ে আল্লাহর ওয়াজিব বিষয়গুলো বর্জন করা

📄 আল্লাহভীরিতার দোহাই দিয়ে আল্লাহর ওয়াজিব বিষয়গুলো বর্জন করা


আল্লাহ ভীতির অন্তর্ভুক্ত ওয়াজীব পরিত্যাগ করা。
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ ওয়াজিব ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাইতো। যেমন আরাফায় অবস্থানের পরিবর্তে মুযদালিফায় অবস্থান করা। তারা ধারণা করতো যে, এটাই আল্লাহ ভীতি। কেননা, তারা ছিল হেরেমের অধিবাসী, তাই আরাফার দিকে তারা গমন করতো না। কারণ আরাফা হলো তাদের ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার জায়গা। তাই সতর্ক হয়ে এ হকুকে তারা বর্জন করতো। এটাও জাহিলী কর্ম। আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
এরূপই সতর্কতা স্বরূপ জাহিল কর্তৃক হক্ব বর্জন করার আরো দৃষ্টান্ত হলো যে, তারা নগ্ন হয়ে কাবা তাওয়াফ করতো এবং লজ্জাস্থান ঢেকে রাখার হক্বকে তারা বর্জন করতো, যা (ঢেকে রাখা) আল্লাহ ভীতির অন্তর্ভুক্ত। তারা বলতো,
لا نطوف بثياب عصينا الله فيها
আমরা পোষাক পরিহিত অবস্থায় তাওয়াফ করবো না, তাতে আমরা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে যাব।
অনুরূপ যে কেউ ইবাদতের কোন অংশ সতর্কতা স্বরূপ বর্জন করে, সে ঐ ব্যক্তির মতই যে লোকদের ইবাদত দেখা এবং ইবাদতের কথা শ্রবণের ভয়ে যাকাত দেয় না এবং জামা'আতের সাথে মসজিদে জ্বালাত আদায় করে না। যেমন আমরা তাদের কতিপয়ের নিকট থেকে শুনে থাকি। অথবা তারা দীনি জ্ঞান অর্জন করে না অথবা লোক দেখার শঙ্কায় ইবাদতের বিভিন্ন বিষয় ছেড়ে দেয়。

টিকাঃ
৪৯. উরওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত মানুষেরা নগ্ন হয়ে (বাইতুল্লাহ) তাওয়াফ করতো। আর হুমস হলো কুরাইশ ও তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্ততি। হুমসরা লোকদের সেবা করে সওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিতো এবং সে তা পরিধান করে তাওয়াফ করতো। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিতো এবং এ কাপড়ে সে তাওয়াফ করতো। হুমসরা যাকে কাপড় দিতো না সে নগ্ন হয়ে কাবা তাওয়াফ করতো....। ছহীহ বুখারী হা/১৬৬৫, ছহীহ মুসলিম হা/১৫২/১২১৯। বুখারী কিতাবুছ ছালাতে ২ নং বাবে-পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেন। নগ্ন না হয়ে কাবা তাওয়াফ করতে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেন। ছহীহ মুসলিম হা/১৩৪৭。

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 পবিত্র রিযিক্ ও সাজ-সজ্জা বর্জন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া

📄 পবিত্র রিযিক্ ও সাজ-সজ্জা বর্জন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া


পবিত্র রিজিক ও পোশাকের সাজ-সজ্জা পরিহার করে ইবাদত করতে চাওয়া。
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ পবিত্র রিজিক ও পোশাকের সৌন্দর্যতা পরিত্যাগ করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চাওয়া। খ্রিষ্টান ও তাদের সাদৃশ্য অবলম্বী ইসলামের দিকে সম্বন্ধকারী সূফীরাই এটা করে থাকে। আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের উদ্দেশ্যে তারা পবিত্র জিনিসকে বর্জন করে। তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় না এবং পবিত্র রিজিকও গ্রহণ করে না। আর পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তারা সন্ন্যাসী জীবন যাপন করে। তারা ধারণা করে, এভাবেই আল্লাহর ইবাদত করতে হয়। এ জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ} [الأعراف: ٣٢]
বল, কে হারাম করেছে আল্লাহর সৌন্দর্যোপকরণ, যা তিনি তার বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র রিযিক? (সূরা আরাফ ৭:৩২)। তিনি আরো বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ} [المائدة: ۸۷] .
হে মুমিনগণ, আল্লাহ যে সব পবিত্র বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করেছেন, তোমরা তা হারাম করো না এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না (সূরা আল মায়েদা ৫:৮-৭)।
অনুরূপভাবে কতিপয় হালাল চতুষ্পদ জন্তুকেও তারা হারাম মনে করে। অথচ আল্লাহ তা'আলা হালাল চতুষ্পদ জন্তু খাওয়া বৈধ করেছেন। তিনি বলেন, {أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ} [المائدة: ١]
তোমাদের জন্য গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে (সূরা আল-মায়েদা ৫:১)।
জাহিলরা তাদের মূর্তির জন্য কতিপয় চতুষ্পদজন্তুকে হারাম করতো। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [المائدة: ٨٧]
হে মুমিনগণ, আল্লাহ যে সব পবিত্র বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করেছেন, তোমরা তা হারাম করো না এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না (সূরা আল-মায়েদা ৫:৮-৭)।
সুতরাং পবিত্র জিনিসকে হারাম করা বৈরাগ্যবাদী খ্রিষ্টান ও জাহিলদের দীন। আর যে হালালকে হারাম করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করবে, সে হবে মুরতাদ। তাই যখন কেউ (হালালকে হারাম করণের বিষয়টি) দীনের প্রতি সম্বন্ধ করে আল্লাহ তা'আলার ইবাদত বলে গণ্য করবে, তখন এটিই হবে আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ। কেননা, আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের জন্য পবিত্র জিনিস বর্জন করা শরী'আত সম্মত করেননি। বরং তা উপভোগ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحاً} [المؤمنون: ٥١] .
হে রসূলগণ, তোমরা পবিত্র ও ভাল বস্তু হতে খাও ও সৎকর্ম সম্পাদন কর। (সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৫১)।
নাবী জ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে একটি দল এরূপ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছিল; ফলে তিনি তাদের উপর রাগান্বিত হন।
অপরদিকে আল্লাহ প্রদত্ত সৌন্দর্যকে পরিত্যাগ করে জাহিলদের ইবাদত করা বলতে, সৌন্দর্য বর্জন করে তথা বেশ-ভূষা ছাড়াই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া। যেমন নগ্ন হয়ে তারা কাবা তাওয়াফ করতো। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ} [الأعراف: ৩২]
বল, কে হারাম করেছে আল্লাহর সৌন্দর্যোপকরণ (সূরা আল-আরাফ ৭:৩২)।
অর্থাৎ পোশাক, সৌন্দর্যতা ও পবিত্র রিজিক বর্জনের ব্যাপারে তোমরা যা কিছু কর এ ব্যাপারে কি তোমাদের কোন দলীল আছে? কেননা, কোন জিনিস হারাম করণের জন্য দলীলের প্রয়োজন হয়। আর পোশাক-পরিচ্ছেদ ও পানাহারের মৌলিকত্ব হচ্ছে (শরী'আত অনুসারে) তা হালাল। কেননা, এসব জিনিস আল্লাহ তা'আলা বান্দার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। যেমন জ্বহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যতা পছন্দ করেন। তাই সতর্কতা স্বরূপ পোশাক বর্জন করা দীন ইসলাম নয়।
(ইসলাম চায়) পোশাকের সৌন্দর্যতা গ্রহণ ও পবিত্র রিজিক উপভোগ করতঃ মানুষ যেন আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করে। হাদীছে বর্ণিত আছে, إن الله يحب إذا أنعم عبد نعمة أن يرى أثر نعمته عليه
বান্দাকে কোন নি'আমত দান করা হলে আল্লাহ তা'আলা ঐ নে'আমতের নিদর্শন প্রকাশ পাওয়া পছন্দ করেন।

তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো অপব্যয় ও নিজের খেয়াল-খুশি ছাড়াই তা হতে হবে। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিনিধি দলের মোকাবেলায় বেশি করে সৌন্দর্য্যতা গ্রহণ করতেন。

টিকাঃ
৫০. হাসান: তিরমিযী, হা/২৮২৪, জ্বহীহ জামে, হা/১৮৮৭。

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 মানুষকে ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করা

📄 মানুষকে ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করা


কোন জ্ঞান ছাড়া মানুষকে দাও'আত দেয়াই হচ্ছে ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান。
ব্যাখ্যা: ইলম-জ্ঞান ছাড়া মানুষকে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া জাহিলী কর্ম। কেননা, আল্লাহ তা'আলা প্রমাণ, প্রজ্ঞা, সুন্দর উপদেশ ও উত্তম পন্থায় তর্কের মাধ্যমে তার পথে দা'ওয়াত দিতে আদেশ দেন। ভ্রষ্টতার দিকে মানুষকে আহবান করা অর্থাৎ হক্বের বিরূদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা জাহিলী কর্ম। আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا اتَّبِعُوا سَبِيلَنَا وَلْنَحْمِلْ خَطَايَاكُمْ} [العنكبوت: ١٢]
আর কাফিররা মু'মিনদেরকে বলে, তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ কর, তাহলে আমরা তোমাদের পাপ বহন করতে পারব (সূরা আনকাবূত ২৯:১২)।
কাফিররা মানুষকে শিরকের দিকে আহ্বান করে, দলীল-প্রমাণ ব্যতিরেকেই তারা হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল করণের দিকে আহবান করে, আর তারা এমন বিষয়াদির দিকে দা'ওয়াত দেয়, যে ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, সুতরাং তারাই ভ্রষ্ট দা'ঈ।
আর হক্বপন্থী দা'ঈ তারাই যারা আল্লাহ তা'আলার নাযিলকৃত বিধান ও শরী'আতের দিকে মানুষকে দা'ওয়াত দেয়। বর্তমানে ভ্রষ্ট দা'ঈ তারাই যারা মানুষকে শিরক, মাযার ও কবর পূজার দিকে আহবান করে; দীনের মধ্যে বিদ'আতী কাজ ও নব আবিষ্কৃত বিষয়ের দিকে দা'ওয়াত দেয়, যে বিষয়ে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তাদের লিখনী, রচনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে বিদ'আত ও নব আবিষ্কৃত বিষয়ই জাগ্রত হয়। তারা মন্দের বৈধতা, ফাসেকী ও অবাধ্যতার দিকে আহবান করে, এরূপ সকল দা'ঈ ভ্রষ্ট。

আল্লাহ তা'আলা ঐ সব দা'ঈ ও তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ} [آل عمران: ١٤٩]
হে মুমিনগণ, যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর, তারা তোমাদেরকে তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ফিরে যাবে (সূরা আলে-ইমরান ৩:১৪৯)। তিনি আরো বলেন,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا فَرِيقاً مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ يَرُدُّوكُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ} [آل عمران : ১০০]
হে মুমিনগণ, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তোমরা যদি তাদের একটি দলের আনুগত্য কর, তারা তোমাদের ঈমানের পর তোমাদেরকে কাফির অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে (সূরা আলে-ইমরান ৩:১০০)। তিনি আরো বলেন,
{أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ} [البقرة: ٢٢١]
তারা তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহ্বান করে আর আল্লাহ তোমাদেরকে জান্নাতের দিকে আহ্বান করেন (সূরা আল বাক্বারাহ ২:২২১)। তিনি আরো বলেন,
{وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ sَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ} [الأنعام: ١١৬]
আর যদি তুমি যারা যমীনে আছে তাদের অধিকাংশের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা শুধু ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা শুধু অনুমানই করে (সূরা আল আন'আম ৬:১১৬)।
আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করেন যে, প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগে ভ্রান্ত মতাদর্শের উপর কাফিররা মতভেদে লিপ্ত আছে। সর্বযুগে ও স্থানে তারা মানুষকে ভ্রষ্টতার দিকেই আহবানে তৎপর। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً} [النساء: ٨৯]
তারা কামনা করে, যদি তোমরা কুফরী করতে যেভাবে তারা কুফরী করেছে। অতঃপর তোমরা সমান হয়ে যেতে (সূরা আন নিসা ৪:৮৯)।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 জেনে-বুঝে কুফরীর দিকে মানুষকে দা'ওয়াত দেয়া

📄 জেনে-বুঝে কুফরীর দিকে মানুষকে দা'ওয়াত দেয়া


জানা সত্ত্বেও কুফরীর দিকেই দা'ওয়াত দেয়া。
ব্যাখ্যা: এটি ভ্রষ্ট দা'ঈর আরেকটি শ্রেণীবিভাগ। যারা বাড়াবাড়ি ও বিরোধিতার উদ্দেশ্যে জেনে-বুঝে মানুষকে হক্ব থেকে বিমুখ করার দা'ওয়াত দেয়। আর প্রথম প্রকার দা'ঈ হলো যারা হক্ক না জেনে মানুষকে মিথ্যার দিকে আহবান করে। এ উভয় প্রকার দা'ঈ মানুষের জন্য বিপজ্জনক। অথচ তারা মানুষকে বলে না যে, তোমরা কুফরী কর। কেবল তাদের সাজানো পদ্ধতি তারা মানুষের কাছে প্রচার করে, যা বাহ্যিকভাবে সুন্দর মনে হলেও তা মূলতঃ কুফরী। আর ভ্রষ্ট দা'ঈরা এরূপই হয়। ইবলিশ নূহ আলাইহিস সালাম এর সম্প্রদায়ের নিকট এসে দেখলো যে, নেকলোকদের মৃত্যুতে তারা শোকাহত। সে তখন তাদের নিকট তার দীনি পদ্ধতি উপস্থাপন করে বললো, তোমরা এ সব নেকলোদের প্রতিচ্ছবি তৈরি করো, কারণ তা দেখলে যেন তাদের ইবাদতে তোমরা উদ্যমী হও, তাদের অবস্থা, সততা এবং দীন স্বরণ করতে পার। ফলে তারাও তোমাদের ইবাদতে খুশি হবে। এভাবে সে তাদেরকে উপদেশ দেয় এবং তার দীনি পদ্ধতি তুলে ধরে। আর ছবিগুলো অবশেষে মূর্তিতে পরিণত হবে; ইবলিশের এটাই ছিল ইচ্ছা।
পরে ছবিগুলোকে মূর্তি বানানো হয়। বিদ্বান এবং এ (মূর্তি নির্মাতা) সম্প্রদায় মারা গেলে মূর্খ সম্পদায়ের আগমন ঘটে। তাদের কাছে শয়তান এসে বলে, তোমাদের পূর্বপুরুষরা ইবাদতের জন্যই এসব মূর্তি নির্মাণ করতো। এ সব মূর্তির নামেই তারা বৃষ্টি প্রার্থনা করতো। অতঃপর তারা আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে মূর্তিগুলোর ইবাদত করে। ঠিক এরূপই ভ্রষ্ট দা'ঈরা মানুষকে প্রকাশ্যে খারাপ কর্মের দা'ওয়াত দেয় না। বরং তারা মানুষকে সাজানো পদ্ধতির মাধ্যমে দা'ওয়াত দেয়, যা তাদের নিকট উত্তম মনে হয়। ফলে অবশেষে দা'ঈর উদ্দেশ্যে অর্জিত হয়। পথ ভ্রষ্ট দা'ঈরা মানুষকে কবর পূজার মাধ্যমে শিরকের দিকে আহবান করে, তারা মানুষকে বলে না যে, তোমরা কবর পূজা কর। বরং তারা বলে, ঐসব ব্যক্তিরাই ওলী ও সৎ। আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা রয়েছে। তোমরা তাদের নৈকট্য অর্জন করবে, যাতে তারা তোমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জনে তোমাদের জন্য তারা মাধ্যম ও ওসীলা স্বরূপ। নেকলোকদের ভালবাসা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে তাদেরকে মাধ্যম ও ওসীলা হিসাবে গ্রহণ করার পদ্ধতি নিয়ে ভ্রষ্ট দা'ঈরা মানুষের কাছে আসে। অতঃপর লোকেরা এ শয়তানী ধোঁকায় পড়ে কবর ও ওলী-আউলিয়ার ইবাদত করে, ফলে আল্লাহ তা'আলার সাথে শিরকে লিপ্ত হয়।
কুফরীর দিকে আহবানকারীরা মানুষকে বিভিন্ন পন্থায় দা'ওয়াত দেয়। তাদের মাঝে কোন আনুগত্য প্রকাশ পায় না। আর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া তাদেরক কেউ চিনতে পারে না। এ দু'টি বিষয় থেকে স্পষ্ট হলো ভ্রষ্ট দা'ঈ দু'প্রকার:
প্রথম: কোন ইলম-জ্ঞান ছাড়াই মানুষকে দাওয়াত দেয়।
দ্বিতীয়: জেনে-বুঝে হকের বিরূদ্ধে মানুষকে দা'ওয়াত দেয়।
প্রথম প্রকার দা'ঈ হচ্ছে ভ্রষ্ট (ضال), আর দ্বিতীয় প্রকার দাঈ হচ্ছে ফাসিক | (فاسق)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00