📄 নিজেদেরকে এমন বিষয়ে প্রশংসা করা, যা তাদের মাঝে নেই
জাহিলদের নিকট হকের আমল আছে বলে দাবি করা। যেমন আল্লাহর বাণী: {نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩১]
আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা বাক্বারাহ ২:৯১)। হকুকে পরিত্যাগ করা সত্ত্বেও তারা এ দাবি করে。
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হলো হকুকে পরিত্যাগ করা সত্ত্বেও ইয়াহুদীদের এ দাবি করা যে, তাদের নিকট হকের আমল আছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩১]
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তোমরা তার প্রতি ঈমান আন। তারা বলে, আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১)।
আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১)। এর অর্থ: বনী ইসরাঈল বংশের নাবীগণের মধ্যে হতে আমাদের রসূলগণের উপর যা নাযিল হয়েছে (আমরা তার উপর আমল করি)। কেননা, এ আয়াত ইয়াহুদীদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩١]
আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা বাক্বারাহ ২:৯১)। অর্থাৎ বনী ইসরাইলের উপর যা নাযিল হয়েছে তথা তাদের রসূলগণ যা কিছু নিয়ে এসেছেন, মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিয়ে আসা বিধান তার বিরোধী না হওয়া সত্ত্বেও তারা (অন্য নাবীগণকে অস্বীকার করে)। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَاءَهُ}
এর বাইরে যা আছে তারা তা অস্বীকার করে (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১)। অর্থাৎ ঈসা ও মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যা নাযিল তা ব্যতীত (অন্যকে বিশ্বাস করে)। আল্লাহর বাণী:
{ وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقاً لِمَا مَعَهُمْ} [البقرة: ٩١]
তা সত্য, তাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারী (সূরা বাক্বারাহ ২:৯১)। ঈসা আলাইহিস সালাম ও মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা তাদের নাবীগণের নিয়ে আসা হকের অনুকূল এবং তারা তাদের কিতাবে যে বিকৃতি, মিথ্যা ও ভ্রান্ত মতবাদ যোগ করেছে (তাদের দীন) তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। এটি একটি দিক।
দ্বিতীয় দিক হলো এ কথায় (নাযিলকৃত বিষয়ে বিশ্বাস করার ব্যাপারে) তারা সত্যবাদী নয়। এর প্রমাণ হলো যে, তাদের দ্বারা পাপাচারীতা ঘটেছিল যা আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। (তথা নাবীগণকে তারা হত্যা করেছিল)। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন,
{ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنْبِيَاءَ اللَّهِ مِنْ قَبْلُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ وَلَقَدْ جَاءَكُمْ مُوسَى بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ} [البقرة: ۹۱،৯২) ]
বল, তবে কেন তোমরা আল্লাহর নাবীদেরকে পূর্বে হত্যা করতে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক? (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১-৯২)।
তারা প্রত্যাখ্যাত, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দু'বার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রথমত: মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা মূসা আলাইহিস সালাম এর নিয়ে আসা আল্লাহর একত্ব, একমাত্র তার ইবাদত করা এবং অন্যের ইবাদত না করার বিধানের বিরোধী নয়। বরং তা এসব বিষয়ের সত্যায়ণকারী।
দ্বিতীয়ত: তারা যে, নাবীগণকে বিশ্বাস করার দাবি তুলে এ ব্যাপারে তারা সত্যবাদী নয়। যেহেতু তারা বাছুর পূজা করতো এবং নাবীগণকে তারা হত্যা করেছিল। তাদের কথা: {سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا} [البقرة: ٩٣]
আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯৩)।
আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট থেকে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন তারা তা পূর্ণ করেনি। আমার অথবা ইমামের মাযহাবে যা আছে আমি তার উপরই আমল করবো, মানুষের এ ধরণের কথা বলাই নিকৃষ্ট পক্ষপাতিত্ব বলে গণ্য। কেননা, নিজ অথবা অন্য ইমামের মাযহাবে যে হক্ব আছে তা অনুসরণ করা মুসলিমের উপর আবশ্যক। সে কেবল হকুকেই গ্রহণ করবে এবং নিকৃষ্ট পক্ষপাতিত্ব করবে না。
📄 আল্লাহর বিধিবিধান ইবাদত কম-বেশি করা
ইবাদতে বৃদ্ধি করা যেমন আশুরার দিনের কর্মকান্ড আর ইবাদতে কম করা যেমন আরাফার ময়দানে অবস্থান ত্যাগ করা。
ব্যাখ্যা: ইবাদতে বৃদ্ধি করা: যেমন জাহিলরা আশুরার দিনে তথা মুহাররম মাসের দশম দিনে বাড়াবাড়ি মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় অথচ এ দিনে এক বড় ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, তা হলো ফেরআউন ও তার সম্প্রদায় সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়।
অপরদিকে মূসা আলাইহিস সালাম ও তার জাতি মুক্তি লাভ করেন। আর এ দিনেই মিথ্যার বিরূদ্ধে হকুকে সাহায্য করা হয় এবং আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা আদায় স্বরূপ মূসা আলাইহিস সালাম এ দিনে সিয়াম পালন করতেন। আর এ সিয়াম পালন করার রীতি মুসলিমদের জন্য শরী'আত সম্মত। কেননা, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরতের পর তিনি ইয়াহুদীদেরকে এ দিনে সিয়াম পালন করতে দেখে তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, এ দিনে তোমরা কেন সিয়াম পালন করো? জবাবে তারা বলে, এটি এমন দিন যে দিনে মূসা আলাইহিস সালাম ও তার জাতি মুক্তি লাভ করেন এবং ফেরআউন ও তার সম্প্রদায় ধ্বংস হয়। মূসা আলাইহিস সালাম সিয়াম পালন করতেন তাই আমরাও তার সিয়াম পালন করি। তখন নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
"نحن أحق بموسى منكم"
মূসা আলাইহিস সালাম এর ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমরাই বেশি হক্বদার। অতঃপর তিনি এ সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন এবং ইয়াহুদীদের বিপরীতে এ সিয়ামের পূর্বে (৯ম, ১০ম) অথবা পরের একদিন (১০ম, ১১শ) মোট দু'টি সিয়াম পালনের আদেশ করেন।
তাই আশুরার দিনে সিয়াম পালন করা শরী'আত সম্মত। কিন্তু জাহিলরা এ দিনে সিয়াম পালনের ব্যাপারে অতিরিক্ত কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। তাই ইয়াহুদীরা এ দিনকে ঈদের দিন হিসাবে নির্ধারণ করে তাদের ঘড়-বাড়ি, সন্তানাদি ও স্ত্রীদেরকে সজ্জিত করে তুলে এবং দিনটিকে ঈদের দিন গণ্য করে। এভাবে তারা শরী'আতের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। তাই আশুরার দিনে সিয়াম পালনের সাথে অতিরিক্ত কিছু করা জাহিলী কর্ম। অনুরূপভাবে রাফেযীরাও এ দিনকে শোক, মাতম ও বিলাপের দিন হিসাবে গণ্য করে অতিরিক্ত কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। কেননা, এ দিনে হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে হত্যা করা হয়েছে।
অপরদিকে জাহিলদের ইবাদতের কমতি হলো যেমন হজ্জের ক্ষেত্রে তাদের দ্বারা যা কিছু ঘটে। জাহিলী যুগে তারা হজ্জ পালন করতো, এজন্য যে, এটা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর দীনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু হজ্জ পালনের সময় তারা অনেক পরিবর্তন করে এবং শিরকী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। কেননা, আল্লাহ তা'আলা আরাফায় অবস্থান করা বিধিবদ্ধ করেছেন। কিন্তু তারা আরাফায় অবস্থান করতো না বরং মুযদালিফায় অবস্থান করতো। এটাই ইবাদতের কমতি। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হাজ্জ পালন করতেন তারা ধারণা করতো যে, তিনি তাদের সাথে মুযদালিফায় অবস্থান করবেন। অতঃপর নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফা অতিক্রম করে সেখানে অবস্থান করেন। আর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর আদর্শের উপর হজ্জ পালন করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} [البقرة: ١٩৯]
অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তন কর, যেখান থেকে মানুষেরা প্রত্যাবর্তন করে (সূরা বাক্বারাহ ২:৯৯)।
অর্থাৎ আরাফা হতে (প্রত্যাবর্তন করো)। মুশরিকদের মুযদালিফায় অবস্থানের ব্যাপারে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অনুরূপভাবে তারা তালবিয়া পাঠেও অতিরিক্ত কথা যোগ করতো, তাদের তালবিয়া হলো:
إلا شريكاً هو لك. تملكه وما ملك)
ইল্লা শারীকান হুয়া লাকা, তামাল্লাকুহু ওয়ামা মুলক।
এ সবই হচ্ছে ইবাদতের মাঝে কমতি। এ সব কিছু জাহিলী দীনের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে যারা দীনের মাঝে অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করে তারাও জাহিলী দীনের উপরই রয়েছে। তাই বিদ'আত ও কুসংস্কার সবই জাহিলী দীনের অন্তর্ভুক্ত。
টিকাঃ
৪৮. জ্বহীহ বুখারী হা/২০০৪,৩৯৪২,৩৯৪৩ মুসলিম হা/১১৩০।
📄 আল্লাহভীরিতার দোহাই দিয়ে আল্লাহর ওয়াজিব বিষয়গুলো বর্জন করা
আল্লাহ ভীতির অন্তর্ভুক্ত ওয়াজীব পরিত্যাগ করা。
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ ওয়াজিব ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাইতো। যেমন আরাফায় অবস্থানের পরিবর্তে মুযদালিফায় অবস্থান করা। তারা ধারণা করতো যে, এটাই আল্লাহ ভীতি। কেননা, তারা ছিল হেরেমের অধিবাসী, তাই আরাফার দিকে তারা গমন করতো না। কারণ আরাফা হলো তাদের ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার জায়গা। তাই সতর্ক হয়ে এ হকুকে তারা বর্জন করতো। এটাও জাহিলী কর্ম। আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
এরূপই সতর্কতা স্বরূপ জাহিল কর্তৃক হক্ব বর্জন করার আরো দৃষ্টান্ত হলো যে, তারা নগ্ন হয়ে কাবা তাওয়াফ করতো এবং লজ্জাস্থান ঢেকে রাখার হক্বকে তারা বর্জন করতো, যা (ঢেকে রাখা) আল্লাহ ভীতির অন্তর্ভুক্ত। তারা বলতো,
لا نطوف بثياب عصينا الله فيها
আমরা পোষাক পরিহিত অবস্থায় তাওয়াফ করবো না, তাতে আমরা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে যাব।
অনুরূপ যে কেউ ইবাদতের কোন অংশ সতর্কতা স্বরূপ বর্জন করে, সে ঐ ব্যক্তির মতই যে লোকদের ইবাদত দেখা এবং ইবাদতের কথা শ্রবণের ভয়ে যাকাত দেয় না এবং জামা'আতের সাথে মসজিদে জ্বালাত আদায় করে না। যেমন আমরা তাদের কতিপয়ের নিকট থেকে শুনে থাকি। অথবা তারা দীনি জ্ঞান অর্জন করে না অথবা লোক দেখার শঙ্কায় ইবাদতের বিভিন্ন বিষয় ছেড়ে দেয়。
টিকাঃ
৪৯. উরওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত মানুষেরা নগ্ন হয়ে (বাইতুল্লাহ) তাওয়াফ করতো। আর হুমস হলো কুরাইশ ও তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্ততি। হুমসরা লোকদের সেবা করে সওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিতো এবং সে তা পরিধান করে তাওয়াফ করতো। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিতো এবং এ কাপড়ে সে তাওয়াফ করতো। হুমসরা যাকে কাপড় দিতো না সে নগ্ন হয়ে কাবা তাওয়াফ করতো....। ছহীহ বুখারী হা/১৬৬৫, ছহীহ মুসলিম হা/১৫২/১২১৯। বুখারী কিতাবুছ ছালাতে ২ নং বাবে-পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেন। নগ্ন না হয়ে কাবা তাওয়াফ করতে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেন। ছহীহ মুসলিম হা/১৩৪৭。
📄 পবিত্র রিযিক্ ও সাজ-সজ্জা বর্জন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া
পবিত্র রিজিক ও পোশাকের সাজ-সজ্জা পরিহার করে ইবাদত করতে চাওয়া。
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ পবিত্র রিজিক ও পোশাকের সৌন্দর্যতা পরিত্যাগ করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চাওয়া। খ্রিষ্টান ও তাদের সাদৃশ্য অবলম্বী ইসলামের দিকে সম্বন্ধকারী সূফীরাই এটা করে থাকে। আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের উদ্দেশ্যে তারা পবিত্র জিনিসকে বর্জন করে। তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় না এবং পবিত্র রিজিকও গ্রহণ করে না। আর পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তারা সন্ন্যাসী জীবন যাপন করে। তারা ধারণা করে, এভাবেই আল্লাহর ইবাদত করতে হয়। এ জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ} [الأعراف: ٣٢]
বল, কে হারাম করেছে আল্লাহর সৌন্দর্যোপকরণ, যা তিনি তার বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র রিযিক? (সূরা আরাফ ৭:৩২)। তিনি আরো বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ} [المائدة: ۸۷] .
হে মুমিনগণ, আল্লাহ যে সব পবিত্র বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করেছেন, তোমরা তা হারাম করো না এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না (সূরা আল মায়েদা ৫:৮-৭)।
অনুরূপভাবে কতিপয় হালাল চতুষ্পদ জন্তুকেও তারা হারাম মনে করে। অথচ আল্লাহ তা'আলা হালাল চতুষ্পদ জন্তু খাওয়া বৈধ করেছেন। তিনি বলেন, {أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ} [المائدة: ١]
তোমাদের জন্য গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে (সূরা আল-মায়েদা ৫:১)।
জাহিলরা তাদের মূর্তির জন্য কতিপয় চতুষ্পদজন্তুকে হারাম করতো। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [المائدة: ٨٧]
হে মুমিনগণ, আল্লাহ যে সব পবিত্র বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করেছেন, তোমরা তা হারাম করো না এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না (সূরা আল-মায়েদা ৫:৮-৭)।
সুতরাং পবিত্র জিনিসকে হারাম করা বৈরাগ্যবাদী খ্রিষ্টান ও জাহিলদের দীন। আর যে হালালকে হারাম করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করবে, সে হবে মুরতাদ। তাই যখন কেউ (হালালকে হারাম করণের বিষয়টি) দীনের প্রতি সম্বন্ধ করে আল্লাহ তা'আলার ইবাদত বলে গণ্য করবে, তখন এটিই হবে আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ। কেননা, আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের জন্য পবিত্র জিনিস বর্জন করা শরী'আত সম্মত করেননি। বরং তা উপভোগ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحاً} [المؤمنون: ٥١] .
হে রসূলগণ, তোমরা পবিত্র ও ভাল বস্তু হতে খাও ও সৎকর্ম সম্পাদন কর। (সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৫১)।
নাবী জ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে একটি দল এরূপ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছিল; ফলে তিনি তাদের উপর রাগান্বিত হন।
অপরদিকে আল্লাহ প্রদত্ত সৌন্দর্যকে পরিত্যাগ করে জাহিলদের ইবাদত করা বলতে, সৌন্দর্য বর্জন করে তথা বেশ-ভূষা ছাড়াই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া। যেমন নগ্ন হয়ে তারা কাবা তাওয়াফ করতো। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ} [الأعراف: ৩২]
বল, কে হারাম করেছে আল্লাহর সৌন্দর্যোপকরণ (সূরা আল-আরাফ ৭:৩২)।
অর্থাৎ পোশাক, সৌন্দর্যতা ও পবিত্র রিজিক বর্জনের ব্যাপারে তোমরা যা কিছু কর এ ব্যাপারে কি তোমাদের কোন দলীল আছে? কেননা, কোন জিনিস হারাম করণের জন্য দলীলের প্রয়োজন হয়। আর পোশাক-পরিচ্ছেদ ও পানাহারের মৌলিকত্ব হচ্ছে (শরী'আত অনুসারে) তা হালাল। কেননা, এসব জিনিস আল্লাহ তা'আলা বান্দার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। যেমন জ্বহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যতা পছন্দ করেন। তাই সতর্কতা স্বরূপ পোশাক বর্জন করা দীন ইসলাম নয়।
(ইসলাম চায়) পোশাকের সৌন্দর্যতা গ্রহণ ও পবিত্র রিজিক উপভোগ করতঃ মানুষ যেন আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করে। হাদীছে বর্ণিত আছে, إن الله يحب إذا أنعم عبد نعمة أن يرى أثر نعمته عليه
বান্দাকে কোন নি'আমত দান করা হলে আল্লাহ তা'আলা ঐ নে'আমতের নিদর্শন প্রকাশ পাওয়া পছন্দ করেন।
তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো অপব্যয় ও নিজের খেয়াল-খুশি ছাড়াই তা হতে হবে। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিনিধি দলের মোকাবেলায় বেশি করে সৌন্দর্য্যতা গ্রহণ করতেন。
টিকাঃ
৫০. হাসান: তিরমিযী, হা/২৮২৪, জ্বহীহ জামে, হা/১৮৮৭。