📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 হক্ পন্থীদের বিরুদ্ধে শাসক শ্রেণীকে ক্ষেপিয়ে তোলা

📄 হক্ পন্থীদের বিরুদ্ধে শাসক শ্রেণীকে ক্ষেপিয়ে তোলা


জাহিলরা দলীল-প্রমাণে পরাজিত হলে শাসকের নিকট অভিযোগ করে। যেমন জাহিলরা বলেছিল, আল্লাহ তা'আলা বলেন, {أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ} [الأعراف: ۱২৭] আপনি কি মূসা ও তার জাতিকে ছেড়ে দেবেন যাতে তারা যমীনে ফাসাদ করে (সূরা আরাফ ৭:১২৭)।
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হলো দলীল প্রমাণে পরাজিত হলে, তারা শাসকের নিকট আশ্রয় গ্রহণের দাবি পেশ করে। আর এখানে )"غلبوا بالحجة"( গুলিবু বিল হুজ্জাহ তথা দলীলের মাধ্যমে পরাভূত হওয়া বলতে জাহিলরা যে বাতিল-মিথ্যা রীতির উপর বহাল ছিল তার বিরূদ্ধে দলীল পেশ করা হয়েছে। জাহিলদের নিকট এমন কোন দলীল নেই, যা তারা পেশ করবে। বরং হক্ব প্রতিষ্ঠায় বাধাদানের জন্য তারা শক্তির আশ্রয় গ্রহণ করে। যেমন মূসা আলাইহিস সালামকে ফেরআউন বলেছিল,

{لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهَا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ} [الشعراء: ২৯] ফের'আউন বলল, 'যদি তুমি আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে কয়েদীদের অন্তর্ভুক্ত করব (সূরা শু'আরা ২৬:২৯)।
فإنهم يلجأون إلى القوة لمنع القائم بالحق، كما قال فرعون لموسى عليه السلام {لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهَا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ} [الشعراء: ২৯] আল্লাহর নাবীকে পরাভূত করার জন্য তার নিকট যখন কোন দলীল ছিল না, তখন রাজত্বের শক্তিকে আশ্রয় করে সে বলেছিল,
{لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ} [الشعراء: ২৯] অবশ্যই আমি তোমাকে কয়েদীদের অন্তর্ভুক্ত করব (সূরা শু'আরা ২৬:২৯)।

এটাই পরাজিত দলের পন্থা। অনুরূপভাবে ফেরআউনের অনুসারী সম্প্রদায়ের বিরূদ্ধে তাদের চুক্তিকৃত মহা সমাবেশে মূসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা সাহায্য করেছিলেন। আর মূসা আলাইহিস সালাম এর নিকট যে নিদর্শন ছিল তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য ফেরআউন পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের সব যাদুকরকে একত্রিত করে। কেননা, ফেরআউন ধারণা করেছিল মূসা আলাইহিস সালাম একজন যাদুকর। তাই সে সব যাদুকরদের ডেকেছিল। আর ফেরআউন মূসা আলাইহিস সালাম এর নিকট থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিল, যাতে মূসা আলাইহিস সালাম যাদুকরদের সামনে তার নিদর্শন তুলে ধরে এবং যাদুকররাও তাদের যাদু প্রদর্শন করে। তার উদ্দেশ্যে ছিল, যাদুকররা যেন মূসা আ. কে জনগণের সামনে পরাজিত করে এবং তার নিকট যে মু'জিযা আছে তা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে।
অতঃপর অঙ্গীকার পূরণের সময় হলো এবং যা ঘটবে তা প্রত্যেক্ষ করার জন্য জনগণ একত্রিত হয়। যাদুকররা তাদের যাদু প্রদর্শন করলে তা দ্বারা প্রাঙ্গণ পূর্ণ হয়, আর তাদের নিকট যে লাঠি, দড়ি ছিল তা তন্ত্র দিয়ে প্রদর্শন করলে কিছুক্ষণ পর অনেক সাপে পরিনত হয়ে নড়াচড়া করতে আরম্ভ করে। আর যাদুকররা মূসা আলাইহিস সালাম এর মু'জিযার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে চায়। এমতবস্থায় মূসা আলাইহিস সালামএর লাঠি সাপে পরিণত হয়। অতঃপর তারা বড় বড় যাদু প্রদর্শন করে যেমনভাবে আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করেছেন যে, মূসা আলাইহিস সালাম ভীত হয়েছিলেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

{فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى} [طه: ٦٧]
মূসা তার অন্তরে কিছুটা ভীতি অনুভব করল (সূরা ত্ব-হা ২০:৬২)।
যাদুকররা জনগণের সামনে ধূম্রজাল তৈরি করতে পারে এ ব্যাপারে তিনি শঙ্কিত ছিলেন। যেহেতু মূসা আলাইহিস সালাম মু'জিযা ও আল্লাহর সাহায্য পাবেন বলে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু আশঙ্কাবোধ করছিলেন যে, যাদুকররা জনগণের সামনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে। কেননা, যাদুকররাও ভীত ছিল যে, মূসার মু'জিযা তাদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ} [الأعراف: ۱۱৮-১২২]
ফলে সত্য প্রকাশ হয়ে গেল এবং তারা যা কিছু করছিল তা বাতিল হয়ে গেল। তাই সেখানে তারা পরাজিত হল এবং লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে গেল। আর যাদুকররা সিজদায় পড়ে গেল। তারা বলল, 'আমরা সকল সৃষ্টির রবের প্রতি ঈমান আনলাম, মূসা ও হারূনের রবের প্রতি (সূরা আরাফ ৭:১২২-১১৮)।

কেননা, তারা বুঝতে পেরেছিল যে, মূসা আলাইহিস সালাম এর নিকট যা আছে তা যাদু নয়। অবশেষে যখন যাদুকররা ঈমান আনয়ন করলো এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট সিজদায় অবনত হলো, তখন ফেরআউন তাদেরকে হত্যা করা ও শুলে চড়ানোর হুমকি দেয়। পরিশেষে ঈমানদার ও তাওবাকারী যাদুকরদেরকে সে হত্যা করে এবং শুলে চড়ায়। আর বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা ঈমান আনে তাদের দিকে তারা মনোযোগ দিল এবং ফেরআউনকে তারা বললো, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآلِهَتَكَ قَالَ سَنُقَتِلُ أَبْنَاءَهُمْ وَنَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ وَإِنَّا فَوْقَهُمْ قَاهِرُونَ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ} [الأعراف: ۱۲৭-১২৮]
'আপনি কি মূসা ও তার জাতিকে ছেড়ে দেবেন যাতে তারা যমীনে ফাসাদ করে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যগুলোকে বর্জন করে?' সে বলল, 'আমরা অতিসত্বর তাদের ছেলেদেরকে হত্যা করব আর মেয়েদেরকে জীবিত রাখব। আর নিশ্চয় আমরা তাদের উপর ক্ষমতাবান।' মূসা তার কওমকে বলল, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় যমীন আল্লাহর। তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে তিনি চান তাকে তার উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য (সূরা আল আরাফ ৭:১২৭-১২৮)।
এখান থেকে বুঝা গেল যে, তারা রাষ্ট্রশক্তির নিকট আশ্রয় চেয়েছিল এবং তারা ফেরআউনের নিকট অভিযোগ পেশ করেছিল যাতে হক্ব ও ঈমান পরাভূত হয়। আর জাহিলদের মত এহেন কর্মকান্ড সবযুগেই ঘটে চলছে।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 বিদেশি হক্ পন্থীদেরকে অপরাধ দেয়া

📄 বিদেশি হক্ পন্থীদেরকে অপরাধ দেয়া


পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা সৃষ্টি করছে মনে করে মন্দ গুণাবলীর মাধ্যমে হক্বপন্থীদেরকে অপবাদ দেয়া। যেমনভাবে আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। আর শাসকের দীন ও তার উপাস্যের অনুসারীদের অসম্মান করা এবং দীনের বিকৃতী সাধনের জন্য তাদেরকে অপবাদ দেয়া。
ব্যাখ্যা: (৬৩) জাহিলদের রীতি হলো শক্তিসম্পন্ন ও প্রতিশোধ গ্রহণকারীদের নিকট (হক্বপন্থীদের বিরূদ্ধে) অভিযোগ পেশ করেই ক্ষান্ত না হওয়া। বরং ঈমানদারদেরকে তারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বলে দোষারোপ করে। যেমন ফেরআউন সম্প্রদায় তাকে বলেছিল,
{أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ} [الأعراف: ۱۲৭]
'আপনি কি মূসা ও তার জাতিকে ছেড়ে দেবেন যাতে তারা যমীনে ফাসাদ করে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যগুলোকে বর্জন করে?' (সূরা আল আরাফ ৭:১২৭- ১২৮)।
(৬৪) জাহিলরা হকুকে ফাসাদ (বিশৃঙ্খলা) মনে করতো অথচ ফাসাদের বিপরীত হচ্ছে হকু। আর হক্ব হলো ঈমান ও তাওহীদ যার মাধ্যমে মানুষ সংশোধন হতে পারে। পক্ষান্তরে কুফরী, অবাধ্যতা, ফাসেকী, যুলুম এবং সীমা লঙ্ঘনের মাধ্যমে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাই মূসা ও তার সম্প্রদায় যে রীতির উপর ছিলেন তা ছিল হক্ব।
অপরদিকে ফেরআউন ও তার সম্প্রদায় যে রীতি অনুসরণ করতো তা ছিল ফাসাদ (বিশৃঙ্খলা)। তারা হক্বের বিরোধিতা করতো আর হক্বকে ফাসাদ মনে করতো। এটা কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকদের চিরাচরিত স্বভাব। আর নেকলোক ও প্রমাণসহ আল্লাহর দিকে আহবানকারীদেরকে জাহিলরা মন্দ নামে ডাকতো। আর আল্লাহর একত্ব ও ইবাদতের দিকে আহবানকারী তাওহীদপন্থী মুমিনদেরকে তারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বলে আখ্যা দিত। জাহিল লোকদের মাঝে মন্দ নামে ডাকার প্রবণতা কিয়ামত অবধি চালু থাকবে। কাফির, অত্যাচারী ও সীমালঙ্ঘনকারীরা নেকলোকদেরকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করতেই থাকবে।
ফেরআউন ও তার সম্প্রদায়ের শাসনামলের প্রথম যুগ থেকে মন্দ নামে ডাকা বর্তমানেও চালু আছে। ঈমানদার ও হক্বপন্থীদেরকে মন্দ নামের উপাধী দেয়া হলে তা কখনোই তাদের ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। আর হক্বপন্থী ও দা'ঈদেরকে অনেক মন্দ নামের উপাধী দেয়া হতো। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাকে খারাপ উপাধী দেয়া হয়েছিল এবং মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহবকে খারাপ উপাধী 'খারেজী' বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল। তারা বলেছিল, তিনি মানুষের আক্বীদা পরিবর্তন করে তাদেরকে কাফির বানাতে চেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত জাহিলরা বলে শাইখদের কিতাবে তাদের সংশোধনীয় নীতির নামে অপবাদ, মিথ্যাচারীতা ও মন্দ বিষয় আছে। আর শাসকের দীনের অনুসারীদের মর্যাদাহানীর কারণে জাহিলরা হকুপন্থীদের বিরুদ্ধে যে অপবাদ দিতো সে প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{وَيَذَرَكَ وَأَهْتَكَ} [الأعراف: ۱۲৭]
আপনার উপাস্যগুলোকে বর্জন করে?' (সূরা আরাফ ৭:১২৭-১২৮)। তিনি আরো বলেন,
{إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُبَدِّلَ دِينَكُمْ} [غافر: ٢٦]
নিশ্চয় আমি আশঙ্কা করি সে তোমাদের দীন পাল্টে দেবে অথবা সে যমিনে বিপর্যয় ছড়িয়ে দেবে (সূরা মু'মিন ৪০:২৬)।
(৬৫) জাহিল ও তাদের অনুসারীদের রীতি হলো মুমিন এবং যারা আল্লাহর দিকে দলীল-প্রমাণসহ এবং সঠিক পন্থায় মানুষকে আহবান করে, তাদের বিরুদ্ধে শাসকদেরকে এভাবে উদ্বুদ্ধ করা যে, শাসকশ্রেণী, তাদের দীন ও রাজনীতির বিরুদ্ধে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অথচ মুমিন ও দাঈগণ তাদেরকে এমন বিষয়ে সদুপদেশ দেন ও সঠিক পথপ্রদর্শন করেন, যাতে তাদের ও রাজত্বের কল্যাণ রয়েছে। যেমনভাবে আল্লাহ তা'আলা ফেরআউনের কাহিনীতে বর্ণনা করেছেন। আর তারা ফেরআউন সম্পর্কে কুৎসা রটনা করতো না।
ফেরআউনের সংশোধন, তার রাজত্বের সংস্কার এবং প্রজাদের সংশোধনের জন্য মূসা আলাইহিস সালাম শরীকহীন একক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলে প্রজা সাধারণ ফেরআউনকে বলে: অচিরেই মূসা আলাইহিস সালাম ও তার দলবল আপনার বিরুদ্ধে জনসম্মুখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। ফলে জনসাধারণের উপর আপনার কর্তৃত্ব ও প্রভুত্ব থাকবে না। তারা আপনার ইবাদত করা হতে আল্লাহর ইবাদতের দিকে জনগণকে ধাবিত করছে। এসব কথার মাধ্যমে ফেরআউন প্ররোচিত হয়। কেননা, ফেরআউনের ধারণা যদি মূসা আ. ও তার দলবলকে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে তারা জনগণকে তার প্রভুত্বে স্বীকৃতি দেয়া ও ইবাদত করা থেকে ফিরিয়ে রাখবে। একারণে জনসাধারণকে সে বলেছিল, {أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى} [النازعات: ٢٤] 'আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব' (সূরা নাযি'আত ৭৯:২৪)। অন্য আয়াতে আছে, {مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي} [القصص: ٣٨] আমি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ আছে বলে আমি জানি না (সূরা কুছাছ ২৮:৩৮)।
তাই রসূলগণের দাওয়াতকে বিশৃঙ্খলা বলে ও কুফরীকে সঠিক মনে করে জাহিলরা অপব্যাখ্যা করতো। এটিই মূলতঃ বাস্তব বিষয়াদির পরিবর্তন এবং শাসক ও প্রজার প্রতারিত হওয়ার অন্তর্ভুক্ত বিষয়। বর্তমানে অধিকাংশ শ্রেণীই এ নিকৃষ্ট শয়তানী কর্মে তৎপর, যারা মানুষকে হাবিয়া নামক জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর তারা সৎলোকদের বিরোধিতা করছে, বাস্তবতাকে মিথ্যায় পরিণত করছে এবং ক্ষমতার মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে। এরাই হলো নিকৃষ্ট ব্যক্তিবর্গ যারা দায়িত্বশীলদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং সদুপদেশ গ্রহণে বাঁধা দেয়।
হে আল্লাহ! তুমি মুসলিমদের শাসক ও তাদের দায়িত্বশীলদের সংশোধন করো। আর তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করো।
(৬৬) শাসকের উপাস্যের মর্যাদাহানীর কারণে জাহিল কর্তৃক হক্বপন্থীদেরকে পরিত্যাগ করার বিষয়টি আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি সে বিষয় যা ফেরআউন সম্প্রদায়ের ঘটনা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা আয়াতে উল্লেখ করেছেন। যেমন ফেরআউনের সম্প্রদায় বলেছিল, আল্লাহ তা'আলা বলেন, {أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآلِهِتَكَ} [الأعراف: ۱۲৭] 'আপনি কি মূসা ও তার জাতিকে ছেড়ে দেবেন যাতে তারা যমীনে ফাসাদ করে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যগুলোকে বর্জন করে?' (সূরা আরাফ ৭: ১২৭)।
অর্থাৎ জনগণের সামনে আপনার প্রভুত্ব ও আপনার জন্য তাদের ইবাদত সাব্যস্ত হবে। তারা বলতো, পৃথিবীতে আপনার মর্যাদা ও মহানত্ব আছে। যদি আপনি তাদেরকে ছেড়ে দেন তাহলে তারা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করবে। ফলে তারা আপনার মর্যাদাহানী করে জনগণের সম্মুখে আপনাকে হেয় প্রতিপন্ন করবে। তাই আপনার প্রভাব ও ক্ষমতা বহাল থাকার কারণে আপনি তাদের বিরূদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নিন। এটাই ফেরআউনের জন্য প্রতারণা ও তার ধ্বংসের কারণ।
হায় সুবহানাল্লাহ! জাহিলরা আকাশ ও পৃথিবীর প্রভু আল্লাহ তা'আলার মর্যাদাহানী করছে, অথচ তারা নিজেদেরকে দোষী মনে করছে না। বরং মূসা আলাইহিস সালাম ও তার জাতি ফেরআউন ও তার সম্প্রদায়কে সদুপদেশ দিলে তারাই তাদেরকেই দোষারোপ করে। অথচ মূসা আলাইহিস সালাম ও তার দলবল তাদেরকে কল্যাণ ও মুক্তির পথ দেখিয়েছেন।
শাসক ফেরআউনের ক্ষমতা কি বহাল ছিল, সে কি সংশোধন হয়েছিল?! নিকৃষ্ট শ্রেণীর দায়িত্বশীলরা সর্বদা এরকমই করে থাকে। এ জন্য কল্যাণকামী নেক ব্যক্তিবর্গদের গ্রহণ করা ও নিকৃষ্ট দায়িত্বশীল, ধ্বংসের নীতিনির্ধারক এবং ভ্রান্ত চিন্তাশীলদের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া শাসকদের উপর আবশ্যক। তারা কেবল হাবিয়া নামক জাহান্নামের দিকেই তাদেরকে পথ দেখায়। যেমনভাবে ফেরআউনের দায়িত্বশীলদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তারা ফেরআউনকে ধ্বংস ও বিনাশের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। আর ফেরআউন ও তার হক্ব গ্রহণের মাঝে তারা অন্তরায় সৃষ্টি করেছিল।
অন্যদিকে দীন পরিবর্তনের আশঙ্কায় জাহিলরা হক্বপন্থীদেরকে পরিত্যাগ করতো। যেমন আল্লাহ তা'আলা ফেরআউন সম্পর্কে বলেন,
{إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَنْ يُظْهِرَ فِي الْأَرْضِ الْفَسَادَ} [غافر : ٢٦] निश्चय আমি আশঙ্কা করি সে তোমাদের দীন পাল্টে দেবে অথবা সে যমিনে বিপর্যয় ছড়িয়ে দেবে (সূরা মু'মিন ৪০:২৬)।
শাসকের দীনের মর্যাদাহানীর কারণেও তারা হক্বপন্থীদেরকে পরিত্যাগ করতো। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{وَيَذَرَكَ وَالِهِتَكَ} [الأعراف : ۱۲۷] 'আপনাকে ও আপনার উপাস্যগুলোকে বর্জন করে?' (সূরা আরাফ ৭: ১২৭)।
মূসা আলাইহিস সালামও তার দাওয়াতের ব্যাপারে এ দু'টি সমস্যা ফেরআউনের মাঝে বিদ্যমান ছিল। ফেরআউন মূসা আলাইহিস সালাম এর দাওয়াত কবুল করা হতে জনগণকে সতর্ক করে এবং সে প্রজাদের উপদেশের জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ করে। দীন ও দুনিয়ার )صلاح( ছালাহ তথা শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জনগণকে সে উপদেশ দেয়েছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَوْ أَنْ يُظْهِرَ فِي الْأَرْضِ الْفَسَادَ} [غافر : ٢٦] সে যমিনে বিপর্যয় ছড়িয়ে দেবে (সূরা মুমিন ৪০:২৬)। যেমন ফেরআউনের অনুসারীরা বলেছিল,
{أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ} [الأعراف : ۱۲۷] ، 'আপনি কি মূসা ও তার জাতিকে ছেড়ে দেবেন যাতে তারা যমীনে ফাসাদ করে (সূরা আরাফ ৭:১২৭)।
(৬৭) সৎলোকদেরকে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করতো। ফাসাদ সৃষ্টি করাই জাহিলদের নিকট তাওহীদ এবং এক আল্লাহর ইবাদত হিসাবে স্বীকৃত। আর এখানে )صلاح( ছালাহ তথা সংশোধন বলতে শিরককে বুঝানো হয়েছে। কেননা, যখন ফাসাদ সৃষ্টি হতো, তখন জাহিলরা হকুকে বাতিল এবং বাতিলকে হক্ক মনে করতো। কে দীনকে পরিবর্তন করে পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল? জবাব হলো ফেরআউনই কুফরী ও শিরকের মাধ্যমে তাওহীদের দীনকে পরিবর্তন করেছিল।
পক্ষান্তরে মূসা আলাইহিস সালাম এমন সঠিক দীনের দিকে মানুষকে দাওয়াত দিতেন, যে দীনের জন্য আল্লাহ তা'আলা জিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন, তা মানুষের জন্য শৃঙ্খলাপূর্ণ। কেননা, শরীকহীন এক আল্লাহর ইবাদত ছাড়া পৃথিবীতে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে না। এটাই পৃথিবীবাসীর জন্য শৃঙ্খলার মাধ্যম। অপরদিকে, শিরক, কুফরী এবং পাপাচারীতার মাধ্যমে পৃথিবীতে অরাজকতা-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 নিজেদেরকে এমন বিষয়ে প্রশংসা করা, যা তাদের মাঝে নেই

📄 নিজেদেরকে এমন বিষয়ে প্রশংসা করা, যা তাদের মাঝে নেই


জাহিলদের নিকট হকের আমল আছে বলে দাবি করা। যেমন আল্লাহর বাণী: {نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩১]
আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা বাক্বারাহ ২:৯১)। হকুকে পরিত্যাগ করা সত্ত্বেও তারা এ দাবি করে。
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হলো হকুকে পরিত্যাগ করা সত্ত্বেও ইয়াহুদীদের এ দাবি করা যে, তাদের নিকট হকের আমল আছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩১]
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তোমরা তার প্রতি ঈমান আন। তারা বলে, আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১)।

আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১)। এর অর্থ: বনী ইসরাঈল বংশের নাবীগণের মধ্যে হতে আমাদের রসূলগণের উপর যা নাযিল হয়েছে (আমরা তার উপর আমল করি)। কেননা, এ আয়াত ইয়াহুদীদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩١]
আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা বাক্বারাহ ২:৯১)। অর্থাৎ বনী ইসরাইলের উপর যা নাযিল হয়েছে তথা তাদের রসূলগণ যা কিছু নিয়ে এসেছেন, মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিয়ে আসা বিধান তার বিরোধী না হওয়া সত্ত্বেও তারা (অন্য নাবীগণকে অস্বীকার করে)। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَاءَهُ}
এর বাইরে যা আছে তারা তা অস্বীকার করে (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১)। অর্থাৎ ঈসা ও মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যা নাযিল তা ব্যতীত (অন্যকে বিশ্বাস করে)। আল্লাহর বাণী:
{ وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقاً لِمَا مَعَهُمْ} [البقرة: ٩١]
তা সত্য, তাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারী (সূরা বাক্বারাহ ২:৯১)। ঈসা আলাইহিস সালাম ও মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা তাদের নাবীগণের নিয়ে আসা হকের অনুকূল এবং তারা তাদের কিতাবে যে বিকৃতি, মিথ্যা ও ভ্রান্ত মতবাদ যোগ করেছে (তাদের দীন) তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। এটি একটি দিক।
দ্বিতীয় দিক হলো এ কথায় (নাযিলকৃত বিষয়ে বিশ্বাস করার ব্যাপারে) তারা সত্যবাদী নয়। এর প্রমাণ হলো যে, তাদের দ্বারা পাপাচারীতা ঘটেছিল যা আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। (তথা নাবীগণকে তারা হত্যা করেছিল)। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন,
{ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنْبِيَاءَ اللَّهِ مِنْ قَبْلُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ وَلَقَدْ جَاءَكُمْ مُوسَى بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ} [البقرة: ۹۱،৯২) ]

বল, তবে কেন তোমরা আল্লাহর নাবীদেরকে পূর্বে হত্যা করতে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক? (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১-৯২)।
তারা প্রত্যাখ্যাত, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দু'বার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রথমত: মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা মূসা আলাইহিস সালাম এর নিয়ে আসা আল্লাহর একত্ব, একমাত্র তার ইবাদত করা এবং অন্যের ইবাদত না করার বিধানের বিরোধী নয়। বরং তা এসব বিষয়ের সত্যায়ণকারী।
দ্বিতীয়ত: তারা যে, নাবীগণকে বিশ্বাস করার দাবি তুলে এ ব্যাপারে তারা সত্যবাদী নয়। যেহেতু তারা বাছুর পূজা করতো এবং নাবীগণকে তারা হত্যা করেছিল। তাদের কথা: {سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا} [البقرة: ٩٣]
আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯৩)।
আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট থেকে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন তারা তা পূর্ণ করেনি। আমার অথবা ইমামের মাযহাবে যা আছে আমি তার উপরই আমল করবো, মানুষের এ ধরণের কথা বলাই নিকৃষ্ট পক্ষপাতিত্ব বলে গণ্য। কেননা, নিজ অথবা অন্য ইমামের মাযহাবে যে হক্ব আছে তা অনুসরণ করা মুসলিমের উপর আবশ্যক। সে কেবল হকুকেই গ্রহণ করবে এবং নিকৃষ্ট পক্ষপাতিত্ব করবে না。

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 আল্লাহর বিধিবিধান ইবাদত কম-বেশি করা

📄 আল্লাহর বিধিবিধান ইবাদত কম-বেশি করা


ইবাদতে বৃদ্ধি করা যেমন আশুরার দিনের কর্মকান্ড আর ইবাদতে কম করা যেমন আরাফার ময়দানে অবস্থান ত্যাগ করা。
ব্যাখ্যা: ইবাদতে বৃদ্ধি করা: যেমন জাহিলরা আশুরার দিনে তথা মুহাররম মাসের দশম দিনে বাড়াবাড়ি মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় অথচ এ দিনে এক বড় ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, তা হলো ফেরআউন ও তার সম্প্রদায় সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়।
অপরদিকে মূসা আলাইহিস সালাম ও তার জাতি মুক্তি লাভ করেন। আর এ দিনেই মিথ্যার বিরূদ্ধে হকুকে সাহায্য করা হয় এবং আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা আদায় স্বরূপ মূসা আলাইহিস সালাম এ দিনে সিয়াম পালন করতেন। আর এ সিয়াম পালন করার রীতি মুসলিমদের জন্য শরী'আত সম্মত। কেননা, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরতের পর তিনি ইয়াহুদীদেরকে এ দিনে সিয়াম পালন করতে দেখে তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, এ দিনে তোমরা কেন সিয়াম পালন করো? জবাবে তারা বলে, এটি এমন দিন যে দিনে মূসা আলাইহিস সালাম ও তার জাতি মুক্তি লাভ করেন এবং ফেরআউন ও তার সম্প্রদায় ধ্বংস হয়। মূসা আলাইহিস সালাম সিয়াম পালন করতেন তাই আমরাও তার সিয়াম পালন করি। তখন নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
"نحن أحق بموسى منكم"
মূসা আলাইহিস সালাম এর ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমরাই বেশি হক্বদার। অতঃপর তিনি এ সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন এবং ইয়াহুদীদের বিপরীতে এ সিয়ামের পূর্বে (৯ম, ১০ম) অথবা পরের একদিন (১০ম, ১১শ) মোট দু'টি সিয়াম পালনের আদেশ করেন।
তাই আশুরার দিনে সিয়াম পালন করা শরী'আত সম্মত। কিন্তু জাহিলরা এ দিনে সিয়াম পালনের ব্যাপারে অতিরিক্ত কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। তাই ইয়াহুদীরা এ দিনকে ঈদের দিন হিসাবে নির্ধারণ করে তাদের ঘড়-বাড়ি, সন্তানাদি ও স্ত্রীদেরকে সজ্জিত করে তুলে এবং দিনটিকে ঈদের দিন গণ্য করে। এভাবে তারা শরী'আতের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। তাই আশুরার দিনে সিয়াম পালনের সাথে অতিরিক্ত কিছু করা জাহিলী কর্ম। অনুরূপভাবে রাফেযীরাও এ দিনকে শোক, মাতম ও বিলাপের দিন হিসাবে গণ্য করে অতিরিক্ত কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। কেননা, এ দিনে হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে হত্যা করা হয়েছে।
অপরদিকে জাহিলদের ইবাদতের কমতি হলো যেমন হজ্জের ক্ষেত্রে তাদের দ্বারা যা কিছু ঘটে। জাহিলী যুগে তারা হজ্জ পালন করতো, এজন্য যে, এটা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর দীনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু হজ্জ পালনের সময় তারা অনেক পরিবর্তন করে এবং শিরকী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। কেননা, আল্লাহ তা'আলা আরাফায় অবস্থান করা বিধিবদ্ধ করেছেন। কিন্তু তারা আরাফায় অবস্থান করতো না বরং মুযদালিফায় অবস্থান করতো। এটাই ইবাদতের কমতি। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হাজ্জ পালন করতেন তারা ধারণা করতো যে, তিনি তাদের সাথে মুযদালিফায় অবস্থান করবেন। অতঃপর নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফা অতিক্রম করে সেখানে অবস্থান করেন। আর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর আদর্শের উপর হজ্জ পালন করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} [البقرة: ١٩৯]
অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তন কর, যেখান থেকে মানুষেরা প্রত্যাবর্তন করে (সূরা বাক্বারাহ ২:৯৯)।
অর্থাৎ আরাফা হতে (প্রত্যাবর্তন করো)। মুশরিকদের মুযদালিফায় অবস্থানের ব্যাপারে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অনুরূপভাবে তারা তালবিয়া পাঠেও অতিরিক্ত কথা যোগ করতো, তাদের তালবিয়া হলো:
إلا شريكاً هو لك. تملكه وما ملك)
ইল্লা শারীকান হুয়া লাকা, তামাল্লাকুহু ওয়ামা মুলক।
এ সবই হচ্ছে ইবাদতের মাঝে কমতি। এ সব কিছু জাহিলী দীনের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে যারা দীনের মাঝে অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করে তারাও জাহিলী দীনের উপরই রয়েছে। তাই বিদ'আত ও কুসংস্কার সবই জাহিলী দীনের অন্তর্ভুক্ত。

টিকাঃ
৪৮. জ্বহীহ বুখারী হা/২০০৪,৩৯৪২,৩৯৪৩ মুসলিম হা/১১৩০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00