📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 তাওহীদকে শিরক গণ্য করা

📄 তাওহীদকে শিরক গণ্য করা


ইসলামের অনুসরণকে শিরক মনে করে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادَاً لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ } [آل عمران: ۷۹] الآية
কোন মানুষের জন্য সংগত নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমাত ও নবুয়্যত দান করার পর সে মানুষকে বলবে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭৯)।
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হলো তাওহীদ ও হক্বের অনুসরণকে শিরক মনে করা। তাওহীদকে শিরক গণ্য করা বাস্তবতা ও স্বভাব বিরোধী। নাজরানের খ্রিষ্টান প্রতিনিধি দলের ব্যাপারে আয়াতটি নাযিল হয়েছে। দলটি নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে পারস্পারিক আলোচনা করার জন্য মসজিদে প্রবেশ করে এবং আলোচনায় লিপ্ত হয়। তিনি তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রস্তাব দেন। আর তাদের নিকট বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা'আলা সকল নাবীর কাছে থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন। তিনি আরো বর্ণনা করেন, মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত নাবী; যে কেউ জীবিত থাকলে অবশ্যই তার অনুসরণ করবে। তাদের একজন বললো, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি চান যে, আমরা আপনার ইবাদত করি? এভাবে শিরকের সাথে হকের অনুসরণ ও রসূলের ইবাদতের নামকরণ করা হলে আল্লাহ তা'আলা আয়াত নাযিল করেন। তিনি বলেন,
{ مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادَاً لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ ... } [آل عمران: ৭৯]
কোন মানুষের জন্য সংগত নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমাত ও নবুয়্যত দান করার পর সে মানুষকে বলবে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭৯)।
কেননা, নাবীগণ তাওহীদ নিয়ে এসেছেন, শিরক নিয়ে আসেননি এবং তাদের ইবাদতের উদ্দেশ্যে মানুষের নিকট দাওয়াত নিয়ে আসেননি। বরং শিরককে অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে তারা প্রেরিত হয়েছেন। কিন্তু ঐসব লোক পক্ষপাতিত্ব করে এ সব বলে। আল্লাহ তা'আলা তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করে আয়াত নাযিল করেন।
গতরাতের সাদৃশ্য কেমন হয়! যারা আল্লাহ তা'আলার একনিষ্ঠভাবে ইবাদতকে কুফরী গণ্য করে এবং দীন থেকে বের হওয়া ও শিরক মনে করে। আর বলে: কবরের ইবাদত করা তাওহীদ এবং এটাই ইসলাম। কারণ তা নেকলোকদের সাথে সাক্ষাত ও তাদেরকে ভালবাসার মাধ্যম।
তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যে ব্যক্তি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইবাদত করবে না, তার নিকট সাহায্য চাইবে না, সে হবে রসূলের শত্রু এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হজ্বের ব্যাপারে সে অন্যায়কারী বিবেচিত হবে। এটা রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্যের ব্যাপারে নাজরান খ্রিষ্টানদের কথার মতই, (তাদের কথা) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য ইবাদত সাব্যস্ত। এভাবে জাহিলী মতের বিস্তার ঘটে। জাহিলদের প্রত্যেকেই হকুকে বাতিল ও বাতিলকে হক্ব হিসাবে নামকরণ করেছে। এ থেকে আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
জাহমিয়া ও মু'তাযিলারা আল্লাহ তা'আলার গুণাবলীকে শিরক সাব্যস্ত করে।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 আল্লাহর কিতাবের ভাষ্য বিকৃতি ও পরিবর্তন করা

📄 আল্লাহর কিতাবের ভাষ্য বিকৃতি ও পরিবর্তন করা


আল্লাহর কিতাবের কথা স্ব-স্থান হতে বিকৃতি ও ভাষা পরিবর্তন করা।
ব্যাখ্যা: কিতাবের কথা স্ব-স্থান হতে পরিবর্তন করা বলতে ভাষার বর্ণের পরিবর্তন অথবা অর্থের বিকৃতি সাধন। আহলে কিতাবদের জঘন্য স্বভাব হলো তারা কিতাবের কথাকে স্ব-স্থান হতে পরিবর্তন করে। ফলে শব্দাবলী ও অর্থের পরিবর্তন এবং অপব্যাখ্যার মাধ্যমে এ বিকৃতি ঘটে। তাই যারাই আল্লাহর কালামের বিকৃতি সাধন করে, তারাই জাহিলী রীতির উপর বিদ্যমান। আর ইসলামের দিকে সম্পৃক্তকারী বাতিলপন্থী ও ইসলাম বিরোধী ভ্রষ্টদল তাদের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন ও মাযহাবের অনুসরণের জন্য আল্লাহর কিতাবের (نص) নজ্ব-মূল অংশ পরিবর্তন করে। আর শব্দের পরিবর্তন অথবা অর্থের বিকৃতি সাধন অথবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে যাই তারা তা করুক না কেন তা জাহিলদের উত্তরাধীকার হিসাবে গণ্য হবে。
আল্লাহ তা'আলা শব্দ-অর্থসহ যা নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান আনা এবং কোন পরিবর্তন ও বিকৃতি ছাড়াই বিধান অনুসারে আমল করা ওয়াজীব। চাই তা প্রবৃত্তি ও আকাঙ্খার অনুকূল অথবা প্রতিকূলে হোক। (তা মেনে নেয়া আবশ্যক)।
বর্তমানে নিকৃষ্ট পথ অবলম্বনকারী ও মিথ্যা মাযহাবীরা কুরআনের )نص( নজ্ব-মূল রচনা ও রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত ছহীহ হাদীছের )متن( মতন-মূলপাঠ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা প্রতিহত ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে অক্ষম হয়ে পরিবর্তন করেছে এবং মূল তাফসীর বাদ দিয়ে অপব্যাখ্যা করছে। এটাই হলো জাহিলী ও ইয়াহুদীদের রীতি।
আল্লাহর কিতাব ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহকে সম্মান করা মুমিনের উপর ওয়াজীব। তাই আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল যেভাবে চেয়েছেন সেরূপেই শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে মুমিন এ দু'টিকে বিশ্বাস করবে। আর )نص( নজ্ব-মূল অংশের অর্থ পরিবর্তন করবে না এবং শব্দের সাথে অতিরিক্ত সংযোজন অথবা বিয়োজনের মাধ্যমে পরিবর্তনও করবে না, অথবা মিথ্যা কিছু যোগও করবে না。

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 হক্ পন্থীদেরকে মন্দ উপাধি দেয়া

📄 হক্ পন্থীদেরকে মন্দ উপাধি দেয়া


হিদায়াত ও সঠিক পথের অনুসারীদেরকে সাবয়ী-দীনত্যাগী ও মন্দ উপাধী দেয়া。
ব্যাখ্যা: জাহিলদের রীতি হলো হেদায়াত পন্থীদেরকে অবজ্ঞা করা এবং তাদেরকে নোংরা মন্দ শব্দের মাধ্যমে উপাধী দেয়া। তারা হক্বপন্থীদেরকে সাবয়ী-দীনত্যাগী নামে ডাকে। আর )الصابئ( সাবয়ী হলো যে দীন থেকে বেরিয়ে যায়। তাই জাহিলরা হকুপন্থীদেরকে সাবয়ী-দীনত্যাগী নামে ডাকে, যেন হকু থেকে বেরিয়ে গিয়েছে! কেননা, জাহিলরা যে কুফরী ও ভ্রষ্টতার উপর আছে তাদের পরিভাষায় সেটাই হক্ব। আর যারা রসূলের আনুগত্য করে, তারা সাবয়ী-দীনত্যাগী অর্থাৎ জাহিলদের অভ্যাস, অন্ধঅনুকরণ, পদ্ধতি, প্রথা এবং তাদের বাপ-দাদাদের রীতি থেকে তারা বেরিয়ে গেছে। আর জাহিলরা তাদেরকে )شوية) হাশাবীয়া তথা অনর্থক কর্মকারী নামেও ডাকে। )الحشوية( আল-হাশাবীয়া শব্দটি )الحشو( আল- হাশবু থেকে উদ্ভুত। আর হাশবু হলো অনর্থক বিষয় যাতে কোন উপকারীতা নেই।
আর হাশবুল কালাম অনর্থক কথা হলো যাতে কোন কল্যাণ নেই। জাহিলরা তাদেরকে অদক্ষ, পশ্চাদমুখী, স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন এবং এরূপ অন্যান্য শব্দাবলীর মাধ্যমে নাম দেয়। কিন্তু এসব হক্বপন্থীদের কোন ক্ষতি করতে পারে না। নূহ আলাইহিস সালাম এর জাতি বলেছিল,
{وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْي} [হুদ: ২৭]
আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে (সূরা হুদ ১১:২৭)। অর্থাৎ হক্বপন্থীরা অদক্ষ, তাদের চিন্তা-চেতনা নেই। হে নূহ! চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই তারা তোমার অনুসরণ করে। বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্নদের চিন্তা-চেতনা আছে তাই তারা তোমার অনুসরণ করেনি。

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করা এবং হক্কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা

📄 আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করা এবং হক্কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা


ব্যাখ্যা: আল্লাহ, তার রসূল এবং হক্বের প্রতি মিথ্যারোপ করা জাহিলী রীতির অন্তর্ভুক্ত। যেমন জাহিলরা নগ্ন হয়ে কাবা তাওয়াফের সময় বলতো,
{وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِمَا} [আল-আ'রাফ: ২৮]
আমরা এতে আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি এবং আল্লাহ আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আল আরাফ ৭:২৮)। এটাই আল্লাহ তা'আলার প্রতি মিথ্যারোপ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِباً} [আল-আন'আম: ২১]
আর তার চেয়ে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহর উপর মিথ্যা রটনা করে (সূরা আন'আম ৬:২১)।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
{وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [آل عمران: ۷৮]
তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা বলে, অথচ তারা জানে (সূরা আল ইমরান, ৩:৭৮)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
{إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْكَاذِبُونَ} [النحل: ١٠٥]
একমাত্র তারাই মিথ্যা রটায়, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না। আর তারাই মিথ্যাবাদী (সূরা আন নাহল, ১৬:১০৫)।
{ وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لا يُفْلِحُونَ} [النحل: ١১৬]
তোমাদের জিহ্বা দ্বারা বানানো মিথ্যার উপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর উপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না (সূরা আন নাহল ১৬:১১৬)।
অনুরূপভাবে যারা রসূলের উপর মিথ্যারোপ করে, (তারা বলে) তিনি যে হাদীছ বর্ণনা করেন, তা মিথ্যা। আর যে, বিশ্বস্ততা ও প্রমাণ ছাড়া হাদীছ বর্ণনা করে, সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এ কারণে হাদীছে বর্ণিত হয়েছে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
من حدث عني بحديث وهو يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين"
যে আমার পক্ষ থেকে এমন হাদীছ বর্ণনা করে অথচ সে জানে তা মিথ্যা, সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ করাই জাহিলদের অভ্যাস। যেমন তারা ধারণা করে, আল্লাহ তাদেরকে নগ্ন হয়ে কাবা তাওয়াফ করতে আদেশ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা যা হালাল করেছেন তারা তা হারাম করে। তারা আরো ধারণা করে যে, আল্লাহ তা'আলা এটা তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ وَقَالَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا عَبَدْنَا مِنْ دُونِهِ مِنْ شَيْءٍ ... } [النحل: ৩৫] ،
আর যারা শির্ক করেছে, তারা বলল, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা তাকে ছাড়া কোন কিছুর ইবাদত করতাম না (সূরা নাহাল ১৬:৩৫)। {لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكْنَا} [الأنعام: ১৪৮]
আল্লাহ যদি চাইতেন, আমরা শিরক করতাম না (সূরা আন'আম ৬:১৪৮)। {لَوْ شَاءَ الرَّحْمَنُ مَا عَبَدْنَاهُمْ} [الزخرف: ২০] ,
পরম করনাময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা এদের ইবাদাত করতাম না (সূরা যুখরুফ ৪৩:২০)।
এসবই আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ। কেননা, জাহিলরা যে রীতির উপর আছে তা অস্বীকার করার জন্য আল্লাহ তা'আলা রসূলগণকে প্রেরণ করেছেন।
সার কথা হলো আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করা জাহিলী কর্ম। সুতরাং এ নিকৃষ্ট কর্ম থেকে মুসলিমদের সতর্ক থাকা আবশ্যক। মুসলিম কখনো আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে না। আর সে আল্লাহ ও তার রসূলের নির্দেশ ও ফাতওয়া পরিবর্তনের চেষ্টা করে না। আর যে ব্যক্তি কোন কিছু বর্ণনা করে, যা ভুল ও দলীলবিহীন, আর তা মানুষের মাঝে প্রচার করে, সে হবে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। আর এরূপ বর্ণনা ও প্রচারের মাধ্যমে সে মানুষের ক্ষতি সাধন করে।
আবশ্যক-ওয়াজীব হলো মিথ্যা-জাল হাদীছ যেন প্রচার ও বর্ণনা করা না হয়, বরং প্রচারণার পথ বন্ধ করা ও তাতে কঠোরতা আরোপ করা হবে। আর উপদেশ দাতা ও দা'ঈগণ আল্লাহ ও রসূল সম্পর্কে যা বলেন সে ব্যাপারে যেন তারা সাবধানতা অবলম্বন করেন। অনুরূপভাবে হালাল, হারাম ও ফাতওয়া সম্পর্কেও তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে যেন তারা তাড়াহুড়া না করেন। কেননা, ইলম-জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ তা'আলার ব্যাপারে ভুল বলার সম্ভাবনা আছে। অনুরূপভাবে আল্লাহ ও রসূল থেকে প্রমাণিত হক্ব সম্পর্কে মিথ্যারোপ করা থেকেও তারা সতর্ক হবে। আর আল্লাহ ও রসূল সম্পর্কে অন্যায়ভাবে মিথ্যারোপ করে তারা যেন কোন কিছু বর্ণনা না করেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَبَ عَلَى اللَّهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَاءَهُ} [الزمر: ৩২]
সুতরাং তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে? যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে এবং তার কাছে সত্য আসার পর তা অস্বীকার করে। জাহান্নামেই কি কাফিরদের আবাসস্থল নয়? (সূরা যুমার ৩৯:৩২)।
আল্লাহ ও তার রসূলের কথা যখন কু-প্রবৃত্তির অনুকূলে না হয়, তখন প্রবৃত্তি পূজারীদের মত আল্লাহ ও রসূলের কথা মিথ্যা দ্বারা পরিবর্তন করে তাতে তারা সন্দেহ সৃষ্টি করে。

টিকাঃ
৪৯. মুসলিম হা/১, বিশস্ত রাবী হতে হাদীছ বর্ণনা করা ওয়াজীব এবং মিথ্যুক রাবীদের হাদীছ পরিত্যাজ্য। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি মিথ্যারোপে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00