📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 হক্ ব্যতিত করার উদ্দেশ্যে হকের স্বীকৃতি প্রদান

📄 হক্ ব্যতিত করার উদ্দেশ্যে হকের স্বীকৃতি প্রদান


প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে জাহিলরা হক্ব স্বীকার করে। যেমনভাবে আল্লাহ তা'আলা পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করেন。
ব্যাখ্যা: জাহিলী রীতি হলো কেবল হকুকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে তারা তার স্বীকৃতি দেয়, আনুগত্যের উদ্দেশ্যে নয়। যেমনভাবে ইয়াহুদীরা স্বীকৃতি দিয়েছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [آل عمران: [٧২
আর কিতাবীরা একদল বলে, মুমিনদের উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার প্রতি দিনের প্রথম ভাগে ঈমান আন, আর শেষ ভাগে তা কুফরী কর (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭২)। এ বিষয়ে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে。

শত্রুদের মধ্যে যারা মুসলিমদের মধ্যে গোপনে প্রবেশ করে, তাদের এ ষড়যন্ত্রের বর্ণনা মুসলিমদের নিকট দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শত্রুরা প্রকাশ্যে হক্ব গ্রহণের স্বীকৃতি দিয়ে ইসলামের পরিবর্তন ও ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায়।
নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে এমনটা ঘটেছিল। বর্তমান সময় পর্যন্ত তা ঘটেই চলছে, আল্লাহ তা'আলা যতদিন চান চলবে। ইসলামের শত্রুরা গোপনে ইসলামে প্রবেশ করে, মুসলিমদের মাঝে বিশৃঙ্খলা, সন্দেহ, কালিমার বিভক্তি, তাদের মাঝে শত্রুতা ও তাদেরকে দলে দলে বিভক্ত করার জন্যই ইসলাম পালন করছে। এটাই শত্রুদের কৌশল ও ষড়যন্ত্র।
এ জঘন্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুসলিমদের উপর আবশ্যক হলো সতর্ক হওয়া এবং প্রত্যেক উদ্যমী ব্যক্তির প্রতি আস্থাভাজন না হওয়া। বরং মানুষকে যাচাই বাছাই এবং গভীরভাবে পরখ করে দেখাও তাদের উপর আবশ্যক। আর মানুষের সততা প্রমাণিত হলে তখনই তাদেরকে বিশ্বাস করবে。

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 তারা যে বাতিলের উপর রয়েছে, তার প্রতি অন্ধভক্তি

📄 তারা যে বাতিলের উপর রয়েছে, তার প্রতি অন্ধভক্তি


নিজ মাযহাবের পক্ষপাতিত্ব করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَلا تُؤْمِنُوا إِلا لِمَنْ تَبِعَ دِينَكُمْ} [آل عمران: ৭৩]
আর তোমরা কেবল তাদেরকে বিশ্বাস কর, যারা তোমাদের দীনের অনুসরণ করে (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭৩)।
ব্যাখ্যা: কোন জিনিসের জঘন্যতম পক্ষপাতিত্ব হলো মিথ্যা জানা সত্ত্বেও তা আঁকড়ে ধরা। জাহিলী সমস্যা হলো মিথ্যা মতের পক্ষ অবলম্বন করা। এ কারণে ইয়াহুদীরা বলেছিল, { وَلا تُؤْمِنُوا إِلا لِمَنْ تَبِعَ دِينَكُمْ} [آل عمران: ৭৩]
আর তোমরা কেবল তাদেরকে বিশ্বাস কর, যারা তোমাদের দীনের অনুসরণ করে (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭৩)। অন্য আয়াতে আছে, {نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩١]
আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৯১)। অর্থাৎ কেবল আমাদের নাবীগণের উপর (যা নাযিল হয়েছে)।
আল্লাহ তা'আলা নাবীগণের উপর যা নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজীব। অথচ নাবীগণের উপর যা নাযিল করা হয়েছে তারা তা বিশ্বাস করে না। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা বলেন, {فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنْبِيَاءَ اللَّهِ} [البقرة: ٩١]
বল, তবে কেন তোমরা আল্লাহর নাবীদেরকে পূর্বে হত্যা করতে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক? (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৯১)।
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর যা নাযিল করেছেন তাতে কি নাবীগণকে হত্যার কথা আছে, যা তোমরা করো?
আর এ কারণে বিভিন্ন মাযহাবপন্থীরা দলীল ছাড়াই তাদের মাযহাবের পক্ষপাতিত্ব করে। তাই হক্ব নিজের মাযহাব অথবা অন্যের মাযহাবে থাকুক সাধারণ মুসলিম ও শিক্ষার্থীর উপর তা অনুসরণ ওয়াজীব।
যে মাযহাবে সঠিক ও ভুল দুটোই রয়েছে আমরা তার সবই গ্রহণ করবো না। বরং আমরা সঠিকটাই গ্রহণ করবো এবং ভুল অংশ পরিত্যাগ করবো। কেউ হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী হলে মালেকী বা হানাফী বা শাফেয়ী মাযহাবে সঠিক মাসআলা পেলে তা গ্রহণ করবে, হোক তা নিজের মাযহাবের বিরোধী।
কেননা, এখানে উদ্দেশ্যে হলো হক্ব গ্রহণ করা, আর যে শিক্ষায় দলীল বিদ্যমান তা আহলুল ইলম বা বিদ্বানগণের গ্রহণ করা ওয়াজীব। আর যদি কেউ বিদ্বান না হয়, তাহলে কোন নির্ভরযোগ্য আহলুল ইলম বা বিদ্বানের নিকট জেনে নেয়া আবশ্যক। তারা যে ফাতওয়া দিবেন তা গ্রহণ করবে, এটাই সঠিক পন্থা। অপর দিকে মাযহাব হকু অথবা বাতিল যাই হোক তার পক্ষপাতিত্ব করা জাহিলী রীতি। যেমনভাবে আল্লাহ তা'আলা ইয়াহুদীদের ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 তাওহীদকে শিরক গণ্য করা

📄 তাওহীদকে শিরক গণ্য করা


ইসলামের অনুসরণকে শিরক মনে করে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادَاً لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ } [آل عمران: ۷۹] الآية
কোন মানুষের জন্য সংগত নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমাত ও নবুয়্যত দান করার পর সে মানুষকে বলবে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭৯)।
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হলো তাওহীদ ও হক্বের অনুসরণকে শিরক মনে করা। তাওহীদকে শিরক গণ্য করা বাস্তবতা ও স্বভাব বিরোধী। নাজরানের খ্রিষ্টান প্রতিনিধি দলের ব্যাপারে আয়াতটি নাযিল হয়েছে। দলটি নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে পারস্পারিক আলোচনা করার জন্য মসজিদে প্রবেশ করে এবং আলোচনায় লিপ্ত হয়। তিনি তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রস্তাব দেন। আর তাদের নিকট বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা'আলা সকল নাবীর কাছে থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন। তিনি আরো বর্ণনা করেন, মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত নাবী; যে কেউ জীবিত থাকলে অবশ্যই তার অনুসরণ করবে। তাদের একজন বললো, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি চান যে, আমরা আপনার ইবাদত করি? এভাবে শিরকের সাথে হকের অনুসরণ ও রসূলের ইবাদতের নামকরণ করা হলে আল্লাহ তা'আলা আয়াত নাযিল করেন। তিনি বলেন,
{ مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادَاً لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ ... } [آل عمران: ৭৯]
কোন মানুষের জন্য সংগত নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমাত ও নবুয়্যত দান করার পর সে মানুষকে বলবে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭৯)।
কেননা, নাবীগণ তাওহীদ নিয়ে এসেছেন, শিরক নিয়ে আসেননি এবং তাদের ইবাদতের উদ্দেশ্যে মানুষের নিকট দাওয়াত নিয়ে আসেননি। বরং শিরককে অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে তারা প্রেরিত হয়েছেন। কিন্তু ঐসব লোক পক্ষপাতিত্ব করে এ সব বলে। আল্লাহ তা'আলা তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করে আয়াত নাযিল করেন।
গতরাতের সাদৃশ্য কেমন হয়! যারা আল্লাহ তা'আলার একনিষ্ঠভাবে ইবাদতকে কুফরী গণ্য করে এবং দীন থেকে বের হওয়া ও শিরক মনে করে। আর বলে: কবরের ইবাদত করা তাওহীদ এবং এটাই ইসলাম। কারণ তা নেকলোকদের সাথে সাক্ষাত ও তাদেরকে ভালবাসার মাধ্যম।
তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যে ব্যক্তি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইবাদত করবে না, তার নিকট সাহায্য চাইবে না, সে হবে রসূলের শত্রু এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হজ্বের ব্যাপারে সে অন্যায়কারী বিবেচিত হবে। এটা রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্যের ব্যাপারে নাজরান খ্রিষ্টানদের কথার মতই, (তাদের কথা) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য ইবাদত সাব্যস্ত। এভাবে জাহিলী মতের বিস্তার ঘটে। জাহিলদের প্রত্যেকেই হকুকে বাতিল ও বাতিলকে হক্ব হিসাবে নামকরণ করেছে। এ থেকে আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
জাহমিয়া ও মু'তাযিলারা আল্লাহ তা'আলার গুণাবলীকে শিরক সাব্যস্ত করে।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 আল্লাহর কিতাবের ভাষ্য বিকৃতি ও পরিবর্তন করা

📄 আল্লাহর কিতাবের ভাষ্য বিকৃতি ও পরিবর্তন করা


আল্লাহর কিতাবের কথা স্ব-স্থান হতে বিকৃতি ও ভাষা পরিবর্তন করা।
ব্যাখ্যা: কিতাবের কথা স্ব-স্থান হতে পরিবর্তন করা বলতে ভাষার বর্ণের পরিবর্তন অথবা অর্থের বিকৃতি সাধন। আহলে কিতাবদের জঘন্য স্বভাব হলো তারা কিতাবের কথাকে স্ব-স্থান হতে পরিবর্তন করে। ফলে শব্দাবলী ও অর্থের পরিবর্তন এবং অপব্যাখ্যার মাধ্যমে এ বিকৃতি ঘটে। তাই যারাই আল্লাহর কালামের বিকৃতি সাধন করে, তারাই জাহিলী রীতির উপর বিদ্যমান। আর ইসলামের দিকে সম্পৃক্তকারী বাতিলপন্থী ও ইসলাম বিরোধী ভ্রষ্টদল তাদের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন ও মাযহাবের অনুসরণের জন্য আল্লাহর কিতাবের (نص) নজ্ব-মূল অংশ পরিবর্তন করে। আর শব্দের পরিবর্তন অথবা অর্থের বিকৃতি সাধন অথবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে যাই তারা তা করুক না কেন তা জাহিলদের উত্তরাধীকার হিসাবে গণ্য হবে。
আল্লাহ তা'আলা শব্দ-অর্থসহ যা নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান আনা এবং কোন পরিবর্তন ও বিকৃতি ছাড়াই বিধান অনুসারে আমল করা ওয়াজীব। চাই তা প্রবৃত্তি ও আকাঙ্খার অনুকূল অথবা প্রতিকূলে হোক। (তা মেনে নেয়া আবশ্যক)।
বর্তমানে নিকৃষ্ট পথ অবলম্বনকারী ও মিথ্যা মাযহাবীরা কুরআনের )نص( নজ্ব-মূল রচনা ও রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত ছহীহ হাদীছের )متن( মতন-মূলপাঠ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা প্রতিহত ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে অক্ষম হয়ে পরিবর্তন করেছে এবং মূল তাফসীর বাদ দিয়ে অপব্যাখ্যা করছে। এটাই হলো জাহিলী ও ইয়াহুদীদের রীতি।
আল্লাহর কিতাব ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহকে সম্মান করা মুমিনের উপর ওয়াজীব। তাই আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল যেভাবে চেয়েছেন সেরূপেই শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে মুমিন এ দু'টিকে বিশ্বাস করবে। আর )نص( নজ্ব-মূল অংশের অর্থ পরিবর্তন করবে না এবং শব্দের সাথে অতিরিক্ত সংযোজন অথবা বিয়োজনের মাধ্যমে পরিবর্তনও করবে না, অথবা মিথ্যা কিছু যোগও করবে না。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00