📄 আল্লাহ তা'আলার কর্মের প্রজ্ঞা অস্বীকার করা
আল্লাহ তা'আলার হেকমত-প্রজ্ঞা সম্পর্কে দোষারোপ করা。
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলা নিজেকে হেকমত-তাৎপর্যের সাথে গুনান্বিত করেছেন যে, তিনি প্রজ্ঞাময়। আর )الحكمة( হেকমত-প্রজ্ঞা হলো কোন জিনিসকে তার স্ব স্থানে রাখা। তাই যিনি কোন বিষয়-বস্তুকে যথাস্থানে রাখেন তিনিই প্রজ্ঞাময়। আল্লাহ তা'আলা নিজেকে হেকমতের সাথে হাকীম বা প্রজ্ঞাময় গুনান্বিত করেছেন। কারণ হাকীম অর্থ পূর্ণ প্রজ্ঞার অধিকারী। তাই সৃষ্টিকুল হেকমতের উপর নির্মিত। আল্লাহ তা'আলা হেকমত ছাড়া অনর্থক কোন জিনিস সৃষ্টি করেন না। তিনি আকাশ-জমিন, পাহাড়-পর্বত, জীন-মানব, পশু-পক্ষি সবকিছুই হেকমতের সাথেই সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি জগতের পূর্ণাঙ্গতা ও ফলাফল নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে আল্লাহ তা'আলার হেকমত বুঝা যায়। আর এ সৃষ্টি জগতের স্রষ্টা প্রজ্ঞাময়, যিনি পূর্ণ প্রজ্ঞার অধিকারী তাকে চেনা যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
أَعْطَى كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَى} [طه: ٥٠] ،
যিনি সকল বস্তুকে তার আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সঠিক পথ নির্দেশ করেছেন (সূরা ত্বা-হা ২০:৫০)। তিনি আরো বলেন,
{وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بَاطِلاً ذَلِكَ ظَنُّ الَّذِينَ كَفَرُوا فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مِنَ النَّارِ} [ص: ۲۷] .
আর আসমান, যমীন এবং এ দু'য়ের মধ্যে যা আছে তা আমি অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা কাফিরদের ধারণা, সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ (সূরা ছোয়াদ ৩৮:২৭)।
আল্লাহ তা'আলার সকল সৃষ্টি, তার আদেশ, নিষেধ ও শরী'আতের ব্যাপারে তিনি প্রজ্ঞাময়। আর যে বিষয়ে নিশ্চিত ক্ষতি রয়েছে অথবা ক্ষতির সম্ভাবনা আছে সে ব্যাপারেই তিনি নিষেধ করেন। পক্ষান্তরে, যে বিষয়ে নিশ্চিত ও সম্ভাব্য কল্যাণ রয়েছে সে ব্যাপারে তিনি আদেশ করেন। আল্লাহ তা'আলার আরো হেকমত হলো তিনি সৃষ্টি জগতের হিসাব সংরক্ষণ করেন, অতঃপর ইহসানকারীর ইহসান এবং পাপীর পাপ অনুযায়ী তিনি প্রতিদান দেন। তিনি মানুষের প্রত্যেক কর্মের বিনিময় নির্ধারণ করে ছেড়ে দিয়েছেন। অতঃপর তিনি কর্মের প্রতিফল না দিলে তা হবে তার হেকমত বিরোধী। এ কারণে তিনি বলেন,
{وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لاعِبِينَ} [الأنبياء : ١٦]
আসমান-যমীন ও তাদের মাঝখানে যা কিছু আছে তার কোন কিছুই আমি খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি (সূরা আল আম্বিয়া ২১:১৬)। তিনি আরো বলেন,
{وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بَاطِلاً ذَلِكَ ظَنُّ الَّذِينَ كَفَرُوا فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مِنَ النَّارِ} [ص: ۲۷] ،
আর আসমান, যমীন এবং এ দু'য়ের মধ্যে যা আছে তা আমি অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা কাফিরদের ধারণা, সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ (সূরা সা'দ ৩৮:২৭)।
যারা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে তাদেরকে তিনি প্রত্যাখ্যান করে বলেন,
{أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لا تُرْجَعُونَ} [المؤمنون: ١١٥] ،
তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে কেবল অনর্থক সৃষ্টি করেছিলাম এবং তোমরা আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে না?' (সূরা মু'মিনিন ২৩:১১৫)।
{أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدى} [القيامة : ٣٦]
মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে? (সূরা কিয়ামাহ ৭৫:৩৬)।
অর্থাৎ আদেশও দেয়া হবে না, নিষেধও করা হবে না, আবার প্রতিদান ও দিবেন না?! জাহিলরা আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টি ও কর্মের হেকমত অস্বীকার করে। আশা'ইরা ও মু'তাযিলারাও আল্লাহ তা'আলার কর্মের হেকমত অস্বীকার করে। আশা'ইরা আল্লাহ তা'আলার কর্মের হেকমত অস্বীকার করে বলে, আল্লাহ তা'আলা প্রজ্ঞার সাথে কোন কিছু করেন না। বরং তার ইচ্ছা প্রকাশের জন্যই কোন কিছু সৃষ্টি করেন, হেকমতের জন্য নয়। কেননা, হেকমত অর্থ হলো কোন উদ্দেশ্যে কর্ম সম্পাদন করা। আর আল্লাহ তা'আলা সকল উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত। আর হেকমত তার উপর প্রভাবিত হলে এ কারণেই তখন সবকিছু সৃষ্টি বলে গণ্য হবে। তাই আল্লাহ তা'আলা কেবল ইচ্ছা ও কল্পনার মাধ্যমেই সব কিছু সৃষ্টি করেন, হেকমতের জন্য নয়।
সুতরাং আল্লাহ তা'আলাকে বিভিন্ন উদ্দেশ্য হতে তার পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য ধারণা বশতঃ তার কর্ম ও শরী'আতে নিহীত হেকমতকে তারা অস্বীকার করে। আর এ কারণেই তারা বলে, কুফরী, ফাসেকী ও অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়াও আল্লাহর জন্য বৈধ। আর আনুগত্য, জ্বলাত প্রতিষ্ঠা, আত্মীয় স্বজনের প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং ভাল কাজের আদেশ করা হতেও তিনি নিষেধ করতে পারেন। কেননা, তিনি যা চান তাই করতে পারেন। এ ব্যাপারে আমরা তাদেরকে বলবো, আল্লাহ তা'আলা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন তবে তিনি হেকমত ছাড়া কোন কিছু করেন না। তারা আরো বলে, কাফিরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহ তা'আলার জন্য বৈধ। আর মু'মিন-মুত্তাক্বিকে জাহান্নামে প্রবেশ করানোও তার জন্য বৈধ।
কেননা এ বিষয় কেবল তার দিকেই ফিরে আসে। কোন কিছুই তাকে আদেশ করতে পারে না। আমরা বলবো, এ ধরণের কথা-বার্তা বাতিল যা আল্লাহ তা'আলার হেকমতের সাথে মানানসই নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَمْ نَجْعَلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَالْمُفْسِدِينَ فِي الْأَرْضِ أَمْ نَجْعَلُ الْمُتَّقِينَ كَالْفُجَّارِ } [ص: ۲۸]
যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে আমি কি তাদেরকে যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সমতুল্য গণ্য করব? নাকি আমি মুত্তাকীদেরকে পাপাচারীদের সমতুল্য গণ্য কর? (সূরা জ্বদ ৩৮:২৮)। তিনি আরো বলেন,
{أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ تَجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءً مَحْيَاهُمْ وَمَاتُهُمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ} [الجاثية: ٢١]
না কি যারা দুষ্কর্ম করেছে তারা মনে করে যে, জীবন ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে আমি তাদের এ সব লোকদের সমান গণ্য করব যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে? তাদের বিচার কতই না মন্দ! (সূরা জাছিয়া ৪৫:২১)।
সুতরাং যারা এ সব কথা রচনা করে এবং আল্লাহ তা'আলাকে মন্দ ও পাপ সংক্রান্ত ব্যাপারে গুণান্বিত করে তাদের রীতিই হচ্ছে জাহিলী রীতি। আর আশা'ইরা ও অন্যান্য দল কর্তৃক আল্লাহ তা'আলার হেকমতকে অস্বীকার করা থেকে আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি。
📄 আল্লাহর শরী'আত বাতিল করণে ফন্দি-ফিকির ও ষড়যন্ত্র করা
রসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন সে ব্যাপারে প্রকাশ্যে ও গোপনে ষড়যন্ত্র করা। যেমন আল্লাহ তা'আলার কথা:
{وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللهُ} [آل عمران : ٥٤]
আর তারা কুটকৌশল করেছে এবং আল্লাহ কৌশল করেছেন (সূরা আলে- ইমরান ৩:৫৪)। তিনি আরো বলেন,
{ وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَه ... } [آل عمران: ۷২]
আর কিতাবীরা একদল বলে, মুমিনদের উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার প্রতি দিনের প্রথম ভাগে ঈমান আন, আর শেষ ভাগে তা কুফরী কর (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭২)।
ব্যাখ্যা: কিতাবধারী ও নিরক্ষর জাহিলদের কর্ম হলো আল্লাহ তা'আলার শরী'আত হতে নিষ্কৃতি লাভের জন্য কৌশল করে তা পরিবর্তন করা এবং তাদের কুফরী ও ভ্রষ্টতাকে বাস্তবায়ন করা। কেননা তারা সত্য গ্রহণে অনীহা। তাই শরী'আত পরিবর্তনে গোপন ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত হয়। একারণে আল্লাহ তা'আলা তাদের ব্যাপারে বলেন,
{ وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} [آل عمران: ٥٤]
আর তারা কুটকৌশল করেছে এবং আল্লাহ কৌশল করেছেন। আর আল্লাহ উত্তম কৌশলকারী (সূরা আলে-ইমরান ৩:৫৪)।
আর গোপন কুট-কৌশলের মাধ্যমে অপছন্দনীয় বিষয় পরিচালনা করাকে বলা হয় ষড়যন্ত্র। নাবীগণকে হত্যার অভ্যাস অনুযায়ী ইয়াহুদীরা যখন মরিয়মের পুত্র ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যা করতে চাইলো তখন তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে নিয়ে তারা মূর্তি পূজক কাফির রাজার নিকট গেল।
অতঃপর তারা তাকে বললো, যদি আপনি এ লোককে ছেড়ে দেন তাহলে সে আপনার শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ফেলবে। অতঃপর ঈসা মাসিহকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজা একটি দল প্রেরণ করলো এবং তারা ঈসা আলাইহিস সালাম এর ঘরে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করতে চাইলো। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তার নাবীর জন্য কৌশল করলেন। ঈসা আলাইহিস সালাম এর অনুসারীর মধ্যে একজনকে আল্লাহ তা'আলা ঈসা আলাইহিস সালাম এর চেহারার সাদৃশ্য করে দিলেন। সে নিজেকে তাদের সামনে তুলে ধরে আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রতিদান চাইলো। সে যেন ঈসা মাসিহ রূপেই প্রকাশ পেল। অতঃপর তারা তাকে পাঁকড়াও করে হত্যা করলো এবং তাকে কাষ্ঠ খন্ডে শুলে চড়িয়ে ছিল। তারা ধারণা করেছিল তিনিই মাসিহ। আর আল্লাহ তা'আলা তাদের মাঝ থেকে ঈসা মাসিহকে তার নিকট তুলে নিলেন, অথচ তারা বুঝতেই পারল না। আর এ কারণে আল্লাহ তা'আলা বলেন, :{ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ} [النساء : ١٥٧] .
তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি। বরং তাদেরকে ধাঁধায় ফেলা হয়েছিল (সূরা নিসা ৪:১৫৭)। এটাই আল্লাহ তা'আলার কথার অর্থ:
{ وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّه} [آل عمران : ٥٤] ،
আর তারা কুটকৌশল করেছে এবং আল্লাহও কৌশল করেছেন (সূরা আলে-ইমরান ৩:৫৪)।
এ কৌশল তাদের সাথে মোকাবেলা ও শান্তির অন্তর্ভুক্ত বিষয়। আল্লাহ তা'আলা ঈসা আলাইহিস সালাম এর ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণ। সৃষ্টির ষড়যন্ত্র (আল্লাহর কৌশলের) বিপরীত। কেননা, তা যুলুম ও সঠিক নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ} [آل عمران: ৭২]
আর কিতাবীরা একদল বলে, মুমিনদের উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার প্রতি দিনের প্রথম ভাগে ঈমান আন, আর শেষ ভাগে তা অস্বীকার কর (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭২)। এটাও ছিল ইয়াহুদীদের ষড়যন্ত্র।
নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরত করলেন, আল্লাহ তা'আলা বিধান জারি করলেন, আর বদর যুদ্ধে মুশরিকদের বিরদ্ধে মুসলিমদের সাহায্য করলেন, তাতে হক্বপন্থী ও বাতিলপন্থী সুস্পষ্ট হলো। আর মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দীন থেকে মানুষকে বিমুখ করতে ইয়াহুদীরা অক্ষম হলো, ফলে তারা ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়। তাদের একদল বললো, তোমরা দিনের প্রথম ভাগে ইসলাম গ্রহণ করো। আর দিনের শেষে ইসলাম পরিত্যাগ করো। আর তোমরা বল, মুহাম্মাদের দীনে আমরা কোন উপকারিতা পাইনি। তাহলে মানুষ তোমাদের অনুসরণ করবে, কেননা তোমরা আহলে কিতাব।
আর তারা বলে, যদি ইয়াহুদীরা মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দীনের উপকার লাভ করতোই তাহলে তার দীন থেকে তারা বেরিয়ে যেত না। তাই তারা তোমাদের অনুসরণ করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের কুটকৌশল প্রকাশ করে দেন। তিনি বলেন, {وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ} [آل عمران: ৭২]
আর কিতাবীদের একদল বলে, মুমিনদের উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার প্রতি দিনের প্রথম ভাগে ঈমান আন, আর শেষ ভাগে তা অস্বীকার কর (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭২)। অর্থাৎ এখানে দিনের প্রথম ভাগ সময় বুঝানো হয়েছে। আর কোন জিনিসের সূচনা বলতে তার শুরুর পর্যায় ও তার প্রারম্ভিকা বুঝায়।
যারাই আল্লাহর শরী'আত পরিবর্তন ও তার অনুসারীদের ক্ষতি করার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তারাই জাহিলী রীতির উপর বিদ্যমান। আহলুস সুন্নাহ ও তাওহীদপন্থীদের মধ্যে থেকেও কেউ যদি দুনিয়া লাভের জন্য এরূপ কাজ করে তবে সেটাও জাহিলী পন্থা।
📄 হক্ ব্যতিত করার উদ্দেশ্যে হকের স্বীকৃতি প্রদান
প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে জাহিলরা হক্ব স্বীকার করে। যেমনভাবে আল্লাহ তা'আলা পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করেন。
ব্যাখ্যা: জাহিলী রীতি হলো কেবল হকুকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে তারা তার স্বীকৃতি দেয়, আনুগত্যের উদ্দেশ্যে নয়। যেমনভাবে ইয়াহুদীরা স্বীকৃতি দিয়েছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [آل عمران: [٧২
আর কিতাবীরা একদল বলে, মুমিনদের উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার প্রতি দিনের প্রথম ভাগে ঈমান আন, আর শেষ ভাগে তা কুফরী কর (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭২)। এ বিষয়ে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে。
শত্রুদের মধ্যে যারা মুসলিমদের মধ্যে গোপনে প্রবেশ করে, তাদের এ ষড়যন্ত্রের বর্ণনা মুসলিমদের নিকট দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শত্রুরা প্রকাশ্যে হক্ব গ্রহণের স্বীকৃতি দিয়ে ইসলামের পরিবর্তন ও ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায়।
নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে এমনটা ঘটেছিল। বর্তমান সময় পর্যন্ত তা ঘটেই চলছে, আল্লাহ তা'আলা যতদিন চান চলবে। ইসলামের শত্রুরা গোপনে ইসলামে প্রবেশ করে, মুসলিমদের মাঝে বিশৃঙ্খলা, সন্দেহ, কালিমার বিভক্তি, তাদের মাঝে শত্রুতা ও তাদেরকে দলে দলে বিভক্ত করার জন্যই ইসলাম পালন করছে। এটাই শত্রুদের কৌশল ও ষড়যন্ত্র।
এ জঘন্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুসলিমদের উপর আবশ্যক হলো সতর্ক হওয়া এবং প্রত্যেক উদ্যমী ব্যক্তির প্রতি আস্থাভাজন না হওয়া। বরং মানুষকে যাচাই বাছাই এবং গভীরভাবে পরখ করে দেখাও তাদের উপর আবশ্যক। আর মানুষের সততা প্রমাণিত হলে তখনই তাদেরকে বিশ্বাস করবে。
📄 তারা যে বাতিলের উপর রয়েছে, তার প্রতি অন্ধভক্তি
নিজ মাযহাবের পক্ষপাতিত্ব করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَلا تُؤْمِنُوا إِلا لِمَنْ تَبِعَ دِينَكُمْ} [آل عمران: ৭৩]
আর তোমরা কেবল তাদেরকে বিশ্বাস কর, যারা তোমাদের দীনের অনুসরণ করে (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭৩)।
ব্যাখ্যা: কোন জিনিসের জঘন্যতম পক্ষপাতিত্ব হলো মিথ্যা জানা সত্ত্বেও তা আঁকড়ে ধরা। জাহিলী সমস্যা হলো মিথ্যা মতের পক্ষ অবলম্বন করা। এ কারণে ইয়াহুদীরা বলেছিল, { وَلا تُؤْمِنُوا إِلا لِمَنْ تَبِعَ دِينَكُمْ} [آل عمران: ৭৩]
আর তোমরা কেবল তাদেরকে বিশ্বাস কর, যারা তোমাদের দীনের অনুসরণ করে (সূরা আলে-ইমরান ৩:৭৩)। অন্য আয়াতে আছে, {نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩١]
আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৯১)। অর্থাৎ কেবল আমাদের নাবীগণের উপর (যা নাযিল হয়েছে)।
আল্লাহ তা'আলা নাবীগণের উপর যা নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজীব। অথচ নাবীগণের উপর যা নাযিল করা হয়েছে তারা তা বিশ্বাস করে না। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা বলেন, {فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنْبِيَاءَ اللَّهِ} [البقرة: ٩١]
বল, তবে কেন তোমরা আল্লাহর নাবীদেরকে পূর্বে হত্যা করতে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক? (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৯১)।
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর যা নাযিল করেছেন তাতে কি নাবীগণকে হত্যার কথা আছে, যা তোমরা করো?
আর এ কারণে বিভিন্ন মাযহাবপন্থীরা দলীল ছাড়াই তাদের মাযহাবের পক্ষপাতিত্ব করে। তাই হক্ব নিজের মাযহাব অথবা অন্যের মাযহাবে থাকুক সাধারণ মুসলিম ও শিক্ষার্থীর উপর তা অনুসরণ ওয়াজীব।
যে মাযহাবে সঠিক ও ভুল দুটোই রয়েছে আমরা তার সবই গ্রহণ করবো না। বরং আমরা সঠিকটাই গ্রহণ করবো এবং ভুল অংশ পরিত্যাগ করবো। কেউ হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী হলে মালেকী বা হানাফী বা শাফেয়ী মাযহাবে সঠিক মাসআলা পেলে তা গ্রহণ করবে, হোক তা নিজের মাযহাবের বিরোধী।
কেননা, এখানে উদ্দেশ্যে হলো হক্ব গ্রহণ করা, আর যে শিক্ষায় দলীল বিদ্যমান তা আহলুল ইলম বা বিদ্বানগণের গ্রহণ করা ওয়াজীব। আর যদি কেউ বিদ্বান না হয়, তাহলে কোন নির্ভরযোগ্য আহলুল ইলম বা বিদ্বানের নিকট জেনে নেয়া আবশ্যক। তারা যে ফাতওয়া দিবেন তা গ্রহণ করবে, এটাই সঠিক পন্থা। অপর দিকে মাযহাব হকু অথবা বাতিল যাই হোক তার পক্ষপাতিত্ব করা জাহিলী রীতি। যেমনভাবে আল্লাহ তা'আলা ইয়াহুদীদের ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন।