📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ অস্বীকার করা

📄 আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ অস্বীকার করা


আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করা。
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হচ্ছে তাওরাত, ইনজিল, যাবুর ও কুরআনে আল্লাহ তা'আলা তার রসূলগণের উপর যে আয়াত নাযিল করেছেন তা এবং অন্যান্য আসমানী কিতাব অস্বীকার করা। যারা এরূপ করবে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা ভীতি প্রদর্শন করে বলেন,
{إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ} [الأعراف: ٤٠]
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না (সূরা আরাফ ৭:৪০)।

، {وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَلِقَائِهِ أُولَئِكَ يَئِسُوا مِنْ رَحْمَتِي} [العنكبوت: ٢٣] ،
আর যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ ও তাঁর সাক্ষাৎ অস্বীকার করে তারা আমার রহমত হতে হতাশ হয় (সূরা আনকাবূত ২৯:২৩)।

বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাফিররা আল্লাহ তা'আলার আয়াতকে অস্বীকার করে। আর বিকৃত বুদ্ধি ও মিথ্যা সন্দেহ-সংশয়ের কারণে তারা আল্লাহর আয়াতের বিরোধিতা করে。
রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে যে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা আল্লাহর নিদর্শন। কেননা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অহীয়ে গাইরে মাতলু। কিছু প্রবঞ্চিত মানুষ ও শিক্ষকের চিন্তা-চেতনা এবং বিবেক-বুদ্ধি অনুকূল না হলে তারা কতিপয় ছহীহ হাদীছকে মিথ্যা মনে করে। যেমনভাবে বিবেক সম্পন্নরা মিথ্যা মনে করে। এটা মূলতঃ আল্লাহ তা'আলার আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর আয়াতের প্রতি বিশ্বাস রাখা, সত্যায়ন এবং আমল করা মুমিনের উপর আবশ্যক। কেননা আল্লাহর আয়াতকে বাতিল আক্রমন করতে পারে না।
আল্লাহ তা'আলার বাণী: {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: ٤٢]
বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না সামনে থেকে, না পেছন থেকে, এটি প্রজ্ঞাময়, স্বপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতারিত (সূরা হা-মিম সাজদা ৪১:৪২)।

আর সন্দেহ- সংশয়ের কাছেও যেতে পারে না。

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 আল্লাহর কতিপয় আয়াতকে অস্বীকার করা

📄 আল্লাহর কতিপয় আয়াতকে অস্বীকার করা


কতেক আয়াত অস্বীকার করা。
ব্যাখ্যা: আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে জাহিলদের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা যায়। তাদের কতিপয় আল্লাহর সকল আয়াতকে মিথ্যা মনে করে এবং আল্লাহর কোন কিতাব বিশ্বাস করে না। যেমনভাবে মুশরিকরা নাবী-রসূলগণকে বিশ্বাস করে না। আর চুড়ান্ত কথা হলো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কোন কিতাবই তারা বিশ্বাস করে না।
আর জাহিলদের কতিপয় কিছু আয়াতকে বিশ্বাস করে এবং কতেককে অস্বীকার করে। যেমন ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান। যারা কতিপয় আয়াত বিশ্বাস করে এবং কতিপয়কে বিশ্বাস করে না, তারা মূলতঃ তাদের মতই যারা সকল আয়াতকেই অস্বীকার করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الحياةِ} [البقرة: ٨٥]
তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখ আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ব্যতীত তাদের কী প্রতিদান হতে পারে? (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৮-৫)।

কেবল তাদের কুপ্রবৃত্তি অনুসারেই তারা বিশ্বাস করে। তাদের কু-প্রবৃত্তি বিরোধী যা মনে করে সেটাকেই তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। কিতাবের আংশিক অস্বীকার করার কারণে অবশিষ্ট আংশিক বিশ্বাস জাহিলদের কোন কাজে আসবে না। যদিও কুরআনের একটি আয়াত বা কথা হয়ে থাকে তা জাহিলদের কোন উপকারে আসবে না। জাহিলদের মধ্যে আশা'ইরা (أشاعرة) বলে, কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই সৃষ্ট অথবা কুরআনের অর্থ ব্যতীত শুধু শব্দাবলী সৃষ্ট। এটা কুরআনের প্রতি মিথ্যারোপ করা বুঝায়। আর জাহমিয়্যাহ (الجهمية) সম্প্রদায়ও বলে, কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই সৃষ্ট অথবা শুধু শব্দ সৃষ্ট ও অর্থ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত, এটাও কুফরী।
শুধু শব্দ অথবা অর্থের অনুসরণ অথবা অপব্যাখ্যা করলে বিপথগামী হবে। কেননা শব্দ ও অর্থের সমন্বয়ে কুরআন আল্লাহর কালাম। কুরআনের অক্ষর ও সমুদয় অর্থ মিলেই আল্লাহ তা'আলার বাণী হিসাবে গণ্য। অর্থ ছাড়া অক্ষর আল্লাহর কালাম নয়, তেমনই অক্ষর ছাড়া অর্থও আল্লাহর কালাম নয়।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 রসূলগণের উপর কিতাব নাযিল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা

📄 রসূলগণের উপর কিতাব নাযিল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা


জাহিলদের কথা: আল্লাহ তা'আলার বাণী: {مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: ٩١] আল্লাহ কোন মানুষের উপর কিছুই নাযিল করেননি (সূরা আন'আম ৬:৯১)।
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদীরা বলে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, {مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: ٩١] আল্লাহ কোন মানুষের উপর কিছুই নাযিল করেননি (সূরা আন'আম ৬:৯১)। এর অর্থ হলো নাবী-রসূলগণের রিসালাত-বার্তা ও অহীকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা। মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি হিংসা করার কথা বলে জাহিলরা যে প্ররোচনা দেয়, সে ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, {قُلْ مَنْ أَنْزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى نُوراً وَهُدَى لِلنَّاسِ} [الأنعام: ٩١]

বল, কে নাযিল করেছে সে কিতাব, যা মূসা নিয়ে এসেছে মানবজাতির জন্য আলো ও পথনির্দেশস্বরূপ? (সূরা আন'আম ৬:৯১)।

এটা হলো ইয়াহুদীদের বিরোধিতা। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে অভিশাপ দেন। মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হিংসা করতে তারা উদ্বুদ্ধ হয়। মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনের কারণে সকল রসূল, কিতাবসমূহকে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই। ভেবে দেখা দরকার যে, হিংসুকরা কি করেছিল? জাহমিয়্যাদের কথা হলো কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়নি। আবার কেউ বলে, সুন্নাহ অহী নয় বরং তা রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 কুরআনকে মানুষের কথা মনে করা

📄 কুরআনকে মানুষের কথা মনে করা


কুরআন সম্পর্কে জাহিলদের কথা: إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ} [المدثر : ২৫]
এটা তো মানুষের কথা মাত্র (সূরা মুদ্দাস্সির ৭৪:২৫)।
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা: জাহিলরা বলে, কুরআন মানুষের কথা। যেমন ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরাহ বলেছিল। অথচ কুরআন আল্লাহ তা'আলার কালাম। প্রকৃত অর্থে আল্লাহ তা'আলাই কুরআনে কথা বলেছেন অথবা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে তার নাবী মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর তিনি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। তাই সত্যিকার অর্থেই কুরআন আল্লাহর কালাম। আর অনেক আয়াতে কুরআনকে তিনি 'আল্লাহর কালাম' নামে অভিহিত করেছেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ الله } [التوبة: ৬] , এমনকি সে আল্লাহর কালাম শুনে (সূরা আত-তাওবা ৯:৬)।

يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلامَ اللَّهِ ... } [الفتح: ١٥] .
তারা আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করতে চায় (সূরা আল-ফাতাহ ৪৮:১৫)।

কুরআন আল্লাহর কালাম এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারীদের বিশ্বাস। আর মুশরিকরা জানে যে, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী নয়। কেননা, কুরআন যদি মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী হতো, তাহলে তারাও মুহাম্মাদের মত কুরআনের অনুরূপ কিছু রচনা করতে সক্ষম হতো। কিন্তু তা সম্ভব নয়, কেননা মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মতই একজন মানুষ। তাই কুরআন তার কথা হলে মুশরিকরাও তার মত করে বর্ণনা করতে পারতো। আর আল্লাহ তা'আলাও কুরআনের অনুরূপ কিছু রচনা করা অথবা দশটি অথবা একটি সূরা রচনা করে দেখাতে তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তারা কুরআনের অনুরূপ কিছুই রচনা করতে সক্ষম হয়নি। অথচ কুফরী, অবাধ্যতা এবং আল্লাহ ও তার রসূলকে কষ্ট দেয়ার লিপ্সা তাদের রয়েছে।
কুরআনের অনুরূপ সূরা রচনা করতে সক্ষম হলে তারা বিলম্ব করতো না। কিন্তু তারা অক্ষমতাই প্রকাশ করেছিল। তাই প্রমাণিত, কুরআন আল্লাহর কালাম, অন্যের কালাম নয় এবং জিবরাঈল ও মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কালামও নয়। তারা আল্লাহ তা'আলার পক্ষে তার কালামের আমানাত স্বরূপ প্রচারক মাত্র। প্রথমে যিনি কথা বলেন, তার দিকেই কথার সম্বন্ধ করা হয়, ঐ কথা প্রচারকের দিকে সম্বন্ধ করা হয় না। কাফিররা দম্ভ করে বলতো, কুরআন যাদু গ্রন্থ। তারা এটাও বলতো, আহলে কিতাবের আলেমদের নিকট থেকে মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন শিক্ষা করেছে। তারা বিভিন্ন রকমের কথা বার্তা বলতো। যা কুরআনের ব্যাপারে জাহিলদের মিথ্যা বলা ও দোষারোপ করাই প্রমাণ করে।
যারা বিশ্বাস করে যে, কুরআন মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কালাম আর তা মানুষের কথা। তা জাহিলদের কথার মতই। জাহমিয়্যাহ, মু'তাযিলা ও তাদের মত অন্য গোষ্ঠিদের মধ্যে কেউ বলে, কুরআন আল্লাহর কালাম নয়। তাদের কথা, কুরআনকে আল্লাহ তা'আলা জিবরাঈলের মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন অথবা তিনি লাওহে মাহফুযে তা সংরক্ষণ করেছেন। এরূপ আরো বাতিল-মিথ্যা কথা তারা বলে থাকে, যা জাহিলদের কথার মতই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00