📄 আল্লাহ তা'আলার নি'আমত অস্বীকার করা
আল্লাহ তা'আলার নি'আমতকে অন্যের দিকে সম্বন্ধ করা। যেমন আল্লাহর বাণী: {يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَهَا} [ النحل: ٨৩]
তারা আল্লাহর নি'আমত চিনে, তারপরও তারা তা অস্বীকার করে (সূরা নাহাল ১৬:৮-৩)।
ব্যাখ্যা: আল্লাহ ছাড়া কারো দিকে আল্লাহ তা'আলার নেআ'মতকে সম্বন্ধ করা শিরক ও কুফরী এবং এটা জাহিলী কর্মের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা জাহিলদের সম্পর্কে বলেন,
{يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ} [ النحل : ٨৩] তারা আল্লাহর নি'আমত চিনে, তারপরও তারা তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশই কাফির (সূরা আন নাহাল ১৬:৮-৩)।
বলা হয়, আয়াতের অর্থ হলো জাহিলরা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তিনি যে বার্তাবাহক তা জানে। অতঃপর অবাধ্যতা ও অহংকার বশতঃ তারা রসূল জ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অস্বীকার করে। অথচ তারা জানে এবং স্বীকার করে তিনি আল্লাহর রসূল। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ) [الأنعام: ٣٣]
আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তা তোমাকে দুঃখ দেয়। কিন্তু তারা তো তোমাকে অস্বীকার করে না, বরং যালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে (সূরা আল আন'আম ৬:৩৩)।
রসূল প্রেরণ আল্লাহ তা'আলার নি'আমত তারা তা জানে। তাই মানব জাতির বৃহৎ নি'আমত হলো রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর তারা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অস্বীকার করে এবং তার বিরোধিতায় লিপ্ত হয়। আয়াতের তাফসিরে এ কথাটিই উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় কথা: জাহিলরা তাদের উপর আল্লাহ তা'আলার নি'আমতকে অস্বীকার করে, যা আল্লাহ তা'আলা সূরা নাহলে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তারা নি'আমতকে অস্বীকার করে অর্থাৎ গাইরুল্লাহর দিকে নি'আমতকে সম্পৃক্ত করে। যোগ্যতা, শক্তি, প্রচেষ্টা ও কর্মের মাধ্যমে নি'আমত অর্জিত হয় বলে তারা মনে করে। যেমন ক্বারূন বলেছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي} [القصص: ۷۸]
সে বলল, আমি তো এ ধনভান্ডার প্রাপ্ত হয়েছি আমার কাছে থাকা জ্ঞান দ্বারা (সূরা ক্বাছাছ ২৮:৭৮)।
অর্থাৎ যোগ্যতা, দক্ষতা ও কর্মের মাধ্যমে আমি তা লাভ করেছি। সুতরাং সে আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত নি'আমতকে অস্বীকার করে। আর কারূন ছাড়াও অনেকে এরূপ (অস্বীকার করে)। তাই আল্লাহ তা'আলা উল্লেখ করেন যে, মানুষকে যখন তিনি নি'আমত দান করেন তখন সে বলে, এটা আমার। অর্থাৎ আমি এ নি'আমতের উপযুক্ত এবং এর অধিকার রাখি। এটা আল্লাহ তা'আলার জন্য নয়। যে কল্যাণ সে অর্জন করে তা নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে। আর স্বীকার করে না, এ কল্যাণ আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের কারণে অর্জন হয়েছে।
📄 আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ অস্বীকার করা
আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করা。
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হচ্ছে তাওরাত, ইনজিল, যাবুর ও কুরআনে আল্লাহ তা'আলা তার রসূলগণের উপর যে আয়াত নাযিল করেছেন তা এবং অন্যান্য আসমানী কিতাব অস্বীকার করা। যারা এরূপ করবে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা ভীতি প্রদর্শন করে বলেন,
{إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ} [الأعراف: ٤٠]
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না (সূরা আরাফ ৭:৪০)।
، {وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَلِقَائِهِ أُولَئِكَ يَئِسُوا مِنْ رَحْمَتِي} [العنكبوت: ٢٣] ،
আর যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ ও তাঁর সাক্ষাৎ অস্বীকার করে তারা আমার রহমত হতে হতাশ হয় (সূরা আনকাবূত ২৯:২৩)।
বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাফিররা আল্লাহ তা'আলার আয়াতকে অস্বীকার করে। আর বিকৃত বুদ্ধি ও মিথ্যা সন্দেহ-সংশয়ের কারণে তারা আল্লাহর আয়াতের বিরোধিতা করে。
রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে যে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা আল্লাহর নিদর্শন। কেননা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অহীয়ে গাইরে মাতলু। কিছু প্রবঞ্চিত মানুষ ও শিক্ষকের চিন্তা-চেতনা এবং বিবেক-বুদ্ধি অনুকূল না হলে তারা কতিপয় ছহীহ হাদীছকে মিথ্যা মনে করে। যেমনভাবে বিবেক সম্পন্নরা মিথ্যা মনে করে। এটা মূলতঃ আল্লাহ তা'আলার আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর আয়াতের প্রতি বিশ্বাস রাখা, সত্যায়ন এবং আমল করা মুমিনের উপর আবশ্যক। কেননা আল্লাহর আয়াতকে বাতিল আক্রমন করতে পারে না।
আল্লাহ তা'আলার বাণী: {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: ٤٢]
বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না সামনে থেকে, না পেছন থেকে, এটি প্রজ্ঞাময়, স্বপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতারিত (সূরা হা-মিম সাজদা ৪১:৪২)।
আর সন্দেহ- সংশয়ের কাছেও যেতে পারে না。
📄 আল্লাহর কতিপয় আয়াতকে অস্বীকার করা
কতেক আয়াত অস্বীকার করা。
ব্যাখ্যা: আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে জাহিলদের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা যায়। তাদের কতিপয় আল্লাহর সকল আয়াতকে মিথ্যা মনে করে এবং আল্লাহর কোন কিতাব বিশ্বাস করে না। যেমনভাবে মুশরিকরা নাবী-রসূলগণকে বিশ্বাস করে না। আর চুড়ান্ত কথা হলো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কোন কিতাবই তারা বিশ্বাস করে না।
আর জাহিলদের কতিপয় কিছু আয়াতকে বিশ্বাস করে এবং কতেককে অস্বীকার করে। যেমন ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান। যারা কতিপয় আয়াত বিশ্বাস করে এবং কতিপয়কে বিশ্বাস করে না, তারা মূলতঃ তাদের মতই যারা সকল আয়াতকেই অস্বীকার করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الحياةِ} [البقرة: ٨٥]
তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখ আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ব্যতীত তাদের কী প্রতিদান হতে পারে? (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৮-৫)।
কেবল তাদের কুপ্রবৃত্তি অনুসারেই তারা বিশ্বাস করে। তাদের কু-প্রবৃত্তি বিরোধী যা মনে করে সেটাকেই তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। কিতাবের আংশিক অস্বীকার করার কারণে অবশিষ্ট আংশিক বিশ্বাস জাহিলদের কোন কাজে আসবে না। যদিও কুরআনের একটি আয়াত বা কথা হয়ে থাকে তা জাহিলদের কোন উপকারে আসবে না। জাহিলদের মধ্যে আশা'ইরা (أشاعرة) বলে, কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই সৃষ্ট অথবা কুরআনের অর্থ ব্যতীত শুধু শব্দাবলী সৃষ্ট। এটা কুরআনের প্রতি মিথ্যারোপ করা বুঝায়। আর জাহমিয়্যাহ (الجهمية) সম্প্রদায়ও বলে, কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই সৃষ্ট অথবা শুধু শব্দ সৃষ্ট ও অর্থ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত, এটাও কুফরী।
শুধু শব্দ অথবা অর্থের অনুসরণ অথবা অপব্যাখ্যা করলে বিপথগামী হবে। কেননা শব্দ ও অর্থের সমন্বয়ে কুরআন আল্লাহর কালাম। কুরআনের অক্ষর ও সমুদয় অর্থ মিলেই আল্লাহ তা'আলার বাণী হিসাবে গণ্য। অর্থ ছাড়া অক্ষর আল্লাহর কালাম নয়, তেমনই অক্ষর ছাড়া অর্থও আল্লাহর কালাম নয়।
📄 রসূলগণের উপর কিতাব নাযিল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা
জাহিলদের কথা: আল্লাহ তা'আলার বাণী: {مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: ٩١] আল্লাহ কোন মানুষের উপর কিছুই নাযিল করেননি (সূরা আন'আম ৬:৯১)।
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদীরা বলে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, {مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: ٩١] আল্লাহ কোন মানুষের উপর কিছুই নাযিল করেননি (সূরা আন'আম ৬:৯১)। এর অর্থ হলো নাবী-রসূলগণের রিসালাত-বার্তা ও অহীকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা। মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি হিংসা করার কথা বলে জাহিলরা যে প্ররোচনা দেয়, সে ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, {قُلْ مَنْ أَنْزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى نُوراً وَهُدَى لِلنَّاسِ} [الأنعام: ٩١]
বল, কে নাযিল করেছে সে কিতাব, যা মূসা নিয়ে এসেছে মানবজাতির জন্য আলো ও পথনির্দেশস্বরূপ? (সূরা আন'আম ৬:৯১)।
এটা হলো ইয়াহুদীদের বিরোধিতা। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে অভিশাপ দেন। মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হিংসা করতে তারা উদ্বুদ্ধ হয়। মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনের কারণে সকল রসূল, কিতাবসমূহকে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই। ভেবে দেখা দরকার যে, হিংসুকরা কি করেছিল? জাহমিয়্যাদের কথা হলো কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়নি। আবার কেউ বলে, সুন্নাহ অহী নয় বরং তা রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা।