📄 আল্লাহ তা'আলার শরী'আত ও তাক্বদীরের মাঝে বৈপরীত্যের অভিযোগ করা
ভাগ্যের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার শরী'আতের বিরোধিতা করা。
ব্যাখ্যা: এ বিষয়টিও ভাগ্য সম্পর্কিত। কেননা ভাগ্যের মাধ্যমে যারা আল্লাহর শরী'আতের বিরোধিতা করে বলে, আল্লাহ তা'আলা কুফরী ও ঈমানকে কিভাবে নির্ধারণ করতে পারেন? অতঃপর আল্লাহর আদেশাবলী পালন ও নিষেধসমূহ বর্জনকে বান্দার জন্য তিনি বিধিবদ্ধ করে দেন অথচ সকল বিষয় ফায়ছালা ও নির্ধারণ হওয়ার পর আদেশ-নিষেধ পালন করায় কোন উপকার থাকে না। মানুষ কি এরূপ ভাগ্যের উপর নির্ভর করবে? এটি জাহিলদের একটি মারাত্মক সমস্যা।
যারা ধারণা করে, শরী'আত ও ভাগ্যের মাঝে বৈপরীত্য আছে তাদের প্রত্যেকেই কিয়ামত পর্যন্ত এ বিতর্কের পদ্ধতিই অনুসরণ করবে। এটিই হলো বাতিল পদ্ধতি। শরী'আত ও ভাগ্যের মাঝে কখনোই বৈপরীত্য নেই। আল্লাহ তা'আলা শিরক, পাপ এবং কুফরী নির্ধারণ করেছেন এবং তা নিষেধও করেছেন। আর ঈমান, প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং সংশোধন হওয়াকে তিনি বিধিবদ্ধ করেছেন। শরী'আত ও ভাগ্যের মাঝে কোন বিরোধ নেই। কেননা বান্দা স্বাধীনভাবে তার উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা অনুযায়ী এসব কর্ম করে। তাই কর্ম বান্দার দিকেই সম্পৃক্ত হবে। আর একারণেই বান্দার পাপের কারণে তাকে শাস্তি দেয়া হবে এবং আনুগত্যের কারণে ছওয়াব দেয়া হবে। যদিও ভাগ্য আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়, তবুও বান্দার কর্মের উপর তাকে প্রতিদান দেয়া হয়, ভাগ্যের উপর নয়। কেননা, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাহাবীদের উদ্দেশে বর্ণনা করে বলেন,
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَمَقْعَدُهُ مَعْلُومٌ مِنَ الْجَنَّةِ أَوِ النَّارِ" قَالُوا: يَا رَسُولَ الله، أَلَا نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا وَنَتْرُكُ الْعَمَلَ؟ قَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "اعْمَلُوا، فَكُلٌّ مُيَسِّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ
তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। একথা শুনে সকলেই বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে কি আমরা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকবো? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা আমল করতে থাক। কারণ যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমল সহজ করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেন,
{فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى وَأَمَّا مَنْ bَخِلَ وَاسْتَغْنَى وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى} [الليل: ٥-١٠]
সুতরাং যে দান করেছে এবং তাকওয়াহ অবলম্বন করেছে এবং উত্তম কে সত্য বলে বিশ্বাস স্থাপন করেছে আমি তার জন্যে সুগম করে দিব সহজ পথ। আর যে কার্পন্য করেছে এবং নিজেকে স্বয়ং সম্পূর্ণ মনে করে, এবং উত্তম কে মিথ্যা বলে মনে করেছে, আমি তার জন্যে সুগম করে দিব কঠিন পথ (সূরা লাইল ৯২:৫-১০)।
নেক বান্দা ভাল আমল করে এবং মন্দ পরিহার করে। আর ভাগ্য আল্লাহ তা'আলার একটি গোপনীয় বিষয়। এ বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক না করাই ভাল। কারণ তাতে লাভ হবে না এবং এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছা যাবে না।
ভাগ্য সংক্রান্ত বিষয়ের সার-সংক্ষেপ: উদাহরণস্বরূপ, ভাগ্য বিষয়ে মানুষ চার ভাগে বিভক্ত:
প্রথম: জাবরিয়্যাগণ (الجبرية) ভাগ্যকে মেনে নেয় ও শরী'আতকে অস্বীকার করে।
দ্বিতীয়: কাদরিয়্যাগণ (القدرية) শরী'আত মেনে নেয় এবং ভাগ্যকে অস্বীকার করে।
তৃতীয়: মুশরিকরা (المشركون) শরী'আত ও ভাগ্যকে সাব্যস্ত করে এবং তারা মনে করে যে উভয়ের মাঝে বৈপরীত্য আছে।
চতুর্থ: আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের (أهل السنة والجماعة) অনুসারীরা শরী'আত ও ভাগ্য উভয়টি স্বীকার করে এবং তারা উভয়টির মাঝে বৈপরীত্য অস্বীকার করে。
টিকাঃ
৪৪. জ্বহীহ বুখারী, হা/৪৯৪৫, ৪৯৪৭, জ্বহীহ মুসলিম, হা/২৬৪৭。
📄 ঘটমান ঘটনাকে সময় ও যুগের দিকে সম্পর্কিত করা এবং তাকে গালি দেয়া
যুগকে গালি দেয়া সম্পর্কে জাহিলদের কথা, {وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ} [الجاثية: ٢٤] . আর কালই কেবল আমাদেরকে ধ্বংস করে (সূরা জাছিয়া ৪৫:২৪)।
ব্যাখ্যা: নাস্তিকরা (الدهرية) ঘটমান অবস্থাকে যুগের সাথে সম্পৃক্ত করে। জাহিলদের নিকট কোন বিষয় অপছন্দ হলে তারা সেটাকে যুগের দিকে সম্পৃক্ত করে। আর পছন্দ না হওয়ার কারণে যুগকে তিরস্কার করে, অথচ সকল বিষয়-বস্তু মহান স্রষ্টার দিকেই সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। আর যুগ হলো সময়, যা আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টি সমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর যুগের কোন পরিবর্তন নেই। চলমান অবস্থাকে যারা যুগের সাথে সম্পৃক্ত করে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, { وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ} [الجاثية: ٢٤ আর তারা বলে, 'দুনিয়ার জীবনই আমাদের একমাত্র জীবন। আমরা মরি ও বাঁচি এখানেই। আর কালই কেবল আমাদেরকে ধ্বংস করে (সূরা জাছিয়া ৪৫:২৪)।
আর গালির মাধ্যমে আখেরাত ও পুনরুত্থানকে অস্বীকার হয়। }نموتُ وَنَحْيًا আমরা মরবো ও জীবিত হবো। অর্থাৎ মানুষ মরে ও জীবিত থাকে। আর জাহিলরা বলে, দয়াকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে আর জমিনকে গ্রাস করা হয়েছে। আর তারা বলে, এটাই জীবনের স্বভাব। }وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ{ যুগই আমাদের ধ্বংস করে দিল।
জাহিলরা ধ্বংস হওয়াকে যুগের সাথে সম্পৃক্ত করে তাই দিন-রাত্রির অতিক্রম তাদের নিকট মৃত্যুর কারণ বলে গণ্য হয়। এখানে কোন নির্দিষ্ট কাল এবং নির্দিষ্ট ফেরেস্তাও নেই যে, যুগের সময় শেষ হলে প্রাণ হরণ করবে। নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুগকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, "لا تسبوا الدهر، فإن الله هو الدهر" তোমরা যুগকে গালি দিও না। কেননা আল্লাহ তা'আলাই যুগ।
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলাই যুগের স্রষ্টা। আর যুগের মাঝে যা কিছু বিরাজমান তা আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক নির্ধারিত। হাদীছে কুদছিতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, "يؤذيني ابن آدم، يسب الدهر، وأنا الدهر، بيدي الأمر أقلب الليل والنهار" আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়। তারা যুগকে গালি দেয়; অথচ আমিই যুগ। আমার হাতেই সকল ক্ষমতা; রাত ও দিন আমিই পরিবর্তন করি।
আর যুগকে গালি দেয়া হলে মূলতঃ যুগের স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলাকেই গালি দেয়া হয়। এভাবেই আদম সন্তান পবিত্র মহান রবকে কষ্ট দেয়। কেননা, যুগের তিরস্কার আল্লাহর উপর আরোপিত হয়। কারণ আল্লাহ তা'আলাই সকল বিষয়ের পরিবর্তনকারী আর সময়, বিপদাপদ এবং সবকিছু নির্ধারণকারী। যুগ আল্লাহ তা'আলারই সৃষ্টি। গালি ও তিরস্কার থেকে বিরত থাকা মুসলিমদের উপর আবশ্যক। মুসলিমরা কোন বিপদের সম্মুখ হলে তারা নিজেদের ব্যাপারে ভেবে দেখবে আর তাদের পাপকে তারা স্বীকার করে নেবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ} [الشورى: ٣٠]
আর তোমাদের প্রতি যে মুসীবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃত কর্মেরই ফল। আর তোমাদের অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন (সূরা শুরা ৪২:৩০)। মানুষের উচিত নিজেদেরকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করা, যুগকে নয়。
টিকাঃ
৪৫. ইমাম বুখারী কিতাবুল আদাবে জ্বহীহ সূত্রে "باب "لا تسبوا الدهر নামক পরিচ্ছেদ বর্ণনা করেছেন। ছহীহ মুসলিম হা/২২৪৬।
৪৬. ছহীহ বুখারী হা/৪৮২৬, ৬১৮১,৭৪৯১ ছহীহ মুসলিম হা/ ২২৪৬。
📄 আল্লাহ তা'আলার নি'আমত অস্বীকার করা
আল্লাহ তা'আলার নি'আমতকে অন্যের দিকে সম্বন্ধ করা। যেমন আল্লাহর বাণী: {يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَهَا} [ النحل: ٨৩]
তারা আল্লাহর নি'আমত চিনে, তারপরও তারা তা অস্বীকার করে (সূরা নাহাল ১৬:৮-৩)।
ব্যাখ্যা: আল্লাহ ছাড়া কারো দিকে আল্লাহ তা'আলার নেআ'মতকে সম্বন্ধ করা শিরক ও কুফরী এবং এটা জাহিলী কর্মের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা জাহিলদের সম্পর্কে বলেন,
{يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ} [ النحل : ٨৩] তারা আল্লাহর নি'আমত চিনে, তারপরও তারা তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশই কাফির (সূরা আন নাহাল ১৬:৮-৩)।
বলা হয়, আয়াতের অর্থ হলো জাহিলরা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তিনি যে বার্তাবাহক তা জানে। অতঃপর অবাধ্যতা ও অহংকার বশতঃ তারা রসূল জ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অস্বীকার করে। অথচ তারা জানে এবং স্বীকার করে তিনি আল্লাহর রসূল। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ) [الأنعام: ٣٣]
আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তা তোমাকে দুঃখ দেয়। কিন্তু তারা তো তোমাকে অস্বীকার করে না, বরং যালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে (সূরা আল আন'আম ৬:৩৩)।
রসূল প্রেরণ আল্লাহ তা'আলার নি'আমত তারা তা জানে। তাই মানব জাতির বৃহৎ নি'আমত হলো রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর তারা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অস্বীকার করে এবং তার বিরোধিতায় লিপ্ত হয়। আয়াতের তাফসিরে এ কথাটিই উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় কথা: জাহিলরা তাদের উপর আল্লাহ তা'আলার নি'আমতকে অস্বীকার করে, যা আল্লাহ তা'আলা সূরা নাহলে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তারা নি'আমতকে অস্বীকার করে অর্থাৎ গাইরুল্লাহর দিকে নি'আমতকে সম্পৃক্ত করে। যোগ্যতা, শক্তি, প্রচেষ্টা ও কর্মের মাধ্যমে নি'আমত অর্জিত হয় বলে তারা মনে করে। যেমন ক্বারূন বলেছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي} [القصص: ۷۸]
সে বলল, আমি তো এ ধনভান্ডার প্রাপ্ত হয়েছি আমার কাছে থাকা জ্ঞান দ্বারা (সূরা ক্বাছাছ ২৮:৭৮)।
অর্থাৎ যোগ্যতা, দক্ষতা ও কর্মের মাধ্যমে আমি তা লাভ করেছি। সুতরাং সে আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত নি'আমতকে অস্বীকার করে। আর কারূন ছাড়াও অনেকে এরূপ (অস্বীকার করে)। তাই আল্লাহ তা'আলা উল্লেখ করেন যে, মানুষকে যখন তিনি নি'আমত দান করেন তখন সে বলে, এটা আমার। অর্থাৎ আমি এ নি'আমতের উপযুক্ত এবং এর অধিকার রাখি। এটা আল্লাহ তা'আলার জন্য নয়। যে কল্যাণ সে অর্জন করে তা নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে। আর স্বীকার করে না, এ কল্যাণ আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের কারণে অর্জন হয়েছে।
📄 আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ অস্বীকার করা
আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করা。
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হচ্ছে তাওরাত, ইনজিল, যাবুর ও কুরআনে আল্লাহ তা'আলা তার রসূলগণের উপর যে আয়াত নাযিল করেছেন তা এবং অন্যান্য আসমানী কিতাব অস্বীকার করা। যারা এরূপ করবে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা ভীতি প্রদর্শন করে বলেন,
{إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ} [الأعراف: ٤٠]
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না (সূরা আরাফ ৭:৪০)।
، {وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَلِقَائِهِ أُولَئِكَ يَئِسُوا مِنْ رَحْمَتِي} [العنكبوت: ٢٣] ،
আর যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ ও তাঁর সাক্ষাৎ অস্বীকার করে তারা আমার রহমত হতে হতাশ হয় (সূরা আনকাবূত ২৯:২৩)।
বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাফিররা আল্লাহ তা'আলার আয়াতকে অস্বীকার করে। আর বিকৃত বুদ্ধি ও মিথ্যা সন্দেহ-সংশয়ের কারণে তারা আল্লাহর আয়াতের বিরোধিতা করে。
রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে যে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা আল্লাহর নিদর্শন। কেননা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অহীয়ে গাইরে মাতলু। কিছু প্রবঞ্চিত মানুষ ও শিক্ষকের চিন্তা-চেতনা এবং বিবেক-বুদ্ধি অনুকূল না হলে তারা কতিপয় ছহীহ হাদীছকে মিথ্যা মনে করে। যেমনভাবে বিবেক সম্পন্নরা মিথ্যা মনে করে। এটা মূলতঃ আল্লাহ তা'আলার আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর আয়াতের প্রতি বিশ্বাস রাখা, সত্যায়ন এবং আমল করা মুমিনের উপর আবশ্যক। কেননা আল্লাহর আয়াতকে বাতিল আক্রমন করতে পারে না।
আল্লাহ তা'আলার বাণী: {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: ٤٢]
বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না সামনে থেকে, না পেছন থেকে, এটি প্রজ্ঞাময়, স্বপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতারিত (সূরা হা-মিম সাজদা ৪১:৪২)।
আর সন্দেহ- সংশয়ের কাছেও যেতে পারে না。