📄 আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ অবিশ্বাস করা
আল্লাহ তা'আলার নাম সমূহ অবিশ্বাস করার ব্যাপারে তিনি বলেন, { وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ} [الرعد: ٣٠] তারা রহমানকে অস্বীকার করে (সূরা রা'দ ১৩:৩০)।
ব্যাখ্যা: জাহিলরা আল্লাহ তা'আলার গুণাবলী ও তার নাম সমূহকে অবিশ্বাস করে। তাই এগুলোকে তারা প্রত্যাখ্যান করে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ} তারা রহমানকে অস্বীকার করে (সূরা রা'দ ১৩:৩০)। )الرحمن( আর-রহমান শব্দটি আল্লাহ তা'আলার নাম সমূহের একটি।
أن الرسول صلى الله عليه وسلم لما أراد أن يكتب الصلح بينه وبين المشركين في الحديبية فجاء سهيل بن عمرو فقال هات اكتب بيننا وبينكم كتاباً. فدعا النبي صلى الله عليه وسلم الكاتب، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "بسم الله الرحمن الرحيم"، قال سهيل: أما الرحمن فوالله ما أدري ما هو
এজন্য রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিকদের সাথে হুদাইবিয়ার সন্ধি লিখতে চাইলে সুহাইল ইবনে আমর এসে বললো, আসেন আমরা উভয়ের মাঝে একটি সন্ধিনামা লিখি। অতঃপর লেখককে ডেকে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম "بسم الله الرحمن الرحيم" লিখতে বললেন, সুহাইল বললো, আল্লাহর কসম! 'রহমান' কে আমি তা জানি না।
তারা বললো, ইয়ামামার রহমান অর্থাৎ মুসাইলামাহ ছাড়া আমরা কোন রহমানকে চিনি না। কেননা, মুসাইলামাকে রহমান নামে ডাকা হতো। এমর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ كَذَلِكَ أَرْسَلْنَاكَ فِي أُمَّةٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهَا أُمَمٌ لِتَبْلُوَ عَلَيْهِمُ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ قُلْ هُوَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ} [الرعد: ٣٠]
এমনিভাবে আমি তোমাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির নিকট, যার পূর্বে অনেক জাতি গত হয়েছে, যেন আমি তোমার প্রতি যে ওহী প্রেরণ করেছি, তা তাদের নিকট তিলাওয়াত কর। অথচ তারা রহমানকে অস্বীকার করে। বল, তিনি আমার রব, তিনি ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন (সূরা রা'দ ১৩:৩০)।
এমনিভাবে নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় জ্বলাত আদায় করতেন আর (يا الله) হে আল্লাহ! (يا رحمن) হে দয়াময়! এভাবে আল্লাহকে ডাকতেন। আর মুশরিকরা বলতো, এ লোকের দিকে খেয়াল কর, মনে হয় সে এক উপাস্যের ইবাদত করে। অথচ সে (يا الله) হে আল্লাহ! (يا رحمن) হে দয়াময়! বলে ডাকে, এতে দু' উপাস্যের ইবাদত করা হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيَّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ} [الإسراء: ١١٠]
বল, 'তোমরা '(তোমাদের রবকে) আল্লাহ' নামে ডাক অথবা 'রাহমান' নামে ডাক, যে নামেই তোমরা ডাক না কেন, তার জন্যই তো রয়েছে সুন্দর নামসমূহ (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:১১০)।
আল্লাহ তা'আলার অনেক নাম রয়েছে। নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ তা প্রমাণিত নয়। আল্লাহর নামগুলো মহানত্বের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
মোদ্দাকথা, মুশরিকরা আল্লাহর নাম সমূহকে অস্বীকার করে। ভ্রষ্ট দলের মধ্যে জাহমিয়ারা (الجهمية) আল্লাহর নাম সমূহকে প্রত্যাখ্যান করে অথবা মু'তাযিলারা (المعتزلة) নামের অর্থ প্রত্যাখ্যান করে এবং নামের শব্দগুলোকে সমর্থন করে অথবা আশআরী (الأشاعرة) সম্প্রদায় কতিপয় গুণকে অস্বীকার করে এবং কতিপয়কে সমর্থন করে। জাহিলদের উত্তরাধিকারী হওয়ার কারণে তারা এসব করে অথচ আল্লাহ তা'আলা তার নামসমূহকে সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِمَا} [الأعراف: ১৮০]
আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাকে সেসব নামের মাধ্যমে ডাক (সূরা আল আরাফ ৭:১৮০)। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [طه: ৮]
আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন (সত্য) ইলাহ নেই; সুন্দর নামসমূহ তাঁরই (সূরা ত্বা-হা ২০:৮)। তিনি আরো বলেন, {لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى}
সুন্দর নামসমূহ তারই (সূরা ত্বা-হা ২০:৮)।
নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك أو علمته أحداً من خلقك، أو أنزلته في كتابك أو استأثرت به في علم الغيب عندك
আমি তোমার প্রত্যেক নামের মাধ্যমে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। যে নাম তুমি নিজেই রেখেছ অথবা সৃষ্টির কাউকে তা শিক্ষা দিয়েছে অথবা তোমার কিতাবে ঐ নাম সমূহ বর্ণনা করেছ অথবা যে নামের মাধ্যমে তোমার অদৃশ্য জ্ঞানের কর্তৃত্ব রয়েছে।
সুতরাং জানা গেল আল্লাহ তা'আলার অনেক নাম রয়েছে। পবিত্র কুরআনে তার অনেক নাম তিনি বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ، الْعَزِيزُ، الْحَكِيمُ، الرَّؤُوفُ التَّوَّابُ، الْغَفَّارُ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সূরা হাশরের শেষে আল্লাহ তা'আলা বলেন, {هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الحشر: ٢٢،٢٤]
তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করুণাময়, দয়ালু। তিনিই আল্লাহ; যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, মহাপবিত্র, ত্রুটিমুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত, তারা যা শরিক করে তা হতে পবিত্র মহান। তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী; তার রয়েছে সুন্দর নামসমূহ; (সূরা আল হাশর ৫৯:২২-২৪)।
আল্লাহ তা'আলার নাম সমূহের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছুহীহ হাদীছে বলেন,
"إن لله تسعة وتسعين اسماً، من أحصاها دخل الجنة"
আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে তা মুখস্থ করবে সে জান্নাত লাভ করবে।
আল্লাহ তা'আলার নাম সমূহের অনেক দলীল-প্রমাণ রয়েছে। যে আল্লাহর নাম বিশ্বাস করে না সে আল্লাহকেও বিশ্বাস করে না。
টিকাঃ
৩৮. জ্বহীহ বুখারী ২৭৩১-২৭৩২।
৩৯. ছহীহ মুসনাদ আহমাদ, ১/৩৯১ হাকীম, হা/১৯২০; ছহীহ ইবনে হিব্বان, হা/৯৬৮।
৪০. ছহীহ বুখারী, হা/২৭৩৬, ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৭৭。
📄 মহান পবিত্র রবকে অস্বীকার করা
ফেরআউনের সম্পদায় রবকে অস্তিত্বহীন মনে করতো。
ব্যাখ্যা: (التعطيل) আত-তা'তিল তথা শূন্যকরণ এর প্রকৃত অর্থ হলো কোন জিনিসকে মুক্ত করা। যেমন বলা হয়, عطل المكان (আত্তালাল মাকান) অর্থাৎ সে জায়গাটি খালি করেছে। আরো বলা হয়, امرأة عاطل (ইমরাতুন 'আতিল) তথা মুক্ত মহিলা অর্থাৎ গয়না মুক্ত মহিলা। সুতরাং (التعطيل) শূন্য করণ অর্থ হলো কোন কিছু হতে কোন জিনিস বিলুপ্ত করা। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো স্রষ্টার অস্তিত্বকে বাতিল জ্ঞান করা। এ জগতের স্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। যেমন জাহিলরা বলে, এ জগতকে কেবল প্রকৃতির ফলাফল হিসাবে পাওয়া যায়। আর আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকারকারী নাটেরগুরু ফেরআউন বলতো,
{يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي} [القصص: ٣٨] হে পরিষদবর্গ, আমি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ আছে বলে আমি জানি না (সূরা ক্বাছাছ ২৮:৩৮)।
আর এটি অহংকার ও ধৃষ্টতার অন্তর্ভুক্ত। অন্য আয়াতে আছে, সে বলতো, {يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحاً لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِباً} [غافر: ٣٦, ৩৭] (ফের'আউন বলল), 'হে হামান, আমার জন্য একটি উঁচু ইমারত বানাও যাতে আমি অবলম্বন পাই। আসমানে আরোহণের অবলম্বন, যাতে আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই, আর আমি কেবল তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।' আর এভাবে ফের'আউনের কাছে তার মন্দ কাজ শোভিত করে দেয়া হয়েছিল এবং তাকে বাঁধা দেয়া হয়েছিল সৎপথ থেকে। আর ফের'আউনের ষড়যন্ত্র কেবল ব্যর্থই হয়েছিল (সূরা মুমিন ৪০: ৩৬,৩৭)।
{فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ فَاجْعَلْ لِي صَرْحاً لَعَلِّي أَطَّلِعُ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ مِن الْكَاذِبِينَ} [القصص: ৩৮]
অতএব হে হামান, আমার জন্য তুমি ইট পোড়াও, তারপর আমার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরী কর। যাতে আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই। আর নিশ্চয় আমি মনে করি সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত (সূরা আল ক্বাছাছ ২৮:৩৮)।
এটাই হলো অস্তিত্বহীনতার কথা যেটাকে স্বভাব ও বিবেক-বুদ্ধি মিথ্যা বলে প্রমাণ করে। কেননা স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টির অস্তিত্ব সম্ভব নয়। কর্তা ছাড়া কর্ম কখনোই সংঘটিত হয় না। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَلْ لَا يُوقِنُونَ} [الطور : ৩৫,৩৬]
তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারাই স্রষ্টা? তারা কি আসমান ও যমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না (সূরা আত তুর ৫২:৩৫, ৩৬)।
কোন কিছু সৃষ্টি করার ব্যাপারে জাহিলদের কোন জবাব নেই। তারা কোন কিছুকে সৃষ্টি করতে পারে না এবং নিজেকেও নয়। স্রষ্টা ব্যতীত তারা অস্তিত্বহীন। কাজেই একজন স্রষ্টা থাকা আবশ্যক। এখানে যখন স্রষ্টার অস্তিত্ব বিদ্যমান, তাহলে কি তারাই এই স্রষ্টা? তারা কি নিজেদেরকে সৃষ্টি করতে পেরেছে? তাদের মূর্তিগুলো কি আসমান ও জমিনের কোন কিছু সৃষ্টি করতে পেরেছে? কখনোই পারেনি। স্বভাব ও বিবেক-বুদ্ধি এ কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।
📄 আল্লাহকে অপূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিপূর্ণ গুণে গুণান্বিত করা
আল্লাহ তা'আলার প্রতি অপূর্ণাঙ্গতার সম্বন্ধ করা। যেমন, সন্তান গ্রহণ, প্রয়োজন অনুভব ও উপভোগ করা। অথচ এসব গুণাবলীর কতিপয় হতে পাদ্রীকেও পবিত্র মনে করা হয়。
ব্যাখ্যা: পূর্ণাঙ্গতার বিপরীত হলো অপূর্ণাঙ্গতা। আল্লাহ তা'আলার প্রতি অপূর্ণাঙ্গতার সম্বন্ধ করা বলতে তার প্রভৃত্বের উপর যুলুম করা। যেমন, তার প্রতি সন্তানের সম্বোধন করা। কেননা, পিতার সন্তান প্রয়োজন হয়। আর সন্তান পিতার সাদৃশ্য হয়। ইয়াহুদীরা বলে, উযাইর আল্লাহর পুত্র। আর খ্রিষ্টানরা বলে, ঈসা মাসিহ আল্লাহর পুত্র। অপরদিকে, আরবের মুশরিকরা বলে, ফেরেস্তামন্ডলী আল্লাহর কন্যা। অথচ খ্রিষ্টানরা তাদের পাদ্রীদেরকে স্ত্রী-সন্তানাদী থেকে পবিত্র মনে করে। তাদের দাবী অনুযায়ী এটা অপূর্ণাঙ্গতা হিসাবে গণ্য। এ সত্ত্বেও তারা আল্লাহ তা'আলাকে পবিত্র মনে করে না, অথচ তাদের পন্ডিতদেরকে তারা পবিত্র বলে ঘোষণা দেয়, এটা কেমন! অনুরূপভাবে আরব জাতি কন্যা সন্তানকে অপছন্দ করতো অথচ আল্লাহ তা'আলার দিকে কন্যা সন্তানকে তারা সম্পৃক্ত করতো। তারা নিজে যা অপছন্দ করতো তা আল্লাহর দিকে আরোপ করে সেটাকেই দোষ-ত্রুটি ও অপূর্ণাঙ্গতা বলে আখ্যা দিতো।
{وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ الْبَنَاتِ سُبْحَانَهُ وَلَهُمْ مَا يَشْتَهُونَ} [النحل: ٥٧]
আর তারা আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান নির্দিষ্ট করে। তিনি পবিত্র এবং নিজেদের জন্য তা (নির্দিষ্ট করে) যা তারা পছন্দ করে (সূরা আন নাহাল ১৬: ৫৭)।
এ সম্পর্কিত একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়, একজন মুসলিম আলেম রোমের (পারস্যের) এক রাজার উদ্দেশ্যে বার্তা নিয়ে রওনা হলেন। অতঃপর তার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, রাজা মহোদয়! আপনার স্ত্রী-সন্তানাদী কেমন আছে? এ কথা শুনে সেখানে উপস্থিত সকলেই এ মর্মে রাগান্বিত হলো যে, এ আলেম কিভাবে তাদের রাজাকে স্ত্রী-সন্তানাদী দ্বারা গুণান্বিত করছে? অতঃপর আলেম তাদেরকে বললেন, আপনাদের রাজাকে আপনারা স্ত্রী-সন্তানাদী থেকে কলুষ মুক্ত মনে করেন, অথচ আল্লাহ তা'আলার দিকে তাদেরকে সম্পৃক্ত করেন?! আল্লাহ তা'আলাকে আপনারা পবিত্র মনে করেন না। আলেম এ ব্যাপারে তাদেরকে বুঝালেন, তর্ক-বিতর্ক করলেন ও অত্যাধিক লজ্জা দিলেন।
📄 মালিকানায় শিরক
মালিকানায় শিরক বিদ্যমান; যেমন অগ্নিপূজকদের কথা-কর্ম。
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা হচ্ছে মালিকানায় শিরক করা। যেমন অগ্নিপূজকদের কথা। আর অগ্নিপূজক হলো পারস্যের একটি দল যারা অগ্নিপূজা করে এবং বলে, এ জগতের দু'জন স্রষ্টা আছে, তা হলো আলো ও অন্ধকার। তাদের ধারণা, আলো কল্যাণ সৃষ্টি করে আর অন্ধকার সৃষ্টি করে অকল্যাণ। এ জন্য তাদেরকে ছানাবিয়্যাহ নামে ডাকা হয়। এটা রুবুবিয়্যায় (প্রভুত্বে) শিরক। তাদের রীতি: মুহরিমদের বিবাহ করা বৈধ, ধন-সম্পদ ও স্ত্রীদের মালিকানায় অংশিদার হওয়া বৈধ।
তারা কারো জন্য নির্দিষ্ট মালিকানা মেনে নেয় না। তাই স্ত্রী ও ধন-সম্পদে তারা অন্যদেরকে অংশিদার করতো। এর উপর ভিত্তি করেই বর্তমানে সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছে। এটা দীন ও স্বভাবকে বিনষ্ট করার বাতিলপন্থা। সুতরাং একজনই জগতের স্রষ্টা, তিনি একক, তিনি অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি, তাকে জন্ম দেয়া হয়নি এবং তার সমকক্ষ কোন কিছু নেই। তিনি একক মালিকানাকে বৈধ করেছেন এবং মুহরিমকে বিবাহ করা হারাম করেছেন。