📄 তাদের স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতির মধ্যে বৈপরীত্য
জাহিলরা তাদের দীনের অনুমোদিত বিষয় অস্বীকার করে। যেমন তারা হজ্জের ক্ষেত্রে করে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ} [البقرة: ١٣٠] আর যে নিজকে নির্বোধ বানিয়েছে, সে ব্যতীত কে ইবরাহীমের আদর্শ থেকে বিমুখ হতে পারে? (সূরা আল বাক্বারাহ ২:১৩০)।
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদীরা দাবি করে যে, তারা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর আদর্শের উপরই রয়েছে। অথচ যখন কিবলা পরিবর্তন করে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর দ্বারা নির্মিত কা'বাকে কিবলা নির্ধারণ করা হলো ইয়াহুদীরা তখন চুড়ান্তভাবে কা'বাকে অস্বীকার করলো। আমরা এ থেকে আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কেননা, কা'বা ও ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর দীনের বিধান হজ্জকে ইয়াহুদীরা স্বীকৃতি দেয় না। তারা কিবলামুখী হওয়াকে অস্বীকার করে অথচ তারা জানে এটা সত্য-হকু। কাবা এমন ঘর যা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম নির্মাণ করেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ} [الحج: ٢٦] {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ} [البقرة: ١٢٧]
আর স্মরণ কর, যখন আমি ইবরাহীমকে সে ঘরের (বায়তুল্লাহ্) স্থাননির্ধারণ করে দিয়েছিলাম (সূরা আল হাজ্জ ২২:২৬)। আর যখন ইবরাহীম ও ইসমাইল কাবার ভিত্তিগুলো উঠাচ্ছিল (সূরা আল বাক্বারাহ ২:১২৭)।
ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশে কা'বা নির্মিত হয়। আর কা'বাকে কেবলা হিসাবে কবুল করা হয়েছে অথচ তারা এটাকে অস্বীকার করে। অনুরূপভাবে হজ্জ পালন করা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর আদর্শ। এটা জানা সত্ত্বেও তারা তা অস্বীকার করে। কিন্তু মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তাদের শত্রুতাই এসব কিছু অস্বীকার করতে তাদেরকে প্ররোচিত করে। সুতরাং কা'বা হলো ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর মিরাছ বা উত্তরাধীকার। কা'বামুখী হয়ে জ্বলাত আদায় করা এবং সেখানে হজ্জ ও উমরা পালনের ইচ্ছা করা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর দীনের অন্তর্ভুক্ত। আর ইয়াহুদীরা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর দীনে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে অথচ তার বৃহৎ নিদর্শনাবলী তারা অস্বীকার করে। তাই এটা বিস্ময়কর দ্বন্দ্বের অন্তর্ভুক্ত।
এমনিভাবে যে নিজেকে ইসলামের দিকে সম্পৃক্ত করে এবং ইসলামের কতিপয় বিধান পরিত্যাগ করে বলে, আমি মুসলিম। অতঃপর সে কবর পূজা করে, সেখানে প্রার্থনা করে, বরকত কামনা করে ও কবরের মাটি দিয়ে শরীর মুছে। যখন তাকে বলা হয়, এগুলো শিরক। তখন সে তা পরিত্যাগ করে না, বরং এর উপরই অটল থাকে এবং এগুলো থেকে বাধাদানকারীর সাথে শত্রুতা পোষণ করে। এরূপ সম্পৃক্ততা দ্বন্দ্বের অন্তর্ভুক্ত। আর যদিও ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত হয়, কিন্তু ইসলামের মহা নিদর্শন তাওহীদের বিরোধিতা করে।
📄 প্রত্যেক দল অন্যদের ব্যতিরেকে শুধু নিজেদেরকে হক্ মনে করে
প্রত্যেক দল দাবি করে যে, তারা মুক্তি প্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [ البقرة: ١১১] বল, তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আস, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক (সূরা বাক্বারাহ ২:১১১)।
অতঃপর, আল্লাহ সঠিক বিষয় বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, {بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ} [ البقرة: ১১২] হ্যাঁ, যে নিজকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও, (সূরা বাক্বারাহ ২:১১২)।
ব্যাখ্যা: জাহিলদের সমস্যাবলী হচ্ছে: জাহিলদের প্রত্যেক দল দাবি করে যে, তারা হকের উপর আছে, আর অন্যরা বাতিল। ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান ও তাদের মত অন্য জাতির মাঝে এ ধারণা বিদ্যমান। আল্লাহ বলেন,
{ وَقَالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُوداً أَوْ نَصَارَى} [البقرة: ١١١]
আর তারা বলে, ইয়াহূদী কিংবা নাসারা ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না (সূরা আল বাক্বারাহ ২:১১১)।
ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানরা তাদের হেদায়াত ও জান্নাত লাভের বিষয়কে সীমায়িত করেছে। ভ্রষ্টদলগুলো তাদের মতই। প্রত্যেকে দাবি করে তারাই মুক্তিপ্রাপ্ত, অন্যরা বাতিল। প্রত্যেক দল দাবি করে তাদের মুক্তি লাভের ব্যাপারে নাবী জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
ستفترق أمتي على ثلاث وسبعين فرقة، كلها في النار، إلا واحدة" ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم بين العلامة الفارقة لهذه الفرقة عن غيرها لما قالوا : "من هي يا رسول الله؟ قال: " من كان على ما أنا عليه وأصحابي"
আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ছাড়া প্রত্যেকেই জাহান্নামী। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য দল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের আলাদা নিদর্শন বর্ণনা করেন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! তারা কে? জবাবে তিনি বলেন, যারা আমি ও আমার ছাহাবীগণের রীতির উপর থাকবে। একারণে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ} [البقرة: ١١١]
বল, তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আস, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক (সূরা আল বাক্বারাহ ২:১১১)।
অর্থাৎ তোমরা যা বল তথা ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না, একথার প্রমাণ পেশ করো। কেননা, এটি একটি দাবি। আর প্রমাণ ছাড়া কোন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন,
}بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ{ [البقرة: ١١٢]
হ্যাঁ, যে নিজকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও, (সূরা বাক্বারাহ ২:১১২)।
}أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ{ অর্থাৎ (১) আল্লাহর দীনের প্রতি আন্তরিক হয় ও শিরক থেকে বেঁচে থাকে। }وَهُوَ مُحْسِنُنٌ{ অর্থাৎ (২) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্যকারী। এ দু'টি শর্ত যে পূর্ণ করবে সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। পক্ষান্তরে, শর্ত দু'টি অথবা এর কোন একটি ভঙ্গ করলে জাহান্নামী হবে, যদিও সে জান্নাতী দাবি করে।
তার বাণী: }بَلَى مَنْ أَسْلَمَ{ এ আয়াতটির মাধ্যমে নির্ধারিত হয় সঠিক পদ্ধতি, যার উপর মুক্তি প্রাপ্ত দল পরিচালিত হয়। কেননা, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
من كان مثل ما أنا عليه وأصحابي
আমি এবং আমার ছাহাবীগণের পদ্ধতি যারা অনুসরণ করে (তারা ফিরকা নাজিয়া)। এটা সুন্নাহর বিধান। আর আয়াতটি কুরআনের বিধান।
যে জান্নাত লাভ করতে চায় সে যেন আল্লাহর উদ্দেশে নিজেকে সমর্পণ করে এবং সুন্নাহ অনুসারে উত্তমরূপে আমল করে। আর বিদ'আত ও নবাবিষ্কৃত বিষয় থেকে বিরত থাকবে, এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা যুক্তি-প্রমাণ পেশ করেননি。
টিকাঃ
৩৫. জ্বহীহ আবু দাউদ ৪৫৯৬-৪৫৯৭, তিরমিযী ২৬৪৫-২৬৪৬, ইবনে মাজাহ ৩৯৯১-৩৯৯৩, জামে ছহীহ ১০৮২-১০৮৩।।
৩৬. হাসান: তিরমিযী ২৬৪১, মুস্তাদরাক হাকীম ৪৪৪, কিতাবুর ইলম।
📄 হারাম কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা
লজ্জাস্থান প্রকাশের মাধ্যমে ইবাদত করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, : { وَإِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِمَا} [الأعراف: ۲৮] আর যখন তারা কোন অশ্লীল কাজ করে তখন বলে, আমরা এতে আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি এবং আল্লাহ আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আরাফ ৭:২৮)।
ব্যাখ্যা: জাহিলরা কা'বা ঘর তাওয়াফের সময় লজ্জাস্থান প্রকাশের মাধ্যমে ইবাদত করতো। তারা আহলে হারামের অন্তর্ভুক্ত নয় এ মর্মে শয়তান এহেন খারাপ কর্মকে তাদের জন্য সৌন্দর্য মন্ডিত করে তুলে ধরে। সে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগমন করতো। শয়তান যে পোশাকে আগমন করতো, একই পোশাকে হারাম এলাকায় প্রবেশ করতো না। এখানে সে আল্লাহর অবাধ্য কর্ম করতো। আহলে হারামের কাউকে পেলে শয়তান তাকে পোশাক দিয়ে দিত, যাতে সে ঐ পোশাকে তাওয়াফ করে নচেৎ শয়তান হারাম এলাকার সীমানায় পোশাক খুলে ফেলতো এবং উলঙ্গ অবস্থায় হারামে প্রবেশ করতো। এমনিভাবে শয়তান তাদের জন্য সৌন্দর্য তুলে ধরতো। এ অশ্লীল কর্মের সময় তারা বলতো, আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে আমরা এর উপরই পেয়েছি।
{وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِهَا} [الأعراف: ۲৮] .
আল্লাহ আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আরাফ ৭:২৮)।
লক্ষণীয় যে, কাশফুল আওরাহ (উলঙ্গপনার) নাম ফাহিসাহ (অশ্লীলতা)। আর যা কিছু জঘন্যতার শেষ সীমায় পৌঁছে তা ফাহিসাহ বলে গণ্য। অবাধে এমন মন্দ কর্ম সংঘটিত হওয়াকে বর্তমান যুগের অনেক মানুষ সংস্কৃতি ও অগ্রগতি গণ্য করে। আল্লাহ তা'আলা জাহিলদের এরূপ কর্ম প্রত্যাখ্যান করে বলেন, {قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ} [الأعراف: ২৮]
বল, আল্লাহ অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না? (সূরা আরাফ ৭:২৮)।
অর্থাৎ বান্দার জন্য উলঙ্গপনা শরী'আত সম্মত নয়। তাদের জন্য আবৃত থাকাকে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যাতে ফিতনা মুক্ত থাকা যায়, আর স্বভাবজাত পাপাচার থেকেও দুরে থাকা যায়। তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে, জ্ঞান ছাড়াই বিরোধীতা করে। তারা দু'টি বাতিল-মিথ্যা যুক্তি পেশ করে, যার একটি অপরটি থেকে বেশি মিথ্যা।
প্রথমত: {وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا} [الأعراف: ২৮] আমরা আমাদের বাপ-দাদার রীতির উপরই বিদ্যমান (সূরা আল আরাফ ৭:২৮)।
দ্বিতীয়ত: বড়ই মারাত্মক। {وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِمَا} আল্লাহ আমাদেরকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন।
এভাবে তারা আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ করে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, {قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: ২৮]
বল, আল্লাহ অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না? (সূরা আরাফ ২:২৮)।
জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ তা'আলার বিরুদ্ধে কথা বলা মারাত্মক জঘন্য অন্যায়।
আল্লাহ তা'আলা যা নিষেধ করেছেন তা তিনি বর্ণনা করেন, {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ} [الأعراف: ৩৩]
বল, আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে, (সূরা আরাফ ৭:৩৩)।
)فاحشة( শব্দটির বহুবচন )فواحش( আর নিষিদ্ধ অন্যায় কর্মই হলো ফাহিসাহ। আর উলঙ্গপনা অন্যায় কর্মের অন্তর্ভুক্ত। }مَا ظَهَرَ مِنْهَا{ এআয়াতাংশ জনসম্মুখে প্রকাশ্যে অশ্লীলতার কথা বুঝায়। আর }وَمَا بَطَنَ{ এ অংশটুকু মানুষের গোপন অপকর্ম বুঝায় যা আল্লাহ ও মানুষের মাঝে সীমায়িত থাকে।
{ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَاناً} [الأعراف: ৩৩]
আল্লাহর সাথে তোমাদের শরীক করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি (সূরা আরাফ ৭:৩৩)
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের জন্য কখনোই প্রমাণ নাযিল করেননি। তার একত্বের উপরই তিনি দলীল নাযিল করেছেন। আল্লাহ তা'আলা শিরককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: ৩৩]
আল্লাহর উপরে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না (সূরা আরাফ ৭:৩৩)।
কোন জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ তা'আলার বিরুদ্ধে কথা বলা শিরকের চেয়েও জঘন্য। আর একারণে জাহিলদের কথা হলো, আল্লাহ আমাদের উলঙ্গপনার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহর কিতাব ও রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহর দলীল ব্যতীরেকে যারা হালাল ও হারামের ব্যাপারে কথা বলে, তারা যেন সতর্ক হয়। আল্লাহর বাণী: {يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ}
হে বনী আদম, তোমরা তোমাদের বেশ-ভূষা গ্রহণ কর (সূরা আরাফ ৭:৩১)। অর্থাৎ তোমরা তোমাদের গোপ্তাঙ্গ আবৃত করো।
{ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} [الأعراف: ٣١] অর্থাৎ প্রত্যেক জ্বলাতে
অর্থাৎ প্রত্যেক জ্বলাতের সময় সাজ-সজ্জা গ্রহণ করতে হয় এবং বাইতুল্লাহ তাওয়াফের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। জাহিলরা উলঙ্গপনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাইতো, এটাকে তারা আল্লাহর ইবাদত গণ্য করতো। এটা মিথ্যা ও বক্রতার মধ্যে অধিক অশ্লীল। আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
জরুরী অবস্থা ছাড়া আমরা উলঙ্গ হওয়াকে হারাম হিসাবেই গ্রহণ করবো। জরুরী অবস্থা: যেমন (মলত্যাগ) ও চিকিৎসা অথবা স্বামী-স্ত্রী পরস্পর মিলনের সময় উলঙ্গ হওয়া। এ দু'টি অবস্থা ছাড়া কঠোরতার সাথে উলঙ্গ হওয়া হারাম। কেননা তা অশ্লীলতা ও পাপাচারীতার দিকে ধাবিত করে। শয়তান জানে; উলঙ্গপনা ব্যভিচারীতা ও সমকামিতার দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণে মানুষ উলঙ্গপনায় আগ্রহী হয়। আর এটার নাম রাখা হয়েছে অগ্রগতি, সভ্যতা ও সংস্কৃতি। পক্ষান্তরে শরীর আবৃত রাখা ও মার্জিত পোশাককে অপছন্দ করে বলা হয়, এটা অনগ্রগতি, পশ্চাদগামিতা ও প্রাচীন রীতি। বর্তমানে হিজাবকে ত্যাগ করতে বলা হয়, পুস্তিকায়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও সমাবেশে এ ভাল বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়। কিন্তু ঈমানদারগণ দীন আঁকড়ে ধরায় এসব তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না।
📄 হালালকে হারাম ও হারামকে হালালে পরিণত করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করা
জাহিলরা শিরকের মাধ্যমে যেমন ইবাদত করে তেমনি হালালকে হারাম করার মাধ্যমেও ইবাদত করে。
ব্যাখ্যা: জাহিলী সমস্যা: আল্লাহ তা'আলা যা আবশ্যকীয়ভাবে হারাম করেছেন, তার মাধ্যমে জাহিলদের ইবাদত করা তথা নৈকট্য লাভ করা। তাওয়াফের সময় তারা লজ্জাস্থান আবৃত রাখাকে হারাম করেছে যেমন মুশরিকদের এ অবস্থা সম্পর্কে পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরাও এরূপ করেছে। খ্রিষ্টানরা অনেক পবিত্র জিনিসকে নিজেদের উপর হারাম করেছে। অপরদিকে, আল্লাহ তা'আলা যা কিছু হারাম করেছেন ইয়াহুদীরা তা নিজেদের জন্য বৈধ করে নিয়েছে, যেমন সুদ। অথচ হারাম কাজ থেকে বিরত থাকতে ও মানুষের সম্পদ অবৈধভাবে ভক্ষণ করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।
আর মুশরিকরা বিভিন্ন প্রকার চতুষ্পদ জন্তু হারাম করেছে। এর মধ্যে (البحيرة) বাহিরাহ তথা ঝুলন্ত কান বিশিষ্ট উষ্ট্রী, (السائبة) সায়িবাহ তথা মুক্ত উষ্ট্রী ও (الوصيلة) ওয়াসিলাহ বা দু'বার বাচ্চা প্রসব করেছে এমন উষ্ট্রী উল্লেখ যোগ্য। এ চতুষ্পদ জন্তুকে তারা এসব নামকরণ করেছে। আর মূর্তির কারণে পশুগুলোকে তারা হারাম করেছে। আল্লাহ তা'আলা মু'মিনদেরকে এসব থেকে নিষেধ করে বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [المائدة: ۸۷] ،
হে মুমিনগণ, আল্লাহ যে সব পবিত্র বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করেছেন, তোমরা তা হারাম করো না এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না (সূরা আল মায়িদা ৫:৮-৭)।
আল্লাহ তা'আলা যা হালাল করেছেন, মু'মিনগণ তা হারাম করতে কঠোর হবে না, সহজেই হারাম হোক তাও চাইবে না এবং হারামকে বৈধও মনে করবে না। বরং ন্যায়নীতি অবলম্বন করবে।
সুতরাং হালালকে হারাম ও হারামকে হালালে পরিনত করা জাহিলী দীনের অন্তর্ভুক্ত। তাই আল্লাহর কিতাবের দলীল-প্রমাণ ছাড়া কারো জন্য হালাল ও হারাম পরিবর্তন করে তা ইবাদত গণ্য করা বৈধ নয়। যেমন খ্রিষ্টানদের বৈরাগ্যতা ও মুশরিকদের বাইতুল্লাহ তাওয়াফের মাধ্যমে যে ইবাদত হয় তা আল্লাহ তা'আলা শরী'আত সম্মত করেননি। আল্লাহর অবাধ্যতার মাধ্যমে তার ইবাদত ও নৈকট্য লাভ করা বিধিসম্মত নয়। আল্লাহ তা'আলা এ ধরণের শরী'আতের অনুমোদন দেননি।
এটি অত্যান্ত মারাত্মক সমস্যা। যেমনভাবে জাহিলরা শিরকের মাধ্যমে ইবাদত করতো, যা মহা অন্যায়। পূর্বযুগের শিরক, বর্তমানেও বিদ্যমান। তাই যারা কবর প্রদক্ষিণ করে, সেখানে প্রাণী উৎসর্গ ও মান্নত করে বলে, এগুলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম; তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر: 3] ،
'আমরা কেবল এজন্যই তাদের 'ইবাদত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে (সূরা আয যুমার ৩৯:৩)।' هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ} [يونس: ١٨]
এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী (সূরা ইউনূস ১০:১৮)।
প্রাচীন কালের মুশরিক ও বর্তমানে নিজেকে ইসলামের সাথে সম্পৃক্তকারী মুশরিকরাও এসব শিরকে লিপ্ত। তারা বলে, ঐ সকল নেক লোকদের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। তারা আমাদের জন্য সুপারিশ করবে ও আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে。