📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 কোন বিষয়ে দুর্বলদের অগ্রগামিতার কারণে সেটাকে বাতিল বলে প্রমাণ করা

📄 কোন বিষয়ে দুর্বলদের অগ্রগামিতার কারণে সেটাকে বাতিল বলে প্রমাণ করা


হকু গ্রহণে দুর্বলদের অগ্রগামীতার কারণে হকুকে বাতিল বলে প্রমাণ করা। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ لَوْ كَانَ خَيْراً مَا سَبَقُونَا إِلَيْهِ} [الأحقاف: ১১]

যদি এটা ভাল হত তবে তারা আমাদের থেকে অগ্রণী হতে পারত না (সূরা আল আহক্বাফ ৪৬:১১)।
ব্যাখ্যা: জাহিলদের অভ্যাস: হক্বের ক্ষেত্রে দুর্বলদের অগ্রগামীতার কারণে হক্ব বিষয়কে বাতিল বলে প্রমাণ করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের ব্যাপারে বর্ণনা করেন, তারা বলে, { لَوْ كَانَ خَيْراً مَا سَبَقُونَا إِلَيْهِ} [الأحقاف: ١১]
'যদি এটা ভাল হত তবে তারা আমাদের থেকে অগ্রণী হতে পারত না (সূরা আহক্বাফ ৪৬:১১)।

তারা বলে, আমরা বুদ্ধিমান, দক্ষ ও চিন্তাশীল তাই আমরা সব বুঝি। কোন বিষয় মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ থেকে এসেছে জানতে পারলে আমরা তা সঠিক বলে মনে করি না, তাই প্রত্যাখ্যান করি। যদি তা হক্ব হতো তাহলে আমরাই তার চেয়ে অগ্রগামী হতাম। আর তা হক্ব নয় মনে করে তাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এটাই জাহিলদের জঘন্য বাতিল পন্থা।
কেননা, মানুষের মর্যাদার উপর ভিত্তি করে হক্বের অনুসরণ নির্ধারিত নয়। বরং আল্লাহ তা'আলা তার বান্দার মধ্যে থেকে যাকে হক্ব দান করে অনুগ্রহ করেন, সেটাই নির্ধারিত অনুসরণীয়। আর নাবী-রসূলগণের অনুসারীরা অধিকাংশই দুর্বল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ} [الشعراء: ১১১]
তারা বলল, 'আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে? (সূরা শু'আরা ২৬:১১১)। তিনি আরো বলেন, {وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْي} [هود: ২৭]
আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে (সূরা হুদ ১১:২৬)।
অর্থাৎ তাদের কোন চিন্তা-ভাবনা নেই। জাহিলরা মনে করে, তারা বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল। আর নূহ আলাইহিস সালাম যা নিয়ে এসেছেন তা যদি হক্ব হতো, তাহলে আহলে রায় ও অধিকাংশ মানুষ তার অনুসরণ করতো। তাই নূহ আলাইহিস সালাম হকু পথে ছিলেন না বলে প্রমাণ করে তারা তাকে বর্জন করে।

জাহিলদের এ পদ্ধতি বাতিল। কেননা, মানুষের মধ্যে অধিকাংশ হক্ অস্বীকারকারীরা প্রাচুর্যের অধিকারী হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَمَا أَرْسَلْنَا فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ} [سبأ: ٣٤]
অপরপক্ষে অধিকাংশ দুর্বল ও অভাবীরা হক্বের অনুসরণ করে। কেননা তারা অহংকারী নন। তাই কোন বিষয়ে প্রাচুর্যের অধিকারী ও মর্যাদাবানরা অনুসরণ করলে তা হক্ব হিসাবে প্রমাণ করা এবং দুর্বল ও অভাবীরা অনুসরণ করলে তা বাতিল প্রমাণ করা জাহিলদের মাপকাঠি। এভাবে বাতিল থেকে হকু বুঝার মাপকাঠি গ্রহণ করা বৈধ নয়। একারণে আলেমগণ বলেন, ব্যক্তির দ্বারা হক্ব চেনা য়ায় না বরং হক্বের মাধ্যমে ব্যক্তিকে চেনা যায়।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 কু-প্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে আসমানী কিতাবের প্রমাণাদি জানার পরও তা বিকৃত করা

📄 কু-প্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে আসমানী কিতাবের প্রমাণাদি জানার পরও তা বিকৃত করা


জেনে বুঝে আল্লাহর কিতাবকে বিকৃত করা。
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা আল্লাহর কিতাব তাওরাত ও ইনজিল জেনে-বুঝে বিকৃত করেছে। তারা এ কিতাবগুলো থেকে জ্ঞানার্জন করে বুঝার পর তথ্য বৃদ্ধি অথবা কমতি করার মাধ্যমে তাতে বিকৃতি ঘটিয়েছে। বিশুদ্ধ অর্থ বর্জন করে তার অপব্যাখ্যা করেছে, সবই সম্ভব হয়েছে তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে।
মুসলিমরাও এ সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। আহলে কিতাবরাই প্রথমত নিজেদের কু-প্রবৃত্তি, ইচ্ছা ও আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। মূল বিধানকে মিথ্যা প্রতিপন্ন ও অস্বীকার করার পরিণাম তারা নির্ধারণ করতে পারেনি। আর সুনির্দিষ্ট অর্থ ব্যতিরেকে কিতাবের অপব্যাখ্যা করে তা বিকৃতি ঘটানোর মাধ্যমে কিতাবগুলোর উপর অবিচার করেছে।
প্রবৃত্তি পুজারী, ভ্রষ্ট দল ও কু-প্রবৃত্তির অনুসারী এরূপ সমস্যায় মুসলিমরা জর্জরিত। যখন ঐ সব ভ্রষ্টদেরকে বলা হয়, সুদ হারাম। তখন তারা বলে, সুদ থেকে এ ব্যাখ্যা (বিকৃত ব্যাখ্যা) উদ্দেশ্য। তারা নিজেদের প্রবৃত্তি অনুসারে সুদের ব্যাখ্যা করে। বর্তমানেও তাদের অনেক কিতাবাদী, লিখনী ও ফাতওয়া আছে যা সুদকে বৈধ করে।
এমনিভাবে যখন তাদেরকে বলা হয়, এ বিধান আল্লাহ ও তার রসূল হারাম করেছেন, তখন তারা বলে, এটা কি সে সুদ যা আল্লাহ ও তার রসূল হারাম করেছেন? আল্লাহ ও তার রসূল জাহিলদের সুদ হারাম করেছেন যা অভাবীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত হিসাবে গ্রহণ করা হতো। এভাবে জাহিলরা সুদের বর্ধিতাংশ অর্জন করে অথবা তারা বলে, প্রথমে যে সুদের সূচনা হয়েছিল তা হারাম। আর বিনিয়োগে সুদ গ্রহণ ভাল।
ছুহীহ সূত্রে বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে: "الذهب بالذهب والفضة بالفضة والبر بالبر والشعير بالشعير والتمر بالتمر، والملح بالملح، مثلاً بمثل، سواء بسواء، يداً بيد"
স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবনের বিনিময় লবন। এসব বিক্রয় করা সমান সমান ও নগদ নগদ হতে হবে।
এগুলোর বর্ধিতাংশ সুদ হিসাবে গণ্য। রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এধরণের সুদ হারাম করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: ٧]

রসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও (সূরা আল হাশর ৫৯:৭)।
আল্লাহ তা'আলার কথা (وَحَرَّمَ الرِّبا) অর্থাৎ তিনি সুদ হারাম করেছেন। এ কথার ব্যাপক অর্থে বর্ধিত সুদ অন্তর্ভুক্ত। ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের মাঝে এমন লোক ছিল যারা যথাক্রমে তাওরাত ও ইনজিল বিকৃত করেছে। আর উম্মাতে মুহাম্মাদীর মাঝে এমন লোক আছে যারা নিজেদের ও অন্যদের রীতিকে বৈধ করার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর বিধান পরিবর্তন করে। এমতাবস্থায় কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করা মুসলিমদের উপর ওয়াজীব।
ইয়াহুদীদের দ্বারা বিধান বিকৃত করার উদাহরণ: যখন আল্লাহ তা'আলা ইয়াহুদীদেরকে বললেন, {وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّداً وَقُولُوا حِطَّةٌ} [البقرة: ٥٨]
দরজায় প্রবেশ কর মাথা নীচু করে। আর বল 'ক্ষমা' (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৫৮)। অর্থাৎ (তোমরা বল( )حط عنا ذنوبنا واغفر لنا( অর্থাৎ আমাদের পাপ মোচন করে দাও ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও। তারা এ কথাকে বিকৃত করে বললো, )حبة من حنطة( তথা আমাদেরকে তুমি গম দাও। এখানে (-) হিতুন শব্দে 'নুন' অতিরিক্ত যোগ করে )حنطة( হিনতাতুন শব্দ ব্যবহার করে আল্লাহর গুণাবলীর পরিবর্তন ঘটায়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: ٥] পরম করুণাময় আরশে সমুন্নত (সূরা ত্ব-হা ২০:৫)।
তারা বলে, )اسْتَوَى( তিনি আরশে সমুন্নত। এর অর্থ )استولى( তথা তিনি প্রভাব বিস্তার করলেন।
ইয়াহুদীরা যেমন )حنطة( শব্দে নুন বর্ণ বৃদ্ধি করেছে, তেমনই )استولى( শব্দটিতে তারাও লাম বর্ণ বৃদ্ধি করেছে। এটাই হলো অতিরিক্ত কিছু বৃদ্ধি ও কমবেশি করে শব্দ বিকৃত করা। আর বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা ছাড়া কুরআন ও হাদীছের অপব্যাখ্যা করার নাম অর্থের বিকৃতি। তাই কুরআন ও হাদীছের কথাকে যথাস্থানে না রাখলে তা বিকৃত বলে গণ্য হয়。

টিকাঃ
৩১. ছহীহ বুখারী ২১৩৪, জ্বহীহ মুসলিম ১৫৮৭।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 বাতিল কিতাবাদি রচনা করে সেগুলো আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করা

📄 বাতিল কিতাবাদি রচনা করে সেগুলো আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করা


জাহিলরা বাতিল কিতাবাদী রচনা করে তা আল্লাহর কিতাবের দিকে সম্বোধন করে। আল্লাহ তা'আলার বাণী:
{فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ} [البقرة: ٧৯]
সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে। তারপর বলে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৭৯)।

ব্যাখ্যা: ইয়াহুদীদের দ্বারা ক্ষতিসমূহ: ইয়াহুদীরা নিজ হাতে লিখে কিতাব রচনা করেছে। আর তাতে বাতিল বিষয় বৃদ্ধি করে বলে, এটা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এসেছে। যাতে তারা মানুষের নিকট থেকে এর বিনিময় অর্জন করতে পারে অথবা এসব রচিত কিতাব বাজারে বিক্রি করে প্রচুর সম্পদ অর্জন করতে পারে। ভ্রান্ত কিতাবাদী রচনা করা এবং মানুষের মাঝে এর প্রচলন ঘটানোই ইয়াহুদীদের পেশা। উম্মতে মুহাম্মাদীর মাঝেও তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী কিছু অনুসারী আছে।
দীনি ইলম-জ্ঞান লেখার সময় আলিমের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়: আল্লাহ তা'আলার প্রতি ভয় রাখা, কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোন কিছু না লেখা। কেননা তার লিখনী সম্পর্কে কিয়ামতের দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাই যা কিছু কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূলে হয়, তা কিতাব, রচনা ও ফাতওয়ায় লিপিবদ্ধ করবে। আর কোন কিছু নিজে থেকে ও কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করে লিখে বলবে না যে, এটা শরী'আতে আছে অথবা এটাই শরী'আত।
বর্তমানে অধিকাংশ কিতাব অথবা লিখনী অথবা বাতিল ভ্রান্ত ফাতওয়া ইসলামের নাম ব্যবহার করে রচনা করা হয়। এটা ইয়াহুদীদের কর্মের মতই। যে মুসলিম কিছু লিখতে বা রচনা করতে চায় অথবা ফাতওয়া প্রদান করতে চায়, তাকে এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে, আল্লাহর নির্দিষ্ট সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না, আল্লাহকে ভয় করতে হবে এবং হক্বের জন্যই লিখতে হবে যদিও মানুষ তা অপছন্দ করে।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 অপরের নিকট বিদ্যমান হক্ বর্জন করা

📄 অপরের নিকট বিদ্যমান হক্ বর্জন করা


জাহিলরা তাদের দল ছাড়া অন্যর হক্বকে গ্রহণ করে না। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩١]
তারা বলে, আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১)।

ব্যাখ্যা: যখন জাহিলদেরকে বলা হয়, মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যা নাযিল হয়েছে তার উপর ঈমান আনো তখন তারা বলে,
{قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩١]
অর্থাৎ মুসা আলাইহিস সালাম এর উপর যা নাযিল হয়েছিল।
{وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَاءَهُ} [البقرة: ٩١]
আর এর বাইরে যা আছে তারা তা অস্বীকার করে (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৯১)। অর্থাৎ অন্য কিছু
{ وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقاً لِمَا مَعَهُمْ} [البقرة: ٩١]
তা সত্য, তাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারী (সূরা আল বাক্বরাহ ২:৯১)। তারা বলে, আমরা তাওরাতের উপর ঈমান আনবো যা আমাদের নাবী মূসা আলাইহিস সালাম এর উপর নাযিল হয়েছে।
{وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَاءَهُ} [البقرة: ٩١]
আর এর বাইরে যা আছে তারা তা অস্বীকার করে (সূরা বাক্বরাহ ২:৯১)। তা হলো ইনজিল যা ঈসা আলাইহিস সালাম এর উপর নাযিল হয়েছে। আর কুরআন নাযিল হয়েছে মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর।
{وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِمَا مَعَهُمْ}
তা সত্য, তাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারী (সূরা আল বাক্বরাহ ২:৯১)। যা তাওরাতে আছে, ইনজিল ও কুরআন তা সত্যায়নকারী।
আল্লাহ তা'আলা তাদের কথা এভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, মূসা আলাইহিস সালাম এর উপর যা নাযিল হয়েছে তোমরা যদি তার অনুসরণ করেই থাকো, তাহলে নাবীগণকে তোমরা কিভাবে হত্যা করতে পারো? নাবীগণকে হত্যার করার কথা কি মূসা আলাইহিস সালাম এর উপর নাযিল হয়েছিল? জাহিলরা যাকারিয়া ও ইহইয়া আলাইহিমাস সালামকে হত্যা করেছে, ইয়াহুদীরা ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল, আল্লাহ তা'আলা তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। তাদের চক্রান্ত থেকে তিনি তাকে বাঁচিয়েছেন। আর তারা মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। নাবীগণকে হত্যা করাই যেন তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَقْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقاً kَذَّبْتُمْ وَفَرِيقاً تَقْتُلُونَ} [البقرة: [৮৭]
তবে কি তোমাদের নিকট যখনই কোন রসূল এমন কিছু নিয়ে এল, যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখন তোমরা অহঙ্কার করেছ, অতঃপর (নাবীদের) একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছে আর একদলকে হত্যা করেছে (সূরা বাক্বরাহ ২:৮-৭)।

তারা কতিপয় রসূলকে মিথ্যাবাদী মনে করেছে, কিছু সংখ্যককে হত্যা করেছে। কিন্তু কেন তারা এরূপ করেছিল? কারণ রসূলগণ তাদের নিকট যা নিয়ে এসেছেন তা তাদের কু-প্রবৃত্তি বিরোধী ছিল। তাহলে তারা কিভাবে বলতে পারে আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার উপর আমরা ঈমান আনবো? তাদের উপর যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি ঈমান কোথায়? মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বৈশিষ্ট্য, গুণাবলী ও তার রিসালাতের কথা তাওরাতেও বর্ণিত হয়েছে। তাহলে মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তারা ঈমান আনয়ন করে না কেন? মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ঈমান আনার অর্থই হলো তাদের উপর যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি ঈমান আনয়ন করা। অথচ তারা তাকে অস্বীকার করে বলে,
{نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا} [البقرة: ٩১]
আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি (সূরা আল বাক্বরাহ ২:৯১)।
যারা বলে, আমি অমুক আলেম ছাড়া কাউকে অনুসরণ করি না, এ আয়াত তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে অথচ তার উপর হক্ব গ্রহণ করা ওয়াজীব। ইমাম অথবা দারস দানকারী অথবা শাইখের পক্ষপাতিত্ব করা তার জন্য আবশ্যক নয়। যেমন বিভিন্ন পন্থার পীর রয়েছে। তাদের মুরিদ ও অনুসারীরা পীরদের পক্ষপাতিত্ব করে। পীর যা বলে তা ব্যতিরেকে তারা হকুকে গ্রহণ করে না। এটাই বাতিল বিষয়। কেননা রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত সুনির্দিষ্টভাবে কারো আনুগত্য করা ওয়াজীব নয়। আর যে বলে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্যের আনুগত্য করাও ওয়াজীব, তাহলে সে হবে মুরতাদ। তাকে তাওবা করতে হবে নচেৎ তাকে হত্যা করা হবে। যেমন কোন এক ব্যক্তিকে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সমজ্ঞানী মনে করা হলে শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ তাকে হত্যা করার ব্যাপারে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
তাই রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত কারো আনুগত্য করা ওয়াজীব নয়। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত ইমাম ও আলেমদের মাঝে হকু পাওয়া গেলে তাদের আনুগত্য করতে হবে। ইজতিহাদে তাদের ভুল পরিলক্ষিত হলে তা গ্রহণ করা বৈধ নয়, যদিও তারা ইমাম হন। ইমামগণ বলেন, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথার সাথে আমাদের কথার মিল হলে তবেই তা গ্রহণ করবে নচেৎ নয়。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00