📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 দুনিয়ার মাধ্যমে ধোঁকায় পড়া

📄 দুনিয়ার মাধ্যমে ধোঁকায় পড়া


পার্থিব জীবন জাহিলদেরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। তারা ধারণা করে যে, পার্থিব চাকচিক্যতা আল্লাহর দান যা তার সন্তুষ্টি প্রমাণিত হয়। যেমন জাহিলরা বলে, আল্লাহর বাণী:
{نَحْنُ أَكْثَرُ أَمْوَالاً وَأَوْلاداً وَمَا نَحْنُ بِمُعَذِّبِينَ} [سبأ: ٣٥]
আমরা ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অধিক সমৃদ্ধশালী। আর তাই আমরা শান্তি প্রাপ্ত হবো না (সূরা সাবা ৩৪:৩৫)।
ব্যাখ্যা: জাহিলরা তাদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদকে নিজেদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান মনে করতো। তাদের ধারণা, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে শাস্তি দিবেন না। আল্লাহর বাণী:
{ وَقَالُوا نَحْنُ أَكْثَرُ أَمْوَالاً وَأَوْلاداً وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ قُلْ إِنَّ رَبِّي يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ وَمَا أَمْوَالُكُمْ وَلا أَوْلادُكُمْ بِالَّتِي تُقَرِّبُكُمْ عِنْدَنَا زُلْفَى} [سبأ: [٣٥,৩৭
আমরা ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অধিক সমৃদ্ধশালী। আর তাই আমরা শান্তি প্রাপ্ত হবো না বল, 'আমার রব যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন অথবা সঙ্কুচিত করেন। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।' আর তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এমন বস্তু নয় যা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করে (সূরা সাবা ৩৪:৩৫-৩৭)।

{ قُلْ إِنَّ رَبِّي يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَيَقْدِرُ لَهُ وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ} [سبأ : ৩৯]
বল, 'নিশ্চয় আমার রব তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিযিকদাতা' (সূরা সাবা ৩৪:৩৯)।

বেশি ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও প্রাচুর্য বান্দার জন্য আল্লাহর ভালবাসার দলীল নয়। বরং তিনি কাফিরকে ধীরে ধীরে পাঁকড়াও করার জন্য তাদেরকে পার্থিব ধন-সম্পদ দিয়ে থাকেন। হাদীছে বর্ণিত:
"إن الله يعطي الدنيا من يحب ومن لا يحب، وأما الدين فلا يعطيه إلا من يحب"

আল্লাহ তা'আলা যাকে ভালবাসেন অথবা অপছন্দ করেন উভয়কে তিনি পার্থিব প্রাচুর্যতা দান করে থাকেন। আর আল্লাহ তা'আলা যাকে ভালবাসেন তাকে দীনের জ্ঞান দান করেন। অন্য হাদীছে এসেছে:
"لو كانت الدنيا تعدل عند الله جناح بعوضة ما سقى منها كافراً شربة ماء"
আল্লাহ তা'আলার নিকট যদি মশার পাখা পরিমাণ দুনিয়ার মূল্য থাকতো, তাহলে কোন কাফিরকে তিনি একফোটা পানিও পান করতে দিতেন না।

আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও অভাবী ছিলেন। অনুরূপভাবে তার ছাহাবীগণেরও অভাব-অনটন ছিল। অথচ নাবীগণের পরে তারা সৃষ্টির মাঝে উত্তম মানুষ। আর কাফিররা অবাধে বিচরণ করে এবং নাবীগণের পরে তারা আল্লাহ তা'আলার নেআ'মত পেয়ে উল্লসিত হয়। কাফিরদেরকে ধীরে ধীরে পাঁকড়াও করা হবে একারণে তারা আল্লাহর নেআ'মত পেয়ে উল্লসিত হয় ও অবাধে চলাফেরা করে। তাই দুনিয়ার চাকচিক্য আল্লাহর নিকট দুনিয়াবাসীর সম্মান প্রমাণ করে না বরং আমলকারী ধনী হোক বা গরিব হোক সৎ আমলের মাধ্যমেই আল্লাহর নিকট বান্দার সম্মান প্রমাণিত হয়।
দুনিয়াপ্রেমিক, সম্পদশালী ও প্রাচুর্যের অধিকারীরাই আল্লাহ তা'আলার নিকট সম্মানিত বলে মানুষ ধারণা করে, আর বলে অভাব-অনটনে নিপতিত লোকজন আল্লাহর নিকট লাঞ্ছিত, তাদের এ ধারণা ভুল。

টিকাঃ
২৯. জ্বহীহ: মুসনাদে আহমাদ, মুস্তাদরাক হাকীম।
৩০. জ্বহীহ: তিরমিযী ২৩২৫।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 যখন দুর্বলরা হকের উপর প্রতিষ্ঠিত, তখন জাহিল কর্তৃক হক্ প্রত্যাখ্যান করা

📄 যখন দুর্বলরা হকের উপর প্রতিষ্ঠিত, তখন জাহিল কর্তৃক হক্ প্রত্যাখ্যান করা


দুর্বলরা হকু গ্রহণে অগ্রবর্তী হলে জাহিলরা তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। অহংকারের সাথে তারা ধৃষ্টতা দেখায়। আল্লাহ তা'আলা তাদের ব্যাপারে আয়াত নাযিল করে বলেন,
{ وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ ... } [الأنعام: ٥২]
আর তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না তাদেরকে, যারা নিজ রবকে ডাকে (সূরা আল আন'আম ৫:৫২)
ব্যাখ্যা: দুর্বলরা হক্বের উপর অবিচল থাকলে জাহিলরা তা প্রত্যাখ্যান করে। এ কারণে তারা বলে,
{ أَهَؤُلَاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ bَيْنِنَا} [الأنعام: ৫৩]
'এরাই কি, আমাদের মধ্য থেকে যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন? (সূরা আন'আম ৬:৫৩)। অর্থাৎ তারা আমাদের চেয়ে জান্নাতে প্রবেশের দিক থেকে উত্তম নয়। আমরাই দুর্বলদের চেয়ে অগ্রগামী ও আমরা তাদের চেয়ে সম্মানিত। সমাজে ঐ সব দুর্বলদের কোন মূল্য নেই ও তাদের কোন অংশও নেই। আল্লাহ তা'আলা ঐ সব জাহিলদের কথাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন,
{أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ} [الأنعام: ৫৩]
আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞাত নয়? (সূরা আল আন'আম ৬:৫৩)।

আল্লাহ তা'আলা যাদেরকে ভালবাসেন কেবল তাদেরকে সঠিক দীন দান করেন। অপরপক্ষে যাদের প্রতি আল্লাহর ভালবাসা ও শত্রুতা রয়েছে উভয়কে তিনি দুনিয়ার প্রাচুর্যতা দান করেন।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 কোন বিষয়ে দুর্বলদের অগ্রগামিতার কারণে সেটাকে বাতিল বলে প্রমাণ করা

📄 কোন বিষয়ে দুর্বলদের অগ্রগামিতার কারণে সেটাকে বাতিল বলে প্রমাণ করা


হকু গ্রহণে দুর্বলদের অগ্রগামীতার কারণে হকুকে বাতিল বলে প্রমাণ করা। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{ لَوْ كَانَ خَيْراً مَا سَبَقُونَا إِلَيْهِ} [الأحقاف: ১১]

যদি এটা ভাল হত তবে তারা আমাদের থেকে অগ্রণী হতে পারত না (সূরা আল আহক্বাফ ৪৬:১১)।
ব্যাখ্যা: জাহিলদের অভ্যাস: হক্বের ক্ষেত্রে দুর্বলদের অগ্রগামীতার কারণে হক্ব বিষয়কে বাতিল বলে প্রমাণ করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের ব্যাপারে বর্ণনা করেন, তারা বলে, { لَوْ كَانَ خَيْراً مَا سَبَقُونَا إِلَيْهِ} [الأحقاف: ١১]
'যদি এটা ভাল হত তবে তারা আমাদের থেকে অগ্রণী হতে পারত না (সূরা আহক্বাফ ৪৬:১১)।

তারা বলে, আমরা বুদ্ধিমান, দক্ষ ও চিন্তাশীল তাই আমরা সব বুঝি। কোন বিষয় মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ থেকে এসেছে জানতে পারলে আমরা তা সঠিক বলে মনে করি না, তাই প্রত্যাখ্যান করি। যদি তা হক্ব হতো তাহলে আমরাই তার চেয়ে অগ্রগামী হতাম। আর তা হক্ব নয় মনে করে তাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এটাই জাহিলদের জঘন্য বাতিল পন্থা।
কেননা, মানুষের মর্যাদার উপর ভিত্তি করে হক্বের অনুসরণ নির্ধারিত নয়। বরং আল্লাহ তা'আলা তার বান্দার মধ্যে থেকে যাকে হক্ব দান করে অনুগ্রহ করেন, সেটাই নির্ধারিত অনুসরণীয়। আর নাবী-রসূলগণের অনুসারীরা অধিকাংশই দুর্বল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, {أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ} [الشعراء: ১১১]
তারা বলল, 'আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে? (সূরা শু'আরা ২৬:১১১)। তিনি আরো বলেন, {وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْي} [هود: ২৭]
আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে (সূরা হুদ ১১:২৬)।
অর্থাৎ তাদের কোন চিন্তা-ভাবনা নেই। জাহিলরা মনে করে, তারা বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল। আর নূহ আলাইহিস সালাম যা নিয়ে এসেছেন তা যদি হক্ব হতো, তাহলে আহলে রায় ও অধিকাংশ মানুষ তার অনুসরণ করতো। তাই নূহ আলাইহিস সালাম হকু পথে ছিলেন না বলে প্রমাণ করে তারা তাকে বর্জন করে।

জাহিলদের এ পদ্ধতি বাতিল। কেননা, মানুষের মধ্যে অধিকাংশ হক্ অস্বীকারকারীরা প্রাচুর্যের অধিকারী হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, { وَمَا أَرْسَلْنَا فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ} [سبأ: ٣٤]
অপরপক্ষে অধিকাংশ দুর্বল ও অভাবীরা হক্বের অনুসরণ করে। কেননা তারা অহংকারী নন। তাই কোন বিষয়ে প্রাচুর্যের অধিকারী ও মর্যাদাবানরা অনুসরণ করলে তা হক্ব হিসাবে প্রমাণ করা এবং দুর্বল ও অভাবীরা অনুসরণ করলে তা বাতিল প্রমাণ করা জাহিলদের মাপকাঠি। এভাবে বাতিল থেকে হকু বুঝার মাপকাঠি গ্রহণ করা বৈধ নয়। একারণে আলেমগণ বলেন, ব্যক্তির দ্বারা হক্ব চেনা য়ায় না বরং হক্বের মাধ্যমে ব্যক্তিকে চেনা যায়।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 কু-প্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে আসমানী কিতাবের প্রমাণাদি জানার পরও তা বিকৃত করা

📄 কু-প্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে আসমানী কিতাবের প্রমাণাদি জানার পরও তা বিকৃত করা


জেনে বুঝে আল্লাহর কিতাবকে বিকৃত করা。
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা আল্লাহর কিতাব তাওরাত ও ইনজিল জেনে-বুঝে বিকৃত করেছে। তারা এ কিতাবগুলো থেকে জ্ঞানার্জন করে বুঝার পর তথ্য বৃদ্ধি অথবা কমতি করার মাধ্যমে তাতে বিকৃতি ঘটিয়েছে। বিশুদ্ধ অর্থ বর্জন করে তার অপব্যাখ্যা করেছে, সবই সম্ভব হয়েছে তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে।
মুসলিমরাও এ সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। আহলে কিতাবরাই প্রথমত নিজেদের কু-প্রবৃত্তি, ইচ্ছা ও আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। মূল বিধানকে মিথ্যা প্রতিপন্ন ও অস্বীকার করার পরিণাম তারা নির্ধারণ করতে পারেনি। আর সুনির্দিষ্ট অর্থ ব্যতিরেকে কিতাবের অপব্যাখ্যা করে তা বিকৃতি ঘটানোর মাধ্যমে কিতাবগুলোর উপর অবিচার করেছে।
প্রবৃত্তি পুজারী, ভ্রষ্ট দল ও কু-প্রবৃত্তির অনুসারী এরূপ সমস্যায় মুসলিমরা জর্জরিত। যখন ঐ সব ভ্রষ্টদেরকে বলা হয়, সুদ হারাম। তখন তারা বলে, সুদ থেকে এ ব্যাখ্যা (বিকৃত ব্যাখ্যা) উদ্দেশ্য। তারা নিজেদের প্রবৃত্তি অনুসারে সুদের ব্যাখ্যা করে। বর্তমানেও তাদের অনেক কিতাবাদী, লিখনী ও ফাতওয়া আছে যা সুদকে বৈধ করে।
এমনিভাবে যখন তাদেরকে বলা হয়, এ বিধান আল্লাহ ও তার রসূল হারাম করেছেন, তখন তারা বলে, এটা কি সে সুদ যা আল্লাহ ও তার রসূল হারাম করেছেন? আল্লাহ ও তার রসূল জাহিলদের সুদ হারাম করেছেন যা অভাবীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত হিসাবে গ্রহণ করা হতো। এভাবে জাহিলরা সুদের বর্ধিতাংশ অর্জন করে অথবা তারা বলে, প্রথমে যে সুদের সূচনা হয়েছিল তা হারাম। আর বিনিয়োগে সুদ গ্রহণ ভাল।
ছুহীহ সূত্রে বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে: "الذهب بالذهب والفضة بالفضة والبر بالبر والشعير بالشعير والتمر بالتمر، والملح بالملح، مثلاً بمثل، سواء بسواء، يداً بيد"
স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবনের বিনিময় লবন। এসব বিক্রয় করা সমান সমান ও নগদ নগদ হতে হবে।
এগুলোর বর্ধিতাংশ সুদ হিসাবে গণ্য। রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এধরণের সুদ হারাম করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: ٧]

রসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও (সূরা আল হাশর ৫৯:৭)।
আল্লাহ তা'আলার কথা (وَحَرَّمَ الرِّبا) অর্থাৎ তিনি সুদ হারাম করেছেন। এ কথার ব্যাপক অর্থে বর্ধিত সুদ অন্তর্ভুক্ত। ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের মাঝে এমন লোক ছিল যারা যথাক্রমে তাওরাত ও ইনজিল বিকৃত করেছে। আর উম্মাতে মুহাম্মাদীর মাঝে এমন লোক আছে যারা নিজেদের ও অন্যদের রীতিকে বৈধ করার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর বিধান পরিবর্তন করে। এমতাবস্থায় কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করা মুসলিমদের উপর ওয়াজীব।
ইয়াহুদীদের দ্বারা বিধান বিকৃত করার উদাহরণ: যখন আল্লাহ তা'আলা ইয়াহুদীদেরকে বললেন, {وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّداً وَقُولُوا حِطَّةٌ} [البقرة: ٥٨]
দরজায় প্রবেশ কর মাথা নীচু করে। আর বল 'ক্ষমা' (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৫৮)। অর্থাৎ (তোমরা বল( )حط عنا ذنوبنا واغفر لنا( অর্থাৎ আমাদের পাপ মোচন করে দাও ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও। তারা এ কথাকে বিকৃত করে বললো, )حبة من حنطة( তথা আমাদেরকে তুমি গম দাও। এখানে (-) হিতুন শব্দে 'নুন' অতিরিক্ত যোগ করে )حنطة( হিনতাতুন শব্দ ব্যবহার করে আল্লাহর গুণাবলীর পরিবর্তন ঘটায়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: ٥] পরম করুণাময় আরশে সমুন্নত (সূরা ত্ব-হা ২০:৫)।
তারা বলে, )اسْتَوَى( তিনি আরশে সমুন্নত। এর অর্থ )استولى( তথা তিনি প্রভাব বিস্তার করলেন।
ইয়াহুদীরা যেমন )حنطة( শব্দে নুন বর্ণ বৃদ্ধি করেছে, তেমনই )استولى( শব্দটিতে তারাও লাম বর্ণ বৃদ্ধি করেছে। এটাই হলো অতিরিক্ত কিছু বৃদ্ধি ও কমবেশি করে শব্দ বিকৃত করা। আর বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা ছাড়া কুরআন ও হাদীছের অপব্যাখ্যা করার নাম অর্থের বিকৃতি। তাই কুরআন ও হাদীছের কথাকে যথাস্থানে না রাখলে তা বিকৃত বলে গণ্য হয়。

টিকাঃ
৩১. ছহীহ বুখারী ২১৩৪, জ্বহীহ মুসলিম ১৫৮৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00