📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 মিথ্যা অজুহাত পেশ করে হক্ গ্রহণ না করা

📄 মিথ্যা অজুহাত পেশ করে হক্ গ্রহণ না করা


আল্লাহ তা'আলা যা দিয়েছেন তা না বুঝেই তার অনুসরণ থেকে বিরত থাকার অজুহাত পেশ করা। আল্লাহর বাণী: {وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ } [ البقرة: ৮৮ ] ، {يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيراً مِمَّا تَقُولُ} [هود: ৯১] ،
আর তারা বলল, আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত (সূরা বাক্বারাহ ২:৮৮)। তারা বলল, হে শু'আইব, তুমি যা বল, তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না (সূরা হুদ ১১:৯১)।
আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন। আর আল্লাহ তা'আলা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তাদের কুফরীর কারণেই তারা বিমুখ হয়েছে。
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ তারা হকু না বুঝার কারণে তা কবুল করতে অজুহাত পেশ করে। যেমন আল্লাহ তা'আলা ইয়াহুদীদের ব্যাপারে উল্লেখ করেন, যখন তাদেরকে রসূল ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন তখন তারা বলেছিল, {قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ لَعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلاً مَا يُؤْمِنُونَ} [البقرة: ৮৮] ،
আর তারা বলল, আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত। বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদেরকে লা'নত করেছেন। অতঃপর তারা খুব কমই ঈমান আনে (সূরা বাক্বারাহ ২:৮৮)।

)غُلْفٌ( অর্থাৎ অন্তরে আবরণ রয়েছে, তাতে রসূলের কথা পৌঁছবে না এবং তার কথায় তাদের অন্তর শান্তিও পাবে না। রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে এ অজুহাতকে দলীল হিসাবে তারা গ্রহণ করেছে। এটিই আয়াতের প্রসিদ্ধ অর্থ।
আর দ্বিতীয় অর্থ হলো )وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ( অর্থাৎ অন্তর জ্ঞানে পূর্ণ তাই কারো কথার প্রয়োজন নেই। তাদের ধারণায় রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তা'আলা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যে, তারা যা বলে তা নিষ্প্রয়োজন। বরং প্রয়োজনীয়তা হলো আল্লাহ তা'আলা তাদের কুফরীর কারণে তাদেরকে ভর্ৎসনা করেন। অর্থাৎ কুফরীর কারণে তাদেরকে তার রহমত থেকে বিতাড়িত করে দূরে সরিয়ে দেন। কুফরীর কারণে তারা হক্ব গ্রহণ করতে পারে না। এখানে '' পদটি সাবাব তথা 'কারণ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা তারা বুঝবে না কেননা তাকে তারা ভ্রূক্ষেপ করে না এবং তার কথায় মনোনিবেশও করে না। বিমুখতার কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য শান্তি নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, { فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ} [الصف: ٥]
অতঃপর তারা যখন বক্রপথ অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের হৃদয়গুলোকে বক্র করে দিলেন। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না (সূরা জ্বাফ ৬১:৫)।

তাই যে হক্ব গ্রহণ করবে না আল্লাহ তা'আলা তাকে বাতিলে নিমজ্জিত করে পরীক্ষা করেন। এরপর অন্তর বিকৃত হওয়ার কারণে সে আর হক্ব গ্রহণ করে না। আমরা এ থেকে আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {بَلْ لَعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلاً مَا يُؤْمِنُونَ} [البقرة: ٨٨]
বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদেরকে লা'নত করেছেন। অতঃপর তারা খুব কমই ঈমান আনে (সূরা আল বাক্বারাহ ২:৮৮)।
{فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيراً وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ} [النساء: ١٦٠، ١٦١]
সুতরাং ইয়াহুদীদের যুলমের কারণে আমি তাদের উপর উত্তম খাবারগুলো হারাম করেছিলাম, যা তাদের জন্য হালাল করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে অনেককে তাদের বাধা প্রদানের কারণে। আর তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, অথচ তা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল এবং অবৈধভাবে মানুষের সম্পদ খাওয়ার কারণে (সূরা আন নিসা ৪:১৬০, ১৬১)।

ইয়াহুদীদের ব্যাপারে অন্তর বিমুখতার কথা এসেছে। তাদের কথা )قُلُوبُنَا غُلْفٌ( অর্থাৎ আমাদের অন্তর আচ্ছাদিত, কথাটি শুদ্ধ নয়। কেননা আল্লাহ তা'আলাই তাদের জন্য শাস্তিস্বরূপ অন্তরকে পরিবর্তন করেন। আর অন্তরের মৌলিকত্ব হলো তা পরিবর্তনের স্বভাব বজায় থাকা। স্বভাব অনুযায়ী তা হক্ব গ্রহণের ক্ষমতা রাখে। আর ফিতরাত (স্বভাব) বিকৃত হলে অন্তর হকু গ্রহণ করে না। অন্তর যেন জমিনের মতই, জমিন অকেজো হলে তা বিলে পরিণত হয়। তাতে ফসল উৎপন্ন হয় না। অনুরূপ অন্তরও অকেজো হলে তা হক্ব গ্রহণ করে না।

অনুরূপভাবে শুয়াইব আ. এর জাতিও বিকৃত। শুয়াইব আ. নাবীগণের মধ্যে বাগ্মীতায় পারদর্শি ও স্পষ্টভাষী ছিলেন। তার স্পষ্টভাষণ ও অলংকারপূর্ণ বক্তব্যে ও প্রভাবসম্পন্ন কথার জন্য তাকে নাবীগণের খতিব উপাধি দেয়া হয়। এ সত্ত্বেও তার জাতি বলতো, আল্লাহর বাণী:
{قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيراً مِمَّا تَقُولُ وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفاً وَلَوْلا رَهْطُكَ لَرَجَمْنَاكَ وَمَا أَنْتَ عَلَيْنَا بِعَزِيزِ } [هود: ٩١]
তারা বলল, হে শু'আইব, তুমি যা বল, তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না। আর তোমাকে তো আমরা আমাদের মধ্যে দুর্বলই দেখতে পাচ্ছি। যদি তোমার আত্মীয়- স্বজন না থাকত, তবে আমরা তোমাকে অবশ্যই পাথর মেরে হত্যা করতাম। আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও (সূরা হূদ ১১:৯১)।

তারা শুয়াইব আলাইহিস সালাম এর কথা বুঝতো না। কেননা আল্লাহ তা'আলা বনী ইসরাঈলের মত তাদের অন্তর মহরাঙ্কিত করেছেন। আল্লাহ তা'আলার রীতি হলো যারা হক্ব থেকে অহংকার বশতঃ মুখ ফিরিয়ে নিবে, হক্ব পৌঁছার পরও তা গ্রহণ করবে না, আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তর বিকৃত করার মাধ্যমে শান্তি স্বরূপ তাদেরকে পরীক্ষায় ফেলবেন।

অনুরূপভাবে কুরাইশ কাফিররা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কি বলেছিল?
{ وَقَالُوا قُلُوبُنَا فِي أَكِنَّةٍ مِمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ وَفِي آذَانِنَا وَقْرٌ وَمِنْ بَيْنِنَا وَبَيْنِكَ حِجَابٌ فَاعْمَلْ إِنَّنَا عَامِلُونَ} [فصلت: ٥]
আর তারা বলে, তুমি আমাদেরকে যার প্রতি আহ্বান করছ সে বিষয়ে আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত, আমাদের কানের মধ্যে রয়েছে বধিরতা আর তোমার ও আমাদের মাঝে রয়েছে অন্তরায়, অতএব তুমি তোমার কাজ কর, নিশ্চয় আমরা (আমাদের) কাজ করব (সূরা ফুসসিলাত ৪১:৫)।

কাফিরদের পন্থা একই। রসূলগণের কথা না বুঝার কারণে তারা তাদের দাওয়াতের বিরোধিতা করে। এটা কি রসূলগণের দাওয়াত পৌঁছানোর ব্যর্থতা? না বরং কাফিরদের কুফরীর প্রবণতা, হক্ব থেকে বিমুখতা, হক্বের প্রতি মনোনিবেশ না করা ও কল্যাণ মূলক কাজে আগ্রহ না থাকারই ব্যর্থতা।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 ইয়াহুদী কর্তৃক তাওরাতের পরিবর্তে যাদর পুস্তক গ্রহণ করা

📄 ইয়াহুদী কর্তৃক তাওরাতের পরিবর্তে যাদর পুস্তক গ্রহণ করা


আল্লাহ তা'আলা ইয়াহুদীদেরকে যে কিতাব দিয়েছেন তা থেকে তারা যাদু পুস্তক রচনার মাধ্যমে বিনিময় গ্রহণ করে। আল্লাহ তা'আলা তা'আলা তা উল্লেখ করে বলেন,

{وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ}
আর যখন তাদের নিকট আল্লাহর কাছ থেকে একজন রসূল এল, তাদের সাথে যা আছে তা সমর্থন করে, আহলে কিতাবের একটি দল আল্লাহর কিতাবকে তাদের পেছনে ফেলে দেয়, (এভাবে যে) মনে হয় যেন তারা জানে না। আর তারা অনুসরণ করেছে, যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বে পাঠ করত। আর সুলাইমান কুফরী করেননি। বরং শয়তানরা কুফরী করেছে। তারা মানুষকে যাদু শেখাত (সূরা আল বাক্বারাহ ২:১০১,১০২)।
ব্যাখ্যা: তাওরাতে মুহাম্মাদ এর গুণাবলী বর্ণিত আছে এবং তাকে অনুসরণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ইয়াহুদীরা তা অস্বীকার করতো।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوباً عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْأَنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ} [الأعراف: ١٥٧]
যারা অনুসরণ করে রসূলের যে উম্মী নাবী; যার গুণাবলী তারা নিজেদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও বারণ করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র বস্তু হারাম করে। আর তাদের থেকে বোঝা ও শৃংখল যা তাদের উপরে ছিল অপসারণ করে (সূরা আল আরাফ ৭:১৫৭)।
এমনিভাবে ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে ইনজিলে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّراً بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} [الصف: ٦]

'হে বনী ইসরাঈল! নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রসূল। আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং একজন রসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমদ'। অতঃপর সে যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বলল, 'এটাতো স্পষ্ট যাদু' (সূরা আছ ছুফ ৬১:৬)।

রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম, তার রিসালাত ও তার গুণাবলীর কথা তাওরাত ও ইনজিলে উল্লেখ আছে, এমনকি ইয়াহুদীরা তাদের সন্তানদের মতই রসূল সা. কে চিনলেও আল্লাহর কিতাব তাওরাতকে অস্বীকার করলো ও তাকে বর্জন করলো। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে পরীক্ষায় ফেললেন এভাবে যে, তারা শয়তানের কর্ম যাদুর কিতাব গ্রহণ করলো।

তারা শয়তানের কর্ম দ্বারা বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলার অহীর পরিবর্তন ঘটালো, যা তাদের শাস্তি হিসাবে নির্ধারিত। যারা হক্ব থেকে বিমুখ হয়, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বাতিলে নিমজ্জিত করেন।

যারাই হক্ব পরিত্যাগ করে তাদেরকে বাতিলের পরীক্ষায় পড়তে হয়। আল্লাহর একত্ব ও একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের ব্যাপারে যারা রসূলগণের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য স্পষ্ট বর্ণনা হলো তারা শিরক ও কুসংস্কারে লিপ্ত থাকার মাধ্যমে পরীক্ষায় পড়ে। আর শিরক ও কুসংস্কারের পক্ষে দলীল পেশ করে বাতিলকে হকু হিসাবে মানুষের মাঝে প্রচার করে।

কুসংস্কারে নিমজ্জিত ও কবর পূজারী অনেক আলেম আল্লাহর একত্ব, আল্লাহর কিতাব ও রসূল সা. এর সুন্নাতের দিকে দাওয়াতের পরিবর্তে বাতিলের দিকে আহবান করে এবং আল্লাহ, কবর পূজা এবং মৃতদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেয়। তারা মানুষের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং বাতিল কর্মে ব্যস্ত থাকে। এ থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 নাবী-রসূলগণের দিকে বাতিল সম্পর্কিত করা

📄 নাবী-রসূলগণের দিকে বাতিল সম্পর্কিত করা


নাবীগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। আল্লাহর বাণী:

{وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ} [البقرة: ١০২]
সুলাইমান কুফরী করেনি (সূরা আল বাক্বারাহ ২:১০২)। আল্লাহর বাণী: {مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًا وَلا نَصْرَانِياً} [آل عمران: ৬৭] ইব্রাহীম ইহুদীও ছিল না, নাসারাও ছিল না (সূরা আলে-ইমরান ৩:৬৭)।
ব্যাখ্যা: জাহিলী পদ্ধতি: জাহিলরা নাবীগণকে কুফরী ও ভ্রষ্টতার সাথে সম্পৃক্ত করে। যেমনভাবে ইয়াহুদীরা সুলাইমান আ. কে যাদু কর্মের সাথে সম্পৃক্ত করে। তারা বলতো যাদু করা সুলাইমান আ. এর কর্ম। (তাদের ধারণা) যাদুর মাধ্যমে সে জিন ও শয়তানকে বশ করে। জাহিলরা জানে না যে, শয়তান আল্লাহরই সৃষ্টি। আল্লাহ তা'আলা যেভাবে চান জিন শয়তানকে অধীন করেন। আর আল্লাহ তা'আলা জিন শয়তানকে সুলাইমান আ. এর জন্য বশীভূত করেন। তাই ঐ সব ইয়াহুদীরা সুলাইমান আ. কে যাদুর সাথে সম্পৃক্ত করে। মানুষের মাঝে যাদু কর্ম হালাল বলে প্রচার করে, কেননা তা নাবীগণের কর্ম মনে করতো।
অনুরূপভাবে ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা একনিষ্ঠদের নেতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে কুফরীর সাথে সম্পৃক্ত করে। তারা যে কুফরীর উপর আছে তার সাথে ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে সম্পৃক্ত করে বলে, এটা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর দীন। আল্লাহ তা'আলা নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করেন। {مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًا وَلَا نَصْرَانِيّاً وَلَكِنْ كَانَ حَنِيفاً مُسْلِماً وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [آل عمران : ৬৭]
ইব্রাহীম ইহুদীও ছিল না, নাসারাও ছিল না। বরং সে ছিল একনিষ্ঠ মুসলিম। আর সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না (সূরা আলে-ইমরান ৩:৬৭)।

একত্বই হলো ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর দীন। তিনি শিরক ও মুশরিক হতে মুক্ত ছিলেন। ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা যে কর্ম পদ্ধতির উপর অটল ছিল, তিনি তার বিরোধিতা করেন।
ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর অনেক যুগ পরে ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের উদ্ভব ঘটে। তাহলে কিভাবে তাকে ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান বলে সম্পৃক্ত করা হয়?! এটাতো কেবল জঘন্য মিথ্যা। ইতিহাস তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। কেননা ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান ও ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর মাঝে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়েছে।

ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর যুগ অতিক্রান্ত হওয়ার পর মূসা আলাইহিস সালাম এর উপর তাওরাত ও ঈসা আলাইহিস সালাম এর উপর ইনজিল নাযিল হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تُحَاجُّونَ فِي إِبْرَاهِيمَ وَمَا أُنْزِلَتِ التَّوْرَāةُ وَالْأَنْجِيلُ إِلَّا مِنْ بَعْدِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} [آل عمران : ٦٥] . [ كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلاً لِبَنِي إِسْرَائِيلَ إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَى نَفْسِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ تُنَزَّلَ التَّوْرَāةُ قُلْ فَأْتُوا بِالتَّوْرَāةِ} [آل عمران: ٩٣]
হে কিতাবীগণ, তোমরা ইব্রাহীমের ব্যাপারে কেন বিতর্ক কর? অথচ তাওরাত ও ইঞ্জীল তো তার পরই অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা কি বুঝবে না?সকল খাবার বনী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল। তবে ইসরাঈল তার নিজের উপর যা হারাম করেছিল তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে। বল, তাহলে তোমরা তাওরাত নিয়ে আস, অতঃপর তা তিলাওয়াত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও (সূরা আলে-ইমরান ৩:৬৫,৯৩)।

অনুরূপভাবে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উম্মাতে মুহাম্মাদীর মাঝে জাল-মিথ্যা হাদীছ প্রচারের মাধ্যমে মিথ্যুকরা নাবী মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বাতিলের সাথে সম্পৃক্ত করে। আর এমনিভাবে কতিপয় উম্মত ইমামদের আক্বীদার বিরোধিতায় তাদেরকে বাতিলের সাথে সম্পৃক্ত করে। অতঃপর ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলকে মু'তাযিলা (المعتزلة) ও আশ'আরী (الأشاعرة) আক্বীদার সাথে সম্পৃক্ত করে। এসকল সালাফী ইমামদেরকে জাহিলরা বাতিল আক্বীদার সাথে সম্পৃক্ত করে অথচ ঐ সকল ইমাম মু'তাযিলা ছিলেন না। বরং তারা মু'তাযিলা ও কালাম শাস্ত্র (যুক্তিবিদ্যা) এর আলেমদের বিরোধিতা করতেন।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 নাবী-রসূলগণের বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাদের দিকে নিজেদেরকে সম্পর্কিত করা

📄 নাবী-রসূলগণের বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাদের দিকে নিজেদেরকে সম্পর্কিত করা


নাবীগণের সাথে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে বিরোধিতা করা। জাহিলরা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর আনুগত্য ত্যাগ করে প্রকাশ্যে তার বিরোধিতায় লিপ্ত হয়。
ব্যাখ্যা: পরস্পর বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সম্পৃক্ত করা: ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এমন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা যা তার (আদর্শ) বিরোধী। এ ধরণের সম্পৃক্ততা বাতিল ও মিথ্যা। পক্ষান্তরে তার আদর্শ বিরোধী নয় এমন বিষয়ের সাথে তাকে সম্পৃক্ত করাই (الانتساب الصحيح) আল-ইনতেসাবুস ছহীহ (সঠিক সম্পৃক্ততা) হিসাবে গণ্য। আল্লাহর একত্বতা, তার ইবাদতের একনিষ্ঠতা ও মুশরিকদের থেকে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর মুক্ত থাকার বিষয়ে তিনি যে আদর্শ নিয়ে এসেছেন তার সাথে তাকে সম্পৃক্ত করা যুক্তিযুক্ত, যা তার বিরোধী নয়। ইয়াহুদীদের হজ্জ পালন থেকে বিরত থাকা এবং কাবাকে কেবলা মেনে না নেয়া সত্ত্বেও তারা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর সাথে (নিজেদেরকে) সম্পৃক্ত করে। এ জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكاً وَهُدىً لِلْعَالَمِينَ فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِناً وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [آل عمران: ٩٦,٩٧]
নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও হেদায়াত বিশ্ববাসীর জন্য। তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহীম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয। আর যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী (সূরা আলে-ইমরান ৩:৯৬,৯৭)

অনুরূপভাবে, যারা চার ইমামের আক্বীদার সাথে সম্পৃক্ত, তারা জাহমিয়াহ, মু'তাযিলা ও আশআ'রিয়াদের আক্বীদা গ্রহণ করা ছাড়াই ইমামদের আক্বীদা গ্রহণ করা তাদের জন্য ওয়াজীব হবে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00