📄 ফাসিক আলিম ও মূর্খ ইবাদতকারীদের অনুসরণ করা
আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণী:
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيراً مِنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [التوبة: ٣٤]
হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয় পন্ডিতগণ ও সংসার বিরাগীদের অনেকেই মানুষের ধন- সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, আর তারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাহে খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও (সূরা আত-তাওবা ৯:৩৪)।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, {لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيراً وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيل [المائدة: ৭७]
বল, হে কিতাবীরা, সত্য ছাড়া তোমরা তোমাদের ধর্মের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না এবং এমন সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং সোজা পথ বিচ্যুত হয়েছে (সূরা আল-মায়েদা ৫:৭৭)।
ব্যাখ্যা: জাহিলী বিষয়সমূহ: আলেমদের পাপাচারীতার মাধ্যমে দলীল পেশ করা। ফাসেক হলো জ্ঞান ও আমলগত দিক থেকে যে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বের হয়ে যায়। ফাসেক আলেম হচ্ছে যারা জ্ঞানানুযায়ী আমল করে না অথবা আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ করে, যদিও জানে তারাই মিথ্যাবাদী। নিজেদের খেয়ালখুশি ও কু-প্রবৃত্তির অনুসরণের জন্য তারা আলেমের বেশ ধারণ করে, মানুষ তাদের বিশ্বাস করে। আর ইলম-জ্ঞান ছাড়া আমল করাই হচ্ছে ইবাদতকারীদের পাপাচারীতা। মানুষ ইবাদতকারীদের বিশ্বাস করে বলে থাকে তারাতো নেকলোক।
আলেম ও ইবাদতকারীর দ্বারা প্রতারিত হওয়া যাবে না যতক্ষণ না তাদের প্রত্যেকে সঠিক দীনে বহাল থাকে। ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيراً مِنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [التوبة: ٣٤]
হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয় পন্ডিতগণ ও সংসার বিরাগীদের অনেকেই মানুষের ধন- সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, আর তারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় (সূরা আত- তাওবা ৯:৩৪)।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, { اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ ... } [التوبة: ٣١]
তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিতগণ ও সংসার-বিরাগীদেরকে রব হিসাবে গ্রহণ করেছে (সূরা আত-তাওবা ৯:৩১)।
তারা হারামকে হালাল ও হালালকে হারাম সাব্যস্ত করে, অতঃপর তার অনুসরণ করে। একারণে আল্লাহ তা'আলা ছাড়াই তারা নিজেদেরকে প্রভু হিসাবে গ্রহণ করেছে। এ থেকে আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
হালাল ও হারাম নির্ধারণ করা আল্লাহরই অধিকার। বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ও কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করে হারাম অথবা হালাল নির্ধারণ করার অধিকার কারো নেই। তাতে মানুষ খুশি হয় ও তাল মিলিয়ে চলে। বর্তমানেও মানুষ শরী'আতের পরিবর্তন করছে। মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলা ও মানুষকে খুশি করার জন্য অনুমান করে হারামকে হালাল করা হচ্ছে। তারা ফন্দি তালাশ করে অনুমোদন চায় অথবা আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ করে। কেননা আল্লাহ তা'আলা মানুষের স্বার্থেই হালাল ও হারাম নির্ধারণ করেন। (দীনের পরিবর্তনকারী) ঐসব লোকই পাপাচারী আলেম। আর যে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যায় সে ফাসেক। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيراً مِنَ الْأَحْبَارِ} [التوبة: ٣٤
হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয় পন্ডিতগণ ও সংসার বিরাগীদের অনেকেই মানুষের ধন- সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে (সূরা আত-তাওবা ৯:৩৪)।
মু'মিনদেরকে সতর্ক করার জন্য এ আহবান করা হয়েছে। আর আহবার )الأحبار( হলো আলেমগণ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইয়াহুদী আলেমদেরকে বুঝানো হয়ে থাকে। আর রূহবান )الرهبان( তথা ইবাদতকারীগণ। এটাও অধিকাংশ সময় খ্রিষ্টান ইবাদতকারীগণকে বুঝানো হয়।
খ্রিষ্টানদের মাঝে বৈরাগ্যবাদ রয়েছে। আর ইয়াহুদীদের মাঝে বিদ্বান আছে। যদিও ইয়াহুদীরা অভিশপ্ত ও খ্রিষ্টানরা পথভ্রষ্ট। আল্লাহ তা'আলা ছালাতের প্রত্যেক রাক'আতে আমাদেরকে নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করার নির্দেশ দেন:
{ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: ٦ ، ٧]
আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন। তাদের পথ, যাদেরকে নি'মাত দিয়েছেন (নাবী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ, সৎকর্মপরায়ণ): যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয় নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয় (সূরা ফাতিহা ১:৬,৭)।
{ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ} যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি
আর খ্রিষ্টানরা আমল ছাড়াই ইলমের অধিকারী। তারাই হলো পাপাচারী আলেম। }وَلَا الضَّالِّينَ{ অর্থাৎ যারা পথভ্রষ্টও নয়
খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য জাতির মাঝে বৈরাগ্যবাদী আছে, যারা দলীল-প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর ইবাদত করে। তারা কেবল বিদ'আত, নবাবিষ্কৃত বিষয়ের অনুসরণ ও নির্বুদ্ধিতার বশবর্তী হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে।
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে নিষেধ করেন পাপাচারী আলেম ও পথভ্রষ্ট ইবাদতকারীর নিকট যেতে। আর আদেশ করেন কুরআন ও সুন্নাহর দলীলসহ হক্ক গ্রহণ করতে।
বর্তমানে কোন বিষয়ে কারো জানার আকাঙ্খা হলে সে বলে, অমুক আমাকে এ ফাতওয়া দিয়েছে। কুরআন ও সুন্নাহর দলীলের দিকে ভ্রূক্ষেপ করা ছাড়াই এটা করা হয়। তাই ফাতওয়া দানকারীকে যখন বলা হয়, এটা ভুল ফাতওয়া। তখন সে বলে, আমার কি করার আছে! অমুকতো এর উপর অটল থেকেই ফাতওয়া দিয়েছেন।
যখন কোন ফাতওয়া তার ইচ্ছা বিরোধী হয় তখন সে বলে, এ ফাতওয়া ঠিক নয় অথবা এটা কঠিন ফাতওয়া। আর মিথ্যা ও আলেমদের ভুল-ত্রুটি একত্রিত করে তারা কিতাব আকারে মানুষের মাঝে প্রকাশ করে। মানুষের সামনে তাদের অনুমান ব্যাপক পরিসরে তুলে ধরে বলে, ইসলাম উদার। তোমরা মানুষকে বাধ্য করো না।
তাদেরকে যখন বলা হয়, এসব ফাতওয়া কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে পেশ করুন। তখন তারা বলে, এগুলোতো আলেমদের কথা।
কুরআন ও সুন্নাহর চেয়ে কি আলেম বড় হতে পারে! কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে তারা পেশ করে না কেন?! এরূপ কাজ কু-প্রবৃত্তির অনুসারীরাই করতে পারে। এ থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যারা বলে: { اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ} [التوبة: ٣١]
তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিতগণ ও সংসার-বিরাগীদেরকে রব হিসাবে গ্রহণ করেছে (সূরা আত-তাওবা ৯:৩১)।
যখন তাদেরকে বিদআ'ত থেকে নিষেধ করা হয় যে ব্যাপারে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্ক করেছেন, তখন তারা বলে, অমুক ব্যক্তি এরূপ আমল করে, তিনিতো আলেম অথবা নেকলোক। আর অমুক দেশে এ আমলের প্রচলন আছে। তাদের মাঝেও সৎকর্ম ও তাক্বওয়া আছে। এক্ষেত্রে আমরা বলবো, সৎকর্ম ও তাক্বওয়া যথেষ্ট নয়। কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক হওয়া আবশ্যক।
সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহর দলীল ছাড়াই আলিম ও ইবাদতকারীদের কথাকে তারা সঠিক সিদ্ধান্তরূপে গ্রহণ করে। এটাই জাহিলদের পদ্ধতি যারা তাদের আলেম ও ইবাদতকারীদেরকে প্রভু হিসাবে গ্রহণ করেছে।
📄 দ্বীনদারদেরকে অহেতুক বৃক্ষের স্বল্পতা এবং মৃগয় না করার দোষে দোষী করা
দীনের অনুসারীদের বুদ্ধিমত্তার কমতি ও মুখস্থ শক্তি না থাকার অজুহাতে দীনকে বাতিল হিসাবে প্রমাণ করা। আল্লাহ তা'আলার বাণী: {بَادِيَ الرَّأْيِ} [هود : ২৭] অর্থাৎ বিবেচনাহীনভাবে (সূরা হুদ: ২৭)
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলা নূহ আ. এর জাতির কথা উল্লেখ করে বলেন, {وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا} [هود : ২৭]
আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে। আর আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি না। বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করছি (সূরা হুদ ১১: ২৭)। অর্থাৎ দুর্বলরা। {بَادِي الرَّأْيِ} তথা যাদের কোন বুঝশক্তি নেই-নির্বোধ। রসূল জ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারীদের বোধশক্তি, দক্ষতা ও চিন্তা-চেতনা নেই বলে তাদেরকে তারা তিরস্কার করে। বর্তমানে অনেক বিপথগামী ও আল্লাহর শত্রুরা এ ব্যাপারে দাম্ভিকতার সাথে চলছে। আর মুসলিম ও তাদের আলেমদেরকে নিয়ে তারা তামাশা করে। কারণ তাদের নাকি বুঝশক্তি ও দুরদর্শন নেই। তাই মুসলিমদের আলেমগণ বিচক্ষণ সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে এ অপবাদ দিয়ে তারা নিন্দা জ্ঞাপন করে। কেননা আলেমরা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমেই চিন্তা গবেষণা করে। তারা আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে বলেন এবং আল্লাহ তা'আলা যা নিষেধ করেন তা থেকে দুরে থাকতে বলেন।
সন্দেহ নেই যে, রসূলগণের পরে নেক আমলকারী আলেমগণ উত্তম মানুষ হিসাবে বিবেচিত। তারকারাজীর উপর চাঁদের মর্যাদা যেমন ইবাদতকারীর উপর আলেমের মর্যাদা তেমনই। সুতরাং যারা জাহিলদের সমকক্ষ তারা ব্যতীত আলেমদের বোধশক্তি না থাকা ও চিন্তা-চেতনার স্বল্পতার অভিযোগে তাদেরকে নিন্দা ও তিরস্কার করা যাবে না। নুহ আ. এর জাতি রসূলগণের অনুসারীদেরকে অনুরূপভাবে তিরস্কার করতো। যাতে মানুষ রসূলগণের নিকট থেকে পলায়ন করে। বর্তমানেও কিছু মানুষের মুখ থেকে তিরস্কারমূলক কথা প্রকাশ পায়। তারা বলে, ঐ সকল আলেমগণ কেবল হায়েয ও নেফাসের মাসআলা এবং জামরায় পাথর নিক্ষেপের বিধান নিয়ে আলোচনা করে। তাদের ধারণায় এসব আলেম স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী, তাদের আধুনিক কোন জ্ঞান নেই। জাহিলদের নিকট রাজনীতির জ্ঞান ও নেতৃত্বের মোহই আধুনিকতা।
📄 বাতিল ক্বিয়াসের উপর নির্ভর করা ও ছহীহ ক্বিয়াসকে প্রত্যাখ্যান করা
ভ্রষ্ট ক্বিয়াসের মাধ্যমে দলীল পেশ করা। যেমন আল্লাহর বাণী:
إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا} [إبراهيم: ١০]
তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ (সূরা ইবরাহীম ১৪:১০)।
আর বিশুদ্ধ ক্বিয়াসকে অস্বীকার করা: জামে ও তার পূর্ববর্তী বিষয় অস্বীকার করা। জামে ও ফারেকের জ্ঞান না থাকা।
ব্যাখ্যা: উসূলবিদদের নিকট: ক্বিয়াস (তুলনা) দু'প্রকার:
১. ক্বিয়াসু ইল্লাহ (কারণগত ক্বিয়াস)। একই হুকুমে মূল ও শাখা উভয়টি একত্রিত করার জন্য মৌলিক বিষয়ের সাথে শাখা মিলানো। শর্তসমূহের মধ্যে কোন একটি শর্ত ভঙ্গ হলে তা ভ্রান্ত ক্বিয়াস হিসাবে গণ্য হবে। কোন বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এর উপর নির্ভর করা যাবে না। এটি একটি মারাত্মক সমস্যা। ইবনুল কাইয়ুম রহিমাহুল্লাহ বলেন, ভ্রান্ত ক্বিয়াসের কারণে অধিকাংশ মানুষ বিপথগামী হয়। আর প্রথমে ক্বিয়াস চর্চা করে ইবলিশ। আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা করার জন্য আল্লাহ তা'আলা তাকে নির্দেশ দিলে সে বলে,
قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} [الأعراف: ١২]
তিনি বললেন, কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছে যে, সিজদা করছ না, যখন আমি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছি? সে বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে (সূরা আরাফ ৭:১২)।
সে ধারণা করে মাটি থেকে আগুন উত্তম। তাই সে আদমের চেয়ে নিজেকে উত্তম মনে করে। এটা ছিল ইবলিশের ভ্রান্ত ক্বিয়াস-তুলনা। কেননা আগুন কখনো মাটির চেয়ে উত্তম হতে পারে না। বরং মাটিই আগুনের চেয়ে উত্তম। কারণ আগুন সাধারণত সব জিনিসকে পুড়িয়ে ধ্বংস করে করে দেয়। অথচ মাটি বিভিন্ন জিনিস ও শস্য উৎপন্ন করে, তাতে মানুষের কল্যাণ রয়েছে। আর যদি আমরা ক্বিয়াসের দিকে অগ্রসর হতাম, তাহলে বলতাম আগুন থেকে মাটি উত্তম। এ ধরণের তুলনা করা ক্বিয়াস নয়। বরং আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ও অনুগ্রহের উপরই নির্ভর করতে হবে। কারণ আল্লাহ যা চান ও যা ইচ্ছা করেন তাই হয়। আল্লাহ তা'আলার রয়েছে পূর্ণ হেকুমাত। অনুরূপভাবে মুশরিকরাও ক্বিয়াস করে রসূলগণকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে বলতো,
{إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا} [إবراهيم: ১০] তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ (সূরা ইবরাহীম ১৪:১০)।
রসূলগণ মানুষ হওয়ার কারণে তাদের উপর রিসালাত বিশুদ্ধ না হওয়ার উপর মুশরিকরা প্রমাণ পেশ করে। তাদের ধারণায় মানুষের উপর রিসালাত বিশুদ্ধ নয়। রিসালাতের ব্যাপারে এটা তাদের ক্বিয়াস। এ ধরণের ক্বিয়াস বাতিল। কেননা তা বিভেদ সৃষ্টিকারী ক্বিয়াস। আল্লাহ তা'আলা রসূলগণকে অন্যদের উপর মর্যাদা দান করেছেন এবং তাদেরকে পছন্দ করে বাছাই করেছেন। আর তাদের অবস্থা ও রিসালাতের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন।
{اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلائِكَةِ رُسُلاً وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ} [الحج: ৭৬,৭৫] আল্লাহ, ফিরিশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রসুল মনোনীত করেন। অবশ্যই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্ব দ্রষ্টা (সূরা হাজ্জ ২২:৭৫,৭৬)। এ কারণে তারা রসূলগণকে বলতো,
{إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَنْ تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُبِينٍ قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِنْ نَحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ} [إبراهيم: ১১] তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ, তোমরা আমাদেরকে আমাদের পিতৃ-পুরুষরা যার ইবাদাত করত, তা থেকে ফিরাতে চাও। অতএব তোমরা আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আস। তাদেরকে তাদের রসূলগণ বলল, আমরা তো কেবল তোমাদের মতই মানুষ, কিন্তু আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন (সূরা ইবরাহীম ১৪:১১)।
রসূলগণ বলতেন, আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে মর্যাদা দিয়েছেন এবং অনুগ্রহ করে রিসালাতের জন্য আমাদেরকে বাছাই করেছেন। তাই তোমাদের ক্বিয়াস বিভেদ সৃষ্টিকারী। সব মানুষ সমান নয় তাই তারা সমপর্যায়ে থাকতে পারে না। মানুষের মাঝে কাফির, মু'মিন, রসূল, আলেম, সৎলোক, অজ্ঞ ও ফাসেক সবই আছে। তাই মানুষের মাঝে ব্যবধান বিদ্যমান। বিভেদপূর্ণ: ক্বিয়াস পরিত্যাজ্য। কেননা উসূলবিদদের নিকট এ ধরণের: ক্বিয়াস নিকৃষ্ট। মানুষের নিকট তাদের মধ্য থেকে রসূলগণের আগমনই যুক্তিযুক্ত, যাতে তিনি তাদেরকে বুঝাতে পারেন।
{قُلْ لَوْ كَانَ فِي الْأَرْضِ مَلَائِكَةٌ يَمْشُونَ مُطْمَئِنِينَ لَنَزَّلْنَا عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ مَلَكًا رَسُولاً} [الإسراء : ٩٥ ]
বল, 'ফেরেস্তারা যদি যমীনে চলাচল করত নিশ্চিন্তভাবে তাহলে আমি অবশ্যই আসমান হতে তাদের কাছে ফেরেস্তা পাঠাতাম রসূল হিসাবে' (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৯৫)।
তাই মানুষের নিকট রিসালাত পৌঁছে দেয়ার জন্য রসূলগণ দাঈ হিসাবে গণ্য। আর মানুষের মধ্যে থেকে রসূল হওয়া যুক্তিযুক্ত। পৃথিবীতে বসবাসকারীগণ যদি ফেরেস্তা হতো তাহলে তাদের জন্য ফেরেস্তাদের মধ্যে থেকে রসূল আসতেন।
ঐ সব জাহিলদের বিষয় বড়ই আশ্চর্য! মানুষের মধ্যে থেকে রিসালাত প্রাপ্ত হওয়াকে জাহিলরা অসম্ভব মনে করে। অথচ পাথরের ইবাদত করাকে তারা কিভাবে সম্ভব মনে করে! কিন্তু পাথর ও গাছকে প্রভূ ও উপাস্য স্বীকার করাকেই তারা সম্ভব মনে করে। এতদসত্ত্বেও মানুষের রিসালাত প্রাপ্ত হওয়াকে তারা স্বীকার করে না এবং সম্ভব মনে করে না!
নূহ আলাইহিস সালাম এর কাফির সম্প্রদায় ও অন্যান্যরা এ বাতিল ক্বিয়াসের উপরই ছিল। রসূলগণ মানুষ হওয়ায় তারা রিসালাতকে অস্বীকার করতো। রসূলগণ মানুষ হওয়ার কারণে নূহ আলাইহিস সালাম এর জাতিসহ অন্যরা তাদের রিসালাতকে অস্বীকার করতো। নূহ আলাইহিস সালাম এর জাতি বলেছিল,
{مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُرِيدُ أَنْ يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَنْزَلَ مَلَائِكَةً مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ إِنْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ بِهِ جِنَّةٌ فَتَرَبَّصُوا بِهِ حَتَّى حِينٍ} [المؤمنون: ٢٤،٢٥]
এতো তোমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া কিছুই না। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেস্তা নাযিল করতেন। এ কথাতো আমরা আমাদের পূর্বতম পিতৃ-পুরুষদের সময়েও শুনিনিসে কেবল এমন এক লোক, যার মধ্যে পাগলামী রয়েছে। অতএব তোমরা তার সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর (সূরা মু'মিনূন ২৩:২৪,২৫)।
অনুরূপভাবে অন্যান্য জাতিরাও বলতো আর কুরাইশরা মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যাপারে বলেছিল,
{أَأُلْقِيَ الذِّكْرُ عَلَيْهِ مِنْ بَيْنِنَا} [القمر: ২৫]
আমাদের মধ্য থেকে কি তার ওপরই উপদেশবাণী পাঠানো হয়েছে? বরং সে চরম মিথ্যাবাদী অহংকারী (সূরা আল-ক্বামার ৫৪:২৫)।
কাফিরদের নিকট বহুল প্রচলিত রীতি হলো ভ্রান্ত ক্বিয়াস করা।
২. ক্বিয়াসুস শিবহি (قياس الشبه) বা সাদৃশ্য মূলক ক্বিয়াস।
তা হলো দু'টি মূলের মাঝে শাখাকে পুনরাবৃত্তি করা, তারপর মূল দু'টির সাথে বেশি সাদৃশ্যতা সংযোজন করা। আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য করা যাবে না। সৃষ্টির উপর কোন ক্বিয়াস হয় না। কোন ক্বিয়াসই আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যতায় সমান নয়। একমাত্র আল্লাহ তা'আলার অধিকারের ক্ষেত্রে উত্তম ক্বিয়াস ব্যবহৃত হবে। আর তা হলো এভাবে বলা যে, প্রত্যেক পূর্ণতা সৃষ্টির জন্যই সাব্যস্ত, আর স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলাই তার সৃষ্টি হ্রাস করার প্রয়োজন অনুভব করতে পারেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [النحل: ৬০]
আল্লাহর জন্য রয়েছে মহান উদাহরণ। আর তিনিই পরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানী (সূরা আন নাহাল ১৬:৬০)।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, {فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: ৭৪]
তোমরা আল্লাহর জন্য কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না (সূরা আন নাহাল ১৬:৭৪)।
পরবর্তী বিষয়: বিশুদ্ধ ক্বিয়াসকে তারা অস্বীকার করে। তা হলো: মানুষের মধ্যে থেকে রসূল হিসাবে তাদের নিকট মানুষই আগমন করা এবং ফেরেস্তাদের মধ্যে থেকে রসূল হিসাবে ফেরেস্তাই আগমন করা। এটা বিশুদ্ধ ক্বিয়াস যা বিচক্ষণতার দাবী রাখে যে, প্রেরিত ব্যক্তিকে যাদের নিকট প্রেরণ করা হবে তিনি তাদের মত। সমজাতীয় হবেন, অন্য কোন জাতের হবেন না। যারা এ দু'টি বিষয়ে মানুষকে প্ররোচিত করে তারা জামি (ক্বিয়াসের ভিত্তি) ও ফারিক (যা দ্বারা ক্বিয়াস শুদ্ধ হয় না) এর ব্যাপারে অজ্ঞ।
জামি (جامع) বলা হয় যার উপর ভিত্তি করে ক্বিয়াস গঠিত হয়।
আর ফারিক (الفارق) হলো যে বিষয়ের মাধ্যমে ক্বিয়াস বিশুদ্ধ হয় না。
টিকাঃ
২৫. জামে (جامع) বলা হয় যার উপর ভিত্তি করে কিয়াস গঠিত হয়। আর ফারেক (الفرق) হলো যে বিষয়ের মাধ্যমে কিয়াস বিশুদ্ধ হয় না।
📄 বিদ্বান ও নেক লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা
আলিম ও নেকলোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা জাহিলিয়্যাত। আল্লাহর বাণী: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} [النساء: ١٧١] হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ছাড়া বলো না (সূরা আন নিসা ৪:১৭১)।
ব্যাখ্যা: এটি একটি মারাত্মক বিষয়। (الغلو) এর আভিধানিক অর্থ: সীমা অতিক্রম করা (الزيادة عن الحد) । যেমন উদাহরণ স্বরূপ: যখন হাড়িতে পানিপূর্ণ হয়ে উথলিয়ে যায় তখন বলা হয় (غلا القدر) হাড়ি উথলিয়ে গেছে। (غلا السعر) অর্থাৎ ভালো কাজের সীমা অতিক্রম করা। সুতরাং বাড়াবাড়ি (الغلو) হচ্ছে কোন জিনিসের الزيادة والارتفاع عن الحد المعروف । অতিরিক্ততা ও ভাল বিষয়েরও সীমা অতিক্রম করা।
শরীয়তের পরিভাষায় তা হচ্ছে কোন ব্যক্তিকে তার যথোপযুক্ত অবস্থান থেকে উপরের অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। যেমন নাবীগণ অথবা নেকলোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা, তাদের ক্ষমতাকে রব অথবা উপাস্যের পর্যায়ে তুলে ধরা। জাহিলরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাড়াবাড়ি মূলক ক্ষমতাবান মনে করে তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার সাথে রব হিসাবে গ্রহণ করে। যেমন ইয়াহুদীরা উযাইর আলাইহিস সালাম এর ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে তাকে আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করেছে। আর মানুষের মধ্যে থেকে মারইয়ামের পুত্র ও তার রিসালাতের ব্যাপারে খ্রিষ্টানরা সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহর পুত্র হিসাবে রবের পর্যায়ে নির্ধারণ করেছে। অনুরূপভাবে নূহ আলাইহিস সালামএর জাতি নেক লোকদের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছে। তারা নেক লোকদের মূর্তি তৈরি করার পর আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে রবের মর্যাদা স্বরূপ তাদের ইবাদত করতো।
{ وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهِتَكُمْ وَلا تَذَرُنَّ وَدَا وَلا سُوَاعاً وَلا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْراً} [نوح: ٢٣]
আর তারা বলে, 'তোমরা তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না; বর্জন করো না ওয়াদ, সুওয়া', ইয়াগূছ, ইয়া'উক ও নাসরকে' (সূরা নূহ ৭১:২৩)।
অর্থাৎ তাদেরকে তারা উপাস্য নির্ধারণ করতো। অনুরূপভাবে নূহ আলাইহিস সালাম এর জাতি ছাড়াও বর্তমানে মুশরিকদের বিভিন্ন সম্প্রদায় নেক লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। আর তারা নেক লোকদের কবর তাওয়াফ করে তাদের জন্য পশু উৎসর্গ করে, মানত করে, মৃতদের নিকট সাহায্য কামনা করে, সাহায্যের আবেদন তুলে ধরে ও তাদের নিকট অভাব অভিযোগের জন্য সমাধান তালাশ করে। তাই যারা ধৃষ্টতা দেখায় তারা এরূপ শিরকের দিকে ধাবিত হয়।
এ জন্য নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, لا تُطروني كما أطرت النصارى ابن مريم والإطراء هو الغلو في المدح "إنما أنالا عبد، فقولوا: عبد الله ورسوله
তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিও না যেমন খ্রিষ্টানরা মারইয়ামের পুত্রকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে। আর এখানে ধৃষ্টতা বলতে প্রশংসায় অতিরঞ্জন করা। আমি কেবল বান্দা নই বরং তোমরা বলো আল্লাহর বান্দা ও রসূল।
নাবী ও নেকলোকদের বাড়াবাড়ি কিতাবধারী ও উম্মি (নিরক্ষর) লোকদেরকে শিরকে আকবারে (বড় শিরকে) লিপ্ত করে। মানুষদের জানা আবশ্যক নাবী ও নেকলোকদের ক্ষমতা কতটুকুন। তাহলে রসূলগণের রিসালাত সম্পর্কে জানা যাবে, নেকলোকদের সঠিক পন্থা ও আলেমদের ইলম সম্পর্কেও জানা যাবে যে তারা অন্যদের থেকে উত্তম। তারকারাজীর উপর চন্দ্রের যেমন মর্যাদা আবেদের উপর আলেমের মর্যাদা তেমনই। ফলে মানুষ তাদের উপযুক্ত মর্যাদা দিবে, তাদের মর্যাদার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ} [النساء: [۱۷۱
হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ছাড়া বলো না। মারইয়ামের পুত্র মাসীহ ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রসূল এবং তাঁর কালিমা, যা তিনি প্রেরণ করেছিলেন মারইয়ামের প্রতি ও তাঁর পক্ষ হতে রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি ঈমান আন এবং বল না, তিন (সূরা আন নিসা ৪:১৭১)।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
{قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيراً وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ} [المائدة: ٧٧]
বল, হে কিতাবীরা, সত্য ছাড়া তোমরা তোমাদের ধর্মের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না এবং এমন সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং সোজা পথ বিচ্যুত হয়েছে (সূরা আল-মায়েদা ৫:৭৭)। নাবী দ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إياكم والغلو في الدين، فإنما أهلك من كان قبلكم الغلو في الدين তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকো। কেননা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির কারণে তোমাদের পূর্ববর্তী জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।
তাই সৃষ্টির ব্যাপারে বাড়াবাড়ি বৈধ নয়। আর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে যে অবস্থানে রেখেছেন তার উপর অতিরঞ্জন করাও বৈধ নয়। কেননা এটা আল্লাহ তা'আলার সাথে শিরকের দিকে ধাবিত করে। অনুরূপভাবে আলেম এবং আবেদের ব্যাপারেও ধৃষ্টতা বৈধ নয়। ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন, {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ} [التوبة: ٣١]
তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিতগণ ও সংসার-বিরাগীদেরকে রব হিসাবে গ্রহণ করেছে (সূরা আত-তাওবা ৯:৩১)।
তাদের আলেম ও ইবাদতকারীদের নিয়ে তারা বাড়াবাড়ি করে। আর হারামকে হালাল ও হালালকে হারাম করার ব্যাপারে ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানরা তাদেরকে সঠিক বলে বিশ্বাস করে। আর পবিত্র শরী'আত বিকৃত করে।
টিকাঃ
২৬. জ্বহীহ বুখারী হা/৩৪৪৫।
২৭. ছহীহ: নাসাঈ ৩০৫৭, ইবনে মাজাহ ৩০২৯, মুসনাদে আহমাদ ৪৩৭, ছহীহ জা ে২৬৮০।