📄 জাহিলী বিষয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্মক বিষয়
সবচেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্মক জাহিলিয়্যাত হচ্ছে, অন্তরে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর নাযিলকৃত ওহীর প্রতি বিশ্বাস না রাখা। এর সাথে যদি জাহিলরা যে নীতি অবলম্বন করতো, তা যুক্ত হয়, তাহলে ক্ষতি পূর্ণতা লাভ করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَالَّذِينَ آمَنُوا بِالْبَاطِلِ وَكَفَرُوا بِاللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ﴾ [سورة العنكبوت: ٥٢]
'যারা বাতিলে বিশ্বাস করে ও আল্লাহকে অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত' (সূরা আল আনকাবূত ২৯:৫২)।
📄 মাসাইলুল জাহিলিয়্যাহ দ্বারা উদ্দেশ্য
জাহিলী সমস্যা সম্পর্কে মুসলিমদের সতর্ক করা, যাতে তারা সেগুলো থেকে বিরত থাকতে পারে। কেননা সেগুলো মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। যে সব বিষয় বা সমস্যার ব্যাপারে জাহিল কিতাবধারী ও উম্মি বা নিরক্ষরদের রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরোধিতা করেছেন, তা লেখক রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন।
📄 কিতাবী দ্বারা উদ্দেশ্য
কিতাবী দ্বারা আহলে কিতাব তথা ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টান উদ্দেশ্য। কেননা, ইয়াহুদীদের নিকট ছিল তাওরাত, যা মূসা আলাইহিস সালাম-এর উপর নাযিল হয়। আর খ্রিষ্টানদের নিকট ছিল ইনজীল, যা ঈসা আলাইহিস সালাম সালাম-এর উপর নাযিল হয়। এ কারণে তারা আহলে কিতাব নামে অভিহিত। তারা বর্তমানে তাওরাতকে প্রাচীন অঙ্গিকার (ওল্ডটেস্টামেন্ট) অথবা প্রাচীন গ্রন্থ বলে থাকে। আর ইনজিলকে বলে নতুন অঙ্গিকারের পুস্তক (নিউটেস্টামেন্ট)। এসব তাদের পরিভাষা মাত্র।
এ দু'টি মর্যাদা সম্পন্ন মহাগ্রন্থ, আল্লাহ তা'আলা দু'জন সম্মানিত নাবীর উপর নাযিল করেন; তারা হলেন ঈসা ও মূসা আলাইহিমাস সালাম। বিশেষ করে তাওরাত একটি বড় আসমানী কিতাব আর ইনজিল হলো তাওরাতের পরিপূরক ও সত্যায়নকারী গ্রন্থ। এজন্য তাদেরকে আহলে কিতাব বলা হয়। সুতরাং আহলে কিতাব ও অন্যদের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে অন্যদের কিতাব দেয়া হয়নি।
📄 উম্মি বা নিরক্ষর দ্বারা উদ্দেশ্য
আরবের যে সব লোক দীনের (তাওরাত বা ইনজিল) উপর ছিল না, তারা উম্মি (أُمِّيِّينَ) (আম্মিয়্যীন) নামে পরিচিত। (الأُمِّيُّونَ) (আল-উম্মিউনা) উম্মিউনা শব্দটি (أُمِّيّ) (উম্মিয়্যি) উম্মি এর বহুবচন। শব্দটি (أُمّ) (আল-উম্ম) এর দিকে সম্বন্ধিত। আর উম্মি তারা, যারা লিখতে ও পড়তে জানে না। কারণ, তারা (আরবরা) এমন সম্প্রদায়, যাদের অধিকাংশই লেখা পড়া জানতো না। পবিত্র কুরআন নাযিল হওয়ার পূর্বে তাদের নিকট কোন কিতাব ছিল না। একারণে তাদেরকে উম্মি বলা হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ﴾ [الجمعة: ٢] তিনিই উম্মীদের মাঝে একজন রসূল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে (সূরা আল জুমু'আহ ৬২:২)। তিনি আরো বলেন, ﴿وَمَا آتَيْنَاهُمْ مِنْ كُتُبِ يَدْرُسُونَهَا وَمَا أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ قَبْلَكَ مِنْ نَذِيرٍ﴾ [سبأ: ٤٤] আমি তাদেরকে কোন কিতাব দেইনি যা তারা অধ্যয়ন করত এবং তোমার পূর্বে তাদের প্রতি আর কোন সতর্ককারীও প্রেরণ করিনি (সূরা সাবা ৩৪:৪৪)। তিনি আরো বলেন, ﴿لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أُنْذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ﴾ [يس: ٦] যাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক কর, যাদের পিতৃপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, কাজেই তারা উদাসীন (সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬)।
নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা উম্মি বলেছেন। যেমন- ﴿الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْأَنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ﴾ [الأعراف: ١٥٧] যারা অনুসরণ করে রসূলের যে উম্মী নাবী; যার গুণাবলী তারা নিজেদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে (সূরা আল 'আরাফ ৭:১৫৭)।
নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে উম্মি বলার কারণ হলো, তিনি পড়তে ও লিখতে জানতেন না। মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লেখাপড়া না জানা সত্ত্বেও এ মহাগ্রন্থ নিয়ে আসাই প্রমাণ করে, তার রিসালাত (অহী বার্তা) সত্য এবং এতে তার জন্য মু'জিযাও রয়েছে। অতএব, আরবরা ছিল উম্মি, তাদের নাবীও ছিলেন উম্মি, এটাই উম্মির অর্থ।