📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 অনুবাদকের কথা

📄 অনুবাদকের কথা


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য যিনি সারা বিশ্বের প্রতিপালক। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক নাবী মুহাম্মাদ জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ ও ছাহাবীগণের উপর। আল্লাহ তা'আলা ইসলামকে মনোনিত জীবন-বিধান হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। ইসলামের প্রতিটি বিধান ও মূলনীতি দলীলসহ স্পষ্ট। তাই এখানে কুসংস্কার, জাহিলিয়্যাত-মূর্খতা, শিরক-বিদ'আত ও মস্তিষ্ক প্রসূত রীতি-নীতির কোন স্থান নেই। ইসলাম আর্বিভাবের পূর্বাপর কিছু জাহিলিয়‍্যাত এখনও মানুষের মাঝে বিদ্যমান। ফলতঃ ইসলামের বিধান দলীলসহ না বুঝার কারণে মানুষ ভ্রান্ত মতবাদ লিপ্ত রয়েছে। তাই প্রকৃত ইসলামের দিকে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ এবং তাদের অবস্থার সংশোধন সম্ভব নয়।
এহেন অবস্থায় জাহিলীয়‍্যাত-মূর্খতা সম্পর্কে বিভ্রান্ত সমাজের অবগতির জন্য ড. জ্বলিহ ইবনে ফাওযান আব্দুল্লাহ আল ফাওযান বিরচিত শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ নামক গ্রন্থটির বঙ্গানুবাদ করি। এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছি। এসত্ত্বেও পাঠক সমাজের নিকট ভুল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সংশোধনের লক্ষ্যে তা অবগতির জন্য অনুরোধ রইল। সর্বপরি খড়-কুটা তুল্য সামান্য এ খেদমতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করছি।
বিনীত মোজাফ্ফার বিন মুকসেদ

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 জাহিলী বিষয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্মক বিষয়

📄 জাহিলী বিষয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্মক বিষয়


সবচেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্মক জাহিলিয়্যাত হচ্ছে, অন্তরে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর নাযিলকৃত ওহীর প্রতি বিশ্বাস না রাখা। এর সাথে যদি জাহিলরা যে নীতি অবলম্বন করতো, তা যুক্ত হয়, তাহলে ক্ষতি পূর্ণতা লাভ করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَالَّذِينَ آمَنُوا بِالْبَاطِلِ وَكَفَرُوا بِاللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ﴾ [سورة العنكبوت: ٥٢]
'যারা বাতিলে বিশ্বাস করে ও আল্লাহকে অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত' (সূরা আল আনকাবূত ২৯:৫২)।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 মাসাইলুল জাহিলিয়্যাহ দ্বারা উদ্দেশ্য

📄 মাসাইলুল জাহিলিয়্যাহ দ্বারা উদ্দেশ্য


জাহিলী সমস্যা সম্পর্কে মুসলিমদের সতর্ক করা, যাতে তারা সেগুলো থেকে বিরত থাকতে পারে। কেননা সেগুলো মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। যে সব বিষয় বা সমস্যার ব্যাপারে জাহিল কিতাবধারী ও উম্মি বা নিরক্ষরদের রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরোধিতা করেছেন, তা লেখক রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন।

📘 শারহু মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ > 📄 কিতাবী দ্বারা উদ্দেশ্য

📄 কিতাবী দ্বারা উদ্দেশ্য


কিতাবী দ্বারা আহলে কিতাব তথা ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টান উদ্দেশ্য। কেননা, ইয়াহুদীদের নিকট ছিল তাওরাত, যা মূসা আলাইহিস সালাম-এর উপর নাযিল হয়। আর খ্রিষ্টানদের নিকট ছিল ইনজীল, যা ঈসা আলাইহিস সালাম সালাম-এর উপর নাযিল হয়। এ কারণে তারা আহলে কিতাব নামে অভিহিত। তারা বর্তমানে তাওরাতকে প্রাচীন অঙ্গিকার (ওল্ডটেস্টামেন্ট) অথবা প্রাচীন গ্রন্থ বলে থাকে। আর ইনজিলকে বলে নতুন অঙ্গিকারের পুস্তক (নিউটেস্টামেন্ট)। এসব তাদের পরিভাষা মাত্র।
এ দু'টি মর্যাদা সম্পন্ন মহাগ্রন্থ, আল্লাহ তা'আলা দু'জন সম্মানিত নাবীর উপর নাযিল করেন; তারা হলেন ঈসা ও মূসা আলাইহিমাস সালাম। বিশেষ করে তাওরাত একটি বড় আসমানী কিতাব আর ইনজিল হলো তাওরাতের পরিপূরক ও সত্যায়নকারী গ্রন্থ। এজন্য তাদেরকে আহলে কিতাব বলা হয়। সুতরাং আহলে কিতাব ও অন্যদের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে অন্যদের কিতাব দেয়া হয়নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00