📄 শিল্প ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা
প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।
প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।
প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।
প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।
📄 যুদ্ধাস্ত্রে নির্মাণশিল্প রফতরণে সাহাবায়ে কেরামের গুরুত্ব
হাফিযুল হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে লেখেন, হযরত উরওয়া ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত গায়লান ইবনে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইনের যুদ্ধে এজন্য অংশগ্রহণ করতে পারেননি যে, তারা কিছু যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ শেখার জন্য 'জারাস' নামক স্থানে ছিলেন। সেখানে তারা ট্যাংক ও মিনজানিক নির্মাণ শিক্ষালাভ করেন।
ওই যুগের ট্যাংক হলো, কেল্লা অবরোধের সময় তিরবৃষ্টি এড়িয়ে কেল্লা পর্যন্ত পৌঁছানোর এক ধরনের গাড়ি। সেটারই উন্নত সংস্করণ বর্তমানের ট্যাংক। কতিপয় গবেষকদের কাছে শুনেছি, ইংরেজরা মহীশুরের কেল্লা বিজয়ের সময় এটি ব্যবহার করেছিল।
মিনজানিক হলো এমন যন্ত্র, যার মাধ্যমে ভারী পাথর নিক্ষেপ করা হতো। কেল্লা বিধ্বংসী কামান আবিষ্কারের পূর্বে এটি ব্যবহার হতো। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সিন্ধু বিজয়ের সময় দেবল কেল্লায় সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেন।
লক্ষ করুন, কতইনা সহজ-সরল, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে জ্ঞানগত যোগ্যতার পূর্ণতা, চরিত্র ও মননশীলতার উন্নতির পাশাপাশি কাজ ও কর্মদক্ষতা অর্জিত হয় এবং শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য তথা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানো, সেটা কত সহজেই পূরণ হয়।
এখানে কারও মনে এ প্রশ্ন হতে পারে যে, ওই সময় পুরো পৃথিবীতেই সাদাসিধে জীবনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল; এর জন্য অধিক শিক্ষার প্রয়োজন ছিল না। বরং উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থাই ওই পরিমাণ শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবী তো বহুদূর এগিয়ে গেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে, যেগুলো অর্জন করার জন্য প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এই সাধাসিধে ও সংক্ষিপ্ত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের অবদানের প্রতি নজর বুলায়, তাহলে বুঝতে পারবে যে, ওই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষিত লোকেরা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও কর্মকৌশলে এমন স্থান অর্জন করতে পেরেছিলেন, যার দরুন তাদের সামনে পুরো পৃথিবী মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল।
সিদ্দীকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। উসমান গনী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আসেননি। খালিদ বিন ওয়ালিদ, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস, عبدالله ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোথাও শিক্ষা লাভ করেননি।
বরং বাস্তবতা হলো, যদি কুরআনের শিক্ষাকে যথাযথ অর্জন করা যায়, তাহলে দেখা যাবে—মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমন কোনো প্রয়োজন নেই যা পূরণের জন্য কুরআনে উত্তম ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে শুরু করে গোত্রীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাপারগুলোর এমন উত্তম দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, যদি এর উপর আমল করা হয়, তাহলে পুরো দুনিয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর এ এমন এক বাস্তবতা যাকে কেবল আমরা মুসলমানরাই নই; বরং যারা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক পায়ে খাড়া থাকে, তাদেরও এর স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া উপায় নেই।
টিকাঃ
২৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৩৪৫, হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনা।
হাফিযুল হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে লেখেন, হযরত উরওয়া ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত গায়লান ইবনে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইনের যুদ্ধে এজন্য অংশগ্রহণ করতে পারেননি যে, তারা কিছু যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ শেখার জন্য 'জারাস' নামক স্থানে ছিলেন। সেখানে তারা ট্যাংক ও মিনজানিক নির্মাণ শিক্ষালাভ করেন।
ওই যুগের ট্যাংক হলো, কেল্লা অবরোধের সময় তিরবৃষ্টি এড়িয়ে কেল্লা পর্যন্ত পৌঁছানোর এক ধরনের গাড়ি। সেটারই উন্নত সংস্করণ বর্তমানের ট্যাংক। কতিপয় গবেষকদের কাছে শুনেছি, ইংরেজরা মহীশুরের কেল্লা বিজয়ের সময় এটি ব্যবহার করেছিল।
মিনজানিক হলো এমন যন্ত্র, যার মাধ্যমে ভারী পাথর নিক্ষেপ করা হতো। কেল্লা বিধ্বংসী কামান আবিষ্কারের পূর্বে এটি ব্যবহার হতো। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সিন্ধু বিজয়ের সময় দেবল কেল্লায় সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেন।
লক্ষ করুন, কতইনা সহজ-সরল, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে জ্ঞানগত যোগ্যতার পূর্ণতা, চরিত্র ও মননশীলতার উন্নতির পাশাপাশি কাজ ও কর্মদক্ষতা অর্জিত হয় এবং শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য তথা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানো, সেটা কত সহজেই পূরণ হয়।
এখানে কারও মনে এ প্রশ্ন হতে পারে যে, ওই সময় পুরো পৃথিবীতেই সাদাসিধে জীবনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল; এর জন্য অধিক শিক্ষার প্রয়োজন ছিল না। বরং উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থাই ওই পরিমাণ শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবী তো বহুদূর এগিয়ে গেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে, যেগুলো অর্জন করার জন্য প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এই সাধাসিধে ও সংক্ষিপ্ত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের অবদানের প্রতি নজর বুলায়, তাহলে বুঝতে পারবে যে, ওই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষিত লোকেরা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও কর্মকৌশলে এমন স্থান অর্জন করতে পেরেছিলেন, যার দরুন তাদের সামনে পুরো পৃথিবী মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল।
সিদ্দীকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। উসমান গনী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আসেননি। খালিদ বিন ওয়ালিদ, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস, عبدالله ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোথাও শিক্ষা লাভ করেননি।
বরং বাস্তবতা হলো, যদি কুরআনের শিক্ষাকে যথাযথ অর্জন করা যায়, তাহলে দেখা যাবে—মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমন কোনো প্রয়োজন নেই যা পূরণের জন্য কুরআনে উত্তম ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে শুরু করে গোত্রীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাপারগুলোর এমন উত্তম দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, যদি এর উপর আমল করা হয়, তাহলে পুরো দুনিয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর এ এমন এক বাস্তবতা যাকে কেবল আমরা মুসলমানরাই নই; বরং যারা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক পায়ে খাড়া থাকে, তাদেরও এর স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া উপায় নেই।
টিকাঃ
২৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৩৪৫, হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনা।
হাফিযুল হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে লেখেন, হযরত উরওয়া ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত গায়লান ইবনে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইনের যুদ্ধে এজন্য অংশগ্রহণ করতে পারেননি যে, তারা কিছু যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ শেখার জন্য 'জারাস' নামক স্থানে ছিলেন। সেখানে তারা ট্যাংক ও মিনজানিক নির্মাণ শিক্ষালাভ করেন।
ওই যুগের ট্যাংক হলো, কেল্লা অবরোধের সময় তিরবৃষ্টি এড়িয়ে কেল্লা পর্যন্ত পৌঁছানোর এক ধরনের গাড়ি। সেটারই উন্নত সংস্করণ বর্তমানের ট্যাংক। কতিপয় গবেষকদের কাছে শুনেছি, ইংরেজরা মহীশুরের কেল্লা বিজয়ের সময় এটি ব্যবহার করেছিল।
মিনজানিক হলো এমন যন্ত্র, যার মাধ্যমে ভারী পাথর নিক্ষেপ করা হতো। কেল্লা বিধ্বংসী কামান আবিষ্কারের পূর্বে এটি ব্যবহার হতো। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সিন্ধু বিজয়ের সময় দেবল কেল্লায় সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেন।
লক্ষ করুন, কতইনা সহজ-সরল, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে জ্ঞানগত যোগ্যতার পূর্ণতা, চরিত্র ও মননশীলতার উন্নতির পাশাপাশি কাজ ও কর্মদক্ষতা অর্জিত হয় এবং শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য তথা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানো, সেটা কত সহজেই পূরণ হয়।
এখানে কারও মনে এ প্রশ্ন হতে পারে যে, ওই সময় পুরো পৃথিবীতেই সাদাসিধে জীবনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল; এর জন্য অধিক শিক্ষার প্রয়োজন ছিল না। বরং উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থাই ওই পরিমাণ শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবী তো বহুদূর এগিয়ে গেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে, যেগুলো অর্জন করার জন্য প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এই সাধাসিধে ও সংক্ষিপ্ত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের অবদানের প্রতি নজর বুলায়, তাহলে বুঝতে পারবে যে, ওই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষিত লোকেরা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও কর্মকৌশলে এমন স্থান অর্জন করতে পেরেছিলেন, যার দরুন তাদের সামনে পুরো পৃথিবী মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল।
সিদ্দীকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। উসমান গনী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আসেননি। খালিদ বিন ওয়ালিদ, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস, عبدالله ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোথাও শিক্ষা লাভ করেননি।
বরং বাস্তবতা হলো, যদি কুরআনের শিক্ষাকে যথাযথ অর্জন করা যায়, তাহলে দেখা যাবে—মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমন কোনো প্রয়োজন নেই যা পূরণের জন্য কুরআনে উত্তম ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে শুরু করে গোত্রীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাপারগুলোর এমন উত্তম দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, যদি এর উপর আমল করা হয়, তাহলে পুরো দুনিয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর এ এমন এক বাস্তবতা যাকে কেবল আমরা মুসলমানরাই নই; বরং যারা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক পায়ে খাড়া থাকে, তাদেরও এর স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া উপায় নেই।
টিকাঃ
২৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৩৪৫, হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনা।
হাফিযুল হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে লেখেন, হযরত উরওয়া ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত গায়লান ইবনে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইনের যুদ্ধে এজন্য অংশগ্রহণ করতে পারেননি যে, তারা কিছু যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ শেখার জন্য 'জারাস' নামক স্থানে ছিলেন। সেখানে তারা ট্যাংক ও মিনজানিক নির্মাণ শিক্ষালাভ করেন।
ওই যুগের ট্যাংক হলো, কেল্লা অবরোধের সময় তিরবৃষ্টি এড়িয়ে কেল্লা পর্যন্ত পৌঁছানোর এক ধরনের গাড়ি। সেটারই উন্নত সংস্করণ বর্তমানের ট্যাংক। কতিপয় গবেষকদের কাছে শুনেছি, ইংরেজরা মহীশুরের কেল্লা বিজয়ের সময় এটি ব্যবহার করেছিল।
মিনজানিক হলো এমন যন্ত্র, যার মাধ্যমে ভারী পাথর নিক্ষেপ করা হতো। কেল্লা বিধ্বংসী কামান আবিষ্কারের পূর্বে এটি ব্যবহার হতো। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সিন্ধু বিজয়ের সময় দেবল কেল্লায় সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেন।
লক্ষ করুন, কতইনা সহজ-সরল, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে জ্ঞানগত যোগ্যতার পূর্ণতা, চরিত্র ও মননশীলতার উন্নতির পাশাপাশি কাজ ও কর্মদক্ষতা অর্জিত হয় এবং শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য তথা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানো, সেটা কত সহজেই পূরণ হয়।
এখানে কারও মনে এ প্রশ্ন হতে পারে যে, ওই সময় পুরো পৃথিবীতেই সাদাসিধে জীবনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল; এর জন্য অধিক শিক্ষার প্রয়োজন ছিল না। বরং উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থাই ওই পরিমাণ শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবী তো বহুদূর এগিয়ে গেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে, যেগুলো অর্জন করার জন্য প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এই সাধাসিধে ও সংক্ষিপ্ত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের অবদানের প্রতি নজর বুলায়, তাহলে বুঝতে পারবে যে, ওই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষিত লোকেরা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও কর্মকৌশলে এমন স্থান অর্জন করতে পেরেছিলেন, যার দরুন তাদের সামনে পুরো পৃথিবী মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল।
সিদ্দীকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। উসমান গনী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আসেননি। খালিদ বিন ওয়ালিদ, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস, عبدالله ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোথাও শিক্ষা লাভ করেননি।
বরং বাস্তবতা হলো, যদি কুরআনের শিক্ষাকে যথাযথ অর্জন করা যায়, তাহলে দেখা যাবে—মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমন কোনো প্রয়োজন নেই যা পূরণের জন্য কুরআনে উত্তম ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে শুরু করে গোত্রীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাপারগুলোর এমন উত্তম দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, যদি এর উপর আমল করা হয়, তাহলে পুরো দুনিয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর এ এমন এক বাস্তবতা যাকে কেবল আমরা মুসলমানরাই নই; বরং যারা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক পায়ে খাড়া থাকে, তাদেরও এর স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া উপায় নেই।
টিকাঃ
২৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৩৪৫, হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনা।
📄 একজন ফরাসি খ্রিষ্টান চিন্তাবিদের সাক্ষ্য
এ ক্ষেত্রে অসংখ্য সাক্ষ্য থেকে এখন কেবল একজন খ্রিষ্টান ব্যক্তির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, যিনি ফ্রান্সের একজন প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তিনি মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বোঝার জন্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয়ে ত্রিশ বছর কাটিয়েছেন এবং আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইস্তাম্বুল, মিশর ও হিজাজে বসবাস করে আরবি ভাষা এবং সমস্ত ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করেছেন। এরপর ফিরে এসে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম- ثَلَاثُونَ عَامًا فِي الْإِسْلَامِ
এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদের নাম 'সোলিভ্যান রুশ'। তার গ্রন্থের কিছু অংশ আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
'আমি দীর্ঘ একটি সময় ইসলামকে আঁকড়ে ধরে ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, আমি যে-কোনো উপায়ে আমির আবদুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হব এবং তার রহস্য উন্মোচন করব। আমি এতে সফল হয়েছি। আমির সাহেব আমার উপর পুরোপুরি ভরসা করেছেন এবং আমাকে তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই ধর্মকে—অধিকাংশ মানুষ যার নিন্দা করে—নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শ থেকে উত্তম পেয়েছি।
বাস্তবতা হলো, এটাই একমাত্র ধর্ম, যাকে মানবিক, স্বভাবজাত, অর্থনীতিবান্ধব ও চারিত্রিক উপাদান সমৃদ্ধ বলার উপযুক্ত।
আমি আপনার রাষ্ট্রের সমস্ত আইনের মধ্যে এমন কোনো আইন পাইনি, যা ইসলামে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল না। বরং আমি ওই সংবিধান অধ্যয়ন করেছি, যাকে 'জল সিমন' স্বভাবজাত আইন বলে থাকেন। সেটা পুরোটাই ইসলাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
এরপর আমি গবেষণা করেছি যে, এই ধর্ম মুসলমানদের অন্তরে কী প্রভাব সৃষ্টি করে? তো আমি দেখেছি এই ধর্ম তাদের অন্তরে বীরত্ব, দানশীলতা, ভদ্রতা ও বুজুর্গী দিয়ে ভরে দেয়। বরং আমি উপলব্ধি করেছি যে, তাদের অন্তর ওই সকল উঁচুমাপের বিষয়ে পারদর্শী যা দার্শনিকগণ নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করে থাকে। তারা এমন এক পৃথিবীতে বাস করে, যেখানে মন্দকর্ম ও অনর্থক কাজকর্ম ও মিথ্যা কথা কেউ বলতে জানে না।
মুসলমানগণ সাদামাটা দিলের মানুষ হয়ে থাকেন। তারা কারও প্রতি খারাপ ধারণা করেন না। তারা জীবিকা অন্বেষণের ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেন না। এ কারণে তারা ধনসম্পদের ক্ষেত্রে ইহুদী ও কতিপয় খ্রিষ্টানদের থেকে কম ধনী হয়ে থাকেন।
এ ক্ষেত্রে অসংখ্য সাক্ষ্য থেকে এখন কেবল একজন খ্রিষ্টান ব্যক্তির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, যিনি ফ্রান্সের একজন প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তিনি মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বোঝার জন্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয়ে ত্রিশ বছর কাটিয়েছেন এবং আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইস্তাম্বুল, মিশর ও হিজাজে বসবাস করে আরবি ভাষা এবং সমস্ত ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করেছেন। এরপর ফিরে এসে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম- ثَلَاثُونَ عَامًا فِي الْإِسْلَامِ
এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদের নাম 'সোলিভ্যান রুশ'। তার গ্রন্থের কিছু অংশ আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
'আমি দীর্ঘ একটি সময় ইসলামকে আঁকড়ে ধরে ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, আমি যে-কোনো উপায়ে আমির আবদুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হব এবং তার রহস্য উন্মোচন করব। আমি এতে সফল হয়েছি। আমির সাহেব আমার উপর পুরোপুরি ভরসা করেছেন এবং আমাকে তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই ধর্মকে—অধিকাংশ মানুষ যার নিন্দা করে—নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শ থেকে উত্তম পেয়েছি।
বাস্তবতা হলো, এটাই একমাত্র ধর্ম, যাকে মানবিক, স্বভাবজাত, অর্থনীতিবান্ধব ও চারিত্রিক উপাদান সমৃদ্ধ বলার উপযুক্ত।
আমি আপনার রাষ্ট্রের সমস্ত আইনের মধ্যে এমন কোনো আইন পাইনি, যা ইসলামে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল না। বরং আমি ওই সংবিধান অধ্যয়ন করেছি, যাকে 'জল সিমন' স্বভাবজাত আইন বলে থাকেন। সেটা পুরোটাই ইসলাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
এরপর আমি গবেষণা করেছি যে, এই ধর্ম মুসলমানদের অন্তরে কী প্রভাব সৃষ্টি করে? তো আমি দেখেছি এই ধর্ম তাদের অন্তরে বীরত্ব, দানশীলতা, ভদ্রতা ও বুজুর্গী দিয়ে ভরে দেয়। বরং আমি উপলব্ধি করেছি যে, তাদের অন্তর ওই সকল উঁচুমাপের বিষয়ে পারদর্শী যা দার্শনিকগণ নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করে থাকে। তারা এমন এক পৃথিবীতে বাস করে, যেখানে মন্দকর্ম ও অনর্থক কাজকর্ম ও মিথ্যা কথা কেউ বলতে জানে না।
মুসলমানগণ সাদামাটা দিলের মানুষ হয়ে থাকেন। তারা কারও প্রতি খারাপ ধারণা করেন না। তারা জীবিকা অন্বেষণের ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেন না। এ কারণে তারা ধনসম্পদের ক্ষেত্রে ইহুদী ও কতিপয় খ্রিষ্টানদের থেকে কম ধনী হয়ে থাকেন।
এ ক্ষেত্রে অসংখ্য সাক্ষ্য থেকে এখন কেবল একজন খ্রিষ্টান ব্যক্তির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, যিনি ফ্রান্সের একজন প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তিনি মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বোঝার জন্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয়ে ত্রিশ বছর কাটিয়েছেন এবং আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইস্তাম্বুল, মিশর ও হিজাজে বসবাস করে আরবি ভাষা এবং সমস্ত ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করেছেন। এরপর ফিরে এসে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম- ثَلَاثُونَ عَامًا فِي الْإِسْلَامِ
এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদের নাম 'সোলিভ্যান রুশ'। তার গ্রন্থের কিছু অংশ আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
'আমি দীর্ঘ একটি সময় ইসলামকে আঁকড়ে ধরে ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, আমি যে-কোনো উপায়ে আমির আবদুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হব এবং তার রহস্য উন্মোচন করব। আমি এতে সফল হয়েছি। আমির সাহেব আমার উপর পুরোপুরি ভরসা করেছেন এবং আমাকে তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই ধর্মকে—অধিকাংশ মানুষ যার নিন্দা করে—নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শ থেকে উত্তম পেয়েছি।
বাস্তবতা হলো, এটাই একমাত্র ধর্ম, যাকে মানবিক, স্বভাবজাত, অর্থনীতিবান্ধব ও চারিত্রিক উপাদান সমৃদ্ধ বলার উপযুক্ত।
আমি আপনার রাষ্ট্রের সমস্ত আইনের মধ্যে এমন কোনো আইন পাইনি, যা ইসলামে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল না। বরং আমি ওই সংবিধান অধ্যয়ন করেছি, যাকে 'জল সিমন' স্বভাবজাত আইন বলে থাকেন। সেটা পুরোটাই ইসলাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
এরপর আমি গবেষণা করেছি যে, এই ধর্ম মুসলমানদের অন্তরে কী প্রভাব সৃষ্টি করে? তো আমি দেখেছি এই ধর্ম তাদের অন্তরে বীরত্ব, দানশীলতা, ভদ্রতা ও বুজুর্গী দিয়ে ভরে দেয়। বরং আমি উপলব্ধি করেছি যে, তাদের অন্তর ওই সকল উঁচুমাপের বিষয়ে পারদর্শী যা দার্শনিকগণ নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করে থাকে। তারা এমন এক পৃথিবীতে বাস করে, যেখানে মন্দকর্ম ও অনর্থক কাজকর্ম ও মিথ্যা কথা কেউ বলতে জানে না।
মুসলমানগণ সাদামাটা দিলের মানুষ হয়ে থাকেন। তারা কারও প্রতি খারাপ ধারণা করেন না। তারা জীবিকা অন্বেষণের ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেন না। এ কারণে তারা ধনসম্পদের ক্ষেত্রে ইহুদী ও কতিপয় খ্রিষ্টানদের থেকে কম ধনী হয়ে থাকেন।
এ ক্ষেত্রে অসংখ্য সাক্ষ্য থেকে এখন কেবল একজন খ্রিষ্টান ব্যক্তির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, যিনি ফ্রান্সের একজন প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তিনি মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বোঝার জন্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয়ে ত্রিশ বছর কাটিয়েছেন এবং আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইস্তাম্বুল, মিশর ও হিজাজে বসবাস করে আরবি ভাষা এবং সমস্ত ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করেছেন। এরপর ফিরে এসে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম- ثَلَاثُونَ عَامًا فِي الْإِسْلَامِ
এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদের নাম 'সোলিভ্যান রুশ'। তার গ্রন্থের কিছু অংশ আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
'আমি দীর্ঘ একটি সময় ইসলামকে আঁকড়ে ধরে ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, আমি যে-কোনো উপায়ে আমির আবদুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হব এবং তার রহস্য উন্মোচন করব। আমি এতে সফল হয়েছি। আমির সাহেব আমার উপর পুরোপুরি ভরসা করেছেন এবং আমাকে তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই ধর্মকে—অধিকাংশ মানুষ যার নিন্দা করে—নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শ থেকে উত্তম পেয়েছি।
বাস্তবতা হলো, এটাই একমাত্র ধর্ম, যাকে মানবিক, স্বভাবজাত, অর্থনীতিবান্ধব ও চারিত্রিক উপাদান সমৃদ্ধ বলার উপযুক্ত।
আমি আপনার রাষ্ট্রের সমস্ত আইনের মধ্যে এমন কোনো আইন পাইনি, যা ইসলামে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল না। বরং আমি ওই সংবিধান অধ্যয়ন করেছি, যাকে 'জল সিমন' স্বভাবজাত আইন বলে থাকেন। সেটা পুরোটাই ইসলাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
এরপর আমি গবেষণা করেছি যে, এই ধর্ম মুসলমানদের অন্তরে কী প্রভাব সৃষ্টি করে? তো আমি দেখেছি এই ধর্ম তাদের অন্তরে বীরত্ব, দানশীলতা, ভদ্রতা ও বুজুর্গী দিয়ে ভরে দেয়। বরং আমি উপলব্ধি করেছি যে, তাদের অন্তর ওই সকল উঁচুমাপের বিষয়ে পারদর্শী যা দার্শনিকগণ নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করে থাকে। তারা এমন এক পৃথিবীতে বাস করে, যেখানে মন্দকর্ম ও অনর্থক কাজকর্ম ও মিথ্যা কথা কেউ বলতে জানে না।
মুসলমানগণ সাদামাটা দিলের মানুষ হয়ে থাকেন। তারা কারও প্রতি খারাপ ধারণা করেন না। তারা জীবিকা অন্বেষণের ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেন না। এ কারণে তারা ধনসম্পদের ক্ষেত্রে ইহুদী ও কতিপয় খ্রিষ্টানদের থেকে কম ধনী হয়ে থাকেন।
📄 সারকথা
সারকথা হলো, ইসলামী জীবনব্যবস্থা স্বভাবজাত ও সহজ-সরল ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং জীবনের প্রতিটি শাখায় ব্যাপৃত শতভাগ সফল একটি ব্যবস্থা। যার ভিত্তি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহের শিক্ষা। সাময়িক ও পার্থিব প্রয়োজনে শিল্প, কারিগরি, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই প্রয়োজন পরিমাণ শেখা ও শেখানোর সুযোগ ইসলামে রয়েছে।
আমি ইসলামে দুটি বিষয়ের উত্তম সমাধান পেয়েছি, যে দু বিষয়ে পুরো পৃথিবী চরম সঙ্কটের শিকার। প্রথমটি হলো কুরআনের বাণী-
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ
'প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মুসলিম ভাই-ভাই।'
এটি সাম্যের একটি মহান নীতি। দ্বিতীয়টি হলো সকল ধনাঢ্য ব্যক্তির উপর যাকাত আবশ্যক করা এবং তাদের সম্পদে দরিদ্রদের এমন অধিকার সাব্যস্ত করা, যদি ধনীরা তা প্রদান না করে, তাহলে বাধ্যতামূলকভাবে সেটা আদায় করা হবে।
জোরপূর্বক যাকাতের মাল আদায় করার দ্বারা এ লেখকের উদ্দেশ্য সম্ভবত এটা যে, ইসলামী রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে যাকাত উসূল করে দরিদ্রদের অধিকার তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, মুসলমানরা নিজেদের ঘরের হিরে-জহরত ছেড়ে অন্যদের পাথরচূর্ণ ভিক্ষা করতে প্রস্তুত। আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহের শিক্ষা থেকে বিমুখ হয়ে নিজেদের প্রতিটি কাজে অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং তাদের অনুসরণ করার মাঝে গর্ববোধ করে। এটা তাদের সমস্ত কাজ ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে একটি অসমাধানযোগ্য জটিল ধাঁধায় পরিণত করেছে।
কথা ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে গেল। এখানে রাষ্ট্রব্যবব্যবস্থা বা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা নয়; বরং শুধু এটুকু বোঝানো উদ্দেশ্য ছিল যে, দার্শনিকদের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কাজ ও প্রতিটি বিষয়ের যে ব্যবস্থাপনা মানুষদের দান করেছেন, তা পূর্ণাঙ্গ, উপকারী ও সফল হওয়ার পাশাপাশি সহজ-সরল ও সাশ্রয়ী। পৃথিবী যখন থেকে এ জীবনব্যবস্থা ত্যাগ করেছে, তখন থেকে বিভিন্ন আইনি সংস্থা ও লম্বা লম্বা দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিকতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বটে, যা স্থূলদৃষ্টির মানুষকে আকর্ষিত ও প্রতারিত করার জন্য যথেষ্টও, কিন্তু ফলাফল ও পরিণামের বিচারে পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে যে, এসব একেবারেই ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।
আজকের পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমন এবং সমাজে জ্ঞানবিজ্ঞান ও এর মাধ্যমে উন্নত চরিত্রের বিস্তার করার জন্য হাজার হাজার স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তি সেখানে কাজ করছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ তাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যাবে, দিন দিন ন্যায়বিচার বিলুপ্ত হচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্ঞান ও শিক্ষার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে।
রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা যখন এই দুর্দশা দেখেছেন, তখন পুলিশের উপর স্পেশাল পুলিশ, এক গোয়েন্দা বিভাগের উপর আরেক গোয়েন্দা বিভাগ, একটি প্রতিষ্ঠান সংশোধনের জন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে লাগল। কিন্তু ফলাফল সেই আগেরটাই রয়ে গেল। কবির ভাষায়—
مرض بڑھتا گیا جوں جوں دوا کی
'দাওয়াই যত ব্যবহার করল রোগ ততই বেড়ে চলল।'
এর কারণ সেটাই যা পূর্বে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে, আইন ও আইনী সংস্থা কোনো স্বয়ংক্রিয় মেশিন নয়; বরং এসব পরিচালনার জন্য মানুষের প্রয়োজন। আর এখন তারই দুর্ভিক্ষ। বাদশা আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীতে যে জিনিসটি সর্বত্র বিরাজমান হওয়া সত্ত্বেও দুষ্প্রাপ্য, সেটি হলো মানুষ। আর ইসলামের তাওহীদ ও আখেরাতের বিশ্বাস ছাড়া প্রকৃত মানুষ হবার কোনো পথ নেই। ইসলামী মতাদর্শ ও জীবনব্যবস্থার ফলাফলই হলো শান্তি ও নিরাপত্তা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার, প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা।
পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, নবীকুল শিরোমণি দোজাহানের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মতাদর্শ ও জীবনব্যবস্থা মানুষকে দান করেছেন, তার দুটি বুনিয়াদি মূলনীতি ছিল—
এক. মানুষকে আল্লাহ ও পরকালের ভয়ের মাধ্যমে চারিত্রিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ মানুষে পরিণত করা। যে ধনদৌলত, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে এভাবে মত্ত হবে না যে, সব ধরনের বৈধ-অবৈধ পন্থায় তা অর্জনের চেষ্টা করবে। অন্যদের অধিকার ছিনিয়ে নেবে এবং মানুষদেরকে কষ্ট দেবে। বরং তার তো আদর্শ হবে অন্যের অধিকার আদায়ের প্রবল জযবা এবং নিজ অধিকার বিসর্জন দিয়ে ক্ষমা করার মানসিকতা। জানাকথা, যেই পৃথিবীতে এ ধরনের মানুষ বসবাস করবে, সেখানে জুলুম-অত্যাচার, দ্বন্দ্ব-হত্যা, অপরাধ-পাপাচারের অস্তিত্ব কল্পনা করাই যায় না।
দ্বিতীয় বুনিয়াদি মূলনীতি ছিল, প্রতিটি কাজে ভালো-মন্দ, ভুল-শুদ্ধ, উপকারী-অপকারী নির্ণয় মানুষ নিজ মস্তিষ্কপ্রসূত বিধানের মাধ্যমে নয়; বরং সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত মূলনীতির আলোকে করবে। তার সমস্ত আইনের ভিত্তি হবে আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের নির্দেশ এবং প্রতিটি কাজের লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
সারকথা হলো, নবীগণের সরদার—তাঁর প্রতি আমাদের পিতা-মাতা উৎসর্গ হোন—পুরো পৃথিবীর জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দূত হিসেবে আগমন করেছেন। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করেছে, ততদিন শান্তি ও নিরাপত্তার যুগ ছিল। যখন তা পরিত্যাগ করেছে, ফিতনা-ফাসাদ, জুলুম-অত্যাচার ও নানা ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমান পৃথিবী শান্তি ও নিরাপত্তা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমনের জন্য হাজার রকমের পদ্ধতি বাস্তবায়ন করেছে। ফলাফল সবার সামনে এই এসেছে যে, যতই ব্যবস্থাপনা বেড়েছে, অপরাধের ঝড় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইনসাফ বিদায় নিয়েছে। আর শান্তি ও স্থিতিশীলতার তো নামগন্ধও নেই।
এবার এ পথে আর অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে কিছুটা পেছনে ফিরে চলুন। দোজাহানের সরদার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত জীবনব্যবস্থাকে বেশি নয়, কিছুদিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে হলেও বাস্তবায়ন করে এর ফলাফল দেখুন—পৃথিবীর শান্তি ও নিরাপত্তা কেবল শান্তি ও নিরাপত্তার দূত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত জীবনব্যবস্থার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। এর ঐতিহাসিক সাক্ষ্য হলো নববী যুগ, তারপর খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবা ও তাবেঈনের শাসনামলে ধারাবাহিকভাবে এবং পরবর্তী যুগে যখনই এই ব্যবস্থাপনাকে পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তখন তা এতটাই প্রজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়েছিল যে, কট্টর বিরোধীদেরও তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ হতো না।
ইচ্ছে ছিল ইসলামের ইতিহাস থেকে এর কিছু দৃষ্টান্ত এখানে উপস্থাপন করব। কিন্তু বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধকে অতিরিক্ত দীর্ঘ করা এখন সময়, সুযোগ ও ব্যস্ততার বিচারে সহজ নয়। তাছাড়া ইসলামের ইতিহাসে এগুলোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত থাকার কারণে এর প্রয়োজনও নেই। তাই এখানেই প্রবন্ধটি সমাপ্ত করছি।
فَتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ التَّكْلَانُ.
টিকাঃ
২৪. সূরা হুজুরাত, আয়াত ১০
২৫. বৈরুতের বিচারক মুস্তফা গোলামীনী রচিত ইসলাম মদীনার রূহ, ৩৯-৪০ পৃষ্ঠা
সারকথা হলো, ইসলামী জীবনব্যবস্থা স্বভাবজাত ও সহজ-সরল ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং জীবনের প্রতিটি শাখায় ব্যাপৃত শতভাগ সফল একটি ব্যবস্থা। যার ভিত্তি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহের শিক্ষা। সাময়িক ও পার্থিব প্রয়োজনে শিল্প, কারিগরি, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই প্রয়োজন পরিমাণ শেখা ও শেখানোর সুযোগ ইসলামে রয়েছে।
আমি ইসলামে দুটি বিষয়ের উত্তম সমাধান পেয়েছি, যে দু বিষয়ে পুরো পৃথিবী চরম সঙ্কটের শিকার। প্রথমটি হলো কুরআনের বাণী-
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ
'প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মুসলিম ভাই-ভাই।'
এটি সাম্যের একটি মহান নীতি। দ্বিতীয়টি হলো সকল ধনাঢ্য ব্যক্তির উপর যাকাত আবশ্যক করা এবং তাদের সম্পদে দরিদ্রদের এমন অধিকার সাব্যস্ত করা, যদি ধনীরা তা প্রদান না করে, তাহলে বাধ্যতামূলকভাবে সেটা আদায় করা হবে।
জোরপূর্বক যাকাতের মাল আদায় করার দ্বারা এ লেখকের উদ্দেশ্য সম্ভবত এটা যে, ইসলামী রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে যাকাত উসূল করে দরিদ্রদের অধিকার তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, মুসলমানরা নিজেদের ঘরের হিরে-জহরত ছেড়ে অন্যদের পাথরচূর্ণ ভিক্ষা করতে প্রস্তুত। আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহের শিক্ষা থেকে বিমুখ হয়ে নিজেদের প্রতিটি কাজে অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং তাদের অনুসরণ করার মাঝে গর্ববোধ করে। এটা তাদের সমস্ত কাজ ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে একটি অসমাধানযোগ্য জটিল ধাঁধায় পরিণত করেছে।
কথা ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে গেল। এখানে রাষ্ট্রব্যবব্যবস্থা বা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা নয়; বরং শুধু এটুকু বোঝানো উদ্দেশ্য ছিল যে, দার্শনিকদের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কাজ ও প্রতিটি বিষয়ের যে ব্যবস্থাপনা মানুষদের দান করেছেন, তা পূর্ণাঙ্গ, উপকারী ও সফল হওয়ার পাশাপাশি সহজ-সরল ও সাশ্রয়ী। পৃথিবী যখন থেকে এ জীবনব্যবস্থা ত্যাগ করেছে, তখন থেকে বিভিন্ন আইনি সংস্থা ও লম্বা লম্বা দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিকতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বটে, যা স্থূলদৃষ্টির মানুষকে আকর্ষিত ও প্রতারিত করার জন্য যথেষ্টও, কিন্তু ফলাফল ও পরিণামের বিচারে পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে যে, এসব একেবারেই ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।
আজকের পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমন এবং সমাজে জ্ঞানবিজ্ঞান ও এর মাধ্যমে উন্নত চরিত্রের বিস্তার করার জন্য হাজার হাজার স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তি সেখানে কাজ করছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ তাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যাবে, দিন দিন ন্যায়বিচার বিলুপ্ত হচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্ঞান ও শিক্ষার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে।
রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা যখন এই দুর্দশা দেখেছেন, তখন পুলিশের উপর স্পেশাল পুলিশ, এক গোয়েন্দা বিভাগের উপর আরেক গোয়েন্দা বিভাগ, একটি প্রতিষ্ঠান সংশোধনের জন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে লাগল। কিন্তু ফলাফল সেই আগেরটাই রয়ে গেল। কবির ভাষায়—
مرض بڑھتا گیا جوں جوں دوا کی
'দাওয়াই যত ব্যবহার করল রোগ ততই বেড়ে চলল।'
এর কারণ সেটাই যা পূর্বে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে, আইন ও আইনী সংস্থা কোনো স্বয়ংক্রিয় মেশিন নয়; বরং এসব পরিচালনার জন্য মানুষের প্রয়োজন। আর এখন তারই দুর্ভিক্ষ। বাদশা আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীতে যে জিনিসটি সর্বত্র বিরাজমান হওয়া সত্ত্বেও দুষ্প্রাপ্য, সেটি হলো মানুষ। আর ইসলামের তাওহীদ ও আখেরাতের বিশ্বাস ছাড়া প্রকৃত মানুষ হবার কোনো পথ নেই। ইসলামী মতাদর্শ ও জীবনব্যবস্থার ফলাফলই হলো শান্তি ও নিরাপত্তা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার, প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা।
পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, নবীকুল শিরোমণি দোজাহানের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মতাদর্শ ও জীবনব্যবস্থা মানুষকে দান করেছেন, তার দুটি বুনিয়াদি মূলনীতি ছিল—
এক. মানুষকে আল্লাহ ও পরকালের ভয়ের মাধ্যমে চারিত্রিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ মানুষে পরিণত করা। যে ধনদৌলত, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে এভাবে মত্ত হবে না যে, সব ধরনের বৈধ-অবৈধ পন্থায় তা অর্জনের চেষ্টা করবে। অন্যদের অধিকার ছিনিয়ে নেবে এবং মানুষদেরকে কষ্ট দেবে। বরং তার তো আদর্শ হবে অন্যের অধিকার আদায়ের প্রবল জযবা এবং নিজ অধিকার বিসর্জন দিয়ে ক্ষমা করার মানসিকতা। জানাকথা, যেই পৃথিবীতে এ ধরনের মানুষ বসবাস করবে, সেখানে জুলুম-অত্যাচার, দ্বন্দ্ব-হত্যা, অপরাধ-পাপাচারের অস্তিত্ব কল্পনা করাই যায় না।
দ্বিতীয় বুনিয়াদি মূলনীতি ছিল, প্রতিটি কাজে ভালো-মন্দ, ভুল-শুদ্ধ, উপকারী-অপকারী নির্ণয় মানুষ নিজ মস্তিষ্কপ্রসূত বিধানের মাধ্যমে নয়; বরং সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত মূলনীতির আলোকে করবে। তার সমস্ত আইনের ভিত্তি হবে আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের নির্দেশ এবং প্রতিটি কাজের লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
সারকথা হলো, নবীগণের সরদার—তাঁর প্রতি আমাদের পিতা-মাতা উৎসর্গ হোন—পুরো পৃথিবীর জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দূত হিসেবে আগমন করেছেন। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করেছে, ততদিন শান্তি ও নিরাপত্তার যুগ ছিল। যখন তা পরিত্যাগ করেছে, ফিতনা-ফাসাদ, জুলুম-অত্যাচার ও নানা ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমান পৃথিবী শান্তি ও নিরাপত্তা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমনের জন্য হাজার রকমের পদ্ধতি বাস্তবায়ন করেছে। ফলাফল সবার সামনে এই এসেছে যে, যতই ব্যবস্থাপনা বেড়েছে, অপরাধের ঝড় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইনসাফ বিদায় নিয়েছে। আর শান্তি ও স্থিতিশীলতার তো নামগন্ধও নেই।
এবার এ পথে আর অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে কিছুটা পেছনে ফিরে চলুন। দোজাহানের সরদার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত জীবনব্যবস্থাকে বেশি নয়, কিছুদিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে হলেও বাস্তবায়ন করে এর ফলাফল দেখুন—পৃথিবীর শান্তি ও নিরাপত্তা কেবল শান্তি ও নিরাপত্তার দূত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত জীবনব্যবস্থার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। এর ঐতিহাসিক সাক্ষ্য হলো নববী যুগ, তারপর খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবা ও তাবেঈনের শাসনামলে ধারাবাহিকভাবে এবং পরবর্তী যুগে যখনই এই ব্যবস্থাপনাকে পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তখন তা এতটাই প্রজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়েছিল যে, কট্টর বিরোধীদেরও তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ হতো না।
ইচ্ছে ছিল ইসলামের ইতিহাস থেকে এর কিছু দৃষ্টান্ত এখানে উপস্থাপন করব। কিন্তু বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধকে অতিরিক্ত দীর্ঘ করা এখন সময়, সুযোগ ও ব্যস্ততার বিচারে সহজ নয়। তাছাড়া ইসলামের ইতিহাসে এগুলোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত থাকার কারণে এর প্রয়োজনও নেই। তাই এখানেই প্রবন্ধটি সমাপ্ত করছি।
فَتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ التَّكْلَانُ.
টিকাঃ
২৪. সূরা হুজুরাত, আয়াত ১০
২৫. বৈরুতের বিচারক মুস্তফা গোলামীনী রচিত ইসলাম মদীনার রূহ, ৩৯-৪০ পৃষ্ঠা
সারকথা হলো, ইসলামী জীবনব্যবস্থা স্বভাবজাত ও সহজ-সরল ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং জীবনের প্রতিটি শাখায় ব্যাপৃত শতভাগ সফল একটি ব্যবস্থা। যার ভিত্তি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহের শিক্ষা। সাময়িক ও পার্থিব প্রয়োজনে শিল্প, কারিগরি, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই প্রয়োজন পরিমাণ শেখা ও শেখানোর সুযোগ ইসলামে রয়েছে।
আমি ইসলামে দুটি বিষয়ের উত্তম সমাধান পেয়েছি, যে দু বিষয়ে পুরো পৃথিবী চরম সঙ্কটের শিকার। প্রথমটি হলো কুরআনের বাণী-
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ
'প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মুসলিম ভাই-ভাই।'
এটি সাম্যের একটি মহান নীতি। দ্বিতীয়টি হলো সকল ধনাঢ্য ব্যক্তির উপর যাকাত আবশ্যক করা এবং তাদের সম্পদে দরিদ্রদের এমন অধিকার সাব্যস্ত করা, যদি ধনীরা তা প্রদান না করে, তাহলে বাধ্যতামূলকভাবে সেটা আদায় করা হবে।
জোরপূর্বক যাকাতের মাল আদায় করার দ্বারা এ লেখকের উদ্দেশ্য সম্ভবত এটা যে, ইসলামী রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে যাকাত উসূল করে দরিদ্রদের অধিকার তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, মুসলমানরা নিজেদের ঘরের হিরে-জহরত ছেড়ে অন্যদের পাথরচূর্ণ ভিক্ষা করতে প্রস্তুত। আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহের শিক্ষা থেকে বিমুখ হয়ে নিজেদের প্রতিটি কাজে অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং তাদের অনুসরণ করার মাঝে গর্ববোধ করে। এটা তাদের সমস্ত কাজ ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে একটি অসমাধানযোগ্য জটিল ধাঁধায় পরিণত করেছে।
কথা ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে গেল। এখানে রাষ্ট্রব্যবব্যবস্থা বা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা নয়; বরং শুধু এটুকু বোঝানো উদ্দেশ্য ছিল যে, দার্শনিকদের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কাজ ও প্রতিটি বিষয়ের যে ব্যবস্থাপনা মানুষদের দান করেছেন, তা পূর্ণাঙ্গ, উপকারী ও সফল হওয়ার পাশাপাশি সহজ-সরল ও সাশ্রয়ী। পৃথিবী যখন থেকে এ জীবনব্যবস্থা ত্যাগ করেছে, তখন থেকে বিভিন্ন আইনি সংস্থা ও লম্বা লম্বা দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিকতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বটে, যা স্থূলদৃষ্টির মানুষকে আকর্ষিত ও প্রতারিত করার জন্য যথেষ্টও, কিন্তু ফলাফল ও পরিণামের বিচারে পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে যে, এসব একেবারেই ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।
আজকের পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমন এবং সমাজে জ্ঞানবিজ্ঞান ও এর মাধ্যমে উন্নত চরিত্রের বিস্তার করার জন্য হাজার হাজার স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তি সেখানে কাজ করছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ তাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যাবে, দিন দিন ন্যায়বিচার বিলুপ্ত হচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্ঞান ও শিক্ষার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে।
রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা যখন এই দুর্দশা দেখেছেন, তখন পুলিশের উপর স্পেশাল পুলিশ, এক গোয়েন্দা বিভাগের উপর আরেক গোয়েন্দা বিভাগ, একটি প্রতিষ্ঠান সংশোধনের জন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে লাগল। কিন্তু ফলাফল সেই আগেরটাই রয়ে গেল। কবির ভাষায়—
مرض بڑھتا گیا جوں جوں دوا کی
'দাওয়াই যত ব্যবহার করল রোগ ততই বেড়ে চলল।'
এর কারণ সেটাই যা পূর্বে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে, আইন ও আইনী সংস্থা কোনো স্বয়ংক্রিয় মেশিন নয়; বরং এসব পরিচালনার জন্য মানুষের প্রয়োজন। আর এখন তারই দুর্ভিক্ষ। বাদশা আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীতে যে জিনিসটি সর্বত্র বিরাজমান হওয়া সত্ত্বেও দুষ্প্রাপ্য, সেটি হলো মানুষ। আর ইসলামের তাওহীদ ও আখেরাতের বিশ্বাস ছাড়া প্রকৃত মানুষ হবার কোনো পথ নেই। ইসলামী মতাদর্শ ও জীবনব্যবস্থার ফলাফলই হলো শান্তি ও নিরাপত্তা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার, প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা।
পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, নবীকুল শিরোমণি দোজাহানের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মতাদর্শ ও জীবনব্যবস্থা মানুষকে দান করেছেন, তার দুটি বুনিয়াদি মূলনীতি ছিল—
এক. মানুষকে আল্লাহ ও পরকালের ভয়ের মাধ্যমে চারিত্রিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ মানুষে পরিণত করা। যে ধনদৌলত, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে এভাবে মত্ত হবে না যে, সব ধরনের বৈধ-অবৈধ পন্থায় তা অর্জনের চেষ্টা করবে। অন্যদের অধিকার ছিনিয়ে নেবে এবং মানুষদেরকে কষ্ট দেবে। বরং তার তো আদর্শ হবে অন্যের অধিকার আদায়ের প্রবল জযবা এবং নিজ অধিকার বিসর্জন দিয়ে ক্ষমা করার মানসিকতা। জানাকথা, যেই পৃথিবীতে এ ধরনের মানুষ বসবাস করবে, সেখানে জুলুম-অত্যাচার, দ্বন্দ্ব-হত্যা, অপরাধ-পাপাচারের অস্তিত্ব কল্পনা করাই যায় না।
দ্বিতীয় বুনিয়াদি মূলনীতি ছিল, প্রতিটি কাজে ভালো-মন্দ, ভুল-শুদ্ধ, উপকারী-অপকারী নির্ণয় মানুষ নিজ মস্তিষ্কপ্রসূত বিধানের মাধ্যমে নয়; বরং সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত মূলনীতির আলোকে করবে। তার সমস্ত আইনের ভিত্তি হবে আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের নির্দেশ এবং প্রতিটি কাজের লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
সারকথা হলো, নবীগণের সরদার—তাঁর প্রতি আমাদের পিতা-মাতা উৎসর্গ হোন—পুরো পৃথিবীর জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দূত হিসেবে আগমন করেছেন। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করেছে, ততদিন শান্তি ও নিরাপত্তার যুগ ছিল। যখন তা পরিত্যাগ করেছে, ফিতনা-ফাসাদ, জুলুম-অত্যাচার ও নানা ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমান পৃথিবী শান্তি ও নিরাপত্তা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমনের জন্য হাজার রকমের পদ্ধতি বাস্তবায়ন করেছে। ফলাফল সবার সামনে এই এসেছে যে, যতই ব্যবস্থাপনা বেড়েছে, অপরাধের ঝড় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইনসাফ বিদায় নিয়েছে। আর শান্তি ও স্থিতিশীলতার তো নামগন্ধও নেই।
এবার এ পথে আর অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে কিছুটা পেছনে ফিরে চলুন। দোজাহানের সরদার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত জীবনব্যবস্থাকে বেশি নয়, কিছুদিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে হলেও বাস্তবায়ন করে এর ফলাফল দেখুন—পৃথিবীর শান্তি ও নিরাপত্তা কেবল শান্তি ও নিরাপত্তার দূত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত জীবনব্যবস্থার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। এর ঐতিহাসিক সাক্ষ্য হলো নববী যুগ, তারপর খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবা ও তাবেঈনের শাসনামলে ধারাবাহিকভাবে এবং পরবর্তী যুগে যখনই এই ব্যবস্থাপনাকে পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তখন তা এতটাই প্রজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়েছিল যে, কট্টর বিরোধীদেরও তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ হতো না।
ইচ্ছে ছিল ইসলামের ইতিহাস থেকে এর কিছু দৃষ্টান্ত এখানে উপস্থাপন করব। কিন্তু বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধকে অতিরিক্ত দীর্ঘ করা এখন সময়, সুযোগ ও ব্যস্ততার বিচারে সহজ নয়। তাছাড়া ইসলামের ইতিহাসে এগুলোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত থাকার কারণে এর প্রয়োজনও নেই। তাই এখানেই প্রবন্ধটি সমাপ্ত করছি।
فَتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ التَّكْلَانُ.
টিকাঃ
২৪. সূরা হুজুরাত, আয়াত ১০
২৫. বৈরুতের বিচারক মুস্তফা গোলামীনী রচিত ইসলাম মদীনার রূহ, ৩৯-৪০ পৃষ্ঠা
সারকথা হলো, ইসলামী জীবনব্যবস্থা স্বভাবজাত ও সহজ-সরল ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং জীবনের প্রতিটি শাখায় ব্যাপৃত শতভাগ সফল একটি ব্যবস্থা। যার ভিত্তি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহের শিক্ষা। সাময়িক ও পার্থিব প্রয়োজনে শিল্প, কারিগরি, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই প্রয়োজন পরিমাণ শেখা ও শেখানোর সুযোগ ইসলামে রয়েছে।
আমি ইসলামে দুটি বিষয়ের উত্তম সমাধান পেয়েছি, যে দু বিষয়ে পুরো পৃথিবী চরম সঙ্কটের শিকার। প্রথমটি হলো কুরআনের বাণী-
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ
'প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মুসলিম ভাই-ভাই।'
এটি সাম্যের একটি মহান নীতি। দ্বিতীয়টি হলো সকল ধনাঢ্য ব্যক্তির উপর যাকাত আবশ্যক করা এবং তাদের সম্পদে দরিদ্রদের এমন অধিকার সাব্যস্ত করা, যদি ধনীরা তা প্রদান না করে, তাহলে বাধ্যতামূলকভাবে সেটা আদায় করা হবে।
জোরপূর্বক যাকাতের মাল আদায় করার দ্বারা এ লেখকের উদ্দেশ্য সম্ভবত এটা যে, ইসলামী রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে যাকাত উসূল করে দরিদ্রদের অধিকার তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, মুসলমানরা নিজেদের ঘরের হিরে-জহরত ছেড়ে অন্যদের পাথরচূর্ণ ভিক্ষা করতে প্রস্তুত। আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহের শিক্ষা থেকে বিমুখ হয়ে নিজেদের প্রতিটি কাজে অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং তাদের অনুসরণ করার মাঝে গর্ববোধ করে। এটা তাদের সমস্ত কাজ ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে একটি অসমাধানযোগ্য জটিল ধাঁধায় পরিণত করেছে।
কথা ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে গেল। এখানে রাষ্ট্রব্যবব্যবস্থা বা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা নয়; বরং শুধু এটুকু বোঝানো উদ্দেশ্য ছিল যে, দার্শনিকদের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কাজ ও প্রতিটি বিষয়ের যে ব্যবস্থাপনা মানুষদের দান করেছেন, তা পূর্ণাঙ্গ, উপকারী ও সফল হওয়ার পাশাপাশি সহজ-সরল ও সাশ্রয়ী। পৃথিবী যখন থেকে এ জীবনব্যবস্থা ত্যাগ করেছে, তখন থেকে বিভিন্ন আইনি সংস্থা ও লম্বা লম্বা দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিকতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বটে, যা স্থূলদৃষ্টির মানুষকে আকর্ষিত ও প্রতারিত করার জন্য যথেষ্টও, কিন্তু ফলাফল ও পরিণামের বিচারে পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে যে, এসব একেবারেই ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।
আজকের পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমন এবং সমাজে জ্ঞানবিজ্ঞান ও এর মাধ্যমে উন্নত চরিত্রের বিস্তার করার জন্য হাজার হাজার স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তি সেখানে কাজ করছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ তাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যাবে, দিন দিন ন্যায়বিচার বিলুপ্ত হচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্ঞান ও শিক্ষার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে।
রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা যখন এই দুর্দশা দেখেছেন, তখন পুলিশের উপর স্পেশাল পুলিশ, এক গোয়েন্দা বিভাগের উপর আরেক গোয়েন্দা বিভাগ, একটি প্রতিষ্ঠান সংশোধনের জন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে লাগল। কিন্তু ফলাফল সেই আগেরটাই রয়ে গেল। কবির ভাষায়—
مرض بڑھتا گیا جوں جوں دوا کی
'দাওয়াই যত ব্যবহার করল রোগ ততই বেড়ে চলল।'
এর কারণ সেটাই যা পূর্বে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে, আইন ও আইনী সংস্থা কোনো স্বয়ংক্রিয় মেশিন নয়; বরং এসব পরিচালনার জন্য মানুষের প্রয়োজন। আর এখন তারই দুর্ভিক্ষ। বাদশা আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীতে যে জিনিসটি সর্বত্র বিরাজমান হওয়া সত্ত্বেও দুষ্প্রাপ্য, সেটি হলো মানুষ। আর ইসলামের তাওহীদ ও আখেরাতের বিশ্বাস ছাড়া প্রকৃত মানুষ হবার কোনো পথ নেই। ইসলামী মতাদর্শ ও জীবনব্যবস্থার ফলাফলই হলো শান্তি ও নিরাপত্তা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার, প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা।
পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, নবীকুল শিরোমণি দোজাহানের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মতাদর্শ ও জীবনব্যবস্থা মানুষকে দান করেছেন, তার দুটি বুনিয়াদি মূলনীতি ছিল—
এক. মানুষকে আল্লাহ ও পরকালের ভয়ের মাধ্যমে চারিত্রিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ মানুষে পরিণত করা। যে ধনদৌলত, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে এভাবে মত্ত হবে না যে, সব ধরনের বৈধ-অবৈধ পন্থায় তা অর্জনের চেষ্টা করবে। অন্যদের অধিকার ছিনিয়ে নেবে এবং মানুষদেরকে কষ্ট দেবে। বরং তার তো আদর্শ হবে অন্যের অধিকার আদায়ের প্রবল জযবা এবং নিজ অধিকার বিসর্জন দিয়ে ক্ষমা করার মানসিকতা। জানাকথা, যেই পৃথিবীতে এ ধরনের মানুষ বসবাস করবে, সেখানে জুলুম-অত্যাচার, দ্বন্দ্ব-হত্যা, অপরাধ-পাপাচারের অস্তিত্ব কল্পনা করাই যায় না।
দ্বিতীয় বুনিয়াদি মূলনীতি ছিল, প্রতিটি কাজে ভালো-মন্দ, ভুল-শুদ্ধ, উপকারী-অপকারী নির্ণয় মানুষ নিজ মস্তিষ্কপ্রসূত বিধানের মাধ্যমে নয়; বরং সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত মূলনীতির আলোকে করবে। তার সমস্ত আইনের ভিত্তি হবে আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের নির্দেশ এবং প্রতিটি কাজের লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
সারকথা হলো, নবীগণের সরদার—তাঁর প্রতি আমাদের পিতা-মাতা উৎসর্গ হোন—পুরো পৃথিবীর জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দূত হিসেবে আগমন করেছেন। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করেছে, ততদিন শান্তি ও নিরাপত্তার যুগ ছিল। যখন তা পরিত্যাগ করেছে, ফিতনা-ফাসাদ, জুলুম-অত্যাচার ও নানা ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমান পৃথিবী শান্তি ও নিরাপত্তা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমনের জন্য হাজার রকমের পদ্ধতি বাস্তবায়ন করেছে। ফলাফল সবার সামনে এই এসেছে যে, যতই ব্যবস্থাপনা বেড়েছে, অপরাধের ঝড় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইনসাফ বিদায় নিয়েছে। আর শান্তি ও স্থিতিশীলতার তো নামগন্ধও নেই।
এবার এ পথে আর অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে কিছুটা পেছনে ফিরে চলুন। দোজাহানের সরদার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত জীবনব্যবস্থাকে বেশি নয়, কিছুদিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে হলেও বাস্তবায়ন করে এর ফলাফল দেখুন—পৃথিবীর শান্তি ও নিরাপত্তা কেবল শান্তি ও নিরাপত্তার দূত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত জীবনব্যবস্থার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। এর ঐতিহাসিক সাক্ষ্য হলো নববী যুগ, তারপর খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবা ও তাবেঈনের শাসনামলে ধারাবাহিকভাবে এবং পরবর্তী যুগে যখনই এই ব্যবস্থাপনাকে পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তখন তা এতটাই প্রজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়েছিল যে, কট্টর বিরোধীদেরও তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ হতো না।
ইচ্ছে ছিল ইসলামের ইতিহাস থেকে এর কিছু দৃষ্টান্ত এখানে উপস্থাপন করব। কিন্তু বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধকে অতিরিক্ত দীর্ঘ করা এখন সময়, সুযোগ ও ব্যস্ততার বিচারে সহজ নয়। তাছাড়া ইসলামের ইতিহাসে এগুলোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত থাকার কারণে এর প্রয়োজনও নেই। তাই এখানেই প্রবন্ধটি সমাপ্ত করছি।
فَتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ التَّكْلَانُ.
টিকাঃ
২৪. সূরা হুজুরাত, আয়াত ১০
২৫. বৈরুতের বিচারক মুস্তফা গোলামীনী রচিত ইসলাম মদীনার রূহ, ৩৯-৪০ পৃষ্ঠা