📄 জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিদেশি ভাষা শিক্ষা
শিক্ষার মূলনীতিসমূহ পুরোটাই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহয় বিদ্যমান রয়েছে। জাগতিক ও অর্থনৈতিক, কিংবা যুগের চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ শেখা আবশ্যক, সে ব্যবস্থাও তখনকার যুগে সাধাসিধা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।
বদর যুদ্ধের বন্দীদের যারা লেখাপড়া জানত, তাদের কাঁধে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো যে, তারা সাহাবায়ে কেরামকে লেখাপড়া শেখাবে। ভিনদেশি ভাষা শেখা ও জানারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। রোমীয়, পারসিক ও আবিসিনীয় ভাষায় দক্ষ লোকও সাহাবায়ে কেরামের মাঝে ছিলেন।
শিক্ষার মূলনীতিসমূহ পুরোটাই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহয় বিদ্যমান রয়েছে। জাগতিক ও অর্থনৈতিক, কিংবা যুগের চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ শেখা আবশ্যক, সে ব্যবস্থাও তখনকার যুগে সাধাসিধা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।
বদর যুদ্ধের বন্দীদের যারা লেখাপড়া জানত, তাদের কাঁধে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো যে, তারা সাহাবায়ে কেরামকে লেখাপড়া শেখাবে। ভিনদেশি ভাষা শেখা ও জানারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। রোমীয়, পারসিক ও আবিসিনীয় ভাষায় দক্ষ লোকও সাহাবায়ে কেরামের মাঝে ছিলেন।
শিক্ষার মূলনীতিসমূহ পুরোটাই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহয় বিদ্যমান রয়েছে। জাগতিক ও অর্থনৈতিক, কিংবা যুগের চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ শেখা আবশ্যক, সে ব্যবস্থাও তখনকার যুগে সাধাসিধা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।
বদর যুদ্ধের বন্দীদের যারা লেখাপড়া জানত, তাদের কাঁধে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো যে, তারা সাহাবায়ে কেরামকে লেখাপড়া শেখাবে। ভিনদেশি ভাষা শেখা ও জানারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। রোমীয়, পারসিক ও আবিসিনীয় ভাষায় দক্ষ লোকও সাহাবায়ে কেরামের মাঝে ছিলেন।
শিক্ষার মূলনীতিসমূহ পুরোটাই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহয় বিদ্যমান রয়েছে। জাগতিক ও অর্থনৈতিক, কিংবা যুগের চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ শেখা আবশ্যক, সে ব্যবস্থাও তখনকার যুগে সাধাসিধা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।
বদর যুদ্ধের বন্দীদের যারা লেখাপড়া জানত, তাদের কাঁধে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো যে, তারা সাহাবায়ে কেরামকে লেখাপড়া শেখাবে। ভিনদেশি ভাষা শেখা ও জানারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। রোমীয়, পারসিক ও আবিসিনীয় ভাষায় দক্ষ লোকও সাহাবায়ে কেরামের মাঝে ছিলেন।
📄 শিল্প ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা
প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।
প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।
প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।
প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।
📄 যুদ্ধাস্ত্রে নির্মাণশিল্প রফতরণে সাহাবায়ে কেরামের গুরুত্ব
হাফিযুল হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে লেখেন, হযরত উরওয়া ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত গায়লান ইবনে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইনের যুদ্ধে এজন্য অংশগ্রহণ করতে পারেননি যে, তারা কিছু যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ শেখার জন্য 'জারাস' নামক স্থানে ছিলেন। সেখানে তারা ট্যাংক ও মিনজানিক নির্মাণ শিক্ষালাভ করেন।
ওই যুগের ট্যাংক হলো, কেল্লা অবরোধের সময় তিরবৃষ্টি এড়িয়ে কেল্লা পর্যন্ত পৌঁছানোর এক ধরনের গাড়ি। সেটারই উন্নত সংস্করণ বর্তমানের ট্যাংক। কতিপয় গবেষকদের কাছে শুনেছি, ইংরেজরা মহীশুরের কেল্লা বিজয়ের সময় এটি ব্যবহার করেছিল।
মিনজানিক হলো এমন যন্ত্র, যার মাধ্যমে ভারী পাথর নিক্ষেপ করা হতো। কেল্লা বিধ্বংসী কামান আবিষ্কারের পূর্বে এটি ব্যবহার হতো। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সিন্ধু বিজয়ের সময় দেবল কেল্লায় সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেন।
লক্ষ করুন, কতইনা সহজ-সরল, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে জ্ঞানগত যোগ্যতার পূর্ণতা, চরিত্র ও মননশীলতার উন্নতির পাশাপাশি কাজ ও কর্মদক্ষতা অর্জিত হয় এবং শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য তথা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানো, সেটা কত সহজেই পূরণ হয়।
এখানে কারও মনে এ প্রশ্ন হতে পারে যে, ওই সময় পুরো পৃথিবীতেই সাদাসিধে জীবনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল; এর জন্য অধিক শিক্ষার প্রয়োজন ছিল না। বরং উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থাই ওই পরিমাণ শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবী তো বহুদূর এগিয়ে গেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে, যেগুলো অর্জন করার জন্য প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এই সাধাসিধে ও সংক্ষিপ্ত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের অবদানের প্রতি নজর বুলায়, তাহলে বুঝতে পারবে যে, ওই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষিত লোকেরা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও কর্মকৌশলে এমন স্থান অর্জন করতে পেরেছিলেন, যার দরুন তাদের সামনে পুরো পৃথিবী মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল।
সিদ্দীকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। উসমান গনী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আসেননি। খালিদ বিন ওয়ালিদ, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস, عبدالله ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোথাও শিক্ষা লাভ করেননি।
বরং বাস্তবতা হলো, যদি কুরআনের শিক্ষাকে যথাযথ অর্জন করা যায়, তাহলে দেখা যাবে—মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমন কোনো প্রয়োজন নেই যা পূরণের জন্য কুরআনে উত্তম ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে শুরু করে গোত্রীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাপারগুলোর এমন উত্তম দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, যদি এর উপর আমল করা হয়, তাহলে পুরো দুনিয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর এ এমন এক বাস্তবতা যাকে কেবল আমরা মুসলমানরাই নই; বরং যারা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক পায়ে খাড়া থাকে, তাদেরও এর স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া উপায় নেই।
টিকাঃ
২৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৩৪৫, হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনা।
হাফিযুল হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে লেখেন, হযরত উরওয়া ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত গায়লান ইবনে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইনের যুদ্ধে এজন্য অংশগ্রহণ করতে পারেননি যে, তারা কিছু যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ শেখার জন্য 'জারাস' নামক স্থানে ছিলেন। সেখানে তারা ট্যাংক ও মিনজানিক নির্মাণ শিক্ষালাভ করেন।
ওই যুগের ট্যাংক হলো, কেল্লা অবরোধের সময় তিরবৃষ্টি এড়িয়ে কেল্লা পর্যন্ত পৌঁছানোর এক ধরনের গাড়ি। সেটারই উন্নত সংস্করণ বর্তমানের ট্যাংক। কতিপয় গবেষকদের কাছে শুনেছি, ইংরেজরা মহীশুরের কেল্লা বিজয়ের সময় এটি ব্যবহার করেছিল।
মিনজানিক হলো এমন যন্ত্র, যার মাধ্যমে ভারী পাথর নিক্ষেপ করা হতো। কেল্লা বিধ্বংসী কামান আবিষ্কারের পূর্বে এটি ব্যবহার হতো। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সিন্ধু বিজয়ের সময় দেবল কেল্লায় সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেন।
লক্ষ করুন, কতইনা সহজ-সরল, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে জ্ঞানগত যোগ্যতার পূর্ণতা, চরিত্র ও মননশীলতার উন্নতির পাশাপাশি কাজ ও কর্মদক্ষতা অর্জিত হয় এবং শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য তথা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানো, সেটা কত সহজেই পূরণ হয়।
এখানে কারও মনে এ প্রশ্ন হতে পারে যে, ওই সময় পুরো পৃথিবীতেই সাদাসিধে জীবনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল; এর জন্য অধিক শিক্ষার প্রয়োজন ছিল না। বরং উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থাই ওই পরিমাণ শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবী তো বহুদূর এগিয়ে গেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে, যেগুলো অর্জন করার জন্য প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এই সাধাসিধে ও সংক্ষিপ্ত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের অবদানের প্রতি নজর বুলায়, তাহলে বুঝতে পারবে যে, ওই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষিত লোকেরা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও কর্মকৌশলে এমন স্থান অর্জন করতে পেরেছিলেন, যার দরুন তাদের সামনে পুরো পৃথিবী মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল।
সিদ্দীকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। উসমান গনী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আসেননি। খালিদ বিন ওয়ালিদ, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস, عبدالله ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোথাও শিক্ষা লাভ করেননি।
বরং বাস্তবতা হলো, যদি কুরআনের শিক্ষাকে যথাযথ অর্জন করা যায়, তাহলে দেখা যাবে—মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমন কোনো প্রয়োজন নেই যা পূরণের জন্য কুরআনে উত্তম ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে শুরু করে গোত্রীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাপারগুলোর এমন উত্তম দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, যদি এর উপর আমল করা হয়, তাহলে পুরো দুনিয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর এ এমন এক বাস্তবতা যাকে কেবল আমরা মুসলমানরাই নই; বরং যারা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক পায়ে খাড়া থাকে, তাদেরও এর স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া উপায় নেই।
টিকাঃ
২৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৩৪৫, হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনা।
হাফিযুল হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে লেখেন, হযরত উরওয়া ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত গায়লান ইবনে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইনের যুদ্ধে এজন্য অংশগ্রহণ করতে পারেননি যে, তারা কিছু যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ শেখার জন্য 'জারাস' নামক স্থানে ছিলেন। সেখানে তারা ট্যাংক ও মিনজানিক নির্মাণ শিক্ষালাভ করেন।
ওই যুগের ট্যাংক হলো, কেল্লা অবরোধের সময় তিরবৃষ্টি এড়িয়ে কেল্লা পর্যন্ত পৌঁছানোর এক ধরনের গাড়ি। সেটারই উন্নত সংস্করণ বর্তমানের ট্যাংক। কতিপয় গবেষকদের কাছে শুনেছি, ইংরেজরা মহীশুরের কেল্লা বিজয়ের সময় এটি ব্যবহার করেছিল।
মিনজানিক হলো এমন যন্ত্র, যার মাধ্যমে ভারী পাথর নিক্ষেপ করা হতো। কেল্লা বিধ্বংসী কামান আবিষ্কারের পূর্বে এটি ব্যবহার হতো। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সিন্ধু বিজয়ের সময় দেবল কেল্লায় সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেন।
লক্ষ করুন, কতইনা সহজ-সরল, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে জ্ঞানগত যোগ্যতার পূর্ণতা, চরিত্র ও মননশীলতার উন্নতির পাশাপাশি কাজ ও কর্মদক্ষতা অর্জিত হয় এবং শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য তথা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানো, সেটা কত সহজেই পূরণ হয়।
এখানে কারও মনে এ প্রশ্ন হতে পারে যে, ওই সময় পুরো পৃথিবীতেই সাদাসিধে জীবনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল; এর জন্য অধিক শিক্ষার প্রয়োজন ছিল না। বরং উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থাই ওই পরিমাণ শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবী তো বহুদূর এগিয়ে গেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে, যেগুলো অর্জন করার জন্য প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এই সাধাসিধে ও সংক্ষিপ্ত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের অবদানের প্রতি নজর বুলায়, তাহলে বুঝতে পারবে যে, ওই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষিত লোকেরা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও কর্মকৌশলে এমন স্থান অর্জন করতে পেরেছিলেন, যার দরুন তাদের সামনে পুরো পৃথিবী মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল।
সিদ্দীকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। উসমান গনী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আসেননি। খালিদ বিন ওয়ালিদ, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস, عبدالله ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোথাও শিক্ষা লাভ করেননি।
বরং বাস্তবতা হলো, যদি কুরআনের শিক্ষাকে যথাযথ অর্জন করা যায়, তাহলে দেখা যাবে—মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমন কোনো প্রয়োজন নেই যা পূরণের জন্য কুরআনে উত্তম ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে শুরু করে গোত্রীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাপারগুলোর এমন উত্তম দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, যদি এর উপর আমল করা হয়, তাহলে পুরো দুনিয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর এ এমন এক বাস্তবতা যাকে কেবল আমরা মুসলমানরাই নই; বরং যারা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক পায়ে খাড়া থাকে, তাদেরও এর স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া উপায় নেই।
টিকাঃ
২৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৩৪৫, হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনা।
হাফিযুল হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে লেখেন, হযরত উরওয়া ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত গায়লান ইবনে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইনের যুদ্ধে এজন্য অংশগ্রহণ করতে পারেননি যে, তারা কিছু যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ শেখার জন্য 'জারাস' নামক স্থানে ছিলেন। সেখানে তারা ট্যাংক ও মিনজানিক নির্মাণ শিক্ষালাভ করেন।
ওই যুগের ট্যাংক হলো, কেল্লা অবরোধের সময় তিরবৃষ্টি এড়িয়ে কেল্লা পর্যন্ত পৌঁছানোর এক ধরনের গাড়ি। সেটারই উন্নত সংস্করণ বর্তমানের ট্যাংক। কতিপয় গবেষকদের কাছে শুনেছি, ইংরেজরা মহীশুরের কেল্লা বিজয়ের সময় এটি ব্যবহার করেছিল।
মিনজানিক হলো এমন যন্ত্র, যার মাধ্যমে ভারী পাথর নিক্ষেপ করা হতো। কেল্লা বিধ্বংসী কামান আবিষ্কারের পূর্বে এটি ব্যবহার হতো। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সিন্ধু বিজয়ের সময় দেবল কেল্লায় সর্বপ্রথম এটি ব্যবহার করেন।
লক্ষ করুন, কতইনা সহজ-সরল, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে জ্ঞানগত যোগ্যতার পূর্ণতা, চরিত্র ও মননশীলতার উন্নতির পাশাপাশি কাজ ও কর্মদক্ষতা অর্জিত হয় এবং শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য তথা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানো, সেটা কত সহজেই পূরণ হয়।
এখানে কারও মনে এ প্রশ্ন হতে পারে যে, ওই সময় পুরো পৃথিবীতেই সাদাসিধে জীবনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল; এর জন্য অধিক শিক্ষার প্রয়োজন ছিল না। বরং উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থাই ওই পরিমাণ শিক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবী তো বহুদূর এগিয়ে গেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে, যেগুলো অর্জন করার জন্য প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এই সাধাসিধে ও সংক্ষিপ্ত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের অবদানের প্রতি নজর বুলায়, তাহলে বুঝতে পারবে যে, ওই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষিত লোকেরা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও কর্মকৌশলে এমন স্থান অর্জন করতে পেরেছিলেন, যার দরুন তাদের সামনে পুরো পৃথিবী মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল।
সিদ্দীকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। উসমান গনী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আসেননি। খালিদ বিন ওয়ালিদ, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস, عبدالله ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই সাধাসিধে শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোথাও শিক্ষা লাভ করেননি।
বরং বাস্তবতা হলো, যদি কুরআনের শিক্ষাকে যথাযথ অর্জন করা যায়, তাহলে দেখা যাবে—মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমন কোনো প্রয়োজন নেই যা পূরণের জন্য কুরআনে উত্তম ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে শুরু করে গোত্রীয়, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাপারগুলোর এমন উত্তম দিকনির্দেশনা রয়েছে যে, যদি এর উপর আমল করা হয়, তাহলে পুরো দুনিয়া শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর এ এমন এক বাস্তবতা যাকে কেবল আমরা মুসলমানরাই নই; বরং যারা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক পায়ে খাড়া থাকে, তাদেরও এর স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া উপায় নেই।
টিকাঃ
২৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৩৪৫, হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনা।
📄 একজন ফরাসি খ্রিষ্টান চিন্তাবিদের সাক্ষ্য
এ ক্ষেত্রে অসংখ্য সাক্ষ্য থেকে এখন কেবল একজন খ্রিষ্টান ব্যক্তির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, যিনি ফ্রান্সের একজন প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তিনি মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বোঝার জন্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয়ে ত্রিশ বছর কাটিয়েছেন এবং আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইস্তাম্বুল, মিশর ও হিজাজে বসবাস করে আরবি ভাষা এবং সমস্ত ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করেছেন। এরপর ফিরে এসে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম- ثَلَاثُونَ عَامًا فِي الْإِسْلَامِ
এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদের নাম 'সোলিভ্যান রুশ'। তার গ্রন্থের কিছু অংশ আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
'আমি দীর্ঘ একটি সময় ইসলামকে আঁকড়ে ধরে ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, আমি যে-কোনো উপায়ে আমির আবদুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হব এবং তার রহস্য উন্মোচন করব। আমি এতে সফল হয়েছি। আমির সাহেব আমার উপর পুরোপুরি ভরসা করেছেন এবং আমাকে তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই ধর্মকে—অধিকাংশ মানুষ যার নিন্দা করে—নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শ থেকে উত্তম পেয়েছি।
বাস্তবতা হলো, এটাই একমাত্র ধর্ম, যাকে মানবিক, স্বভাবজাত, অর্থনীতিবান্ধব ও চারিত্রিক উপাদান সমৃদ্ধ বলার উপযুক্ত।
আমি আপনার রাষ্ট্রের সমস্ত আইনের মধ্যে এমন কোনো আইন পাইনি, যা ইসলামে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল না। বরং আমি ওই সংবিধান অধ্যয়ন করেছি, যাকে 'জল সিমন' স্বভাবজাত আইন বলে থাকেন। সেটা পুরোটাই ইসলাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
এরপর আমি গবেষণা করেছি যে, এই ধর্ম মুসলমানদের অন্তরে কী প্রভাব সৃষ্টি করে? তো আমি দেখেছি এই ধর্ম তাদের অন্তরে বীরত্ব, দানশীলতা, ভদ্রতা ও বুজুর্গী দিয়ে ভরে দেয়। বরং আমি উপলব্ধি করেছি যে, তাদের অন্তর ওই সকল উঁচুমাপের বিষয়ে পারদর্শী যা দার্শনিকগণ নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করে থাকে। তারা এমন এক পৃথিবীতে বাস করে, যেখানে মন্দকর্ম ও অনর্থক কাজকর্ম ও মিথ্যা কথা কেউ বলতে জানে না।
মুসলমানগণ সাদামাটা দিলের মানুষ হয়ে থাকেন। তারা কারও প্রতি খারাপ ধারণা করেন না। তারা জীবিকা অন্বেষণের ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেন না। এ কারণে তারা ধনসম্পদের ক্ষেত্রে ইহুদী ও কতিপয় খ্রিষ্টানদের থেকে কম ধনী হয়ে থাকেন।
এ ক্ষেত্রে অসংখ্য সাক্ষ্য থেকে এখন কেবল একজন খ্রিষ্টান ব্যক্তির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, যিনি ফ্রান্সের একজন প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তিনি মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বোঝার জন্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয়ে ত্রিশ বছর কাটিয়েছেন এবং আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইস্তাম্বুল, মিশর ও হিজাজে বসবাস করে আরবি ভাষা এবং সমস্ত ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করেছেন। এরপর ফিরে এসে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম- ثَلَاثُونَ عَامًا فِي الْإِسْلَامِ
এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদের নাম 'সোলিভ্যান রুশ'। তার গ্রন্থের কিছু অংশ আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
'আমি দীর্ঘ একটি সময় ইসলামকে আঁকড়ে ধরে ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, আমি যে-কোনো উপায়ে আমির আবদুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হব এবং তার রহস্য উন্মোচন করব। আমি এতে সফল হয়েছি। আমির সাহেব আমার উপর পুরোপুরি ভরসা করেছেন এবং আমাকে তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই ধর্মকে—অধিকাংশ মানুষ যার নিন্দা করে—নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শ থেকে উত্তম পেয়েছি।
বাস্তবতা হলো, এটাই একমাত্র ধর্ম, যাকে মানবিক, স্বভাবজাত, অর্থনীতিবান্ধব ও চারিত্রিক উপাদান সমৃদ্ধ বলার উপযুক্ত।
আমি আপনার রাষ্ট্রের সমস্ত আইনের মধ্যে এমন কোনো আইন পাইনি, যা ইসলামে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল না। বরং আমি ওই সংবিধান অধ্যয়ন করেছি, যাকে 'জল সিমন' স্বভাবজাত আইন বলে থাকেন। সেটা পুরোটাই ইসলাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
এরপর আমি গবেষণা করেছি যে, এই ধর্ম মুসলমানদের অন্তরে কী প্রভাব সৃষ্টি করে? তো আমি দেখেছি এই ধর্ম তাদের অন্তরে বীরত্ব, দানশীলতা, ভদ্রতা ও বুজুর্গী দিয়ে ভরে দেয়। বরং আমি উপলব্ধি করেছি যে, তাদের অন্তর ওই সকল উঁচুমাপের বিষয়ে পারদর্শী যা দার্শনিকগণ নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করে থাকে। তারা এমন এক পৃথিবীতে বাস করে, যেখানে মন্দকর্ম ও অনর্থক কাজকর্ম ও মিথ্যা কথা কেউ বলতে জানে না।
মুসলমানগণ সাদামাটা দিলের মানুষ হয়ে থাকেন। তারা কারও প্রতি খারাপ ধারণা করেন না। তারা জীবিকা অন্বেষণের ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেন না। এ কারণে তারা ধনসম্পদের ক্ষেত্রে ইহুদী ও কতিপয় খ্রিষ্টানদের থেকে কম ধনী হয়ে থাকেন।
এ ক্ষেত্রে অসংখ্য সাক্ষ্য থেকে এখন কেবল একজন খ্রিষ্টান ব্যক্তির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, যিনি ফ্রান্সের একজন প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তিনি মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বোঝার জন্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয়ে ত্রিশ বছর কাটিয়েছেন এবং আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইস্তাম্বুল, মিশর ও হিজাজে বসবাস করে আরবি ভাষা এবং সমস্ত ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করেছেন। এরপর ফিরে এসে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম- ثَلَاثُونَ عَامًا فِي الْإِسْلَامِ
এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদের নাম 'সোলিভ্যান রুশ'। তার গ্রন্থের কিছু অংশ আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
'আমি দীর্ঘ একটি সময় ইসলামকে আঁকড়ে ধরে ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, আমি যে-কোনো উপায়ে আমির আবদুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হব এবং তার রহস্য উন্মোচন করব। আমি এতে সফল হয়েছি। আমির সাহেব আমার উপর পুরোপুরি ভরসা করেছেন এবং আমাকে তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই ধর্মকে—অধিকাংশ মানুষ যার নিন্দা করে—নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শ থেকে উত্তম পেয়েছি।
বাস্তবতা হলো, এটাই একমাত্র ধর্ম, যাকে মানবিক, স্বভাবজাত, অর্থনীতিবান্ধব ও চারিত্রিক উপাদান সমৃদ্ধ বলার উপযুক্ত।
আমি আপনার রাষ্ট্রের সমস্ত আইনের মধ্যে এমন কোনো আইন পাইনি, যা ইসলামে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল না। বরং আমি ওই সংবিধান অধ্যয়ন করেছি, যাকে 'জল সিমন' স্বভাবজাত আইন বলে থাকেন। সেটা পুরোটাই ইসলাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
এরপর আমি গবেষণা করেছি যে, এই ধর্ম মুসলমানদের অন্তরে কী প্রভাব সৃষ্টি করে? তো আমি দেখেছি এই ধর্ম তাদের অন্তরে বীরত্ব, দানশীলতা, ভদ্রতা ও বুজুর্গী দিয়ে ভরে দেয়। বরং আমি উপলব্ধি করেছি যে, তাদের অন্তর ওই সকল উঁচুমাপের বিষয়ে পারদর্শী যা দার্শনিকগণ নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করে থাকে। তারা এমন এক পৃথিবীতে বাস করে, যেখানে মন্দকর্ম ও অনর্থক কাজকর্ম ও মিথ্যা কথা কেউ বলতে জানে না।
মুসলমানগণ সাদামাটা দিলের মানুষ হয়ে থাকেন। তারা কারও প্রতি খারাপ ধারণা করেন না। তারা জীবিকা অন্বেষণের ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেন না। এ কারণে তারা ধনসম্পদের ক্ষেত্রে ইহুদী ও কতিপয় খ্রিষ্টানদের থেকে কম ধনী হয়ে থাকেন।
এ ক্ষেত্রে অসংখ্য সাক্ষ্য থেকে এখন কেবল একজন খ্রিষ্টান ব্যক্তির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, যিনি ফ্রান্সের একজন প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তিনি মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বোঝার জন্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয়ে ত্রিশ বছর কাটিয়েছেন এবং আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইস্তাম্বুল, মিশর ও হিজাজে বসবাস করে আরবি ভাষা এবং সমস্ত ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করেছেন। এরপর ফিরে এসে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম- ثَلَاثُونَ عَامًا فِي الْإِسْلَامِ
এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদের নাম 'সোলিভ্যান রুশ'। তার গ্রন্থের কিছু অংশ আরবী থেকে অনুবাদ করে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
'আমি দীর্ঘ একটি সময় ইসলামকে আঁকড়ে ধরে ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, আমি যে-কোনো উপায়ে আমির আবদুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হব এবং তার রহস্য উন্মোচন করব। আমি এতে সফল হয়েছি। আমির সাহেব আমার উপর পুরোপুরি ভরসা করেছেন এবং আমাকে তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই ধর্মকে—অধিকাংশ মানুষ যার নিন্দা করে—নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শ থেকে উত্তম পেয়েছি।
বাস্তবতা হলো, এটাই একমাত্র ধর্ম, যাকে মানবিক, স্বভাবজাত, অর্থনীতিবান্ধব ও চারিত্রিক উপাদান সমৃদ্ধ বলার উপযুক্ত।
আমি আপনার রাষ্ট্রের সমস্ত আইনের মধ্যে এমন কোনো আইন পাইনি, যা ইসলামে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল না। বরং আমি ওই সংবিধান অধ্যয়ন করেছি, যাকে 'জল সিমন' স্বভাবজাত আইন বলে থাকেন। সেটা পুরোটাই ইসলাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
এরপর আমি গবেষণা করেছি যে, এই ধর্ম মুসলমানদের অন্তরে কী প্রভাব সৃষ্টি করে? তো আমি দেখেছি এই ধর্ম তাদের অন্তরে বীরত্ব, দানশীলতা, ভদ্রতা ও বুজুর্গী দিয়ে ভরে দেয়। বরং আমি উপলব্ধি করেছি যে, তাদের অন্তর ওই সকল উঁচুমাপের বিষয়ে পারদর্শী যা দার্শনিকগণ নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করে থাকে। তারা এমন এক পৃথিবীতে বাস করে, যেখানে মন্দকর্ম ও অনর্থক কাজকর্ম ও মিথ্যা কথা কেউ বলতে জানে না।
মুসলমানগণ সাদামাটা দিলের মানুষ হয়ে থাকেন। তারা কারও প্রতি খারাপ ধারণা করেন না। তারা জীবিকা অন্বেষণের ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করেন না। এ কারণে তারা ধনসম্পদের ক্ষেত্রে ইহুদী ও কতিপয় খ্রিষ্টানদের থেকে কম ধনী হয়ে থাকেন।