📘 শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মহানবী ﷺ > 📄 তালীম ও তারবিয়াতের ব্যবস্থাপনা

📄 তালীম ও তারবিয়াতের ব্যবস্থাপনা


ইসলামের শিক্ষা ও দীক্ষা ব্যবস্থায় দৃষ্টি দেওয়ার পূর্বে বর্তমান বিশ্বের শিক্ষাবোর্ড ও এর দপ্তরসমূহ, এতে কর্মরত লোকদের সংখ্যা এবং প্রাইমারি স্কুল থেকে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত যেই অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, তার বিশালতা ও এর পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় এবং এই ব্যয়বহুল খরচে শিক্ষা গ্রহণকারীদের লেখাপড়াকেন্দ্রিক খরচের দীর্ঘ ফিরিস্তির প্রতি চোখ রাখুন। এরপর এত কিছু সত্ত্বেও এর ফলাফল তুলনা করুন। যে জ্ঞান ও শাস্ত্র তাদের পাঠ দান করা হয়, সেগুলোতে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা গড়ে কত শতাংশ শিক্ষার্থীর মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই শিক্ষা তাদের চরিত্র ও কার্যক্রমকে কেমন বানাচ্ছে।
এরপর দার্শনিকদের সরদার সায়্যিদুল আম্বিয়া নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত শিক্ষাব্যবস্থা দেখুন, সেটি কত স্বভাবজাত ও সহজ-সরল মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। যেখানে সরকারের বড় ধরনের কোনো ব্যয় নেই, আবার ছাত্রের উপরও এক পয়সার বোঝা চাপানো নেই। যেমনটি বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে আপনি নতুন প্রজন্ম এবং বাচ্চাদের শিক্ষাদীক্ষার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন।
এ তুলনা থেকে প্রত্যেক পাঠক এই ফলাফলে পৌঁছে যাবেন যে, প্রতিটি মুসলমানের ঘর বাচ্চাদের জন্য প্রাইমারি স্কুল (প্রাথমিক বিদ্যালয়)। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের ঘরগুলোকে একেকটি প্রাইমারি স্কুলে পরিণত করেছেন। যেখানে অবচেতন মনে ছোট ছোট শিশুরা বোধবুদ্ধিসম্পন্ন হবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করতে পারে। বাচ্চার বয়স যখন সাতে পড়বে তখন সহজাতভাবেই সে পাক-নাপাকের পার্থক্য বুঝতে শুরু করে। এ সময় পিতা-মাতার প্রতি নির্দেশ হলো, তাকে নামায পড়া শেখাও, সাথে করে মসজিদে নিয়ে যাও। কারণ মসজিদগুলো নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূমিকা পালন করে।
যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে দেখতে পাব যে, আমাদের মসজিদগুলো নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষালয়ের ভূমিকা পালন করে। যেখানে সব ধরনের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা একত্রিত হয় এবং তাদের ওয়ায-নসীহত অনুষ্ঠিত হয়। তাদের সান্নিধ্য-সংশ্রবে শিশুর মনে অবচেতনেই এমনসব জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দ্বার উম্মোচিত হতে থাকে, যা বহু গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমেও সম্ভব হয় না।
এই শিক্ষা তো জ্ঞানী-গুণীদের সান্নিধ্য ও আলোচনার দ্বারা অর্জিত হয়। এছাড়া সাধারণ মুসলমানদের উপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন যে, যদি কোনো মুসলিম ভাইকে ভুল কাজ করতে দেখো, তাহলে তাকে সেটা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করো। যদি সক্ষম হও তাহলে হাত তথা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দাও। আর তা সম্ভব না হলে মৌখিকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করো। এটাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে সর্বনিম্ন স্তর হলো, তুমি তার কৃতকর্মকে অন্তর থেকে মন্দ মনে করো।
হাত দিয়ে বাধা দেওয়ার পদ্ধতি দুটি। একটি শাসকদের জন্য, যারা আইনের বলে মন্দ কাজ থেকে বাধা দিতে পারে। দ্বিতীয়টি স্বীয় আত্মীয়-বন্ধু অথবা সন্তান-সন্ততির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের উপর তার কর্তৃত্ব রয়েছে। আর মৌখিক বারণ সহমর্মিতার সাথে সকলের ক্ষেত্রেই করা যায়।
একটু ভাবুন, যখন প্রতিটি মুসলমান এই নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছে যে, দ্বীনের যে মাসআলা সম্পর্কে সে অবগত রয়েছে, তার বিপরীত কাউকে কিছু করতে দেখলে সেই কাজ থেকে বিরত রাখার যথাসম্ভব চেষ্টা করবে।
তাহলে এই নির্দেশনার উপর আমলের বরকতে কত সহজে একেবারে বিনামূল্যে; বরং আবশ্যিকভাবে দ্বীনী শিক্ষার প্রসার হয়ে যায়।
নামায তো ঘরেও আদায় করা যেত। কিন্তু তার জন্য মসজিদে একত্রিত হওয়ার মাঝে শিক্ষাদীক্ষার একটি বড় উপকারিতা নিহিত রয়েছে যে, এর ফলে প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের পক্ষে আয়নার ভূমিকা রেখে ভুলগুলো সম্পর্কে অবহিত করতে পারবে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, পুরো জাতির তাত্ত্বিকশিক্ষা ও পাশাপাশি তার বাস্তব অনুশীলন কতটা সহজেই সম্ভব হচ্ছে। যা না কোনো স্কুলে সম্ভব হতো, না কোনো মাদরাসায়।
তবে এই হুকুমের পাশাপাশি এ কথাটিও খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরী যে, অপরকে তার ভুল সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে সহমর্মিতা ও কল্যাণকামী মনোভাব থাকতে হবে। নম্রতার সাথে একাকিত্বে বোঝাতে হবে। যাতে তার মনে আঘাত না লাগে এবং সে জিদ করে না বসে।
কুরআনুল কারীম যেখানেই মুসলমানদের সত্যের পথে দাওয়াতের নির্দেশ করেছে, সেখানেই এই শর্তগুলো আরোপ করেছে—
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
'তুমি নিজ প্রতিপালকের পথে মানুষকে ডাকবে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে।'
অর্থাৎ প্রভুর পথের দিকে মানুষকে প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের সাথে আহ্বান করো। প্রজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য—কথা বলার পূর্বে এটি ভাবা যে, শ্রোতাকে এই কথা কোন সময়, কোন অবস্থায়, কোন শিরোনামে বললে তার অন্তরে সাড়া পড়বে। এরপর বিষয়টি কল্যাণকামিতার সাথে উপস্থাপন করা উচিত, নিজের বড়ত্ব প্রকাশ বা অন্যকে অপমান করা উদ্দেশ্য হতে পারবে না। এজন্য আয়াতে مَوْعِظَة (উপদেশ) এর সাথে حَسَنَة (উত্তম) এর শর্তটি বৃদ্ধি করে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মুসলমানদের ব্যাপক মূর্খতা ও গাফিলতি ইসলামের যে মূলনীতিগুলোকে অকেজো করে দিয়েছে, তার একটি এও যে, একতো কেউ কাউকে মন্দ কাজে সতর্ক করে না। আর কেউ সতর্ক করতে উদ্যোগী হলেও উল্লিখিত আদব ও শর্তাবলী রক্ষা করা হয় না। ফলে শিক্ষা ও সংশোধনের এই সোনালী মূলনীতিগুলো মসজিদ ও মাহফিলসমূহে উল্টো ঝগড়া বিবাদ, অনৈক্য ও বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এটা কেবল দ্বীনী বিষয়গুলোর সাথেই সম্পৃক্ত নয়; বরং সমস্ত পার্থিব বিষয়েও সবসময়ের অভিজ্ঞতা এই যে, উত্তম থেকে উত্তম বলবর্ধক খাবার অথবা ওষুধ যদি ভুল পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা উপকারের পরিবর্তে আরও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
সারকথা, দোজাহানের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী যদি যথাযথ আমল করা হয়, তাহলে শিশুর জন্য মায়ের কোল ও তার ঘরই সর্বোত্তম প্রাথমিক শিক্ষালয়ে পরিণত হবে এবং প্রতিটি মসজিদ নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষার আদর্শ বিদ্যালয় হবে, যেখানে জ্ঞানের পাশাপাশি তার প্রয়োগ এবং শিক্ষার পাশাপাশি চারিত্রিক ও মানসিক গঠনও সম্পন্ন হয়ে যাবে। এবং শিক্ষার আসল যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ বানানো, সে পথের ধাপগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হওয়া আরম্ভ হয়।

টিকাঃ
২২. সূরা নাহ্‌ল, আয়াত ১২৫

ইসলামের শিক্ষা ও দীক্ষা ব্যবস্থায় দৃষ্টি দেওয়ার পূর্বে বর্তমান বিশ্বের শিক্ষাবোর্ড ও এর দপ্তরসমূহ, এতে কর্মরত লোকদের সংখ্যা এবং প্রাইমারি স্কুল থেকে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত যেই অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, তার বিশালতা ও এর পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় এবং এই ব্যয়বহুল খরচে শিক্ষা গ্রহণকারীদের লেখাপড়াকেন্দ্রিক খরচের দীর্ঘ ফিরিস্তির প্রতি চোখ রাখুন। এরপর এত কিছু সত্ত্বেও এর ফলাফল তুলনা করুন। যে জ্ঞান ও শাস্ত্র তাদের পাঠ দান করা হয়, সেগুলোতে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা গড়ে কত শতাংশ শিক্ষার্থীর মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই শিক্ষা তাদের চরিত্র ও কার্যক্রমকে কেমন বানাচ্ছে।
এরপর দার্শনিকদের সরদার সায়্যিদুল আম্বিয়া নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত শিক্ষাব্যবস্থা দেখুন, সেটি কত স্বভাবজাত ও সহজ-সরল মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। যেখানে সরকারের বড় ধরনের কোনো ব্যয় নেই, আবার ছাত্রের উপরও এক পয়সার বোঝা চাপানো নেই। যেমনটি বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে আপনি নতুন প্রজন্ম এবং বাচ্চাদের শিক্ষাদীক্ষার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন।
এ তুলনা থেকে প্রত্যেক পাঠক এই ফলাফলে পৌঁছে যাবেন যে, প্রতিটি মুসলমানের ঘর বাচ্চাদের জন্য প্রাইমারি স্কুল (প্রাথমিক বিদ্যালয়)। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের ঘরগুলোকে একেকটি প্রাইমারি স্কুলে পরিণত করেছেন। যেখানে অবচেতন মনে ছোট ছোট শিশুরা বোধবুদ্ধিসম্পন্ন হবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করতে পারে। বাচ্চার বয়স যখন সাতে পড়বে তখন সহজাতভাবেই সে পাক-নাপাকের পার্থক্য বুঝতে শুরু করে। এ সময় পিতা-মাতার প্রতি নির্দেশ হলো, তাকে নামায পড়া শেখাও, সাথে করে মসজিদে নিয়ে যাও। কারণ মসজিদগুলো নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূমিকা পালন করে।
যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে দেখতে পাব যে, আমাদের মসজিদগুলো নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষালয়ের ভূমিকা পালন করে। যেখানে সব ধরনের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা একত্রিত হয় এবং তাদের ওয়ায-নসীহত অনুষ্ঠিত হয়। তাদের সান্নিধ্য-সংশ্রবে শিশুর মনে অবচেতনেই এমনসব জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দ্বার উম্মোচিত হতে থাকে, যা বহু গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমেও সম্ভব হয় না।
এই শিক্ষা তো জ্ঞানী-গুণীদের সান্নিধ্য ও আলোচনার দ্বারা অর্জিত হয়। এছাড়া সাধারণ মুসলমানদের উপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন যে, যদি কোনো মুসলিম ভাইকে ভুল কাজ করতে দেখো, তাহলে তাকে সেটা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করো। যদি সক্ষম হও তাহলে হাত তথা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দাও। আর তা সম্ভব না হলে মৌখিকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করো। এটাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে সর্বনিম্ন স্তর হলো, তুমি তার কৃতকর্মকে অন্তর থেকে মন্দ মনে করো।
হাত দিয়ে বাধা দেওয়ার পদ্ধতি দুটি। একটি শাসকদের জন্য, যারা আইনের বলে মন্দ কাজ থেকে বাধা দিতে পারে। দ্বিতীয়টি স্বীয় আত্মীয়-বন্ধু অথবা সন্তান-সন্ততির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের উপর তার কর্তৃত্ব রয়েছে। আর মৌখিক বারণ সহমর্মিতার সাথে সকলের ক্ষেত্রেই করা যায়।
একটু ভাবুন, যখন প্রতিটি মুসলমান এই নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছে যে, দ্বীনের যে মাসআলা সম্পর্কে সে অবগত রয়েছে, তার বিপরীত কাউকে কিছু করতে দেখলে সেই কাজ থেকে বিরত রাখার যথাসম্ভব চেষ্টা করবে।
তাহলে এই নির্দেশনার উপর আমলের বরকতে কত সহজে একেবারে বিনামূল্যে; বরং আবশ্যিকভাবে দ্বীনী শিক্ষার প্রসার হয়ে যায়।
নামায তো ঘরেও আদায় করা যেত। কিন্তু তার জন্য মসজিদে একত্রিত হওয়ার মাঝে শিক্ষাদীক্ষার একটি বড় উপকারিতা নিহিত রয়েছে যে, এর ফলে প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের পক্ষে আয়নার ভূমিকা রেখে ভুলগুলো সম্পর্কে অবহিত করতে পারবে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, পুরো জাতির তাত্ত্বিকশিক্ষা ও পাশাপাশি তার বাস্তব অনুশীলন কতটা সহজেই সম্ভব হচ্ছে। যা না কোনো স্কুলে সম্ভব হতো, না কোনো মাদরাসায়।
তবে এই হুকুমের পাশাপাশি এ কথাটিও খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরী যে, অপরকে তার ভুল সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে সহমর্মিতা ও কল্যাণকামী মনোভাব থাকতে হবে। নম্রতার সাথে একাকিত্বে বোঝাতে হবে। যাতে তার মনে আঘাত না লাগে এবং সে জিদ করে না বসে।
কুরআনুল কারীম যেখানেই মুসলমানদের সত্যের পথে দাওয়াতের নির্দেশ করেছে, সেখানেই এই শর্তগুলো আরোপ করেছে—
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
'তুমি নিজ প্রতিপালকের পথে মানুষকে ডাকবে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে।'
অর্থাৎ প্রভুর পথের দিকে মানুষকে প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের সাথে আহ্বান করো। প্রজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য—কথা বলার পূর্বে এটি ভাবা যে, শ্রোতাকে এই কথা কোন সময়, কোন অবস্থায়, কোন শিরোনামে বললে তার অন্তরে সাড়া পড়বে। এরপর বিষয়টি কল্যাণকামিতার সাথে উপস্থাপন করা উচিত, নিজের বড়ত্ব প্রকাশ বা অন্যকে অপমান করা উদ্দেশ্য হতে পারবে না। এজন্য আয়াতে مَوْعِظَة (উপদেশ) এর সাথে حَسَنَة (উত্তম) এর শর্তটি বৃদ্ধি করে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মুসলমানদের ব্যাপক মূর্খতা ও গাফিলতি ইসলামের যে মূলনীতিগুলোকে অকেজো করে দিয়েছে, তার একটি এও যে, একতো কেউ কাউকে মন্দ কাজে সতর্ক করে না। আর কেউ সতর্ক করতে উদ্যোগী হলেও উল্লিখিত আদব ও শর্তাবলী রক্ষা করা হয় না। ফলে শিক্ষা ও সংশোধনের এই সোনালী মূলনীতিগুলো মসজিদ ও মাহফিলসমূহে উল্টো ঝগড়া বিবাদ, অনৈক্য ও বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এটা কেবল দ্বীনী বিষয়গুলোর সাথেই সম্পৃক্ত নয়; বরং সমস্ত পার্থিব বিষয়েও সবসময়ের অভিজ্ঞতা এই যে, উত্তম থেকে উত্তম বলবর্ধক খাবার অথবা ওষুধ যদি ভুল পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা উপকারের পরিবর্তে আরও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
সারকথা, দোজাহানের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী যদি যথাযথ আমল করা হয়, তাহলে শিশুর জন্য মায়ের কোল ও তার ঘরই সর্বোত্তম প্রাথমিক শিক্ষালয়ে পরিণত হবে এবং প্রতিটি মসজিদ নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষার আদর্শ বিদ্যালয় হবে, যেখানে জ্ঞানের পাশাপাশি তার প্রয়োগ এবং শিক্ষার পাশাপাশি চারিত্রিক ও মানসিক গঠনও সম্পন্ন হয়ে যাবে। এবং শিক্ষার আসল যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ বানানো, সে পথের ধাপগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হওয়া আরম্ভ হয়।

টিকাঃ
২২. সূরা নাহ্‌ল, আয়াত ১২৫

ইসলামের শিক্ষা ও দীক্ষা ব্যবস্থায় দৃষ্টি দেওয়ার পূর্বে বর্তমান বিশ্বের শিক্ষাবোর্ড ও এর দপ্তরসমূহ, এতে কর্মরত লোকদের সংখ্যা এবং প্রাইমারি স্কুল থেকে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত যেই অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, তার বিশালতা ও এর পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় এবং এই ব্যয়বহুল খরচে শিক্ষা গ্রহণকারীদের লেখাপড়াকেন্দ্রিক খরচের দীর্ঘ ফিরিস্তির প্রতি চোখ রাখুন। এরপর এত কিছু সত্ত্বেও এর ফলাফল তুলনা করুন। যে জ্ঞান ও শাস্ত্র তাদের পাঠ দান করা হয়, সেগুলোতে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা গড়ে কত শতাংশ শিক্ষার্থীর মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই শিক্ষা তাদের চরিত্র ও কার্যক্রমকে কেমন বানাচ্ছে।
এরপর দার্শনিকদের সরদার সায়্যিদুল আম্বিয়া নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত শিক্ষাব্যবস্থা দেখুন, সেটি কত স্বভাবজাত ও সহজ-সরল মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। যেখানে সরকারের বড় ধরনের কোনো ব্যয় নেই, আবার ছাত্রের উপরও এক পয়সার বোঝা চাপানো নেই। যেমনটি বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে আপনি নতুন প্রজন্ম এবং বাচ্চাদের শিক্ষাদীক্ষার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন।
এ তুলনা থেকে প্রত্যেক পাঠক এই ফলাফলে পৌঁছে যাবেন যে, প্রতিটি মুসলমানের ঘর বাচ্চাদের জন্য প্রাইমারি স্কুল (প্রাথমিক বিদ্যালয়)। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের ঘরগুলোকে একেকটি প্রাইমারি স্কুলে পরিণত করেছেন। যেখানে অবচেতন মনে ছোট ছোট শিশুরা বোধবুদ্ধিসম্পন্ন হবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করতে পারে। বাচ্চার বয়স যখন সাতে পড়বে তখন সহজাতভাবেই সে পাক-নাপাকের পার্থক্য বুঝতে শুরু করে। এ সময় পিতা-মাতার প্রতি নির্দেশ হলো, তাকে নামায পড়া শেখাও, সাথে করে মসজিদে নিয়ে যাও। কারণ মসজিদগুলো নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূমিকা পালন করে।
যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে দেখতে পাব যে, আমাদের মসজিদগুলো নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষালয়ের ভূমিকা পালন করে। যেখানে সব ধরনের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা একত্রিত হয় এবং তাদের ওয়ায-নসীহত অনুষ্ঠিত হয়। তাদের সান্নিধ্য-সংশ্রবে শিশুর মনে অবচেতনেই এমনসব জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দ্বার উম্মোচিত হতে থাকে, যা বহু গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমেও সম্ভব হয় না।
এই শিক্ষা তো জ্ঞানী-গুণীদের সান্নিধ্য ও আলোচনার দ্বারা অর্জিত হয়। এছাড়া সাধারণ মুসলমানদের উপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন যে, যদি কোনো মুসলিম ভাইকে ভুল কাজ করতে দেখো, তাহলে তাকে সেটা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করো। যদি সক্ষম হও তাহলে হাত তথা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দাও। আর তা সম্ভব না হলে মৌখিকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করো। এটাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে সর্বনিম্ন স্তর হলো, তুমি তার কৃতকর্মকে অন্তর থেকে মন্দ মনে করো।
হাত দিয়ে বাধা দেওয়ার পদ্ধতি দুটি। একটি শাসকদের জন্য, যারা আইনের বলে মন্দ কাজ থেকে বাধা দিতে পারে। দ্বিতীয়টি স্বীয় আত্মীয়-বন্ধু অথবা সন্তান-সন্ততির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের উপর তার কর্তৃত্ব রয়েছে। আর মৌখিক বারণ সহমর্মিতার সাথে সকলের ক্ষেত্রেই করা যায়।
একটু ভাবুন, যখন প্রতিটি মুসলমান এই নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছে যে, দ্বীনের যে মাসআলা সম্পর্কে সে অবগত রয়েছে, তার বিপরীত কাউকে কিছু করতে দেখলে সেই কাজ থেকে বিরত রাখার যথাসম্ভব চেষ্টা করবে।
তাহলে এই নির্দেশনার উপর আমলের বরকতে কত সহজে একেবারে বিনামূল্যে; বরং আবশ্যিকভাবে দ্বীনী শিক্ষার প্রসার হয়ে যায়।
নামায তো ঘরেও আদায় করা যেত। কিন্তু তার জন্য মসজিদে একত্রিত হওয়ার মাঝে শিক্ষাদীক্ষার একটি বড় উপকারিতা নিহিত রয়েছে যে, এর ফলে প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের পক্ষে আয়নার ভূমিকা রেখে ভুলগুলো সম্পর্কে অবহিত করতে পারবে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, পুরো জাতির তাত্ত্বিকশিক্ষা ও পাশাপাশি তার বাস্তব অনুশীলন কতটা সহজেই সম্ভব হচ্ছে। যা না কোনো স্কুলে সম্ভব হতো, না কোনো মাদরাসায়।
তবে এই হুকুমের পাশাপাশি এ কথাটিও খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরী যে, অপরকে তার ভুল সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে সহমর্মিতা ও কল্যাণকামী মনোভাব থাকতে হবে। নম্রতার সাথে একাকিত্বে বোঝাতে হবে। যাতে তার মনে আঘাত না লাগে এবং সে জিদ করে না বসে।
কুরআনুল কারীম যেখানেই মুসলমানদের সত্যের পথে দাওয়াতের নির্দেশ করেছে, সেখানেই এই শর্তগুলো আরোপ করেছে—
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
'তুমি নিজ প্রতিপালকের পথে মানুষকে ডাকবে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে।'
অর্থাৎ প্রভুর পথের দিকে মানুষকে প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের সাথে আহ্বান করো। প্রজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য—কথা বলার পূর্বে এটি ভাবা যে, শ্রোতাকে এই কথা কোন সময়, কোন অবস্থায়, কোন শিরোনামে বললে তার অন্তরে সাড়া পড়বে। এরপর বিষয়টি কল্যাণকামিতার সাথে উপস্থাপন করা উচিত, নিজের বড়ত্ব প্রকাশ বা অন্যকে অপমান করা উদ্দেশ্য হতে পারবে না। এজন্য আয়াতে مَوْعِظَة (উপদেশ) এর সাথে حَسَنَة (উত্তম) এর শর্তটি বৃদ্ধি করে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মুসলমানদের ব্যাপক মূর্খতা ও গাফিলতি ইসলামের যে মূলনীতিগুলোকে অকেজো করে দিয়েছে, তার একটি এও যে, একতো কেউ কাউকে মন্দ কাজে সতর্ক করে না। আর কেউ সতর্ক করতে উদ্যোগী হলেও উল্লিখিত আদব ও শর্তাবলী রক্ষা করা হয় না। ফলে শিক্ষা ও সংশোধনের এই সোনালী মূলনীতিগুলো মসজিদ ও মাহফিলসমূহে উল্টো ঝগড়া বিবাদ, অনৈক্য ও বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এটা কেবল দ্বীনী বিষয়গুলোর সাথেই সম্পৃক্ত নয়; বরং সমস্ত পার্থিব বিষয়েও সবসময়ের অভিজ্ঞতা এই যে, উত্তম থেকে উত্তম বলবর্ধক খাবার অথবা ওষুধ যদি ভুল পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা উপকারের পরিবর্তে আরও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
সারকথা, দোজাহানের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী যদি যথাযথ আমল করা হয়, তাহলে শিশুর জন্য মায়ের কোল ও তার ঘরই সর্বোত্তম প্রাথমিক শিক্ষালয়ে পরিণত হবে এবং প্রতিটি মসজিদ নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষার আদর্শ বিদ্যালয় হবে, যেখানে জ্ঞানের পাশাপাশি তার প্রয়োগ এবং শিক্ষার পাশাপাশি চারিত্রিক ও মানসিক গঠনও সম্পন্ন হয়ে যাবে। এবং শিক্ষার আসল যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ বানানো, সে পথের ধাপগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হওয়া আরম্ভ হয়।

টিকাঃ
২২. সূরা নাহ্‌ল, আয়াত ১২৫

ইসলামের শিক্ষা ও দীক্ষা ব্যবস্থায় দৃষ্টি দেওয়ার পূর্বে বর্তমান বিশ্বের শিক্ষাবোর্ড ও এর দপ্তরসমূহ, এতে কর্মরত লোকদের সংখ্যা এবং প্রাইমারি স্কুল থেকে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত যেই অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, তার বিশালতা ও এর পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় এবং এই ব্যয়বহুল খরচে শিক্ষা গ্রহণকারীদের লেখাপড়াকেন্দ্রিক খরচের দীর্ঘ ফিরিস্তির প্রতি চোখ রাখুন। এরপর এত কিছু সত্ত্বেও এর ফলাফল তুলনা করুন। যে জ্ঞান ও শাস্ত্র তাদের পাঠ দান করা হয়, সেগুলোতে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা গড়ে কত শতাংশ শিক্ষার্থীর মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই শিক্ষা তাদের চরিত্র ও কার্যক্রমকে কেমন বানাচ্ছে।
এরপর দার্শনিকদের সরদার সায়্যিদুল আম্বিয়া নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত শিক্ষাব্যবস্থা দেখুন, সেটি কত স্বভাবজাত ও সহজ-সরল মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। যেখানে সরকারের বড় ধরনের কোনো ব্যয় নেই, আবার ছাত্রের উপরও এক পয়সার বোঝা চাপানো নেই। যেমনটি বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে আপনি নতুন প্রজন্ম এবং বাচ্চাদের শিক্ষাদীক্ষার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন।
এ তুলনা থেকে প্রত্যেক পাঠক এই ফলাফলে পৌঁছে যাবেন যে, প্রতিটি মুসলমানের ঘর বাচ্চাদের জন্য প্রাইমারি স্কুল (প্রাথমিক বিদ্যালয়)। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের ঘরগুলোকে একেকটি প্রাইমারি স্কুলে পরিণত করেছেন। যেখানে অবচেতন মনে ছোট ছোট শিশুরা বোধবুদ্ধিসম্পন্ন হবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করতে পারে। বাচ্চার বয়স যখন সাতে পড়বে তখন সহজাতভাবেই সে পাক-নাপাকের পার্থক্য বুঝতে শুরু করে। এ সময় পিতা-মাতার প্রতি নির্দেশ হলো, তাকে নামায পড়া শেখাও, সাথে করে মসজিদে নিয়ে যাও। কারণ মসজিদগুলো নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূমিকা পালন করে।
যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে দেখতে পাব যে, আমাদের মসজিদগুলো নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষালয়ের ভূমিকা পালন করে। যেখানে সব ধরনের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা একত্রিত হয় এবং তাদের ওয়ায-নসীহত অনুষ্ঠিত হয়। তাদের সান্নিধ্য-সংশ্রবে শিশুর মনে অবচেতনেই এমনসব জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দ্বার উম্মোচিত হতে থাকে, যা বহু গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমেও সম্ভব হয় না।
এই শিক্ষা তো জ্ঞানী-গুণীদের সান্নিধ্য ও আলোচনার দ্বারা অর্জিত হয়। এছাড়া সাধারণ মুসলমানদের উপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন যে, যদি কোনো মুসলিম ভাইকে ভুল কাজ করতে দেখো, তাহলে তাকে সেটা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করো। যদি সক্ষম হও তাহলে হাত তথা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দাও। আর তা সম্ভব না হলে মৌখিকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করো। এটাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে সর্বনিম্ন স্তর হলো, তুমি তার কৃতকর্মকে অন্তর থেকে মন্দ মনে করো।
হাত দিয়ে বাধা দেওয়ার পদ্ধতি দুটি। একটি শাসকদের জন্য, যারা আইনের বলে মন্দ কাজ থেকে বাধা দিতে পারে। দ্বিতীয়টি স্বীয় আত্মীয়-বন্ধু অথবা সন্তান-সন্ততির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের উপর তার কর্তৃত্ব রয়েছে। আর মৌখিক বারণ সহমর্মিতার সাথে সকলের ক্ষেত্রেই করা যায়।
একটু ভাবুন, যখন প্রতিটি মুসলমান এই নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছে যে, দ্বীনের যে মাসআলা সম্পর্কে সে অবগত রয়েছে, তার বিপরীত কাউকে কিছু করতে দেখলে সেই কাজ থেকে বিরত রাখার যথাসম্ভব চেষ্টা করবে।
তাহলে এই নির্দেশনার উপর আমলের বরকতে কত সহজে একেবারে বিনামূল্যে; বরং আবশ্যিকভাবে দ্বীনী শিক্ষার প্রসার হয়ে যায়।
নামায তো ঘরেও আদায় করা যেত। কিন্তু তার জন্য মসজিদে একত্রিত হওয়ার মাঝে শিক্ষাদীক্ষার একটি বড় উপকারিতা নিহিত রয়েছে যে, এর ফলে প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের পক্ষে আয়নার ভূমিকা রেখে ভুলগুলো সম্পর্কে অবহিত করতে পারবে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, পুরো জাতির তাত্ত্বিকশিক্ষা ও পাশাপাশি তার বাস্তব অনুশীলন কতটা সহজেই সম্ভব হচ্ছে। যা না কোনো স্কুলে সম্ভব হতো, না কোনো মাদরাসায়।
তবে এই হুকুমের পাশাপাশি এ কথাটিও খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরী যে, অপরকে তার ভুল সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে সহমর্মিতা ও কল্যাণকামী মনোভাব থাকতে হবে। নম্রতার সাথে একাকিত্বে বোঝাতে হবে। যাতে তার মনে আঘাত না লাগে এবং সে জিদ করে না বসে।
কুরআনুল কারীম যেখানেই মুসলমানদের সত্যের পথে দাওয়াতের নির্দেশ করেছে, সেখানেই এই শর্তগুলো আরোপ করেছে—
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
'তুমি নিজ প্রতিপালকের পথে মানুষকে ডাকবে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে।'
অর্থাৎ প্রভুর পথের দিকে মানুষকে প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের সাথে আহ্বান করো। প্রজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য—কথা বলার পূর্বে এটি ভাবা যে, শ্রোতাকে এই কথা কোন সময়, কোন অবস্থায়, কোন শিরোনামে বললে তার অন্তরে সাড়া পড়বে। এরপর বিষয়টি কল্যাণকামিতার সাথে উপস্থাপন করা উচিত, নিজের বড়ত্ব প্রকাশ বা অন্যকে অপমান করা উদ্দেশ্য হতে পারবে না। এজন্য আয়াতে مَوْعِظَة (উপদেশ) এর সাথে حَسَنَة (উত্তম) এর শর্তটি বৃদ্ধি করে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মুসলমানদের ব্যাপক মূর্খতা ও গাফিলতি ইসলামের যে মূলনীতিগুলোকে অকেজো করে দিয়েছে, তার একটি এও যে, একতো কেউ কাউকে মন্দ কাজে সতর্ক করে না। আর কেউ সতর্ক করতে উদ্যোগী হলেও উল্লিখিত আদব ও শর্তাবলী রক্ষা করা হয় না। ফলে শিক্ষা ও সংশোধনের এই সোনালী মূলনীতিগুলো মসজিদ ও মাহফিলসমূহে উল্টো ঝগড়া বিবাদ, অনৈক্য ও বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এটা কেবল দ্বীনী বিষয়গুলোর সাথেই সম্পৃক্ত নয়; বরং সমস্ত পার্থিব বিষয়েও সবসময়ের অভিজ্ঞতা এই যে, উত্তম থেকে উত্তম বলবর্ধক খাবার অথবা ওষুধ যদি ভুল পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা উপকারের পরিবর্তে আরও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
সারকথা, দোজাহানের সর্দার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী যদি যথাযথ আমল করা হয়, তাহলে শিশুর জন্য মায়ের কোল ও তার ঘরই সর্বোত্তম প্রাথমিক শিক্ষালয়ে পরিণত হবে এবং প্রতিটি মসজিদ নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষার আদর্শ বিদ্যালয় হবে, যেখানে জ্ঞানের পাশাপাশি তার প্রয়োগ এবং শিক্ষার পাশাপাশি চারিত্রিক ও মানসিক গঠনও সম্পন্ন হয়ে যাবে। এবং শিক্ষার আসল যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ বানানো, সে পথের ধাপগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হওয়া আরম্ভ হয়।

টিকাঃ
২২. সূরা নাহ্‌ল, আয়াত ১২৫

📘 শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মহানবী ﷺ > 📄 উচ্চশিক্ষা

📄 উচ্চশিক্ষা


বাকি রইল কেবল উচ্চশিক্ষা, যার জন্য শুরুর শতাব্দীগুলোতে প্রতি শহর-উপশহরে উলামায়ে কেরামের মজলিসসমূহ, দরস ও পাঠদানের আসরসমূহ প্রচলিত ছিল। এই শিক্ষাও ছিল একেবারে অবৈতনিক। পরবর্তীকালে এ লক্ষ্যে স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠার রীতি চালু হয়।

বাকি রইল কেবল উচ্চশিক্ষা, যার জন্য শুরুর শতাব্দীগুলোতে প্রতি শহর-উপশহরে উলামায়ে কেরামের মজলিসসমূহ, দরস ও পাঠদানের আসরসমূহ প্রচলিত ছিল। এই শিক্ষাও ছিল একেবারে অবৈতনিক। পরবর্তীকালে এ লক্ষ্যে স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠার রীতি চালু হয়।

বাকি রইল কেবল উচ্চশিক্ষা, যার জন্য শুরুর শতাব্দীগুলোতে প্রতি শহর-উপশহরে উলামায়ে কেরামের মজলিসসমূহ, দরস ও পাঠদানের আসরসমূহ প্রচলিত ছিল। এই শিক্ষাও ছিল একেবারে অবৈতনিক। পরবর্তীকালে এ লক্ষ্যে স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠার রীতি চালু হয়।

বাকি রইল কেবল উচ্চশিক্ষা, যার জন্য শুরুর শতাব্দীগুলোতে প্রতি শহর-উপশহরে উলামায়ে কেরামের মজলিসসমূহ, দরস ও পাঠদানের আসরসমূহ প্রচলিত ছিল। এই শিক্ষাও ছিল একেবারে অবৈতনিক। পরবর্তীকালে এ লক্ষ্যে স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠার রীতি চালু হয়।

📘 শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মহানবী ﷺ > 📄 জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিদেশি ভাষা শিক্ষা

📄 জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিদেশি ভাষা শিক্ষা


শিক্ষার মূলনীতিসমূহ পুরোটাই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহয় বিদ্যমান রয়েছে। জাগতিক ও অর্থনৈতিক, কিংবা যুগের চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ শেখা আবশ্যক, সে ব্যবস্থাও তখনকার যুগে সাধাসিধা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।
বদর যুদ্ধের বন্দীদের যারা লেখাপড়া জানত, তাদের কাঁধে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো যে, তারা সাহাবায়ে কেরামকে লেখাপড়া শেখাবে। ভিনদেশি ভাষা শেখা ও জানারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। রোমীয়, পারসিক ও আবিসিনীয় ভাষায় দক্ষ লোকও সাহাবায়ে কেরামের মাঝে ছিলেন।

শিক্ষার মূলনীতিসমূহ পুরোটাই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহয় বিদ্যমান রয়েছে। জাগতিক ও অর্থনৈতিক, কিংবা যুগের চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ শেখা আবশ্যক, সে ব্যবস্থাও তখনকার যুগে সাধাসিধা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।
বদর যুদ্ধের বন্দীদের যারা লেখাপড়া জানত, তাদের কাঁধে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো যে, তারা সাহাবায়ে কেরামকে লেখাপড়া শেখাবে। ভিনদেশি ভাষা শেখা ও জানারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। রোমীয়, পারসিক ও আবিসিনীয় ভাষায় দক্ষ লোকও সাহাবায়ে কেরামের মাঝে ছিলেন।

শিক্ষার মূলনীতিসমূহ পুরোটাই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহয় বিদ্যমান রয়েছে। জাগতিক ও অর্থনৈতিক, কিংবা যুগের চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ শেখা আবশ্যক, সে ব্যবস্থাও তখনকার যুগে সাধাসিধা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।
বদর যুদ্ধের বন্দীদের যারা লেখাপড়া জানত, তাদের কাঁধে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো যে, তারা সাহাবায়ে কেরামকে লেখাপড়া শেখাবে। ভিনদেশি ভাষা শেখা ও জানারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। রোমীয়, পারসিক ও আবিসিনীয় ভাষায় দক্ষ লোকও সাহাবায়ে কেরামের মাঝে ছিলেন।

শিক্ষার মূলনীতিসমূহ পুরোটাই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহয় বিদ্যমান রয়েছে। জাগতিক ও অর্থনৈতিক, কিংবা যুগের চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ শেখা আবশ্যক, সে ব্যবস্থাও তখনকার যুগে সাধাসিধা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।
বদর যুদ্ধের বন্দীদের যারা লেখাপড়া জানত, তাদের কাঁধে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো যে, তারা সাহাবায়ে কেরামকে লেখাপড়া শেখাবে। ভিনদেশি ভাষা শেখা ও জানারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। রোমীয়, পারসিক ও আবিসিনীয় ভাষায় দক্ষ লোকও সাহাবায়ে কেরামের মাঝে ছিলেন।

📘 শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মহানবী ﷺ > 📄 শিল্প ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা

📄 শিল্প ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা


প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।

প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।

প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।

প্রয়োজন মোতাবেক শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাও প্রচলিত ছিল। এর জন্য কখনো কখনো বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভেরও অবকাশ ঘটেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00