📘 শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মহানবী ﷺ > 📄 ইসলামী মতাদর্শের তিনটি মূলনীতি

📄 ইসলামী মতাদর্শের তিনটি মূলনীতি


যে ইসলামী মতাদর্শ নিয়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন, সেটি তিনটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। ১. তাওহীদ (একত্ববাদ)। ২. রিসালত (নবী প্রেরণ)। ৩. আখেরাত (পরকাল)।
তাওহীদের সারকথা হলো—সমস্ত সৃষ্টি জগতের খালিক ও মালিক প্রয়োজন পূরণকারী স্রেফ আল্লাহকে মানতে হবে। তাঁর বিশেষ সিফাতগুলো, যেমন : ইলম, কুদরত, সৃষ্টি, তাকদীর ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোনো মাখলুককে শরীক করবে না বা তাঁর সমকক্ষ ভাববে না। এই বিশ্বাস রাখবে যে, পৃথিবীতে যা-কিছু ঘটে, সবকিছু তাঁরই ইচ্ছা ও হুকুমে ঘটে। তাঁর হুকুম ছাড়া অণু-পরমাণুও এদিকসেদিক হয় না। সমগ্র পৃথিবীজুড়েই তাঁর রাজত্ব। সর্বত্রে তাঁরই হুকুম ও আইন পালনীয়। এর বিপরীতে অন্য কোনো হুকুম বা আইন পালনীয় নয়; বরং তা পরিত্যাজ্য। তবে তিনি দয়াপরবশ হয়ে মানুষের জন্য বৈধতার বিশাল এক পরিধি রেখে দিয়েছেন, যেখানে মানুষকে নিজ নিজ স্থান-কালের চাহিদানুযায়ী আইনপ্রণয়নের অধিকার দেওয়া হয়েছে।
যখন তাওহীদের বিশ্বাস মানুষকে এ বার্তা দেয় যে, সমগ্র পৃথিবীর অধিপতি এবং পালনকর্তা একজনই, তাঁর কথাই শিরোধার্য, তাঁর মর্জিবিরোধী কোনো কাজ মানেই মানবতাবিরোধী কাজ, তখন এ থেকে রিসালাতের বিশ্বাসও আপনা-আপনি সাব্যস্ত হয়। কেননা আল্লাহ তাআলা তো দূরের কথা, কোনো মানুষের পছন্দ-অপছন্দও অন্য মানুষ কেবল বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে জানতে পারে না, যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে জানানো হয়। আর এ তো স্পষ্ট যে, খোদায়ী বিধান কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে বলে দেওয়ার পরই জানা সম্ভব। আর মানুষ কখনোই এর উপযুক্ত নয় যে, আল্লাহ তাআলা সরাসরি তাকে সম্বোধন করবেন। এজন্যই রাসূলের “মধ্যস্থতার” প্রয়োজন, যিনি আল্লাহর হুকুম বর্ণনা করবেন এবং সে মোতাবেক আমল করার এমন পদ্ধতি বলে দেবেন, যা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অনুযায়ী হবে। পাশাপাশি তার প্রতিটি কথা ও কাজ আল্লাহ তাআলার হুকুমের মুখপাত্র হবে।
পূর্বের দুই আকীদা থেকে যখন এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আল্লাহর হুকুমের অনুসরণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী করা ফরয, এর বিপরীত করা অন্যায। তখন এর মধ্য দিয়ে তৃতীয় বিশ্বাস তথা আখেরাতের বিশ্বাস অবধারিত হয়, যেখানে মানুষের ভালো-মন্দ কর্মের হিসাব হওয়া এবং এর ভিত্তিতে শাস্তি ও পুরস্কার লাভের বিষয়টি যৌক্তিকভাবেও আবশ্যক হয়। নচেৎ হুকুম-আহকাম ও রাসূল প্রেরণ অনর্থক সাব্যস্ত হবে।
মোটকথা, এই তিন মৌলিক বিশ্বাস একটি অপরটির সাথে জড়িত। তিনওটির মূল বুনিয়াদ তাওহীদের বিশ্বাস। এটিই মূলত মানুষের কল্যাণ ও সফলতা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং স্থিরতা ও স্থিতিশীলতার উৎস। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে যেহেতু ইসলামী আকীদার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ মুখ্য নয়, তাই সংক্ষেপে এটুকুই যথেষ্ট মনে করছি।

📘 শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মহানবী ﷺ > 📄 জীবনব্যবস্থা

📄 জীবনব্যবস্থা


এটা খুবই স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াকে যে জীবনব্যবস্থা দান করেছেন, সেটি তাওহীদের বিশ্বাস ও আল্লাহর ইবাদতের ভিত্তির উপরই প্রতিষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি তার ব্যাপ্তি ও ব্যাপকতার মধ্যে ওই সকল জীবন-উপকরণও থাকতে হবে, যা দুনিয়াতে একজন মানুষের সুস্থ ও শান্তিতে সম্মানের সাথে জীবনযাপন করার জন্য প্রয়োজন হয়। যেন ইসলামী জিন্দেগী এমন এক শৃঙ্খল, যার এক মাথা সৃষ্টি জগতের প্রতিপালকের কাছে, আরেক মাথা সৃষ্টিজগতে। এই শৃঙ্খল ও সম্পর্ককেই পরিভাষায় দ্বীন বা ধর্ম বলা হয়।

📘 শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মহানবী ﷺ > 📄 স্বভাবজাত ধর্ম হতে পারে সেটিই, যা দ্বীন-দুনিয়া এবং ইহ ও পরকালের সফলতার নিশ্চয়তা দান করে

📄 স্বভাবজাত ধর্ম হতে পারে সেটিই, যা দ্বীন-দুনিয়া এবং ইহ ও পরকালের সফলতার নিশ্চয়তা দান করে


সঠিক ও স্বভাবজাত ধর্ম তো সেটিই, যা খালিক ও মাখলুকের উভয়ের হককে আপন আপন স্থানে পূর্ণ করতে পারে। যার মাধ্যমে মানুষ একই সময়ে আল্লাহ তাআলার সাথেও পূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে, আবার সমস্ত মাখলুকের সাথেও। অর্থাৎ নিজ সত্তা, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রয়োজন সম্পাদন করতে পারে এবং আপন মালিক ও সৃষ্টিকর্তাকেও প্রতি কদমে সন্তুষ্ট রাখতে পারে।
হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সমস্ত নবী-রাসূল প্রেরণের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল খালিক ও মাখলুকের মধ্যকার এই সম্পর্ককে দৃঢ় ও মজবুত করা এবং মাখলুককে এই জীবনব্যবস্থার অনুসারী বানানো। সমস্ত আসমানীগ্রন্থ এই জীবনপন্থার ব্যাখ্যা ও পূর্ণতা দানের জন্যই অবতীর্ণ হয়েছিল। এটাকেই বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য নবীগণ প্রেরিত হয়েছিলেন। এমন কোনো আসমানী ধর্ম ও শরীআত নেই, যাতে আল্লাহ তাআলা ও সৃষ্টিজগত উভয়ের অধিকার আদায় এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ও বান্দার সাথে সম্পর্কের মাঝে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হয়নি। এ দুটো বিষয়কে আমরা ভিন্ন শব্দে মাআশ (ইহকালীন জীবন) ও মাআদ (পরকালীন জীবন) বলে ব্যক্ত করতে পারি।
প্রত্যেক নবী ও রাসূল নিজ নিজ যুগে মাআশ ও মাআদ উভয়টির সংরক্ষণ ও সফলতা নিশ্চিতকরণের যিম্মাদার হয়ে আগমন করেন। অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে—মাআদ অর্থাৎ আখেরাতের জিন্দেগী থেকে যদি দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে মাআশ তথা দুনিয়াবী জিন্দেগীও নির্ঝঞ্ঝাট ও আনন্দময় থাকে না। ঠিক তেমনি মাআশ থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে মাআদ এর ফিকিরও সফল হয় না। খ্রিষ্টানদের ধর্মে যেই রাহবানিয়াত (দুনিয়াবিমুখতা) শিক্ষা দেওয়া হয়, তা মূলত খ্রিষ্টানদেরই নিজস্ব আবিষ্কার। না আল্লাহ তাআলা এর নির্দেশ দিয়েছেন, না তাঁর রাসূল হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এমনটি বলেছেন। কুরআনুল কারীম স্পষ্টভাষায় বলেছে,
وَرَهْبَانِيَّةَ ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَهَا عَلَيْهِمْ
'আর রাহবানিয়‍্যাতের যে বিষয়টা, তা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল। আমি তাদের উপর তা বাধ্যতামূলক করিনি।”

টিকাঃ
১. সূরা হাদীদ, আয়াত ২৭.

📘 শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মহানবী ﷺ > 📄 রিসালাতের দায়িত্ব পালনে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফলতা অন্য সকল নবীর শীর্ষে

📄 রিসালাতের দায়িত্ব পালনে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফলতা অন্য সকল নবীর শীর্ষে


মোটকথা, না মাআদ ব্যতীত মাআশ ঠিক হতে পারে আর না (সাধারণত) মাআশ ব্যতীত সাধারণ লোকদের মাআদের ফিকির সফলতার মুখ দেখে। আর যেহেতু প্রত্যেক রাসূল আল্লাহ ও বান্দার মাঝে একটি যোগসূত্রের মর্যাদা রাখেন, তাই তার মূল দায়িত্ব এই হয় যে, তিনি মানুষের পরকালের পাশাপাশি ইহকালের জীবন সংশোধন করে দেবেন এবং পরকালের গুরুত্ব ও অগ্রগণ্যতা মানুষের চেতনা থেকে বিলুপ্ত হতে বাধা দেবেন। এই দায়িত্ব পালনে যিনি যত বেশি সফল হবেন, আল্লাহ তাআলার কাছে তার মর্যাদা ততখানিই উঁচু হবে। তিনি ইরশাদ করেন-
تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ
অর্থ : এই যে রাসূলগণ, (যাদেরকে আমি মানুষের ইসলাহের জন্য পাঠিয়েছি) তাদের কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।'
রিসালাতের দায়িত্ব পালনে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফলতা অন্য সকল নবীর শীর্ষে
দোজাহানের সরদার হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবীগণের সর্দার ও ইমামুল আম্বিয়া উপাধি দেওয়ার কারণও মানুষের সংশোধনের ক্ষেত্রে তাঁর বিস্ময়কর সাফল্য, যা পূর্ববর্তী সমস্ত নবীদের তুলনায় বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মর্যাদা রাখে।
হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী হাশরের ময়দানে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত পূর্ববর্তী সমস্ত নবীর উম্মতদের তুলনায় অধিক ও শ্রেষ্ঠ হবে।
অথচ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত হবার যুগটি এত ভয়ংকর অন্ধকার ও গোমরাহীপূর্ণ যুগ ছিল, যেখানে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত প্রায় পুরো বিশ্ব আল্লাহ তাআলা থেকে নিজের সম্পর্ক সম্পূর্ণই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। মানুষ আল্লাহ ও পরকালকে ভুলে পৃথিবীর অন্যান্য জীবজন্তুর ন্যায় কেবল উদরপূর্তি ও ক্ষণস্থায়ী ভোগবিলাস অর্জনকেই সফলতার চূড়ান্ত মাত্রা মনে করে বসে ছিল। কুরআনে কারীম তাদের এই অবস্থাকেই বর্ণনা করেছে-
وَرَضُوا بِالْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَاطْمَأَتُوا بِهَا
'এবং তারা পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে।"
বাস্তব জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিদের কাছে এই যুগের উদাহরণ হলো ওই বাচ্চার ন্যায়, যে এক কোটি টাকার চেক ছুঁড়ে ফেলে একটি ঝুনঝুনি পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে গেছে। অন্তরদৃষ্টিসম্পন্নদের দৃষ্টিতে দুনিয়ার পেছনে প্রাণবিসর্জনকারীরা নাবালেগ বাচ্চার ন্যায়, যারা বাস্তবতার কোনো ধারণাই রাখে না। তাদের ব্যাপারে রোমের জ্ঞানীজন (মাওলানা রূমী) কী চমৎকারই না বলেছেন।
خلق اطفال اند جز مردِ خدا
نیست بالغ جز رسیده از ہوا
'আল্লাহওয়ালা ছাড়া বাকি মানুষেরা শিশুর ন্যায়।
প্রবৃত্তি থেকে মুক্তি না পেলে বালেগ হওয়া যায় না।'
দুনিয়ার রঙতামাশায় মত্ত হয়ে আল্লাহ ও আখেরাত বিস্মৃত ব্যক্তি দুনিয়ার রঙিন পর্দাকে নিজ প্রেয়সী মনে করে। তাই এখানে এমন একজন বাস্তব জ্ঞানের অধিকারী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাহবারের প্রয়োজন পড়ে, যিনি তার দৃষ্টিকে রঙিন পর্দা থেকে আরও অগ্রসর করে মূল উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন।
অতঃপর যখন কোনো ব্যক্তি দুনিয়ার রঙিন পর্দার প্রতারণাপূর্ণ বাস্তবতা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হয় তখন সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে ওঠে
جزاک الله چشم باز کردی
مرا با جانِ جاں ہمراز کردی
'আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!
আপনি আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে এনেছেন।'
ওই সময় তার অনুভব হয় যে, আমি যাকে প্রিয় মনে করেছিলাম সেটা একটি ধোঁকা ছিল। আসল প্রিয় তো এর থেকেও বহুদূরে।
মোটকথা, সর্বশেষ নবী রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওতের যুগটি ছিল এমন, যখন তাবৎ পৃথিবীর প্রায় সমস্ত মানুষ আল্লাহ, আখেরাত ও পরকালের বিশ্বাসকে পুরোপুরি ভুলে কেবল ইহকালীন জীবনের পেছনে মেতে ছিল। মানুষ আপন অবস্থান ভুলে গিয়ে একটা বুদ্ধিমান প্রাণীস্বর্বস্ব হিসেবে হয়ে রয়েছিল, যে প্রাণী নিজ বুদ্ধিমত্তার বলে অন্য প্রাণীদের উপর রাজত্ব চালাচ্ছিল।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে তাদের সামনে তাদের আসল আকৃতি ও প্রকৃতি স্পষ্ট করেন এবং এর দাবি ও চাহিদা সম্পর্কে অবহিত করেন। যার সারকথা হলো আল্লাহর পরিচয় লাভ ও তাঁর একনিষ্ঠ দাসত্ব স্বীকার।
যেমনটি পূর্বে বলে এসেছি, পরকালের ধারণা ছাড়া ইহকালের জীবন কখনোই নির্ঝঞ্ঝাট হতে পারে না, এ কারণে তাদের পার্থিব জীবনও নানা রকম বাধা-বিঘ্ন জুলুম-শোষণ, চুরি-ডাকাতি, বদমাশি, বেহায়াপনা ইত্যাদি দ্বারা ছেয়ে গিয়েছিল। এমন ভয়ংকর ভূমি আর জুলুম শোষণে পূর্ণ পরিবেশটিই সংশোধনের জন্য দেওয়া হয়েছিল সায়্যিদুল আম্বিয়া নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে।
উপরন্তু তৎকালীন যুগে যদিও পুরো পৃথিবীবাসী আল্লাহ ও আখেরাতকে ভুলে গিয়েছিল, কিন্তু সমাজ সভ্যতা ও শিক্ষা বিবেচনায় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলগুলোর আপসের মধ্যে চিত্রে ও চরিত্রে বেশ তারতম্যও ছিল। মিশর, সিরিয়া, হিন্দুস্তান ও চীন প্রমুখ অঞ্চল পার্থিব জ্ঞানবিজ্ঞানে এবং পূর্ববর্তী নবীগণের আনীত সভ্যতার নিভু নিভু হলেও কিছু স্মৃতি ও প্রভাব বহনের বিবেচনায় অন্যান্য ভূখণ্ড থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ছিল। বিশেষত শাম দেশে বনী ইসরাঈলের এত অধিকসংখ্যক নবী প্রেরিত হয়েছিলেন যে, বিলুপ্ত হতে হতেও তাঁদের শিক্ষার কিছু স্মৃতি কিছু প্রভাব সেখানে বিদ্যমান ছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা শেষ রাসূলের জন্ম এবং নবুওতের জন্য এ সকল সভ্য ও শিক্ষিত দেশসমূহ থেকে ভিন্ন এমন এক ভূখণ্ড নির্বাচন করলেন, যা না কৃষিনির্ভর ছিল, না ব্যবসা নির্ভর, না শিল্পনির্ভর, না শিক্ষা নির্ভর। বরং ওই ভূমির বাসিন্দাদের বৈশিষ্ট্যই এই ছিল যে, তাদের বলা হতো উম্মী- নিরক্ষর। তাদের মাঝেই তিনি জন্মগ্রহণ করলেন, তাদের মাঝেই তিনি যৌবন লাভ করলেন এবং তাদের মাঝেই তিনি নবী হিসেবে প্রেরিত হলেন। সে কথাই ইরশাদ হয়েছে এভাবে-
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ

টিকাঃ
২. সূরা বাকারা, আয়াত ২৫৩
৩. সূরা ইউনুস, আয়াত ৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00