📄 পরিশিষ্ট
আনাস থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেন: مَثَلُ أُمَّتِي مَثَلُ الْمَطَرِ لَا يُدْرَى أَوَّلُهُ خَيْرٌ أَمْ آخِرُهُ
'বৃষ্টির ক্ষেত্রে যেমন জানা যায় না, তার প্রথম দিকের ফোঁটাগুলো অধিক কল্যাণময় নাকি শেষ দিকের, আমার উম্মতের উদাহরণ হলো এমন বৃষ্টির মতো।'১৭৮
অন্যান্য হাদিসের মাঝে বৃষ্টি ও তার সমার্থক যে শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে তার মর্মার্থ হচ্ছে, এই উম্মত কল্যাণের উৎসমূল। আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ সৃষ্টিজীবের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণ করে থাকেন। এর মাধ্যমেই তিনি জমিনকে শুকিয়ে যাওয়ার পর পুনর্জীবন দান করেন।
একইভাবে সর্বযুগে কল্যাণের ধারক-বাহকদের ইচ্ছাশক্তি, উচ্চ মনোবল এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞা এমন থাকে যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন এ জন্য যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা করেন, তাকে আমরা মানুষের দাসত্ব থেকে বের করে মানুষের রবের দাসত্বের দিকে পথ দেখাব। বিভিন্ন ভ্রান্ত ধর্মের অত্যাচার-অবিচার থেকে রক্ষা করে ইসলামের ন্যায়পরায়ণতার ছায়াতলে আশ্রিত করব। দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে বের করে আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে আসব।
মানুষের ওপর তখনই বৃষ্টি বর্ষিত হয়, যখন তারা হতাশা, নিরাশা ও কঠিন সময় অতিক্রম করে। আর মুসলিম উম্মাহর উদাহরণও এমনই। তাদের ওপর যুগের পালা বদলে অনেক বিপদাপদ আপতিত হয়েছে, ইসলামি ইতিহাসের দীর্ঘ সময়ে তারা নানা ভয়-ভীতির সম্মুখীন হয়েছে এবং জুলুম-নির্যাতনের তীব্রতায় তারা প্রকম্পিত হয়েছে। কিন্তু তখনো মুসলিম উম্মাহ ভেঙে পড়েনি, নিরাশ হয়নি, কোনো শক্তির কাছে নত হয়নি। বরং প্রতিটি বিপদের সময় তারা দৃঢ় ইমান-বলে আল্লাহর রহমতে সকল বিপদাপদ ও ষড়যন্ত্রের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে পূর্বের চেয়ে অধিক শক্তিশালীরূপে, পূর্বের চেয়ে অধিক দৃঢ় ইমান নিয়ে। ষড়যন্ত্রকারী মিথ্যা প্রতারকগোষ্ঠী সব সময় মনে করত যে, তারা সফল হয়েছে, ইসলামের আলো তারা নিভিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য পর্যবেক্ষণরত আছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
يُرِيدُونَ أَن يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَن يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
'তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নুরকে নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাঁর নুরকে পূর্ণতা দান করবেন; যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।'১৭৯
সাহাবায়ে কিরাম যখন আল্লাহর বাণী শুনলেন— فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ
'তোমরা কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতা করো।'১৮০
وَسَارِعُوا إِلَى মَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
'আর তোমরা তোমাদের প্রভুর ক্ষমা এবং এমন জান্নাতের দিকে ছুটে আসো, যার পরিধি আকাশমণ্ডলী ও জমিনের সমান। আর তা মুত্তাকিদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।'১৮১
তখন তাঁরা এই আয়াতদুটি থেকে অনুধাবন করলেন যে, তাদের সকলকেই চেষ্টা-প্রচেষ্টা করতে হবে। তাদের প্রত্যেককেই এই কল্যাণ অর্জনের জন্য প্রতিযোগী হতে হবে। প্রতিযোগিতা করতে হবে। যেন এ কাজে তিনি অগ্রগামী হন, যেন তিনি হন এ উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছার ক্ষেত্রে সবার আগে।
তাই যখন কোনো সাহাবি অপর সাহাবিকে দেখতেন যে, তিনি তার তুলনায় বেশি নেক আমল করছেন, তখন উক্ত সাহাবিও প্রতিযোগিতায় লেগে যেতেন তার সমান হতে। বরং বলা ভালো, তাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করতেন। তাদের প্রতিটি চেষ্টা, প্রচেষ্টা, প্রতিযোগিতা ছিল আখিরাতের জন্য। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ
'আর এতে যেন প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করে।'১৮২
আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি—তিনি যেন আমাদের সকল কল্যাণকর ইলম দান করেন। নেক আমলের তাওফিক দান করেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর সকল সাহাবিদের প্রতি।
- মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
টিকাঃ
১৭৮. মুসনাদু আহমাদ: ১২৪৬১
১৭৯. সুরা আত-তাওবা : ৩২
১৮০. সুরা আল-বাকারা: ১৪৮
১৮১. সুরা আলি ইমরান : ১৩৩
১৮২. সুরা আল-মুতাফফিফিন: ২৬