📄 প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার করা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ
‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। সদ্ব্যবহার করো পিতা-মাতার সাথে এবং নিকটাত্মীয়, এতিম-মিসকিন, নিকটবর্তী ও দূরবর্তী প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথি, মুসাফিরের সাথেও...।'১২০
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদত ও পিতা-মাতা, এতিম, রেহম- সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে প্রতিবেশীর হককেও উল্লেখ করেছেন। এ থেকে প্রতিবেশীর অধিকারের গুরুত্ব উপলব্ধ হয়।
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّتُهُ
'জিবরিল আ. আমাকে প্রতিবেশীর বিষয়ে এত বেশি উপদেশ দিতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেবেন। '১২১
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন :
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ
'যে আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।১২২ অন্য বর্ণনায় আছে : فَلْيُحْسِنُ إِلَى جَارِهِ 'সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করে।'১২৩
সাইদ আবু শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেন, নবিজি ﷺ বলেছেন : وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ: وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
'আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়; আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়; আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়।' বলা হলো, 'হে আল্লাহর রাসুল, কে মুমিন নয়?' তিনি বললেন, 'যার প্রতিবেশী তার অন্যায় আচরণ থেকে নিরাপদ থাকে না।'১২৪
بَوَائِقه শব্দটি بائقة শব্দের বহুবচন। بائقة হচ্ছে—জুলম, মন্দ আচরণ, ধ্বংসাত্মক কোনো কিছু।
প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত হলো, তাকে বিপদের সময় সান্ত্বনা দেওয়া। সুখের সময় তাকে অভিবাদন জানানো। অসুস্থতায় তার সেবা করা। সালাম দিয়ে কথা শুরু করা। সাক্ষাতের সময় চেহারা হাস্যোজ্জ্বল রাখা। দ্বীন- দুনিয়ার কল্যাণের পথের দিশা দেওয়া। এ ছাড়াও এ ধরনের অন্যান্য সকল কল্যাণকর কাজ প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত।
মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর পরিবারে একদা একটি বকরি জবাই করা হলো। তিনি যখন আসলেন, তখন বললেন, 'আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে এখান থেকে হাদিয়া দিয়েছ? আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে হাদিয়া দিয়েছ? আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি : “জিবরিল আ. আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এত বেশি উপদেশ দিচ্ছিলেন শেষ পর্যন্ত আমার ধারণা হতে লাগল, হয়তো তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেবেন।”১২৫
টিকাঃ
১২০. সুরা আন-নিসা: ৩৬
১২১. সহিহুল বুখারি : ৬০১৫, সহিহু মুসলিম : ২৬২৫
১২২. সহিহুল বুখারি : ৬০১৯
১২৩. সহিহু মুসলিম : ৪৭
১২৪. সহিহুল বুখারি : ৬০১৬
১২৫. সুনানু আবি দাউদ : ৫১৫২, সুনানুত তিরমিজি : ১৯৪৩
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ
‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। সদ্ব্যবহার করো পিতা-মাতার সাথে এবং নিকটাত্মীয়, এতিম-মিসকিন, নিকটবর্তী ও দূরবর্তী প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথি, মুসাফিরের সাথেও...।'১২০
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদত ও পিতা-মাতা, এতিম, রেহম- সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে প্রতিবেশীর হককেও উল্লেখ করেছেন। এ থেকে প্রতিবেশীর অধিকারের গুরুত্ব উপলব্ধ হয়।
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّتُهُ
'জিবরিল আ. আমাকে প্রতিবেশীর বিষয়ে এত বেশি উপদেশ দিতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেবেন। '১২১
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন :
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ
'যে আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।১২২ অন্য বর্ণনায় আছে : فَلْيُحْسِنُ إِلَى جَارِهِ 'সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করে।'১২৩
সাইদ আবু শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেন, নবিজি ﷺ বলেছেন : وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ: وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
'আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়; আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়; আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়।' বলা হলো, 'হে আল্লাহর রাসুল, কে মুমিন নয়?' তিনি বললেন, 'যার প্রতিবেশী তার অন্যায় আচরণ থেকে নিরাপদ থাকে না।'১২৪
بَوَائِقه শব্দটি بائقة শব্দের বহুবচন। بائقة হচ্ছে—জুলম, মন্দ আচরণ, ধ্বংসাত্মক কোনো কিছু।
প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত হলো, তাকে বিপদের সময় সান্ত্বনা দেওয়া। সুখের সময় তাকে অভিবাদন জানানো। অসুস্থতায় তার সেবা করা। সালাম দিয়ে কথা শুরু করা। সাক্ষাতের সময় চেহারা হাস্যোজ্জ্বল রাখা। দ্বীন- দুনিয়ার কল্যাণের পথের দিশা দেওয়া। এ ছাড়াও এ ধরনের অন্যান্য সকল কল্যাণকর কাজ প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত।
মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর পরিবারে একদা একটি বকরি জবাই করা হলো। তিনি যখন আসলেন, তখন বললেন, 'আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে এখান থেকে হাদিয়া দিয়েছ? আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে হাদিয়া দিয়েছ? আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি : “জিবরিল আ. আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এত বেশি উপদেশ দিচ্ছিলেন শেষ পর্যন্ত আমার ধারণা হতে লাগল, হয়তো তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেবেন।”১২৫
টিকাঃ
১২০. সুরা আন-নিসা: ৩৬
১২১. সহিহুল বুখারি : ৬০১৫, সহিহু মুসলিম : ২৬২৫
১২২. সহিহুল বুখারি : ৬০১৯
১২৩. সহিহু মুসলিম : ৪৭
১২৪. সহিহুল বুখারি : ৬০১৬
১২৫. সুনানু আবি দাউদ : ৫১৫২, সুনানুত তিরমিজি : ১৯৪৩
📄 আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন:
إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْخَلْقَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْهُمْ قَامَتِ الرَّحِمُ، فَقَالَتْ: هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ مِنَ الْقَطِيعَةِ، قَالَ: نَعَمْ، أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ: بَلَى، قَالَ: فَذَاكِ لَكِ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطَّعُوا أَرْحَامَكُمْ، أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ، أَفَلَا يَتَدَبَّরُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا}
'নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি থেকে অবসর হলে আত্মীয়তার সম্পর্ক দাঁড়িয়ে বলল, "এটা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর জায়গা?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ। তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও, যে তোমার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে, আমি তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করব? আর যে, তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব?” সে বলল, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তাহলে এটা তোমার জন্য।” তারপর রাসুল বললেন, “তোমরা চাইলে পড়তে পারো, "যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, পৃষ্ঠপ্রদর্শন করলে সম্ভাবনা রয়েছে তোমরা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তারা তো এমন সব লোক, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা অভিশাপ দিয়েছেন। তাই তিনি তাদের বধির ও অন্ধ করে দিয়েছেন। তারা কি কুরআন বোঝে না, নাকি তাদের অন্তরে তালা পড়ে গেছে?”১২৮
আব্দুর রহমান বিন আওফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল-কে বলতে শুনেছি :
قَالَ اللهُ: أَنَا الرَّحْمَنُ وَهِيَ الرَّحِمُ، শَقَقْتُ لَهَا اسْمًا مِنَ اسْمِي، مَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُهُ
'আল্লাহর তাআলা বলেন, "আমি রহমান। আত্মীয়তার সম্পর্ক হচ্ছে রহিম। এ নামটি আমি আমার একটি নাম থেকে নির্গত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি এ সম্পর্ককে সংযুক্ত রাখবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক রাখব। আর যে এ সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।”১২৯
নববি বলেন:
'আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার অর্থ হচ্ছে, অবস্থা ও সামর্থ্যানুযায়ী আত্মীয়- স্বজন ও প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা। কখনো তা হয় সম্পদের মাধ্যমে। কখনো সেবার মাধ্যমে। কখনো হয় তাদের সাথে সাক্ষাৎ করার মাধ্যমে, তাদের সালাম দেওয়ার মাধ্যমে এবং কখনো অন্যান্য কাজের মাধ্যমে।'১৩০
টিকাঃ
১২৮. সহিহু মুসলিম : ২৫৫৪
১২৯. সুনানু আবি দাউদ : ১৬৯৪
১৩০. শারহুন নববি আলা মুসলিম: ২/২০১
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন:
إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْخَلْقَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْهُمْ قَامَتِ الرَّحِمُ، فَقَالَتْ: هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ مِنَ الْقَطِيعَةِ، قَالَ: نَعَمْ، أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ: بَلَى، قَالَ: فَذَاكِ لَكِ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطَّعُوا أَرْحَامَكُمْ، أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ، أَفَلَا يَتَدَبَّরُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا}
'নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি থেকে অবসর হলে আত্মীয়তার সম্পর্ক দাঁড়িয়ে বলল, "এটা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর জায়গা?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ। তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও, যে তোমার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে, আমি তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করব? আর যে, তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব?” সে বলল, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তাহলে এটা তোমার জন্য।” তারপর রাসুল বললেন, “তোমরা চাইলে পড়তে পারো, "যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, পৃষ্ঠপ্রদর্শন করলে সম্ভাবনা রয়েছে তোমরা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তারা তো এমন সব লোক, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা অভিশাপ দিয়েছেন। তাই তিনি তাদের বধির ও অন্ধ করে দিয়েছেন। তারা কি কুরআন বোঝে না, নাকি তাদের অন্তরে তালা পড়ে গেছে?”১২৮
আব্দুর রহমান বিন আওফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল-কে বলতে শুনেছি :
قَالَ اللهُ: أَنَا الرَّحْمَنُ وَهِيَ الرَّحِمُ، শَقَقْتُ لَهَا اسْمًا مِنَ اسْمِي، مَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُهُ
'আল্লাহর তাআলা বলেন, "আমি রহমান। আত্মীয়তার সম্পর্ক হচ্ছে রহিম। এ নামটি আমি আমার একটি নাম থেকে নির্গত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি এ সম্পর্ককে সংযুক্ত রাখবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক রাখব। আর যে এ সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।”১২৯
নববি বলেন:
'আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার অর্থ হচ্ছে, অবস্থা ও সামর্থ্যানুযায়ী আত্মীয়- স্বজন ও প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা। কখনো তা হয় সম্পদের মাধ্যমে। কখনো সেবার মাধ্যমে। কখনো হয় তাদের সাথে সাক্ষাৎ করার মাধ্যমে, তাদের সালাম দেওয়ার মাধ্যমে এবং কখনো অন্যান্য কাজের মাধ্যমে।'১৩০
টিকাঃ
১২৮. সহিহু মুসলিম : ২৫৫৪
১২৯. সুনানু আবি দাউদ : ১৬৯৪
১৩০. শারহুন নববি আলা মুসলিম: ২/২০১
📄 মুসলমানদের খোঁজ-খবর নেওয়া
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُم بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ
'এ দান সেসব গরিব লোকের জন্য, যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে; জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয় তারা। না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত মনে করে। তুমি তাদেরকে চিনতে পারবে তাদের চিহ্ন দ্বারা। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে ভিক্ষা চায় না। আর তোমরা যে সম্পদ ব্যয় করো, অবশ্যই আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী।'১৩১
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মুসলমানদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যাদের সাহায্যের অনেক বেশি প্রয়োজন। কিন্তু তাদের পবিত্র আত্মা তাদেরকে মানুষের কাছে হাত পাততে নিষেধ করে। এ জন্যই সালিহিন সর্বদা গুরুত্বের সাথে তাদের মুসলিম ভাইদের খোঁজ-খবর রাখতেন। রাসুল ﷺ-ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে আমাদের এমনই আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন:
لَيْসَ الْمُؤْمِنُ بِالَّذِي يَشْبَعُ وَجَارُهُ جَائِعٌ
'সে মুমিন নয়, যে তৃপ্তিসহকারে ভক্ষণ করে, আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। '১৩২
আমাদের সালাফের অবস্থা এমন ছিল—তাদের একজন অপরজনকে হাদিয়া দিতেন। এরপর তিনি তার প্রতিবেশীকে সেটি পাঠাতেন। তিনি তার প্রতিবেশীকে পাঠাতেন। এভাবে এক প্রতিবেশী থেকে অপর প্রতিবেশীর হাত বদলাতে বদলাতে একই হাদিয়া দশ বারেরও বেশি হাত বদল হতো। অবশেষে ঘুরে ফিরে হাদিয়া প্রথম ব্যক্তির কাছে চলে আসত।
জনৈক ব্যক্তি তার কোনো এক বন্ধুর দরজায় এসে করাঘাত করল। বন্ধু বের হলেন। বললেন, 'কোনো প্রয়োজনে এসেছ?' সে বলল, 'আমার চারশ দিরহাম ঋণ আছে।' এ কথা শুনে তার বন্ধু তাকে চারশ দিরহাম দিলেন। চারশ দিরহাম দেওয়ার পর বন্ধু কাঁদতে কাঁদতে ঘরে এলেন। এ দেখে তার স্ত্রী বললেন, 'তোমার সমস্যা হলে তাকে দিরহামগুলো দিয়েছ কেন?' স্ত্রীর কথা শুনে তিনি বললেন, 'তুমি যা ভাবছ, আমি সে জন্য কাঁদছি না। আমি কাঁদছি এ জন্য যে, আমি তার খবর নেইনি বিধায় সে আমার কাছে আসতে বাধ্য হয়েছে।'
টিকাঃ
১৩১. সুরা আল-বাকারা: ২৭৩
১৩২. আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি: ১২৭৪১
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُم بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ
'এ দান সেসব গরিব লোকের জন্য, যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে; জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয় তারা। না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত মনে করে। তুমি তাদেরকে চিনতে পারবে তাদের চিহ্ন দ্বারা। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে ভিক্ষা চায় না। আর তোমরা যে সম্পদ ব্যয় করো, অবশ্যই আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী।'১৩১
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মুসলমানদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যাদের সাহায্যের অনেক বেশি প্রয়োজন। কিন্তু তাদের পবিত্র আত্মা তাদেরকে মানুষের কাছে হাত পাততে নিষেধ করে। এ জন্যই সালিহিন সর্বদা গুরুত্বের সাথে তাদের মুসলিম ভাইদের খোঁজ-খবর রাখতেন। রাসুল ﷺ-ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে আমাদের এমনই আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন:
لَيْসَ الْمُؤْمِنُ بِالَّذِي يَشْبَعُ وَجَارُهُ جَائِعٌ
'সে মুমিন নয়, যে তৃপ্তিসহকারে ভক্ষণ করে, আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। '১৩২
আমাদের সালাফের অবস্থা এমন ছিল—তাদের একজন অপরজনকে হাদিয়া দিতেন। এরপর তিনি তার প্রতিবেশীকে সেটি পাঠাতেন। তিনি তার প্রতিবেশীকে পাঠাতেন। এভাবে এক প্রতিবেশী থেকে অপর প্রতিবেশীর হাত বদলাতে বদলাতে একই হাদিয়া দশ বারেরও বেশি হাত বদল হতো। অবশেষে ঘুরে ফিরে হাদিয়া প্রথম ব্যক্তির কাছে চলে আসত।
জনৈক ব্যক্তি তার কোনো এক বন্ধুর দরজায় এসে করাঘাত করল। বন্ধু বের হলেন। বললেন, 'কোনো প্রয়োজনে এসেছ?' সে বলল, 'আমার চারশ দিরহাম ঋণ আছে।' এ কথা শুনে তার বন্ধু তাকে চারশ দিরহাম দিলেন। চারশ দিরহাম দেওয়ার পর বন্ধু কাঁদতে কাঁদতে ঘরে এলেন। এ দেখে তার স্ত্রী বললেন, 'তোমার সমস্যা হলে তাকে দিরহামগুলো দিয়েছ কেন?' স্ত্রীর কথা শুনে তিনি বললেন, 'তুমি যা ভাবছ, আমি সে জন্য কাঁদছি না। আমি কাঁদছি এ জন্য যে, আমি তার খবর নেইনি বিধায় সে আমার কাছে আসতে বাধ্য হয়েছে।'
টিকাঃ
১৩১. সুরা আল-বাকারা: ২৭৩
১৩২. আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি: ১২৭৪১
📄 রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন :
الْإِيمَانُ بِضْعُ وَسَبْعُونَ - أَوْ بِضْعُ وَسِتُّونَ - شُعْبَةٌ، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةُ مِنَ الْإِيمَانِ
'ইমানের প্রায় ৭০ টি বা ৬০ টিরও অধিক শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা। সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর লজ্জা ইমানের অঙ্গ।'১৩৩
আবু জার গিফারি রাসুল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنُهَا وَسَيَّتُهَا، فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا الْأَذَى يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيقِ، وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِي أَعْمَالِهَا النَّخَاعَةَ تَكُونُ فِي الْمَسْجِدِ، لَا تُدْفَنُ
'আমার উম্মতের ভালো খারাপ সকল আমলকে আমার সামনে উপস্থাপন করা হলো। আমি উত্তম আমলগুলোর মধ্যে দেখেছি-রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর মন্দ আমলের মধ্যে দেখেছি-মসজিদের মধ্যে কফ-শ্লেষ্মা ফেলা, যা দাফন করা হয় না।'১৩৪
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন:
بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ، وَجَدَ غُصْنَ শَوْكٍ عَلَى الطَّرِيقِ، فَأَخَذَهُ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ، فَغَفَرَ لَهُ
'একদা এক লোক রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। সে পথে একটি কাঁটাযুক্ত গাছের ডাল দেখতে পেল। ডালটি ধরে ফেলে দিয়ে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। এ কাজের ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন। '১৩৫
টিকাঃ
১৩৩. সহিহ মুসলিম: ৩৫
১৩৪. সহিহু মুসলিম: ৫৫৩
১৩৫. সহিহুল বুখারি: ৬৫২, সহিহু মুসলিম: ১৯১৪
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন :
الْإِيمَانُ بِضْعُ وَسَبْعُونَ - أَوْ بِضْعُ وَسِتُّونَ - شُعْبَةٌ، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةُ مِنَ الْإِيمَانِ
'ইমানের প্রায় ৭০ টি বা ৬০ টিরও অধিক শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা। সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর লজ্জা ইমানের অঙ্গ।'১৩৩
আবু জার গিফারি রাসুল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنُهَا وَسَيَّتُهَا، فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا الْأَذَى يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيقِ، وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِي أَعْمَالِهَا النَّخَاعَةَ تَكُونُ فِي الْمَسْجِدِ، لَا تُدْفَنُ
'আমার উম্মতের ভালো খারাপ সকল আমলকে আমার সামনে উপস্থাপন করা হলো। আমি উত্তম আমলগুলোর মধ্যে দেখেছি-রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর মন্দ আমলের মধ্যে দেখেছি-মসজিদের মধ্যে কফ-শ্লেষ্মা ফেলা, যা দাফন করা হয় না।'১৩৪
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন:
بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ، وَجَدَ غُصْنَ শَوْكٍ عَلَى الطَّرِيقِ، فَأَخَذَهُ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ، فَغَفَرَ لَهُ
'একদা এক লোক রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। সে পথে একটি কাঁটাযুক্ত গাছের ডাল দেখতে পেল। ডালটি ধরে ফেলে দিয়ে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। এ কাজের ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন। '১৩৫
টিকাঃ
১৩৩. সহিহ মুসলিম: ৩৫
১৩৪. সহিহু মুসলিম: ৫৫৩
১৩৫. সহিহুল বুখারি: ৬৫২, সহিহু মুসলিম: ১৯১৪