📘 শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন 📄 আল্লাহর পথে আহ্বান

📄 আল্লাহর পথে আহ্বান


আল্লাহর দিকে আহ্বান করা অন্যের জন্য উপকারী নেক আমলগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান আমল। বরং বিস্তৃত উপকারী আমলগুলোর মধ্যে অন্য কোনো আমলই দাওয়াহ ইলাল্লাহর আমলের সমতুল্য নয়। মানুষকে দ্বীনের পথে পরিচালিত করার চিন্তা ও চেষ্টার সমতুল্য অন্যের জন্য উপকারী আমল আর দ্বিতীয়টি নেই। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা এই মহান কাজটি করার সৌভাগ্য মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারীদের দান করেছেন। আর তাঁরা হলেন নবি-রাসুলগণ ও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসারীগণ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ

'যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে-আমি মুসলিমদের একজন, সে ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় আর কে উত্তম?'৩০

ইবনে কাসির বলেন, [যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সে ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় আর কে উত্তম?] তথা যারা আল্লাহর বান্দাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করে থাকে। [আর সৎকর্ম করে এবং বলে-আমি মুসলিমদের একজন] তথা সে যা বলে, সে ব্যাপারে সে নিজে হিদায়াতপ্রাপ্ত। এ কথায় সে নিজের উপকার করে এবং অন্যদেরও উপকার করে। সে এমন ব্যক্তি নয়, যে ব্যক্তি নিজে ভালো কাজের কথা বলে, কিন্তু নিজে ভালো আমল করে না; কিংবা সে খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করে, কিন্তু নিজেই তা থেকে বিরত থাকে না। বরং এমন ব্যক্তি নিজে ভালো কাজ করে, মন্দকে পরিত্যাগ করে, সৃষ্টিজীবকে তাদের স্রষ্টার প্রতি আহ্বান করে। প্রত্যেক দায়ির এটিই সাধারণ অবস্থা, তারা নিজেরা সুপথপ্রাপ্ত। ৩১

প্রকৃত দায়ি কখনো এমনটা মেনে নিতে পারেন না যে, তাদের সামনে আল্লাহর কোনো বান্দা পাপের সাগরে ডুবে যাবে আর তারা ডুবন্তকে উদ্ধার করবেন না। তারা মনুষ্যত্বহীন নন, তাই কোনো বিবেকহীন মানুষকে দিশেহারা অবস্থায় তারা ছেড়ে রাখেন না। দিশেহারা মানুষদের তারা সঠিক পথ দেখান। তারা স্বীয় ইলমকে কবরস্থ করে রাখেন না। ইলমকে শুধু নিজেদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখেন না। তারা আনন্দ-আহ্লাদের আচ্ছাদনকে ছুঁড়ে ফেলে দেন, আত্মার গভীর থেকে অলসতার ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলে দেন, জীবনের দীর্ঘ পরিসরে ইলমের নুর নিয়ে তারা মানুষের অন্তঃকরণ প্রজ্বলিত করেন। তারা অজ্ঞ লোকদের শিক্ষা দেন। গাফিলদের সতর্ক করেন। আল্লাহর রহমত ও তাওফিকে তারা পথভ্রষ্টদের পথের দিশা দেন।

মানুষের জন্য করা যায়—এমন সর্বোত্তম উপকার হলো, আঁধার থেকে তাদের আলোর পথে নিয়ে আসা। কুফর, বিদআত, অজ্ঞতা থেকে তাদের তাওহিদ, সুন্নাহ ও জ্ঞানের পথে নিয়ে আসা। এটাই প্রকৃত উপকার। এটাই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ উপকার। আল্লাহ তাআলা বলেন :

أَوَمَن كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْশِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِّنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

'আর যে মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন একটি আলো দিয়েছি, যার মাধ্যমে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে; সে কি তার মতো, যে অন্ধকারে রয়েছে, সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এমনিভাবে কাফিরদের দৃষ্টিতে তাদের কাজকর্মকে সুশোভিত করে দেওয়া হয়েছে।'৩২

টিকাঃ
৩০. সুরা ফুসসিলাত: ৩৩
৩১. তাফসিরু ইবনি কাসির: ৭/১৭৯
৩২. সুরা আল-আনআম: ১২২

📘 শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন 📄 মানুষকে উপকারী ইলম শিক্ষা দেওয়া

📄 মানুষকে উপকারী ইলম শিক্ষা দেওয়া


বিস্তৃত উপকার পৌঁছে দেওয়ার বড় একটি মাধ্যম হলো, মানুষকে কল্যাণকর ইলম শেখানো। হালাল-হারাম সম্পর্কে তাদের অবহিত করা। এ মাধ্যমটির গুরুত্বের কারণে কুরআন-সুন্নাহতে এর অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। মুআজ বিন আনাস থেকে বর্ণিত, নবিজি বলেন:

مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا فَلَهُ أَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهِ، لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الْعَامِلِ

'যে কাউকে ইলম শেখাবে, তার জন্য আমলকারীর সমান প্রতিদান লিপিবদ্ধ হবে। এতে করে আমলকারীর প্রতিদানে হ্রাস হবে না।'৩৩

উসমান থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেন :

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القُرْآنَ وَعَلَّمَهُ

'তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।'৩৪

উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফিজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেন :

'যার মধ্যে কুরআন মাজিদ শেখা ও শেখানো দুটি একত্রিত হবে, সে অবশ্যই নিজের জন্য ও অন্যের জন্য একজন পরিপূর্ণ আদর্শ। সে নিজের মাঝে সীমাবদ্ধ উপকার ও বিস্তৃত উপকার উভয়টিকে একত্র করেছে। এ ধরনের ইলম অধিক উত্তম। এমন ব্যক্তি তাদের একজন, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা গুরুত্বারোপ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে: وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ('যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে-আমি মুসলিমদের একজন, সে ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় আর কে উত্তম?'৩৫) এ আয়াতে দাওয়াহর কথা বলা হয়েছে। দাওয়াহ ইলাল্লাহর অনেক মাধ্যম রয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম মাধ্যম হলো কুরআন শিক্ষা দেওয়া।'৩৬

আবু মুসা থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেন :

مَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللهُ بِهِ مِنَ الهُدَى وَالعِلْمِ، كَمَثَلِ الغَيْثِ الكَثِيرِ أَصَابَ أَرْضًا، فَكَانَ مِنْهَا نَقِيَّةٌ، قَبِلَتِ المَاءَ، فَأَنْبَتَتِ الكَلَا وَالعُশْبَ الكَثِيرَ، وَكَانَتْ مِنْهَا أَجَادِبُ، أَمْسَكَتِ المَاءَ، فَنَفَعَ اللهُ بِهَا النَّاسَ، فَশَرِبُوا وَسَقَوْا وَزَرَعُوا، وَأَصَابَتْ مِنْهَا طَائِفَةٌ أُخْرَى، إِنَّمَا هِيَ قِيعَانُ لَا تُمْسِكُ مَاءً وَلَا تُنْبِتُ كَلَا، فَذَلِكَ মَثَلُ مَنْ فَقُهَ فِي دِينِ اللَّهِ، وَنَفَعَهُ مَا بَعَثَنِي اللهُ بِهِ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ، وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا، وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ

'আল্লাহ তাআলা আমাকে যেই ইলম ও হিদায়াত দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তার দৃষ্টান্ত হলো, জমিনে প্রবলধারায় বর্ষিত হয় এমন বৃষ্টির ন্যায়। কিছু জমিন উর্বর হয়, সে জমিন পানি গ্রহণ করে; ফলে তাতে অনেক ঘাস, তৃণলতা জন্মায়। কিছু ভূমি শক্ত হয়—এমন ভূমি পানিকে আটকে রাখে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তা দ্বারা মানুষকে উপকৃত করেন। সকলে তা থেকে পান করে, গৃহপালিত পশুকে পান করায় এবং তা দিয়ে জমিনে চাষাবাদ করে। প্রবল ধারার এ বৃষ্টি এক গোত্রকে সিক্ত করল, যাদের ভূমি সমতল; ফলে তা পানিকে আঁকড়ে রাখতে পারে না এবং কোনো ফসল উৎপাদন করতে পারে না। প্রথম দৃষ্টান্ত হলো ওই ব্যক্তির, যাকে আল্লাহ তাআলা দ্বীনের জ্ঞান দান করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা আমাকে যা দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তা দিয়ে সে উপকৃত হয়েছে। অতঃপর সে তা জানার পর অন্যকে জানিয়েছে। শেষ দৃষ্টান্ত সে ব্যক্তির, যে এই বিষয়ে মাথা ঘামায় না এবং আল্লাহর সে হিদায়াতকে গ্রহণ করে না—যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।'৩৯

আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন প্রাণিকে জগৎবাসীর জন্য ইসতিগফার করার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। আবু উমামা আল-বাহিলি থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেন :

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِينَ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الخَيْرَ

'নিশ্চয় আল্লাহ, ফেরেশতাগণ, আসমান-জমিনের সকল প্রাণী, এমনকি গর্তের পিপীলিকা এবং পানির মাছও সে ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, যে মানুষকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দেয়।'৩৮

আবু দারদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি:

مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَبْتَغِي فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضَاءً لِطَالِبِ العِلْمِ، وَإِنَّ العَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ حَتَّى الحِيتَانُ فِي الْمَاءِ، وَفَضْلُ العَالِمِ عَلَى العَابِدِ، كَفَضْلِ القَمَرِ عَلَى سَائِرِ الكَوَاكِبِ، إِنَّ العُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ، وَإِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا إِنَّمَا وَرَّثُوا العِلْمَ، فَمَنْ أَخَذَ بِهِ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ।

'যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে পথ চলে। আল্লাহ তাআলা তার মাধ্যমে তাকে জান্নাতের পথে চালান। আর ইলম অন্বেষীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতাগণ তাঁদের ডানা বিছিয়ে দেন। আলিমের জন্য আসমান-জমিনের সকলেই ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি পানির মাছও। আর আবিদের ওপর আলিমের মর্যাদা হলো তারকারাজির ওপর চাঁদের মর্যাদার ন্যায়। আলিমগণ নবিদের উত্তরাধিকারী। আর নবিগণ মিরাস বা উত্তরাধিকার হিসেবে কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি। বরং মিরাস হিসেবে রেখে গেছেন ইলম। তাই যে তা গ্রহণ করল, সে পরিপূর্ণ অংশই গ্রহণ করল।'৩৯

টিকাঃ
৩৩. সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৪০
৩৪. সহিহুল বুখারি: ৫০২৭
৩৫. সুরা ফুসসিলাত: ৩৩
৩৬. ফাতহুল বারি: ৯/৭৬
৩৯. সহিহুল বুখারি : ৭৯
৩৮. সুনানুত তিরমিজি: ২৬৮৫
৩৯. সুনানুত তিরমিজি: ২৬৮২

📘 শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন 📄 জীব-জন্তু কেন আলিমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে?

📄 জীব-জন্তু কেন আলিমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে?


প্রথমত, একজন আলিম মানুষকে আল্লাহর শরিয়ত শিক্ষা দেন। তাই আল্লাহ তাকে এ সম্মানে ভূষিত করেছেন।

দ্বিতীয়ত, একজন আলিমের উপকারিতা সুপরিসর ও ব্যাপক। তাঁর দ্বারা সাধিত উপকার কেবল তার মধ্যে বা মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সে উপকার প্রাণিকুলকেও অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ একজন আলিম প্রাণিকুলের প্রতি ইহসানের শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তিনি আমাদেরকে সে হাদিস শিক্ষা দিয়ে থাকেন, যেখানে রাসুল বলেন:

فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا القِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَةَ

'যখন তোমরা প্রাণী হত্যা করো, তখন সুন্দর করে করো। যখন তোমরা জবাই করো, তখন তা সুন্দরভাবে করো।'৪০

তা ছাড়া এতদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধিবিধান সম্পর্কে আলিমগণ মানুষকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তাই আল্লাহ তাআলা প্রাণিদের অন্তরে আলিমদের এ সদাচরণ ও সহানুভূতির প্রতিদানস্বরূপ আলিমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা শিখিয়েছেন।

অন্যদিকে রাসুল বলেন :

وَفَضْلُ العَالِمِ عَلَى العَابِدِ، كَفَضْلِ القَمَرِ عَلَى سَائِرِ الكَوَاكِبِ

'আলিমের শ্রেষ্ঠত্ব আবিদের ওপর এমন, যেমন চাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব তারকারাজির ওপর। '৪১

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় কাজি বলেন:

'রাসুল আলিমকে চাঁদের সাথে এবং আবিদকে তারকারাজির সাথে তুলনা দিয়েছেন। কারণ, আবিদের ইবাদতের পরিপূর্ণতা এবং তার আলোকচ্ছটা শুধু তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর আলিমের ইলমের উজ্জ্বলতা শুধু তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং আলিমের ইলমের আলোতে জগৎবাসী আলোকিত হয়। '৪২

টিকাঃ
৪০. সহিহ মুসলিম: ১৯৫৫
৪১. সুনানুত তিরমিজি: ২৬৮২
৪২. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৬/৪৮১

📘 শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন 📄 ইবাদতে মগ্ন হওয়া উত্তম না ইলম পঠন-পাঠনে লিপ্ত হওয়া উত্তম?

📄 ইবাদতে মগ্ন হওয়া উত্তম না ইলম পঠন-পাঠনে লিপ্ত হওয়া উত্তম?


হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন: 'এ ক্ষেত্রে ন্যায়ভিত্তিক কথা হচ্ছে—শরিয়তের বিধিবিধান পালনে বাধ্য প্রতিটি মুসলিম ফরজে আইন আমলগুলো পালন করবে। এরপর অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে তাদের দুটি ভাগ হবে। প্রথমত, যারা মেধাবী ও রচনার ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্য বোধ করবেন, তাদের কর্তব্য হবে ইলম থেকে মুখ না ফিরিয়ে ইলম নিয়ে ব্যস্ত থাকা এবং সাধ্যমতো নফল ইবাদতে লিপ্ত হওয়া উত্তম। কেননা, এটাতেই বিস্তৃত ও সুপরিসরের উপকারিতা বিদ্যমান। দ্বিতীয়ত, যারা নিজেদের মাঝে মেধাশক্তি ও রচনাশক্তির ক্ষেত্রে ঘাটতি ও দুর্বলতা অনুভব করবেন, তাদের জন্য ইবাদতে লিপ্ত থাকা অধিক উত্তম হবে। তাদের জন্য ইলম ও ইবাদত উভয়টিকে একত্র করা কঠিন। প্রথম শ্রেণির মুসলিমদের ইলমবিমুখতার কারণে কিছু হুকুম-আহকাম ধ্বংসের মুখে পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ইলমের প্রতি তাদের অধিক ব্যস্ততা রেখে পাশাপাশি ইবাদতে লিপ্ত হতে হবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণির মুসলিমগণ যদি ইলমে লিপ্ত হয়ে ইবাদতে ত্রুটি করেন, তবে তার দুদিকই হারাবে। কারণ, প্রথমটি তো তারা পূর্ণ আয়ত্ত করতে পারবেন না, আর তাদের বিমুখতার কারণে তাদের দ্বিতীয়টিও ছুটে যাবে। আর সকল বিষয়ে আল্লাহ-ই হলেন তাওফিকদাতা। '৪৩

ইমাম নববি বলেন: 'ইতিকাফকারী ব্যক্তির জন্য মসজিদে বসে কুরআন পড়া ও পড়ানো, ইলম শেখা ও শেখানো উভয়টিই জায়িজ আছে। ইতিকাফ অবস্থায় এ ধরনের কাজে কোনো বাধা নেই। ইমাম শাফিয়ি ও আমাদের অনেক উলামায়ে কিরাম বলেন, “বরং ইলম অন্বেষণে প্রবৃত্ত হওয়া নফল নামাজে লিপ্ত হওয়ার চেয়েও উত্তম। কারণ, (দ্বীনের সকল বিষয়ে) ইলম অন্বেষণ করা ফরজে কিফায়া। আর ফরজে কিফায়া অবশ্যই নফলের চেয়ে উত্তম। তা ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হওয়াসহ অন্যান্য ইবাদত শুদ্ধ হওয়ার মাধ্যম হলো ইলম। এর উপকারিতা বিস্তৃত ও সুপরিসর। নফল নামাজে ব্যস্ত থাকার চেয়েও ইলম অন্বেষণে ব্যস্ত থাকা অধিক উত্তম হওয়ার বিষয়টি রাসুল-এর অনেক হাদিসে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে।”'

শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রহিমাহুল্লাহ মাঝে মাঝে নফল রোজা থেকে বিরত থাকতেন। তিনি বলেন, 'কারণ এতে মানুষের উপকার করতে গিয়ে দুর্বল হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচা যায়।'

টিকাঃ
৪৩. ফাতহুল বারি: ১৩/২৬৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px