📘 শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন 📄 বিস্তৃত উপকারী আমল

📄 বিস্তৃত উপকারী আমল


বিস্তৃত উপকারী আমল এমন আমল, যা থেকে কেবল আমলকারীই নয়; বরং অন্যরাও উপকৃত হয়। হোক সেটা পরকালীন, যেমন: দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া; অথবা হোক সেটা ইহকালীন, যেমন: কারও কোনো প্রয়োজন পূর্ণ করা, মাজলুমদের সাহায্য করা।

📘 শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন 📄 সীমাবদ্ধ উপকারী আমল

📄 সীমাবদ্ধ উপকারী আমল


সীমাবদ্ধ উপকারী আমল হলো এমন আমল, যার উপকার ও সাওয়াব কেবল আমলকারীর সাথেই সীমাবদ্ধ থাকে। যেমন: রোজা, ইতিকাফ প্রভৃতি আমল।

📘 শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন 📄 উভয় প্রকার আমলের মধ্যে কোনটি উত্তম?

📄 উভয় প্রকার আমলের মধ্যে কোনটি উত্তম?


ফুকাহায়ে কিরাম সীমাবদ্ধ উপকারী আমলের তুলনায় বিস্তৃত উপকারী আমলকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বলেছেন, ‘সর্বোত্তম ইবাদত হচ্ছে, যার মধ্যে সর্বাধিক উপকার নিহিত রয়েছে। কারণ, কুরআন-সুন্নাহতে মানুষের জন্য উপকারী আমলের ব্যাপারে অনেক আয়াত-হাদিস বর্ণিত হয়েছে। কুরআন-সুন্নাহর এ সকল নস এ ধরনের উপকারী আমলগুলো দ্রুত করা এবং মানুষের প্রয়োজন পুরো করার বিষয়টিও বুঝিয়ে থাকে। সে সকল নস থেকে কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

আবু দারদা ؓ হতে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন :

إِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ، كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ

‘সাধারণ একজন ইবাদতকারীর ওপর একজন আলিমের মর্যাদা নক্ষত্ররাজির ওপর পূর্ণিমা রাতের চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়।’২

রাসুল আলি কে লক্ষ্য করে বলেন:

لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ

‘আল্লাহ তাআলা তোমার মাধ্যমে একজন লোককে হিদায়াত দেওয়া তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম।’৩

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:

مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى، كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا

‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের দিকে আহ্বান করে, তার জন্যও আমলকারীর সমান প্রতিদান অবধারিত। তার এ প্রতিদান-প্রাপ্তি আমলকারীদের প্রতিদান হ্রাস করবে না। ’৪

ব্যক্তিগত নেক আমল তথা সীমাবদ্ধ উপকারী আমলগুলো আমলকারীর মৃত্যুর সাথে সাথেই বন্ধ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে বিস্তৃত উপকারী আমলের আমলকারী ব্যক্তির মৃত্যুর সাথে সাথে তার নেক আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায় না; বরং তা একটা সময় পর্যন্ত চলতে থাকে।

আল্লাহ তাআলা আম্বিয়া আ.-কে কিছু বিশেষ গুণ দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহশীল হওয়া, তাদেরকে হিদায়াতের পথ দেখানো, তাদের জীবনযাপন ও প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে উপকার সাধন করা। বৈরাগ্য বা একাকী জীবনযাপন করতে কিংবা জাতির কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য নবি-রাসুলদের প্রেরণ করা হয়নি। এ জন্যই নবিজি৫ সেসব লোকের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন, যারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদত-বন্দেগি নিয়েই ব্যস্ত থাকে এবং মানুষের থেকে দূরে থাকে।

এই আলোচনা থেকে আবার এমনটা বোঝা ঠিক নয় যে, সকল বিস্তৃত উপকারী নেক আমলই ব্যক্তিগত নেক আমলের চেয়ে উত্তম। বরং অনেক আমল যেমন: নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি মূলত ব্যক্তিগত আমল; তবুও এগুলো ইসলামের ভিত্তি ও মান-মর্যাদার পরিমাপক।

তাই উলামায়ে কিরামের একাংশ বলেন, ‘সর্বোত্তম ইবাদত হলো, সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক আমলগুলো করা। যে সময় যে আমল করা দরকার এবং যে সময়ের সাথে যে আমল সম্পৃক্ত, সেই আমল করাই সর্বোত্তম ইবাদত।’৬

টিকাঃ
২. সুনানু আবি দাউদ: ৩৬৪১
৩. সহিহু মুসলিম: ২৪০৬
৪. সহিহু মুসলিম: ২৬৭৪
৫. সহিহুল বুখারি: ৪৭৭৬, সহিহু মুসলিম: ৫
৬. মাদারিজুস সালিকিন: ১/৮৫-৮৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px