📄 অবতরণিকা
الحمد الله رب العالمين، والصلاة والسلام oncology أشرف المرسلين، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد
সবচেয়ে বড় প্রতিদানযোগ্য ও আল্লাহর সর্বাধিক সন্তুষ্টিময় আমলের একটি হলো—এমন আমল, যার উপকার কেবল নিজের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; যার মাধ্যমে কেবল আমলকারী নিজেই উপকৃত হয় না; বরং তার এই ভালো কাজের মাধ্যমে আরও অনেকেই উপকৃত হয়। এমন আমলের উপকারিতা ব্যাপক হয়। এমনকি এর দ্বারা অনেক সময় বিভিন্ন প্রাণীও উপকৃত হয়।
সবচেয়ে উপকারী নেক আমল তো সে আমল, যার সাওয়াব আপনি অন্ধকার কবরে নিঃসঙ্গ থাকাবস্থায়ও পাবেন। প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য, মৃত্যুর পূর্বে উপযুক্ত আমল করে যাওয়া, মৃত্যুর পূর্বে এমন কোনো অবলম্বন রেখে যাওয়া—যার দ্বারা সে কবরে শুয়ে শুয়ে নিজেও উপকৃত হবে এবং অন্যান্য মানুষও উপকৃত হবে। আল্লাহ তাআলা তো সত্যই বলেছেন :
وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا
'তোমরা নিজেদের জন্য কল্যাণকর যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে উত্তমরূপে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিতরূপে পাবে।'১
وكن رجلاً إن أتوا بعده * يقولون : مر وهذا الأثر
'তুমি এমন ব্যক্তি হও; যেন তোমার পরবর্তীরা এসে বলে, তিনি চলে গেলেন—রেখে গেছেন এ নিদর্শন।'
এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছে করেছি। আল্লাহ যেন তাওফিক দান করেন। আমিন।
মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
টিকাঃ
১. সুরা আল-মুজ্জাম্মিল: ২০
📄 মানব-উপকার নবি-রাসূলদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য
অন্যের উপকার করা নবি-রাসুলদের অনুসরণীয় পথ-পদ্ধতি। যারা তাঁদের পথে চলেন, তাঁদের অনুসরণ করেন মানব-উপকার তাদের অন্যতম কর্তব্য। নবি-রাসুলগণ ছিলেন সর্বাধিক পরোপকারী মানুষ। তাঁরা মানুষকে আল্লাহর পথের দিশা দানকারী। অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনয়নকারী। তাঁরা তাওহিদের প্রতি আহ্বান করে, তাওহিদের পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন করে এ উপকার সাধন করেছেন। তাঁরা মানবজাতিকে সে পথের আহ্বান করে গেছেন, যে পথ অবলম্বন ব্যতীত ইহকাল-পরকালের কোথাও সম্মান ও সফলতার আশা করাই বৃথা।
আম্বিয়ায়ে কিরাম আ. তাঁদের জাতির কেবল পরকালীন উপকারই করেননি। বরং ইহকালীন বিষয়েও তাদের উপকার করেছেন। যেমন ইউসুফ আ. মিশরের তৎকালীন রাজা আজিজে মিশরের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। তিনি সে দায়িত্বে থেকে দুর্ঘটনার সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে: قَالَ اجْعَلْنِي عَلَى خَزَائِنِ الْأَرْضِ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ
'সে (ইউসুফ) বলল, “আমাকে দেশের ধনভান্ডারের দায়িত্বে নিযুক্ত করুন। আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও অধিক জ্ঞানবান।”৭
এ দায়িত্ব নিয়ে তিনি মানুষদের কল্যাণ সাধন করলেন; তাদের উপকার করলেন; তাদের দেশে বিরাজমান কয়েক বছরের দুঃখ, অভাব-অনটন ও দুর্ভিক্ষ থেকে তাদের মুক্ত করলেন।
এমনিভাবে মুসা আ. যখন মাদায়িন শহরে কূপের কাছে গেলেন, দেখলেন লোকেরা তাদের গৃহপালিত জন্তুগুলোকে পানি পান করাচ্ছে। কিন্তু দুজন দুর্বল নারীকে দেখতে পেলেন এক পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি কূপ থেকে পাথর সরিয়ে তাদের জন্য এবং তাদের বকরিগুলোর জন্য পানি পান করার ব্যবস্থা করে দিলেন।
আর প্রিয় নবি ﷺ-এর গুণকীর্তন বর্ণনায় খাদিজা ؓ বলতেন: كَلَّا وَاللهِ مَا يُخْزِيكَ اللهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الكَلَّ، وَتَكْسِبُ المَعْدُومَ ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الحَقِّ،
'কখনো না। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ কখনোই আপনাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষম ব্যক্তির বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, অতিথিকে আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন।৮
টিকাঃ
৭. সুরা ইউসুফ: ৫৫
৮. সহিহুল বুখারি : ৩
📄 সাহাবায়ে কিরাম ও সালিহগণ এ পথেরই পথিক ছিলেন
সাহাবায়ে কিরাম ও সালিহিন এ পথেরই পথিক ছিলেন। আবু বকর ؓ আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে চলতেন। অসহায়দের সহায়তা করতেন। তাই তাঁর স্বজাতি যখন তাঁকে মাতৃভূমি থেকে বের করে দিতে চাইল, তখন মুশরিক ইবনুদ দাগিনাহ বলেছিল:
'তোমার মতো মানুষ বের হয়ে যাওয়া সমীচীন নয়! তোমার মতো মানুষকে বের করে দেওয়া যায় না। তুমি তো নিঃস্বদের জন্য উপার্জন করো। আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখো। অতিথিদের আপ্যায়ন করো। বিপদের সময় লোকজনকে সাহায্য করো।'৯
উমর রাঃ বিধবাদের দেখাশুনা করতেন। রাতের বেলায়ও তাদের সেবা-যত্ন করতেন। পানি পান করাতেন।
আলি বিন হুসাইন রাঃ রাতের আঁধারে মিসকিনদের বাড়ি বাড়ি রুটি নিয়ে যেতেন। তিনি যখন মারা গেলেন, তখন সে সকল মিসকিনের আহার্য আসা বন্ধ হয়ে গেল। ইবনে ইসহাক রাঃ বলেন, 'মদিনায় এমন কিছু মানুষ বাস করত, যারা নিজেরা জানত না যে, কোথা থেকে তাদের রিজিকের ব্যবস্থা হচ্ছে। যখন আলি বিন হুসাইন রাঃ ইনতিকাল করলেন, তখন তাদের নিকট আহার্য আসা বন্ধ হয়ে গেল। তখন তারা বুঝতে পারলেন।'১০
এই গর্বিত উম্মাহর সালাফে সালিহিন এমনই মহান ছিলেন। তাঁরা যখন সৃষ্টির সেবার কোনো না কোনো সুযোগ পেতেন, তখন যারপরনাই আনন্দিত হতেন। সেই দিনকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ দিন মনে করতেন।
সুফইয়ান সাওরি রাঃ বাড়িতে কোনো ভিক্ষুককে আসতে দেখলে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন। বলতেন, 'সুস্বাগতম তোমায়, যে আমার পাপগুলো মুছে দিতে এসেছ।'
ফুজাইল বিন ইয়াজ রাঃ বলতেন, 'যাদের আমরা সাহায্য করি, তারা আখিরাতে আমাদের পাথেয়গুলো নিয়ে আসবেন। কিয়ামতের দিন আমাদের আমলনামা বহন করে মিজানে নিয়ে রাখবেন।'
টিকাঃ
৯. সহিহুল বুখারি: ২১৮৫
১০. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা : ৪/৩৯৩
📄 কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিস্তৃত উপকারী আমলের মহান প্রতিদান
আল্লাহ তাআলা বলেন: ০১
وَالْعَصْرِ - إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ - إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
'কসম যুগের। নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়, উপদেশ দেয় সবরের। '১১
শাইখ সাদি বলেন:
'আল্লাহ তাআলা সময়ের তথা রাত ও দিনের শপথ করেছেন। আর এটিই মানুষের আমল ও ইবাদতের সময়। আল্লাহ তাআলা এই সময়ের কসম করে বলেন যে, সকল মানুষই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত, তবে যারা চারটি গুণে গুণান্বিত হবে তারা ব্যতীত।
১. আল্লাহ তাআলা যেসব বিষয়ের প্রতি ইমান আনতে বলেছেন, সেগুলোর প্রতি ইমান আনা।
২. নেক আমল করা। এর দ্বারা সকল প্রকার নেক আমলই উদ্দেশ্য- প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, আল্লাহর হক ও বান্দার হক আদায় করা, মুসতাহাব- নফল, সুন্নাত আদায় করাসহ সকল নেক আমল এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. সত্যের উপদেশ দেওয়া। যা ইমান ও নেক আমলেরই অংশ। অর্থাৎ মুমিনরা পরস্পরকে এসব ভালো কাজের জন্য উপদেশ দেবে, উৎসাহ দেবে এবং আগ্রহ-উদ্দীপনা জোগাবে।
৪. আল্লাহর আনুগত্যের ওপর, তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তাকদিরের কষ্টকর সিদ্ধান্তগুলোর ওপর ধৈর্যধারণ করার উপদেশ দেওয়া।
উপরোক্ত চারটি বিষয়ের মধ্যে প্রথম দুটির মাধ্যমে মানুষ তার নিজেকে পরিপূর্ণ করবে। আর পরবর্তী দুটি বিষয়ের মাধ্যমে অন্যকে পরিপূর্ণ করতে পারবে। আর এই চারটি বিষয় যদি কারও পূর্ণ হয়, তবেই সে মানুষটি ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারবে এবং মহাপুরস্কার পেয়ে সফল হবে।'১২
অতএব এ কথা সুস্পষ্ট—অন্যের উপকারের চেষ্টা করা এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ ও নির্দেশনা দেওয়া মারাত্মক সে ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়।
০২
রাসুল ﷺ বলেন, 'সর্বোত্তম মানুষ হলো যে মানুষের সর্বাধিক উপকার করে। জাবির বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারি থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন:
الْمُؤْمِنُ يَأْلَفُ وَيُؤْلَفُ، وَلَا خَيْرَ فِيمَنْ لَا يَأْلَفُ وَلَا يُؤْلَفُ، وَخَيْرُ النَّاسِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ
'মুমিন ব্যক্তি অন্যকে ভালোবাসে এবং সে অন্যের ভালোবাসা পায়। যে অন্যকে ভালোবাসে না এবং সে অন্যের ভালোবাসা পায় না, তার মাঝে কোনো কল্যাণ নেই। যে মানুষের জন্য সর্বাধিক উপকারকারী, সে সর্বোত্তম মানুষ। ১৩
ইমাম মুনাবি বলেন :
'যে মানুষের জন্য সর্বাধিক উপকারকারী, সে সর্বোত্তম মানুষ'-দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষের প্রতি স্বীয় ধন-সম্পদ দান করে যে মানুষের উপকারে আসে; কেননা, তারা আল্লাহর বান্দা। যে ব্যক্তি মানুষের উপকার করে, সে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। বান্দাদের মধ্য থেকে কাউকে আল্লাহ তাআলা সম্পদশালী করেছেন, কাউকে করেননি। তাই যাদের তিনি সম্পদশালী করেছেন, তারা অন্যদের স্বীয় সম্পদ দ্বারা উপকার করবে। মানুষের বিপদ দূর করবে। এ বিপদ-দূরীকরণ দুনিয়াবি হতে পারে, আবার দ্বীনিও হতে পারে। তবে দ্বীনি উপকারই অধিকতর প্রতিদানযোগ্য ও চিরস্থায়ী।'১৪
ইবনুল কাইয়িম বলেন: 'বিবেক-বুদ্ধি মানুষের সৃষ্টিগত ফিতরাত। বিভিন্ন বৈপরীত্য ও নানা মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও সকল উম্মতের লব্ধ অভিজ্ঞতা হলো, আল্লাহর নৈকট্য লাভ, সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সদাচরণ করা সকল প্রকার কল্যাণ লাভের অন্যতম মাধ্যম। আর এর বিপরীত করা সকল মন্দ আনয়নকারী। তাই আল্লাহর কথা মেনে চলা ও সৃষ্টির প্রতি সদাচরণ করা আল্লাহর নিয়ামত আনয়ন করে এবং সকল বিপদাপদ প্রতিহত করে। '১৫
০৩
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, নবিজি ﷺ বলেন :
أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ، وَأَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ سُرُورٌ تُدْخِلُهُ عَلَى مُসْلِمٍ، أَوْ تَكْشِفُ عَنْهُ كُرْبَةً، أَوْ تَقْضِي عَنْهُ دَيْنًا، أَوْ تَطْرُدُ عَنْهُ جُوعًا، وَلَأَنْ أَمْشِيَ مَعَ أَخِي لِي فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ يَعْنِي مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ شَهْرًا، وَمَنْ كَفَّ غَضَبَهُ سَتَرَ اللهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ كَتَمَ غَيْظَهُ، وَلَوْ شَاءَ أَنْ يُمْضِيَهُ أَمْضَاهُ، مَلَأَ اللَّهُ قَلْبَهُ أَمْناً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ مَشَى مَعَ أَخِيهِ فِي حَاجَةٍ حَتَّى يُثْبِتَهَا لَهُ، أَثْبَتَ اللَّهُ قَدَمَهُ عَلَى الصِّرَاطِ يَوْمَ تَزُولُ فِيْهِ الْأَقْدَامُ
'যে মানুষের জন্য সর্বাধিক উপকারকারী, সে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো এমন আমল, যার মাধ্যমে তুমি কোনো মুসলমানের অন্তরে খুশি প্রবেশ করাবে বা তার কোনো বিপদ দূর করবে, অথবা তার কোনো ঋণ পরিশোধ করে দেবে, কিংবা কারও ক্ষুধা নিবারণ করবে। আর আমার কোনো ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের জন্য তার সাথে যাওয়া আমার কাছে এই মসজিদে (নববি) একমাস ইতিকাফের চেয়ে অধিক প্রিয়। যে তার রাগ দমন করে, আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখেন। যদি কেউ নিজের রাগের প্রতিফলন ঘটাতে চাইত, তবে সে পারত, এমন যে ব্যক্তি তার রাগ প্রশমিত করে—আল্লাহ তাআলা তার অন্তরকে কিয়ামতের দিন নিশ্চিন্ততায় ভরে দেবেন। যে তার কোনো ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের জন্য তার সাথে গিয়ে সে প্রয়োজন পূরণ করে দেয়, কিয়ামতের দিন—যেদিন অনেকের পা স্খলিত হবে—আল্লাহ তাআলা তার পদযুগল পুলসিরাতের ওপর অটল করে দেবেন। '১৬
রাসুল ﷺ-এর বাণী, 'আর আমার কোনো ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের জন্য তার সাথে যাওয়া আমার কাছে এই মসজিদে (নববি) একমাস ইতিকাফের চেয়ে অধিক প্রিয়।' অর্থাৎ ইতিকাফের উপকারিতাটা শুধু ব্যক্তির মাঝেই সীমাবদ্ধ। আর কারও প্রয়োজনে তার সাথে যাওয়ার উপকারিতা উভয়ের মধ্যেই প্রতিফলিত হয়। পরিসরটা বৃদ্ধি পায়। তাই এটাই অধিক উত্তম।
শাইখ ইবনে উসাইমিন রহিমাহুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করা হলো, 'কোনো মুসলিমের প্রয়োজন পূরণার্থে ইতিকাফকারীর জন্য মোবাইলে যোগাযোগ করা জায়িজ হবে কি না?'
উত্তরে তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, জায়িজ হবে। যদি মোবাইলটা ইতিকাফরত মসজিদে থাকে। কারণ, মসজিদ থেকে তো বের হওয়া যাবে না। আর যদি মোবাইল মসজিদের বাইরে থাকে, তাহলে তার জন্য বের হওয়া যাবে না। আর যদি মুসলমানদের উপকারের বিষয়টি একমাত্র তার হাতেই ন্যস্ত থাকে, তাহলে সে ইতিকাফে বসবে না। কেননা, ইতিকাফের চেয়ে মুসলিমদের উপকারের বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি বিস্তৃত উপকারী আমল। আর তা সীমাবদ্ধ উপকারী আমল থেকে উত্তম। তবে সীমাবদ্ধ উপকারী অনেক আমলও ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও ওয়াজিব আমল।'১৭
০৪
জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেছেন : لَا يَغْرِسُ الْمُسْلِمُ غَرْسًا، فَيَأْكُلَ مِنْهُ إِنْسَانٌ، وَلَا دَابَّةٌ، وَلَا طَيْرُ، إِلَّا كَانَ لَهُ صَدَقَةً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ 'মুসলিম যে বৃক্ষরোপণ করে, আর তা থেকে কোনো মানুষ, কোনো জন্তু এবং কোনো পাখি যা কিছু ভক্ষণ করে, তা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তার জন্য সদাকা হয়ে যায়। '১৮
তাঁর অন্য বর্ণনায় আছে : مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا إِلَّا كَانَ مَا أُكِلَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ، وَمَا سُرِقَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ، وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ مِنْهُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ، وَمَا أَكَلَتِ الطَّيْرُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ، وَلَا يَرْزَؤُهُ أَحَدٌ إِلَّا كَانَ لَهُ صَدَقَةٌ 'যেকোনো মুসলিম যদি কোনো গাছ রোপণ করে আর তা থেকে যতটুকুই খাওয়া হয়, তা তার জন্য সদাকা হয়। তা থেকে যতটুকু চুরি হয়, তা তার জন্য সদাকা হয়। তা থেকে যতটুকু হিংস্র জন্তু খায়, তা তার জন্য সদাকা হয়। যতটুকু পাখি খায়, তা তার জন্য সদাকা হয়। যে কেউ তার থেকে কিছু গ্রহণ করে, সেটাও তার জন্য সদাকা হয়ে যায়। '১৯
আবু দারদা ؓ থেকে বর্ণিত : তখন তিনি দামেস্কে একটি গাছ রোপণ করছিলেন। এক ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। সেই লোকটি আবু দারদা-কে বললেন, 'আপনি এই কাজ করছেন? অথচ আপনি আল্লাহর রাসুলের সম্মানিত সাহাবি!' তখন তিনি লোকটিকে বললেন, 'আমার কাজে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কেননা, আমি রাসুল-কে বলতে শুনেছি : مَنْ غَرَسَ غَرْسًا لَمْ يَأْكُلْ مِنْهُ آدَمِيُّ، وَلَا خَلْقُ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا كَانَ لَهُ صَدَقَةً "যদি কেউ কোনো বৃক্ষরোপণ করে আর তা থেকে কোনো মানুষ অথবা আল্লাহর কোনো সৃষ্টিজীবই ভক্ষণ করে, এর বিনিময়ে তার (আমলনামায়) একটি সদাকা যুক্ত হবে।””২০
ইমাম নববি বলেন: 'এসব হাদিসের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও চাষ করার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। আর যতদিন সেই বৃক্ষ থাকবে, ততদিন তার রোপণকারী সাওয়াব পেতে থাকবে। কিয়ামত পর্যন্ত এর থেকে যত বীজ উৎপন্ন হতে থাকবে, ওই ব্যক্তি তত সাওয়াব পেতে থাকবে। উল্লেখিত হাদিসে আরও বোঝা যায় যে, কারও সম্পদ থেকে যদি চুরি হয়, পশু-পাখি বা জন্তু-জানোয়ার যদি সম্পদ নষ্ট করে, তাহলেও এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে সাওয়াব দান করেন। আর রাসুল-এর বাণীর একাংশ وَلَا يَرْزَؤُهُ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সে গাছটির ফল-ফসল থেকে কমিয়ে তা থেকে কেউ গ্রহণ করে। '২১
এ জন্য অনেক উলামায়ে কিরাম ব্যবসা-বাণিজ্য, কারিগরি কাজের চেয়েও বৃক্ষরোপণের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন (তাদের এ মতকে নববি সহিহ বলেছেন)। কেননা, এতে অন্যগুলোর তুলনায় উপকার বেশি। এ উপকারের পরিসর মানুষ, পশু-পাখি, পোকামাকড়, জীব-জন্তু সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করে। ২২
০৫
মানুষের জন্য কৃত যেকোনো ভালো কাজই সদাকা।
জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, নবিজি ﷺ বলেন:
كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ 'প্রত্যেক ভালো কাজই সদাকা। '২৩
আবু জার ؓ থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন:
عَلَى كُلِّ نَفْسٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ صَدَقَةٌ مِنْهُ عَلَى نَفْسِهِ. قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، مِنْ أَيْنَ أَتَصَدَّقُ وَلَيْسَ لَنَا أَمْوَالُ؟ قَالَ: إِنَّ مِنْ أَبْوَابٍ الصَّدَقَةِ التَّكْبِيرَ، وَسُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ، وَتَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ، وَتَعْزِلُ الشَّوْكَةَ عَنْ طَرِيقِ النَّাসِ وَالْعَظْمَ وَالْحَجَرَ، وَتَهْدِي الْأَعْمَى، وَتُসْمِعُ الْأَصَمَّ وَالْأَبْكَمَ حَتَّى يَفْقَهَ، وَتُدِلُّ الْمُসْتَدِلُّ عَلَى حَاجَةٍ لَهُ قَدْ عَلِمْتَ مَكَانَهَا، وَتَسْعَى بِشِدَّةِ سَاقَيْكَ إِلَى اللَّهْفَانِ الْمُسْتَغِيثِ، وَتَرْفَعُ بِشِدَّةِ ذِرَاعَيْكَ مَعَ الضَّعِيف، كُلُّ ذَلِكَ مِنْ أَبْوَابِ الصَّدَقَةِ مِنْكَ عَلَى نَفْسِكَ، وَلَكَ فِي جِمَاعِكَ زَوْجَتَكَ أَجْرُ। قَالَ أَبُو ذَر: كَيْفَ يَكُونُ لِي أَجْرُ فِي شَهْوَتِي؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لَكَ وَلَدٌ فَأَدْرَكَ وَرَجَوْতَ خَيْرَهُ فَمَاتَ، أَكُنْتَ تَحْتَسِبُ بِهِ؟. قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: فَأَنْتَ خَلَقْتَهُ؟ قَالَ: بَلِ اللَّهُ خَلَقَهُ. قَالَ: فَأَنْتَ هَدَيْتَهُ؟ قَالَ: بَلِ اللهُ هَدَاهُ. قَالَ: فَأَنْتَ تَرْزُقُهُ؟ قَالَ: بَلِ اللَّهُ كَانَ يَرْزُقُهُ. قَالَ: كَذَلِكَ فَضَعْهُ فِي حَلَالِهِ وَجَنِّبْهُ حَرَامَهُ، فَإِنْ শَاءَ اللَّهُ أَحْيَاهُ، وَإِنْ শَاءَ أَمَاتَهُ، وَلَكَ أَجْرُ 'সূর্য উদিত হয় এমন প্রত্যেকটি দিনেই প্রত্যেকের ওপর নিজের পক্ষ থেকে সদাকা করা ওয়াজিব হয়ে থাকে। আবু জার বলেন, "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের তো কোনো সম্পদ নেই, তাহলে আমি কীসের থেকে সদাকা করব?” তখন রাসুল বললেন, “আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ ইত্যাদি তাসবিহও সদাকার অন্তর্ভুক্ত। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দেওয়া, রাস্তা থেকে কাঁটা, হাড়, পাথর ইত্যাদি সরিয়ে দেওয়া, অন্ধ ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেওয়া, বধির ও বোবাকে বুঝিয়ে দেওয়া, কেউ যদি তার নির্দিষ্ট ঠিকানা না চিনে আর তুমি যদি তা চিনে থাকো—তাহলে তাকে তা দেখিয়ে দেওয়া, তোমার পূর্ণাঙ্গ প্রচেষ্টা সহকারে সাহায্যপ্রার্থী দুঃখী ব্যক্তিকে সাহায্য করা, পূর্ণ শক্তি ব্যয় করে দুর্বলকে সহায়তা করা-এসব কিছুই তোমার নিজের জন্য সদাকার সমতুল্য। স্ত্রীর সাথে সহবাসের ফলেও তোমার জন্য প্রতিদান রয়েছে।” আবু জার বলেন, “আমার কামনা-বাসনার ক্ষেত্রে আবার কীভাবে প্রতিদান পাব আমি!" তখন রাসুল বললেন, “যদি তোমার কোনো সন্তান থাকে আর সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং তুমি তার কল্যাণ কামনা করো। কিন্তু সে যদি মারা যায়, তাহলে কি তুমি তার বিনিময়ে সাওয়াবের আশা করো?" আমি উত্তরে বললাম, “হ্যাঁ, আশা করি।” তিনি বললেন, "তুমি কি তাকে সৃষ্টি করেছ?” আবু জার বললেন, “না, বরং আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন।” তিনি বললেন, “তাকে সঠিক পথের দিশা তুমি দিয়েছ?” আবু জার বললেন, “না, বরং আল্লাহ দিয়েছেন।” তিনি বললেন, "তাকে তুমি রিজিক দিয়েছ?” আবু জার বলেন, “না, বরং আল্লাহ তাকে রিজিক দিয়েছেন।” অতঃপর তিনি বললেন, “এখন যদি তুমি তাকে হালাল পন্থায় পরিচালিত করো ও হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখো, তারপর সে বাঁচুক বা মারা যাক-এর বিনিময়ে তুমি প্রতিদান পাবেই।""২৪
আবু হুরাইরা ؓ থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেন :
كُلُّ سُلَامَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ، كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيهِ الشَّمْسُ يَعْدِلُ بَيْنَ الاثْنَيْنِ صَدَقَةٌ، وَيُعِينُ الرَّجُلَ عَلَى دَابَّتِهِ فَيَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ يَرْفَعُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ، وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا إِلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ، وَتُمِيطُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ।
'মানুষের প্রতিটি জোড়ার ওপর সদাকা ওয়াজিব হয়। সূর্য ওঠে এমন প্রতিটি দিনে দুজনের মাঝে ন্যায়বিচার করে দেওয়া সদাকা। কাউকে সাহায্য করে বাহনে আরোহণ করিয়ে দেওয়া বা তার ওপর তার মালামাল তুলে দেওয়াও সদাকা। উত্তম কথা সদাকা। নামাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিটি কদমে রয়েছে সদাকা। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো সদাকা।'২৫
০৬
জান্নাতে প্রবেশ করা এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হয়- এমন উপকারী প্রচেষ্টা।
আবু জার ؓ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: স্যাল্টু আন নাবি ﷺ আইয়ুল আমালি অফজল? ক্বলা: ঈমানুন বিল্লাহি, ওয়া জিহাদুন ফি সাবিলিহি... 'আমি নবিজি ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, “কোন আমল অধিক উত্তম?” তিনি বললেন, “আল্লাহর প্রতি ইমান আনা ও তাঁর পথে জিহাদ করা।” আমি বললাম, “কোন ধরনের ক্রীতদাস মুক্ত করা উত্তম?” তিনি বললেন, “যার মূল্য অধিক এবং যা তার মনিবের কাছে অধিক আকর্ষণীয়।” আমি বললাম, “এ যদি আমি করতে না পারি?” তিনি বললেন, “তাহলে কাজের লোককে (তার কাজে) সহায়তা করবে অথবা নির্বোধের জন্য জন্য কাজ করবে।” আমি বললাম, “যদি আমি তাও না করতে পারি?” তিনি বললেন, “তাহলে মানুষকে মন্দ থেকে দূরে রাখবে। কেননা, এটি তোমার নিজের জন্য তোমার পক্ষ থেকে সদাকা।””২৬
আবু জার ؓ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : 'আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, কোন জিনিস বান্দাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে?" তিনি বললেন, "আল্লাহর প্রতি ইমান।" আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, ইমানের সাথে আর কোনো আমল আছে?" তিনি বললেন, “তাকে আল্লাহ যে রিজিক দান করেছেন, তা থেকে দান করা।" আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, যদি কেউ দরিদ্র হয়ে থাকে এবং দান করার কিছুই না থাকে, তবে তার ক্ষেত্রে?” তিনি বললেন, “সে ভালো কাজের আদেশ করবে। খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করবে।" আমি বললাম, “যদি সে এ কাজে অক্ষম হয়? সে সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে না পারে, তবে?” তিনি বললেন, “সে কোনো নির্বোধের জন্য কাজ করবে।” আমি বললাম, “যদি সে এমন নির্বোধ হয় যে, কিছুই করতে পারে না?" তিনি বললেন, “কোনো মাজলুমকে সাহায্য করবে।” আমি বললাম, “যদি সে দুর্বল হয়, মাজলুমকে সাহায্য করতে না পারে?" তিনি বলেন, "তুমি তোমার সাথির জন্য কোনো কল্যাণই বাকি রাখতে চাও না। তুমি মানুষের কষ্ট দূর করে দেবে।” আমি বললাম, "এগুলো করলে সে জান্নাতে যাবে?” তিনি বললেন, "যদি কোনো মুসলিম এই কাজগুলোর একটিও করে, তাহলে আমি তার হাত ধরে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।”২৭
উমর ؓ এ হতে বর্ণিত যে— স্যাল্লা রাসুলুল্লাহ ﷺ: আইয়ুল আমালি অফজল? ক্বলা: ইদখলুকাস সুরূরা... 'রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করা হলো, “কোন আমল অধিক উত্তম?” তিনি বললেন, “কোনো মুমিনের অন্তরে তুমি আনন্দ প্রবেশ করালে, তুমি কোনো মুমিনকে ক্ষুধায় আহার দিয়ে পরিতৃপ্ত করলে, অথবা বস্ত্রহীনকে বস্ত্র পরালে কিংবা তার কোনো প্রয়োজন পূরণ করলে—এমন আমল অধিক উত্তম।””২৮
রাসুল ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন—যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের যেকোনোভাবে উপকার করতে পারে, সে যেন উপকার করে। তিনি বলেন:
مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ
'তোমাদের মধ্যে যে তার ভাইয়ের কোনো উপকার করতে সক্ষম হয়, সে যেন তা করে।'২৯
উপকারের অসংখ্য ধরন আছে। যখনই কোনো কাজ অধিক উপকারী হয়, সে কাজ আল্লাহর কাছে অধিক উত্তম বিবেচিত হয়। তাই মুমিন ব্যক্তিকে অবশ্যই এ ধরনের কাজের প্রতি আগ্রহী ও উৎসাহী হতে হবে—যার উপকার অধিক, যার উপকার বিস্তৃত-সুপরিসর।
টিকাঃ
১১. সুরা আল-আসর: ১-৩
১২. তাইসিরু কারিমির রহমান: ৯৩৪
১৩. আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি: ৫৭৮৭
১৪. ফাইজুল কাদির: ৩/৪৮১
১৫. আল-জাওয়াবুল কাফি: ৯
১৬. কাজাউল হাওয়াইজ, ইবনু আবিদ দুনইয়া: ৩৬
১৭. মাজমুউ ফাতওয়া ইবনি উসাইমিন: ২০/১২৬
১৮. সহিহু মুসলিম: ১৫৫২
১৯. সহিহু মুসলিম : ১৫৫২
২০. মুসনাদু আহমাদ: ২৭৫০৬
২১. শারহুন নববি আলা মুসলিম: ৫/৩৯৬
২২. শারহুন নববি আলা মুসলিম: ৫/৩৯৬
২৩. সহিহুল বুখারি: ৬০২১, সহিহু মুসলিম: ১০০৫
২৪. মুসনাদু আহমাদ: ২১৪৮৪, সহিহু ইবনি হিব্বান : ৩৩৭৭
২৫. সহিহুল বুখারি: ২৯৮৯
২৬. সহিহুল বুখারি : ২৫১৮
২৭. তাবারানি কৃত আল-মুজামুল কাবির: ১৬৫০
২৮. আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি: ৫০৮১
২৯. সহিহ মুসলিম: ২১৯৯