📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 আরবে স্থিতিশীলতা অর্জন

📄 আরবে স্থিতিশীলতা অর্জন


যে মিশন নিয়ে আল্লাহর রাসূলকে পাঠানো হয়েছিল, সেই মিশন এখন সফলতা প্রাপ্তির পথে। সমগ্র আরবে ইসলামকে তাদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে, ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। গোত্রভিত্তিক ঐক্য ছেড়ে আরবরা গ্রহণ করলো আদর্শভিত্তিক একটি জীবনব্যবস্থা। ইসলাম আরবদের ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিতে সক্ষম হলো। যে লোকগুলো বিশ বছর আগেও মূর্তিপূজা করতো, তারাই এখন মূর্তি ভেঙে ফেলছে, এক আল্লাহর ইবাদাত করছে এবং মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদাতের দিকে আহবান করছে। আরবের বুক থেকে নৈরাজ্য, গোত্রীয় বৈষম্য, অত্যাচার আর অরাজকতার অবসান ঘটলো। সূচনা হলো এমন এক সভ্যতার যারা নিজেরা ক্ষমা, মহত্ত্ব, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, আইনের শাসন, সমতা আর ঐক্যের চর্চা করেছে এবং গোটা বিশ্বকে সেই শিক্ষা দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যে কোনো বিচারে সপ্তম শতাব্দীর এই প্রজন্ম ছিল শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম।

এটা সত্য যে সবগুলো গোত্র তাওহীদের আক্বীদাকে আলিঙ্গন করে ইসলাম গ্রহণ করেনি। অনেকেই রাজনৈতিক কারণে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এর মাধ্যমে তাদের অন্তরের দরজা ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রশস্ত হয়। প্রতিটি মানুষ ইসলামকে ভালোবেসে ইসলাম গ্রহণ করে না। কেউ দুনিয়াবী কারণে, কেউ রাজনৈতিক স্বার্থেও ইসলামের কর্তৃত্ব মেনে নেয়। তবে এই কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার মাধ্যমে তারা ইসলামকে কাছ থেকে দেখতে পায়। জাহিলিয়াতের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত করা হলে মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়, ইসলাম গ্রহণে কোনো বাধা বা চাপ থাকে না। আর এ কারণেই ইসলাম মানুষকে জোর করে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করে না, কিন্তু ইসলামের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব মেনে নিতে বাধ্য করে।

আরবের এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখার জন্য আল্লাহর রাসূল অভিজ্ঞ এবং বিচক্ষণ সাহাবিদের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিলেন। মক্কার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো আত্তাব ইবন উসাইদকে, আর তাইফের গভর্নর ছিলেন উসমান ইবন আল-আস। বাযানকে ইয়েমেনের গভর্নর হিসেবে বহাল রাখা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর ইয়েমেনকে কয়েকভাগে ভাগ করা হয়। সানার গভর্নর হয় বাযানের ছেলে শামার, মা'রিব শহরের গভর্নর ছিলেন আবু মূসা আল-আশআরী, আল-জুনদে ইয়ালা ইবন উমাইয়্যা, হামদানে আমীর ইবন শামর আল-হামদানী। নাজরান, যামাআ এবং যাবীদ অঞ্চলে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় খালিদ ইবন সাইদ, আমীর ইবন হিযাম (নাজরান), যিয়াদ ইবন লাবীদ (হাদরামাউত), উকাশ ইবন সাউর (আস-সাকাসিক এবং আস-সুকুন)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px