📄 ইয়েমেনের আজদ থেকে আগত প্রতিনিধিদল
আরবের দক্ষিণে ইয়েমেনের আজদ থেকে সাতজনের একটি প্রতিনিধিদল আসে। তাদের সাথে মদীনার আনসারদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, চরিত্র, আচার-ব্যবহারে রাসূলুল্লাহ বেশ মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কারা?' তারা বললো, 'আমরা বিশ্বাসী।' রাসূলুল্লাহ হেসে বললেন, 'সব কথার পেছনে একটা বাস্তবতা থাকে। তোমাদের এই কথার পেছনে বাস্তবতা কী?' তারা বললো, 'আমাদের পনেরটা বৈশিষ্ট্য আছে। তাদের পাঁচটি আপনার দূতদের মাধ্যমে আমরা আদিষ্ট হয়েছি, পাঁচটি আপনি আমাদের পালন করার আদেশ দিয়েছেন এবং পাঁচটি আমরা জাহেলিয়াত থেকে আমরা পালন করে আসছি, যদি না সেগুলিকে আপনি ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন।' রাসূলুল্লাহ বললেন, "আমার দূতরা যে আদেশ দিয়েছেন সেগুলি কী কী?' তারা জবাব দিলো, 'আমরা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাসমূহ, তাঁর নবী-রাসূলগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও মৃত্যুর পরে পুনরুত্থানে বিশ্বাস স্থাপন করতে আদিষ্ট হয়েছি।' রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, 'আমি যে আদেশগুলো দিয়েছি সেগুলো কী কী?' তারা বললো, 'আপনি আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই এই সাক্ষ্য দিতে, সালাত কায়েম করতে, যাকাত প্রদান করতে, রামাদানে সাওম পালন করতে ও যাদের পক্ষে সম্ভব তাদের হজ্জ সম্পাদন করতে।' রাসূলুল্লাহ এরপর জিজ্ঞেস করলেন, 'আর জাহিলিয়াতের যে পাঁচটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তোমরা ধরে রেখেছ সেগুলো কী?' তারা বললো, 'স্বাচ্ছন্দ্যের সময় কৃতজ্ঞ থাকা, কঠিন সময়ে ধৈর্যশীল থাকা, ভাগ্যে যা আছে তা মেনে নেয়া, যখন পরস্পর প্রতিপক্ষরা একত্র হয় তখন সত্যবাদী থাকা এবং প্রতিপক্ষের বিপদে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ উদযাপন না করা।'
রাসূলুল্লাহ বললেন, 'তোমরা জ্ঞানী ও বিচক্ষণ এবং তোমাদের জ্ঞানের বদৌলতে তোমরা প্রায় নবীদের সমকক্ষতা অর্জন করেছো।' তাদের কথায় রাসূলুল্লাহ রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বললেন, 'তোমরা যা কিছু বললে তা যদি পছন্দ করে থাকো, তবে আমি তোমাদের আরও পাঁচটি দেবো যার কারণে তোমরা বিশটি বৈশিষ্ট্য লাভ করবে। সেগুলো হলো- যা তোমরা খাবে না তা জমা কোরো না, যেখানে তোমরা বাস করবে না সেখানে কিছু নির্মাণ করবে না, এমন কিছু নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে না যা তোমরা আগামীকাল পরিত্যাগ করবে, আল্লাহকে ভয় করবে যার প্রতি তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে ও যার সামনে তোমাদের প্রকাশিত হতে হবে এবং তোমাদের সামনে যা আছে যেখানে তোমাদের চিরকাল বাস করতে হবে (অর্থাৎ আখিরাত) তার জন্য সংগ্রাম করো।' এ শুনে তারা ফিরে গেল এবং রাসূলুল্লাহ এর উপদেশ মেনে চলল।
এগুলো ছিল রাসূলুল্লাহর কাছে আসা প্রতিনিধিদলগুলির মধ্যে কয়েকটির বর্ণনা। এটা তাঁর জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত একটা বছর ছিল। তাঁর জীবনসায়াহ্নের এই দিনগুলোতে আরবের সব প্রান্ত থেকে দলে দলে লোকেরা এসে ইসলাম গ্রহণ করছিল। মূলত তাঁর দাওয়াতী জীবনে যা কিছু তিনি করেছিলেন, তার ফসল এই সময়ে পাচ্ছিলেন।
📄 ইয়েমেনের অধিবাসীদের প্রতি দাওয়াহ
আরবের গোত্রগুলো এক এক করে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করতে লাগলো। নতুন এই গোত্রগুলোকে ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্য আল্লাহর রাসূল অভিজ্ঞ এবং আলিম সাহাবিদেরকে তাদের কাছে পাঠালেন। মুআয ইবন জাবাল এবং আবু মূসা আল আশআরী ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে বিশেষভাবে তাদের ইলম এবং দাওয়ার জন্য পরিচিত। তাদেরকে পাঠানো হলো ইয়েমেনের দুটো ভিন্ন প্রদেশে।
মুআয ইবন জাবালকে পাঠানো হয়েছিল ইয়েমেনের উত্তরভাগে। তিনি ছিলেন একাধারে তাদের শাসক, বিচারক, শিক্ষক এবং যাকাত সংগ্রাহক। মুআযকে যখন ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল, আল্লাহর রাসূল তাঁকে বিদায় দেওয়ার জন্য এগিয়ে এলেন। মুআয বসে আছেন সওয়ারীর পিঠে, আর আর আল্লাহর রাসূল তাঁর সাথে হেঁটে হেঁটে কথা বলছেন। মুআযকে তিনি বললেন,
'তুমি আহলে কিতাবদের একটি কওমের কাছে যাচ্ছো। তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহবান হবে, তারা যেন আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নেয়। তারা তা মেনে নিলে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ দিনে রাতে তাদের প্রতি পাঁচ বার সালাত ফরজ করে দিয়েছেন। তারা সালাত আদায় করা শুরু করলে তাদেরকে জানিয়ে দিও যে, তাদের ধন-সম্পদে আল্লাহ তাদের প্রতি যাকাত ফরজ করেছেন। এই যাকাত গ্রহণ করা হবে তাদের ধনী লোকদের থেকে, আর এই যাকাত বণ্টন করা হবে তাদেরই গরীবদের মধ্যে। তারা যদি সেটা মেনে নেয়, তাহলে তাদের থেকে যাকাত গ্রহণ করো। তবে লোকজনের ধন- সম্পদের উত্তম অংশ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকো। সাবধান! মযলুমের দুআকে ভয় করবে। কারণ তার দুআ আর আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।
রাসূলুল্লাহ মুআযকে আরও বললেন, 'মুআয, এর পর হয়তো তোমার সাথে আর দেখা হবে না। তুমি হয়তো কেবল আমার মসজিদ এবং কবরটাই দেখবে।' এ কথা শুনে মুআয কেঁদে ওঠেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন এটা ছিল আল্লাহর রাসূলের সাথে তার শেষ সাক্ষাৎ।
আল্লাহর রাসূল আবু মূসা আল-আশআরীকে পাঠালেন ইয়েমেনের দক্ষিণে। তার ভূমিকা ছিল মুআয ইবন জাবালের মতোই -- শাসক, বিচারক, শিক্ষক এবং যাকাত সংগ্রাহক। তাদের দু'জনকেই আল্লাহর রাসূল উপদেশ দিলেন,
'(লোকেদের কাছে দ্বীনকে) সহজ করে দাও, কঠিন কোরো না। সুসংবাদ দাও, মানুষকে তাড়িয়ে দিও না।'
আবু মূসা আল-আশআরী এবং মুয়ায ইবন জাবালের প্রতি আল্লাহর রাসূলের দেওয়া উপদেশ থেকে বেশ কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।
১) সাধারণভাবে যে অঞ্চল থেকে যাকাত আদায় করা হয়, সেটা সেই অঞ্চলেই খরচ করা হবে। তবে যদি অন্য কোনো অঞ্চলে প্রয়োজন থাকে, সেক্ষেত্রে সেই অঞ্চলে যাকাত খরচ করা যাবে।
২) যাকাতের সম্পদ গ্রহণ করার সময় ভালো বা খারাপ মানের সম্পদ না নিয়ে মাঝারি বা গড়পড়তা মানের সম্পদ যাকাত হিসেবে নেওয়া উচিত।
৩) আল্লাহর রাসূল মুআযকে সাবধান করছেন যেন তার দ্বারা মানুষের ওপর জুলুম না হয়। শাসকের হাতে ক্ষমতা থাকে, আর তার দ্বারা জুলুম সংঘটিত হওয়া সবচেয়ে সহজ। কিন্তু মানুষের প্রতি জুলুম করার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হতে হবে। কারণ মজলুমের দুআ এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।
৪) জিহাদে প্রয়োজন কঠোরতা, আর দাওয়াতে প্রয়োজন বিনয়। আল্লাহর রাসূল মুআয এবং আবু মূসাকে উপদেশ দিচ্ছেন, তারা যেন মানুষের সাথে বিনয়ী হন, দ্বীনকে সহজভাবে তাদের সামনে তুলে ধরেন। অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা অবলম্বন থেকে দূরে থাকেন এবং মানুষের সাথে রূঢ় আচরণ না করেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ মদীনার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'মুত্তাক্বী ব্যক্তিরাই আমার আপনজন, তারা যে-ই হোক, তারা যেখানেই থাকুক।' এর মানে হলো, রাসূলুল্লাহর আপন মানুষ হলো তাকওয়ায় অগ্রগামী মানুষেরা। তারা কোথা থেকে এসেছে, তাদের পরিচয় কী সেটা মুখ্য নয়। রাসূলুল্লাহ মুআয ইবন জাবালকে আরও বলেন, 'বিলাসিতা সম্পর্কে সাবধান হও, কারণ আল্লাহর বান্দারা বিলাসিতায় লিপ্ত হয় না।'
টিকাঃ
১১৫. সহীহ বুখারি, অধ্যায় তাওহীদ, হাদীস ২। সুনান ইবন মাজাহ, অধ্যায় যাকাত, হাদীস ১।
📄 হামদান গোত্রের ইসলাম গ্রহণ
রাসূলুল্লাহ খালিদ ইবন ওয়ালিদকে ইয়েমেনের হামদান গোত্রের কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ছয় মাসের মতো সেখানে অবস্থান করার পরও সেখানকার মানুষজন তার দাওয়াতে তেমন সাড়া দিলো না। এরপর রাসূলুল্লাহ তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে তার বদলে আলীকে পাঠালেন। আলীকে বলে দিলেন, সৈনিকদের মধ্যে কেউ চাইলে খালিদের সাথে ফেরত আসতে পারে অথবা আলীর সাথেও থেকে যেতে পারে। সেখানে পৌছে আলী তার অধীনস্থ সব মুসলিমদের কাতারবন্দী করে জামাতে সলাত আদায় করলেন।
এরপর তিনি হামদান গোত্রকে একত্র করে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহর চিঠি পড়ে শুনালেন। সেই চিঠি পড়ে পুরো হামদান গোত্র মুসলিম হয়ে গেল। আলী রাসূলুল্লাহকে এই সুসংবাদ চিঠি লিখে জানালেন। রাসূলুল্লাহ খুব খুশি হলেন, সিজদায় পড়ে গেলেন আর বললেন, 'হামদানের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। হামদানের উপর শান্তি বর্ষিত হোক!'
আলী এই গুরু দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূলকে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে এমন লোকদের উপর আসীন করে পাঠাচ্ছেন যারা আমার চেয়ে বড়। আমার বয়স কম এবং বিচারক হিসেবে আমার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।' রাসূলুল্লাহ তখন আলীর বুকে হাতে রেখে বললেন,
'হে আল্লাহ, তার জবানকে সুদৃঢ় করে দিন, তার অন্তরকে হিদায়েতের উপর রাখুন। আলী, যখন দুই ব্যক্তি বিবাদ করবে এবং তোমার কাছে এসে উপস্থিত হবে তখন তাদের উভয়ের সাক্ষ্য আগে শুনবে। তারপর রায় দেবে। যদি তুমি এভাবে চল, তাহলে বিচার ফায়সালা করা তোমার জন্য সহজ হবে।'
আলী বলেন, 'এরপর থেকে আমি আর কখনোই বিচার করতে গিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হইনি।'
বিচারক হিসেবে আলী কতটা বিচক্ষণ ছিলেন ইতিহাসই সেটার সাক্ষী। তিনি উমার এবং উসমানের সময় বিচারক ছিলেন। তারা দু'জনেই আলীর বিচারের ওপর খুব আস্থাশীল ছিলেন, ইসলামী রাষ্ট্রের সূক্ষ্ম ও নাজুক বিষয়ের ফায়সালার ভার তার উপর অর্পণ করতেন।
📄 আরবে স্থিতিশীলতা অর্জন
যে মিশন নিয়ে আল্লাহর রাসূলকে পাঠানো হয়েছিল, সেই মিশন এখন সফলতা প্রাপ্তির পথে। সমগ্র আরবে ইসলামকে তাদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে, ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। গোত্রভিত্তিক ঐক্য ছেড়ে আরবরা গ্রহণ করলো আদর্শভিত্তিক একটি জীবনব্যবস্থা। ইসলাম আরবদের ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিতে সক্ষম হলো। যে লোকগুলো বিশ বছর আগেও মূর্তিপূজা করতো, তারাই এখন মূর্তি ভেঙে ফেলছে, এক আল্লাহর ইবাদাত করছে এবং মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদাতের দিকে আহবান করছে। আরবের বুক থেকে নৈরাজ্য, গোত্রীয় বৈষম্য, অত্যাচার আর অরাজকতার অবসান ঘটলো। সূচনা হলো এমন এক সভ্যতার যারা নিজেরা ক্ষমা, মহত্ত্ব, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, আইনের শাসন, সমতা আর ঐক্যের চর্চা করেছে এবং গোটা বিশ্বকে সেই শিক্ষা দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যে কোনো বিচারে সপ্তম শতাব্দীর এই প্রজন্ম ছিল শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম।
এটা সত্য যে সবগুলো গোত্র তাওহীদের আক্বীদাকে আলিঙ্গন করে ইসলাম গ্রহণ করেনি। অনেকেই রাজনৈতিক কারণে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এর মাধ্যমে তাদের অন্তরের দরজা ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রশস্ত হয়। প্রতিটি মানুষ ইসলামকে ভালোবেসে ইসলাম গ্রহণ করে না। কেউ দুনিয়াবী কারণে, কেউ রাজনৈতিক স্বার্থেও ইসলামের কর্তৃত্ব মেনে নেয়। তবে এই কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার মাধ্যমে তারা ইসলামকে কাছ থেকে দেখতে পায়। জাহিলিয়াতের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত করা হলে মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়, ইসলাম গ্রহণে কোনো বাধা বা চাপ থাকে না। আর এ কারণেই ইসলাম মানুষকে জোর করে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করে না, কিন্তু ইসলামের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব মেনে নিতে বাধ্য করে।
আরবের এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখার জন্য আল্লাহর রাসূল অভিজ্ঞ এবং বিচক্ষণ সাহাবিদের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিলেন। মক্কার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো আত্তাব ইবন উসাইদকে, আর তাইফের গভর্নর ছিলেন উসমান ইবন আল-আস। বাযানকে ইয়েমেনের গভর্নর হিসেবে বহাল রাখা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর ইয়েমেনকে কয়েকভাগে ভাগ করা হয়। সানার গভর্নর হয় বাযানের ছেলে শামার, মা'রিব শহরের গভর্নর ছিলেন আবু মূসা আল-আশআরী, আল-জুনদে ইয়ালা ইবন উমাইয়্যা, হামদানে আমীর ইবন শামর আল-হামদানী। নাজরান, যামাআ এবং যাবীদ অঞ্চলে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় খালিদ ইবন সাইদ, আমীর ইবন হিযাম (নাজরান), যিয়াদ ইবন লাবীদ (হাদরামাউত), উকাশ ইবন সাউর (আস-সাকাসিক এবং আস-সুকুন)।