📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 তাবুকের অভিযান থেকে শিক্ষা

📄 তাবুকের অভিযান থেকে শিক্ষা


যাদ আল মাআদ কিতাবে ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ তাবুকের অভিযান থেকে কিছু কল্যাণকর শিক্ষার কথা তুলে ধরেন। ১) যদি ইমাম (খলিফা) যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত করেন তাহলে তাতে সাড়া দেওয়া প্রত্যেকের জন্য বাধ্যতামূলক। ইমাম অনুমতি দিলেই পেছনে বসে থাকার অনুমতি আছে। যে তিনটি ক্ষেত্রে জিহাদ করা ফরয হয়, এর মধ্যে এটি একটি। বাকি দুটো ক্ষেত্র হলো যখন শত্রুরা মুসলিম ভূমি দখল করে আর যখন দুটি সৈন্যদল ময়দানে মুখোমুখি হয়।

২) জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহর ক্ষেত্রে জান ও মাল দুটো দিয়েই সমর্থন করা বাধ্যতামূলক। কারণ, কুরআনে যখনই জিহাদের কথা এসেছে, জান ও মাল দুটোর কথাই এসেছে এবং শুধুমাত্র একটি আয়াত ছাড়া প্রতিবারই মালের কথা জানের আগে এসেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, 'যে ব্যক্তি একজন যোদ্ধাকে অর্থায়ন করে, সে যেন নিজেই যুদ্ধ করলো।' যাদেরই আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তাদেরই জিহাদের পেছনে অর্থায়ন করা বাধ্যতামূলক, যেভাবে জান দিয়ে জিহাদ করা বাধ্যতামূলক। কারণ জিহাদ তখনই সফল হয়, যখন যথেষ্ট পরিমাণে সৈন্যবাহিনী ও অর্থায়ন মজুদ থাকে। কেউ যদি যুদ্ধ করতে অসমর্থ হয়, তার জন্য সম্পদ দিয়ে জিহাদে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক। তার কোনো অজুহাতই প্রযোজ্য হবে না যতক্ষণ না সে প্রমাণ করেছে সে সম্পদ দিয়ে জিহাদ করতে অসমর্থ।

৩) সামূদের কূপের পানি পান করা, সে পানি ব্যবহার করে রান্না করা, রুটির মণ্ড তৈরি করা বা তাতে অযু করা জায়েজ নয়। কারণ হলো এদের ওপর আল্লাহ তাআলার গজব আপতিত হয়েছে। কেউ যখন আল্লাহর শাস্তিপ্রাপ্ত জনপদের স্থান বা বাসস্থানের পাশ দিয়ে যায় তখন তাতে প্রবেশ করা উচিৎ নয় বা সেখানে অবস্থান করা উচিৎ নয়। যত দ্রুত সম্ভব সেটা পার হয়ে যেতে হবে এবং যতক্ষণ না সেই স্থান পার হচ্ছে ততক্ষণ মুখ ঢেকে রাখা উচিৎ। মূল কথা হলো, এরকম স্থান যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিৎ, অথবা কাঁদতে কাঁদতে প্রবেশ করা উচিত। শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্য ছাড়া এ ধরনের স্থানে প্রবেশ করা উচিৎ নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية