📄 কা'ব ইবন যুহাইরের ؓ ইসলাম গ্রহণ
কাব ইবন যুহাইর নবীজির বিরুদ্ধে কবিতা লিখতো। তার ভাই তাকে জানালো রাসূলুল্লাহর বিরুদ্ধে যারা কবিতা লিখেছে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এ কথা শুনে কা'ব খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। সে সিদ্ধান্ত নিল রাসূলুল্লাহর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইবে। রাসূলুল্লাহ তাকে চিনতেন না। সে রাসূলুল্লাহর কাছে গিয়ে বললো, 'কাব ইবন যুহাইর আপনার কাছে এসেছে। সে মুসলিম হতে চায়। আপনি কি তার ইসলাম গ্রহণ করবেন?' রাসূলুল্লাহ বললেন, 'হ্যাঁ, তাকে আসতে দাও।' তখন কা'ব বললেন, 'আমিই কা'ব ইবন যুহাইর।' এরপর সে রাসূলুল্লাহর কাছে বায়াত দিলো এবং রাসূলুল্লাহর প্রশংসা করে চমৎকার একটি কবিতা আবৃত্তি করলো। রাসূলুল্লাহ তার কবিতা শুনে খুব খুশি হলেন এবং তাঁর শরীর থেকে চাদর খুলে কাবকে দিয়ে দিলেন।
📄 উরওয়া ইবন মাসউদের ؓ ইসলাম গ্রহণ
উরওয়া ইবন মাসউদ আস-সাকাফীর কথা হুদাইবিয়ার সন্ধির ঘটনাপ্রবাহে এসেছিল। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ কূটনীতিক। উরওয়া ছিলেন তাইফের অধিবাসী। মালিক ইবন আউফ যখন তাইফ অবরোধ করলেন, তখন উরওয়া ইসলাম গ্রহণের নিয়তে তাইফ ছেড়ে চলে এলেন। আল্লাহর রাসূলের সাথে দেখা করে মুসলিম হয়ে উরওয়া তাইফে ফিরে যান। সাকিফ গোত্রের কাছে উরওয়া ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করায় তিনি তাইফবাসীর কাছে তার সম্মানের স্থান হারান। উরওয়া তাদের ইসলাম গ্রহণ করতে আহবান করেন। নিজ বাড়ি থেকে আজান দেন। এসব সহ্য করতে না পেরে তার গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। মারা যাওয়ার আগে তিনি অনুরোধ করেছিলেন তাইফের সাথে যুদ্ধে শহীদ মুসলিমদের কবরে যেন তাকে কবরস্থ করা হয়। উরওয়া মুসলিম হিসেবে বেঁচে ছিলেন অল্প কিছুদিন, কিন্তু সে কয়টা দিনই ছিল তার জীবনের অর্থপূর্ণ দিন। মৃত্যুমুখে উপনীত হয়ে তিনি বলেছিলেন,
'নিশ্চয়ই এই শাহাদাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জন্য এক বিশেষ মর্যাদা। আল্লাহর পথে মরতে পারার মর্যাদা! আমার অবস্থা তো সেই শহীদদের মতো, যারা এই শহরের দরজায় শহীদ হয়েছিলেন, যখন আল্লাহর রাসূল এই শহর অবরোধ করে রেখেছিলেন।'