📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 খারিজিদের শেকড়

📄 খারিজিদের শেকড়


কিছু লোকের সম্পদের লোভ তাদেরকে রাসূলুল্লাহর বণ্টনের প্রতি অন্যায্যতার অভিযোগ তোলার দিকে ঠেলে দেয়। বনু তামীম গোত্রের যুলখুয়াইসিরাহ নামের এক লোক এসে বললো, 'এই মুহাম্মাদ, তুমি আল্লাহকে ভয় করো।' রাসূলুল্লাহ কাউকে কম, কাউকে বেশি দিচ্ছিলেন এটা তার পছন্দ হয়নি, সে তাই আল্লাহর রাসূলকে ন্যায়বিচার শিক্ষা দিতে চলে এসেছিল।

রাসূলুল্লাহ বললেন, 'জমিনের সমস্ত মানুষের ওপরে আল্লাহ আমাকে বিশ্বাস করেন, আমি যদি ন্যায়বিচার না করি তবে আর কে করবে?' উমার ইবন খাত্তাব স্বভাবতই খুব ক্ষেপে গেলেন, বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অনুমতি দিন, আমি এর গর্দানটা উড়িয়ে দিই'। রাসূলুল্লাহ বললেন,

'ওকে ছেড়ে দাও। এমন আরও অনেক লোক তুমি দেখবে। তাদের সালাতের তুলনায় তোমার সালাত কিছুই না। তাদের সিয়ামের তুলনায় তোমার সিয়াম কিছুই না। তারা কুরআন পড়বে কিন্তু কুরআন তাদের গলার নিচ দিয়ে নামবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেভাবে তীর লক্ষ্যভেদ করে বেরিয়ে যায়।'

এখানে রাসূলুল্লাহ এই জাতীয় চরমপন্থী লোকদের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। তুলনাটা এমন যে, একজন শক্তিশালী তীরন্দাজ যখন খুব জোরে তীর নিক্ষেপ করে তখন তা লক্ষ্যে আঘাত করে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তীরন্দাজ বুঝতেই পারে না আদৌ লক্ষ্যভেদ হয়েছে কি না। এই লোকগুলোর অবস্থা সেই তীরের মতো, তারা ইসলাম থেকে এত দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যাবে যেভাবে করে তীরন্দাজের তীর লক্ষ্যভেদ করে বেরিয়ে যায়।

এই লোকগুলো সালাত আদায় করবে, সিয়াম পালন করবে, এবং এদের এসব ইবাদাত ও আমল বাহ্যিক দৃষ্টিতে খুব নজরকাড়া হবে। এমনকি সাহাবিদের আমল তাদের ধারেকাছে যাবে না। তারা কুরআন পড়বে কিন্তু কুরআন তাদের গলা দিয়ে নামবে না অর্থাৎ কুরআন তাদের অন্তরে প্রবেশ করবে না। কুরআনের আয়াতগুলো তারা কেবল উচ্চারণ করবে মাত্র, জীবনে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করবে না।

ইসলামী পরিভাষায় এদের বলা হয় খারিজী। এরা চরমপন্থা অবলম্বন করে এবং বাড়াবাড়ি করে। আল্লাহর রাসূল অন্য একটি হাদীসে বলেছেন, খারিজীরা হবে মু'মিনদের প্রতি কঠোর আর কাফিরদের প্রতি নমনীয়। এটি খারিজী চিহ্নিত করার মূল সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি যুগের খারিজীদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য ঘুরেফিরে থাকবে। মুসলিমদের জান-মালের কোনো মূল্য তাদের নেই। বরং মুসলিমদের ওপর তারা কুফরির অপবাদ দিয়ে তাদের দেদারসে হত্যা করে। তবে একটি বিষয় এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, ইসলামের দৃষ্টিতে চরমপন্থা আর বর্তমান সেকুলার দৃষ্টিতে চরমপন্থা - দুটোর সংজ্ঞা এক নয়। চরমপন্থার সংজ্ঞা আসলে কী -- সেটা মুসলিম আলিমদের থেকে শিখতে হবে, পশ্চিমা বা সেকুলার মিডিয়া থেকে নয়। কারণ ইসলামের যা কিছুতে সেকুলারদের আপত্তি, তার সবকিছুকেই তারা চরমপন্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।

আলীর খিলাফতের যুগে খারিজীদের উত্থানের সময় এমন একটি ঘটনা ঘটে। খাব্বাব ইবন আরাতের ছেলে ইবন খাব্বাব তার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বের হয়েছেন। পথিমধ্যে খারিজীরা তার পথরোধ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলো। তার উত্তর তাদের পছন্দ না হওয়ায় তারা তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তার গর্ভবতী স্ত্রীকে মেরে পেট কেটে বাচ্চা বের করে ফেলে। তার কিছু পরেই তারা কিছু খ্রিস্টানদের সম্পদ লুট করলো। কিন্তু যখনই শুনলো সেগুলো খ্রিস্টানদের, সেগুলো তারা সাথে সাথে ফেরত দিয়ে দিলো। ইবন খাব্বাবকে হত্যার পরই আলী ইবন আবি তালিব খারিজীদের সাথে যুদ্ধ শুরু করেন। যেহেতু মুসলিমদের জান-মাল খারিজীদের হাতে নিরাপদ থাকে না, তাই খারিজীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কাফিরদের সাথে আক্রমণাত্মক যুদ্ধ থেকেও প্রাধান্য পায়। খারিজীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে মূলধন রক্ষা করার মতো। আর কাফিরদের ভূমিতে আক্রমণ করার উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। নিশ্চিতভাবেই মুনাফা অর্জনের চেয়ে মূলধন রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই একই নীতি মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদেও প্রযোজ্য, কেননা তারা উম্মাহর অভ্যন্তরীণ শত্রু। কাফিরদের আগ্রাসন প্রতিরোধ করা, মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও খারিজীদের দমন করা -- এদের প্রতিটিই জরুরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

খারিজীদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য তারা ন্যায়পরায়ণ মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তবে অত্যাচারী মুসলিম শাসকের যুলুমের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে ইসলামী শরীয়াতে খুরুজ হিসেবে গণ্য করা হয় না। জিহাদ ও খুরুজ-- এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। বর্তমানে যেকোনো প্রকার জিহাদকে খুরুজ তকমা দেওয়ার একটি রেওয়াজ চালু হয়েছে যা নিঃসন্দেহে উম্মাহর জন্য বিভ্রান্তিকর।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 হাওয়াযিন গোত্রের ইসলাম গ্রহণ

📄 হাওয়াযিন গোত্রের ইসলাম গ্রহণ


হুনাইনের যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্র নারী, শিশু, সম্পদ--সবকিছু হারায়। এসব নিয়ে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে এসেছিল তাই এগুলোকে গনিমত হিসেবে মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়। তারা যখন রাসূলুল্লাহর কাছে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে নিজেদের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়, ততক্ষণে যাবতীয় গনিমত ভাগাভাগি হয়ে গেছে। ফলে তাদের গোত্রে শুধু কিছু পুরুষ ছাড়া কিছুই রইলো না। বিষয়টা কষ্টকর, তারা মুসলিম হয়ে এসেছে কিন্তু তাদের পরিবার তাদের সাথে নেই। তারা আল্লাহর রাসূলকে খুব সম্মান করলো, তাঁর প্রশংসা করলো এবং অনুরোধ করলো যেন তাদের সম্পত্তি তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আল্লাহর রাসূল বিষয়টা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করলেন, কিন্তু যেহেতু তিনি ইতিমধ্যেই সবকিছু বণ্টন করে দিয়েছেন, তাই সেগুলো মুসলিমদের থেকে ফেরত নেওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু আল্লাহর রাসূল চাচ্ছিলেন তাদেরকে যতটুকু সম্ভব ফিরিয়ে দিতে। তাদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কোনটা চাও আমাকে বলো, তোমাদের পরিবার নাকি সম্পদ? কোনটা ফিরে পেতে তোমরা আগ্রহী?'

তারা বললো, 'আমরা অবশ্যই আমাদের পরিবারকে ফিরে পেতে চাই। ওরাই তো আমাদের সম্মান।' রাসূলুল্লাহ তখন বললেন, 'ঠিক আছে, আমার আর বনু মুত্তালিবের হাতে যা আছে, আমি তোমাদের সেগুলো ফিরিয়ে দেবো। তোমরা একটা কাজ করবে, আমি যখন সালাতে ইমামতি করবো, তোমরা উঠে দাঁড়াবে এবং বলবে, আমরা আল্লাহর রাসূলকে অনুরোধ করি যেন তিনি আমাদের হয়ে মুসলিমদের এবং মুসলিমদের অনুরোধ করি তারা যেন আমাদের হয়ে আল্লাহর রাসূলকে অনুরোধ করে আমাদের পরিবার-পরিজনকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে। তোমরা যখন এ অনুরোধ করবে, তখন আমি আমার ও বনু মুত্তালিবের হাতে যা আছে তা তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দেবো আর বাকিদেরকেও তা-ই করতে বলবো।'

যুহরের ওয়াক্তে আল্লাহ রাসূল মসজিদে সালাত আদায় করলেন। সালাতের পর হাওয়াযিনের নও মুসলিমরা উঠে দাঁড়িয়ে আল্লাহর রাসূলের কথামতো ওপরের কথাগুলো বললেন। এরপর রাসূলুল্লাহ মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বললেন, 'তোমাদের ভাইয়েরা অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এসেছে। তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, এখন আমি তাদের পরিবার-পরিজনকে তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে চাই।' এরপর আল্লাহর রাসূল তাঁর ও তাঁর পরিবার বনু মুত্তালিবের হাতে গনিমত হিসাবে যেসকল নারী শিশু ছিল, তাদের হাওয়াযিন গোত্রের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহর উদারতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মুহাজিররা বললেন, 'আমাদের যা আছে, আমরাও সেসব সবই ফিরিয়ে দেবো।' আনসাররাও একই কথা বললেন।

কিন্তু এই উৎসাহে ভাটা পড়ে যখন আকরা ইবন হাবিস বললো, 'আমাদের গনিমত ফেরত দেবো না।' উয়াইনাও একই কথা বললো, একই কথা বললো বনু সুলাইমের নেতা আব্বাস ইবন মিরদাস। কিন্তু তার গোত্রের লোকেরা দাঁড়িয়ে বললো, 'কিন্তু আমরা আল্লাহর রাসূলকে আমাদের সব গনিমত ফিরিয়ে দিতে চাই!' আব্বাস রেগে গিয়ে বললো, 'তোমরা আমাকে অপমান করলে!'

আল্লাহর রাসূল খুব করে চাচ্ছিলেন হাওয়াযিনের নারী-শিশুরা যেন পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারে। কিন্তু যখন দেখলেন কিছু লোক স্বেচ্ছায় তাদের গনিমত ফিরিয়ে দিতে চাইছে না, তখন তিনি তাদের প্রস্তাব দিলেন, 'ঠিক আছে, তোমরা যারা গনিমত ছেড়ে দিতে চাইছো না, তোমাদের বলছি, তোমরা যদি এবার এই গনিমত ছেড়ে দাও, তাহলে পরবর্তী জিহাদে তোমাদের ছয়গুণ করে বাড়িয়ে দেওয়া হবে।'

অন্য একটি বর্ণনা অনুসারে, আল্লাহর রাসূল তাদেরকে এর বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা দেন। এই কথা শুনে সবাই তাদের গনিমত ছেড়ে দিল। এভাবেই রাসূলুল্লাহর চমৎকার ব্যবস্থাপনায় হাওয়াযিন গোত্রের নারী-শিশুরা তাদের গোত্রে ফিরে গেল, আর অর্থসম্পদ মুসলিমদের কাছে থেকে গেল। মুসলিমদের প্রত্যেকে পেয়েছিল ৪০টি করে ভেড়া।

মালিক ইবন আউফকে বলা হলো, 'তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ করো, তাহলে তোমার সম্পত্তি আর পরিবার তো ফিরিয়ে দেওয়া হবেই, তার সাথে আরও ১০০ উট তোমাকে দেওয়া হবে।' এ খবর শুনে মালিক ইবন আউফ তাইফ থেকে চলে এসে ইসলাম গ্রহণ করলো। আল্লাহর রাসূল তাঁর কথামতো সবকিছু ফিরিয়ে দিলেন এবং মালিককে সেই এলাকার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিলেন। মালিক ইবন আউফ মহাখুশি হয়ে আল্লাহর রাসূলের প্রশংসায় কবিতাও লিখে ফেললো। শুধু তা-ই নয়, সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেই একটি বাহিনী গঠন করে তাইফ অবরোধ করলো। যে লোকটি কিছুদিন আগেও রাসূলুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছিল, সে এখন রাসূলুল্লাহর পক্ষ হয়ে জিহাদ শুরু করল। যাদের সে কিছুদিন আগে রাসূলুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে উৎসাহিত করেছিল, এখন সে তাদের বিরুদ্ধেই জিহাদ শুরু করলো। এভাবেই রাসূলুল্লাহ ইসলামের ঘোরশত্রুদেরও মন জয় করেন।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 কা'ব ইবন যুহাইরের ؓ ইসলাম গ্রহণ

📄 কা'ব ইবন যুহাইরের ؓ ইসলাম গ্রহণ


কাব ইবন যুহাইর নবীজির বিরুদ্ধে কবিতা লিখতো। তার ভাই তাকে জানালো রাসূলুল্লাহর বিরুদ্ধে যারা কবিতা লিখেছে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এ কথা শুনে কা'ব খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। সে সিদ্ধান্ত নিল রাসূলুল্লাহর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইবে। রাসূলুল্লাহ তাকে চিনতেন না। সে রাসূলুল্লাহর কাছে গিয়ে বললো, 'কাব ইবন যুহাইর আপনার কাছে এসেছে। সে মুসলিম হতে চায়। আপনি কি তার ইসলাম গ্রহণ করবেন?' রাসূলুল্লাহ বললেন, 'হ্যাঁ, তাকে আসতে দাও।' তখন কা'ব বললেন, 'আমিই কা'ব ইবন যুহাইর।' এরপর সে রাসূলুল্লাহর কাছে বায়াত দিলো এবং রাসূলুল্লাহর প্রশংসা করে চমৎকার একটি কবিতা আবৃত্তি করলো। রাসূলুল্লাহ তার কবিতা শুনে খুব খুশি হলেন এবং তাঁর শরীর থেকে চাদর খুলে কাবকে দিয়ে দিলেন।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 উরওয়া ইবন মাসউদের ؓ ইসলাম গ্রহণ

📄 উরওয়া ইবন মাসউদের ؓ ইসলাম গ্রহণ


উরওয়া ইবন মাসউদ আস-সাকাফীর কথা হুদাইবিয়ার সন্ধির ঘটনাপ্রবাহে এসেছিল। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ কূটনীতিক। উরওয়া ছিলেন তাইফের অধিবাসী। মালিক ইবন আউফ যখন তাইফ অবরোধ করলেন, তখন উরওয়া ইসলাম গ্রহণের নিয়তে তাইফ ছেড়ে চলে এলেন। আল্লাহর রাসূলের সাথে দেখা করে মুসলিম হয়ে উরওয়া তাইফে ফিরে যান। সাকিফ গোত্রের কাছে উরওয়া ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করায় তিনি তাইফবাসীর কাছে তার সম্মানের স্থান হারান। উরওয়া তাদের ইসলাম গ্রহণ করতে আহবান করেন। নিজ বাড়ি থেকে আজান দেন। এসব সহ্য করতে না পেরে তার গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। মারা যাওয়ার আগে তিনি অনুরোধ করেছিলেন তাইফের সাথে যুদ্ধে শহীদ মুসলিমদের কবরে যেন তাকে কবরস্থ করা হয়। উরওয়া মুসলিম হিসেবে বেঁচে ছিলেন অল্প কিছুদিন, কিন্তু সে কয়টা দিনই ছিল তার জীবনের অর্থপূর্ণ দিন। মৃত্যুমুখে উপনীত হয়ে তিনি বলেছিলেন,

'নিশ্চয়ই এই শাহাদাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জন্য এক বিশেষ মর্যাদা। আল্লাহর পথে মরতে পারার মর্যাদা! আমার অবস্থা তো সেই শহীদদের মতো, যারা এই শহরের দরজায় শহীদ হয়েছিলেন, যখন আল্লাহর রাসূল এই শহর অবরোধ করে রেখেছিলেন।'

ফন্ট সাইজ
15px
17px